

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বনির্ভর ভারত গঠনের জন্য উত্তর-পূর্ব এবং আসামের দ্রুত বিকাশ জরুরি।মানুষের আস্থা তখনই অর্জন করা যায় যখন মৌলিক সুবিধা পাওয়া যায় এবং পরিকাঠামো আরো ভালো হয়। আসামে জনধন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট প্রায় ১.৭৫ কোটি দরিদ্র মানুষের জন্য খোলা হয়েছে। করোনার সময়ে এই ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলি থেকেই পরিবারগুলির হাতে সরাসরি অর্থ স্থানান্তরিত হয়েছে। আসামের জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতাভুক্ত। যার মধ্যে প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসার পরিসেবা পেয়েছে। আসামের শৌচ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। যা গত ৬ বছরে ৩৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০০ শতাংশ হয়েছে। পাঁচ বছর আগে ৫০ ভাগেরও কম পরিবারে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ ছিল, যা এখন প্রায় একশ ভাগ পরিবারে পৌঁছেছে। জল জীবন মিশন- এর আওতায় আসামে গত দেড় বছরে আড়াই লক্ষেরও বেশি বাড়িতে নল বাহিত পানীয় জলের সংযোগ দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি উপজাতিকে একত্রে নেওয়ার কারণে আসামের প্রতিটি অঞ্চল শান্তি এবং অগ্রগতির পথে রয়েছে। ঐতিহাসিক বোড়ো চুক্তির ফলে আসামের একটা বিরাট অংশ এখন শান্তি ও উন্নয়নের পথে ফিরে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে বোড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিলের প্রতিনিধিদের আসন্ন নির্বাচনে প্রতিনিধিত্ব নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত পরিকাঠামোর ফলে আসাম এখন আত্মনির্ভর ভারত-এর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসামের গ্রাম গুলিতে ১১ হাজার কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের পাশাপাশি, ডক্টর ভুপেন হাজারিকা সেতু, বোগিবিল ব্রিজ, সরাইঘাট ব্রিজ সহ অন্যান্য সেতু নির্মাণের ফলে আসামের সংযোগ আরো নিবিড় হয়েছে।
এর পাশাপাশি জলপথে বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান এবং মায়ানমারের সাথে সংযোগ বিবেচনার পর্যায়ে রয়েছে। ক্রমবর্ধমান রেল ও বিমান যোগাযোগ আসামে আরও ভালো শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে আসছে। লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন আধুনিক টার্মিনাল এবং কাস্টম ক্লিয়ারেন্স সেন্টার, কোঁকড়াঝড়ের রূপসী বিমানবন্দরের আধুনিকীকরণ, বঙ্গাইগাওয়ে মাল্টি মডেল লজিস্টিক হাব প্রকৃতি আসামের শিল্প বিকাশের ক্ষেত্র আরও জোরদার করবে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, গ্যাস ভিত্তিক অর্থনৈতিক দিকে নিয়ে যাওয়ার পথে আসাম একটি বড় অংশীদার। আসামে তেল ও গ্যাসের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। গুয়াহাটি- বারাউনি গ্যাস পাইপলাইন উত্তর পূর্ব এবং পূর্ব ভারতের মধ্যে যোগাযোগকে মজবুত করবে। নিউমালিগড় শোধনাগারকে বায়ো রিফাইনারি সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে, যা আসামকে ইথানলের মতো বায়োফুয়েলের একটি বড় উৎপাদক হিসাবে পরিণত করবে। এইমস এবং ভারতীয় কৃষি গবেষণা কেন্দ্র এই অঞ্চলের যুবকদের নতুন সুযোগ প্রদান করবে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষার কেন্দ্রস্থল হিসাবেও বিবেচিত হবে।



