ত্রিনিদাদ ও টোবাগো প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী মাননীয় কমলা প্রসাদ-বিসেসারের আমন্ত্রণে ভারত প্রজাতন্ত্রের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ৩ থেকে ৪ জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত ত্রিনিদাদ ও টোবাগো প্রজাতন্ত্রে একটি সরকারি সফর করেন।

এই ঐতিহাসিক সফর - ২৬ বছরের মধ্যে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর। ১৮৪৫ সালে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে ভারতীয় অভিবাসীদের আগমনের ১৮০ তম বার্ষিকী উদযাপনের সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই সফর গভীর তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে দুদেশের মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত সভ্যতাগত বন্ধন অনুভূত হয়; যা দু’দেশের জনগণের মধ্যে প্রাণবন্ত পারস্পরিক সংযোগ এবং শেয়ার করা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে পুনঃনিশ্চিত করে এবং উভয় দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের ভিত্তি তৈরি করে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী কমলা প্রসাদ-বিসেসারকে তাঁর সাম্প্রতিক নির্বাচনী জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং ভারত এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদানের প্রশংসা করেছেন।

ভারতের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্যতিক্রমী নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ, তাঁকে সে দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় সম্মান – ‘অর্ডার অফ দ্য রিপাবলিক অফ ত্রিনিদাদ ও টোবাগো’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে।

দুই প্রধানমন্ত্রী পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করেছেন। উভয় নেতা দু’দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের গভীরতা এবং প্রশস্ততায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং স্বাস্থ্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, বাণিজ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কৃষি, ন্যায়বিচার, আইনি বিষয়ক সংস্থা, শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রে একটি বিস্তৃত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ভবিষ্যৎমুখী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার উদ্দেশে তাঁদের সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

দুই নেতা উভয় দেশের শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদের হুমকির কথা স্বীকার করেছেন। তাঁরা সন্ত্রাসবাদের তীব্র নিন্দা এবং দৃঢ় বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা ঘোষণা করেছেন যে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ সহ সন্ত্রাসবাদের কোনও যৌক্তিকতা থাকতে পারে না।

তাঁরা ওষুধ, উন্নয়ন সহযোগিতা, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বিনিময়, কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ এবং ক্রীড়া সহ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরকে স্বাগত জানিয়েছেন। উভয় নেতা ২০২৪ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ভারত-ক্যারিকম শীর্ষ সম্মেলনের ফলাফল স্মরণ করে বলেন যে, তাঁরা ঘোষিত উদ্যোগগুলির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ডিজিটাল ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে উভয় দেশ দৃঢ় আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ভারতের প্রধান ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম, ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস(ইউপিআই) গ্রহণকারী প্রথম ক্যারিবিয়ান দেশ হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদী ত্রিনিদাদ ও টোবাগোকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁরা ডিজিলকার, ই-সাইন এবং গভর্নমেন্ট ই-মার্কেটপ্লেস (জিইএম) সহ ইন্ডিয়া স্ট্যাক সমাধান বাস্তবায়নে আরও সহযোগিতা অন্বেষণ করতে সম্মত হয়েছেন। ত্রিনিদাদ ও টোবাগো রাজ্য জমি নিবন্ধনের জন্য সিস্টেমের ডিজিটাইজেশন এবং আপগ্রেডেশনে ভারতের সহায়তা চেয়েছে। নেতারা আরও জোর দিয়ে বলেন যে ডিজিটাল শাসন এবং জনসেবা প্রদান প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং জাতীয় প্রতিযোগিতার সক্ষমকারী হিসাবে কাজ করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী মোদী ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর শিক্ষার ক্ষেত্রে ডিজিটাইজেশনের জন্য প্রধানমন্ত্রী পারসাদ-বিসেসারের উচ্চাভিলাষী দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেছেন এবং সেদেশের প্রধান শিক্ষামূলক কর্মসূচিকে জোরদার করতে ২০০০টি ল্যাপটপ উপহার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারত সরকারের দেওয়া বিভিন্ন বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় ভারতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ অন্বেষণ করার জন্য ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেছেন।

উভয় নেতা কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তাকে আরেকটি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রধানমন্ত্রী তাঁদের  জাতীয় কৃষি বিপণন ও উন্নয়ন কর্পোরেশন (এনএএমডিইভিসিও) কে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং সংরক্ষণের জন্য ভারতের ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের কৃষি-যন্ত্রপাতি উপহারের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। প্রধানমন্ত্রী মোদী একটি প্রতীকী অনুষ্ঠানে এনএএমডিইভিসিও -এর জন্য যন্ত্রপাতির প্রথম ব্যাচ হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রাকৃতিক চাষ, সামুদ্রিক শৈবাল-ভিত্তিক সার এবং বাজরা চাষের ক্ষেত্রে ভারতের সহায়তার প্রস্তাবও দেন।

স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারতীয় ফার্মাকোপিয়াকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ত্রিনিদাদ ও টোবাগো সরকারের প্রশংসা করেন। এই  ভারতীয় ফার্মাকোপিয়া সেদেশে ওষুধ সরবরাহ ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা নিশ্চিত করবে এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর জনগণের জন্য ভারত থেকে মানসম্পন্ন এবং সাশ্রয়ী মূল্যের জেনেরিক ওষুধের পাশাপাশি ভারতে চিকিৎসার সুযোগ বৃদ্ধি করবে। তিনি আরও ঘোষণা করেন যে আগামী মাসগুলিতে, ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে ৮০০ জনের জন্য একটি কৃত্রিম অঙ্গ ফিটমেন্ট ক্যাম্প আয়োজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী কমলা প্রসাদ-বিসেসার স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন; যা ওষুধ এবং সরঞ্জামের বাইরেও স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে সহযোগিতাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। উন্নতমানের স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রদানে সহায়তা করার জন্য ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ২০টি হেমোডায়ালাইসিস ইউনিট এবং দুটি (২) সমুদ্র অ্যাম্বুলেন্স অনুদানের জন্য তিনি ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ত্রিনিদাদ ও টোবাগো দ্রুত প্রভাব প্রকল্পের উপর একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকে স্বাগত জানিয়ে উন্নয়ন সহযোগিতার মূল্যের উপর জোর দেয়, যা ভারতের সহায়তায় ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে কমিউনিটি উন্নয়ন প্রকল্পগুলি সময়োপযোগী এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম করবে।

প্রধানমন্ত্রী পারসাদ-বিসেসার কোভিড-১৯ মহামারীর কঠিন সময়ে মূল্যবান মানবজীবন রক্ষায় ভারতের অগ্রণী ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে ভারতের দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং কোভিড ভ্যাকসিন এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বিশেষ করে ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের 'কোভিড-১৯ প্রকল্পে হাই এন্ড লো টেকনোলজি (এইচএএলটি) -এর অধীনে মোবাইল স্বাস্থ্যপরিষেবা রোবট, টেলিমেডিসিন কিট এবং হাত পরিষ্কারের সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে ভারতের সাহায্যের প্রশংসা করেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদী ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর কোয়ালিশন ফর ডিজাস্টার রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার (সিডিয়আরআই) এবং গ্লোবাল বায়োফুয়েল অ্যালায়েন্সে যোগদানের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন, যা জলবায়ু কর্মকাণ্ড, স্থিতিস্থাপকতা তৈরি এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতি তাঁদের যৌথ প্রতিশ্রুতির প্রতিফলণ। উভয় নেতা বিপর্যয়ের সময় ঝুঁকি হ্রাসের জন্য ভারতের তৈরি প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থার সুযোগ নিতে আরও সহযোগিতা অন্বেষণে সম্মত হয়েছেন। ত্রিনিদাদ ও টোবাগো সরকার পররাষ্ট্র ও ক্যারিকম বিষয়ক মন্ত্রকের সদর দপ্তরের জন্য একটি ছাদের ফটোভোলটাইক(পিভি)ব্যবস্থা সরবরাহের জন্য ভারতের অনুদানের প্রস্তাবকেও প্রশংসা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী পারসাদ-বিসেসার প্রধানমন্ত্রী মোদীর দূরদর্শী 'মিশন লাইফ' উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন, যা সচেতনভাবে ভোগ করা এবং টেকসই জীবনযাত্রার সপক্ষে প্রচার করে। তিনি জলবায়ু-সচেতন আচরণ সুনিশ্চিত করতে বিশ্ব নাগরিকদের একত্রিত করার ক্ষেত্রে 'মিশন লাইফ' উদ্যোগের প্রাসঙ্গিকতা স্বীকার করেছেন।

ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর সঙ্গে ভারতের অংশীদারিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে সক্ষমতা বৃদ্ধিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পক্ষ তাঁদের যুবসমাজের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত কর্তৃক বার্ষিক ৮৫টি আইটিইসি স্লট প্রদানের প্রশংসা করা হয়েছে। ভারতীয় পক্ষ ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর কর্মকর্তাদের বৃহৎ পরিসরে প্রশিক্ষণের জন্য বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষক পাঠানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদী ফরেনসিক বিজ্ঞান এবং বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর কর্মকর্তা ও সাধারণ কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর সহায়তা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে প্রশিক্ষণের জন্য ভারতে পাঠানো এবং ভারত থেকে প্রশিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর কাছে পাঠানো।

উভয় নেতা দুই দেশের ব্যবসায়িক সহায়তা সংস্থাগুলির মধ্যে সরাসরি চ্যানেলগুলিকে উৎসাহিত করে বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিনিময়ের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন।

দুই নেতা দেশগুলির মধ্যে শক্তিশালী ক্রীড়া সম্পর্ক, বিশেষ করে ক্রিকেটের প্রতি অভিন্ন আবেগ উদযাপন করেছেন। তাঁরা ক্রীড়া প্রশিক্ষণ, প্রতিভা বিনিময়, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং যৌথ সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ক্রীড়া সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকে স্বাগত জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারতে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণ মহিলা ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে, প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারতে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পণ্ডিতদের একটি দলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই পণ্ডিতরা ভারতে 'গীতা মহোৎসবে'ও অংশগ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রী কমলা প্রসাদ-বিসেসার এই উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং ভারতের উদযাপনের পাশাপাশি ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে যৌথভাবে গীতা মহোৎসব উদযাপনের ভারতীয় প্রস্তাবকে মহা উৎসাহে সমর্থন জানিয়েছেন।

সাংস্কৃতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে, উভয় নেতা ১৯৯৭ সালে মহাত্মা গান্ধী ইনস্টিটিউট ফর কালচারাল কোঅপারেশন প্রতিষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক ‘সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি’র প্রগতিশীল ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। ২০২৫-২৮ মেয়াদের জন্য এই কর্মসূচি পুনর্নবীকরণের উদ্দেশে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এই পুনর্নবীকৃত সমঝোতা স্মারকের আওতায়, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো উভয় দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য ভারতে নিয়মিত সঙ্গীতশিল্পীদের পাঠাবে। প্রধানমন্ত্রী মোদী সে দেশের সর্বত্র যোগব্যায়াম ও হিন্দি ভাষার প্রচারের জন্য ত্রিনিদাদ ও টোবাগো সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি ভারত থেকে যোগ প্রশিক্ষক পাঠানো  আর ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর জাতীয় স্কুল পাঠ্যক্রমে যোগব্যায়ামকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগকে সমর্থন করার প্রস্তাব রাখেন।

উভয় প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন যে ৩০ মে ২০২৫ তারিখটি ১৮৪৫ সালে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে প্রথম ভারতীয় অভিবাসীদের আগমনের ১৮০ তম বার্ষিকী হিসেবে চিহ্নিত। তাঁরা সাংস্কৃতিক পর্যটনের স্থান হিসেবে নেলসন দ্বীপের গুরুত্ব এবং জাতীয় আর্কাইভে ভারতীয় শ্রমিকদের আগমন এবং অন্যান্য নথির ডিজিটাইজেশনের প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে বসবাসকারী ভারতীয় প্রবাসীদের ষষ্ঠ প্রজন্ম পর্যন্ত ভারতের বিদেশী নাগরিকত্ব (ওসিআই) কার্ড প্রদানের ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের কথাও ঘোষণা করেন।

উভয় প্রধানমন্ত্রী ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দি এবং ভারতীয় অধ্যয়নের জন্য একাডেমিক চেয়ার পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই অধ্যয়ন ভারত এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর মধ্যে শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক সংযোগ আরও গভীর করবে এবং আয়ুর্বেদের প্রাচীন জ্ঞান ও ঐতিহ্যের প্রচারকে উৎসাহিত করবে।

উভয় নেতা ভারত-ত্রিনিদাদ ও টোবাগো সংসদীয় বন্ধুত্ব গোষ্ঠী পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে ভারতে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো-র সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ; এবং পারস্পরিক ভাবে একে অপরের দেশে সংসদীয় প্রতিনিধিদের নিয়মিত সফর বিনিময়ে সম্মত হন।

উপর নেতা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নের বিষয়েও মতবিনিময় করেছেন এবং শান্তি, জলবায়ু ন্যায়বিচার, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বরকে প্রশস্ত করার জন্য তাঁদের যৌথ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা বহুপাক্ষিক ফোরামে প্রদত্ত মূল্যবান পারস্পরিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

উভয় নেতা বর্তমান আন্তর্জাতিক বাস্তবতাকে আরও ভালভাবে প্রতিফলিত করার জন্য রাস্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সম্প্রসারণ সহ রাস্ট্রসংঘে ব্যাপক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রেক্ষিতে উভয় নেতাই আলোচনা এবং কূটনীতিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রসারিত রাস্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ লাভের জন্য ত্রিনিদাদ ও টোবাগো ভারতের প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভারতও ২০২৭-২৮ মেয়াদে রাস্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অস্থায়ী আসনের জন্য ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর দাবিকে সমর্থন করবে বলে জানিয়েছে; অন্যদিকে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো ২০২৮-২৯ মেয়াদে ভারতের দাবিকে সমর্থন করবে।

প্রধানমন্ত্রী মোদী ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর সরকার এবং জনগণের প্রতি তাঁদের অসাধারণ আতিথেয়তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী কমলা প্রসাদ-বিসেসারকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী কমলা প্রসাদ-বিসেসারও প্রধানমন্ত্রী মোদীকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে আবার ত্রিনিদাদ ও টোবাগো সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। নেতারা একমত হয়েছেন যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে অত্যন্ত সফল সরকারি সফরের সুফল উভয় দেশের মধ্যে উন্নত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন যুগের সূচনা করবে। উভয় নেতা একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং দূরদর্শী ভারত-ত্রিনিদাদ ও টোবাগো অংশীদারিত্বের প্রতি তাঁদের অংশীদারিত্বের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Indian youth are at the forefront of tech-led growth, innovation: PM Modi

Media Coverage

Indian youth are at the forefront of tech-led growth, innovation: PM Modi
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
PM Modi arrives in Slovakia
June 15, 2026

PM Modi arrived in Bratislava, Slovakia, marking an important milestone in India-Slovakia relations. He was warmly welcomed upon arrival..

The visit provides an opportunity to further deepen bilateral ties between India and Slovakia and explore new avenues of cooperation across key sectors. It also reflects the growing engagement between the two countries and their shared commitment to strengthening the partnership for mutual growth and development.

During the visit, PM Modi will hold meetings with President Peter Pellegrini and PM Robert Fico to review and discuss ways to further expand collaborations.