শেয়ার
 
Comments

আমাদের মন্ত্র হওয়া উচিৎ বেটা বেটি, এক সম্মান

আসুন, কন্যাসন্তানের জন্মকে আমরা স্বাগত জানাই। পুত্র-সন্তানের পাশাপাশি কন্যাসন্তানদের জন্যও আমাদের সমান গর্বিত হওয়া উচিত। কন্যাসন্তানের জন্মকে স্মরণীয় করে রাখতে পাঁচটি গাছের চারা রোপণ করুন এই আবেদন জানাই আপনাদের কাছে।

~ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লিঙ্গ সমতা আনতে এবং মহিলাদের ক্ষমতায়নে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেছেন। তিনি বলেন, ভারতে শুধুমাত্র মহিলাদের উন্নয়ন নয়, সেই সঙ্গে মহিলা পরিচালিত উন্নয়নও করা প্রয়োজন যাতে আমাদের উন্নতির মানচিত্রে মহিলারা সর্বাগ্রে থাকে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার মহিলাদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বিশেষ ভাবে জোর দিচ্ছেন।

 

কন্যাসন্তানের রক্ষা করা ও ক্ষমতায়ন করা

২০১৫ সালে বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও অভিযানের মাধ্যমে সমাজে মেয়েদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর একটি উদ্যোগ। বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে প্রশিক্ষণ, চেতনা বৃদ্ধিমুলক কাজ, গোষ্টিদের বোঝানো এবং সংবেদনশীলতা বাড়ানো ইত্যাদির উপর। এই কাজগুলি করার ফলে ১০৪টি জেলায় লিঙ্গ বৈষম্য কমেছে অনেকটা বিশেষ করে যে সব জেলা স্পর্ষকাতর ছিল। প্রথম ধাপে ১১৯টি জেলায় উন্নতি লক্ষ করা গেছে এবং বাকি ১৪৬টি জেলা প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে উন্নতি হয়েছে। এই জেলাগুলিতে যে উদ্যোগগুলি নেওয়ার পর পরিবর্তন এসেছে সেই বিবিবিপি এখন ৬৪০টি জেলায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।  

শিক্ষা মহিলাদের ক্ষমতায়নে একটি মুখ্য ভুমিকা নিয়েছে। সরকারের একাধিক স্কলারশিপ যা নারী শিক্ষাকে প্রসার ঘটায় সেই উদ্যোগকে ধন্যবাদ, এর ফলে দ্বাদশ স্কুলগুলোতে মেয়েদের শিক্ষার হার বাড়ছে।

মেয়েদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা আনা হয়েছে। এর সাফল্য চোখে দেখা যায়, প্রায় ১.২৬ কোটি সুকন্যা সমৃদ্ধি খাতা খোলা হয়েছে তাতে ২০,০০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যে জমা পরেছে।

মহিলাদের উপরে অত্যাচার কমানো এনডিএ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সরকার মহিলাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে খুব জোর দিচ্ছে এর ফলে ১২ বছরের নিচে মেয়েদের ধর্ষণ মামলায় মৃত্যুদন্ড দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও ১৬ বছরের নিচে মেয়েদের ধর্ষণ করলে শাস্তি ১০ বছর থেকে বাড়িয়ে ২০ বছর করা হয়েছে।

 

অর্থনৈতিক সংযোজন ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন

মহিলাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি করতে পদে পদে প্রথাগত অর্থনিতীতে আরও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। মহিলাদের অনেক কিছু করার ক্ষমাতা আছে তার জন্য তাদের অথনৈতিক সাহায্য প্রয়োজন, যাতে তাঁরা তাঁদের দক্ষতাগুলোকে কাজে লাগিয়ে সফল উদ্যোগপতি হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার মুদ্রা ঋণ প্রকল্প চালু করেছে উদ্যোগপতিদের কোল্যাটারাল-ফ্রি ঋণ প্রদান করতে, যাতে তাঁরা তাঁদের স্বপ্ন পূরণ  করতে পারেন।

আরও একটি প্রকল্প হল স্ট্যান্ড আপ ইন্ডিয়া যা মহিলা উদ্যোগপতি বা এসসি/এসটি উদ্যোগপতিদের ১ কোটি টাকা ঋণ প্রদান করে। এই প্রকল্পকে সফল করতে মহিলাদের সর্বাগ্রে রাখা হয়েছে। প্রায় ৯ কোটি মহিলা মুদ্রা এবং স্ট্যান্ড আপ ইন্ডিয়ার ঋণ একসঙ্গে পেয়েছেন। মুদ্রা যোজনার সুফলভোগীদের মধ্যে ৭০ শতাংশই হল মহিলা।

 

মায়েদের যত্ন নেওয়া

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহন করেছে মা এবং তাঁর সদ্যজাত সন্তানের রক্ষনা-বেক্ষনের জন্য।

মাতৃকালীন সুযোগ-সুবিধা (অ্যমেন্ডমেন্ট) আইন ২০১৭-তে পরিবর্তন এনে কর্মরত মায়েদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ১২ সপ্তাহ থেকে বাড়িয়ে ২৬ সপ্তাহ করা হয়েছে। পৃথিবীতে একমাত্র এখানেই মায়েরা এত ছুটি পান।

সম্প্রতি চালু হওয়া পোষণ অভিযানের মাধ্যমে অপুস্টি মোকাবিলা করা হচ্ছে একাধিক পদক্ষেপের মাধ্যমে। অপুস্টি মোকাবিলায় প্রযুক্তিতে ভর করে একাধিক মন্ত্রক এগিয়ে এসেছে অপুষ্টির সঙ্গে মোকাবিলা করতে।

মিশন ইন্দ্রধনুষ প্রকল্প একটি গণআন্দোলেনের রূপ নিয়েছে, এর ফলে গর্ভবতী মহিলা এবং শিশুদের স্বাস্থ্য সমৃদ্ধ হচ্ছে টিকাকরণের মাধ্যমে। এটি একটি মিশন মোড হস্তক্ষেপ এর ফলে ৮০ লক্ষ গর্ভবতী মহিলাকে টিকাকরণ করা সম্ভব হয়েছে।  

প্রধানমন্ত্রী মাতৃ মাত্রু বন্দনা যোজনা একটি উদ্যোগ, যেটা সন্তানসম্ভবা বা দুগ্ধবতী জননীদের অর্থ সাহায্য প্রদান করে। এর অধীনে মা ও শিশুর সময়ে সময়ে সাস্থ্য পরীক্ষা হয়ে থাকে যা খুবই গুরুতপূর্ণ। ৬০০০ টাকা নগদ দিয়ে সাহায্য করা হয় অন্তসত্বা বা দুগ্ধবতী মা-কে যাতে তিনি পুষ্টিকর খাবার খেতে পারেন। প্রত্যেক বছর প্রায় ৫০ লক্ষ মায়েরা পিএমএমভিওয়াই-এর সুবিধা পেয়ে থাকেন।

ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা চিহ্নিত করে মা ও শিশুকে সুস্বাস্থ্য দেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষিত মাতৃত্ব অভিযানের মাধ্যমে প্রায় ১.৬ কোটি গর্ভে থাকা শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে, সেই সঙ্গে  ১২,৯০০টি স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে সমস্ত রাজ্য সহ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার ৬ লক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা চিহ্নিত করেছে।

 

মহিলাদের কল্যানের  জন্য প্রথাভাঙ্গা যোজনা

উজ্জ্বলা যোজনা একটি উদ্যোগ যা বিনামুল্যে প্রায় ৫.৩৩ কোটি এলপিজি সংযোগ দিয়েছে সময়ের আগে এবং সেই সঙ্গে ৮ কোটি সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রেখেছে। এর ফলে মহিলারা সুস্থ্য, ধোয়াবিহিন জীবন পাবেন সেই সঙ্গে কাঠে রান্না করার জন্য যে সময় ও শক্তি ব্যয় হত তা বাঁচাবে।   

সচ্ছ ভারত অভিযান শৌচকর্মে বিপ্লব এনে দিয়েছে এবং মহিলাদের সুরক্ষিত শৌচাগার পেতে সাহায্য করেছে। ৮.২৩ কোটি বাড়িতে শৌচালয় তৈরি করা সম্ভব হয়েছে সেই সঙ্গে সারা ভারতের ১৯টি রাজ্য সহ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৪.২৫ লক্ষ গ্রামে শৌচালয় নির্মাণ করে ওডিএফ (ওপেন ডিপেক্যাশন ফ্রি) আক্ষা দেওয়া হয়েছে। ভারতে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মোট ৩৮.৭ শতাংশ শৌচালয় নির্মাণ হয়েছে যা এখন ৯১.০৩ শতাংশে পৌছে গেছে ৪ বছরে, এটি একটি বিশাল পদক্ষেপ, এর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা উচিৎ যা তিনি স্বচ্ছ ভারত অভিযানের মাধ্যমে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে করে যাচ্ছেন।

 

সামাজিক ক্ষমতায়ন ও ন্যয়বিচার

মহিলাদের সমাজিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমেই সার্বিক উন্নয়ন ও মর্যাদা পাওয়া সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার মহিলাদের ক্ষমতায়নের  জন্য একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা স্থায়ী সম্পত্তির ক্ষেত্রে মহিলাদের নাম দেওয়ার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা নিয়েছে। একা মায়ের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট পরিষেবায় সরলীকরণ করা হয়েছে যাতে কোনও বাধা ছাড়াই তিনি সব সুবিধা পান। মুসলিম মহিলাদের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে। এই সরকার মুসলিম মহিলাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন এনেছে যেখানে কোনও মহিলা হজ করতে যেতে পারবে কোনও পুরুষ সঙ্গী ছাড়াই। আগে পুরুষ সঙ্গী থাকাটা বাঞ্ছনীয় ছিল। লোকসভাতে তিন তালাক বিল পাশ করিয়েও মুসলিম মহিলাদের ন্যায় বিচার পেতে সাহায্য করেছে এই সরকার।

এই ভাবেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃতাধীন এনডিএ সরকার মহিলাদের ক্ষমতায়ন করেছে শুধুমাত্র মহিলাদের উন্নয়ন করেই নয়, মহিলা নেতৃতাধীন উন্নয়নের মাধ্যমেও।

 

donation
Explore More
আমাদের ‘চলতা হ্যায়’ মানসিকতা ছেড়ে ‘বদল সাকতা হ্যায়’ চিন্তায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

জনপ্রিয় ভাষণ

আমাদের ‘চলতা হ্যায়’ মানসিকতা ছেড়ে ‘বদল সাকতা হ্যায়’ চিন্তায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
India claims top 10 in list of fastest-growing cities

Media Coverage

India claims top 10 in list of fastest-growing cities
...

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
শেয়ার
 
Comments

পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা যে কোনও দেশের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। এটা সকলেরই জানা যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের অধীনে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর আলাদা করে জোর দেওয়া হয়েছে। নতুন ভারতের স্বপ্ন চরিতার্থ করার জন্য এনডিএ সরকার রেলপথ, সড়কপথ, জলপথ, আকাশপথ এবং সাধ্যের মধ্যে বাসস্থানের ওপর ব্যাপক জোর দিয়েছে।

রেলপথ

ভারতীয় রেলপথ বিশ্বের মধ্যে অন্যতম বৃহত্তম রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের অধীনে রেল ট্র্যাকের পুনর্নবীকরণের গতি, প্রহরাবিহীন লেভেল ক্রসিং অপসারণ এবং ব্রডগেজ লাইন নির্মাণের কাজ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

রেলওয়ে সুরক্ষা বিষয়ে সর্বকালের সেরা রেকর্ড গড়েছে, ২০১৭-১৮ সালে ১০০টিরও কম রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। তথ্যে উঠে এসেছে যে, ২০১৩-১৪ সালে ১১৮টি রেল দূর্ঘটনা ঘটেছিল, ২০১৭-১৮ সালে তা নেমে এসেছে ৭৩টি-তে। তুলে দেওয়া হয়েছে প্রহরাবিহীন ৫,৪৬৯টি লেভেল ক্রসিংকে, ২০০৯-১৪-র তুলনায় ২০ শতাংশের থেকেও বেশি। ২০২২ সালের মধ্যে ব্রডগেজ রুটগুলির সমস্ত প্রহরাবিহীন লেভেল ক্রসিং তুলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রেল উন্নয়নে গতি ফিরছে, ২০১৭-১৮ সালে ট্র্যাক পুনর্নবীকরণ ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪,৪০৫ কিলোমিটারে পৌঁছেছে, যা ২০১৩-১৪-তে ছিল ২,৯২৬ কিলোমিটার। গত ৪ বছরে প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার ব্রডগেজ লাইন নির্মাণের ক্ষেত্রে ২০০৯-১৪ (৭,৬০০কিমি) সালের থেকে অনেক বেশি (৯,৫২৮ কিমি) কাজ করেছে।

এই প্রথমবার উত্তর-পূর্ব ভারত ব্রডগেজ লাইন নির্মাণের ফলে দেশের অন্যান্য প্রান্তের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত হল। ভারতের স্বাধীনতার ৭০ বছর পর মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরামকে রেলওয়ে মানচিত্র মধ্যে আনা সম্ভব হয়েছে।

নতুন ভারত গড়ে তোলার জন্য আমাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজন। মুম্বাই থেকে আহমেদাবাদের মধ্যে যে বুলেট ট্রেন চালু করা পরিকল্পনা করা হয়েছে, এতে করে এই রুটে যাতায়াতের সময় ৮ ঘন্টা থেকে ২ ঘন্টায় নেমে আসবে।

বিমান পরিষেবা

অসামরিক বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রেও আমুল পরিবর্তন আসছে। উড়ান (উড়ে দেশ কা আম নাগরিক) কর্মসূচির আওতায় সাধ্যের মধ্যে আকাশপথে যাত্রা সম্ভব হয়েছে, মাত্র ৪ বছরের মধ্যে ২৫টি বিমানবন্দর এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে, স্বাধীনতার পর থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মাত্র ৭৫টি বিমানবন্দর ছিল দেশে।  আঞ্চলিক বিমান পরিষেবা চালু করা হয়েছে দেশের পিছিয়ে পরা ছোট বিমানবন্দরগুলিতে, আঞ্চলিক রুটে এক ঘন্টার যাত্রা পথে বিমানের নির্ধারিত ভাড়া ২৫০০ টাকা করার ফলে অনেক ভারতীয়র বিমানে যাত্রা করার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। যার ফলে এই প্রথমবার দেশের বহু মানুষ শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্রেনে নয় বিমানে যাতায়াত করেছেন।

বিগত তিন যাত্রী পরিবহনের মাত্রা ১৮-২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম বিমান পরিবহণ ক্ষেত্ররূপে চিহ্নিত হয়েছে। ২০১৭ সালে আন্তঃদেশীয় বিমানের যাত্রী সংখ্যা ১০০ মিলিয়ন অতিক্রম করেছে।

জাহাজ চলাচল

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের অধীনে ভারত নৌবিভাগেও ব্যাপক উন্নতি করেছে। বন্দর অঞ্চলগুলি উন্নত হওয়ার ফলে দেশের বড় বড় বন্দরগুলিতে যাতায়াতের সমব কমে গেছে প্রায় তিনগুন, ২০১৩-১৪ সালে যেখানে ৯৪ ঘন্টা লাগত ২০১৭-১৮ সালে তা কমে দাড়িয়েছে ৬৪ ঘন্টায়।

প্রধান বান্দরগুলিতে পণ্য পরিবহনের উপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। ২০১০-১১ অর্থবর্ষের ৫৭০.৩২ মেট্রিক টন থেকে কমে ২০১২-১৩ অর্থবর্ষে ৫৪৫.৭৯ মেট্রিক টন হয়েছিল। কিন্তু এনডিএ সরকারের অধীনে ১০০ মেট্রিক টনেও থেকেও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে ৬৭৯.৩৬৭ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে।

অন্তর্দেশীয় জলপথে যাতায়াত বাড়ার ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় খরচ কমেছে অনেকটা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে এবং সেইসঙ্গে কমেছে দূষণ। বিগত ৪ বছরে ১০৬টি জাতীয় জলপথ যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে, বিগত ৩০ বছর ধরে যেখানে ছিল মাত্র ৫টি জাতীয় জলপথ।

সড়ক উন্নয়ন

রূপান্তরমূলক প্রকল্প ভারত মালা পরিযোজনার অধীনে মাল্টি-মোডাল পদ্ধতিতে জাতীয় সড়কের সম্প্রসারণ একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। ২০১৭-১৮ সালে জাতীয় সড়ক ১,২০,৫৪৩ কিলোমিটার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যা ২০১৩-১৪ সালে ছিল ৯২,৮৫১ কিলোমিটার।

সুরক্ষিত সড়কের জন্য সেতু ভারত প্রকল্পে ২০,৮০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের অধীনে সমস্ত জাতীয় মহাসড়ককে রেলওয়ে ক্রসিং থেকে মুক্ত করার জন্য রেলওয়ে ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে।

সড়ক নির্মাণের গতি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৩-১৪ সালে প্রতিদিনে ১২ কিলোমিটার জাতীয় সড়ক নির্মাণ করা হত, যা ২০১৭-১৮ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ কিলোমিটারে।

 

জম্মুতে ভারতের দীর্ঘতম সুড়ঙ্গ চেনানি-নাসরি তৈরি করার পাশাপাশি অরুনাচল প্রদেশে ধোলা-সাদিয়া ভারতের দীর্ঘতম সেতু নির্মানের মাধ্যমে ভারতের দূরতমস্থানে উন্নয়ন পৌছে দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি সরকার নিয়েছিল তা পালন করতে পেরেছে। কোটা অঞ্চলে ভারুচ ও চম্বলের মাঝে নর্মদা নদীর ওপরে সেতু নির্মাণ করার মাধ্যমে আরো শক্তিশালী হয়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।

গ্রামীন উন্নয়নের ক্ষেত্রে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা একটি অনুঘটকের মতো কাজ করে। বিগত ৪ বছরে প্রায় ১.৬৯ লক্ষ কিলোমিটার গ্রামীন সড়ক নির্মান করা হয়েছে। ২০১৩-১৪ সালে দিনে ৬৯ কিলোমিটার গ্রামীন সড়ক নির্মান করা হত, ২০১৭-১৮ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১৩৪ কিলোমিটার প্রতিদিনে। বর্তমানে, গ্রামীন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বেড়েছে প্রায় ৮২ শতাংশের বেশি, যা ২০১৪ সালে ছিল ৫৬ শতাংশ, এর ফলে গ্রামগুলি ভারতের বিকাশের কাহানির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে পর্যটন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পর্যটন বারানোর পাশাপাশি তীর্থযাত্রীদের জন্য চার ধাম মহার্মাগ বিকাশ পরিযোজনার সুচনা করা হয়েছে। এর ফলে যাত্রায় গতি ও সুরক্ষা এসেছে এবং সহজলভ্য হয়েছে যাত্রা। এর অধীনে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার আনুমানিক ব্যয়ে ৯০০ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে

পরিকাঠামোগত উন্নয়ন জোরদার করতে নানা ধরনের কৌশল গ্ৰহন করা হয়েছে তাতে মজবুত হচ্ছে দেশের অর্থনীতি। শুধুমাত্র এনডিএ সরকারের উদ্যোগে ২০১৭-১৮ সালে রেকর্ড পরিমান মাল পরিবহন (১,১৬০ মেট্রিক টন) হয়েছে।

নগর উন্নয়ন

স্মার্ট সিটির মাধ্যমে নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রায় ১০০টি নগর কেন্দ্র বেছে নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নত করা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনা ও উন্নতিসাধন করা সম্ভব হয়েছে। এই শহরগুলিতে বিভিন্ন রকমের উন্নয়নমূলক কাজে প্রায় ১০ কোটি ভারতীয় প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত করেছে। এই প্রকল্পে খরচ হবে প্রায় ২,০১,৯৭৯ কোটি টাকা।  

গ্রামাঞ্চল ও শহরাঞ্চলে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় ক্রয়সীমার মধ্যে প্রায় ১ কোটি গৃহ নির্মান করা সম্ভব হয়েছে। মধ্য ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের জন্য ৪ শতাংশ ও ৩ শতাংশ সুদের হারে ৯ লক্ষ ও ১২ লক্ষ টাকা গৃহ ঝণ প্রদান করা হয়েছে।