মাননীয়,
১৪০ কোটি ভারতবাসীর পক্ষ থেকে, আমাকে এবং আমার প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য আমি আপনাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। ভারত-জর্ডন সম্পর্ককে নতুন স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য আপনি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। আপনার বন্ধুত্ব এবং ভারতের প্রতি আপনার অঙ্গীকারের জন্য আমি আন্তরিকভাবে আপনাকে ধন্যবাদ জানাই।
এই বছর, আমরা আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫তম বার্ষিকী উদযাপন করছি। নিঃসন্দেহে এটি এক মাইলফলক, যা আমাদের আগামী বহু দিন নতুন উদ্যমে এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা জোগাবে। আমি নিশ্চিত যে আজকের এই বৈঠক আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন গতি সঞ্চার করবে। আমরা ব্যবসা-বাণিজ্য, সার, ডিজিটাল প্রযুক্তি, পরিকাঠামো এবং দুটি দেশের নাগরিকদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলার মতো ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবো।
মাননীয়,
আমরা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখে চলি। গাজা সমস্যার সমাধানের জন্য শুরু থেকেই আপনি অত্যন্ত সক্রিয় এবং ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে চলেছেন। এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতাবস্থা ফিরে আসুক, আমরা প্রত্যেকেই তা চাই। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের একটি অভিন্ন এবং দৃঢ় অবস্থান রয়েছে। আপনার নেতৃত্বে, জর্ডন সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা এবং মৌলবাদের বিরুদ্ধে সমগ্র মানবজাতির কাছে একটি শক্তিশালী এবং কৌশলগত বার্তা পাঠিয়েছে। রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আলোচনা করার সময় আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে মতবিনিময় করেছি। ২০১৮ সালে আপনার ভারত সফরের সময়, আমরা ইসলামিক ঐতিহ্যের উপর একটি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। আমার মনে আছে ২০১৫ সালে রাষ্ট্রসংঘের বৈঠকের ফাঁকে সহিংস চরমপন্থাকে মোকাবিলা করার পন্থা পদ্ধতি নিয়ে আমাদের প্রথম বৈঠক হয়েছিল। আপনি তখন এই বিষয়ে যে বক্তব্য রেখেছিলেন, তা ছিল অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক । সংযত আচরণের জন্য আপনার উদ্যোগ শুধুমাত্র আঞ্চলিক স্তরেই নয়, সমগ্র বিশ্বশান্তির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এই বিষয়ে একযোগে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যাব। আমরা আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য অন্যান্য বিষয়ে আরও সহযোগিতাকে শক্তিশালী করব। আবারও, আপনার আতিথেয়তার জন্য আমি আপনাকে এবং জর্ডনের জনসাধারণকে আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।


