কানাডার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, দু’দেশের বাণিজ্য জগতের কুশীলবরা এবং সমবেত অভ্যাগতবৃন্দ, অনেক শুভেচ্ছা!

ভারত-কানাডা সিইও ফোরামে আপনাদের সঙ্গে মিলিত হতে পেরে আমি আনন্দিত। ইতিবাচক এবং মূল্যবান চিন্তাভাবনা তুলে ধরার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী কার্নিকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই। 

বন্ধুরা,

আজ আমরা ভারত-কানাডা সম্পর্কে নতুন এক অধ্যায় রচনা করছি। প্রধানমন্ত্রী কার্নির শাসনকালের মেয়াদ এক বছরও পূর্ণ হয়নি। কিন্তু, আমাদের সম্পর্ক এক আলোকবর্ষ এগিয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দু’দেশের মধ্যে আস্থা বেড়েছে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে স্বচ্ছতা এসেছে এবং তা এগিয়ে যাচ্ছে আরও দ্রুতগতিতে। এমন একটা সময় এই ইতিবাচক বিষয়টি সংঘটিত হচ্ছে, যখন সারা বিশ্ব অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি। এই পরিস্থিতিতে ভারত এবং কানাডার বাণিজ্য জগতের শীর্ষস্থানীয়রা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমাদের অংশীদারিত্বের নতুন নীল নকশা তৈরি করবেন। আমি আপনাদের এই দায়বদ্ধতাকে কুর্নিশ জানাই। 

বন্ধুরা,

ভারত এবং কানাডা, দুই দেশের গণতন্ত্রই শক্তিশালী। এই দুই দেশ বিশ্বের অর্থনৈতিক শক্তিগুলির মধ্যে রয়েছে প্রথম সারিতে। অভিন্ন মূল্যবোধের ওপর আধারিত দু’দেশের সমাজ ব্যবস্থা। গণতন্ত্র, বৈচিত্র্য এবং বিকাশের আদর্শে ভর করে আমরা অংশীদারিত্বের পথে এগিয়ে চলব। আজ প্রধানমন্ত্রী কার্নি এবং আমি আমাদের যৌথ পরিকল্পনাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৫০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যেতে আমরা আগ্রহী। যথাশীঘ্র সম্ভব আমরা সার্বিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করে ফেলব। 

কিন্তু বন্ধুরা,

সরকার কাঠামো তৈরি করতে পারে এবং নীতিগত দিকনির্দেশ করতে পারে। তবে, তা বাস্তবে রূপায়িত করার ক্ষমতা রয়েছে আপনাদেরই হাতে। 

বন্ধুরা,

আজ ভারত বিশ্বের বৃহৎ দেশগুলির মধ্যে দ্রুততম বিকাশশীল। এর পিছনে রয়েছে ঘরোয়া চাহিদা, তরুণ জনসংখ্যা, বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির শক্তি। এটা সম্ভব হয়েছে আমাদের ‘রিফর্ম এক্সপ্রেস’-এর দরুণ। নীতিগত সরলীকরণ থেকে উৎপাদন-ভিত্তিক উৎসাহ প্রদান, লজিস্টিক্সের আধুনিকীকরণ থেকে কর ও দেউলিয়া বিধি সংক্রান্ত সংস্কার – সবক্ষেত্রেই ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’ নিশ্চিত করছি আমরা। 

বন্ধুরা, 

ভারত এবং কানাডার অংশীদারিত্ব কেবলমাত্র অর্থনৈতিক পরিসরে নয়, আমরা মূলধন এবং সক্ষমতার একটি শক্তিশালী প্রবাহ তৈরি করছি। আমাদের দু’দেশের জিডিপি-র পরিমাণ যোগ করলে ৬ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু আমাদের আসল শক্তি হল আমাদের আশা ও আকাঙ্ক্ষা। এই বিষয়টিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমি কয়েকটি প্রস্তাব দিতে চাই। প্রথমত – পরিবেশ-বান্ধব শক্তি। এই বিষয়টি দু’দেশেরই অগ্রাধিকারের ক্ষেত্র। আজ আমরা ইউরেনিয়াম সরবরাহের একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর করেছি এবং পরমাণু ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিছুক্ষণ আগেই আমরা কমিকো-র সিইও-দের ইতিবাচক প্রস্তাব শুনলাম। ছোট মডিউলার রিঅ্যাক্টর, অ্যাডভান্সড রিঅ্যাক্টর এবং পারমাণবিক শক্তি সংক্রান্ত মূল্যশৃঙ্খলে আমরা একযোগে সহায়তার ভিত্তিতে কাজ করব। ক্রিটিক্যাল মিনারেলের ক্ষেত্রেও এইভাবেই এগিয়ে যাব আমরা। কানাডার উদ্ভাবনী শক্তি এবং ভারতের সক্ষমতার মেলবন্ধনে আমরা ব্যাটারি এবং শক্তি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারি। দ্বিতীয় বিষয়টি হল, পরিকাঠামো এবং মূলধনী অংশীদারিত্ব। 

এ বছরের বাজেটে আমরা পরিকাঠামো খাতে রেকর্ড ১৩০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছি। জাতীয় পরিকাঠামো পাইপলাইনের আওতায় ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হচ্ছে। কানাডার বিভিন্ন পেনশন ফান্ড ভারতে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এর থেকে পারস্পরিক আস্থার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ভারতের পরিকাঠামোগত বিকাশ যাত্রায় অংশ নিতে আমি আপনাদের আমন্ত্রণ জানাই।

তৃতীয় বিষয়টি হল এআই। আমরা দু’পক্ষ মিলে যৌথ এআই কম্পিউট করিডর গড়ে তুলতে পারি। স্টার্ট-আপের জন্য তৈরি করতে পারি এআই ইনোভেশন প্ল্যাটফর্ম। চতুর্থ পরিসরটি হল উৎপাদন এবং প্রযুক্তি। কানাডার প্রযুক্তি এবং বৈদ্যুতিন, বিমান চলাচল কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ক্ষেত্রে ভারতের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করতে পারি। পঞ্চম বিষয়টি হল খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ। ভারতে এখন গড়ে উঠছে একের পর এক মেগা ফুড পার্ক, হিমঘর ব্যবস্থাপনা এবং খাদ্য পরীক্ষণ ল্যাবরেটরি। এই ক্ষেত্রটিতেও সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা দু’পক্ষই লাভবান হতে পারি। 

বন্ধুরা,

আমাদের অংশীদারিত্ব শুধুমাত্র দু’দেশের রাজধানীতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। তার পরিসর ছড়িয়ে দিতে হবে প্রাদেশিক স্তরেও। অ্যালবার্টা-র প্রাকৃতিক সম্পদ গুজরাট কিংবা রাজস্থানের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ক্ষেত্রের উদ্যোগে সহায়ক হয়ে উঠুক। ওন্টারিও-র উৎপাদনশৈলী তামিলনাড়ু কিংবা মহারাষ্ট্রের শিল্পক্ষেত্রকে সমৃদ্ধ করুক। মন্ট্রিল-এর প্রযুক্তি পরিমণ্ডল এবং বেঙ্গালুরু কিংবা হায়দরাবাদের উদ্ভাবন কেন্দ্রের মধ্যে সংযুক্তি ঘটুক। তবেই আমরা এই অংশীদারিত্বকে নিছক নীতির পরিসর থেকে বাস্তব সমৃদ্ধিতে প্রতিফলিত করতে পারব। 

বন্ধুরা,

আপনারা অনেকেই হয়ত ক্রিকেটে আগ্রহী। ভারতে আয়োজিত টি-২০ ক্রিকেট বিশ্বকাপে কানাডার অংশগ্রহণে আমরা আনন্দিত। টি-২০ ক্রিকেটে যেমন দ্রুত সিদ্ধান্ত, নির্ভীক পদক্ষেপ এবং জেতার মানসিকতা নিয়ে এগোতে হয়, ভারত ও কানাডা ভবিষ্যতের নির্মাণ করবে সেইভাবেই। এই বার্তা দিয়ে আমি আপনাদের সকলকে ভারতের বিকাশ যাত্রার অংশীদার হতে আহ্বান জানাই।

অনেক ধন্যবাদ! 

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
PM Modi urges people to take 9 pledges on health, saving water, others

Media Coverage

PM Modi urges people to take 9 pledges on health, saving water, others
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Prime Minister receives phone call from President Emmanuel Macron, discusses situation in West Asia and maritime security
April 16, 2026

The Prime Minister, Shri Narendra Modi, received a phone call from the President of France, Emmanuel Macron.

During the conversation, the two leaders discussed the prevailing situation in West Asia. They agreed on the urgent need to restore safety and ensure freedom of navigation in the Strait of Hormuz.

Both leaders reiterated their commitment to continue close cooperation in advancing peace and stability in the region and beyond.

The Prime Minister wrote on X;

“Received a phone call from my dear friend President Emmanuel Macron. We discussed the situation in West Asia and agreed on the need to urgently restore safety and freedom of navigation in the Strait of Hormuz.

We will continue our close cooperation to advance peace and stability in the region and beyond.

@EmmanuelMacron”