নমস্কার!

আহলান আর সাহলান!!! আপনাদের যৌবনের উৎসাহ আর শক্তি এখানকার পরিবেশকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। আমি সেইসব ভাই ও বোনদেরও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি যারা জায়গার অভাবে এই হলে উপস্থিত নেই এবং নিকটবর্তী হলের স্ক্রিনে এই অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখছেন। আপনারা বুঝতেই পারছেন,  উনারা এতদূর এসে ভেতরে ঢুকতে পারেন নি, ওদের মনের অবস্থা কি হয়ে আছে।   

 

বন্ধুগণ, 

আমি আমার সামনে ভারতের একটি ছোট সংস্করণ দেখতে পাচ্ছি, আমার মনে হয় এখানেও অনেক মালয়ালি আছেন।
সুখম আনো?

এবং শুধু মালয়ালম নয়, এখানে প্রচুর তামিল, তেলেগু, কন্নড় এবং গুজরাটি ভাষাভাষীও রয়েছেন। 

নলমা?
বাগুনারা?
চেন্না-গিদ্দিরা?
কেম চো?

বন্ধুগণ, 

আজ আমরা এক পরিবারের সদস্য হিসেবে একত্রিত হয়েছি। আজ আমরা আমাদের দেশ, টিম ইন্ডিয়া উদযাপন করছি।

বন্ধুগণ, 

ভারতে, আমাদের বৈচিত্র্যই আমাদের সংস্কৃতির ভিত্তি। প্রতিটি দিন একটি নতুন রঙ নিয়ে আসে। প্রতিটি ঋতু একটি নতুন উৎসব নিয়ে আসে। প্রতিটি ঐতিহ্য একটি নতুন চিন্তাভাবনা নিয়ে আসে। ভারতের এই প্রবাসীরা সহাবস্থান এবং সহযোগিতার এক জীবন্ত উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হন। প্রবাসী ভারতীয়রা সহাবস্থান এবং সহযোগিতার এক আদর্শ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হন।  
 
বন্ধুগণ, 

ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্প্রতি আরেকটি উল্লেখযোগ্য সম্মান পেয়েছে। আপনারা হয়তো জানেন, ইউনেস্কো দীপাবলিকে মানবতার স্পর্শনাতীত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।  

এখন, দীপাবলির প্রদীপগুলি শুধু আমাদের বাড়িকেই নয়, সমগ্র বিশ্বকে আলোকিত করবে। এটি সারা পৃথিবীর প্রত্যেক ভারতীয়ের জন্য গর্বের বিষয়।  

 

বন্ধুগণ, 

আজ আমরা সকলে মিলে এখানে ‘ভারত-ওমান’ মৈত্রী পর্ব উদযাপন করছি। 
এই মৈত্রীর অর্থ 
M অর্থাৎ maritime heritage (সমুদ্র যাত্রার ঐতিহ্য) 
A  অর্থাৎ Aspirations (উচ্চাকাঙ্ক্ষা ) 
I  অর্থাৎ Innovation (উদ্ভাবন) 
T অর্থাৎ  Trust and technology (আস্থা ও প্রযুক্তি) 
R অর্থাৎ Respect (সম্মান ) 
I অর্থাৎ Inclusive growth (সর্বাঙ্গীণ উন্নয়ন) 

এই "মৈত্রী পর্ব" আমাদের দুই দেশের মধ্যে সৌহার্দ্য, আমাদের অভিন্ন ইতিহাস এবং আমাদের সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের প্রতিফলন। ভারত এবং ওমানের মধ্যে যুগ যুগ ধরে উষ্ণ এবং প্রাণবন্ত সম্পর্ক রয়েছে।  

ভারত মহাসাগরের মৌসুমি বায়ু দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্যকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। আমাদের পূর্বপুরুষরা লোথাল, মান্ডভি এবং তাম্রলিপ্তর মতো বন্দর থেকে মাস্কট, সুর এবং সালালাহ পর্যন্ত কাঠের নৌকা চালিয়ে যেতেন।

বন্ধুগণ, 

আমাদের দূতাবাস মান্ডভি এবং মাস্কটের মধ্যে এই ঐতিহাসিক সংযোগগুলির তথ্য সম্বলিত একটি বই প্রকাশ করায় আমি আনন্দিত। এখানে বসবাসরত প্রত্যেক বন্ধু এবং তরুণকে এটি পড়ার অনুরোধ জানাই।আপনারা আপনাদের ওমানি বন্ধুদের এই বই উপহার দিন। 

এখন আপনাদের মনে হবে স্কুলে শিক্ষক যেমন হোমওয়ার্ক দেন, আজ মোদিজিও আমাদের  হোমওয়ার্ক দিয়েছেন।  

বন্ধুগণ,  

ভারত ও ওমান শুধু ভৌগোলিকভাবে নয়, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে, তা এই বইতেও আপনারা পাবেন। দীর্ঘদিনের এই সম্পর্কের সবচেয়ে বড় রক্ষক তো আপনারা সকলেই।  

বন্ধুগণ,

আমি Know India Quiz-এ ওমানের অংশগ্রহণ সম্পর্কেও জানতে পেরেছি। ওমান থেকে ১০,০০০-এরও বেশি মানুষ এই প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। সারা পৃথিবীর নিরিখে ওমানের স্থান ছিল চতুর্থ। কিন্তু আমি প্রশংসা করবো না, তবে এটা বলবো যে ওমানের এক নম্বরে থাকা উচিত। আমি ওমানের আরও বেশী অংশগ্রহণ দেখতে চাই, যত বেশি সম্ভব আপনারা এতে যোগদান করুন। ভারতীয় শিশুদের তো অবশ্যই অংশগ্রহণ করা উচিত। আপনারা ওমানে আপনাদের বন্ধুদেরও এই কুইজে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করতে পারেন। 

 

বন্ধুগণ,

ভারত ও ওমানের মধ্যে সম্পর্ক, ব্যবসা বাণিজ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল, এখন শিক্ষার মাধ্যমে তা আরও শক্তিশালী হচ্ছে। আমি শুনলাম এখানে প্রায় ৪৬,০০০ শিক্ষার্থী ভারতীয় স্কুলগুলিতে পড়াশোনা করছে। এর মধ্যে ওমানে বসবাসকারী অন্যান্য সম্প্রদায়ের হাজার হাজার শিশুও রয়েছে।

ওমানে ভারতীয় শিক্ষা ৫০ বছর পূর্ণ করছে। এটি আমাদের দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এক মাইলফলক।

বন্ধুগণ,

প্রয়াত সুলতান মাননীয় কাবুসের উদ্যোগ ছাড়া ভারতীয় স্কুলগুলির সাফল্য অর্জিত হত না। তিনি মাস্কাটে ইন্ডিয়ান স্কুল সহ বেশ কয়েকটি ভারতীয় স্কুলের জন্য জমি দেওয়া সহ সব ধরণের প্রয়োজনীয় সহায়তা করেছিলেন। মাননীয় সুলতান হাইথাম এই ঐতিহ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে গেছেন। 

তিনি যেভাবে ভারতীয়দের সাহায্য করেন, তাঁদের রক্ষা করেন, তার জন্য তাঁর প্রতি আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।

বন্ধুগণ,

আপনারা সকলেই পরীক্ষা পে চর্চা কর্মসূচী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। ওমানে প্রচুর শিশু এই কর্মসূচীর সঙ্গে যুক্ত হয়। আমি আশা করবো, এই কর্মসূচীর ফলে আপনারা উপকৃত হন। অভিভাবক অথবা ছাত্র-ছাত্রী — প্রত্যেকে যাতে চাপ মুক্ত হয়ে পরীক্ষার কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করতে পারেন সেটি আমাদের মূল উদ্দেশ্য। 

বন্ধুগণ,

ওমানে বসবাসরত ভারতীয়রা ভারতে প্রায়সই আশাযাওয়া করেন। আপনারা সকলেই ভারতের প্রতিটি ঘটনা সম্পর্কে সব ধরনের খবর জানেন। আপনারা প্রত্যেকেই দেখছেন, আজ আমাদের ভারত কিভাবে উন্নয়নের নতুন গতি নিয়ে ক্রমশ এগিয়ে চলেছে। ভারতের এই গতি আমাদের পরিচিত করছে। আমাদের এই অর্জন সকলের নজরে আসছে। 

দিন কয়েক আগে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের এক পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়েছে। আপনারা সকলেই জানেন, ভারতের উন্নয়ন ৮ শতাংশেরও বেশি হারে হচ্ছে। অর্থাৎ ভারত ধারাবাহিকভাবে পৃথিবীর দ্রুততম উন্নয়নশীল বৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে নিজেকে পরিচিত করছে। এই ঘটনা তখনই হয়েছে, যখন সারা পৃথিবী বিভিন্ন সমস্যার কারণে শ্লথ গতিতে এগিয়ে চলেছে। পৃথিবীর বড় বড় অর্থনীতি, কিছু অদ্ভূত কারণে মন্থর হয়ে পড়ছে। কিন্তু ভারত দ্রুত উন্নয়নের এই ধারা বজায় রাখতে পেরেছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, ভারতের ক্ষমতা আজ কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে।

 

বন্ধুগণ, 

ভারত আজ প্রতিটি ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব গতিতে কাজ করছে। আজ আপনাদের কাছে ১১ বছর আগের কিছু তথ্য তুলে ধরবো। আপনাদের এইসব তথ্য জেনে গর্ববোধ হবে। এখানে অনেকেই উপস্থিত আছেন, বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকরাও উপস্থিত আছেন। শুরুটা করছি শিক্ষা এবং দক্ষতার বিষয় নিয়ে। গত ১১ বছরে ভারতে হাজার হাজার নতুন কলেজ স্থাপিত হয়েছে।

আইআইটি-র সংখ্যা ১৬ থেকে বেড়ে হয়েছে ২৩। ১১ বছর আগে ভারতে ১৩টি আইআইএম ছিল। আজ সেই সংখ্যা ২১-এ পৌঁছেছে। একইভাবে এইমস-এর কথা ভাবুন। ২০১৪ সালের আগে মাত্র ৭টি এইমস ছিল। আজ ভারতে ২২টি এইমস রয়েছে।

মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ৪০০-রও কম ছিল। আজ ভারতে প্রায় ৮০০টি মেডিকেল কলেজ রয়েছে।

বন্ধুগণ,

আজ আমরা বিকশিত ভারতের জন্য আমাদের শিক্ষা এবং দক্ষতার ব্যবস্থাপনাকে তৈরি করছি। নতুন শিক্ষা নীতি এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই নীতি অনুসারে ১৪ হাজারের বেশি পিএমশ্রী স্কুল গড়ে তোলা হচ্ছে। 
 
বন্ধুগণ,

যখন স্কুলের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, কলেজের সংখ্যা বাড়ে, ইউনিভার্সিটির সংখ্যাও বাড়তে থাকে তখন বোঝা যায় দেশের ভবিষ্যৎও শক্তিশালী হচ্ছে। 

বন্ধুগণ,

ভারতের উন্নয়নের গতি, শিক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হচ্ছে। গত ১১ বছরে আমাদের সৌর শক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ৩০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সৌর শক্তির মডিউল তৈরির ক্ষমতা বেড়েছে ১০ গুণ। অর্থাৎ ভারত বর্তমানে পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের পথে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। আজ পৃথিবীর সব থেকে বড় ফিনটেক ইকোসিস্টেম ভারতে। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম ইস্পাত উৎপাদক রাষ্ট্র ভারত। মোবাইল তৈরির ক্ষেত্রেও আমরা দ্বিতীয় বৃহত্তম। 

বন্ধুগণ,

আজ যাঁরাই ভারতে আসেন, তাঁরাই আমাদের আধুনিক পরিকাঠামো দেখে বিষ্মিত হন। এটি সম্ভব হয়েছে, তার কারণ গত ১১ বছরে আমরা পরিকাঠামো ক্ষেত্রে ৫ গুণের বেশি বিনিয়োগ করেছি।

বিমানবন্দরের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। আজ প্রতিদিন আগের তুলনায় দ্বিগুণ হারে মহাসড়ক নির্মিত হচ্ছে। দ্রুতহারে রেললাইন বসানোর কাজ চলছে। রেলের বৈদ্যুতিকীকরণেরও কাজ চলছে দ্রুতহারে। 

 

বন্ধুগণ,  

এই পরিসংখ্যান শুধু জানার জন্য নয়। বিকশিত ভারত গড়ার যে সংকল্প আমরা নিয়েছি সেই সংকল্প পূরণের দিকে আমরা এগিয়ে চলেছি। একবিংশ শতাব্দীর ভারত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আমরা বড় লক্ষ্য পূরণের দিকে এগিয়ে চলেছি। আর নতুন নতুন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পরই আমরা বিশ্রাম নেবো।

বন্ধুগণ,

আমি আজ আপনাদের গর্বের সঙ্গে একটি তথ্য জানাতে চাই। ভারতে এখন পৃথিবীর সব থেকে বড় ডিজিটাল পাবলিক পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে। ভারতের ইউপিআই অর্থাৎ ইউনিফায়েড পেমেন্টস সিস্টেম পৃথিবীর সব থেকে বড় কার্যকর ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাপনা। এই লেনদেন ব্যবস্থাপনার অগ্রগতি সম্পর্কে আপনাদেরকে ছোট্ট একটি উদাহরণ দেই। আমি এখানে এসেছি মিনিট ত্রিশেক হলো। এই ৩০ মিনিটের মধ্যে ভারতে ইউপিআই-এর মাধ্যমে ১ কোটি ৪০ লক্ষ ডিজিটাল লেনদেন হয়েছে। এই লেনদেনের মোট আর্থিক মূল্য ২ হাজার কোটি ভারতীয় টাকার বেশি। ভারতে বড় বড় শোরুম থেকে শুরু করে, রাস্তার ধারে হকাররা – সকলেই এই আর্থিক লেনদেনের ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। 

বন্ধুগণ,

এখানে অনেক ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত। আমি আপনাদের কাছে মজার কিছু তথ্য দেবো। ভারতে ডিজিলকারের আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। ভারতে বোর্ডের যে পরীক্ষা হয়, সেই পরীক্ষার মার্কশিট সোজা ওই ডিজিলকারের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। জন্ম থেকে শুরু করে পড়াশুনা পর্যন্ত সব ধরনের নথি সরকার তৈরি করে। এই নথিসমূহ ডিজিলকারে রাখা সম্ভব। এধরনের প্রচুর ডিজিটাল সিস্টেম আজ ভারতে সহজ জীবনযাত্রাকে নিশ্চিত করেছে।

বন্ধুগণ,

ভারত চন্দ্রযানে যে সাফল্য অর্জন করেছে তা আপনারা সকলেই দেখেছেন। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পৃথিবীর প্রথম দেশ হিসেবে ভারত সেই অঞ্চলে পৌঁছেছে। শুধু তাই নয়, ১০৪টি কৃত্রিম উপগ্রহকে একসঙ্গে উৎক্ষেপণ করে আমরা এক নজির গড়েছি। 

এখন ভারত গগণযান তৈরি করছে। এই গগণযানের মাধ্যমে মানুষকে মহাকাশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেদিন আর বেশি দেরি নেই, যখন মহাকাশে ভারতের নিজস্ব স্টেশন তৈরি হবে। 

 

বন্ধুগণ,

ভারতের মহাকাশ কর্মসূচী নিজের রাষ্ট্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। আমরা ওমানের মহাকাশ কর্মসূচীকেও সহায়তা করছি। ৬-৭ বছর আগে মহাকাশ ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে আমরা একটি সমঝোতাপত্র সাক্ষর করেছি। ইসরো, ভারত-ওমান স্পেস পোর্টাল তৈরি করেছে। এই তথ্য জেনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি। আর এখন আমরা ওমানের যুব সম্প্রদায়কেও মহাকাশ সংক্রান্ত এই উদ্যোগে অংশীদার করতে চাই। 

এখানে উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের আমি আরও একটি তথ্য জানাতে চাই। ইসরো “যুবিকা” নামে একটি বিশেষ কর্মসূচী পরিচালনা করে। এই কর্মসূচীতে ভারতের হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী যুক্ত আছে। যারা মহাকাশ বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করছে। এই কর্মসূচীতে ওমানের ছাত্র-ছাত্রীদের যাতে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়, আমরা সেই বিষয়ে কাজ করছি। 

আমি চাইবো ওমানের কিছু ছাত্র-ছাত্রী বেঙ্গালুরুতে ইসরোর কেন্দ্রে আসুন। সেখানে কিছু সময় কাটান। ওমানের যুব সম্প্রদায়কে মহাকাশ সংক্রান্ত নানা তথ্য জানানোর এক সুযোগ পাওয়া যাবে। 

বন্ধুগণ,

আজ ভারত বর্তমান সময়ে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। এই সমাধানগুলি পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের জীবনকে উন্নত করে তুলবে।  

সফটওয়ার ডেভেলপমেন্ট, পে-রোল ম্যানেজমেন্ট, তথ্য বিশ্লেষণ কিংবা গ্রাহকদের সহায়তা করার জন্য আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থায় ভারতের প্রতিভা ক্রমশ বিকশিত হচ্ছে। 

দীর্ঘদিন ধরে ভারতের তথ্য প্রযুক্তি পরিষেবা আন্তর্জাতিক স্তরে চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত। এখন আমরা উৎপাদনের সঙ্গে তথ্য প্রযুক্তির ক্ষমতাকে যুক্ত করতে চাই। এই পরিকল্পনা বসুধৈব কুটুম্বকম-এর ধারনার সঙ্গে সাজুয্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। অর্থাৎ মেক ইন ইন্ডিয়া – মেক ফর দ্য ওয়ার্ল্ড। 

বন্ধুগণ,

টিকা অথবা জেনেরিক ওষুধ – পৃথিবীতে আমরা ফার্মাসি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছি। ভারতে ব্যয়সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নতমানের স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়া যায়। দেশের কোটি কোটি মানুষ এই পরিষেবা থেকে উপকৃত হন। 

কোভিডের সময়ে ভারত প্রায় ৩০ কোটি টিকা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাঠিয়েছিল। ১ লক্ষ মেড ইন ইন্ডিয়া কোভিড টিকা ওমানে পাঠানো হয়েছিল। এই তথ্য জেনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।

 

বন্ধুগণ,

একবার ভাবুন এই কাজ ভারত কখন করেছে, যখন প্রত্যেকে খালি নিজের কথাই ভেবেছেন। সেই পরিস্থিতিতে আমরা সারা পৃথিবীর কথা চিন্তা করেছি। রেকর্ড সময়ে ভারত তার ১৪০ কোটি নাগরিকের টিকাকরণ করেছে, পাশাপাশি সারা পৃথিবীর চাহিদাও মিটিয়েছে। 

এটিই ভারতের মডেল, যে মডেল একবিংশ শতাব্দীর পৃথিবীর কাছে নতুন পরিচিতি দিয়েছে। আজ যখন ভারত মেড ইন ইন্ডিয়া চিপ তৈরি করছে, এআই, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং পরিবেশবান্ধব হাইড্রোজেন ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তখন সারা পৃথিবীর অন্যান্য দেশও ভারতের পদক্ষেপের দিকে নজর রাখেছে। কারণ, ভারতের সাফল্য অর্জিত হলে তার সুফল তারাও পাবেন। 

বন্ধুগণ,

আপনারা যাঁরা ওমানে পড়াশুনা করছেন, এখানে কাজ করছেন, তাঁরা ওমানের উন্নয়নে এবং ভারতের উন্নয়নে খুব বড় ভূমিকা পালন করছেন। আপনারা পৃথিবীকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

ওমানে বসবাসরত ভারতীয়দের যাতে কোনো সমস্যা না হয় তার জন্য সরকার সব সময়ে সতর্ক থাকে। ভারত সরকার আপনাদের সব ধরনের সুযোগ সুবিধার দিকে নজর রাখে। ওমান জুড়ে দূতাবাসের ১১টি কেন্দ্র রয়েছে, যেখান থেকে আপনারা প্রয়োজনীয় পরিষেবা পান।

বন্ধুগণ,

গত দশকে পৃথিবীতে অনেক সঙ্কট এসেছে। সেই সঙ্কটের অবস্থায় ভারতীয়দের আমাদের সরকার নানাভাবে সহায়তা করেছে। পৃথিবীর যে প্রান্তের ভারতীয়রা থাকুন আমাদের সরকার সবসময়েই তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন। আর তাই, ইন্ডিয়ান কমিউনিটি ওয়েলফেয়ার ফান্ড, মদত পোর্টাল এবং প্রবাসী ভারতীয় বীমা যোজনার মতো নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বন্ধুগণ,

ভারতের জন্য প্রতিটি ক্ষেত্র গুরুত্বপূর্ণ। ওমান, আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক বন্ধু। ভারত-ওমানের সম্পর্ক এখন দক্ষতা বিকাশ, ডিজিটাল লার্নিং, ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বিনিময় এবং শিল্পোদ্যোগের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এর জন্য আমি আনন্দিত। আমি মনে করি, আপনাদের মধ্য থেকে তরুণ উদ্ভাবক বিকশিত হবেন, যাঁরা ভবিষ্যতে ভারত-ওমান সম্পর্ককে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যাবেন। বর্তমানে ভারতীয় স্কুলগুলিতে সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করা হচ্ছে। আর আমরা আগামী ৫০ বছরের জন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা করবো। আমি প্রত্যেক যুবক-যুবতীকে বলতে চাই :

বড় বড় স্বপ্ন দেখুন।
যে জিনিসটাই শিখবেন তা খুব ভালো করে শিখুন।
উদ্ভাবনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হোন।

কারণ আপনার ভবিষ্যৎ, আপনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, তা সমগ্র মানবজাতির ভবিষ্যৎ।

আপনাদের প্রত্যেককে উজ্জ্বল এক ভবিষ্যতের জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। 

অনেক অনেক ধন্যবাদ! 

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Indian Railways clears ₹755-crore project to build third line between Champa and Korba

Media Coverage

Indian Railways clears ₹755-crore project to build third line between Champa and Korba
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Prime Minister hails India-UK Comprehensive Economic and Trade Agreement as a historic milestone for bilateral relations
June 17, 2026

The Prime Minister, Shri Narendra Modi, has expressed delight that the India-UK Comprehensive Economic and Trade Agreement will enter into force on 15 July 2026.

The Prime Minister said that the agreement will significantly boost bilateral trade and investment.

Shri Modi stated that the agreement will unlock numerous opportunities for Indian farmers, workers, MSMEs, startups and innovators and contribute meaningfully to the realisation of Viksit Bharat 2047.

The Prime Minister noted that both he and UK Prime Minister Keir Starmer, who are in Evian for the G7 Summit, are very happy with the significant momentum being added to India-UK economic ties.

The Prime Minister wrote on X;

“A historic milestone for India-UK relations.

Delighted to note that the India-UK Comprehensive Economic and Trade Agreement will enter into force on 15th July 2026.

This agreement will significantly boost our bilateral trade and investment.

It will also unlock numerous opportunities for Indian farmers, workers, MSMEs, startups and innovators and contribute meaningfully to the realisation of Viksit Bharat 2047.

Both PM Starmer and I, who are in Evian for the G7 Summit, are naturally very happy with the significant momentum being added to our economic ties.

@Keir_Starmer”