Kaziranga is more than a National Park—it is the soul of Assam, a priceless jewel of India’s biodiversity, honored by UNESCO as a World Heritage Site: PM
In recent years, Kaziranga has seen a steady rise in tourism, opening new livelihood opportunities for local youth: PM
For long, it was believed that nature and progress stood in opposition, that the two could not move together. Today, India is demonstrating to the world that both can advance together side by side: PM
The North East is no longer on the margins of development; it is now closer to the nation’s heart and to Delhi itself: PM

আসামের প্রকৃতিপ্রেমী জনগণকে আমার গভীর শ্রদ্ধা।

আসামের রাজ্যপাল শ্রী লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য জি, এখানকার জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জি, কেন্দ্রীয় সরকারে আমার সহকর্মী শ্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল জি, শ্রী পবিত্র মার্ঘেরিটা জি, অসমের মন্ত্রী শ্রী অতুল বোরা জি, শ্রী চরণ বরো জি, শ্রী কৃষ্ণেন্দু পাল জি, শ্রী কেশব মহন্ত জি, অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং আমার আসামের প্রিয় ভাই ও বোনেরা।

আবহাওয়া ঠান্ডা, গ্রামগুলো অনেক দূরে দূরে, তবুও, আমার দৃষ্টি যতদূর যাচ্ছে, শুধু মানুষ আর মানুষই চোখে পড়ছে। আপনারা এত বিপুল সংখ্যায় আমাদের আশীর্বাদ করতে এসেছেন, আমি আপনাদের কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।

আজ আবার কাজিরাঙ্গায় আসার সুযোগ পেয়েছি। আমার আগের সফরের কথা মনে পড়াটা খুবই স্বাভাবিক। দুই বছর আগে কাজিরাঙ্গায় কাটানো মুহূর্তগুলো আমার জীবনের অন্যতম বিশেষ অভিজ্ঞতা। কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানে রাত কাটানোর সুযোগ হয়েছিল এবং পরের দিন সকালে হাতি সাফারি করার সময় আমি এই অঞ্চলের সৌন্দর্যকে খুব কাছ থেকে অনুভব করেছিলাম।

বন্ধুগণ,

আসামে এলে আমি সবসময় এক অন্যরকম আনন্দ পাই। এই ভূমি বীরদের ভূমি। এটি এমন সব পুত্র-কন্যার ভূমি যারা প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শন করে। গতকালই আমি গুয়াহাটিতে বাগুরুম্বা ধেউ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলাম। সেখানে আমাদের বড়ো সম্প্রদায়ের কন্যারা বাগুরুম্বা পরিবেশন করে একটি নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। বাগুরুম্বার এমন চমৎকার পরিবেশনা, দশ হাজারেরও বেশি শিল্পীর শক্তি, খামের তাল, সিফুং-এর সুর—সেই মন্ত্রমুগ্ধকর মুহূর্তগুলো সবাইকে মুগ্ধ করেছিল। বাগুরুম্বার সেই নৃত্য দেখার অভিজ্ঞতা চোখের সামনে থেকে হৃদয়ে গেঁথে যাচ্ছিল।আমাদের আসামের শিল্পীরা সত্যিই অসাধারণ নৃত্য পরিবেশন করেছেন। তাদের কঠোর পরিশ্রম, তাদের প্রস্তুতি, তাদের সমন্বয়, সবকিছুই ছিল খুব চমৎকার। আমি আজ আবারও বাগুরুম্বা ধেউ-এর সঙ্গে জড়িত সকল শিল্পীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই এবং আমি সারা দেশের সোশ্যাল মিডিয়া প্রভাবশালীদেরও অভিনন্দন জানাই; আমি গতকাল থেকে দেখছি যে বড়ো ঐতিহ্যের এই চমৎকার নৃত্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেয়ে গেছে। আমি সম্পূর্ণ নিশ্চিত যে দেশের এবং বিশ্বের মানুষ শিল্প ও সংস্কৃতির এই ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গি, এর শক্তিকে চিনতে পারবেন এবং যে সমস্ত সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সাররা এই কাজটিকে প্রচার করছেন, তাঁরাও অভিনন্দনের যোগ্য। গণমাধ্যমের বন্ধুদের জন্য, গতকাল সন্ধ্যার সময়টা বেশ ব্যস্ত সময় ছিল, কিন্তু আজ সকাল থেকে অনেক টিভি চ্যানেলও এই অনুষ্ঠানটি পুনঃপ্রচার শুরু করেছে।আপনারা কল্পনা করতে পারেন অনুষ্ঠানটি কতটা জাঁকজমকপূর্ণ ছিল।

 

বন্ধুগণ,

গত বছর আমি ঝুমুর উৎসবেও অংশ নিয়েছিলাম। এবার মাঘ বিহুর অনুষ্ঠানে আসার সুযোগ পেয়েছি। এক মাস আগে আমি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য এখানে এসেছিলাম। গুয়াহাটির জনপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ করা হয়েছে। আমি এর নতুন টার্মিনাল ভবনের উদ্বোধন করেছি। এছাড়াও, আমি নামরূপে অ্যামোনিয়া-ইউরিয়া কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি। এই সমস্ত অনুষ্ঠান বিজেপি সরকারের ‘বিকাশও, ঐতিহ্যও’ (উন্নয়ন এবং ঐতিহ্য উভয়ই একসঙ্গে)- এই মন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করেছে। এখানকার কিছু বন্ধু ছবি হাতে নিয়ে এভাবে দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁরা ক্লান্ত হয়ে পড়বেন; আপনারা ছবিগুলো পাঠান, আমি নেব, আপনারা এগুলো সামনে জমা করুন; এসপিজি-র কর্মীরা, যাঁরা ছবি এনেছেন তাঁদের কাছ থেকে ছবিগুলো নিন; যদি ছবির পেছনে আপনাদের ঠিকানা লেখা থাকে, তবে আমার চিঠি অবশ্যই আসবে। এখানেও, এই পাশেও কিছু যুবক অনেকক্ষণ ধরে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমি আপনাদের সকল শিল্পীকে ধন্যবাদ জানাই; আপনাদের ভালোবাসার জন্য, আপনাদের এই অনুভূতির জন্য আমি আপনাদের শ্রদ্ধা করি। আপনারা সবাই বসুন; যারা এখানে আছেন, দয়া করে তাঁদের বসতে দিন, ভাই, তাঁদের কষ্ট দেবেন না।

বন্ধুগণ,

আসামের ইতিহাসে কলিয়াবর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে। আসামের বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্যও এই স্থানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানের প্রবেশদ্বার এবং আপার আসামের সংযোগ কেন্দ্রও বটে। এখান থেকেই মহান যোদ্ধা লাচিত বরফুকন মুঘল আক্রমণকারীদের বিতাড়িত করার কৌশল রচনা করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে আসামের জনগণ সাহস, ঐক্য এবং দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মুঘল সেনাবাহিনীকে পরাজিত করেছিল। এটি কেবল একটি সামরিক বিজয় ছিল না; এটি ছিল আসামের আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাসের ঘোষণা। অতীতে সমগ্র পশ্চিম আসামের দায়িত্ব এখান থেকেই পরিচালিত হতো। আহোম শাসনের সময় থেকেই কলিয়াবরের কৌশলগত গুরুত্ব ছিল। আমি আনন্দিত যে বিজেপি সরকারের অধীনে এই অঞ্চলটি এখন সংযোগ এবং উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।

বন্ধুগণ,

আজ বিজেপি সারা দেশের মানুষের প্রথম পছন্দে পরিণত হয়েছে। গত দেড় বছর ধরে বিজেপির প্রতি দেশের মানুষের আস্থা ক্রমাগত বাড়ছে। সম্প্রতি বিহারে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে; সেখানে ২০ বছর পরেও জনগণ বিজেপিকে রেকর্ড সংখ্যক ভোট দিয়েছে এবং রেকর্ড সংখ্যক আসনে জয়ী করেছে। মাত্র দুই দিন আগে মহারাষ্ট্রের বড় শহরগুলোর মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচনের ফলাফল এসেছে। মুম্বাই, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম পৌরসংস্থা, সেখানে জনগণ প্রথমবারের মতো বিজেপিকে রেকর্ড সংখ্যক আসনে জয়ী করেছে। দেখুন, জয় হচ্ছে মুম্বাইতে, আর উদযাপন হচ্ছে কাজিরাঙ্গায়। মহারাষ্ট্রের বেশিরভাগ শহরের জনগণ বিজেপিকে সেবা করার সুযোগ দিয়েছে।

 

বন্ধুগণ,

এর আগে, সুদূর দক্ষিণে কেরালার জনগণ বিজেপিকে বিপুল সমর্থন দিয়েছে। সেখানে প্রথমবারের মতো একজন বিজেপি মেয়র নিযুক্ত হয়েছেন; কেরালার রাজধানী তিরুবনন্তপুরমে আজ বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে।

বন্ধুগণ,

সাম্প্রতিক অতীতে যে নির্বাচনের ফলাফল এসেছে, তার বার্তা স্পষ্ট। দেশের সাধারণ মানুষ আজ সুশাসন চায়, উন্নয়ন চায়।তারা উন্নয়ন এবং ঐতিহ্য উভয়কেই গুরুত্ব দেয়।সেজন্যেই তারা বিজেপিকে পছন্দ করে।

বন্ধুগণ,

এই নির্বাচনগুলো থেকে আরও একটি বার্তা পাওয়া গেছে: দেশ ক্রমাগত কংগ্রেসের নেতিবাচক রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করছে। মুম্বাই শহরে, যেখানে কংগ্রেসের জন্ম হয়েছিল, সেখানে আজ এটি চতুর্থ বা পঞ্চম স্থানে থাকা দলে পরিণত হয়েছে। মহারাষ্ট্রে, যেখানে কংগ্রেস বছরের পর বছর ধরে শাসন করেছে, সেখানে কংগ্রেস সম্পূর্ণভাবে সংকুচিত হয়ে পড়েছে।কংগ্রেস আজ দেশের মানুষের বিশ্বাস হারিয়েছে, কারণ কংগ্রেসের কাছে উন্নয়নের কোনো কর্মসূচি নেই। এমন কংগ্রেস আসাম বা কাজিরাঙ্গার জন্য কখনোই ভালো কিছু করতে পারে না।

বন্ধুগণ,

কাজিরাঙ্গার সৌন্দর্য সম্পর্কে ভারতরত্ন ডঃ ভূপেন হাজারিকা জি বলেছিলেন: আমার কাজিরঙা ধন্য, প্রকৃতির সুন্দর কোলে খেলে, আমার মন হয়েছে পুণ্য। এই কথাগুলোর মধ্যে কাজিরাঙ্গার প্রতি ভালোবাসার অনুভূতি এবং প্রকৃতির প্রতি অসমীয়া মানুষের স্নেহের প্রকাশ রয়েছে।কাজিরাঙ্গা শুধু একটি জাতীয় উদ্যান নয়; কাজিরাঙ্গা হলো আসামের আত্মা, এটি ভারতের জীববৈচিত্র্যের একটি অমূল্য রত্নও বটে। ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দিয়েছে।

 

বন্ধুগণ,

কাজিরাঙ্গা এবং এখানকার বন্যপ্রাণীদের রক্ষা করা শুধু পরিবেশ রক্ষা নয়; এটি আসামের ভবিষ্যৎ এবং আগামী প্রজন্মের প্রতি আমাদের দায়িত্বও বটে। আর এটা শুধু মোদীর দায়িত্ব নয়, এটা আপনাদেরও দায়িত্ব, এবং এই কথা মাথায় রেখেই আজ আসামের মাটি থেকে নতুন নতুন প্রকল্পের সূচনা হচ্ছে; এগুলোর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।এই প্রকল্পগুলোর জন্য আমি আপনাদের অনেক অনেক অভিনন্দন জানাই।

বন্ধুগণ,

কাজিরাঙ্গা হলো একশৃঙ্গ গন্ডারের আবাসস্থল। প্রতি বছর বন্যার সময় যখন ব্রহ্মপুত্রের জলস্তর বাড়ে, তখন এখানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়। তখন বন্যপ্রাণীরা উঁচু জায়গার খোঁজে বেরিয়ে আসে। এই পথে তাদের জাতীয় সড়ক পার হতে হয়। এমন সময়ে গন্ডার, হাতি এবং হরিণ রাস্তার পাশে আটকা পড়ে। আমাদের প্রচেষ্টা হলো রাস্তাটিও যেন সচল থাকে এবং বনও যেন সুরক্ষিত থাকে। এই দৃষ্টিভঙ্গির অধীনেই কালিয়াবর থেকে নুমালিগড় পর্যন্ত প্রায় ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি করিডোর তৈরি করা হচ্ছে। এর জন্য প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি এলিভেটেড বন্যপ্রাণী করিডোরও নির্মাণ করা হবে। এখানে যানবাহনগুলো উপর দিয়ে চলাচল করবে এবং নিচে বন্যপ্রাণীদের চলাচল কোনো বাধা ছাড়াই অব্যাহত থাকবে। একশৃঙ্গ গণ্ডার, হাতি বা বাঘ—যাই হোক না কেন, তাদের ঐতিহ্যবাহী চলাচলের পথগুলো মাথায় রেখে নকশাটি তৈরি করা হয়েছে।

বন্ধুগণ,

এই করিডোরটি আপার আসাম এবং অরুণাচল প্রদেশের সংযোগ ব্যবস্থাকেও উন্নত করবে। কাজিরাঙ্গা এলিভেটেড করিডোর এবং নতুন রেল পরিষেবার মাধ্যমে আসামের মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর জন্য আমি আসামের জনগণকে এবং দেশবাসীকে অভিনন্দন জানাই।

বন্ধুগণ,

যখন প্রকৃতি সুরক্ষিত থাকে, তখন তার সঙ্গে সঙ্গে সুযোগও তৈরি হয়। গত কয়েক বছরে কাজিরাঙ্গায় পর্যটকের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েছে। হোমস্টে, গাইড পরিষেবা, পরিবহন, হস্তশিল্প এবং ছোট ব্যবসার মাধ্যমে স্থানীয় যুবকরা আয়ের নতুন পথ খুঁজে পেয়েছে।

 

বন্ধুগণ,

আজ আমি আরও একটি বিষয়ের জন্য বিশেষ করে আপনাদের, আসামের জনগণকে এবং এখানকার সরকারকে প্রশংসা করব। একটা সময় ছিল যখন কাজিরাঙ্গায় গণ্ডার শিকারের ঘটনা আসামের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ২০১৩ এবং ২০১৪ সালে কয়েক ডজন একশৃঙ্গ গণ্ডারকে হত্যা করা হয়েছিল। বিজেপি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে আমরা এটা চলতে দেব না, এভাবে আর চলবে না। এরপর আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে শক্তিশালী করেছি। বন বিভাগ আধুনিক সরঞ্জাম পেয়েছে, নজরদারি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হয়েছে এবং ‘বন দুর্গা’ হিসেবে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো হয়েছে। এর সুফলও সামনে এসেছে। ২০২২ সালে গণ্ডার শিকারের একটিও ঘটনা সামনে আসেনি। আর তাই, আপনারা সবাই এবং সরকার, প্রত্যেকেই অভিনন্দনের যোগ্য। বিজেপি সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং আসামের মানুষের প্রচেষ্টার ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে।

বন্ধুগণ,

দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা প্রচলিত ছিল যে প্রকৃতি এবং অগ্রগতি একে অপরের বিপরীত; বলা হতো যে এই দুটি একসঙ্গে চলতে পারে না। কিন্তু আজ ভারত বিশ্বকে দেখাচ্ছে যে উভয়ই একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে - অর্থনীতি এবং পরিবেশ উভয়ই। গত দশকে দেশে বন ও বৃক্ষের আচ্ছাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। ‘এক পেড় মা কে নাম’ অভিযানে মানুষ উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছে। এই অভিযানের অধীনে এখন পর্যন্ত ২৬০ কোটিরও বেশি গাছ লাগানো হয়েছে। ২০১৪ সালের পর দেশে বাঘ ও হাতির অভয়ারণ্যের সংখ্যা বেড়েছে। সংরক্ষিত এলাকা এবং কমিউনিটি এলাকাতেও ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটেছে। যে চিতার প্রজাতি অনেক আগে ভারত থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল, সেই প্রজাতির কিছু চিতাকে বিদেশ থেকে আনা হয়েছে।আজ সেই চিতাগুলি মানুষের জন্য একটি নতুন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। আমরা জলাভূমি সংরক্ষণের জন্যও ক্রমাগত কাজ করে যাচ্ছি। আজ ভারত এশিয়ার বৃহত্তম রামসার নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। রামসার সাইটের সংখ্যার নিরিখে ভারত বিশ্বে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এখন আমাদের আসামও বিশ্বকে দেখাচ্ছে যে আমরা কীভাবে উন্নয়নের পাশাপাশি আমাদের ঐতিহ্যকে পরিচালনা করতে পারি এবং প্রকৃতিকেও রক্ষা করতে পারি।

বন্ধুগণ,

উত্তর-পূর্বের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল দূরত্ব। হৃদয়ের দূরত্ব, স্থানের দূরত্ব; কয়েক দশক ধরে এখানকার মানুষ অনুভব করত যে দেশের উন্নয়ন অন্য কোথাও হচ্ছে এবং তারা পিছিয়ে পড়ছে। এর প্রভাব শুধু অর্থনীতির ওপরই নয়, আস্থার ওপরও পড়েছিল। বিজেপি এই অনুভূতি পরিবর্তনের কাজ করেছে; ডাবল-ইঞ্জিন সরকার উত্তর-পূর্বের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সড়কপথ, রেলপথ, আকাশপথ এবং জলপথের মাধ্যমে আসামকে সংযুক্ত করার কাজ একযোগে শুরু হয়েছে।

বন্ধুগণ,

যখন আমরা রেল যোগাযোগ বৃদ্ধি করি, তখন এর সুফল সামাজিক ও অর্থনৈতিক উভয় স্তরেই পাওয়া যায়। তাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য সংযোগের সম্প্রসারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কংগ্রেস কখনও এ বিষয়ে মনোযোগ দেয়নি। আমি আপনাদের একটি পরিসংখ্যান দিচ্ছি। যখন কেন্দ্রে কংগ্রেস সরকার ছিল, তখন আসাম খুব সামান্য রেল বাজেট পেত। প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা; এখন বিজেপি সরকারের আমলে তা বাড়িয়ে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। এখন আমি আপনাদের জিজ্ঞাসা করছি, আপনাদের কি এই অঙ্কটা মনে আছে? আপনাদের কি এই অঙ্কটা মনে আছে? নাকি ভুলে গেছেন? আমি আপনাদের আবার মনে করিয়ে দিচ্ছি: কংগ্রেসের আমলে আসাম রেলওয়ের জন্য দুই হাজার কোটি টাকা পেত, কত? সবাই বলুন, কত টাকা পাওয়া যেত? কত টাকা পাওয়া যেত? কত টাকা পাওয়া যেত? বিজেপি সরকার আসার পর আসাম এখন কত পায় - ১০ হাজার কোটি টাকা। কত? কত? কত? ১০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, কংগ্রেস আসামকে রেলওয়ের জন্য যে টাকা দিত, বিজেপি তার চেয়ে পাঁচগুণ বেশি টাকা আসামকে দিচ্ছে।

 

বন্ধুগণ,

এই বর্ধিত বিনিয়োগের ফলে বড় আকারে পরিকাঠামো নির্মাণ হয়েছে। নতুন রেললাইন স্থাপন, ডাবলিং এবং বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে রেলওয়ের সক্ষমতা বেড়েছে এবং মানুষের জন্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ কালিয়াবর থেকে শুরু হওয়া তিনটি নতুন ট্রেন পরিষেবাও আসামের রেল সংযোগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্প্রসারণ। বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি গুয়াহাটিকে কলকাতার সঙ্গে সংযুক্ত করবে। এই আধুনিক স্লিপার ট্রেনটি দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রাকে আরও অনেক বেশি আরামদায়ক করে তুলবে। এর পাশাপাশি দুটি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনেরও সূচনা করা হচ্ছে। এই ট্রেনগুলোর রুটে আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং উত্তর প্রদেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা লক্ষ লক্ষ যাত্রীকে সরাসরি উপকৃত করবে। এই ট্রেনগুলো আসামের ব্যবসায়ীদের নতুন বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করবে; ছাত্রছাত্রীরা সহজেই শিক্ষার নতুন সুযোগের কাছে পৌঁছাতে পারবে। এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আসামের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। সংযোগের এই সম্প্রসারণ এই বিশ্বাস তৈরি করে যে উত্তর-পূর্বাঞ্চল এখন আর উন্নয়নের প্রান্তিক অঞ্চলে নেই। উত্তর-পূর্বাঞ্চল আর দূরে নেই; উত্তর-পূর্বাঞ্চল এখন হৃদয়ের কাছাকাছি এবং দিল্লিরও কাছাকাছি।

বন্ধুগণ,

আজ আপনাদের মাঝে আসামের সামনে থাকা একটি বড় চ্যালেঞ্জ নিয়েও আলোচনা করা প্রয়োজন। এই চ্যালেঞ্জ হলো আসামের পরিচয়কে বাঁচানোর, আসামের সংস্কৃতিকে বাঁচানোর। আপনারাই বলুন, আসামের পরিচয় কি রক্ষা করা উচিত নাকি উচিত নয়? এভাবে নয়, সবাই উত্তর দিন, আসামের পরিচয় কি রক্ষা করা উচিত নাকি উচিত নয়? আপনাদের পরিচয় কি গঠিত হওয়া উচিত নাকি উচিত নয়? আপনাদের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য কি রক্ষা করা উচিত নাকি উচিত নয়? আজ আসামে বিজেপি সরকার যেভাবে অনুপ্রবেশের মোকাবিলা করছে, যেভাবে আমাদের বনভূমি, ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক স্থান এবং আপনাদের জমিকে অবৈধ দখলমুক্ত করছে, তার আজ ব্যাপক প্রশংসা হচ্ছে। এটা কি ঠিক হচ্ছে নাকি হচ্ছে না? এটা কি হওয়া উচিত নাকি উচিত নয়? এটা কি আপনাদের ভালোর জন্য হচ্ছে নাকি হচ্ছে না? কিন্তু আপনারাও এক মুহূর্ত ভাবুন বন্ধুগণ, কংগ্রেস আসামের সঙ্গে কী করেছিল? শুধু সরকার গঠন করার জন্য, কিছু ভোট পাওয়ার জন্য, তারা আসামের মাটি অনুপ্রবেশকারীদের হাতে তুলে দিয়েছিল। কংগ্রেস আসামে দশকের পর দশক ধরে সরকার গঠন করেছে। এই সময়ে অনুপ্রবেশ ক্রমাগত বাড়তেই থেকেছে, বাড়তেই থেকেছে, আর এই অনুপ্রবেশকারীরা কী করেছে? আসামের ইতিহাস, এখানকার সংস্কৃতি বা আমাদের বিশ্বাসের প্রতি তাদের কোনো শ্রদ্ধা ছিল না; তাই তারা সর্বত্র জায়গা দখল করে নিয়েছে। অনুপ্রবেশের কারণে পশু চলাচলের পথগুলো দখল হয়ে গেছে, অবৈধ শিকার উৎসাহিত হয়েছে এবং চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধও বেড়েছে।

বন্ধুগণ,

এই অনুপ্রবেশকারীরা জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট করছে, আমাদের সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানছে, গরিব ও যুবকদের কর্মসংস্থান কেড়ে নিচ্ছে এবং উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় মানুষকে প্রতারিত করে জমি দখল করছে। এটি আসাম এবং দেশ উভয়ের নিরাপত্তার জন্য একটি অত্যন্ত বড় হুমকি।

 

বন্ধুগণ,

আপনাদের কংগ্রেস সম্পর্কে খুব সতর্ক থাকতে হবে। কংগ্রেসের একটাই নীতি: অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাও, অনুপ্রবেশকারীদের সাহায্যে ক্ষমতা দখল করো! সারা দেশ জুড়ে কংগ্রেস এবং তার সঙ্গীরা এটাই করছে। বিহারেও তারা অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর জন্য যাত্রা ও মিছিল বের করেছিল। কিন্তু বিহারের জনগণ কংগ্রেসকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে। এখন আসামের মানুষের পালা; আমি নিশ্চিত যে আসামের মাটি থেকেও কংগ্রেস যোগ্য জবাব পাবে।

বন্ধুগণ,

আসামের উন্নয়ন সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য নতুন দ্বার উন্মোচন করছে। আসাম 'অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি'-কে দিশা দেখাচ্ছে। যখন আসাম এগিয়ে যায়, তখন উত্তর-পূর্বাঞ্চল এগিয়ে যায়। যখন উত্তর-পূর্বাঞ্চল এগিয়ে যায়, তখন ভারত এগিয়ে যায়। আমাদের প্রচেষ্টা এবং আসামের মানুষের বিশ্বাস সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এই বিশ্বাস নিয়েই আমি আজকের প্রকল্পগুলোর জন্য আপনাদের সবাইকে আবারও অনেক অনেক অভিনন্দন জানাই। আমার সঙ্গে বলুন -

ভারত মাতা কি জয়।

ভারত মাতা কি জয়।

এই বছর বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তি; এটি এক পবিত্র স্মরণের সময়। আমার সঙ্গে বলুন -

বন্দে মাতরম।

বন্দে মাতরম।

বন্দে মাতরম।

বন্দে মাতরম।

বন্দে মাতরম।

বন্দে মাতরম।

বন্দে মাতরম।

বন্দে মাতরম।

বন্দে মাতরম।

বন্দে মাতরম।

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Follower to leader: India's AI application shifts reshape tech landscape

Media Coverage

Follower to leader: India's AI application shifts reshape tech landscape
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Prime Minister congratulates Mr. Péter Magyar on election victory in Hungary
April 13, 2026

Prime Minister Shri Narendra Modi today extended his heartiest congratulations to Mr. Péter Magyar and the Tisza Party on their resounding election victory.

The Prime Minister remarked that India and Hungary are bound by a deep-rooted friendship, shared values, and enduring mutual respect. Shri Modi stated that he looks forward to working closely with Mr. Magyar to further strengthen bilateral cooperation between the two nations and advancing the vital India-EU Strategic Partnership for the shared prosperity and well-being of the people of both regions.

The Prime Minister wrote on X:

"Heartiest congratulations to Mr. Péter Magyar and the Tisza Party on your resounding election victory. India and Hungary are bound by deep-rooted friendship, shared values and enduring mutual respect. I look forward to working closely with you to further strengthen our bilateral cooperation and to advance the vital India-EU Strategic Partnership for the shared prosperity and well-being of our peoples.

@magyarpeterMP "