শেয়ার
 
Comments
তিনি আইআইএমএস, সার কারখানা এবং আইসিএমআর-এর কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছেন
যখন ডবল ইঞ্জিনের সরকার থাকে তখন উন্নয়নমূলক কাজের বাস্তবায়নের গতি দ্বিগুণ হয়: প্রধানমন্ত্রী
যখন এমন একটি সরকার থাকে যাঁরা দরিদ্র, নিপীড়িত এবং বঞ্চিতদের কথা চিন্তা করে, তখন তার সুফল প্রতিফলিত হয়
এদিনের অনুষ্ঠান প্রমাণ করে যে, নতুন ভারত যখন সংকল্পবদ্ধ, তখন কিছুই অসম্ভব নয়
প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে আখ চাষিদের জন্য অভূতপূর্ব কাজে উত্তরপ্রদেশ সরকারের প্রশংসা করেন

ভারতমাতার জয়, ভারতমাতার জয়!

ধর্ম, অধ্যাত্ম আর বিপ্লবের নগরী গোরক্ষপুরের দেবতুল্য জনগণকে আমি প্রণাম জানাই। পরমহংস যোগানন্দ, মহাযোগী গোরক্ষনাথজি, পূজনীয় হনুমান প্রসাদ পোদ্দারজি আর মহাআত্মবলিদানকারী পণ্ডিত রামপ্রসাদ বিস্মিল-এর এই পবিত্র মাটিকে কোটি কোটি প্রণাম। আপনারা সবাই সার কারখানা আর এইমস মানের হাসপাতালের জন্য দীর্ঘকাল অপেক্ষা করেছেন। আজ সেই মুহূর্ত এসে গেছে, যখন আপনারা এগুলি পাচ্ছেন। আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

আমার সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল শ্রীমতী আনন্দিবেন প্যাটেলজি, উত্তরপ্রদেশের যশস্বী কর্মযোগী মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথজি, উত্তরপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্যজি, ডঃ দীনেশ শর্মাজি, ভারতীয় জনতা পার্টির উত্তরপ্রদেশের অধ্যক্ষ শ্রী স্বতন্ত্র দেবসিং-জি, আপনা দল-এর জাতীয় অধ্যক্ষ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আমাদের সঙ্গী ভগিনী অনুপ্রিয়া প্যাটেলজি, নিশাদ পার্টির অধ্যক্ষ ভাই সঞ্জয় নিশাদজি, রাম চৌহানজি, আনন্দস্বরূপ শুক্লাজি, আমার সাংসদ সঙ্গীগণ, উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা এবং বিধান পরিষদের মাননীয় সদস্যগণ আর এখানে আমাকে আশীর্বাদ দেওয়ার জন্য বিপুল সংখ্যায় আগত আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা!

যখন আমি মঞ্চে উঠছিলাম তখন ভাবছিলাম, এত ভিড়, এখান থেকে সবাইকে দেখাও যাচ্ছে না। কিন্তু যখন ওদিকে তাকালাম, তখন অবাক হয়ে গেলাম। এত বড় সংখ্যক মানুষ! আর আমি জানি, আপনারা সবাই হয়তো আমাকে দেখতেই পাচ্ছেন না। হয়তো কেউ কেউ শুনতেও পাচ্ছেন না। এত দূর দূর থেকে মানুষ পতাকা ওড়াচ্ছেন। এটা আপনাদের ভালোবাসা, এটা আপনাদের আশীর্বাদ। এ থেকেই আমরা আপনাদের জন্য দিন-রাত কাজ করার প্রেরণা পাই, প্রাণশক্তি পাই, শক্তি পাই। পাঁচ বছর আগে আমি এখানে এইমস হাসপাতাল এবং সার কারখানার শিলান্যাস করতে এসেছিলাম। আজ আপনারা আমাকে এই দুটির শুভ উদ্বোধন করার সৌভাগ্য দিয়েছেন। আইসিএমআর-এর রিজিওনাল মেডিকেল রিসার্চ সেন্টারও আজ এখানে একটি নতুন ভবন পেয়েছে। আমি উত্তরপ্রদেশের জনগণকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।

বন্ধুগণ,

গোরক্ষপুরে সার কারখানা শুরু হওয়া, এইমস মানের হাসপাতাল শুরু হওয়া অনেক বার্তা দিচ্ছে। যখনই ডবল ইঞ্জিনের সরকার হয়, তখন দ্বিগুণ গতিতে কাজও হয়। যখন সদিচ্ছা নিয়ে কাজ হয়, তখন কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ও অবরোধ সৃষ্টি করতে পারে না। যখন দেশে গরীব, শোষিত, বঞ্চিত মানুষের জন্য চিন্তা করার সরকার থাকে, তখন তারা পরিশ্রমও করে, পরিণামও এনে দেখায়। গোরক্ষপুরে আজ যে আয়োজন হয়েছে তা এর জলজ্যান্ত প্রমাণ যে নতুন ভারত যখন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়, তখন তার জন্য কোনকিছুই অসম্ভব নয়।

বন্ধুগণ,

২০১৪ সালে যখন আপনারা আমাকে প্রথমবার সেবা করার সুযোগ দিয়েছিলেন, সেই সময় দেশে সার উৎপাদন ক্ষেত্রে অনেক খারাপ অবস্থা ছিল। দেশের অনেক বড় বড় কারখানা অনেক বছর বন্ধ হয়ে পড়েছিল, আর বিদেশ থেকে সার আমদানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। আরও একটি বড় সমস্যা ছিল যে যতটা সার দেশের কাছে ছিল, তারও সম্পূর্ণ সদ্ব্যবহার হতো না। চাষের কাজ ছাড়া অন্য কাজের জন্যও লুকিয়ে গোপনে চলে যেত। সেজন্য সারা দেশে ইউরিয়ার অভাব তখন দেশের খবরের কাগজ ও বৈদ্যুতিন মাধ্যমে সংবাদ শিরোনামে থাকত। কৃষকদের সার সংগ্রহ করতে গিয়ে লাঠিপেটা খাওয়া, গুলি খাওয়া – এ ধরনের দিনও বারবার দেখতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতি থেকে দেশকে বের করে আনার জন্য আমরা একটি নতুন সঙ্কল্প নিয়ে এগিয়ে গিয়েছি। আমরা তিনটি সূত্র অনুসারে একসঙ্গে কাজ করা শুরু করেছি। প্রথমটি হল, আমরা ইউরিয়ার ভুল ব্যবহার থামিয়েছি। ইউরিয়াকে ১০০ শতাংশ নিম আচ্ছাদিত করা সুনিশ্চিত করেছি। দ্বিতীয়ত, আমরা কোটি কোটি কৃষককে মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড দিয়েছি যাতে তাঁরা বুঝতে পারেন যে তাঁদের চাষের খেতে কোন ধরনের সারের প্রয়োজন, আর তৃতীয়ত, আমরা ইউরিয়ার উৎপাদন বৃদ্ধিতে জোর দিয়েছি। বন্ধ হয়ে থাকা সার কারখানাগুলিকে আবার খোলার জন্য আমরা জোর দিয়েছি। এই অভিযানের মাধ্যমেই গোরক্ষপুরের এই সার কারখানাটি সহ দেশের আরও চারটি বড় সার কারখানা আমরা বেছে নিয়েছি। তার মধ্যে আজ একটি চালু হয়ে গেল। বাকি তিনটিও আগামী বছর চালু হয়ে যাবে।

বন্ধুগণ,

গোরক্ষপুর সার কারখানা চালু করার জন্য আরেকটি ভগীরথ-সম কাজ হয়েছে। যেভাবে পূরাণে আমরা পড়েছি যে ভগীরথজি গঙ্গাজিকে হিমালয় থেকে আহ্বান করে নিয়ে এসেছিলেন, তেমনই এই সার কারখানা পর্যন্ত গঙ্গার মাধ্যমে জ্বালানি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ‘পিএম উর্জা গঙ্গা গ্যাস পাইপলাইন পরিযোজনা’র মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া থেকে উত্তরপ্রদেশের জগদীশপুর পর্যন্ত পাইপলাইন পাতা হয়েছে। এই পাইপলাইনের ফলে গোরক্ষপুর সার কারখানা তো শুরু হয়েছেই, পূর্ব ভারতের কয়েক ডজন জেলায় পাইপলাইনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সস্তায় গ্যাসও পাচ্ছেন।

ভাই ও বোনেরা,

সার কারখানার শিলান্যাসের সময় আমি বলেছিলাম যে এই কারখানা চালু হলে গোরক্ষপুর এই গোটা এলাকার মধ্যে উন্নয়নের শিরদাড়া হয়ে উঠবে। আজ আমি এই সত্যকে বাস্তবায়িত হতে দেখছি। এই সার কারখানা রাজ্যের অনেক কৃষককে পর্যাপ্ত ইউরিয়া তো দেবেই, এর থেকে পূর্বাঞ্চলে রোজগার এবং স্বরোজগারের হাজার হাজার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। এখন এখানে আর্থিক উন্নয়নের একটি নতুন সম্ভাবনা আরেকবার সৃষ্টি হবে, অনেক নতুন ব্যবসা শুরু হবে। সার কারখানাগুলির সঙ্গে যুক্ত সহায়ক শিল্পোদ্যোগগুলির পাশাপাশি পরিবহণ এবং পরিষেবা ক্ষেত্রও এর থেকে উৎসাহিত হবে।

বন্ধুগণ,

দেশকে ইউরিয়া উৎপাদন ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর করে গড়ে তুলতে গোরক্ষপুর সার কারখানার অনেক বড় ভূমিকা থাকবে। দেশের ভিন্ন ভিন্ন অংশে গড়ে ওঠা পাঁচটি সার কারখানা শুরু হওয়ার পর দেশ ৬০ লক্ষ টন অতিরিক্ত ইউরিয়া পাবে। অর্থাৎ, ভারতকে আর হাজার হাজার কোটি টাকা সার আমদানি খাতে বিদেশে পাঠাতে হবে না। ভারতের টাকা ভারতেরই কাজে লাগবে।

বন্ধুগণ,

সারের ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা কেন চাই, এটা আমরা করোনার সঙ্কটকালেই বেশি করে অনুভব করেছি। করোনার ফলে সারা পৃথিবীতে লকডাউন শুরু হয়েছে। একটি দেশ থেকে অন্য দেশে আসা-যাওয়া থেমে গেছে। সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে গেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে সারের দাম অনেক বেশি বেড়ে গেছে। কিন্তু কৃষকদের জন্য সমর্পিত এবং সংবেদনশীল আমাদের সরকার এটা সুনিশ্চিত করেছে যে বিশ্বে সারের দাম যতই বাড়ুক,  ভারতে এই বোঝা আমরা কৃষকদের বহন করতে দেব না। কৃষকদের যাতে ন্যূনতম সমস্যা হয়, এটা দেখা আমাদের দায়িত্ব। আপনারা শুনলে অবাক হবেন, ভাই ও বোনেরা, এ বছরে এনপিকে সারের দাম সারা পৃথিবীতে বৃদ্ধির ফলে ৪৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি অতিরিক্ত ছাড় আমরা কৃষকদের ভর্তুকির মাধ্যমে দিয়েছি। ইউরিয়ার জন্য ভর্তুকিও আমাদের সরকার ৩৩ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়েছে যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে তার বোঝা আমাদের কৃষকদের না বইতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে যেখানে ইউরিয়ার দাম প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, সেখানে ভারতে কৃষকদের ১০ থেকে ১২ গুণ সস্তায় ইউরিয়া দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

ভাই ও বোনেরা,

আজ ভোজ্যতেল আমদানির জন্য ভারত থেকে প্রত্যেক বছর হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে চলে যায়। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য দেশের মধ্যেই পর্যাপ্ত পরিমাণ ভোজ্যতেল উৎপাদনের লক্ষ্যে জাতীয় স্তরের অভিযান শুরু করা হয়েছে। পেট্রোল, ডিজেলের জন্য অপরিশোধিত তেলের ওপরও ভারত প্রতি বছর ৫ থেকে ৭ লক্ষ কোটি টাকা খরচ করে। এই আমদানি কমানোর জন্যও আমরা ইথানল এবং বায়ো-ফুয়েল উৎপাদনে জোর দিয়েছি। পূর্বাঞ্চলের এই এলাকাকে তো আখ চাষীদের দুর্গ বলে মানা হয়। ইথানল আখ চাষীদের জন্য চিনি ছাড়াও রোজগারের একটি বড় উপায় হয়ে উঠছে। উত্তরপ্রদেশেও বায়ো-ফুয়েল উৎপাদনের জন্য অনেক কারখানায় কাজ চলছে। আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার আগে উত্তরপ্রদেশ শুধু ২০ কোটি লিটার ইথানল, তেল কোম্পানিগুলিকে পাঠাত। আজ প্রায় ১০০ কোটি লিটার ইথানল শুধু উত্তরপ্রদেশের কৃষকরাই ভারতের তেল কোম্পানিগুলিতে পাঠাচ্ছেন। আগে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি থেকে তেল আসত। এখন এর পাশাপাশি আমাদের আখ খেতগুলি থেকেও তেল আসা শুরু হয়েছে। আমি আজ যোগীজির সরকারকে এজন্য অনেক প্রশংসা জানাতে চাই যে তাঁরা আখ চাষীদের জন্য গত বছরগুলিতে অভূতপূর্ব কাজ করেছেন। আখ চাষীদের জন্য সহায়ক মূল্য সম্প্রতি ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আগেকার দুটি সরকার ১০ বছরে আখ চাষীদের যতটা ভর্তুকি দিয়েছে, প্রায় ততটাই যোগীজির সরকারও আপনাদের সারের ক্ষেত্রে এই চার বছরে দিয়েছে।

ভাই ও বোনেরা,

প্রকৃত উন্নয়ন সেটাই হয় যার লাভ সবার কাছে পৌঁছয়। যে উন্নয়ন ভারসাম্যযুক্ত হয়, তা সবার জন্য লাভদায়ক হয় আর একথা তাঁরাই বুঝতে পারেন যাঁরা সংবেদনশীল, যাঁদের মনে গরীবদের জন্য চিন্তা আছে। দীর্ঘকাল ধরে গোরক্ষপুর সহ এই বিরাট এলাকাকে মাত্র একটি মেডিকেল কলেজের ভরসায় চলতে হত। এখানকার গরীব এবং মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির চিকিৎসার জন্য বেনারস কিংবা লক্ষ্ণৌ যেতে হত। পাঁচ বছর আগে পর্যন্ত মস্তিষ্কের জ্বর বা এনসেফেলাইটিস-এর চিকিৎসার জন্য এই এলাকায় কী অবস্থা ছিল, এটা আমার থেকে বেশি আপনারা সবাই জানেন। এখানে মেডিকেল কলেজের যে গবেষণাকেন্দ্র চালু ছিল তার জন্য নিজস্ব ভবন পর্যন্ত ছিল না।

ভাই ও বোনেরা,

আপনারা যখন আমাকে সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন, তখন এখানে এইমস-ও এসেছে। আপনারা দেখলেন, কত দ্রুত এত বড় এইমস হাসপাতাল তৈরি হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, গবেষণাকেন্দ্রের জন্য নিজস্ব বাড়িও তৈরি হয়েছে। যখন আমি এইমস-এর শিলান্যাস করতে এসেছিলাম, তখনও আমি বলেছিলাম যে আমরা মস্তিষ্কের জ্বর থেকে এই অঞ্চলকে মুক্তি দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ পরিশ্রম করব। আমরা মস্তিষ্কের জ্বর ছড়িয়ে পড়ার কারণগুলিকে দূর করার ক্ষেত্রে যে কাজ করেছি, তার ফলস্বরূপ এই রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতে পেরেছি। আজ সেই পরিশ্রম বাস্তবায়িত হতে দেখা যাচ্ছে। আজ গোরক্ষপুর এবং বস্তি ডিভিশনের সাতটি জেলায় মস্তিষ্কের জ্বর প্রায় ৯০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। যে শিশুরা এখনও অসুস্থ হয়, তাদের অধিকাংশেরই জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে আমরা সাফল্য পাচ্ছি। যোগী সরকার এক্ষেত্রে যে কাজ করেছে তার প্রশংসা এখন আন্তর্জাতিক স্তরেও হচ্ছে। এইমস এবং আইসিএমআর রিসার্চ সেন্টার তৈরি হওয়ার ফলে এখন এনসেফেলাইটিস থেকে মুক্তির অভিযান যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনই অন্যান্য সংক্রামক রোগ ও মহামারী থেকে রক্ষার ক্ষেত্রেও উত্তরপ্রদেশের অনেক সুবিধা হবে।

ভাই ও বোনেরা,

যে কোনও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তার স্বাস্থ্য পরিষেবা সুলভ করার প্রয়োজন রয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবা যেন সবার জন্য সুলভ হয় এবং সকলের হাতের নাগালে থাকে; না হলে আমি দেখেছি, সাধারণ মানুষ চিকিৎসার জন্য এক শহর থেকে আর এক শহরে ঘুরে বেড়ান, নিজের জমি বন্ধক দেন, অন্যদের থেকে টাকা ধার করেন, আমি এরকম অনেক দেখেছি। আমি দেশের প্রত্যেক গরীব, দলিত, পীড়িত, শোষিত, বঞ্চিত, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণী নির্বিশেষে প্রত্যেককে এই পরিস্থিতি থেকে বের করে আনার জন্য প্রাণপনে পরিশ্রম করছি। আগে ভাবা হত যে এইমস-এর মতো বড় চিকিৎসাকেন্দ্র শুধু বড় বড় শহরগুলিতেই হয়। কিন্তু আমাদের সরকার অত্যাধুনিক সমস্ত চিকিৎসা পরিষেবাকে দেশের আপামর সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বড় বড় হাসপাতালগুলিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছে। আপনারা কল্পনা করতে পারেন, স্বাধীনতার পর থেকে এই শতাব্দীর সূত্রপাত পর্যন্ত দেশে মাত্র একটিই এইমস ছিল! মাত্র একটিই। অটলজি তাঁর শাসনকালে আরও ছয়টি এইমস-এর নির্মাণ প্রকল্প মঞ্জুর করেছিলেন। আর বিগত সাত বছর ধরে সারা দেশে ১৬টি নতুন এইমস গড়ে তোলার কাজ চলছে। আমাদের লক্ষ্য হল, দেশের প্রত্যেক জেলায় নিদেনপক্ষে একটি মেডিকেল কলেজ থাকতে হবে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে এখানে উত্তরপ্রদেশের অনেক জেলায় ইতিমধ্যেই মেডিকেল নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। একটু আগেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগীজি এর বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরছিলেন যে কোথায় কোথায় মেডিকেল কলেজ গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশে নয়টি মেডিকেল কলেজ একসঙ্গে উদ্বোধনের সৌভাগ্যও আপনারা আমাকে দিয়েছিলেন। স্বাস্থ্যকে যেভাবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে তার ফল হল, উত্তরপ্রদেশ একাই প্রায় ১৭ কোটিরও বেশি করোনার টিকার ডোজ দেওয়ার সাফল্যের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে।

ভাই ও বোনেরা,

আমাদের জন্য ১৩০ কোটিরও বেশি দেশবাসীর স্বাস্থ্য পরিষেবা ও অন্যান্য পরিষেবা এবং সমৃদ্ধি সর্বোপরি। বিশেষ করে, আমাদের মা ও বোনেদের, আমাদের মেয়েদের বিভিন্ন সুবিধা এবং স্বাস্থ্য নিয়ে দেশে গত সাত দশকে অনেক কম কাজ হয়েছে। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে পাকা বাড়ি, শৌচালয়, যেগুলিকে আপনারা ‘ইজ্জত ঘর’ বলেন, সেগুলি তৈরির পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগ, রান্নার গ্যাস সংযোগ, নলের মাধ্যমে পানীয় জল, পুষ্টি অভিযান, টিকাকরণ অভিযান – এ ধরনের অনেক সুবিধা গরীব বোনেদের সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে যার পরিণাম এখন দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি যে ফ্যামিলি হেলথ সার্ভিস রিপোর্ট এসেছে তার থেকে অনেক ইতিবাচক সঙ্কেত পাওয়া যায়। দেশে প্রথমবার মহিলাদের সংখ্যা পুরুষদের থেকে অধিক হয়েছে। এতে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবার বড় ভূমিকা রয়েছে। বিগত ৫-৬ বছরে মহিলাদের জমি এবং বাড়ির মালিকানার অধিকার বৃদ্ধি পেয়েছে আর এতে উত্তরপ্রদেশের স্থান তালিকার ওপরের দিকে রয়েছে। এভাবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা এবং মোবাইল ফোনের ব্যবহারের ক্ষেত্রেও মহিলাদের সংখ্যা অভূতপূর্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।

বন্ধুগণ,

আজ আপনাদের সঙ্গে কথা বলে আমার পূর্ববর্তী সরকারগুলির দ্বিচারিতা, জনগণের প্রতি তাদের উদাসীনতা বারবার মনে পড়ছিল। আমি এ বিষয়েও আপনাদের কিছু কথা অবশ্যই বলতে চাই। সবাই জানেন যে গোরক্ষপুরের সার কারখানা এই গোটা এলাকার কৃষকদের জন্য কতটা জরুরি। এই অঞ্চলের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য কতটা জরুরি। কিন্তু পূর্ববর্তী সরকারগুলি এই কারখানা চালু করার ক্ষেত্রে কোনই আগ্রহ দেখায়নি। সবাই জানতেন যে গোরক্ষপুরে এইমস-এর দাবি বছরের পর বছর ধরে পূরণ করা হয়নি। আমার মনে আছে, যখন এসপার কিংবা ওসপার এরকম একটা বিষয় এসে দাঁড়ায়, তখন অত্যন্ত নিমরাজি হয়ে, অত্যন্ত বাধ্য হয়ে পূর্ববর্তী সরকার গোরক্ষপুর এইমস-এর জন্য জমি বন্টন করিয়েছিল।

বন্ধুগণ,

আজকের এই কর্মসূচি তাঁদের মুখের ওপর কড়া জবাব দিচ্ছে, যাঁরা টাইমিং নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলে মজা পান। যখন এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, তখন তার পেছনে অনেক বছরের পরিশ্রম থাকে, দিন-রাতের পরিশ্রম থাকে। তাঁরা কখনও একথা বুঝবেন না যে করোনার এই সঙ্কটকালেও ডবল ইঞ্জিনের সরকার উন্নয়নের কাজে যুক্ত ছিল, তারা কোনও কাজকেই থামতে দেয়নি।

আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা,

লোহিয়াজি, জয়প্রকাশ নারায়ণজি যে আদর্শ নিয়ে কাজ করেছেন, এই মহাপুরুষদের অনুশাসনকে এরা অনেক আগেই ত্যাগ করেছে। আজ সমগ্র উত্তরপ্রদেশ খুব ভালোভাবেই জানে যে লাল টুপিওয়ালারা অনেক বছর শুধু লালবাতি নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। তাঁদের আপনাদের দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে কোনও মাথাব্যথা ছিল না। এই লালটুপিওয়ালাদের শুধুই ক্ষমতা চাই নানা কেলেঙ্কারির জন্য, নিজেদের সিন্দুক ভরার জন্য, অবৈধ সম্পত্তি কবজা করার জন্য, মাফিয়াদের সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়ার জন্য, লালটুপিওয়ালারা যে সরকার তৈরি করেন তা সন্ত্রাসবাদীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের জন্য, সন্ত্রাসবাদীদের জেল থেকে ছাড়িয়ে আনার জন্য। সেজন্য মনে রাখবেন, লালটুপিওয়ালারা উত্তরপ্রদেশের জন্য রেড অ্যালার্ট। হ্যাঁ, রেড অ্যালার্ট! অর্থাৎ বিপদ ঘন্টা।

বন্ধুগণ,

উত্তরপ্রদেশের আখ চাষীরা কখনও ভুলতে পারবেন না যে যোগীজির আগে যে সরকারই থাকুক না কেন, তারা কিভাবে আখ চাষীদের ভর্তুকির টাকা দিতে কাঁদিয়ে ছেড়েছিল। কিস্তিতে টাকা পাওয়া যেত, তার মধ্যেও মাসের পর মাস পেরিয়ে যেত। উত্তরপ্রদেশে চিনি কারখানা নিয়ে কি ধরনের খেলা চলত, কি ধরনের দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারি হত তার সঙ্গে পূর্বাঞ্চল ও গোটা উত্তরপ্রদেশের মানুষ খুব ভালোভাবেই পরিচিত।

বন্ধুগণ,

আমাদের ডবল ইঞ্জিনের সরকার আপনাদের সেবায় সমর্পিতপ্রাণ। আপনাদের জীবন সহজ করে তুলতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। ভাই ও বোনেরা, আপনারা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে যে সমস্যাগুলির সম্মুখীন হয়ে আসছেন, আমরা চাই না যে সেই সমস্যাগুলি আপনারা পরবর্তী প্রজন্মেকেও উত্তরাধিকার সূত্রে দিয়ে যান। আমরা এর পরিবর্তন আনতে চাই। পূর্ববর্তী সরকারগুলির শাসনকালে দেশবাসী সেই দিনও দেখেছে যেখন দেশে শস্যের ভাণ্ডার থাকা সত্ত্বেও গরীবরা শস্য পেতেন না। আজ আমাদের সরকার সরকারি গুদামগুলি গরীবদের জন্য খুলে দিয়েছে আর যোগীজি সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে প্রত্যেক বাড়িতে অন্ন পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে যাচ্ছেন। এর মাধ্যমে সমগ্র উত্তরপ্রদেশের প্রায় ১৫ কোটি মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। সম্প্রতি পিএম গরীব কল্যাণ অন্ন যোজনার মেয়াদ আগামী হোলি উৎসব পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

বন্ধুগণ,

আগে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশের কিছু জেলা ভিআইপি ছিল। বুঝলেন, ভিআইপি ছিল, আর আজ যোগীজি উত্তরপ্রদেশের প্রত্যেক জেলাকে ভিআইপি বানিয়ে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেছেন। আজ যোগী সরকারের উত্তরপ্রদেশের প্রত্যেক গ্রাম সমান এবং যথেষ্ট বিদ্যুৎ পাচ্ছে। পূর্ববর্তী সরকারগুলি অপরাধীদের প্রশ্রয় দিয়ে উত্তরপ্রদেশের নাম বদনাম করে দিয়েছিল। আজ মাফিয়ারা জেলে আছে আর বিনিয়োগকারীরা প্রাণ খুলে উত্তরপ্রদেশে বিনিয়োগ করছেন। এটাকেই বলে ডবল ইঞ্জিনের ডবল বিকাশ। সেজন্য উত্তরপ্রদেশের মানুষ এখন ডবল ইঞ্জিনের সরকারের ওপরই বেশি বিশ্বাস রাখছেন। আপনাদের এই আশীর্বাদ যেন আমাদের ওপর এভাবেই থাকে এই প্রত্যাশা নিয়ে আর একবার আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক শুভকামনা জানাই। আমার সঙ্গে সমস্ত জোর দিয়ে বলুন,

ভারতমাতার জয়!

ভারতমাতার জয়!

ভারতমাতার জয়!

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

 

'মন কি বাত' অনুষ্ঠানের জন্য আপনার আইডিয়া ও পরামর্শ শেয়ার করুন এখনই!
প্রধানমন্ত্রী ২০২২ সালের ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন
Explore More
উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে কাশী বিশ্বনাথ ধাম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

জনপ্রিয় ভাষণ

উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে কাশী বিশ্বনাথ ধাম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ
 Grant up to Rs 10 lakh to ICAR institutes, KVKs, state agri universities for purchase of drones, says Agriculture ministry

Media Coverage

Grant up to Rs 10 lakh to ICAR institutes, KVKs, state agri universities for purchase of drones, says Agriculture ministry
...

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Text of PM’s unveils the hologram statue of Netaji at India Gate
January 23, 2022
শেয়ার
 
Comments
Also confers Subhas Chandra Bose Aapda Prabandhan Puraskars
Gujarat was the first state to enact disaster related law in 2003
“In disaster management, emphasis is on Reform along with stress on Relief, Rescue and Rehabilitation”
“Disaster management is no longer just a government job but it has become a model of 'Sabka Prayas'”
“We have a goal to fulfil the dreams of independent India. We have the goal of building a new India before the hundredth year of independence”
“It is unfortunate that after Independence, along with the culture and traditions of the country, the contribution of many great personalities was also tried to be erased”
“The freedom struggle involved ‘tapasya’ of lakhs of countrymen, but attempts were made to confine their history as well. But today the country is boldly correcting those mistakes”
“We have to move ahead taking inspiration from Netaji Subhash's 'Can Do, Will Do' spirit”

इस ऐतिहासिक कार्यक्रम में उपस्थित मंत्रीपरिषद के मेरे साथी श्री अमित शाह, श्री हरदीप पूरी जी, मंत्रिमंडल के अन्य सदस्य, INA के सभी ट्रस्टी, NDMA के सभी सदस्यगण, jury मेम्बर्स, NDRF, कोस्ट गॉर्ड्स और IMD के डाइरेक्टर जनरल्स, आपदा प्रबंधन पुरस्कारों के सभी विजेता साथी, अन्य सभी महानुभाव, भाइयों एवं बहनों!

भारत मां के वीर सपूत, नेताजी सुभाष चंद्र बोस की 125वीं जन्मजयंती पर पूरे देश की तरफ से मैं आज कोटि-कोटि नमन करता हूं। ये दिन ऐतिहासिक है, ये कालखंड भी ऐतिहासिक है और ये स्थान, जहां हम सभी एकत्रित हैं, वो भी ऐतिहासिक है। भारत के लोकतंत्र की प्रतीक हमारी संसद पास में है, हमारी क्रियाशीलता और लोकनिष्ठा के प्रतीक अनेक भवन भी हमारे साथ पास में नजर आ रहे हैं, हमारे वीर शहीदों को समर्पित नेशनल वॉर मेमोरियल भी पास है। इन सबके आलोक में आज हम इंडिया गेट पर अमृत महोत्सव मना रहे हैं और नेताजी सुभाषचंद्र बोस को आदरपूर्वक श्रद्धांजलि दे रहे हैं। नेताजी सुभाष, जिन्होंने हमें स्वाधीन और संप्रभु भारत का विश्वास दिलाया था, जिन्होंने बड़े गर्व के साथ, बड़े आत्मविश्वास के साथ, बड़े साहस के साथ अंग्रेजी सत्ता के सामने कहा था- “मैं स्वतंत्रता की भीख नहीं लूंगा, मैं इसे हासिल करूंगा"। जिन्होंने भारत की धरती पर पहली आज़ाद सरकार को स्थापित किया था, हमारे उन नेताजी की भव्य प्रतिमा आज डिजिटल स्वरूप में इंडिया गेट के समीप स्थापित हो रही है। जल्द ही इस होलोग्राम प्रतिमा के स्थान पर ग्रेनाइट की विशाल प्रतिमा भी लगेगी। ये प्रतिमा आज़ादी के महानायक को कृतज्ञ राष्ट्र की श्रद्धांजलि है। नेताजी सुभाष की ये प्रतिमा हमारी लोकतान्त्रिक संस्थाओं को, हमारी पीढ़ियों को राष्ट्रीय कर्तव्य का बोध कराएगी, आने वाली पीढ़ियों को, वर्तमान पीढ़ी को निरंतर प्रेरणा देती रहेगी।

साथियों,

पिछले साल से देश ने नेताजी की जयंती को पराक्रम दिवस के रूप में मनाना शुरू किया है। आज पराक्रम दिवस के अवसर पर सुभाषचंद्र बोस आपदा प्रबंधन पुरस्कार भी दिए गए हैं। नेताजी के जीवन से प्रेरणा लेकर ही इन पुरस्कारों को देने की घोषणा की गई थी। साल 2019 से 2022 तक, उस समय के सभी विजेताओं, सभी व्यक्तियों, सभी संस्थाओं को जिने आज सम्मान का अवसर मिला है। उन सबको भी मैं बहुत-बहुत बधाई देता हूं।

साथियों,

हमारे देश में आपदा प्रबंधन को लेकर जिस तरह का रवैया रहा था, उस पर एक कहावत बहुत सटीक बैठती है- जब प्यास लगी तो कुआं खोदना। और जिस मैं काशी क्षेत्र से आता हूं वहां तो एक और भी कहावत है। वो कहते हैं - भोज घड़ी कोहड़ा रोपे। यानि जब भोज का समय आ गया तो कोहड़े की सब्जी उगाने लगना। यानि जब आपदा सिर पर आ जाती थी तो उससे बचने के उपाय खोजे जाते थे। इतना ही नहीं, एक और हैरान करने वाली व्यवस्था थी जिसके बारे में कम ही लोगों को पता है। हमारे देश में वर्षों तक आपदा का विषय एग्रीकल्चर डिपार्टमेंट के पास रहा था। इसका मूल कारण ये था कि बाढ़, अतिवृष्टि, ओले गिरना, ऐसी जो स्थितियों पैदा होती थी। उससे निपटने का जिम्मा, उसका संबंध कृषि मंत्रालय से आता था। देश में आपदा प्रबंधन ऐसे ही चलता रहता था। लेकिन 2001 में गुजरात में भूकंप आने के बाद जो कुछ हुआ, देश को नए सिरे से सोचने के लिए मजबूर किया। अब उसने आपदा प्रबंधन के मायने बदल दिए। हमने तमाम विभागों और मंत्रालयों को राहत और बचाव के काम में झोंक दिया। उस समय के जो अनुभव थे, उनसे सीखते हुए ही 2003 में Gujarat State Disaster Management Act बनाया गया। आपदा से निपटने के लिए गुजरात इस तरह का कानून बनाने वाला देश का पहला राज्य बना। बाद में केंद्र सरकार ने, गुजरात के कानून से सबक लेते हुए, 2005 में पूरे देश के लिए ऐसा ही Disaster Management Act बनाया। इस कानून के बाद ही National Disaster Management Authority उसके गठन का रास्ता साफ हुआ। इसी कानून ने कोरोना के खिलाफ लड़ाई में भी देश की बहुत मदद की।

साथियों,

डिजास्टर मैनैजमेंट को प्रभावी बनाने के लिए 2014 के बाद से हमारी सरकार ने राष्ट्रीय स्तर पर चौतरफा काम किया है। हमने Relief, Rescue, Rehabilitation उस पर जोर देने के साथ-साथ ही Reform पर भी बल दिया है। हमने NDRF को मजबूत किया, उसका आधुनिकीकरण किया, देश भर में उसका विस्तार किया। स्पेस टेक्नालजी से लेकर प्लानिंग और मैनेजमेंट तक, best possible practices को अपनाया। हमारे NDRF के साथी, सभी राज्यों के SDRFs, और सुरक्षा बलों के जवान अपनी जान की बाजी लगाकर, एक-एक जीवन को बचाते हैं। इसलिए, आज ये पल इस प्रकार से जान की बाजी लगाने वाले, औरों की जिंदगी बचाने के लिए खुद की जिंदगी का दांव लगाने वाले चाहे वो NDRF के लोग हों, चाहे SDRF के लोग हों, हमारे सुरक्षाबलों के साथी हों, ये सब के सब उनके प्रति आज आभार व्यक्त करने का, उनको salute करने का ये वक्त है।

साथियों,

अगर हम अपनी व्यवस्थाओं को मजबूत करते चलें, तो आपदा से निपटने की क्षमता दिनों-दिन बढ़ती चली जाती है। मैं इसी कोरोना काल के एक-दो वर्षों की बात करूं तो इस महामारी के बीच भी देश के सामने नई आपदाएँ आकर खड़ी हो गईं। एक तरफ कोरोना से तो लड़ाई लड़ ही रहे थे। अनेक जगहों पर भूकंप आए, कितने ही क्षेत्रों में बाढ़ आई। ओड़िशा, पश्चिम बंगाल समेत पूर्वी तटों पर cyclones आए, गोवा, महाराष्ट्र, गुजरात, पश्चिमी तटों पर cyclones आए, पहले, एक-एक साइक्लोन में सैकड़ों लोगों की मृत्यु हो जाती थी, लेकिन इस बार ऐसा नहीं हुआ। देश ने हर चुनौती का जवाब एक नई ताकत से दिया। इसी वजह से इन आपदाओं में हम ज्यादा से ज्यादा जीवन बचाने में सफल रहे। आज बड़ी-बड़ी अंतरराष्ट्रीय एजेंसियां, भारत के इस सामर्थ्य, भारत में आए इस बदलाव की सराहना कर रही हैं। आज देश में एक ऐसा end-to-end cyclone response system है जिसमें केंद्र, राज्य, स्थानीय प्रशासन और सभी एजेंसियां एक साथ मिलकर के काम करती हैं। बाढ़, सूखा, cyclone, इन सभी आपदाओं के लिए वार्निंग सिस्टम में सुधार किया गया है। Disaster risk analysis के लिए एडवांस्ड टूल्स बनाए गए हैं, राज्यों की मदद से अलग अलग क्षेत्रों के लिए Disaster risk maps बनाए गए हैं। इसका लाभ सभी राज्यों को, सभी स्टेक होल्डर्स को मिल रहा है। और सबसे महत्वपूर्ण, डिजास्टर मैनेजमेंट - आपदा प्रबंधन, आज देश में जनभागीदारी और जन-विश्वास का विषय बन गया है। मुझे बताया गया है कि NDMA की ‘आपदा मित्र’ जैसी स्कीम्स से युवा आगे आ रहे हैं। आपदा मित्र के रूप में जिम्मेवारियां उठा रहे हैं। यानी जन भागीदारी बढ़ रही है। कहीं कोई आपदा आती है तो लोग विक्टिम्स नहीं रहते, वो वॉलंटियर्स बनकर आपदा का मुकाबला करते हैं। यानी, आपदा प्रबंधन अब एक सरकारी काम भर नहीं है, बल्कि ये ‘सबका प्रयास’ का एक मॉडल बन गया है।

और साथियों,

जब मैं सबका प्रयास की बात करता हूँ, तो इसमें हर क्षेत्र में हो रहा प्रयास, एक holistic approach भी शामिल है। आपदा प्रबंधन को प्राथमिकता देते हुए, हमने अपने एजुकेशन सिस्टम में भी कई सारे बदलाव किए हैं। जो सिविल इंजीनियरिंग के कोर्सेस होते हैं, आर्किटेक्चर से जुड़े कोर्सेस होते हैं, उसके पाठ्यक्रम में डिजास्टर मैनेजमेंट से जोड़ा, इन्फ्रासट्रक्चर की रचना कैसी हो उसपर विषयों को जोड़ना, ये सारे काम प्रयासरत हैं। सरकार ने Dam Failure की स्थिति से निपटने के लिए, डैम सेफ्टी कानून भी बनाया है।

साथियों,

दुनिया में जब भी कोई आपदा आती है तो उसमें लोगों की दुखद मृत्यु की चर्चा होती है, कि इतने लोगों की मृत्यु हो गई, इतना ये हो गया, इतने लोगों को हटाया गया, आर्थिक नुकसान भी बहुत होता है। उसकी भी चर्चा की जाती है। लेकिन आपदा में जो इंफ्रास्ट्रक्चर का नुकसान होता है, वो कल्पना से परे होता है। इसलिए ये बहुत आवश्यक है कि आज के समय में इंफ्रास्ट्रक्चर का निर्माण ऐसा हो जो आपदा में भी टिक सके, उसका सामना कर सके। भारत आज इस दिशा में भी तेजी से काम कर रहा है। जिन क्षेत्रों में भूकंप, बाढ़ या साइक्लोन का खतरा ज्यादा रहता है, वहां पर पीएम आवास योजना के तहत बन रहे घरों में भी इसका ध्यान रखा जाता है। उत्तराखंड में जो चार धाम महा-परियोजना का काम चल रहा है, उसमें भी आपदा प्रबंधन का ध्यान रखा गया है। उत्तर प्रदेश में जो नए एक्सप्रेसवे बन रहे हैं, उनमें भी आपदा प्रबंधन से जुड़ी बारीकियों को प्राथमिकता दी गई है। आपात स्थिति में ये एक्सप्रेसवे, विमान उतारने के काम आ सकें, इसका भी प्रावधान किया गया है। यही नए भारत का विज़न है, नए भारत के सोचने का तरीका है।

साथियों,

Disaster Resilient Infrastructure की इसी सोच के साथ भारत ने दुनिया को भी एक बहुत बड़ी संस्था का विचार दिया है, उपहार दिया है। ये संस्था है- CDRI - Coalition for Disaster Resilient Infrastructure. भारत की इस पहल में ब्रिटेन हमारा प्रमुख साथी बना है और आज दुनिया के 35 देश इससे जुड़ चुके हैं। दुनिया के अलग-अलग देशों के बीच में, सेनाओं के बीच में हमने Joint Military Exercise बहुत देखी है। पुरानी परंपरा है उसकी चर्चा भी होती है। लेकिन भारत ने पहली बार डिजास्टर मैनेजमेंट के लिए Joint ड्रिल की परंपरा शुरू की है। कई देशों में मुश्किल समय में हमारी डिजास्टर मैनेजमेंट से जुड़ी एजेंसियों ने अपनी सेवाएँ दी हैं, मानवता के प्रति अपने कर्तव्य का निर्वाह किया है। जब नेपाल में भूकंप आया, इतनी बड़ी तबाही मची, तो भारत एक मित्र देश के रूप में उस दुख को बाटने के लिए जरा भी देरी नहीं की थी। हमारे NDRF के जवान वहां तुरंत पहुंच गए थे। डिजास्टर मैनेजमेंट का भारत का अनुभव सिर्फ हमारे लिए नहीं बल्कि पुरी मानवता के लिए आप सभी को याद होगा 2017 में भारत ने साउथ एशिया जियो-स्टेशनरी communication satellite को लान्च किया। weather और communication के क्षेत्र में उसका लाभ हमारे दक्षिण एशिया के मित्र देश को मिल रहा है।

साथियों,

परिस्थितियां कैसी भी हों, अगर हममे हौंसला है तो हम आपदा को भी अवसर में बदल सकते हैं। यही संदेश नेताजी ने हमे आजादी की लड़ाई के दौरान दिया था। नेताजी कहते थे कभी भी स्वतंत्र भारत के सपने का विश्वास मत खोना। दुनिया की कोई ताकत नहीं है जो भारत को झकझोर सके"। आज हमारे सामने आज़ाद भारत के सपनों को पूरा करने का लक्ष्य है। हमारे सामने आज़ादी के सौंवे साल से पहले, 2047 के पहले नए भारत के निर्माण का लक्ष्य है। और नेताजी को देश पर जो विश्वास था, जो भाव नेताजी के दिल में उभरते थे। और उनके ही इन भावों के कारण मैं कह सकता हूँ कि, दुनिया की कोई ताकत नहीं है जो भारत को इस लक्ष्य तक पहुंचने से रोक सके। हमारी सफलताएँ हमारी संकल्पशक्ति का सबूत हैं। लेकिन, ये यात्रा अभी लंबी है। हमें अभी कई शिखर और पार करने हैं। इसके लिए जरूरी है, हमें देश के इतिहास का, हजारों सालों की यात्रा में इसे आकार देने वाले तप, त्याग और बलिदानों का बोध रहे।

भाइयों और बहनों,

आज़ादी के अमृत महोत्सव का संकल्प है कि भारत अपनी पहचान और प्रेरणाओं को पुनर्जीवित करेगा। ये दुर्भाग्य रहा कि आजादी के बाद देश की संस्कृति और संस्कारों के साथ ही अनेक महान व्यक्तित्वों के योगदान को मिटाने का काम किया गया। स्वाधीनता संग्राम में लाखों-लाख देशवासियों की तपस्या शामिल थी लेकिन उनके इतिहास को भी सीमित करने की कोशिशें हुईं। लेकिन आज आजादी के दशकों बाद देश उन गलतियों को डंके की चोट पर सुधार रहा है, ठीक कर रहा है। आप देखिए, बाबा साहब आंबेडकर से जुड़े पंचतीर्थों को देश उनकी गरिमा के अनुरूप विकसित कर रहा है। स्टेचू ऑफ यूनिटी आज पूरी दुनिया में सरदार वल्लभ भाई पटेल के यशगान की तीर्थ बन गई है। भगवान बिरसा मुंडा की जयंती को जनजातीय गौरव दिवस के रूप में मनाने की शुरुआत भी हम सबने कर दी है। आदिवासी समाज के योगदान और इतिहास को सामने लाने के लिए अलग-अलग राज्यों में आदिवासी म्यूज़ियम्स बनाए जा रहे हैं। और नेताजी सुभाषचंद्र बोस के जीवन से जुड़ी हर विरासत को भी देश पूरे गौरव से संजो रहा है। नेताजी द्वारा अंडमान में तिरंगा लहराने की 75वीं वर्षगांठ पर अंडमान के एक द्वीप का नाम उनके नाम पर रखा गया है। अभी दिसम्बर में ही, अंडमान में एक विशेष ‘संकल्प स्मारक’ नेताजी सुभाष चंद्र बोस के लिए समर्पित की गई है। ये स्मारक नेताजी के साथ साथ इंडियन नेशनल आर्मी के उन जवानों के लिए भी एक श्रद्धांजलि है, जिन्होंने आज़ादी के लिए अपना सर्वस्व न्योछावर कर दिया था। ये मेरा सौभाग्य है कि पिछले वर्ष, आज के ही दिन मुझे कोलकाता में नेताजी के पैतृक आवास भी जाने का अवसर मिला था। जिस प्रकार से वो कोलकाता से निकले थे, जिस कमरे में बैठकर वो पढ़ते थे, उनके घर की सीढ़ियां, उनके घर की दीवारें, उनके दर्शन करना, वो अनुभव, शब्दों से परे है।

साथियों,

मैं 21 अक्टूबर 2018 का वो दिन भी नहीं भूल सकता जब आजाद हिंद सरकार के 75 वर्ष हुए थे। लाल किले में हुए विशेष समारोह में मैंने आजाद हिंद फौज की कैप पहनकर तिरंगा फहराया था। वो पल अद्भुत है, वो पल अविस्मरणीय है। मुझे खुशी है कि लाल किले में ही आजाद हिंद फौज से जुड़े एक स्मारक पर भी काम किया जा रहा है। 2019 में, 26 जनवरी की परेड में आजाद हिंद फौज के पूर्व सैनिकों को देखकर मन जितना प्रफुल्लित हुआ, वो भी मेरी अनमोल स्मृति है। और इसे भी मैं अपना सौभाग्य मानता हूं कि हमारी सरकार को नेताजी से जुड़ी फाइलों को सार्वजनिक करने का अवसर मिला।

साथियों,

नेताजी सुभाष कुछ ठान लेते थे तो फिर उन्हें कोई ताकत रोक नहीं सकती थी। हमें नेताजी सुभाष की ‘Can Do, Will Do’ स्पिरिट से प्रेरणा लेते हुए आगे बढ़ना है। वो ये जानते थे तभी ये बात हमेशा कहते थे भारत में राष्ट्रवाद ने ऐसी सृजनात्मक शक्ति का संचार किया है जो सदियों से लोगों के अंदर सोई पड़ी थी। हमें राष्ट्रवाद भी जिंदा रखना है। हमें सृजन भी करना है। और राष्ट्र चेतना को जागृत भी रखना है। मुझे विश्वास है कि, हम मिलकर, भारत को नेताजी सुभाष के सपनों का भारत बनाने में सफल होंगे। आप सभी को एक बार फिर पराक्रम दिवस की बहुत बहुत शुभकामनायें देता हूं और मैं आज एनडीआरएफ, एसडीआरएफ के लोगों को भी विशेष रूप से बधाई देता हूं। क्योंकि बहुत छोटे कालखंड में उन्होंने अपनी पहचान बना दी है। आज कहीं पर भी आपदा हो या आपदा के संबंधित संभावनाओं की खबरें हों, साईक्लोन जैसी। और जब एनडीआरएफ के जवान यूनिफार्म में दिखते हैं। सामान्य मानवीय को एक भरोसा हो जाता है। कि अब मदद पहुंच गई। इतने कम समय में किसी संस्था और इसकी यूनिफार्म की पहचान बनना, यानि जैसे हमारे देश में कोई तकलीफ हो और सेना के जवान आ जाएं तो सामान्य मानवीय को संतोष हो जाता है, भई बस अब ये लोग आ गये। वैसा ही आज एनडीआरएफ और एसडीआरएफ के जवानों ने अपने पराक्रम से ये करके दिखाया है। मै पराक्रम दिवस पर नेताजी का स्मरण करते हुए, मैं एनडीआरएफ के जवानों को, एसडीआरएफ के जवानों को, उन्होंने जिस काम को जिस करुणा और संवेदनशीलता के साथ उठाया है। बहुत – बहुत बधाई देता हूं। उनका अभिनंदन करता हूं। मैं जानता हूं इस आपदा प्रबंधन के काम में, इस क्षेत्र में काम करने वाले कईयों ने अपने जीवन भी बलिदान दिए हैं। मैं आज ऐसे जवानों को भी श्रद्धांजलि देता हूं जिन्होंने किसी की जिंदगी बचाने के लिए अपनी जिंदगी दांव पर लगा दी थी। ऐसे सबको में आदरपूवर्क नमन करते हुए मैं आप सबको भी आज पराक्रम दिवस की अनेक – अनेक शुभकामनाएं देते हुए मेरी वाणी को विराम देता हूं। बहुत बहुत धन्यवाद !