যখন যুবসমাজ সক্রিয়ভাবে দেশ গঠনে অবদান রাখে, তখন দেশ দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলে এবং বিশ্ব মঞ্চে স্বীকৃতি অর্জন করে: প্রধানমন্ত্রী
ভারতের যুবসমাজ বর্তমানে তাদের নিষ্ঠা এবং উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশ্বের কাছে আমাদের অপার সম্ভাবনা প্রদর্শন করছে: প্রধানমন্ত্রী
এই বাজেটে, সরকার উৎপাদন মিশন ঘোষণা করেছে, যার লক্ষ্য 'মেক ইন ইন্ডিয়া' উদ্যোগের প্রসার এবং ভারতের যুবসমাজকে বিশ্বব্যাপী গুনগত মানসম্পন্ন পণ্য তৈরির সুযোগ প্রদান করা: প্রধানমন্ত্রী
উৎপাদন মিশন কেবল দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ এমএসএমই এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা করবে না, বরং দেশব্যাপী নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করবে: প্রধানমন্ত্রী
মুম্বাই শীঘ্রই বিশ্ব দৃশ্য শ্রাব্য এবং বিনোদন শীর্ষ সম্মেলন (ওয়েভস) ২০২৫ আয়োজন করবে এবং এই অনুষ্ঠানটি দেশের তরুণ স্রষ্টাদের প্রথমবারের মতো একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্ম প্রদান করবে: প্রধানমন্ত্রী
মিডিয়া, গেমিং এবং বিনোদনের ক্ষেত্রে উদ্ভাবকদের জন্য, ওয়েভস তাদের প্রতিভা প্রদর্শনের একটি অভূতপূর্ব সুযোগ: প্রধানমন্ত্রী
আমলাতন্ত্র থেকে শুরু করে মহাকাশ এবং বিজ্ঞানের পাশাপাশি সরকার গ্রামীণ মহ

নমস্কার।

কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন বিভাগে আজ ৫১,০০০-এর বেশি যুবক-যুবতীদের পাকা সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। ভারত সরকারের বিভিন্ন বিভাগে আজ যুবক-যুবতীদের নতুন দায়িত্বের সূচনা হল। আপনাদের দায়িত্ব বিশ্বের আর্থিক গতিকে মজবুত করা, আপনাদের দায়িত্ব দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মজবুত করা, আপনাদের দায়িত্ব দেশের আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা, আপনাদের দায়িত্ব শ্রমিকদের জীবনে সামগ্রিক পরিবর্তন আনা। আপনাদের কাজ আপনারা যত বেশি সততার সঙ্গে পালন করবেন, তার লাভ দেশের জনগণের ওপর ও উন্নত ভারতের যাত্রাপথে তত বেশি পরিলক্ষিত হবে। আমার বিশ্বাস, আপনারা আপনাদের দায়িত্ব সম্পূর্ণ নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন। 

বন্ধুগণ,

যে কোনও দেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধি এবং তার সাফল্যের ভিত হয় সেই দেশের যুব সম্প্রদায়। যখন যুবক-যুবতীরা দেশ গঠনের কাজে অংশ নেন, তখন সেই দেশের উন্নয়ন দ্রুত গতিতে সম্পন্ন হয় এবং বিশ্ব মঞ্চে তৈরি হয় নিজস্ব পরিচয়। ভারতের যুব সম্প্রদায় আজ নিজেদের পরিশ্রম ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশ্বকে দেখাচ্ছে যে তারা কতটা যোগ্য। আমাদের সরকার সব পদক্ষেপেই দেশের যুবক-যুবতীদের রোজগার স্বরোজগারের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করছে। দক্ষ ভারত, স্টার্টআপ ইন্ডিয়া, ডিজিটাল ভারতের মতো অনেক এই লক্ষ্যে যুবক-যুবতীদের জন্য নতুন সুযোগ গড়ে তুলছে। এই অভিযানের মাধ্যমে আমরা ভারতের যুবা সম্প্রদায়কে নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শনের উন্মুক্ত মঞ্চ প্রদান করছি। এর ফলশ্রুতিতে এই দশকে আমাদের যুবক-যুবতীরা প্রযুক্তি, তথ্য এবং উদ্ভাবনের মতো ক্ষেত্রগুলিতে ভারতের স্থান বিশ্বমঞ্চে কয়েক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে ইউপিআই ওএনডিসি, সরকারি ই-মার্কেটপ্লেস-এর মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিতে সাফল্য দেখিয়ে দিচ্ছে যে আমাদের যুব সম্প্রদায় কীভাবে ডিজিটাল অর্থব্যবস্থা পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে ভারতে সবচেয়ে বেশি রিয়েল টাইম ডিজিটাল লেনদেন হচ্ছে। আর এর কৃতিত্ব আমাদের যুব সম্প্রদায়ের। 

 

বন্ধুগণ,

এই বাজেটে সরকার ম্যানু্ফ্যাকচারিং মিশনের ঘোষণা করেছে। এর উদ্দেশ্য হল, মেক ইন ইন্ডিয়াকে আরও মজবুত করা এবং ভারতের যুব সম্প্রদায়কে আন্তর্জাতিক গুণমানসম্পন্ন সামগ্রী তৈরি করার সুযোগ করে দেওয়া। এতে কেবলমাত্র দেশের লক্ষ লক্ষ এমএসএমই ক্ষুদ্র উদ্যোগপতিরা উপকৃত হচ্ছেন তাই নয়, বরং আমাদের দেশের কর্মসংস্থানেও নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বর্তমান সময় ভারতে যুব সম্প্রদায়ের জন্য অভূতপূর্ব সম্ভাবনার সময়। সম্প্রতি আইএমএফ বলেছে যে ভারত বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উন্নয়নশীল অর্থব্যবস্থা হয়ে থাকবে। এই বিশ্বাসের এই উন্নয়নের বেশ কয়েকটি দিক রয়েছে। সবচেয়ে বড় দিক হল যে, আগামীদিনে সব ক্ষেত্রেই চাকরির সুযোগ বাড়বে। বৃদ্ধি পাবে রোজগার। সাম্প্রতিককালে অটোমোবাইল ও পাদুকা শিল্পে আমাদের উৎপাদন ও রপ্তানি নতুন রেকর্ড গড়েছে। এই ক্ষেত্র এখন বিপুল সংখ্যক যুবক-যুবতীকে রোজগারের সুযোগ করে দিচ্ছে। প্রথমবার খাদি এবং গ্রামোদ্যোগ সামগ্রী ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকার টার্নওভার অতিক্রম করেছে। এই সংখ্যা প্রায় পৌনে ২ লক্ষ। এই ক্ষেত্র থেকে বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় লক্ষ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। কয়েকদিন আগে অভ্যন্তরীণ জল পরিবহণে দেশের এক উন্নতি সামনে এসেছে। ২০১৪ সালের আগে আমাদের দেশে এক বছরে অভ্যন্তরীণ গণ পরিবহণ মাধ্যমে প্রায় ১৮ মিলিয়ন টন কার্গো পণ্য চলাচল হতো। বর্তমানে তা বেড়ে ১৪৫ মিলিয়ন টনের বেশি হয়েছে। ভারতের এই সাফল্য এজন্য এসেছে কারণ, ভারত এই ক্ষেত্রের জন্য অবিরাম নীতি তৈরি করেছে, সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বর্তমানে জলপথে কার্যকরভাবে ৫০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করা যায়। এইসব কারণে দেশের যুব সম্প্রদায়ের সামনে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।  

বন্ধুগণ,

কিছুদিন পর মুম্বাইয়ে ওয়ার্ল্ড অডিও ভিস্যুয়াল অ্যান্ড এন্টারটেনমেন্ট সামিট অর্থাৎ ওয়েভস ২০২৫-এর আয়োজন করা হবে। এই আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতেও রয়েছে দেশের যুব সম্প্রদায়। দেশের যুব স্রষ্টাদের প্রথমবার এ ধরনের মঞ্চের সুবিধা মিলছে। মিডিয়া, গেমিং এবং এন্টারটেনমেন্ট ক্ষেত্রে উদ্যোগপতিদের জন্য প্রতিভা প্রদর্শনের এ এক অভূতপূর্ব সুযোগ। এ হল এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে বিনোদনের সঙ্গে যুক্ত স্টার্টআপগুলি বিনিয়োগকারী ও শিল্প নেতাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। বিশ্বের সামনে নিজেদের চিন্তাভাবনা প্রদর্শনের সবচেয়ে বড় মঞ্চ হচ্ছে এটি। যুব সম্প্রদায়, এআই সহ বিভিন্ন মিডিয়া সম্পর্কে জানতে পারবেন। এর জন্য নানা কর্মশালার আয়োজন করা হবে। ওয়েভস থেকে ভারতের ডিজিটাল কনটেন্ট-এর ভবিষ্যতে নতুন শক্তি সঞ্চয় হবে। 

 

বন্ধুগণ,

বর্তমানে ভারতের যুব সম্প্রদায়ের সাফল্যে সবচেয়ে বড় প্রশংসনীয় দিক হল তাঁদের অনুসন্ধিৎসা। ভারত বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে নতুন নতুন নজির গড়ছে তাতে সমাজের সর্ব অংশের মানুষদের যোগদান বাড়ছে। আমাদের মেয়েরাও এখন দু-পা এগিয়ে রয়েছেন। কিছুদিন আগেই ইউপিএসসি-র ফল প্রকাশ হয়েছে। তাতেও প্রথম দুটি স্থান দখল করেছেন আমাদের মেয়েরাই। প্রথম ৫ জনের মধ্যে ৩ জন মহিলা। আমাদের নারীশক্তি আমলাতন্ত্র থেকে শুরু করে মহাকাশ ও বিজ্ঞান ক্ষেত্র সবকিছুতেই নতুন উচ্চতা স্পর্শ করছেন। সরকারের বিশেষ লক্ষ্য গ্রামীণ মহিলাদের ক্ষমতায়ন। স্বনির্ভর গোষ্ঠী, বিমা সখী, ব্যাঙ্ক সখী এবং কৃষি সখীর মতো বিষয়গুলি গ্রামীণ মহিলাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। বর্তমানে বিশ্বের হাজার হাজার মহিলা ড্রোন দিদি হিসেবে কাজ করে নিজের পরিবার এবং গ্রামের উন্নয়ন সুনিশ্চিত করছে। বর্তমানে দেশে ৯০,০০০-এর বেশি স্বনির্ভর গোষ্ঠী রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ কোটির বেশি মহিলারা। এই স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির ক্ষমতা বাড়াতে আমাদের সরকার বাজেট বরাদ্দ ৫ গুণ বাড়িয়েছে। কোনো জামানত ছাড়াই ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুদ্রা যোজনার সবচেয়ে সুবিধাভোগীও মহিলারাই। বর্তমানে দেশে ৫০,০০০-এর বেশি স্টার্টআপে মহিলারা নির্দেশক হিসেবে কাজ করেন। এই ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিবর্তন বিকশিত ভারতের সংকল্পকে আরও মজবুত করে এবং রোজগার ও স্বরোজগারের সুযোগ বাড়ায়। 

বন্ধুগণ,

আপনারা সকলে এই পথ নিজেদের পরিশ্রম এবং নিষ্ঠার সাহায্যে পেয়েছেন। এখন সময় এসেছে যখন আপনারা নিজেদের জীবনের পরবর্তী ধাপে কেবলমাত্র নিজেদের জন্য নয়, দেশের জন্য সমর্পিত হয়ে কাজ করবেন। জনসেবার ভাবনা সবচেয়ে বেশি গুরত্ব পাওয়া উচিত। যখন আপনারা আপনাদের দায়িত্বকে সর্বোচ্চ মনে করে কাজ করবেন, তখন আপনাদের কাজে শক্তি আসবে এবং তা দেশকে নতুন দিশা দেখাবে। আপনাদের কর্তব্য পালন, আপনাদের উদ্ভাবন এবং আপনাদের নিষ্ঠা থেকেই ভারতের প্রত্যেক নাগরিকের জীবন উন্নত হবে।

বন্ধুগণ,

আপনারা যখন কোনো দায়িত্বশীল পদে পৌঁছান তখন এক নাগরিগ হিসেবে আপনাদের কর্তব্য ও আপনাদের ভূমিকাকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। আপনাদের সকলকে এই বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে। আমাদেরও একজন নাগরিক হিসেবে নিজেদের ভূমিকা পালনে পিছিয়ে থাকা উচিত নয়। আমি এখন একটি উদাহরণ দিয়ে বলতে চাই যে, দেশের বর্তমানে ‘এক পেড় মা কে নাম’ বা একটি গাছ মায়ের নামে এই অভিযান চলছে। আপনারা বর্তমানে যেসব জায়গায় পৌঁছেছেন সেটি আপনাদের নিজেদের জীবনের এক নতুন সূচনা। আর এই কাজে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছেন আপনাদের মা। আপনারাও আপনাদের মায়ের নামে গাছ লাগিয়ে প্রকৃতির সেবা করে নিজেদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। আপনারা যে অফিসে কাজ করবেন, সেখানেও যত বেশি সম্ভব মানুষকে এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত করুন। আপনাদের কর্মজীবনের প্রারম্ভেই জুন মাস আসছে। এই সময় আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন করা হবে। এ এক অনেক বড় সুযোগ। আপনাদের সফল জীবনের প্রারম্ভের পাশাপাশি আপনারা যোগের মাধ্যমে সুস্থ জীবন যাপনেরও সূচনা করুন। আপনাদের সুস্বাস্থ্য আপনাদের জন্য তো জরুরি বটেই, আপনাদের কর্মদক্ষতা এবং দেশের উৎপাদনশীলতার জন্যও তা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। 

 

আপনারা নিজেদের ক্ষমতা বাড়াতে মিশন কর্মযোগীর যথাযথ সাহায্য নিতে থাকুন। আপনাদের কাজের উদ্দেশ্য যেন কেবলমাত্র পদ প্রাপ্তি না হয়, আপনাদের পদ ভারতের প্রত্যেক নাগরিকের সেবা করার এবং দেশের উন্নয়নে নিজেদের যোগদান দেওয়ার জন্য। কিছুদিন আগে সিভিল সার্ভিসেস দিবসে আমি একটি মন্ত্র দিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম যে, আমাদের সরকারের সঙ্গে যুক্ত যেসব মানুষ রয়েছেন, আমাদের প্রত্যেকেরই সর্বোপরি একটাই মন্ত্র হওয়া উচিত, তা হল- নাগরিক দেব ভবঃ, নাগরিক দেব ভবঃ। দেশের জনগণের সেবাই আপনাদের জন্য, আমাদের সকলের জন্য দেবপূজার সমান। এই মঞ্চ সর্বদাই মনে রাখবেন। আমার বিশ্বাস যে আমরা নিজেদের সামর্থ ও সততার সঙ্গে এক এমন ভারত গড়ে তুলবো যা উন্নত হবে, সমৃদ্ধও হবে। 

 

আমি আপনাদের সকলকে অনেক অনেক শুভকামনা জানাই। আপনাদের পরিবারের জন্য রইল অনেক অনেক শুভকামনা। আপনারা যখন নিজেদের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পেয়েছেন তখন ১৪০ কোটি দেশবাসীর স্বপ্নপূরণ করতে এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করুন। আমার সম্পূর্ণ বিশ্বাস যে, আপনারা আপনাদের পদের গরিমা বাড়াবেন, দেশবাসীর গৌরব বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের জীবন ধন্য করার জন্য সময় ও শক্তির সদ্ব্যবহার করবেন। এই শুভকামনার সঙ্গে আপনাদের সকলকে অনেক অনেক অভিনন্দন। 

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Govt directs faster processing of city gas projects, hikes commercial LPG allocation to ease supply stress

Media Coverage

Govt directs faster processing of city gas projects, hikes commercial LPG allocation to ease supply stress
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
This is the New India that leaves no stone unturned for development: PM Modi
March 23, 2026
Today, India is moving forward with a new confidence; Now India faces challenges head-on: PM
From the Gulf to the Global West and from the Global South to neighbouring countries, India is a trusted partner for all: PM
What gets measured gets improved and ultimately gets transformed: PM
This is the new India, It is leaving no stone unturned for development: PM

नमस्कार!

पिछले कुछ समय में मुझे एक-दो बार टीवी9 भारतवर्ष देखने का मौका मिला है। नॉर्मली भी युद्धों और मिसाइलों पर आपका बहुत फोकस होता है और आजकल तो आपको कंटेंट की ओवरफीडिंग हो रही है। बड़े-बड़े देश टीवी9 को इतना सारा कंटेंट देने पर तुले हुए हैं, लेकिन On a Serious Note, आज विश्व जिन गंभीर परिस्थितियों से गुजर रहा है, वो अभूतपूर्व है और बेहद गंभीर है। और इन स्थितियों के बीच, आज टीवी-9 नेटवर्क ने विचारों का एक बेहद महत्वपूर्ण मंच बनाया है। आज इस समिट में आप सभी India and the world, इस विषय पर चर्चा कर रहे हैं। मैं आप सबको बधाई देता हूं। इस समिट के लिए अपनी शुभकामनाएं देता हूं। सभी अतिथियों का अभिनंदन करता हूं।

साथियों,

आज जब दुनिया, conflicts के कारण उलझी हुई है, जब इन conflicts के दुष्प्रभाव पूरी दुनिया पर दिख रहे हैं, तब India and the world की बात करना बहुत ही प्रासंगिक है। भारत आज वो देश है, जिसकी अर्थव्यवस्था तेजी से आगे बढ़ रही है। 2014 के पहले की स्थितियों को पीछे छोड़कर के आज भारत एक नए आत्मविश्वास के साथ आगे बढ़ रहा है। अब भारत चुनौतियों को टालता नहीं है बल्कि चुनौतियों से टकराता है। आप बीते 5-6 साल में देखिए, कोरोना की महामारी के बाद चुनौतियां एक के बाद एक बढ़ती ही गई हैं। ऐसा कोई साल नहीं है, जिसने भारत की, भारतीयों की परीक्षा न ली हो। लेकिन 140 करोड़ देशवासियों के एकजुट प्रयास से भारत हर आपदा का सामना करते हुए आगे बढ़ रहा है। इस समय युद्ध की परिस्थितियों में भी भारत की नीति और रणनीति देखकर, भारत का सामर्थ्य देखकर दुनिया के अनेकों देश हैरान हैं। हमारे यहां कहावत है, सांच को आंच नहीं। 28 फरवरी से दुनिया में जो उथल-पुथल मची है, इन कठोर विपरीत परिस्थितियों में भी भारत प्रगति के, विकास के, विश्वास के संकल्प के साथ आगे बढ़ रहा है। इन 23 दिनों में भारत ने अपनी Relationship Building Capacity दिखाई है, Decision Making Capacity दिखाई है और Crisis Management Capacity दिखाई है।

साथियों,

आज जब दुनिया इतने सारे खेमों में बंटी हुई है, भारत ने अभूतपूर्व और अकल्पनीय bridges बनाए हैं। Gulf से लेकर Global West तक, Global South से लेकर पड़ोसी देशों तक भारत सभी का trusted partner है। कुछ लोग पूछते हैं, हम किसके साथ हैं? तो उनको मेरा जवाब यही है कि हम भारत के साथ हैं, हम भारत के हितों के साथ हैं, शांति के साथ हैं, संवाद के साथ हैं।

साथियों,

संकट के इसी समय में जब global supply chains डगमगा रही हैं, भारत ने diversification और resilience का मॉडल पेश किया है। Energy हो, fertilizers हों या essential goods अपने नागरिकों को कम से कम परेशानी हो, इसके लिए भारत ने निरंतर प्रयास किया है और आज भी कर रहे है।

साथियों,

जब राष्ट्रनीति ही राजनीति का मुख्य आधार हो, तब देश का भविष्य सर्वोपरि होता है। लेकिन जब राजनीति में व्यक्तिगत स्वार्थ हावी हो जाता है, तब लोग देश के फ्यूचर के बजाय अपने फ्यूचर के बारे में सोचते हैं। आप ज़रा याद कीजिए 2004 से 2010 के बीच क्या हुआ था? तब कांग्रेस सरकार के समय पेट्रोल-डीजल और गैस की कीमतों का संकट आया था और तब कांग्रेस ने देश की नहीं बल्कि अपनी सत्ता की चिंता की। उस वक्त कांग्रेस ने एक लाख अड़तालीस हज़ार करोड़ रुपए के ऑयल बॉन्ड जारी किए थे और प्रधानमंत्री मनमोहन सिंह जी ने खुद कहा था कि वो आने वाली पीढ़ी पर कर्ज का बोझ डाल रहे हैं। यह जानते हुए भी कि ऑयल बॉन्ड का फैसला गलत है, जो रिमोट कंट्रोल से सरकार चला रहे थे, उन लोगों ने अपनी सत्ता बचाने के लिए यह गलत निर्णय किया क्योंकि जवाबदेही उस समय नहीं होनी थी, उस बॉन्ड पर री-पेमेंट 2020 के बाद होनी थी।

साथियों,

बीते 5-6 वर्षों में हमारी सरकार ने कांग्रेस सरकार के उस पाप को धोने का काम किया है, और इस धुलाई का खर्चा कम नहीं आया है, ऐसी लाँड्री आपने देखी नहीं होगी। 1 लाख 48 हज़ार करोड़ रुपए की जगह, देश को 3 लाख करोड़ रुपए से अधिक की पेमेंट करनी पड़ी क्योंकि इसमें ब्याज भी जुड़ गया था। यानी हमने करीब-करीब दोगुनी राशि चुकाने के लिए मजबूर हुए। आजकल कांग्रेस के जो नेता बयानों की मिसाइलें दाग रहे हैं, मिसाइल आई तो टीवी9 को मजा आएगा, उनकी इस विषय का जिक्र आते ही बोलती बंद हो जाती है।

साथियों,

पश्चिम एशिया में बनी परिस्थितियों पर मैंने आज लोकसभा में अपना वक्तव्य दिया है। दुनिया में जहां भी युद्ध हो रहे हैं, वो भारत की सीमा से दूर हैं। लेकिन आज की व्यवस्थाओं में कोई भी देश युद्धों से दुष्प्रभाव से दूर रहे, ऐसा संभव नहीं होता। अनेक देशों में तो स्थिति बहुत गंभीर हो चुकी है। और इन हालातों में हम देख रहे हैं कि राजनीतिक स्वार्थ से भरे कुछ लोग, कुछ दल, संकट के इस समय में भी अपने लिए राजनीतिक अवसर खोज रहे हैं। इसलिए मैं टीवी9 के मंच से फिर कहूंगा, यह समय संयम का है, संवेदनशीलता का है। हमने कोरोना महासंकट के दौरान भी देखा है, जब देशवासी एकजुट होकर संकट का सामना करते हैं, तो कितने सार्थक परिणाम आते हैं। इसी भाव के साथ हमें इस युद्ध से बनी परिस्थितियों का सामना करना है।

साथियों,

दुनिया की हर उथल-पुथल के बीच, भारत ने अपनी प्रगति की गति को भी बनाए रखा है। अगर मैं 28 फरवरी को युद्ध शुरू होने के बाद, बीते 23 दिनों का ही ब्यौरा दूं, तो पूरब से पश्चिम तक, उत्तर से दक्षिण तक देश में हजारों करोड़ के डेवलपमेंट प्रोजेक्ट्स का काम हुआ है। दिल्ली मेट्रो रेल के महत्वपूर्ण कॉरिडोर्स का लोकार्पण, सिलचर का हाई स्पीड कॉरिडोर का शिलान्यास, कोटा में नए एयरपोर्ट का शिलान्यास, मदुरै एयरपोर्ट को इंटरनेशनल एयरपोर्ट का दर्जा देना, ऐसे अनेक काम बीते 23 दिनों में ही हुए हैं। बीते एक महीने के दौरान ही औद्योगिक विकास को गति देने के लिए भव्य स्कीम को मंजूरी दी गई है। इसके तहत देशभर में 100 plug-and-play industrial parks विकसित किए जाएंगे। देश में Small Hydro Power Development Scheme को भी हरी झंडी दी गई है। इससे आने वाले वर्षों में 1,500 मेगावाट नई hydro power capacity जोड़ी जाएगी। इसी दौरान जल जीवन मिशन को साल 2028 तक बढ़ाने का निर्णय लिया गया है। किसानों के हित में भी अनेक बड़े निर्णय लिए गए हैं। बीते एक महीने में ही पीएम किसान सम्मान निधि के तहत 18 हजार करोड़ रुपए से अधिक सीधे किसानों के खातों में ट्रांसफर किए गए हैं। और जो हमारे MSMEs हैं, जो हमारे निर्यातक हैं, उनके लिए भी करीब 500 करोड़ रुपए के राहत पैकेज की भी घोषणा की गई है। यह सारे कदम इस बात का प्रमाण हैं कि विकसित भारत बनाने के लिए देश कितनी तेज गति से काम कर रहा है।

साथियों,

Management की दुनिया में एक सिद्धांत कहा जाता है - What gets measured, gets managed. लेकिन मैं इसमें एक बात और जोड़ना चाहता हूं, What gets measured, gets improved और ultimately, gets transformed. क्योंकि आकलन जागरूकता पैदा करता है। आकलन जवाबदेही तय करता है और सबसे महत्वपूर्ण आकलन संभावनाओं को जन्म देता है।

साथियों,

अगर आप 2014 से पहले के 10-11 साल और 2014 के बाद के 10-11 साल का आप आकलन करेंगे, तो यही पाएंगे कि कैसे इसी सिद्धांत पर चलते हुए, भारत ने हर सेक्टर को Transform किया है। जैसे पहले हाईवे बनते थे, करीब 11-12 किलोमीटर प्रति दिन की रफ्तार से, आज भारत करीब 30 किलोमीटर प्रतिदिन की स्पीड से हाईवे बना रहा है। पहले पोर्ट्स पर शिप का Turnaround Time, 5-6 दिन का होता था। आज वही काम, करीब-करीब 2 दिन से भी कम समय में पूरा हो रहा है। पहले Startup Culture के बारे में चर्चा ही नहीं होती थी। 2014 से पहले, हमारे देश में 400-500 स्टार्ट अप्स ही थे। आज भारत में 2 लाख से ज्यादा रजिस्ट्रर्ड स्टार्ट अप्स हैं। पहले मेडिकल education में सीटें भी सीमित थीं, करीब 50-55 हजार MBBS seats थीं, आज यह बढ़कर सवा लाख से ज्यादा हो चुकी हैं। पहले देश के Banking system से भी करोड़ों लोग बाहर थे। देश में सिर्फ 25 करोड़ के आसपास ही बैंक account थे। वहीं जनधन योजना के माध्यम से 55 करोड़ से ज्यादा बैंक अकाउंट खुले हैं। पहले हमारे देश में airports की संख्या भी 70 से कम थी। आज एयरपोर्ट्स की संख्या भी बढ़कर 160 से ज्यादा हो चुकी है।

साथियों,

पहले भी योजनाएं तो बनती थीं, लेकिन आज फर्क है, आज परिणाम दिखते हैं। पहले गति धीमी थी, आज भारत fastrack पर है। पहले संभावनाएं भी अंधकार में थीं, आज संकल्प सिद्धियों में बदल रहे हैं। इसलिए दुनिया को भी यह संदेश मिल रहा है कि यह नया भारत है। यह अपने विकास के लिए कोई कोर-कसर बाकी नहीं छोड़ रहा है।

साथियों,

आज हमारा प्रयास है कि अतीत में विकास का जो असंतुलन पैदा हो गया था, उसको अवसरों में बदला जाए। अब जैसे हमारा पूर्वी भारत है। हमारा पूर्वी भारत संसाधनों से समृद्ध है, दशकों तक वहां जिन्होंने सरकारें चलाई हैं, उनकी उपेक्षा ने पूर्वी भारत के विकास पर ब्रेक लगा दी थी। अब हालात बदल रहे हैं। जिस असम में कभी गोलियों की आवाज सुनाई देती थी, आज वहां सेमीकंडक्टर यूनिट बन रही है। ओडिशा में सेमीकंडक्टर से लेकर पेट्रोकेमिकल्स तक अनेक नए-नए सेक्टर का विकास हो रहा है। जिस बिहार में 6-7 दशक में गंगा जी पर एक बड़ा पुल बन पाया था एक, उस बिहार में पिछले एक दशक में 5 से ज्यादा नए पुल बनाए गए हैं। यूपी में कभी कट्टा मैन्युफैक्चरिंग की कहानियां कही जाती थीं, आज यूपी, मोबाइल फोन मैन्युफैक्चरिंग में दुनिया में अपनी पहचान बना रहा है।

साथियों,

पूर्वी भारत का एक और बड़ा राज्य पश्चिम बंगाल है। पश्चिम बंगाल, एक समय में भारत के कल्चर, एजुकेशन, इंडस्ट्री और ट्रेड का हब होता था। बीते 11 वर्षों में केंद्र सरकार ने पश्चिम बंगाल के विकास के लिए बड़ी मात्रा में निवेश किया है। लेकिन दुर्भाग्य से, आज वहां एक ऐसी निर्मम सरकार है, जो विकास पर ब्रेक लगाकर बैठी है। TV9 बांग्ला के जो दर्शक हैं, वो जानते हैं कि बंगाल में आयुष्मान योजना पर निर्मम सरकार ने ब्रेक लगाया हुआ है। पीएम सूर्यघर मुफ्त बिजली योजना पर ब्रेक लगाया हुआ है। पीएम आवास योजना पर ब्रेक लगाया हुआ है। चाय बागान श्रमिकों के लिए शुरू हुई योजना के लिए ब्रेक लगाया हुआ है। यानी विकास और जनकल्याण से ज्यादा प्राथमिकता निर्मम सरकार अपने राजनीतिक स्वार्थ को दे रही है।

साथियों,

देश में इस तरह की राजनीति की शुरुआत जिस दल ने की है, वो अपने गुनाहों से बच नहीं सकती और वो पार्टी है - कांग्रेस। कांग्रेस पार्टी की राजनीति का एक ही लक्ष्य रहा है, किसी भी तरह विकास का विरोध और कांग्रेस यह तब से कर रही है, जब मैं गुजरात में था। गुजरात में वर्षों तक जनता ने हमें आशीर्वाद दिया, तो कांग्रेस ने उस जनादेश को स्वीकार नहीं किया। उन्होंने गुजरात की छवि पर सवाल उठाए, उसकी प्रगति को कटघरे में खड़ा किया और जब यही विश्वास पूरे देश में दिखाई दिया, तो कांग्रेस का विरोध भी रीजनल से नेशनल हो गया।

साथियों,

जब राजनीति में विरोध, विकास के विरोध में बदल जाए, जब आलोचना देश की उपलब्धियों पर सवाल उठाने लगे, तब यह सिर्फ सरकार का विरोध नहीं रह जाता, यह देश की प्रगति से असहज होने की मानसिकता बन जाती है। आज कांग्रेस इसी मानसिकता की गुलाम बन चुकी है। आज स्थिति यह है कि देश की हर सफलता पर प्रश्न उठाया जाता है, हर उपलब्धि में कमी खोजी जाती है और हर प्रयास के असफल होने की कामना की जाती है। कोविड के समय, देश ने अपनी वैक्सीन बनाई, तो कांग्रेस ने उस पर भी संदेह जताया। Make in India की बात हुई, तो कहा गया कि यह सफल नहीं होगा, बब्बर शेर कहकर इसका मजाक उड़ाया गया। जब देश में डिजिटल इंडिया अभियान शुरू हुआ, तो उसका मजाक उड़ाया गया। लेकिन हर बार यह कांग्रेस का दुर्भाग्य और देश का सौभाग्य रहा कि भारत ने हर चुनौती को सफलता में बदला। आज भारत दुनिया की सबसे बड़ी वैक्सीनेशन ड्राइव का उदाहरण है। भारत डिजिटल पेमेंट्स में दुनिया का अग्रणी देश है। भारत मैन्युफैक्चरिंग और स्टार्टअप्स में नई ऊंचाइयों को छू रहा है।

साथियों,

लोकतंत्र में विरोध जरूरी होता है। लेकिन विरोध और विद्वेष के बीच एक रेखा होती है। सरकार का विरोध करना लोकतांत्रिक अधिकार है। लेकिन देश को बदनाम करना, यह कांग्रेस की नीयत पर सवाल खड़ा करता है। जब विरोध इस स्तर तक पहुंच जाए कि देश की उपलब्धियां भी असहज करने लगें, तो यह राजनीति नहीं, यह दृष्टिकोण की समस्या है। अभी हमने ग्लोबल AI समिट में भी देखा है। जब पूरी दुनिया भारत में जुटी हुई थी, तो कांग्रेस के लोग कपड़े फाड़ने वहां पहुंच गए थे। इन लोगों को देश की इज्जत की कितनी परवाह है, यह इसी से पता चलता है। इसलिए आज आवश्यकता है कि देशहित को, दलहित से ऊपर रखा जाए क्योंकि अंत में राजनीति से ऊपर, राष्ट्र होता है, राष्ट्र का विकास होता है।

साथियों,

आज का यह दिन भी हमें यही प्रेरणा देता है। आज के ही दिन शहीद भगत सिंह, शहीद राजगुरु और शहीद सुखदेव ने देश के लिए सर्वोच्च बलिदान दिया था। आज ही, समाजवादी आंदोलन के प्रखर आदर्श डॉ. राम मनोहर लोहिया जी की जयंती भी है। यह वो प्रेरणाएं हैं, जिन्होंने देश को हमेशा स्व से ऊपर रखा है। देशहित को सबसे ऊपर रखने की यही प्रेरणा, भारत को विकसित भारत बनाएगी। यही प्रेरणा भारत को आत्मनिर्भर बनाएगी। मुझे पूरा विश्वास है कि टीवी9 की यह समिट भी भारत के आत्मविश्वास और दुनिया के भरोसे पर, भारतीयों पर जो भरोसा है, उस भरोसे को और सशक्त करेगी। आप सभी को मेरी तरफ से बहुत-बहुत शुभकामनाएं हैं और आपके बीच आने का अवसर दिया, आप सबसे मिलने का मौका लिया, इसलिए बहुत-बहुत धन्यवाद!

नमस्‍कार!