মহামান্য, আমার প্রিয় বন্ধু, প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ,

ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট, শিল্পপতি এবং উদ্ভাবকগণ,

বঁ-জু!

নমস্কার!

ইন্ডিয়া ইনোভেটস-এ অংশগ্রহণকারী সকল সহকর্মীকে আমি অভিনন্দন জানাই। এবং এই অনুষ্ঠানের জন্য আমি সকলের শুভকামনা করি।

বন্ধুগণ,

সারা বিশ্বের দেশগুলো একে অপরের সঙ্গে বাণিজ্য করে এবং দেশগুলোর মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বও রয়েছে, কিন্তু এমন কিছু সম্পর্ক আছে যা কেবল অভিন্ন স্বার্থ দ্বারাই নয়, বরং একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারাও চালিত হয়। ভারত ও ফ্রান্সের সম্পর্কটি এমনই একটি।

এই সম্পর্কটি সংযোগ এবং দৃঢ় বিশ্বাসের। এটি উদ্ভাবন এবং অনুপ্রেরণার। এটি অভিন্ন মূল্যবোধ এবং একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির।

এবং এই সম্পর্কের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে, বছরের পর বছর ধরে আমরা একসঙ্গে নতুন উদ্যোগ চালু করেছি, নতুন ধারণাকে দিকনির্দেশনা দিয়েছি এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধান খুঁজে বের করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছি।

আন্তর্জাতিক সৌর জোট হোক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সংলাপ হোক, বা নিরাপত্তা থেকে শুরু করে টেকসই উন্নয়ন পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের অংশীদারিত্ব হোক, আমাদের দুই দেশ মানবজাতির মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধান প্রদানে একসঙ্গে কাজ করছে।

এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারত-ফ্রান্স উদ্ভাবন বর্ষ শুরু হয়েছে। আর আজ, ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথভাবে ‘ভারত ইনোভেটস’ চালু করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আমি আমার বন্ধু, প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁকে আমার গভীরতম কৃতজ্ঞতা জানাই। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ, আপনার সাম্প্রতিক ভারত সফরের সময় আপনি বলেছিলেন যে, এই শতাব্দীর চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার জন্য ভারত ও ফ্রান্সকে অবশ্যই একত্রিত হতে হবে। আজ আমি গর্বের সঙ্গে বলতে পারি যে, এই উদ্যোগটি সেই দিকেই একটি পদক্ষেপ।

এই প্ল্যাটফর্ম, ‘ভারত ইনোভেটস’, ভারতীয় প্রতিভা এবং ইউরোপীয় পুঁজির মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করছে। এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে তরুণ ভারতীয় প্রতিভারা ইউরোপীয় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ পাবে।

বন্ধুগণ,

আজ একবিংশ শতাব্দীর ভারত এক বিরাট পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভারতে একটি স্টার্টআপ বিপ্লব সংঘটিত হচ্ছে। এই বিপ্লবে, ভারতের তরুণরা এক নতুন মানসিকতা নিয়ে মানবতার কল্যাণে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করছে। আর আমাদের তরুণদের বিশ্বমানের সমাধানগুলোকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার মাধ্যম হলো ‘ভারত ইনোভেটস’। আমার বন্ধু, আইআইটি দিল্লির বোর্ডের চেয়ারম্যান হরিশ সালভে এই অনুষ্ঠানে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, এবং এর জন্য আমি তাকে ও পুরো দলকে অভিনন্দন জানাই।

বন্ধুগণ,

আজ এখানে এত বিপুল সংখ্যক তরুণ উদ্যোক্তা উপস্থিত আছেন। আপনারা এখানে ভারতের ভবিষ্যতের এক ঝলক দেখতে পাচ্ছেন। আপনারা ভারতের তরুণদের আত্মবিশ্বাস দেখতে পাচ্ছেন। আপনারা এক নতুন ভারতের শক্তি দেখতে পাচ্ছেন।

এমন এক ভারত, যা সমাধানের ভোক্তা নয়, বরং সমাধান প্রদানকারী হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। এখানে কেউ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে গ্রামের মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার জন্য কাজ করছে, কেউ কৃষকদের সাহায্য করার জন্য স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। কিছু তরুণ স্মার্ট সিটি, অ্যাডভান্সড ম্যানুফ্যাকচারিং এবং নতুন উপকরণ দিয়ে ভবিষ্যৎ নির্মাণ করছে। কেউ কেউ গ্রিন হাইড্রোজেন, ইলেকট্রিক মোবিলিটি এবং ব্যাটারি প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করছেন। এবং কিছু স্টার্টআপ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছে।

আপনাদের শক্তির কথা বিবেচনা করে আমি বলব, "ভারত ব্যাপক পরিসরে এবং দ্রুততার সঙ্গে উদ্ভাবন করে। ভারত একটি টেকসই ভবিষ্যতের জন্য উদ্ভাবন করে।" এবং ভারত সমগ্র বিশ্বের জন্য উদ্ভাবন করে।

বন্ধুগণ,

আজকের এই অনুষ্ঠানে অনেক ভিসি (ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট) এবং শিল্প জগতের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত আছেন। আমি বিশেষ করে ভারত থেকে আসা এই তরুণ বন্ধুদের প্রশংসা করতে চাই।

এখানে আগত সকল বন্ধুরা, পুরোনো পথ অনুসরণ না করে, একটি নতুন পথ বেছে নিয়েছেন। তাঁরা একটি নতুন পথ তৈরি করেছেন। এবং আপনারা যেখানে এখানে ১০০-১২৫টি স্টার্টআপ দেখছেন, সেখানে ভারতে ২ লক্ষেরও বেশি এমন স্টার্টআপের একটি বিশাল ভান্ডার রয়েছে। এবং এখন, এই সমস্ত স্টার্টআপগুলো নতুন উদ্যমে ভারত এবং বিশ্ব অর্থনীতির উন্নয়নে অবদান রাখছে।

বন্ধুগণ,

এই দশকটি বিশ্বের জন্য পরিবর্তন এবং উন্নয়ন উভয়েরই দশক। সংঘাত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মাঝে বিশ্ব এক অভূতপূর্ব অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মানবজাতি আজ যেখানে বহু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, সেখানে সুযোগও রয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, জৈবপ্রযুক্তি, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং উন্নত উপকরণ - এই সবই এমন প্রযুক্তি যা মানবজাতির ভবিষ্যৎকে রূপ দেবে। এগুলোই মানব সভ্যতার পরবর্তী অধ্যায়।

প্রতিটি প্রযুক্তিগত বিপ্লব মানবজাতিকে একটি নতুন সুযোগ এনে দেয়। এবং প্রতিটি সুযোগ একটি নতুন দায়িত্বও নিয়ে আসে। আজ বিশ্ব এমন প্রযুক্তির দিকে তাকিয়ে আছে যা নির্ভরযোগ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানবকেন্দ্রিক এবং বৈশ্বিক কল্যাণে নিবেদিত। আর এমন সময়ে ভারতের অগ্রাধিকার হলো মানবতার জন্য প্রযুক্তি, অর্থাৎ মানবকেন্দ্রিক উদ্ভাবন।

বন্ধুগণ,

এই মন্ত্রটি আমাদের ডিজিটাল বিপ্লবের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এটি ভারতের ডিজিটাল গণ-পরিকাঠামোর সারবস্তুও বটে। আমাদের এআই রূপকল্পের মূলে রয়েছে ‘সবার জন্য এআই’ - সকলের কল্যাণের জন্য, সকলের মঙ্গলের জন্য। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এআই ইমপ্যাক্ট সামিটের মূল বিষয়বস্তুও এটাই ছিল।

বন্ধুগণ,

ভারত দেখিয়েছে যে উদ্ভাবন এবং অন্তর্ভুক্তি একে অপরের বিপরীত নয়, বরং পরিপূরক। এর অর্থ হলো, যেকোনো উদ্ভাবনের মহত্ত্ব কেবল তার মূল্যায়নের মধ্যে নিহিত নয়; এর মহত্ত্ব নিহিত রয়েছে তার মানবিক প্রভাবের মধ্যে।

এটাই ‘ভারত ইনোভেটস’-এর চেতনা। এটাই ভারতের রূপকল্প। এখানকার স্টার্টআপ কমিউনিটির পাশাপাশি আপনাদের সকলের জন্যও এটি সমানভাবে এক বিরাট অনুপ্রেরণা।

বন্ধুগণ,

উদ্ভাবন ভারতের ডিএনএ-তে মিশে আছে। হাজার হাজার বছর ধরে ভারত তার জ্ঞান ও উদ্ভাবন দিয়ে বিশ্বকে নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছে। গণিত থেকে জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসা থেকে যোগ, ভারতের অবদান সমগ্র মানবজাতির অগ্রগতির ভিত্তি স্থাপন করেছে। আজ আমরা এই ঐতিহ্যকে নতুন গতি ও দিকনির্দেশনা দিয়েছি।

বন্ধুগণ,

বিগত ১১-১২ বছরে, ভারত উদ্ভাবনের জন্য একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে। পেটেন্ট ফাইলিং থেকে ইনকিউবেশন নেটওয়ার্ক, স্টার্টআপ ইন্ডিয়া থেকে নীতিগত সমর্থন পর্যন্ত, এই পুরো যাত্রাটি একটি মিশন মোডে এগিয়েছে।

আজ, ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের অধিকারী। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য শুধু বড় শহরগুলিতে সীমাবদ্ধ নয়। আমরা উদ্ভাবনকে তৃণমূল স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করেছি।

স্কুলগুলিতে অটল টিঙ্কারিং ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে, তরুণদের হ্যাকাথন এবং ইনোভেশন চ্যালেঞ্জের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে, দেশজুড়ে ইনকিউবেটর এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলি প্রসারিত হচ্ছে, এবং আমরা বিশেষ করে নারী উদ্ভাবকদের বিভিন্ন নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করছি।

এই সবকিছু ভারতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। আজ, ড্রোন দিদি থেকে শুরু করে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা পর্যন্ত, আমাদের নারীশক্তি নতুন সাফল্যের গল্প লিখছে।

বন্ধুগণ,

তরুণদের এই শক্তিকে আরও কাজে লাগানোর জন্য, ভারতের প্রতিরক্ষা খাতকেও উদ্ভাবনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। আজ, ভারতে শত শত প্রতিরক্ষা এবং মহাকাশ-সম্পর্কিত স্টার্টআপ চমৎকার কাজ করছে।

এবং সম্প্রতি, ভারত পারমাণবিক শক্তি খাতেও উল্লেখযোগ্য সংস্কার বাস্তবায়ন করেছে। এটি পরিচ্ছন্ন শক্তি, উন্নত রিঅ্যাক্টর এবং অত্যাধুনিক গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে চলেছে।

সংস্কারের এই গতি থামবে না; এটি চলতেই থাকবে। এবং ভারত থেকে গড়ে ওঠা স্টার্ট-আপের সংখ্যাও দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকবে।

বন্ধুগণ,

এক দশক আগেও বিশ্ব ভারতকে প্রযুক্তি গ্রহণকারী দেশ হিসেবে দেখত। আজ, ভারত প্রযুক্তি সরবরাহকারী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। এবং ভারতের প্রতিটি উদ্ভাবন, তার দেওয়া প্রতিটি সমাধান মানবজাতির এক বিশাল অংশের উপকারে আসে। ভারত ইনোভেটস-এর লক্ষ্য ঠিক এটাই।

ভারত ইনোভেটস হলো ভারতের সঙ্গে মিলে বৈশ্বিক উদ্ভাবনের পরবর্তী অধ্যায় রচনা করার জন্য বিশ্বের প্রতি একটি আমন্ত্রণ।

আগামী তিন দিন আপনাদের অধিবেশন এবং আলোচনার জন্য আমি আপনাদের সকলের শুভকামনা জানাই। আমরা অংশীদারিত্ব চাই। আমরা সহ-উন্নয়ন চাই। আমরা যৌথ গবেষণা চাই। আমরা যৌথ উৎপাদন চাই। এবং আমরা দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা চাই।

আজ এখানে উপস্থিত প্রত্যেক বিনিয়োগকারী, প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়, প্রত্যেক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং প্রত্যেক উদ্যোক্তাকে আমি আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। ভারতে আসুন। আমাদের সঙ্গে কাজ করুন। ভারতে ডিজাইন করুন। ভারতে উন্নয়ন করুন। এবং বিশ্বের জন্য সমাধান তৈরি করুন।

আপনাদের অনেক ধন্যবাদ।

আপনাদের অনেক ধন্যবাদ।

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Bihar’s famous food products make a mark at BRICS Summit

Media Coverage

Bihar’s famous food products make a mark at BRICS Summit
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Prime Minister extends greetings on the Parkash Purab of Sri Guru Granth Sahib Ji
September 12, 2026

The Prime Minister, Shri Narendra Modi, extended greetings on the occasion of the Parkash Purab of Sri Guru Granth Sahib Ji.

The Prime Minister said that for centuries, Sri Guru Granth Sahib Ji has shown humanity the way of selfless service, human dignity and togetherness.

Shri Modi expressed hope that the sacred occasion would inspire everyone to deepen these values in society and build a more compassionate and harmonious world.

The Prime Minister wrote on X;

“Greetings on the Parkash Purab of Sri Guru Granth Sahib Ji.

For centuries, it has shown humanity the way of selfless service, human dignity and togetherness.

May this sacred occasion inspire us to deepen these values in our society and build a more compassionate and harmonious world.”