Amid numerous disruptions, this decade has been one of unprecedented development for India, marked by strong delivery and by efforts that have strengthened our democracy: PM
In this decade of the 21st century, India is riding the Reform Express: PM
We have made the Budget not only outlay-focused but also outcome-centric: PM
Over the past decade, we have regarded technology and innovation as the core drivers of growth: PM
Today, we are entering into trade deals with the world because today's India is confident and ready to compete globally: PM

এই গ্লোবাল বিজনেস সামিটে ( আন্তর্জাতিক বানিজ্য শীর্ষ সম্মেলনে) আপনাদের সকলকে স্বাগত; আমি আপনাদের সকলকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আমরা এখানে " একটি বাধাবিঘ্নময় দশক, একটি পরিবর্তনের শতাব্দী" এই মূলভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে এসেছি। বিনীতজির বক্তৃতা শোনার পর, আমার মনে হয় আমার কাজ অনেক সহজ হয়ে গেছে। তবে আমি একটি ছোট অনুরোধ করতে চাই - যেহেতু আপনারা এত কিছু জানেন, তাই এটি মাঝে মাঝে ইটি(ইকোনোমিক টাইমস)-তেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

বন্ধুগণ,
একবিংশ শতাব্দীর গত দশক ছিল অভূতপূর্ব বিপর্যয়ের দশক। বিশ্ববাসী এক বিশ্বব্যাপী মহামারী, বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা ও যুদ্ধ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে ভাঙ্গন প্রত্যক্ষ করেছে যা এক দশকের মধ্যেই আন্তর্জাতিক ভারসাম্যকে নাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু বন্ধুগণ, একথা বলা হয় যে সংকটের সময়ে একটি জাতির আসল শক্তি প্রকাশিত হয়, এবং আমি এই সত্য উচ্চারণে অত্যন্ত গর্বিত যে এত বিপর্যয়ের মধ্যেও, এই দশকটি ভারতের জন্য অভূতপূর্ব উন্নয়নের দশকে রূপান্তরিত হয়েছে, যা উল্লেখযোগ্যভাবে গণতন্ত্রের বিকাশ এবং শক্তিশালীকরণ দ্বারা চিহ্নিত হয়েছে।যখন পূর্ববর্তী দশক শুরু হয়েছিল, তখন ভারত ছিল একাদশ বৃহত্তম অর্থনীতি। এই ধরণের অস্থিরতার মধ্যে, ভারত আরও পিছিয়ে যেতে পারে বলে দৃঢ় আশঙ্কা ছিল। কিন্তু আজ, ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার লক্ষ্যপূরণে দ্রুত এগিয়ে চলেছে। আর, আপনারা যে "পরিবর্তনের শতাব্দী"-র কথা বলছেন, আমি অত্যন্ত দায়িত্বের সঙ্গে বলছি, তা ভারতের উপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভর করবে। আজ, ভারত বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধিতে ১৬ শতাংশেরও বেশি অবদান রাখে এবং আমি আত্মবিশ্বাসী যে এই শতাব্দীর প্রতিটি আসন্ন বছরে, আমাদের অবদান ক্রমাগত বৃদ্ধি পাবে। আমি এখানে একজন জ্যোতিষীর মতো ভবিষ্যদ্বাণী করার জন্য আসিনি। ভারত বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নেবে; ভারতীয় অর্থনীতি বিশ্ব অর্থনীতির নতুন ইঞ্জিন হিসেবে আবির্ভূত হবে।

 

বন্ধুগণ,

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থা রূপ নেয়। কিন্তু সাত দশক পর, সেই ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। বিশ্ব একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কেন এমনটা ঘটছে? এটি ঘটেছে কারণ পূর্ববর্তী ব্যবস্থার ভিত্তি ছিল "এক আকারে সকলকে মানিয়ে নিতে হবে" পদ্ধতির উপর।বিশ্বাস করা হয়েছিল যে বিশ্ব অর্থনীতি মূল কেন্দ্রে কেন্দ্রীভূত হবে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী এবং নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠবে। জাতিগুলিকে কেবল সেই কাঠামোর মধ্যে অবদানকারী হিসাবে দেখা হত। কিন্তু আজ, এই মডেলটিকে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে এবং এটি তার প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছে। প্রতিটি দেশ এখন বুঝতে পারছে যে তাদের নিজস্ব স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করতে হবে।

বন্ধুগণ,

আজ বিশ্ব যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে, সেগুলি নিয়ে ভারত তার নীতি নির্ধারণ করেছে ২০১৫ সালে, দশ বছর আগে। যখন নীতি আয়োগ প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন এর প্রতিষ্ঠাতা দলিলটি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিকে স্পষ্টভাবে স্পষ্ট করে তুলেছিল: ভারত অন্য কোনও দেশ থেকে একটিও উন্নয়ন মডেল আমদানি করবে না। আমরা ভারতের উন্নয়নের জন্য একটি ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করব। এই নীতি ভারতকে তার নিজস্ব প্রয়োজনীয়তা এবং নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ অনুসারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। এটি একটি মূল কারণ যে, এক দশকের নানা ব্যাঘাতের পরেও, ভারতের অর্থনীতি দুর্বল হয়নি বরং শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

বন্ধুগণ,

একবিংশ শতাব্দীর এই দশকে, ভারত একটি সংস্কার এক্সপ্রেসের উপর চড়েছে। এই সংস্কার এক্সপ্রেসের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল আমরা এটিকে জোর করে নয় বরং দৃঢ়তার সঙ্গে এবং সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ত্বরান্বিত করছি। অর্থনৈতিক বিশ্বের অনেক বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ এবং প্রবীণ ব্যক্তিত্ব এখানে উপস্থিত আছেন। আপনারা ২০১৪ সালের আগের সময়কাল দেখেছেন। সংস্কারগুলি কেবল তখনই করা হয়েছিল যখন পরিস্থিতি তাদের বাধ্য করেছিল, যখন সংকট এসেছিল, যখন সংস্কার ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প ছিল না। ১৯৯১ সালের সংস্কারগুলি তখন ঘটেছিল যখন দেশ দেউলিয়া হওয়ার বিপদের মুখোমুখি হয়েছিল এবং তাঁদের সোনা বন্ধক রাখতে হয়েছিল। পূর্ববর্তী সরকারগুলির এটাই ছিল পদ্ধতি - তাঁরা কেবল বাধ্যতার কারণে সংস্কার করেছিল। ২৬/১১ সন্ত্রাসী হামলার পর, যখন কংগ্রেস সরকারের দুর্বলতাগুলি উন্মোচিত হয়েছিল, তখন ‘এনআইএ’  গঠিত হয়েছিল। যখন বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ভেঙে পড়ে এবং গ্রিডগুলি ব্যর্থ হতে শুরু করে, তখনই প্রয়োজনের চাপে বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে সংস্কারগুলি ঘটেছিল।

 

বন্ধুগণ,

উদাহরণগুলির একটি দীর্ঘ তালিকা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে যখন বাধ্যতার ফলে চাপে পড়ে সংস্কার করা হয়, তখন সঠিক ফলাফল বা জাতীয় স্তরে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করা হয় না।

বন্ধুগণ,

আমি গর্বিত যে গত এগারো বছরে, আমরা সম্পূর্ণ দৃঢ়তার সঙ্গে সংস্কার করেছি - নীতিতে, প্রক্রিয়ায়, বিতরণে, এমনকি মানসিকতায়ও সংস্কার। কারণ নীতি পরিবর্তন হলেও প্রক্রিয়া একই থাকে, যদি মানসিকতা অপরিবর্তিত থাকে, এবং যদি বিতরণের উন্নতি না হয়, তাহলে সংস্কারগুলি কেবল কাগজের টুকরো থেকে যায়। অতএব, আমরা সমগ্র ব্যবস্থাকে রূপান্তরিত করার জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা করেছি।

বন্ধুগণ,

প্রক্রিয়া সম্পর্কে কথা বলতে চাই। একটি সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া হল ক্যাবিনেট নোট। এখানে অনেকেই জানেন যে আগে, একটি ক্যাবিনেট নোট তৈরি করতে কয়েক মাস সময় লাগত। কীভাবে একটি জাতি সেই গতিতে উন্নয়ন করতে পারে? তাই আমরা এই প্রক্রিয়াটি পরিবর্তন করেছি। আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণকে সময়-সীমাবদ্ধ এবং প্রযুক্তি-ভিত্তিক করেছি। আমরা নিশ্চিত করেছি যে একটি ক্যাবিনেট নোট কোনও কর্মকর্তার ডেস্কে নির্দিষ্ট সংখ্যক ঘন্টার বেশি থাকবে না - হয় তা প্রত্যাখ্যান করুন অথবা সিদ্ধান্ত নিন। জাতি আজ ফলাফল প্রত্যক্ষ করছে।

বন্ধুগণ,

রেলওয়ে ওভারব্রিজের অনুমোদনের উদাহরণও দেই। আগে, একটি নকশা অনুমোদন পেতে বেশ কয়েক বছর সময় লাগত। একাধিক অনুমোদনের প্রয়োজন হত, এবং বিভিন্ন স্তরে চিঠি লিখতে হত – আর আমি বেসরকারি ক্ষেত্রের কথা বলছি না, বরং সরকারের কথা বলছি। আমরা এটিও পরিবর্তন করেছি। আজ দেখুন, রাস্তা এবং রেলওয়ে পরিকাঠামো কত দ্রুত তৈরি হচ্ছে। বিনীতজি এই বিষয়ে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

 

বন্ধুগণ,

আরেকটি আকর্ষণীয় উদাহরণ হল সীমান্ত পরিকাঠামো, যা সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার সাথে যুক্ত। একটা সময় ছিল যখন সীমান্ত এলাকায় একটি সাধারণ রাস্তা তৈরির জন্যও দিল্লির অনুমতি প্রয়োজন হত। জেলা পর্যায়ে, কার্যত কোনও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছিল না; দেয়ালের উপর দেয়াল ছিল, এবং কেউ দায়িত্ব নিতে পারত না। সেই কারণে, কয়েক দশক পরেও, সীমান্ত পরিকাঠামোর অবস্থা খারাপ ছিল। ২০১৪ সালের পর, আমরা এই প্রক্রিয়াটি সংস্কার করেছি, স্থানীয় প্রশাসনকে ক্ষমতায়িত করেছি এবং আজ আমরা সীমান্ত পরিকাঠামোতে দ্রুত উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করছি।

বন্ধুগণ,

গত দশকে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টিকারী একটি সংস্কার হল ইউপিআই, ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম। এটি কেবল একটি অ্যাপ নয়; এটি নীতি, প্রক্রিয়া এবং সরবরাহের এক অসাধারণ সমন্বয়কে প্রতিনিধিত্ব করে। যারা কখনও ব্যাংকিং এবং আর্থিক পরিষেবা ব্যবহার করার কথা কল্পনাও করতে পারেনি তারা এখন ইউপিআই-এর মাধ্যমে পরিষেবা সেবা পাচ্ছে। ডিজিটাল ইন্ডিয়া, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, জন ধন-আধার-মোবাইল এর ত্রিত্ব - এই সংস্কারগুলি কোনও বাধ্যতা থেকে জন্ম নেয়নি, কিন্তু এগুলি দৃঢ়তার জন্ম দিয়েছে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল পূর্ববর্তী সরকারগুলি যাঁদের কাছে কখনও পৌঁছাতে পারেনি তাঁদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা। যাঁদের কখনও যত্ন নেওয়া হয়নি, মোদী সরকার তাঁদের সম্মান করে এবং ক্ষমতায়ন করে। এই কারণেই এই সংস্কারগুলি করা হয়েছিল এবং আমাদের সরকার একই চেতনা নিয়ে এগিয়ে চলেছে।

বন্ধুগণ,

ভারতের এই নতুন মানসিকতা আমাদের বাজেটেও প্রতিফলিত হয়েছে। আগে, যখন বাজেট নিয়ে আলোচনা হত, তখন কেবল ব্যয়ের উপরই জোর দেওয়া হতো - কত টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, কোনটা সস্তা বা ব্যয়বহুল হয়েছে। প্রায় সম্পূর্ণরূপে টেলিভিশনে, বাজেট আলোচনা ঘোরাফেরা করতো আয়কর বৃদ্ধি পেয়েছে নাকি হ্রাস পেয়েছে তা নিয়ে, যেন দেশে এর বাইরে আর কিছুই নেই। ঘোষিত নতুন ট্রেনের সংখ্যা শিরোনামে প্রাধান্য পেত, কিন্তু পরে কেউ জিজ্ঞেস করতো না যে সেই ঘোষণাগুলির কী হয়েছে।বিগত বছরগুলিতে  সেই ধারা বদলেছে, আমরা বাজেটকে কেবল ব্যয়-কেন্দ্রিক থেকে ফলাফল-কেন্দ্রিক করে তুলেছি।

 

 

বন্ধুগণ,

বাজেট আলোচনায় আরেকটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হল: ২০১৪ সালের আগে, বাজেটের বাইরে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা হতো। এখন, বাজেটের বাইরে সংস্কার সম্পর্কে আলোচনা হচ্ছে। বাজেট কাঠামোর বাইরে, আমরা পরবর্তী প্রজন্মের জিএসটি সংস্কার বাস্তবায়ন করেছি, পরিকল্পনা কমিশনকে নীতি আয়োগ দিয়ে প্রতিস্থাপন করেছি, ৩৭০ ধারা বাতিল করেছি, তিন তালাকের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন করেছি এবং নারী শক্তি বন্দন আইন পাস করেছি।

বন্ধুগণ,

বাজেটের মধ্যে ঘোষণা করা হোক বা তার পরে, আমাদের সংস্কার এক্সপ্রেস দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। গত এক বছরে, আমরা বন্দর এবং সমুদ্র ক্ষেত্রে সংস্কার করেছি, জাহাজ নির্মাণ শিল্পের জন্য অসংখ্য উদ্যোগ নিয়েছি, জন বিশ্বাস আইনের অধীনে সংস্কারকে এগিয়ে নিয়েছি, জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য শান্তি আইন প্রণয়ন করেছি, শ্রম আইন সংস্কার বাস্তবায়ন করেছি, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা চালু করেছি, ওয়াকফ আইন সংস্কার করেছি এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থানের উন্নয়নের জন্য একটি নতুন জিআরএএম জি আইন চালু করেছি। সারা বছর ধরে এই ধরনের অসংখ্য সংস্কার করা হয়েছে।

বন্ধুগণ,

এই বছরের বাজেট সংস্কার এক্সপ্রেসকে আরও এগিয়ে নিয়েছে। বাজেটের অনেক মাত্রা থাকলেও, আমি দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলব - মূলধন ব্যয় এবং প্রযুক্তি। বিগত বছরগুলির মতো, এই বাজেটেও পরিকাঠামো ব্যয় প্রায় ₹১৭ লক্ষ কোটিতে বৃদ্ধি করা হয়েছে। আপনি মূলধন ব্যয়ের উল্লেখযোগ্য গুণীতক প্রভাব সম্পর্কে জানেন; এটি দেশের ক্ষমতা এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৃহৎ পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় টাউনশিপ নির্মাণ, টিয়ার-২ এবং টিয়ার-৩ শহরে নগর অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি এবং সাতটি নতুন উচ্চ-গতির রেল করিডোর, এই বাজেট ঘোষণাগুলি, সত্যিকার অর্থে, আমাদের যুবসমাজ এবং জাতির ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ।

বন্ধুগণ,

গত এক দশক ধরে, আমরা প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনকে প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করেছি। এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে, আমরা সারা দেশে একটি স্টার্ট-আপ সংস্কৃতি এবং হ্যাকাথন সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করেছি। আজ, ভারতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই লক্ষেরও বেশি নিবন্ধিত স্টার্ট-আপ কাজ করছে। আমরা আমাদের যুবসমাজকে উৎসাহিত করেছি এবং ঝুঁকি নেওয়ার মনোভাবকে পুরস্কৃত করে এমন মনোভাব গড়ে তুলেছি। ফলাফল আমাদের সামনে স্পষ্ট। এই বছরের বাজেট এই অগ্রাধিকারকে আরও শক্তিশালী করে। বিশেষ করে বায়োফার্মা, সেমিকন্ডাক্টর এবং এআই-এর মতো ক্ষেত্রের জন্য উল্লেখযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।

বন্ধুগণ,

দেশের অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি, আমরা রাজ্যগুলিকেও আনুপাতিকভাবে ক্ষমতায়িত করেছি। আমি আপনাদের সামনে আরেকটি পরিসংখ্যান তুলে ধরছি। ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে, দশ বছরে, রাজ্যগুলি কর বিচ্যুতি হিসাবে প্রায় ১৮ লক্ষ কোটি টাকা পেয়েছে।এর বিপরীতে, ২০১৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত, রাজ্যগুলিকে ৮৪ লক্ষ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। যদি আমি এই বছরের বাজেটে প্রস্তাবিত প্রায় ১৪ লক্ষ কোটি টাকা যোগ করি, তাহলে আমাদের সরকারের অধীনে রাজ্যগুলিতে মোট কর বিকেন্দ্রীকরণ প্রায় ১০০ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছাবে। এই অর্থ কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন রাজ্য সরকারকে তাদের নিজ নিজ অঞ্চলে উন্নয়নমূলক উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার জন্য স্থানান্তর করেছে।

 

বন্ধুগণ,

আজকাল, ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি-মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা চলছে। আমি যখন এখানে প্রবেশ করেছি, তখনই আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছিল এবং বিশ্বজুড়ে বিশ্লেষণ চলছে। তবে, আজ আমি আরেকটি আকর্ষণীয় দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করছি - সম্ভবত মিডিয়া যে দৃষ্টিভঙ্গি খুঁজছে তা নয়, বরং এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি যা কার্যকর হতে পারে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে আমি যা বলতে যাচ্ছি তা হয়তো আপনার মনেও নাও আসতে পারে। আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন কেন উন্নত দেশগুলির সাথে এত বিস্তৃত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ২০১৪ সালের আগে বাস্তবায়িত হয়নি? দেশটি একই ছিল, তারুণ্যের শক্তি একই ছিল, সরকার ব্যবস্থা একই ছিল - তাহলে কী পরিবর্তন এসেছে? সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিতে, তার নীতিতে এবং অভিপ্রায়ে এবং ভারতের ক্ষমতায় পরিবর্তন এসেছে।

বন্ধুগণ,

একবার ভেবে দেখুন- যখন ভারতকে "ভঙ্গুর পাঁচ" অর্থনীতির মধ্যে চিহ্নিত করা হত, তখন কে আমাদের সঙ্গে জড়িত হত? একটি গ্রামে, একটি ধনী পরিবার কি তাঁদের মেয়েকে একটি দরিদ্র পরিবারে বিয়ে দিতে রাজি হত? তাঁরা এটিকে অবজ্ঞা করত। বিশ্বে আমাদের পরিস্থিতি এমন ছিল। যখন দেশটি নীতিগত পক্ষাঘাতে জর্জরিত ছিল, কে কে ভারতের উপর আস্থা রাখতে পারতেন? ২০১৪ সালের আগে, ভারতের উৎপাদন ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল ছিল। পূর্ববর্তী সরকারগুলি দ্বিধাগ্রস্ত ছিল; খুব কমই কেউ ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করত, এবং এমনকি যদি প্রচেষ্টা করা হয়, তবুও তাঁরা ভয় পেত যে উন্নত দেশগুলির সঙ্গে চুক্তির ফলে সেই দেশগুলি আমাদের বাজারগুলিকে তাঁদের পণ্য দিয়ে প্লাবিত করবে এবং তাঁদের দখলে নিয়ে নেবে। হতাশার সেই পরিবেশে, ২০১৪ সালের আগে, ইউপিএ সরকার মাত্র চারটি দেশের সঙ্গে ব্যাপক বাণিজ্য চুক্তি পরিচালনা করেছিল। বিপরীতে, গত দশকে ভারতের দ্বারা সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তিগুলি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ৩৮টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে। আজ, আমরা বাণিজ্য চুক্তিতে প্রবেশ করছি কারণ ভারত আত্মবিশ্বাসী। আজকের ভারত বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত। গত এগারো বছর ধরে, ভারত একটি শক্তিশালী উৎপাদন বাস্তুতন্ত্র তৈরি করেছে। অতএব, আজ ভারত সক্ষম এবং ক্ষমতায়িত, এবং সেই কারণেই বিশ্ব আমাদের বিশ্বাস করে। এই রূপান্তর আমাদের বাণিজ্য নীতিতে দৃষ্টান্তমূলক পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করে এবং এই দৃষ্টান্তমূলক পরিবর্তন একটি উন্নত ভারতের দিকে আমাদের যাত্রায় একটি অপরিহার্য স্তম্ভ হয়ে উঠেছে।

বন্ধুগণ,
প্রত্যেক নাগরিক যাতে উন্নয়নে অংশগ্রহণ করতে পারে তা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের সরকার পূর্ণ সংবেদনশীলতার সঙ্গে কাজ করছে। অগ্রগতির দৌড়ে পিছিয়ে থাকাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পূর্ববর্তী সরকারগুলি কেবল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ঘোষণা করেছিল; আমরাও সেই পথ অব্যাহত রাখতে পারতাম। কিন্তু সংবেদনশীলতা শাসনকে সংজ্ঞায়িত করে। আমি যে উদাহরণটি দিতে যাচ্ছি তা আপনাদের কারো কারো কাছে ছোট মনে হতে পারে। আমাদের দেশে যেমন ভাষাগত বৈচিত্র্য রয়েছে, তেমনি সাংকেতিক ভাষাও খণ্ডিত ছিল - এক রূপ তামিলনাড়ুতে, অন্য রূপ উত্তর প্রদেশে, তৃতীয় রূপ গুজরাটে, চতুর্থ রূপ আসামে। যদি একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে ভ্রমণ করতেন, তাহলে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়তো। এটি একটি বড় কাজ বলে মনে নাও হতে পারে, তবে একটি সংবেদনশীল সরকার এই ধরনের বিষয়গুলিকে তুচ্ছ মনে করে না। প্রথমবারের মতো, ভারত ভারতীয় সাংকেতিক ভাষাকে প্রাতিষ্ঠানিক এবং মানসম্মত করেছে। একইভাবে, ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায় তাদের অধিকারের জন্য দীর্ঘকাল ধরে সংগ্রাম করেছে; আমরা তাঁদের মর্যাদা এবং সুরক্ষা প্রদানের জন্য আইন প্রণয়ন করেছি। গত দশকে, লক্ষ লক্ষ নারী তিন তালাকের পশ্চাদগামী প্রথা থেকে মুক্তি পেয়েছে এবং লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

বন্ধুগণ,

সরকারি ব্যবস্থার মধ্যে মানসিকতাও পরিবর্তিত হয়েছে, আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। দরিদ্রদের বিনামূল্যে খাদ্যশস্য প্রদানের মতো প্রকল্পগুলিতেও চিন্তাভাবনার এই পার্থক্য দৃশ্যমান। বিরোধী দলের কেউ কেউ আমাদের উপহাস করে; কিছু সংবাদপত্র এই উপহাসকে আরও বাড়িয়ে তোলে। তারা জিজ্ঞাসা করে যে ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার কথা থাকলেও কেন বিনামূল্যে রেশন দেওয়া হয়? এটি একটি অদ্ভুত প্রশ্ন। যখন একজন রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়, তখনও কি ডাক্তার কয়েক দিন ধরে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেন না? হ্যাঁ, ব্যক্তি দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছে, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে সহায়তা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। সংকীর্ণ চিন্তাভাবনা সম্পন্ন ব্যক্তিরা বুঝতে ব্যর্থ হন যে কাউকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা যথেষ্ট নয়; আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে যারা নব্য-মধ্যবিত্ত শ্রেণীতে প্রবেশ করেছে তারা যেন আবার দারিদ্র্যের মধ্যে না পড়ে। এই কারণেই বিনামূল্যে খাদ্যশস্যের আকারে অব্যাহত সহায়তা অপরিহার্য। বিগত বছরগুলিতে, কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় করেছে, দরিদ্র এবং নব্য-মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে প্রচুর সহায়তা প্রদান করছে।

বন্ধুগণ,

আমরা অন্য প্রেক্ষাপটে চিন্তাভাবনার মধ্যেও পার্থক্য লক্ষ্য করি। কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, কেন আমি ২০৪৭ সালের কথা বলি! তাঁরা প্রশ্ন তোলেন যে ততদিনে কি একটি উন্নত ভারত সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়িত হবে, এবং আমরা যদি সেই সময়ে উপস্থিত না থাকি তবে তাতে কিছু আসে যায় কিনা। এটিও একটি প্রচলিত মানসিকতা।

বন্ধুগণ,

যাঁরা ভারতের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন, তাঁরা লাঠিচার্জ, সেলুলার জেলে কারাবাস, এমনকি ফাঁসির মঞ্চে আরোহণ করেছেন। যদি তাঁরা ভাবতেন যে স্বাধীনতা তাঁদের জীবদ্দশায় আসবে না, তার জন্য কেন তাঁরা কষ্ট ভোগ করবেন, তাহলে কি ভারত কখনও স্বাধীনতা পেত? যখন জাতি সবার আগে আসে, যখন জাতীয় স্বার্থ সর্বোপরি, তখনই প্রতিটি সিদ্ধান্ত এবং প্রতিটি নীতি দেশের জন্য তৈরি হয়। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট - আমাদের একটি উন্নত ভারত গড়ে তোলার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যেতে হবে। আমরা ২০৪৭ সালে উপস্থিত থাকি বা না থাকি, জাতি টিকে থাকবে, এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বেঁচে থাকবে। অতএব, আমাদের বর্তমানকে উৎসর্গ করতে হবে যাতে তাঁদের আগামীকাল নিরাপদ এবং উজ্জ্বল হয়। আমরা আজ বীজ বপন করছি যাতে আগামী প্রজন্ম ফসল কাটতে পারে।

বন্ধুগণ,

বিশ্বকে এখনও না বাধাবিঘ্ন ও প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে বেঁচে থাকার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর প্রকৃতি বিকশিত হতে পারে, কিন্তু ব্যবস্থায় দ্রুত পরিবর্তন অনিবার্য। আপনারা ইতিমধ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই  উদ্ভূত নানা বাধাবিঘ্ন প্রত্যক্ষ করতে পারেন। আগামী বছরগুলিতে, এআই আরও বিপ্লবী রূপান্তর আনবে এবং ভারত প্রস্তুত। কয়েক দিনের মধ্যেই, ভারত গ্লোবাল এআই ইমপ্যাক্ট সামিট আয়োজন করবে। সারা বিশ্বের জাতি এবং প্রযুক্তি নেতারা এখানে সমবেত হবেন। তাঁদের সকলের সঙ্গে একসাথে, আমরা একটি উন্নত বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব। এই আত্মবিশ্বাস নিয়ে, আমি আবারও এই শীর্ষ সম্মেলনের জন্য আপনাদের সকলকে আমার শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

অনেক ধন্যবাদ।

বন্দে মাতরম।

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
From welfare to opportunity: How DPI 2.0 and AI will unlock India’s productivity

Media Coverage

From welfare to opportunity: How DPI 2.0 and AI will unlock India’s productivity
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
State Visit of Prime Minister to Seychelles
June 28, 2026

As part of Prime Minister Shri Narendra Modi’s State Visit to Seychelles from 27-29 June 2026, Prime Minister and the President of Seychelles, H.E. Dr. Patrick Herminie today held official talks at the State House in Victoria, Mahe.

The talks covered the full spectrum of bilateral relations, with the leaders agreeing to further strengthen cooperation in health, education, capacity building, digital transformation, sustainable development, social infrastructure, renewable energy, maritime security and defence. They also exchanged views on regional and global developments, including challenges in the Indian Ocean region, such as illegal fishing, drug trafficking and piracy. Both leaders expressed satisfaction at the progress made in the implementation of projects and initiatives under the Special Economic Package announced by India. Prime Minister reaffirmed India’s commitment to supporting the development priorities of Seychelles and to further deepen the close and enduring partnership between the two countries.

Following the official talks, both leaders released a joint commemorative logo marking 50 years of the establishment of diplomatic relations between the two countries. Several MoUs/agreements in the fields of Capacity Building, UPI, Health, Agriculture, Shipping, Space, Extradition and Line of Credit were exchanged thereafter. The amount of the Line of Credit stands at INR 1250 crores. The full list of MoUs/agreements may be seen here [link]. In addition, several announcements in the fields of food security, infrastructure, health, vocational training, maritime security and defence were made in support of the development needs of Seychelles. The details of these announcements may be seen here [link]. Seychelles also announced that it is joining the Coalition for Disaster Resilient Infrastructure [CDRI].

Later in the day, Prime Minister addressed an Extraordinary Sitting of the National Assembly of Seychelles, becoming the first Indian Prime Minister to do so. In his address, he highlighted the historical bonds of friendship between India and Seychelles and underscored the shared values of democracy, rule of law and people-centric governance that guide the two countries. He noted that mutual trust and close cooperation have shaped a robust partnership spanning development cooperation, maritime security, technology, innovation, health and capacity building. Prime Minister also called for enhanced parliamentary exchanges between the two democracies. The full address of Prime Minister may be seen here [link]

The Leader of Opposition of Seychelles, H.E. Mr. Bernard Georges, also called on Prime Minister. The two leaders discussed India-Seychelles bilateral ties and conveyed their strong support to further build the special friendship between the two countries.