কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, ইন্টারনেট অফ থিঙ্কস, ব্লকচেন এবং বিগ ডেটার মতো বিভিন্ন উদীয়মান ক্ষেত্র ভারতকে উন্নয়নের এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং দেশবাসীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নেও সাহায্য করতে পারে: প্রধানমন্ত্রী
‘শিল্প ৪.০’ সংক্রান্ত উপাদানগুলির ভারতে অভাবনীয় পরিবর্তনসাধনের ক্ষমতা রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী মোদী
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ভারতে শিল্পক্ষেত্রে যেসব কাজকর্ম হচ্ছে, তার প্রসারে সাহায্য করবে: প্রধানমন্ত্রী মোদী
আমরা 'লোকাল সলিউশন' থেকে 'গ্লোবাল অ্যাপ্লিকেশন'-এর দিকে এগিয়ে চলেছি: প্রধানমন্ত্রী মোদী
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে ভারতের অবদান বিস্ময়কর হবে: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
#DigitalIndia গ্রামগুলিতে ইন্টারনেট ডেটা পৌঁছে দিয়েছে; বিশ্বের মধ্যে ভারতেই সবথেকে বেশি মোবাইল ডেটা ব্যবহার হচ্ছে। এমনকি, এদেশে সবথেকে কম মূল্যে মোবাইল ডেটা পাওয়া যায়: প্রধানমন্ত্রী

ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের সভাপতি মাননীয় বোর্গে ব্রেন্ডে, শিল্প জগতের সম্মানিত সদস্য, দেশ-বিদেশ থেকে সমাগত অন্যান্য অতিথিবৃন্দ এবং আমার সহযোগীগণ।

এই বিশেষ অনুষ্ঠানে আসার জন্য আপনাদের সবাইকে অভিবাদন ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার জন্য এটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে, ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরাম আমাকে ভারতের প্রথম ও বিশ্বে চতুর্থ, ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লব কেন্দ্র‘টি উদ্বোধনের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ‘ইন্ডাস্ট্রিজ ফোর পয়েন্ট জিরো’, শুনলে প্রথমবার মনে হয় যে, আমরা কোনও শিল্প নিয়ে কথা বলছি। কিন্তু এর যত উপাদান; এদের এমন শক্তি যা মানব-জীবনের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে।

আজকের আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে যেভাবে ঐক্যনাশী, সংহতিনাশী পরস্পর সংযুক্ত প্রযুক্তির উদয় হচ্ছে – তা অভূতপূর্ব। তাই ভিন্ন ভিন্ন প্রযুক্তির মাঝে সামঞ্জস্য রক্ষা এবং সমন্বয়ই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ভিত্তি হয়ে উঠেছে। এই প্রযুক্তির ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা গোটা দুনিয়ায় প্রতিনিয়ত মানুষের কাজ করার পদ্ধতি, বসবাসের পদ্ধতি ও বার্তালাপের পদ্ধতি বদলে দিচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে সানফ্রান্সিসকো, টোকিও এবং বেজিং-এর পর এখন ভারতে এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ভবিষ্যতে অসীম সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছে।

আমি এই উদ্যোগের জন্য ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামকে অনেক অনেক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব কিভাবে বিস্তারিত হচ্ছে, কিভাবে গোটা বিশ্বে নিজের প্রভাব আনছে – তা আপনারা ভালোভাবেই জানেন। আপনারা এর বিশেষজ্ঞ, একে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বোঝেন। এর গুরুত্ব বুঝে আজ আমাদের বুঝতে হবে যে, এই বিপ্লব ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ! আর আজ ভারত এই বিপ্লবে অংশগ্রহণ করে কতটা লাভবান হতে পারে! এর সঙ্গে যুক্ত সমস্ত প্রযুক্তি পূর্ণ ক্ষমতা সহ প্রয়োগের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, ইন্টারনেট অফ থিংস, ব্লক চেইন, বিগ ডেটা – এমনই যাবতীয় নতুন প্রযুক্তি ভারতের উন্নয়নকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া, লক্ষ লক্ষ যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানের পথ খুলে দেওয়া এবং দেশের প্রত্যেক ব্যক্তির জীবনকে উন্নত করার ক্ষমতা রাখে।

ভারতের নবীন প্রজন্মের প্রাণ~শক্তি, তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে তাঁদের কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা, অসংখ্য স্টার্ট আপ কোম্পানির স্পন্দিত বাস্তু ব্যবস্থা এই ক্ষমতাকে আরও বৃদ্ধি করেছে। আজ যখন ভারত ‘নতুন ভারত’-এর সংকল্প নিয়ে এগিয়ে চলেছে, নিজের সামর্থ্য ও সম্পদকে শক্তিশালী করছে, তখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে অংশগ্রহণ এদেশের জন্য সোনায় সোহাগা হয়ে উঠবে।

ভারত একে নিছকই শিল্প ক্ষেত্রে পরিবর্তন নয়, সামাজিক পরিবর্তনের ভিত্তি হিসাবে দেখছে। শিল্প একটি মঞ্চ, উৎপাদন একটি প্রক্রিয়া আর প্রযুক্তি হ’ল সরঞ্জাম মঞ্চ। কিন্তু এর অন্তিম লক্ষ্য সমাজের শেষ প্রযুক্তিতে বসে থাকা ব্যক্তির জীবনকে সহজ করে তোলা, তাঁর জীবনে পরিবর্তন আনা।

বন্ধুগণ, আমি ‘ইন্ডাস্ট্রি ফোর পয়েন্ট জিরো’তে এমন শক্তি দেখতে পাচ্ছি, যা সামাজিক এবং আর্থিক ব্যবস্থাগুলির সঙ্গে যুক্ত অনেক দুর্বলতাকে একেবারে দূর করবে! ভারতে একটি ‘ই-রিভার্সিবল’ ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, ‘ইন্ডাস্ট্রি ফোর পয়েন্ট জিরো’ ব্যবহার করে ভারতে দারিদ্র্য সমাপ্ত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। দেশের গরিব, বঞ্চিত, সমাজে উপেক্ষিত বর্গের জীবনমানকে উন্নত করতে পারে।

ভারতের মতো বিশাল এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশে যে গতি এবং মাত্রায় কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে, তাতে ই-রেভুলিউশন আমাদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হয়ে উঠতে পারে।

বন্ধুগণ, ভালো ভিত না বানালে বড় ইমারত বানানো যায় না। ‘ইন্ডাস্ট্রি ফোর পয়েন্ট জিরো’ র সাফল্যও নির্ভর করবে দেশে এর জন্য ভালো ভিত গড়ে উঠবে, কতটা শক্তিশালী হবে তার ওপর। আজ আমি গর্বের সঙ্গে বলতে পারি যে, বিগত চার বছরে আমাদের সরকার ভারতকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে আর সাফল্যও পেয়েছে। আমার এই আত্মবিশ্বাসের পেছনে এই উৎসাহের পেছনে যে কারণ রয়েছে- তাও আপনাদেরকে বিস্তারিত বলতে চাই।

বন্ধুগণ ‘ইন্ডাস্ট্রি ফোর পয়েন্ট জিরো’ থেকে একটি শব্দ বের করে নিলে এর আর কোনও মানে থাকবে না। এই শব্দটি হ’ল ‘ডিজিটাল’! কিন্তু এই শব্দটি আজ পরিবর্তনশীল ভারতের বড় পরিচয়স্বরূপ। ডিজিটাল ইঞ্জিন অভিযান গ্রামে গ্রামে ‘ডেটা’ পৌঁছে দিয়েছে। বিগত চার-সাড়ে চার বছরে দেশের টেলিকম পরিকাঠামো শক্তিশালী করার কাজে সরকার আগের তুলনায় ছয় গুণ বেশি বিনিয়োগ করেছে।

বন্ধুগণ, ২০১৪ সালে ভারতে ৬১ কোটি মানুষের ডিজিটাল পরিচয়পত্র ছিল। আজ ভারতের ১২০ কোটিরও বেশি মানুষের কাছে আধার কার্ড আছে, নিজস্ব ডিজিটাল পরিচয়পত্র আছে। ২০১৪ সালে ভারতে ৮ লক্ষেরও কম মোবাইল বেসড্‌ ট্র্যান্স রিসিভার স্টেশন ছিল, আজকে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১৮ লক্ষেরও বেশি। ২০১৪ সালে ভারতে সার্বিক ট্যাল্লি ডেনসিটি ৭৫ শতাংশ ছিল, এখন তা বেড়ে ৯৩ শতাংশ হয়েছে। ২০১৪ সালে ভারতে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ২৩ কোটি ছিল, আজ তা বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি ৫০ কোটি হয়ে গেছে। ভারতে বিগত চার বছরে ইন্টারনেট কভারেজ ৭৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই চার বছরে সরকার ৩ লক্ক্যহ কিলোমিটারেরও বেশি অপ্টিক্যাল ফাইবার বিছিয়েছে। পরিণামস্বরূপ, ২০১৪-র আগে দেশের ৫৯টি পঞ্চায়েতে অপ্টিক্যাল ফাইবার সংযোগ ছিল, আজ ১ লক্ষেরও বেশি পঞ্চায়েতে অপ্টিক্যাল ফাইবার পৌঁছে গেছে। অতি শীঘ্রই আমরা দেশের প্রায় আড়াই লক্ষ পঞ্চায়েতকে এই ফাইবার নেটওয়ার্ক দ্বারা যুক্ত হতে যাচ্ছে।

বন্ধুগণ, ২০১৪ সালে দেশে মাত্র ৩৮ হাজার কমন সার্ভিস সেন্টার ছিল। আজ ভারতে ৩ লক্ষেরও বেশি কমন সার্ভিস সেন্টার কাজ করছে। দেশের হটস্পট চালু করার চেষ্টা করছে। ডিজিটাল ইন্ডিয়া অভিযান বিগত চার বছরে ভারতবাসীর জীবনে অনেক পরিবর্তন এনেছে।

বন্ধুগণ, এসব কিছু তো ‘ইন্ডাস্ট্রি ফোর পয়েন্ট জিরো’-ই বলবেন। ২০১৪ সালে একজন ভারতীয় নাগরিক যতটা মোবাইল ডেটা ব্যবহার করতেন, আজ তার ৩০ গুণ বেশি করছেন। এটাও জেনে অবাক হয়েছি যে, আজ গোটা বিশ্বে সর্বাধিক মোবাইল ডেটার ব্যবহার ভারতে হচ্ছে। পাশাপাশি, গোটা বিশ্বে সবচাইতে সস্তা ডেটাও ভারতেই পাওয়া যায়। সেজন্য ২০১৪ সালের পর থেকে ভারতে মোবাইল ডেটা মূল্য ৯০ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে।

বন্ধুগণ, এমন উন্নয়নের গল্প আপনারা বিশ্বের আর কোনও দেশে শুনতে পাবেন না। ভারতের এই সাফল্যের কাহিনী অপ্রত্যাশিত। আজ ভারত বিশ্বের সর্ববৃহৎ ডিজিটাল পরিকাঠামো সমৃদ্ধ দেশগুলির অন্যতম। আধার, ইউনিফায়েড পেমেন্ট ইন্টারফেস বা ইউপিআই, ই-সাইন, ই-ন্যাশনাল, এগ্রিকালচার মার্কেট বা ই-নাম, গভর্নমেন্ট ই-মার্কেট প্লেস কিংবা জিইএম, ডিজি লকার-এর মতো অনন্য ইন্টারফেসগুলি ভারতকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিশ্বে অগ্রণী ভূমিকা পালনে সাহায্য করছে। এগুলির কারণেই এত দ্রুত এত মানুষ ডিজিটাল প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামো দেশের স্টার্ট আপগুলিকেও এই মঞ্চে নানা উদ্ভাবনের সুযোগ দিয়েছে। এই উদ্ভাবনগুলি দেশের ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করার কাজ করছে।

বন্ধুগণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রোবার্স ইকো সিস্টেম নির্মাণের জন্য কয়েক মাস আগেই জাতীয় নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর লক্ষ্য নিয়ে চলতে গিয়ে ‘সকলের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ নাম দেওয়া হয়েছে। কিভাবে গবেষণার বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলা হবে, উপ-যোজনাকে উন্নত করা হবে, দক্ষতার সমস্যাগুলির মোকাবিলা করা হবে; এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এতে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে ভারতীয় জনমানসের সঙ্গে যুক্ত কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো ক্ষেত্রগুলিতে। এই পর্যায়ে বিগত দিনে আমরা এখানে ‘মোবিলিটি’ নিয়ে একটি বড় আলোচনাসভার আয়োজন করেছিলাম।

বন্ধুগণ, মুম্বাইয়ে ‘ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরাম’-এর এই নতুন কেন্দ্রটি এই পর্যায়টিকে আরও শক্তিশালী করার কাজ করবে। এই কেন্দ্র ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর লক্ষ্যে সমস্ত প্রচেষ্টাকে প্রেরণা যোগাবে। এই কেন্দ্র ভারতের সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্র, বিভিন্ন রাজ্য সরকারের কাজে নতুন চেতনা সঞ্চার করতে, ‘ইন্ডাস্ট্রি ফোর পয়েন্ট জিরো’র নতুন উদ্যোগগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অনেক বেশি সাহায্য করবে।

আমাকে বলা হয়েছে যে, মহারাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে ‘গ্রোন’ এবং ‘ইন্টারনেট আপ থিংস’-এর মাধ্যমে সরকারি পরিষেবাগুলি উন্নত করতে একটি প্রকল্পের কাজ শুরু করে দিয়েছে। সেজন্য আমি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাই। আশা করি, আগামীদিনে দেশের প্রত্যেক রাজ্যে এরকম অনেক প্রকল্পের কাজ হবে।

বন্ধুগণ, ভারতে ‘ইন্ডাস্ট্রি ফোর পয়েন্ট জিরো’র শক্তি দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসার ও বিস্তারে দেশে একদিনে জনগণের স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নত হবে, অন্যদিকে চিকিৎসার খরচ হ্রাস পাবে। কৃষিতে এর বিস্তারে একদিকে ফলন বাড়বে, ফসল কম নষ্ট হবে, অন্যদিকে কৃষকদের আয়ও বাড়বে। এই প্রযুক্তি ভারতের কৃষকদের আবহাওয়া, ফসল এবং বীজ বপণের প্রক্রিয়ায় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে। এটি স্মার্ট সিটি এবং ভারতে একবিংশ শতাব্দীর পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি, দেশের গ্রামে গ্রামে যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও সাহায্য করতে পারে।

স্মার্ট মোবিলিটি থেকে শুরু করে পরিবহণ পর্যন্ত আর শহরের যানজট সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য নতুন প্রযুক্তি সহায়ক হবে। আমাদের দেশ ভাষা বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে নানা ভাষা ও কথ্যভাষার মধ্যে ভাবনা-চিন্তার আদান-প্রদান সহজ হতে পারে।

তেমনই আমার দেশের দিব্যাঙ্গ ভাই ও বোনেদের সামর্থ্যকে আরও শক্তিশালী করতে, তাঁদের জীবনের নানা প্রতিবন্ধকতা হ্রাস করতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বড় ভূমিকা নিতে পারে, তেমনই আরও অনেক বিষয়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

বন্ধুগণ, ভারতে এসব প্রধান বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন স্তরে কাজ শুরু হয়েছে। ‘ভারতের জন্য সমাধান, বিশ্বের জন্য সমাধান’ লক্ষ্য নিয়ে এসব কাজ এগিয়ে চলছে। আমরা স্থানীয় সমাধানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সমাধানের পথে এগোছি। এতে আরেকটি প্রযুক্তির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা হ’ল ব্লক চেন প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তি কেন্দ্রীয় সরকারের ন্যূনতম সরকার, অধিকতম বাস্তবায়নের লক্ষ্যের অনুকূল। এর সাহায্যে ‘সেল্‌ফ গভর্ন্যান্স’ এবং ‘সেল্‌ফ সার্টিফিকেশন’কে আরও বিশদ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনাগুলি খোঁজা হচ্ছে। সমস্ত সরকারি প্রক্রিয়া, সমস্যাসমূহ, প্রতিবন্ধকতাকে এর মাধ্যমে দূর করা যেতে পাড়ে। এই প্রক্রিয়াসমূহ সংস্কারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে, দুর্নীতি হ্রাস পাবে, অপরাধ কমবে এবং এসব কিছুর প্রভাব ভারতীয় নাগরিকদের জনগণের জীবনধারণ আরও সহজ হবে।

বন্ধুগণ, ‘ব্লকচেন’ প্রযুক্তির বিস্তারের প্রভাবে ভারত ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’-এর বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং-এ অনেক উপরে উঠে আসার ক্ষমতা রাখে। সমস্ত সরকারি পরিষেবা, প্রকৃতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনা, সম্পত্তির নথিভুক্তিকরণ, চুক্তি, বিদ্যুৎ সংযোগ – এরকম অনেক কাজ এর সাহায্যে দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করা যাবে। সেজন্য ভারত এই ব্লক চেন নিয়ে জাতীয় কৌশল গড়ে তোলার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। এক্ষেত্রে মুম্বাইয়ের ডব্লিউইএফ-এর নতুন কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমি আপনাদের এটাও জানাতে চাই যে, ভারত অতি দ্রুত নিজের ‘ড্রোন’ নীতি ঘোষণা করতে চলেছে।

বন্ধুগণ, প্রথম ও দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবের সময় ভারত পরাধীন ছিল। তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের সময়ে ভারত স্বাধীনতার পর নানা সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াই করছিল। কিন্তু এখন একবিংশ শতাব্দীর ভারত বদলে গেছে। সেজন্য আমি দেশের ১৩০ কোটি জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, ভারত চতুর্থ শিল্প বিপ্লব থেকে বঞ্চিত থাকবে না। বরং, আমি মনে করি যে, এই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে ভারতের অভূতপূর্ব, অপ্রত্যাশিত এবং অকল্পনীয় অবদান বিশ্বকে চমকে দেবে।

আমাদের বৈচিত্র্য, জনসংখ্যাগত সম্ভাবনা, দ্রুত বিকশিত বাজারের আকার এবং ডিজিটাল পরিকাঠামো, ভারতকে গবেষণা ও বাস্তবায়নের ‘গ্লোবাল হাব’ গড়ে তোলার ক্ষমতা রাখে। ভারতে সম্ভাব্য উদ্ভাবনের লাভ গোটা দুনিয়া পাবে, সমগ্র মানবজাতি পাবে।

বন্ধুগণ, আজ এই মঞ্চ থেকে আমি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখতে চাই যে, অনেকেই ভাবেন যে, প্রযুক্তির উত্থানে কর্মসংস্থান হ্রাস পাবে। কিন্তু বাস্তব হ’ল মানব জীবনের যে বাস্তবিকতাগুলিকে আজ পর্যন্ত আমরা স্পর্শ করতে পারিনি, সেগুলির দরজা এখন ‘ইন্ডাস্ট্রি ফোর পয়েন্ট জিরো’র মাধ্যমে খুলবে। কাজের প্রকৃতি অনেকটাই বদলে যাবে।

এই বাস্তবিকতাকে বুঝে কেন্দ্রীয় সরকার দক্ষ ভারত অভিযান, স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া, স্ট্যান্ড আপ ইন্ডিয়া, অটল ইনোভেশন মিশনের মতো কর্মসূচি চালু করেছে।

বন্ধুগণ, ১০ বছর পর আমরা কোথায় পৌঁছব, তা এই প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিত কেউ বলতে পারেন না। এটাও বলতে পারবেন না যে, পঞ্চম শিল্প বিপ্লব কবে আসবে! এটা ঠিক যে, পূর্ববর্তী শিল্প বিপ্লবগুলি প্রায় ১০০ বছরের অন্তরে এসেছে। কিন্তু চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মাত্র ৩০-৪০ বছরের অন্তরেই এসে গেছে। বিগত দুই দশকে অসংখ্য নতুন নতুন জিনিস আবিস্কার হয়েছে, জনপ্রিয় হয়েছে, আবার সেগুলির ব্যবহারও লুপ্ত হয়ে গেছে। প্রযুক্তি যেন সময়কে সঙ্কুচিত করে দিয়েছে। তাই আমি নিশ্চিত যে, ‘ইন্ডাস্ট্রি ফোর পয়েন্ট জিরো’ থেকে ‘ইন্ডাস্ট্রি ফাইভ পয়েন্ট জিরো’তে পরিবর্তিত হতে এখন আর ১০০ বছর লাগবে না।

সেজন্য ভারত ‘ইন্ডাস্ট্রি ফোর পয়েন্ট জিরো’ নিয়ে এতটা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে চলেছে। আমি চাই যে ভারতে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ‘ইন্ডাস্ট্রি ফোর পয়েন্ট জিরো’ পার্ক-ও স্থাপিত হোক।

আমি আপনাদের সবাইকে দেশের শিল্প জগৎ, সমস্ত রাজ্য সরকার, বুদ্ধিজীবী মহল ও উদ্যোগপতিদের আহ্বান জানাই যে, এই বিপ্লবকে বাস্তবায়িত করুন।

বন্ধুগণ, আমাদের সরকার খোলা মনে আপনাদের সকলের পরামর্শ গ্রহণ করতে প্রস্তুত। যে কাঠামো চান, যে প্রোটোকল প্রত্যাশা করেন, যে নীতি প্রণয়ন করতে হবে, নতুন ভারতের স্বার্থে – যাই করতে হোক না কেন, আমরা করব।

আপনাদের অভিজ্ঞতা, পরামর্শ গ্রহণে সরকার সদা তৎপর ও প্রস্তুত। আসুন আমরা সকলে মিলে সংকল্প করি যে, এবার ভারতকে বঞ্চিত হতে দেব না।

আমি আরেকবার আপনাদের সবাইকে এই চতুর্থ শিল্প বিপ্লব কেন্দ্রের জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানিয়ে আমার বক্তব্য সম্পূর্ণ করছি।

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
India’s Defence Exports Explode: ₹40,000 Crore Milestone Signals a New Manufacturing Era

Media Coverage

India’s Defence Exports Explode: ₹40,000 Crore Milestone Signals a New Manufacturing Era
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
The inauguration of Swaminarayan Temple is a new milestone in the cultural relations between India and France: PM Modi
September 06, 2026
It is a matter of great joy that BAPS Swaminarayan Hindu Mandir is being inaugurated in Paris: PM
This temple will surely enrich the diversity of France and energize our cultural relations: PM
India-France Strategic Partnership is special as it rests on the strong foundation of old cultural and political bonds: PM

पूज्य महंत स्वामी, फ्रांस सरकार के सम्मानित प्रतिनिधिगण, उपस्थित अतिथिगण, इंडियन कम्युनिटी के मेरे साथी, देश दुनिया से जुड़े सभी हरि भक्त, देवियों और सज्जनों, जय स्वामीनारायण!

आज फ्रांस की राजधानी पेरिस में भव्य स्वामीनारायण मंदिर का लोकार्पण हो रहा है। यह लोकार्पण भारत और फ्रांस के सांस्कृतिक संबंधों का नया युग स्तंभ है। पूज्य संत जनों और सनातन परंपरा के श्रेष्ठ जनों के आशीर्वाद के साथ आज इस लोकार्पण का मंच ‘वसुधैव कुटुम्बकम’ के भाव का मंच बन गया है। भगवान स्वामीनारायण की कृपा और हमारे संतों का स्नेह, संतों का आशीर्वाद, मेरा सौभाग्य है कि मुझे ऐसे पुण्य अवसरों से जुड़ने का अवसर हमेशा मिलता रहता है। आज भी मैं भले ही पेरिस में आप सबके बीच उपस्थित नहीं हूं, लेकिन मन से और हृदय से, मैं स्वयं को आपके बीच ही अनुभव कर रहा हूं।

साथियों,

आज इस अवसर पर मैं परम पूज्य प्रमुख स्वामी जी महाराज का भी श्रद्धापूर्वक स्मरण करता हूं। प्राचीन काल में भारत का जो सांस्कृतिक आध्यात्मिक वैभव था, उन्होंने उसके पुनर्जागरण का एक अभियान शुरू किया था। आज उसका प्रकाश यूरोप समेत पूरी दुनिया में फैल रहा है। 2024 में अबू धाबी में भव्य मंदिर का लोकार्पण हुआ था। आज वहां हजारों लोग दर्शन करने जाते हैं और अब यहां पेरिस में स्वामीनारायण मंदिर का निर्माण सृजन की यह निरंतरता, यह संतों की संकल्प शक्ति का ही प्रमाण है। मैं पुनीत कार्य के लिए पूज्य महंत स्वामी का आभार प्रकट करता हूं, मैं उनके चरणों में प्रणाम करता हूं। मैं BAPS स्वामीनारायण संस्था को और करोड़ों हरि भक्तों को इस अवसर पर हृदय की गहराई से बधाई देता हूं।

साथियों,

BAPS के माध्यम से जब अलग-अलग देश में मंदिरों की प्राण प्रतिष्ठा होती है, तो वहां भारत के प्राचीन विचार और मानवीय मूल्य भी साथ-साथ ही जाते हैं और भारत का विचार कहता है ‘समानं मनः सह चित्तमेषाम्’ अर्थात हमारे मन समान हो, हमारे हृदय साथ जुड़े। इसलिए आज जब फ्रांस में इतना भव्य मंदिर बनकर तैयार हुआ है, यह फ्रांस की विविधता को तो समृद्ध करेगा ही, इससे भारत और फ्रांस के सांस्कृतिक संबंधों को भी ऊर्जा मिलेगी।

साथियों,

बीते वर्षों में भारत और फ्रांस के संबंध नई ऊंचाइयों तक पहुंचे हैं। मेरे मित्र, प्रेसिडेंट मैक्रों के साथ मिलकर दोनों देश एक Special Global Strategic Partnership बना रहे हैं। Technology, AI और Defence से लेकर Space और Climate Action तक हम एक नई गति और नई ऊर्जा के साथ मिलकर के आगे बढ़ रहे हैं। हम 2026 को India-France Year of Innovation के रूप में भी सेलिब्रेट कर रहे हैं। भारत-फ्रांस की ये Strategic Partnership इसलिए भी खास है, क्योंकि ये हमारे पुराने सांस्कृतिक-राजनैतिक सम्बन्धों की मजबूत बुनियाद पर टिकी है। इतिहास गवाह है, फ्रांस में भारतीय सैनिकों के बलिदान का इतिहास आज भी मन-मंदिर में जीवित है। भाषा से जुड़े विषयों में रुचि रखने वाले लोग यह भी जानते हैं कि फ्रेंच स्कॉलर्स ने संस्कृत को लोकप्रिय बनाने में कितनी अहम भूमिका निभाई है। रामकृष्ण परमहंस और स्वामी विवेकानंद पर रोमाँ रोलाँ की की लेखनी हमारी सोसाइटीज़ को और करीब लाई है। पेरिस से पुडुचेरी के अरबिंदो आश्रम तक 'The mother' की spiritual journey, उसने कितने ही भारतीय और फ्रेंच साधकों को inspire किया है।

साथियों,

दशकों पहले श्रील प्रभुपाद स्वामी भी फ्रांस आए थे। इस्कॉन के जरिए भारत फ्रांस के बीच आध्यात्मिक सम्बन्धों का नया अध्याय उन्होंने शुरू किया था। आज योग भी भारत-फ्रांस के people to people कनेक्ट का एक माध्यम बन चुका है। 'इंटरनेशनल योगा डे' पर एफिल टॉवर के सामने से आने वाली तस्वीरें फ्रांस में योग की लोकप्रियता का उदाहरण बनती हैं और अब BAPS के इस भव्य मंदिर के जरिए, हमारे उन सांस्कृतिक सम्बन्धों में एक नया अध्याय जुड़ रहा है।

साथियों,

इन दिनों, भारत फ्रांस Joint Ventures की संभावनाओं पर बातें होती हैं। स्वामीनारायण मंदिर ने इस संभावना में भी एक नया आयाम जोड़ा है। यह मंदिर 'मेड इन इंडिया' है और 'बिल्ट इन फ्रांस' है। इसके काफी पत्थरों को भारत में तराशा गया है। भारत की प्राचीन प्रतिभा यहाँ फ्रांस में आधुनिक इंजीनियरिंग से आकर जुड़ चुकी है। पेरिस में इस भव्य मंदिर ने आकार लिया है। इसलिए, मैं आशा करता हूँ, यह मंदिर सदियों तक भारत और फ्रांस के बीच सहयोग और संभावनाओं का भी प्रतीक बनकर उभरेगा।

साथियों,

स्वामीनारायण मंदिर हमेशा से भक्ति के साथ-साथ सेवा का माध्यम भी रहे हैं। मुझे बताया गया है, यह मंदिर भी सेवा प्रकल्पों का वैसा ही केंद्र बनेगा। मुझे विश्वास है कि यहाँ से भारतीय संस्कृति के जो स्वर निकलेंगे, उनका लाभ पूरे यूरोप में लोगों को मिलेगा। भविष्य में मुझे जब भी समय मिलेगा, मैं इस मंदिर में दर्शन करने का प्रयास अवश्य करूंगा। इन्हीं शब्दों के साथ, एक बार फिर आज के इस लोकार्पण समारोह में सम्मिलित सभी अतिथिगणों को, सभी परिवारों को, सभी हरि भक्तों को और पूरी Indian Diaspora को मेरी ओर से इस शुभारंभ पर्व की ढेरों शुभकामनाएं!

बहुत-बहुत धन्यवाद!

मर्सी बोकू!

जय स्वामीनारायण!