নমস্কার,

আজ আপনাদের সকলের সঙ্গে দেখা করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আপনারা জাপানের শক্তি এবং বৈচিত্র্যের জীবন্ত প্রতিমূর্তি।

আমি এই ঘরে সাইতামার গতি, মিয়াগির স্থিতিস্থাপকতা, ফুকুওকার প্রাণবন্ততা এবং নারার ঐতিহ্য অনুভব করতে পারছি। আপনাদের সকলের মধ্যে কুমামোটোর উষ্ণতা, নাগানোর সতেজতা, শিজুওকার সৌন্দর্য এবং নাগাসাকির স্পন্দন রয়েছে। আপনারা সকলেই ফুজি পর্বতের শক্তি এবং সাকুরার চেতনার প্রতীক। একসঙ্গে, আপনারা জাপানকে কালজয়ী করে তুলুন।

মাননীয়গণ,

ভারত ও জাপানের মধ্যে গভীর বন্ধন হাজার হাজার বছর আগের। আমরা ভগবান বুদ্ধের করুণার দ্বারা সংযুক্ত। বাংলার রাধাবিনোদ পাল 'টোকিও ট্রায়াল'-এ 'কৌশলের' উপরে 'ন্যায়বিচার'কে স্থান দিয়েছিলেন। তাঁর অদম্য সাহসের দ্বারা আমরা পরষ্পরের সঙ্গে যুক্ত রয়েছি।

গত শতাব্দীর গোড়ার দিকে আমার নিজ রাজ্য গুজরাটের হীরা ব্যবসায়ীরা কোবে-তে এসেছিলেন। হামা-মাতসুর কোম্পানি ভারতের অটোমোবাইল সেক্টরে বিপ্লব এনেছিল। উভয় দেশের এই উদ্যোক্তা মনোভাব আমাদের সংযুক্ত করেছে।

এই ধরণের অনেক গল্প, অনেক সম্পর্ক ভারত ও জাপানকে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করেছে। আজ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পর্যটন, নিরাপত্তা, দক্ষতা এবং সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এসব সম্পর্কের নতুন নতুন অধ্যায় লেখা হচ্ছে। এই সম্পর্কগুলি শুধুই টোকিও বা দিল্লির করিডোরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই সম্পর্কগুলি ভারত ও জাপানের জনগণের চিন্তাভাবনায় বেঁচে আছে।

মাননীয়গণ,

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে, আমি প্রায় দেড় দশক ধরে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এবং এই সময়ে, আমার জাপান সফরের সৌভাগ্যও হয়েছিল। আমি আমাদের রাজ্য এবং আপনাদের প্রিফেকচারগুলির সম্ভাবনাগুলি ঘনিষ্ঠভাবে অনুভব করেছি।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে, আমার লক্ষ্য ছিল নীতি-চালিত শাসন, শিল্পের প্রচার, শক্তিশালী পরিকাঠামো নির্মাণ এবং বিনিয়োগের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। আজ, এটি 'গুজরাট মডেল' নামেও পরিচিত।

২০১৪ সালে, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর, আমি এই চিন্তাভাবনাকে জাতীয় নীতির অংশ করেছিলাম। আমরা আমাদের রাজ্যগুলিতে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব পুনরুজ্জীবিত করেছি। আমরা তাদেরকে জাতীয় প্রবৃদ্ধির জন্য এক একটি প্ল্যাটফর্ম করে তুলেছি। জাপানের প্রিফেকচারগুলির মতো, ভারতের প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব পরিচয়, নিজস্ব বিশেষত্ব রয়েছে। তাদের এলাকা ভিন্ন। কিছু উপকূলীয়, অন্যগুলি আবার পাহাড়ের কোলে অবস্থিত।

আমরা আমাদের বৈচিত্র্যকে লভ্যাংশে পরিণত করার জন্য কাজ করেছি। প্রতিটি জেলার অর্থনীতি এবং পরিচয়কে উন্নীত করার জন্য, আমরা "এক জেলা - এক পণ্য" আন্দোলন শুরু করেছি। অনুন্নত জেলা এবং ব্লকগুলির জন্য, আমরা উচ্চাকাঙ্ক্ষী জেলা এবং ব্লক প্রোগ্রাম চালু করেছি। প্রত্যন্ত সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিকে মূলধারার সঙ্গে সংযুক্ত করার জন্য, আমরা প্রাণবন্ত গ্রাম প্রোগ্রাম শুরু করেছি। আজ, এই জেলা এবং গ্রামগুলি জাতীয় প্রবৃদ্ধির নতুন কেন্দ্র হিসাবে আবির্ভূত হচ্ছে।

মাননীয়গণ,

আপনাদের জেলাগুলি প্রযুক্তি, উৎপাদন এবং উদ্ভাবনের প্রকৃত শক্তিধর। তাদের মধ্যে কিছু জেলা সমগ্র দেশের চেয়েও বড় অর্থনীতির অধিকারী। এর অর্থ হল আপনারও সমানভাবে বড় দায়িত্ব রয়েছে।

আপনাদের প্রচেষ্টার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভবিষ্যৎ গড়ে উঠছে। অনেক ভারতীয় রাজ্য এবং জাপানি প্রিফেকচার ইতিমধ্যেই অংশীদারিত্বের ভাগীদার, যেমন:

গুজরাট এবং শিজুওকা,
উত্তরপ্রদেশ এবং ইয়ামানাশি,
মহারাষ্ট্র এবং ওয়াকায়ামা,
অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তোয়ামা।

তবে, আমি বিশ্বাস করি যে এই অংশীদারিত্ব কেবল কাগজে কলমে থাকা উচিত নয়। কাগজ থেকে মানুষের সমৃদ্ধিতে রূপান্তরিত করতে হবে।

আমরা চাই ভারতীয় রাজ্যগুলি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হোক। এই বিষয়টি মাথায় রেখে, প্রধানমন্ত্রী ইশিবা এবং আমি গতকাল রাজ্য - প্রিফেকচার পার্টনারশিপ ইনিশিয়েটিভ চালু করেছি। আমাদের লক্ষ্য হল প্রতি বছর কমপক্ষে তিনটি ভারতীয় রাজ্য এবং তিনটি জাপানি প্রিফেকচারের প্রতিনিধিদল একে অপরের দেশ সফর করবে। আমি আপনাদের সকলকে এই উদ্যোগের অংশ হতে এবং ভারত সফরের জন্য আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

ভারতের রাজ্য এবং জাপানের প্রিফেকচারগুলিকে আমাদের ভাগ করা অগ্রগতির সহ-পাইলট হিসেবে কাজ করতে দিন।

আপনার প্রদেশ কেবল বৃহৎ কোম্পানিগুলির জন্যই নয় বরং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং স্টার্ট-আপগুলির জন্যও উর্বর ভূমি প্রদান করে। একইভাবে, ভারতে, ছোট শহরগুলির স্টার্ট-আপ এবং এমএসএমইগুলি দেশের প্রবৃদ্ধির গল্পকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

যদি জাপান এবং ভারতের এই প্রাণবন্ত বাস্তুতন্ত্র একত্রিত হয় –

ধারণা প্রবাহিত হবে,
নতুনত্ব বৃদ্ধি পাবে,
এবং সুযোগগুলি উন্মোচিত হবে!

আমি আনন্দিত যে এই চিন্তাভাবনা মাথায় রেখে, কানসাইতে একটি বিজনেস এক্সচেঞ্জ ফোরাম চালু করা হচ্ছে। এটি কোম্পানিগুলির মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করবে, নতুন বিনিয়োগ আনবে, স্টার্টআপ অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করবে এবং দক্ষ পেশাদারদের জন্য আরও সুযোগ তৈরি করবে।

মাননীয়গণ,

যখন তরুণ মন একত্রিত হয়, তখন মহান জাতিগুলি একত্রিত হয়।

জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি বিশ্বখ্যাত। আরও ভারতীয় ছাত্রদের এখানে পড়াশোনা করতে, শিখতে এবং অবদান রাখতে উৎসাহিত করার জন্য, আমরা গতকাল প্রধানমন্ত্রী ইশিবার সঙ্গে একটি কর্ম পরিকল্পনা চালু করেছি। এই পরিকল্পনার আওতায়, আগামী ৫ বছরে, ৫ লক্ষ ব্যক্তি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এর পাশাপাশি, ৫০,০০০ দক্ষ ভারতীয় পেশাদার জাপানে আসবেন। জাপানের প্রিফেকচারগুলি এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমি নিশ্চিত যে এই প্রচেষ্টায় আমরা আপনাদের সমর্থন পাবো।

মাননীয়গণ,

আমি আশা করি যে আমাদের দেশদুটি একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি, প্রত্যেক প্রিফেকচার এবং প্রত্যেক ভারতীয় রাজ্য নতুন শিল্প তৈরি করবে, নতুন দক্ষতা বিকাশ করবে এবং তার জনগণের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

টোকিও এবং দিল্লি নেতৃত্ব দিতে পারে।

কিন্তু,

কানাগাওয়া এবং কর্ণাটককে কণ্ঠ দিতে দিন।

আইচি এবং আসামকে একসাথে স্বপ্ন দেখতে দিন।

ওকায়ামা এবং ওড়িশাকে ভবিষ্যত গড়তে দিন।

আপনাদের অনেক ধন্যবাদ।

আরিগাতো গোজাইমাসু।

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
The entrepreneurs building a self-reliant India

Media Coverage

The entrepreneurs building a self-reliant India
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
সোশ্যাল মিডিয়া কর্নার 21 জুলাই 2026
July 21, 2026

Self-Reliance Is No Longer a Slogan — It’s Happening Across Engines, UPI, Vaccines & FDI Under the Leadership of PM Modi