নেসেটে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

Published By : Admin | February 25, 2026 | 20:20 IST

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু,
নেসেটের অধ্যক্ষ শ্রী আমীর ওহানা,
মাননীয় বিরোধী দলনেতা শ্রী ইয়াইর লাপিদ,
নেসেটের সম্মানীয় সদস্যবৃন্দ,
আমার প্রিয় বোন ও ভাইয়েরা,
সালোম!
নমস্কার!
শ্রদ্ধেয় সদস্যবৃন্দ, 
এই পবিত্র সদনে উপস্থিত হয়ে আমি নিজেকে ভাগ্যবান ও সম্মানিত বোধ করছি। ভারতের প্রধাবমন্ত্রী হিসেবে এবং প্রাচীন এক সভ্যতার প্রতিনিধি হিসেবে আমি এখানে উপস্থিত হয়েছি, অন্য এক প্রাচীন সভ্যাতার প্রতিনিধিদের সামনে বক্তব্য রাখার জন্য। আমি ১৪০ কোটি ভারতবাসীর পক্ষ থেকে আপনাদের শুভেচ্ছা জানাই। আমি ভ্রাতৃত্ব, সম্মান এবং অংশীদারিত্বের বার্তা নিয়ে আপনাদের কাছে এসেছি।

 

অধ্যক্ষ মহোদয় আপনার আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ। ভারতীয় রঙে নেসেটকে আলোকিত করার সুন্দর একটি ভাবনাকে আপনি বাস্তবায়িত করেছেন। নেসেটের অধ্যক্ষ হিসেবে প্রথম কেউ ভারত সফর করেন তিন বছর আগে। সেটি ছিলেন আপনি। সম্মানিত এই সমাবেশে প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বক্তব্য রাখার সুযোগ করে দেওয়ায় আপনাকে ধন্যবাদ জানাই।  

৯ বছর আগে প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইজ্রায়েল সফর করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত আবারও এখানে আসার সুযোগ পেয়ে। এই দেশের প্রতি বিশেষ এক অনুভূতি রয়েছে। ভারত যেদিন আনুষ্ঠানিকভাবে ইজ্রায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, ১৯৫০ সালে ১৭ সেপ্টেম্বরেই আমার জন্ম হয়।  

 

শ্রদ্ধেয় সদস্যবৃন্দ,

আমি “৭ অক্টোবর” হামাস যে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছিল, যে হামলায় সারা বিশ্ব স্তম্ভিত হয়ে গেছিল, সেই হামলায় যারা প্রাণ হারান, স্বজনহারা সেই পরিবারগুলিকে ভারতবাসীর পক্ষ থেকে আমি গভীর সমবেদনা জানাই। আপনাদের যন্ত্রণা আমরাও অনুভব করতে পারি। আপনাদের বেদনার শরিক আমরা। ভারত ইজ্রায়েলের পাশে এই মুহুর্তে এবং সব সময় দৃঢ়ভাবে থাকবে।

নিরীহ নাগরিকদের হত্যা করার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। সন্ত্রাসবাদকে সহায়তা করার কোনো কারণ থাকতে পারে না। 

ভারতও দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদের যন্ত্রণা অনুভব করে। ২৬/১১ মুম্বই হানার কথা আমরা ভুলিনি। সেই হামলায় ইজ্রায়েলি নাগরিক সহ অনেক নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আপনাদের মতো আমরাও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্দে আপোসহীন নীতি সর্বদা অনুসরণ করি। দুমুখো নীতি আমরা অপছন্দ করি। 

সমাজকে অস্থির করে তোলা, উন্নয়নকে বাধা দেওয়া এবং বিশ্বাসের অবক্ষয় ঘটানোই জঙ্গীবাদের মূল লক্ষ্য। আজ জঙ্গীবাদ বিশ্বের সর্বত্র শান্তি বিনষ্ট করছে। এর মোকাবিলা করা জন্য সারা বিশ্ব জুড়ে সুস্থায়ী এবং সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে তাই চিরস্থায়ী শান্তি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যই যেকোনও উদ্যোগকেই ভারত সবসময় সমর্থন করে। 

বছর কয়েক আগে আপনারা আব্রাহাম চুক্তি বাস্তবায়ন করেছেন। আপানদের সাহস ও দূরদর্শিতাকে আমরা প্রশংসা করি। দীর্ঘদিন ধরে অশান্তকর এই চুক্তি আশার আলো এনেছে। তার পর থেকে পরিস্থিতির যথেষ্ঠ পরিবর্তন হয়েছে। পরিস্থিতি এখনও যথেষ্ঠ চ্যালেঞ্জিং। তবে আশা ছাড়লে চলবে না। 

 

রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ গাজা শান্তি উদ্যোগকে সমর্থন করছে। ভারতও এই উদ্যোগকে সমর্থন করে। আমরা বিশ্বাস করি, এই উদ্যোগ প্যালেস্টাইন ইস্যুর সমাধান করবে এবং এই অঞ্চলের মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদী শান্তি নিশ্চিত করবে।
আসুন আমরা সকলে প্রজ্ঞা, সাহস এবং মানবতাকে অনুসরণ করি। শান্তি অর্জনের পথ কখনওই সহজ হয়না। ভারত এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতবস্থার জন্য সমগ্র বিশ্ব এবং আপনাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।

মাননীয় সদস্যবৃন্দ,
ইজ্রায়েলের সংকল্প, সাহস ও সাফল্যে ভারত গুণমুগ্ধ। বহু যুগ আগে যখন আমরা আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করি নি সেই সময় থেকেই আমাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। এটি ২০০০ বছরেরও পুরনো এক সম্পর্ক এস্থারের বইতে ভারতকে হোদু বলে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রাচীন যুগে ভারতের সঙ্গে এদেশের যে ব্যবসা বাণিজ্য চলত তা তালমুদ নথি থেকে আমরা জানতে পারি।

ইহুদি ব্যবসায়ীরা সমুদ্রপথে ভূমধ্য সাগর থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত যাতায়াত করতেন। তারা মর্যাদার সঙ্গে বিভিন্ন সুযোগকে কাজে লাগাতেন। ভারতেও তাঁরা আমাদের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলেন। 

ভারতে যে ইহুদি সম্প্রদায়ের মানুষরা বসবাস করেন, তাঁরা সেখানে কোনও ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হননা। নিজেদের বিশ্বাসে অটুট থেকে সমাজে সবরকমের উদ্যোগে তারা যুক্ত হন। আমাদের জন্য যা অত্যন্ত গর্বের।

মাননীয় সদস্যবৃন্দ,
মহারাষ্ট্রের বেন ইজ্রায়েল, কেরালামের কোচিনি ইহুদি, কলকাতা ও মুম্বইয়ের বাগদাদী ইহুদি এবং উত্তর পূর্ব ভারতের নেই মেনাসেরা ভারতকে সমৃদ্ধ করেছে। আমার নিজের রাজ্য গুজরাটে মিস্টার অ্যান্ড মিসেস বেস্ট – যাঁরাবে ইজ্রায়েলি পরিবারের সদস্য, একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। নিঃসন্দেহে এই স্কুল সেরা বিদ্যালয় হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

মহারাষ্ট্রের বেন ইজ্রায়েল, কেরালামের কোচিনি ইহুদি, কলকাতা ও মুম্বইয়ের বাগদাদী ইহুদি এবং উত্তর পূর্ব ভারতের নেই মেনাসেরা ভারতকে সমৃদ্ধ করেছে। আমার নিজের রাজ্য গুজরাটে মিস্টার অ্যান্ড মিসেস বেস্ট – যাঁরাবে ইজ্রায়েলি পরিবারের সদস্য, একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। নিঃসন্দেহে এই স্কুল সেরা বিদ্যালয় হিসেবে বিবেচিত হয়।

এডুইন মেয়ার্স ভারতের চলচ্চিত্র শিল্পকে গড়ে তুলতে সহায়তা করেছেন। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে তিনি ছিলেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক ব্যক্তিত্ব। আমেদাবাদের কাঁকারিয়া চিড়িয়াখানার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ডঃ রিউবেন ডেভিড। ডেভিড অ্যাব্রাহাম চেউলকর বা আঙ্কেল ডেভিড ভারতে অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেতা। আকাশবাণীর সিগনেচার টিউন তৈরি করেছিলেন ভাল্টার কাউফমান। ডেভিড সাসন বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন । যেগুলি আজও ভারতীয় সমাজে নানা ধরণের কাজের সঙ্গে যুক্ত।
 
লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেএফ আর জেকব পাকিস্থানের সঙ্গে ১৯৭১ –এর যুদ্ধে যে ভূমিকা পালন করেছেন চা আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। তাঁর অবসর গ্রহণের পর আমি নিজে তাঁর সঙ্গে কাজ করেছি। চা খেতে খেতে আমরা ভারত ও ইজ্রায়েলের সম্পর্ক সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। ভারতের সমৃদ্দ জীবনযাত্রায় ইহুদিদের অগণিত ভূমিকা রয়েছে। 

শ্রদ্ধেয় সদস্যবৃন্দ, 

ভারতেও একসময় ইজ্রায়েল নিয়ে আন্দোলন হয়েছে। বিংশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে অনেক ভারতীয় ইহুদি ইজ্রায়েল চলে গেছেন। আজ এখানে একটি প্রাণবন্ত ভারতীয় বংশোদ্ভূত ইহুদি সম্প্রদায়ের সদস্যরা বসবাস করেন।তাঁরা আধুনিক ইজ্রায়েল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পরীক্ষাগার, হাসপাতাল, ক্লাসরুম এবং যুদ্ধ ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে তাদের। এঁরা ইজ্রায়েলকে পিতৃভূমি এবং ভারতকে মাতৃভূমি হিসেবে বিবেচনা করেন। আমরা এদের জন্য গর্বিত।

মাননীয় সদস্যবৃন্দ,
এই দেশের সঙ্গে রক্ত এবং আত্মবলিদানের বিনিময়ে ভারতের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।  প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়, এই অঞ্চলে চার হাজারেরও বেশি ভারতীয় সৈন্য তাদের জীবন উৎসর্গ করেন। ১৯১৮ সালের সেপ্টেম্বরে হাইফায় অশ্বারোহী বাহিনীর আক্রমণ সামরিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।  

মেজর ঠাকুর দলপত সিংকে হাইফার বীর হিসেবে স্মরণ করা হয়।  এই অভিন্ন ইতিহাসের তিনি অন্যতম অংশীদার। আমার শেষ সফরের সময়, আমি হাইফা স্মৃতিসৌধে ভারতীয় সৈন্যদের শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলাম। 

মাননীয় সদস্যবৃন্দ,

গত মাসে, সমগ্র বিশ্ব আন্তর্জাতিক হলোকস্ট স্মারক দিবস পালন করেছে। হলোকস্ট মানবতার সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়গুলির মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত। তবুও, অস্থির সেই সময়কালে মানবিক কিছু কাজ আজও আলোচিত হয়। গুজরাটের নয়ানগরের মহারাজা, জাম সাহেব নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি সেই সময় পোলিশ শিশুদের আশ্রয় দিয়েছিলেন, যার মধ্যে ইহুদি শিশুরাও ছিল, যাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা ছিল না। সম্প্রতি মোশাভ নেভাতিমে জাম সাহেবের একটি মূর্তি উন্মোচন করা হয়েছে বলে শুনেছি।   
এভাবে মনে করে সম্মান জানানোর জন্য আপনাদের আন্তরিক ধন্যবাদ।   

  মাননীয় সদস্যবৃন্দ,
ভারতের স্বাধীনতা লাভের পর, অনেক ভারতীয় নেতা ইজ্রায়েলের জনগণের প্রতি আত্মীয়তা অনুভব করেছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে ভারতের সংসদে বিভিন্ন বিতর্ক নিয়ে আলোচনার সময়  মরুভূমিতে কৃষি উন্নয়নের জন্য   ইজ্রায়েলের প্রচেষ্টাকে প্রশংসা করা হয়েছে। ইজ্রায়েলের কিব্বুৎজ আন্দোলন আচার্য বিনোবা ভাবে এবং লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণের মতো আমাদের নেতাদের অনুপ্রাণিত করে। প্রথমে আমার নিজের রাজ্য গুজরাটে, এবং এখন ভারত জুড়ে, আমি "প্রতি ফোঁটায়, আরও ফসল" পদ্ধতি অনুসরণ করার পরামর্শ দিই, এর ফল বিস্ময়কর। 

 

২০০৬ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি প্রথমবার ইজ্রায়েল সফর করি। পরবর্তীতে, ২০১৭ সালে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার ইজ্রায়েল সফরের সময়, আমাদের দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করে। তারপর থেকে, আমাদের সম্পর্ক আরও প্রসারিত হয়েছে। আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই সম্পর্ককে আরও সুসংহত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। 

  মাননীয় সদস্যবৃন্দ,
গত কয়েক বছর ধরে, ভারত বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। শীঘ্রই, আমরা বিশ্বের প্রথম তিনটি অর্থনীতির মধ্যে স্থান করে নেব। একই সঙ্গে, ইজ্রায়েল উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে দিচ্ছে। ভবিষ্যৎমুখী অংশীদারিত্বের জন্য এর ফলে স্বাভাবিক এক ভিত্তি গড়ে ওঠে। 

আমরা ব্যবসা বাণিজ্যর সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা এবং যৌথ পরিকাঠামো গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত বছর স্বাক্ষর হওয়া দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলিকে আস্থা যোগাবে।
 
গত কয়েক বছরে, ভারত বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন করেছে। আপনাদের পশ্চিমে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ব্রিটেন। আপনাদের পূর্বে রয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং ওমান।   

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আমাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু, এখনো সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণ কাজে লাগানো হয় নি। এই কারণেই আমাদের দেশের প্রতিনিধিদলগুলি একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী অবাধ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে। এর ফলে আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন নতুন সম্ভাবনা তৈরী হবে।   

আমরা ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর এবং ভারত, ইজ্রায়েল, সংযুক্ত আরব আমীরশাহী এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে I2U2 কাঠামোর মতো বিভিন্ন ফর্ম্যাটে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করব। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা আমাদের অংশীদারিত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। গত বছরের নভেম্বরে, আমরা প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা পত্র স্বাক্ষর করেছি। বর্তমান  অনিশ্চিত এই সময়কালে পৃথিবীর জন্য, ভারত এবং ইজ্রায়েলের মতো বিশ্বস্ত অংশীদারদের মধ্যে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

মাননীয় সদস্যবৃন্দ,

ইজ্রায়েলকে প্রায়শই "স্টার্ট-আপ জাতি" হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, আমরা আমাদের যুবসমাজের উদ্ভাবন এবং সৃজনশীল শক্তিকে কাজে লাগানোর জন্য উদ্যোগী হয়েছি।  আমার মনে আছে ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং আমি ভারতে প্রযুক্তি ভিত্তিক ব্যবসা ইনকিউবেটর iCreate-এর উদ্বোধন করেছিলাম। তারপর থেকে, এটি প্রায় ৯০০ স্টার্ট-আপকে সহায়তা করেছে।     

গত সপ্তাহে, আমরা বিশ্বের বৃহত্তম এআই ইমপ্যাক্ট সামিট আয়োজন করেছি। এই শীর্ষ
সম্মেলনে  ১০০ টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই ইসরায়েলের উদ্ভাবনী ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমি কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ক্ষেত্রে বহু সমন্বয় প্রত্যক্ষ করছি। আমরা আমাদের ডিজিটাল সরকারি পরিকাঠামো ব্যবহার করে অন্য দেশের সঙ্গে আর্থিক যোগাযোগ গড়ে তুলতে ইজ্রায়েলের সঙ্গে কাজ করছি।    

মাননীয় সদস্যবৃন্দ,

আমি আগেই বলেছি মরুভূমিতে ইজ্রায়েল  কৃষিকাজে যে সাফল্য অর্জন করেছে, তাতে আমরা কতটা অনুপ্রাণিত হয়েছি। যথাযথ সেচ এবং জল ব্যবস্থাপনায় ইজ্রায়েলি দক্ষতা ইতিমধ্যেই ভারতে কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়েছে।  
আমরা একযোগে ভারত জুড়ে ৪৩টি উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ে তুলেছি, যেখানে পাঁচ লক্ষেরও বেশি কৃষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আমাদের এখন লক্ষ লক্ষ কৃষক এবং মৎস্যজীবীদের উপকারের জন্য ১০০টি কেন্দ্র গড়ে তুলবার  উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। 

মাননীয় সদস্যবৃন্দ,
ভারত-ইজ্রায়েল অংশীদারিত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক। ২০০৬ সালে যখন আমি প্রথম ইজ্রায়েল সফর করি, তখন এ দেশে হাতে গোনা গুটিকয় কয়েকটি যোগ কেন্দ্র ছিল। আজ, এখানে প্রায় প্রতিটি পাড়ায় যোগব্যায়াম অনুশীলন করা হয়!
 
আমি শুনলাম ইজ্রায়েলেও আয়ুর্বেদের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। আমি আরও বেশি সংখ্যক তরুণ ইজ্রায়েলিদের ভারত ভ্রমণের জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আপনারা আমাদের সমাজের গতিশীলতা প্রত্যক্ষ করুন, তাহলে শরীর ও মনের সামগ্রিক সুস্থতার ক্ষমতার বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারবেন।  

আমি এই মহান সদনে আনন্দের সাথে জানাচ্ছি ভারতীয় সংসদ ইজ্রায়েলের জন্য একটি সংসদীয় সৌহার্দ্য গোষ্ঠী গঠন করেছে। আমি আপনাদের সকলকে ভারতে  আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি এবং আমাদের সাংসদদের সঙ্গে আরও মতবিনিময়ের প্রত্যাশা করি।   

আমি জানি যে ইজ্রায়েলে ভারতীয় সেবিকা এবং দক্ষ কর্মীরা  এদেশের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ৭ অক্টোবর সহ বিভিন্ন সংকটের সময়ে তারা অসাধারণ সাহস এবং নিষ্ঠা প্রদর্শন করেছেন। আমরা তাদের জন্য গর্বিত।  

ইহুদি শিক্ষা যেমন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, "যিনি একজনের জীবন রক্ষা করেন, তিনি আসলে সমগ্র বিশ্বকে বাঁচান।" তাদের পরিসেবা আমাদের সহযোগিতামূলক সম্পর্কের আড়ালে থাকা মানবিক বন্ধনের শক্তির প্রতিফলন। আমরা দুই দেশের সুবিধা হবে, এ ধরনের বিভিন্ন ক্ষেত্রের কর্মী এবং পেশাদারদের ব্যক্তিত্বদের যাওয়া আসার ক্ষেত্রে কোন সমস্যা যাতে না হয়, সেই বিষয়টি বজায় রাখব।     

মাননীয় সদস্যবৃন্দ,
আমাদের দুই দেশেরই সভ্যতা প্রাচীন । আমাদের সভ্যতাগুলির নানান ঐতিহ্যর মধ্যে যে সাদৃশ্য থাকবে, সেটিই স্বাভাবিক। ইজ্রায়েলে, ‘টিক্কুন ওলাম’ বিশ্বকে রোগমুক্ত থাকার কথা বলে। ভারতের, বসুধৈব কুটুম্বকম-এর ভাবনা হল, সমগ্র বিশ্ব একটি পরিবার। উভয় ধারণাই তাৎক্ষণিক সীমানা ছাড়িয়ে দায়িত্বকে প্রসারিত করে, যেখানে সমাজকে করুণা এবং নৈতিক সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়।    

ইহুদি ধর্ম হালাখার উপর গুরুত্ব আরোপ করে।  আইন এবং নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণের মাধ্যমে দৈনন্দিন আচরণকে নির্দেশ করে। হিন্দু দর্শন ধর্মের কথা বলে। কর্তব্য এবং সঠিক কাজের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।  উভয় ঐতিহ্যেই, কাজের মাধ্যমে নৈতিক জীবনযাপনের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।  

আমাদের উৎসবগুলিতেও মিল রয়েছে। আপনারা মোমবাতির নরম আলোয় হনুক্কা উদযাপন করেন। প্রায় একই সময়ে, আমরা আলোর উৎসব দীপাবলি প্রদীপের মৃদু আলোর সাহায্যে পালন করি। শীঘ্রই, ভারত আনন্দ ও রঙের উৎসব হোলি উদযাপন করবে। প্রায় একই সময়ে, ইজ্রায়েলও উৎসাহ এবং আনন্দের সঙ্গে পুরিম উদযাপন করবে। 

মাননীয় সদস্যবৃন্দ,

আমাদের অভিন্ন আদর্শই আধুনিক যুগে আমাদের অংশীদারিত্বের মূল ভিত্তি যা আমাদের এই অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতের চাহিদার কথা বিবেচনা করে আমাদের গণতন্ত্র। অভিন্ন অভিজ্ঞতা এবং আকাঙ্ক্ষার উপর ভিত্তি করে আমাদের অংশীদারিত্ব  গড়ে ওঠে। আমাদের শক্তিশালী অংশীদারিত্ব কেবল জাতীয় স্বার্থই পূরণ করে না, বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধিতেও অবদান রাখে।  

ভারত ও ইজ্রায়েলের মধ্যে সৌহার্দ্য অনিশ্চিত এক পৃথিবীতে শক্তির উৎস হয়ে থাকবে, আসুন আমরা সেটি নিশ্চিত করি।  

আম ইস্রায়েল চাই।
জয় হিন্দ। 

ধন্যবাদ। 

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
From China's shadow to Made-in-India toys: Imports fall 71% as Centre targets 25% global share

Media Coverage

From China's shadow to Made-in-India toys: Imports fall 71% as Centre targets 25% global share
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Text of Prime Minister's Address at the India-New Zealand Business Event
July 11, 2026

Your Excellency, Prime Minister क्रिस्टोफर लक्सन,

भारत और न्यूज़ीलैंड के business leaders,

नमस्कार

किया ओरा

ऑकलैंड में आप सबके बीच आकर मुझे बहुत प्रसन्नता हो रही है। मैं प्रधानमंत्री लक्सन का, उनके सकारात्मक विचारों और भारत के प्रति उनकी गहरी प्रतिबद्धता के लिए विशेष आभार व्यक्त करता हूँ।

आप सभी की उपस्थिति न्यूज़ीलैंड की innovation, enterprise और future-oriented सोच का प्रतीक है। भारत की ओर से, मैं 140 करोड़ लोगों की aspirations और ambitions का संदेश लेकर आया हूँ।

Friends,

यह बैठक ऐसे समय में हो रही है जब भारत और न्यूज़ीलैंड के संबंध एक turning point पर हैं। आज हम अपने संबंधों को Strategic Partnership के सूत्र में बांध रहे हैं। यह केवल एक diplomatic milestone नहीं है। यह हमारे साझा भविष्य का एक नया संकल्प है।

इस वर्ष दोनों देशों के बीच नौ महीनों के रिकॉर्ड समय में Free Trade Agreement किया गया। यह आप सभी के लिए market access, investment, services, technology और talent mobility के नए अवसर लेकर आएगा। मुझे विश्वास है कि नए जोश और उत्साह के साथ काम करते हुए हम 2030 तक द्विपक्षीय व्यापार को दोगुना बढ़ाएंगे।

न्यूज़ीलैंड द्वारा अगले पंद्रह वर्षों में भारत में बीस बिलियन डॉलर का investment commitment किया गया है। यह केवल निवेश का ही नहीं, बल्कि भारत की विकास यात्रा में सहभागी बनने का भी commitment है।

Friends,

आज भारत दुनिया की fastest-growing major economy है। हमारी बढ़ती मिडल क्लास, large scale digital adoption और इंफ्रास्ट्रक्चर push, भारत को एक unique growth story बनाते हैं।

भारत में हमने reform, perform और transform को governance का आधार बनाया है। आज भारत में policy stability है, political stability है, और growth की continuity है।

इसलिए आज विश्व को हमारा संदेश है: India is not only a market; India is a launchpad for global growth.

भारत में बन रहे इन अवसरों का लाभ उठाने के लिए मैं कुछ उदाहरण आपके सामने रखना चाहूँगा। भारत में manufacturing को बढ़ावा देने के लिए हमने Production Linked Incentive scheme शुरू की है। इसके अंतर्गत food processing से लेकर textiles जैसे 14 sectors में लगभग बीस बिलियन डॉलर का सपोर्ट दिया जा रहा है। मैं आप सभी को इस manufacturing momentum का हिस्सा बनने के लिए आमंत्रित करता हूँ।

भारत में airports, regional connectivity, air cargo और टुरिज़म तेज़ी से बढ़ रहे हैं। भारत आज दुनिया का तीसरा सबसे बड़ा domestic aviation market है। हम मिलकर cargo corridors, flight connectivity और joint tourism packages बना सकते हैं।

Kiwi, apples, honey और seafood के लिए perishable cargo solutions विकसित किए जा सकते हैं। न्यूज़ीलैंड के पास horticulture, dairy science, और forestry में विशाल एक्स्पर्टीज़ है। भारत के पास consumer market, food parks और agri-tech talent की ताकत है। हम मिलकर farm-to-market value chains और global export platforms बना सकते हैं।

Fin Tech में आज भारत global leader है। आज दुनिया की पचास प्रतिशत real time digital payments भारत में होती हैं। हम digital payments के साथ साथ green bonds और blended finance में आगे बढ़ सकते हैं।

हमने space sector को private participation के लिए खोल दिया है। आज भारत में 400 से अधिक space start-ups है और अब तो एक यूनिकॉर्न भी बन गई है। दोनों देशों की कम्पनियां भारत के space ecosystem के साथ मिलकर small satellites, remote sensing और ocean monitoring में काम कर सकती हैं।

भारत में Smart Cities Mission के अंतर्गत 100 cities में 8,000 से अधिक projects पर काम हो रहा है। हम मिलकर urban mobility, water management, waste management जैसे क्षेत्रों में काम कर सकते हैं।

Friends,

मैं माओरी business leaders का विशेष अभिनंदन करता हूँ। भारत की सभ्यता और माओरी tradition, दोनों में प्रकृति, समुदाय और सस्टेनेबिलिटी के प्रति गहरा सम्मान है। हमारे FTA में भी माओरी बिजनेसस के लिए अवसरों को विशेष स्थान दिया गया है। हमारी इन साझा मूल्यों को जोड़कर हम inclusive and sustainable trade का नया model बना सकते हैं।

Friends,

मेरा सुझाव है कि हम मिलकर एक बहुत ही ambitious Business Roadmap बनाएं। अपनी strengths को जोड़ते हुए हम कम से कम पाँच flagship प्रोजेक्ट्स की पहचान करें, और उन्हें समयबद्ध तरीके से पूरा करने के लिए review मेकनिज़म बनाएं। तभी हम अपने संबंधों के पूरे potential को realise कर सकेंगे, और दोनों देशों के लोगों की आकांक्षाओं और अपेक्षाओं पर खरे उतर सकेंगे।

मैं आप सभी को इस यात्रा में कंधे से कंधा मिलाकर चलने के लिए आमंत्रित करता हूँ।

Let us make our partnership a platform for prosperity, a bridge for innovation, and a force for global good.

और मैं चाहता हूँ की भारत और नई ज़ीलैण्ड मिल कर के एक नयी शक्ति के रूप में उभरें।

और मेरा एक और आग्रह है। जैसे अभी आपने बताया कि खेल के हमारे संबंधों के सौ साल हो रहे हैं। यह बड़ा महत्वपूर्ण इवेंट है।

इसको तो हम मनाएंगे ही मनाएंगे। लेकिन क्या हम यह सोच सकते हैं, की 35 से कम उम्र के Businessmen, ऐसा एक बड़ा डेलीगेशन भारत आएं, और भारत से भी 35 से नीचे की उम्र का एक बिज़नेस डेलीगेशन New Zealand आये?

ताकि हम एक नयी पीढ़ी को हम तैयार करें ? इसी एक शुभकामना के साथ आप सब का बहुत-बहुत धन्यवाद।