Kaziranga is more than a National Park—it is the soul of Assam, a priceless jewel of India’s biodiversity, honored by UNESCO as a World Heritage Site: PM
In recent years, Kaziranga has seen a steady rise in tourism, opening new livelihood opportunities for local youth: PM
For long, it was believed that nature and progress stood in opposition, that the two could not move together. Today, India is demonstrating to the world that both can advance together side by side: PM
The North East is no longer on the margins of development; it is now closer to the nation’s heart and to Delhi itself: PM

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ আসামের কালিয়াবরে ৬,৯৫০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের কাজিরাঙ্গা এলিভেটেড করিডোর প্রকল্পের (এনএইচ-৭১৫-এর কালিয়াবর-নুমালিগড় অংশের ৪-লেন নির্মাণ) ভূমিপূজা সম্পন্ন করেছেন। এই উপলক্ষে সমবেত জনতার উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে শ্রী মোদী জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এত বিপুল সংখ্যক মানুষ তাঁকে আশীর্বাদ করতে এসেছেন এবং তিনি এর জন্য গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, কাজিরাঙ্গায় আবার এসে তাঁর আগের সফরের স্মৃতিগুলো জীবন্ত হয়ে উঠেছে। তিনি স্মরণ করেন যে, দুই বছর আগে কাজিরাঙ্গায় কাটানো মুহূর্তগুলো তাঁর জীবনের অন্যতম বিশেষ অভিজ্ঞতা ছিল। প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান, তিনি কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানে রাত কাটানোর সুযোগ পেয়েছিলেন এবং পরের দিন সকালে একটি হাতি সাফারি করার সময় তিনি এই অঞ্চলের সৌন্দর্যকে কাছ থেকে অনুভব করেছিলেন।

আসাম সফর তাঁকে সবসময় অপরিসীম আনন্দ দেয়, একথা উল্লেখ করে শ্রী মোদী এই রাজ্যকে বীরদের এবং এমন পুত্র-কন্যাদের ভূমি হিসেবে বর্ণনা করেন, যারা প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শন করে। তিনি বলেন, গতকালই তিনি গুয়াহাটিতে বাগুরুম্বা ধেহু উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন, যেখানে বোড়ো সম্প্রদায়ের কন্যারা তাদের পরিবেশনার মাধ্যমে একটি নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী বাগুরুম্বার অসাধারণ পরিবেশনার কথা তুলে ধরেন, যেখানে ১০,০০০-এরও বেশি শিল্পীর শক্তি, খামের ছন্দ এবং সিফুং-এর সুর সবাইকে মুগ্ধ করেছিল। তিনি বলেন, বাগুরুম্বার অভিজ্ঞতা চোখকে স্পর্শ করে হৃদয়ে পৌঁছে গেছে। প্রধানমন্ত্রী আসামের শিল্পীদের অসাধারণ প্রচেষ্টা, প্রস্তুতি এবং সমন্বয়ের জন্য প্রশংসা করেন এবং এটিকে সত্যিই চমৎকার বলে অভিহিত করেন। তিনি বাগুরুম্বা ধেহু উৎসবে অংশগ্রহণকারী সকল শিল্পীকে আবারও অভিনন্দন জানান। তিনি এই অনুষ্ঠানটিকে দেশ ও বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সকল সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার এবং টিভি মিডিয়াকে ধন্যবাদ জানান।

 

গত বছর ঝুমুর মহোৎসবে যোগ দেওয়ার কথা স্মরণ করে এবং এবার মাঘ বিহুর সময় আসাম সফরের সুযোগ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে শ্রী মোদী বলেন, মাত্র এক মাস আগেই তিনি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য এসেছিলেন এবং গুয়াহাটির সম্প্রসারিত লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল ভবনের উদ্বোধন ও নামরূপে অ্যামোনিয়া ইউরিয়া কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। তিনি বলেন, এই ধরনের ঘটনাগুলো তাঁদের সরকারের “উন্নয়নও, ঐতিহ্যও” মন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করেছে। প্রধানমন্ত্রী আসামের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের প্রেক্ষাপটে কলিয়াবরের ঐতিহাসিক গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন যে, এটি কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানের প্রবেশদ্বার এবং আপার আসামের যোগাযোগের একটি কেন্দ্র। তিনি স্মরণ করেন যে, এই কলিয়াবর থেকেই মহান যোদ্ধা লাচিত বরফুকন মুঘল আক্রমণকারীদের বিতাড়িত করার কৌশল রচনা করেছিলেন এবং তাঁর নেতৃত্বে আসামের জনগণ সাহস, ঐক্য ও সংকল্পের মাধ্যমে মুঘল সেনাবাহিনীকে পরাজিত করেছিল। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন যে, এটি কেবল একটি সামরিক বিজয় ছিল না, বরং আসামের গর্ব ও আত্মবিশ্বাসের একটি ঘোষণা ছিল। তিনি উল্লেখ করেন যে, আহোম শাসনের সময় থেকেই কলিয়াবরের কৌশলগত গুরুত্ব ছিল এবং তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন যে, তাঁদের সরকারের অধীনে এই অঞ্চলটি এখন সংযোগ ও উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।


প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছেন যে আজ তাঁদের দল সারা দেশের মানুষের প্রথম পছন্দে পরিণত হয়েছে এবং গত দেড় বছরে দলের প্রতি মানুষের আস্থা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি তুলে ধরেন যে সাম্প্রতিক বিহার নির্বাচনে, ২০ বছর পরেও মানুষ তাঁদের রেকর্ড সংখ্যক ভোট ও আসন দিয়েছে। তিনি আরও বলেন যে মাত্র দুই দিন আগে, মহারাষ্ট্রের প্রধান শহরগুলির মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচনের ফলাফল দেখিয়েছে যে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম পৌরসংস্থা মুম্বাই প্রথমবারের মতো তাঁদের দলকে রেকর্ড সংখ্যক আসনে জয়ী করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে মহারাষ্ট্রের বেশিরভাগ শহরের মানুষ তাঁদেরকে সেবা করার সুযোগ দিয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী আরও মন্তব্য করেন যে এর আগে কেরালার মানুষ তাঁদের দলকে উল্লেখযোগ্য সমর্থন দিয়েছে এবং রাজ্যের রাজধানী তিরুবনন্তপুরমে দলটি প্রথমবারের মতো মেয়র পদে জয়লাভ করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে সারা দেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্টভাবে দেখায় যে ভোটাররা সুশাসন এবং উন্নয়ন চায়, যেখানে অগ্রগতি এবং ঐতিহ্য উভয়ের উপরই মনোযোগ থাকবে, এবং সেই কারণেই তাঁরা তাঁদের বেছে নিচ্ছেন।

 

শ্রী মোদি জোর দিয়ে বলেন যে এই নির্বাচনগুলো আরও একটি বার্তা দেয়—তা হলো দেশ ধারাবাহিকভাবে বিরোধী দলের নেতিবাচক রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে মুম্বাই, যে শহরে বিরোধী দলের জন্ম হয়েছিল, সেখানে এখন তাঁরা চতুর্থ বা পঞ্চম স্থানে নেমে এসেছেন এবং মহারাষ্ট্রে, যেখানে তাঁরা কয়েক দশক ধরে শাসন করেছেন, সেখানে তাঁরা পুরোপুরি সংকুচিত হয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, বিরোধী দল জাতির আস্থা হারিয়েছে কারণ তাঁদের উন্নয়নের কোনো কর্মসূচি নেই এবং এমন একটি দল কখনোই আসাম বা কাজিরাঙ্গার স্বার্থ রক্ষা করতে পারে না।


প্রধানমন্ত্রী ভারতরত্ন ডঃ ভূপেন হাজারিকার কথা স্মরণ করেন, যিনি গভীর ভালোবাসায় কাজিরাঙ্গার সৌন্দর্যের বর্ণনা দিয়েছিলেন এবং উল্লেখ করেন যে তাঁর পঙক্তিগুলোতে কাজিরাঙ্গার প্রতি ভালোবাসা এবং আসামের মানুষের প্রকৃতির সঙ্গে বন্ধন উভয়ই প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে কাজিরাঙ্গা শুধু একটি জাতীয় উদ্যান নয়, এটি আসামের আত্মা এবং ভারতের জীববৈচিত্র্যের একটি অমূল্য রত্ন, যা ইউনেস্কো দ্বারা বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃত। তিনি বলেন, কাজিরাঙ্গা এবং এর বন্যপ্রাণীকে রক্ষা করা কেবল পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়, এটি আসামের ভবিষ্যৎ এবং আগামী প্রজন্মের প্রতিও একটি দায়িত্ব। শ্রী মোদি আসামের মাটি থেকে নতুন প্রকল্পের সূচনা ঘোষণা করেন এবং ব্যাপক প্রভাব সৃষ্টিকারী উদ্যোগগুলোর জন্য জনগণকে অভিনন্দন জানান।


কাজিরাঙ্গা যে একশৃঙ্গ গন্ডারের আবাসস্থল, তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন যে বন্যার সময় বন্যপ্রাণীরা যখন উঁচু ভূমির সন্ধানে জাতীয় সড়ক পার হতে বাধ্য হয়, তখন কী ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয় এবং প্রায়শই তারা আটকা পড়ে। তিনি বলেন, সরকারের প্রচেষ্টা হলো বনকে সুরক্ষিত রেখে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা। তিনি জানান যে এই দৃষ্টিভঙ্গির অধীনে, প্রায় ৭,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কালিয়াবর থেকে নুমালিগড় পর্যন্ত একটি ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ করিডোর তৈরি করা হচ্ছে, যার মধ্যে একটি ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ উড়াল বন্যপ্রাণী করিডোরও অন্তর্ভুক্ত। যানবাহন উপর দিয়ে চলাচল করবে এবং নিচে বন্যপ্রাণীদের চলাচল বাধাহীন থাকবে, এবং এই নকশাটি গন্ডার, হাতি ও বাঘের ঐতিহ্যবাহী চলাচলের পথ মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। শ্রী মোদি মন্তব্য করেন যে এই করিডোরটি আপার আসাম এবং অরুণাচল প্রদেশের মধ্যে সংযোগও উন্নত করবে এবং নতুন রেল পরিষেবার পাশাপাশি জনগণের জন্য নতুন সুযোগের দ্বার উন্মোচন করবে। তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর জন্য আসাম এবং দেশের জনগণকে অভিনন্দন জানান।

 

প্রকৃতিকে রক্ষা করলে যে সুযোগও তৈরি হয়, তা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাজিরাঙ্গায় পর্যটনের ধারাবাহিক বৃদ্ধি ঘটেছে। হোমস্টে, গাইড পরিষেবা, পরিবহন, হস্তশিল্প এবং ছোট ব্যবসার মাধ্যমে স্থানীয় যুবকরা আয়ের নতুন উৎস খুঁজে পেয়েছে।


আসামের জনগণ এবং সরকারকে আরেকটি সাফল্যের জন্য প্রশংসা করে শ্রী মোদি স্মরণ করেন যে একসময় গন্ডার শিকার একটি বড় উদ্বেগের বিষয় ছিল, ২০১৩ এবং ২০১৪ সালে কয়েক ডজন একশৃঙ্গ গন্ডার হত্যা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, তাঁদের সরকার সিদ্ধান্ত নেয় যে এটি চলতে দেওয়া যায় না এবং তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়, বন বিভাগকে আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়, নজরদারি বাড়ানো হয় এবং ‘বন দুর্গা’-র মাধ্যমে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা হয়। এর ফলে, তিনি বলেন, ২০২২ সালে গন্ডার শিকারের একটিও ঘটনা ঘটেনি, যা সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং আসামের জনগণের প্রচেষ্টায় সম্ভব হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘকাল ধরে বিশ্বাস করা হতো যে প্রকৃতি এবং অগ্রগতি একে অপরের বিরোধী, কিন্তু আজ ভারত বিশ্বকে দেখাচ্ছে যে অর্থনীতি এবং পরিবেশ উভয়ই একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন যে গত এক দশকে বন ও বৃক্ষ আচ্ছাদন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জনগণ উৎসাহের সঙ্গে “এক পেড় মা কে নাম” অভিযানে অংশগ্রহণ করেছে, যার অধীনে ২৬০ কোটিরও বেশি গাছ লাগানো হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে বাঘ ও হাতির অভয়ারণ্যের সংখ্যা বেড়েছে এবং সংরক্ষিত ও কমিউনিটি এলাকার পরিধিও প্রসারিত হয়েছে। শ্রী মোদী মন্তব্য করেন যে, ভারতে একসময় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া চিতা এখন ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং সেগুলো একটি নতুন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, ভারত জলাভূমি সংরক্ষণে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে এবং রামসার সাইটের সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে তৃতীয় স্থানে থেকে এশিয়ার বৃহত্তম রামসার নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসামও বিশ্বকে দেখাচ্ছে যে কীভাবে উন্নয়ন এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রকৃতি সুরক্ষা একসঙ্গে চলতে পারে।

শ্রী মোদী মন্তব্য করেন যে উত্তর-পূর্বের সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা ছিল দূরত্ব—হৃদয়ের দূরত্ব এবং স্থানের দূরত্ব। তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে এই অঞ্চলের মানুষ অনুভব করতেন যে উন্নয়ন অন্য কোথাও হচ্ছে এবং তাঁরা পিছিয়ে পড়ছেন, যা কেবল অর্থনীতিকেই নয়, আস্থাকেও প্রভাবিত করেছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে তাঁর দল, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মাধ্যমে, উত্তর-পূর্বের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই মনোভাব পরিবর্তন করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে সড়কপথ, রেলপথ, আকাশপথ এবং জলপথের মাধ্যমে আসামকে সংযুক্ত করার কাজ একই সঙ্গে শুরু হয়েছিল।

 

রেল সংযোগ সম্প্রসারণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক উভয় স্তরেই সুবিধা নিয়ে আসে এবং উত্তর-পূর্বের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ,  একথা উল্লেখ করে শ্রী মোদী এই বিষয়ে অবহেলার জন্য বিরোধীদের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যখন তাঁরা কেন্দ্রে ক্ষমতায় ছিলেন, তখন আসাম রেল বাজেটে মাত্র প্রায় ২,০০০ কোটি টাকা পেত, অথচ তাঁর সরকারের অধীনে এটি বার্ষিক প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে—যা পাঁচগুণ বেশি। শ্রী মোদী বলেন, এই বর্ধিত বিনিয়োগের ফলে বড় আকারের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে, নতুন রেললাইন স্থাপন, লাইন দ্বৈতকরণ এবং বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে রেলওয়ের সক্ষমতা ও যাত্রী সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কালিয়াবর থেকে তিনটি নতুন ট্রেন পরিষেবার সূচনা ঘোষণা করেন, যা আসামের রেল সংযোগে একটি উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ। তিনি বলেন, বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি গুয়াহাটিকে কলকাতার সঙ্গে সংযুক্ত করবে, যা দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণকে আরও আরামদায়ক করে তুলবে, এবং দুটি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উত্তর প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিকে সংযুক্ত করবে, যা লক্ষ লক্ষ যাত্রীকে সরাসরি উপকৃত করবে। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন যে এই ট্রেনগুলো আসামের ব্যবসায়ীদের নতুন বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করবে, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত সুযোগের জন্য সহজতর প্রবেশাধিকার দেবে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভ্রমণকে সহজ করবে। তিনি মন্তব্য করেন যে এই ধরনের সংযোগ সম্প্রসারণ এই আত্মবিশ্বাস তৈরি করে যে উত্তর-পূর্ব আর উন্নয়নের প্রান্তিক অঞ্চলে নেই, আর দূরে নেই, বরং হৃদয়ের কাছাকাছি এবং দিল্লির কাছাকাছি।


প্রধানমন্ত্রী আসামের একটি বড় চ্যালেঞ্জ—এর পরিচয় ও সংস্কৃতি রক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও কথা বলেন। তিনি আসামে তাঁদের সরকারের প্রশংসা করেন, যাঁরা কার্যকরভাবে অনুপ্রবেশ মোকাবেলা করেছেন এবং বনভূমি, ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক স্থান ও মানুষের জমি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করেছেন - যা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী এর বিপরীতে বিরোধীদের সমালোচনা করে বলেন যে, তাঁরা কয়েক দশক ধরে কেবল ভোট এবং সরকার গঠনের জন্য আসামের মাটি অনুপ্রবেশকারীদের হাতে তুলে দিয়েছে। তিনি বলেন, বিরোধীদের শাসনকালে অনুপ্রবেশ বাড়তেই থাকে এবং এই অনুপ্রবেশকারীরা আসামের ইতিহাস, সংস্কৃতি বা বিশ্বাসের প্রতি কোনো শ্রদ্ধা না রেখে ব্যাপক দখলদারিত্ব চালায়। তিনি আরও বলেন যে অনুপ্রবেশের ফলে পশুর অবাধ যাতায়াতের করিডোর বেদখল হচ্ছে, অবৈধ শিকার বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধ বাড়ছে।


প্রধানমন্ত্রী মোদি সতর্ক করে বলেন যে অনুপ্রবেশকারীরা জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট করছে, সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ করছে, দরিদ্র ও যুবক- যুবতিদের কাছ থেকে চাকরি কেড়ে নিচ্ছে এবং জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় প্রতারণার মাধ্যমে জমি দখল করছে, যা আসাম এবং দেশের নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুতর হুমকি। তিনি জনগণকে বিরোধীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন যে তাঁদের একমাত্র নীতি হলো অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করা ও ক্ষমতা দখল করা। শ্রী মোদি মন্তব্য করেন যে বিরোধী দল এবং তাঁদের মিত্ররা সারা দেশেই এই পন্থা অনুসরণ করছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন যে বিহারে তাঁরা অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করার জন্য মিছিল ও সমাবেশ করেছিল, কিন্তু বিহারের জনগণ তাঁদেরকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে আসামের জনগণও বিরোধীদের উপযুক্ত জবাব দেবে।

 

শ্রী মোদি জোর দিয়ে বলেন যে আসামের উন্নয়ন সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অগ্রগতির জন্য নতুন দ্বার উন্মোচন করছে এবং অ্যাক্ট ইস্ট পলিসিকে সঠিক দিশা দেখাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে যখন আসাম এগিয়ে যায়, তখন উত্তর-পূর্বাঞ্চলও এগিয়ে যায় এবং সরকারের প্রচেষ্টা ও জনগণের আস্থার মাধ্যমে এই অঞ্চল নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। তাঁর বক্তব্য শেষ করার সময় প্রধানমন্ত্রী আজ উদ্বোধন করা প্রকল্পগুলোর জন্য সবাইকে আবারও অভিনন্দন জানান।


অনুষ্ঠানে আসামের রাজ্যপাল শ্রী লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য, আসামের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল, শ্রী পবিত্র মার্ঘেরিটা সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

প্রেক্ষাপট


প্রধানমন্ত্রী ৬,৯৫০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের কাজিরাঙ্গা এলিভেটেড করিডোর প্রকল্পের (এনএইচ-৭১৫-এর কালিয়াবর-নুমালিগড় অংশের চার লেনকরণ) ভূমি পূজা সম্পন্ন করেছেন।

 

৮৬ কিলোমিটার দীর্ঘ কাজিরাঙ্গা এলিভেটেড করিডোর প্রকল্পটি একটি পরিবেশ-সচেতন জাতীয় মহাসড়ক প্রকল্প। এতে ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি এলিভেটেড বন্যপ্রাণী করিডোর থাকবে যা কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানের মধ্য দিয়ে যাবে, ২১ কিলোমিটার বাইপাস অংশ এবং এনএইচ-৭১৫-এর বিদ্যমান মহাসড়ক অংশটিকে দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীত করা হবে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো পার্কটির সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য রক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আঞ্চলিক সংযোগ উন্নত করা।
প্রকল্পটি নগাঁও, কার্বি আংলং এবং গোলাঘাট জেলার উপর দিয়ে যাবে এবং উচ্চ আসাম, বিশেষ করে ডিব্রুগড় ও তিনসুকিয়ার সঙ্গে সংযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করবে। এলিভেটেড বন্যপ্রাণী করিডোরটি প্রাণীদের নিরবচ্ছিন্ন চলাচল নিশ্চিত করবে এবং মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত কমাবে। এটি সড়ক নিরাপত্তা বাড়াবে, ভ্রমণের সময় এবং দুর্ঘটনার হার কমাবে এবং ক্রমবর্ধমান যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সহায়তা করবে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে জাখালবান্ধা ও বোকাখাতে বাইপাস তৈরি করা হবে, যা শহরগুলোর যানজট কমাতে, শহুরে চলাচল উন্নত করতে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান বাড়াতে সাহায্য করবে।


এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দুটি নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনেরও উদ্বোধন করেন - গুয়াহাটি (কামাক্ষ্যা)-রোহতক অমৃত ভারত এক্সপ্রেস এবং ডিব্রুগড়-লখনউ (গোমতী নগর) অমৃত ভারত এক্সপ্রেস। এই নতুন ট্রেন পরিষেবাগুলো উত্তর-পূর্ব এবং উত্তর ভারতের মধ্যে রেল সংযোগকে শক্তিশালী করবে, যা মানুষের জন্য নিরাপদ ও আরও সুবিধাজনক ভ্রমণের সুযোগ করে দেবে। 

 

সম্পূর্ণ ভাষণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
From 8 PM Announcements To Midnight Reels: Prime Minister Modi Leads Algorithmic Pivot To Connect With Gen Z

Media Coverage

From 8 PM Announcements To Midnight Reels: Prime Minister Modi Leads Algorithmic Pivot To Connect With Gen Z
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Share your ideas for PM Modi's Independence Day speech
July 25, 2026

Prime Minister Narendra Modi has invited citizens to share their ideas and suggestions for his Independence Day address.

Share your thoughts and suggestions. Some of the ideas received may be mentioned by the Prime Minister during his Independence Day address from the Red Fort.