১০ লক্ষেরও বেশি মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে
২ হাজার ৮০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের রেল প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় ২৬ লক্ষেরও বেশি সুবিধাপ্রাপকের গৃহ প্রবেশ অনুষ্ঠানে যোগ দেন
আবাস+ ২০২৪ অ্যাপ – এর সূচনা করেছেন
“এই রাজ্য আমাদের উপর বিশেষ আস্থা প্রদর্শন করেছে, আমরা এখানকার জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সবরকম প্রচেষ্টা নেব”
“কেন্দ্রে বর্তমান এনডিএ সরকারের ১০০ দিনের সময়কালে দরিদ্র, কৃষক, যুবক ও মহিলাদের ক্ষমতায়নের জন্য বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়”
“কোনও দেশের, কোনও রাজ্যের অর্ধেক জনসংখ্যা আমাদের মহিলাদের যখন উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে সমান অংশীদারিত্ব থাকে, তখনই যথাযথ উন্নয়ন সম্ভব”
“প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা ভারতের মহিলা ক্ষমতায়নের প্রতিচ্ছবি”
তিনি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (নগর) ২.০-র কার্যকর নির্দেশিকাও জারি করেন।
ভগবানের আশীর্বাদ তাঁর উপর থাকায় এসব সম্ভব হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এই কাজের জন্য শ্রী মোদী ওড়িশা সরকারকে অভিনন্দন জানান।

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ওড়িশার ভুবনেশ্বরে ওড়িশা সরকারের ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি ‘সুভদ্রা’ প্রকল্পের সূচনা করেছেন। এটি বৃহত্তম মহিলা-কেন্দ্রিক প্রকল্প। ১ কোটিরও বেশি মহিলা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ১০ লক্ষেরও বেশি মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ পাঠানোর কর্মসূচিরও সূচনা করেন। শ্রী মোদী ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের রেল প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন এবং ১ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের জাতীয় সড়ক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ আবাস যোজনার আওতায় ১৪টি রাজ্যের প্রায় ১০ লক্ষ সুবিধাপ্রাপকের প্রথম কিস্তি মঞ্জুর করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (গ্রামীণ ও নগর) – এর আওতায় ২৬ লক্ষেরও বেশি সুবিধাপ্রাপকের গৃহ প্রবেশ অনুষ্ঠানেও অংশ নেন। এরপর, শ্রী মোদী আবাস+ ২০২৪ অ্যাপ – এর সূচনা করেন। এই অ্যাপটি প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ আবাস যোজনার আওতায় অতিরিক্ত আবাস বিষয়ক সমস্ত রকম সমীক্ষার কাজে সহায়ক হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (নগর) ২.০-র কার্যকর নির্দেশিকাও জারি করেন। 

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে এই অনুষ্ঠানে সামিল হতে পারায় তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠান তাঁকে এখানকার জনগণের ও ভগবান জগন্নাথের সেবা করার সুযোগ করে দিয়েছে। ভগবানের আশীর্বাদ তাঁর উপর থাকায় এসব সম্ভব হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণেশ উৎসবের এই সময় এবং আজ অনন্ত চতুর্দশী ও বিশ্বকর্মা পূজার পবিত্র দিনে এই কর্মসূচির উদ্বোধন হ’ল। বিশ্বে ভারত হ’ল একমাত্র দেশ, যেখানে দক্ষতা ও শ্রমকে ভগবান বিশ্বকর্মা রূপে পুজো করা হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শ্রী মোদী এই উপলক্ষে সকলকে তাঁর শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ওড়িশার মা ও বোনেদের জন্য এই পবিত্র দিনে তিনি সুভদ্রা প্রকল্প উদ্বোধন করার সুযোগ পেয়েছেন। 

প্রধানমন্ত্রী ভগবান জগন্নাথের এই ভূমি থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ৩০ লক্ষেরও বেশি পরিবারের হাতে পাকা বাড়ি তুলে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রামীণ এলাকায় ২৬ লক্ষ এবং শহর এলাকায় ৪ লক্ষ বাড়ি বন্টন করা হয়েছে। ওড়িশায় আজ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী অভিভূত। তিনি এই উপলক্ষে ওড়িশা তথা দেশবাসীকে অভিনন্দিত করেন। 

প্রধানমন্ত্রী বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর, প্রথমবার তাঁর ওড়িশা সফরের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ভোটের প্রচারের সময় তিনি বলেছিলেন, “ডবল ইঞ্জিন সরকার” ক্ষমতায় এলে ওড়িশা উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। তিনি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর জনগণের স্বপ্ন পূরণের সময় এসেছে। দলিত, আদিবাসী, গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী, মহিলা, যুবক ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জনগণের আকাঙ্ক্ষা এখন বাস্তবে পরিণত হবে। দ্রুতগতিতে তাঁর প্রতিশ্রুতিগুলি পূরণ হচ্ছে বলে তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন। এখনও পর্যন্ত তাঁর দেওয়া যেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হচ্ছে, তার তালিকা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুরীতে শ্রী জগন্নাথের ৪টি দরজায় এখন জনগণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। মন্দিরের রত্ন ভান্ডার খোলা হয়েছে। ওড়িশার জনগণের সেবায় বিজেপি সরকার সর্বদা সচেষ্ট বলে মন্তব্য করেন তিনি। জনগণের সমস্যাগুলির যেন সমাধান হয়, তা নিশ্চিত করতে যেভাবে সরকার জনগণের কাছে পৌঁছচ্ছে, তাতে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এই কাজের জন্য শ্রী মোদী ওড়িশা সরকারকে অভিনন্দন জানান।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের দিনটি বিশেষ, কারণ বর্তমান সরকার আজ তার কার্যকালের ১০০ দিন পূরণ করল। এই সময়কালে দেশের দরিদ্র, কৃষক, যুবক ও মহিলাদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শ্রী মোদী গত ১০০ দিনে তাঁর সরকারের সাফল্যের তালিকা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দরিদ্রদের জন্য ৩ কোটি পাকা বাড়ি তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুবকদের জন্য ২ লক্ষ কোটি টাকার প্রকল্প বরাদ্দের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার যে কোনও বেসরকারি চাকরিতে যোগ৭দানকারী যুবসম্প্রদায়ের প্রথম মাসের বেতন দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছে। মেডিকেল কলেজগুলিতে আসন সংখ্যা আরও ৭৫ হাজার বাড়ানো হয়েছে। ২৫ হাজার গ্রামকে পাকা সড়কের সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। শ্রী মোদী আরও বলেন, আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রকের জন্য বাজেট বরাদ্দ আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। ৬০ হাজার আদিবাসী গ্রামের উন্নয়নের জন্য বিশেষ প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের জন্য আনা হয়েছে নতুন পেনশন প্রকল্প। উদ্যোগপতি ও ব্যবসায়ীদের জন্য কর কমানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ১০০ দিনে দেশ দেখেছে কিভাবে ১১ লক্ষ লাখপতি দিদি তৈরি করা হয়েছে। তৈলবীজ এবং পেঁয়াজ চাষীদের জন্য নেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। ভারতীয় চাষীদের উৎসাহ দিতে বাইরে থেকে আনা তেলের উপর আমদানী শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি, বাসমতি চালের রপ্তানী শুল্ক কমানো হয়েছে। শস্যের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কমানো হয়েছে। এর ফলে, কৃষকরা প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকার সুবিধা পেয়েছেন। এছাড়াও, বিগত ১০০ দিনে প্রত্যেকের জন্যই আরও নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

কোনও দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা অর্থাৎ, মহিলারা যখন উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে সমানভাবে অংশগ্রহণ করেন, তখনই কোনও দেশ যথাযথভাবে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে বলেও শ্রী মোদী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ওড়িশার উন্নয়নে মহিলাদের অগ্রগতি ও তাঁদের ক্ষমতায়ন মূল চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, ভগবান জগন্নাথের পাশাপাশি মাতা সুভদ্রার উপস্থিতি এখানে মহিলা ক্ষমতায়নের কথাই তুলে ধরছে। শ্রী মোদী বলেন, ‘মাতা সুভদ্রা রূপী সব মা, বোন ও কন্যার কাছে আমি নত মস্তক হই’। প্রধানমন্ত্রী, ওড়িশার বিজেপি সরকার তাদের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হিসেবে এই রাজ্যের মা ও বোনেদের সুভদ্রা যোজনা উপহার দেওয়ার সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ওড়িশার ১ কোটিরও বেশি মহিলা এই প্রকল্প থেকে উপকৃত হবেন। শ্রী মোদী আরও বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় মহিলাদের মোট ৫০ হাজার টাকা সাহায্য দেওয়া হবে। এই অর্থ সরাসরি সুবিধাপ্রাপকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। আরবিআই – এর ডিজিটাল কারেন্সি প্রকল্পের সঙ্গে এই প্রকল্প যুক্ত বলে তিনি জানান। দেশে প্রথম এ ধরনের প্রকল্পে অংশগ্রহণ করায় ওড়িশার মহিলাদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী সুভদ্রা যোজনার সুবিধা যেন ওড়িশার সব মা, বোন ও কন্যারা পান, সেই বিষয়ে জোর দেন। তিনি বলেন, এই প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ মহিলাদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা ভারতের মহিলাদের ক্ষমতায়নের প্রতিচ্ছবি’, বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সমগ্র দেশের প্রায় ৩০ লক্ষ পরিবার গৃহ প্রবেশ করেছে এবং প্রায় ১৫ লক্ষ নতুন সুবিধাপ্রাপক আজ প্রকল্প অনুমোদনের চিঠি পাচ্ছেন। ১০০ দিনের স্বল্প সময়ে ১০ লক্ষেরও বেশি সুবিধাপ্রাপকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা ওড়িশার পবিত্র ভূমি থেকেই এই বিশেষ কাজের সূচনা করেছি এবং ওড়িশার বহুসংখ্যক দরিদ্র পরিবার এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন”। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আজ যাঁরা নতুন পাকা বাড়ি পাচ্ছেন, তাঁদের জীবনে এক বিশেষ পথ চলার সূচনা হ’ল। 

 

আদিবাসী পরিবারগুলির গৃহ প্রবেশ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের মুখের হাসি ও সন্তোষ তিনি কখনই ভুলতে পারবেন না। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “এই অভিজ্ঞতা আমার সমগ্র জীবনের সম্পদ হয়ে থাকবে। এই আনন্দ আগামী দিনে দরিদ্র, দলিত এবং পিছিয়ে পড়া আদিবাসী সমাজের জীবনে পরিবর্তন আনবে এবং তা আগামী দিনে আমাকে আরও বেশি কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করবে”। 

উন্নত রাজ্য হওয়ার জন্য সবকিছুই ওড়িশার কাছে মজুত রয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, এখানকার যুবক-যুবতীদের মেধা, মহিলাদের ক্ষমতা, প্রাকৃতিক সম্পদ, শিল্প ক্ষেত্রের সম্ভাবনা এবং পর্যটনের অপার সুযোগ রয়েছে। বিগত ১০ বছরে কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকার সময় তাঁর সরকার সবসময়েই ওড়িশাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে দিনের আলো দেখেনি, এমন বিভিন্ন প্রকল্প ওড়িশায় বর্তমানে বাস্তবায়িত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন। আয়ুষ্মান যোজনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওড়িশার জনগণও ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন এবং ৭০ বছরের বেশি বয়স্করা বিনামূল্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। তিনি বলেন, “লোকসভা নির্বাচনের সময় মোদীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে”। 

প্রধানমন্ত্রী ওড়িশায় বসবাসকারী দলিত ও পিছিয়ে পড়া জনগণের কথা উল্লেখ করে বলেন, দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই জনগণ হলেন অন্যতম অংশীদার। আদিবাসী জনগণের উন্নয়নের জন্য পৃথক মন্ত্রক গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আদিবাসী জনগণকে তাঁদের প্রাপ্য অধিকার জমি, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়াই এর লক্ষ্য। মাননীয় রাষ্ট্রপতির এই রাজ্য ওড়িশা এই প্রথম সরকার কোনও আদিবাসী মহিলাকে দেশের রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত করেছেন। 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওড়িশায় বহু আদিবাসী সম্প্রদায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে উন্নয়নের আলো থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী জন মন যোজনার কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া আদিবাসীদের সহায়তার জন্যই এই প্রকল্প চালু হয়েছে এবং ওড়িশায় এ ধরনের ১৩টি আদিবাসী সম্প্রদায়কে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ধরনের সম্প্রদায়ের কাছে প্রধানমন্ত্রী জন মন যোজনার আওতায় সব সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শিকল সেল অ্যানিমিয়া থেকে আদিবাসী এলাকাগুলিকে মুক্ত করার জন্য বিশেষ প্রকল্প চালানো হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। 

শ্রী মোদী বলেন, “ভারত বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী দক্ষতাগুলি সংরক্ষণে বিশেষ নজর দিয়েছে। দেশে হাজার হাজার বছর ধরে যেসব স্বর্ণকার, কুমোর, কয়লা শ্রমিক, ভাস্কর শিল্পী পিছিয়ে ছিলেন, তাঁদের উন্নয়নে বিশেষ নজর দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিশ্বকর্মা জয়ন্তীর দিন গত বছর চালু হয়েছে বিশ্বকর্মা যোজনা। সরকার এই প্রকল্পে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে। এখনও পর্যন্ত এই প্রকল্পের আওতায় ২০ লক্ষ মানুষ তাঁদের নাম নথিভুক্ত করেছেন এবং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার জন্য কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা এবং আর্থিক সাহায্য দেওয়ার যে ব্যবস্থা চালু হয়েছে, সেকথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের দরিদ্র শ্রেণীর জনগণের স্বাস্থ্য ও সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তার গ্যারান্টি উন্নত ভারতের অন্যতম শক্তি হয়ে উঠবে বলেও আস্থা প্রকাশ করেন শ্রী মোদী। 

ওড়িশার উপকূল রেখার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ রয়েছে, যা ওড়িশার অন্যতম সম্পদ। তিনি বলেন, “আগামী পাঁচ বছরে ওড়িশার সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আমাদের নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে হবে”। রেল ও সড়ক প্রকল্পের উদ্বোধন প্রসঙ্গে শ্রী মোদী বলেন, লাঞ্জিগড় রোড – আম্বোডালা – ডৈকালু রেল লাইন জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করার সৌভাগ্য হয়েছে তাঁর। এছাড়াও লখিমপুর রোড – সিঙ্গারাম – টিকরি রেল লাইন এবং ঢেনকানাল – সদাশিবপুর – হিন্দোল রোড রেল লাইনও জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়েছে। তিনি বলেন, পারাদ্বীপ বন্দর থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য কাজ শুরু হয়েছে আজ। নতুন এই পরিকাঠামো প্রকল্পগুলি বিপুল সংখ্যায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং এর দ্বারা ওড়িশার যুবসম্প্রদায় উপকৃত হবেন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পুরী থেকে কোণারক পর্যন্ত রেল লাইন এবং উচ্চ প্রযুক্তির ‘নমো ভারত র‍্যাপিড রেল’ – এর কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হবে। আধুনিক পরিকাঠামো ওড়িশার জন্য সম্ভাবনার নতুন দ্বারোন্মোচিত করবে। 

 

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, দেশ আজ ‘হায়দরাবাদ লিবারেশন ডে’ উদযাপন করছে। ভারত বিরোধী সমস্ত শক্তির মোকাবিলা করে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে সর্দার প্যাটেলের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। দেশে স্বাধীনতার সময়ে গণেশ উৎসবের ভূমিকা কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশাত্মবোধের চিন্তাভাবনাকে জাগ্রত করতে লোকমান্য তিলক এই উৎসবের প্রচলন করেছিলেন। গণেশ উৎসব একতার অন্যতম পরিচায়ক। সমাজের সব অংশের মানুষ একাত্ম হয়ে এই উৎসব পালন করেন। 

প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, ধর্ম এবং জাতপাতের ভিত্তিতে যাঁরা সমাজকে বিভক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। কর্ণাটকে গণেশ উৎসব উদযাপনের সময় ভগবান গণেশের মূর্তি ভাঙার ঘটনাটি একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর বিরুদ্ধে যারা ঘৃণা সৃষ্টিকারী বার্তা ছড়াচ্ছেন, তারা সমাজের জন্য বিপজ্জনক। এই ধরনের ঘৃণা সৃষ্টিকারী শক্তিকে সামনে এগিয়ে আসা থেকে বাধা দিতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। 

 

পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওড়িশা তথা সমগ্র দেশ সাফল্যের নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে এবং আরও অনেক নতুন মাইলফলক অতিক্রম করবে বলেই তাঁর বিশ্বাস। তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ওড়িশার রাজ্যপাল শ্রী রঘুবর দাস, মুখ্যমন্ত্রী শ্রী মোহন চরণ মাঝি এবং অন্যান্যরা। 

প্রেক্ষাপট: সুভদ্রা প্রকল্পের আওতায় ২১ থেকে ৬০ বছর বয়সী সুবিধাপ্রাপকরা ৫০ হাজার টাকা পাবেন। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ থেকে ২০২৮-২৯ অর্থবর্ষ – এই ৫ বছর সময়কালে প্রতি বছর দুটি সমান কিস্তিতে ১০ হাজার টাকা করে সরাসরি সুবিধাপ্রাপকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। 

 

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ওড়িশার রাজ্যপাল শ্রী রঘুবর দাস, মুখ্যমন্ত্রী শ্রী মোহন চরণ মাঝি এবং অন্যান্যরা। 

প্রেক্ষাপট: সুভদ্রা প্রকল্পের আওতায় ২১ থেকে ৬০ বছর বয়সী সুবিধাপ্রাপকরা ৫০ হাজার টাকা পাবেন। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ থেকে ২০২৮-২৯ অর্থবর্ষ – এই ৫ বছর সময়কালে প্রতি বছর দুটি সমান কিস্তিতে ১০ হাজার টাকা করে সরাসরি সুবিধাপ্রাপকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। 

 

Click here to read full text speech

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
India’s space programme, a people’s space journey

Media Coverage

India’s space programme, a people’s space journey
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Prime Minister Congratulates Shri S. Suresh Kumar Ji on Inspiring Cycling Feat
January 01, 2026

āThe Prime Minister, Shri Narendra Modi, today lauded the remarkable achievement of Shri S. Suresh Kumar Ji, who successfully cycled from Bengaluru to Kanniyakumari.

Shri Modi noted that this feat is not only commendable and inspiring but also a testament to Shri Suresh Kumar Ji’s grit and unyielding spirit, especially as it was accomplished after overcoming significant health setbacks.

PM emphasized that such endeavors carry an important message of fitness and determination for society at large.

The Prime Minister personally spoke to Shri Suresh Kumar Ji and congratulated him for his effort, appreciating the courage and perseverance that made this journey possible.

In separate posts on X, Shri Modi wrote:

“Shri S. Suresh Kumar Ji’s feat of cycling from Bengaluru to Kanniyakumari is commendable and inspiring. The fact that it was done after he overcame health setbacks highlights his grit and unyielding spirit. It also gives an important message of fitness.

Spoke to him and congratulated him for effort.

@nimmasuresh

https://timesofindia.indiatimes.com/city/bengaluru/age-illness-no-bar-at-70-bengaluru-legislator-pedals-702km-to-kanyakumari-in-five-days/articleshow/126258645.cms#

“ಬೆಂಗಳೂರಿನಿಂದ ಕನ್ಯಾಕುಮಾರಿಯವರೆಗೆ ಸೈಕಲ್ ಸವಾರಿ ಕೈಗೊಂಡ ಶ್ರೀ ಎಸ್. ಸುರೇಶ್ ಕುಮಾರ್ ಅವರ ಸಾಧನೆ ಶ್ಲಾಘನೀಯ ಮತ್ತು ಸ್ಫೂರ್ತಿದಾಯಕವಾಗಿದೆ. ಆರೋಗ್ಯದ ಹಿನ್ನಡೆಗಳನ್ನು ಮೆಟ್ಟಿ ನಿಂತು ಅವರು ಈ ಸಾಧನೆ ಮಾಡಿರುವುದು ಅವರ ದೃಢ ನಿರ್ಧಾರ ಮತ್ತು ಅಚಲ ಮನೋಭಾವವನ್ನು ಎತ್ತಿ ತೋರಿಸುತ್ತದೆ. ಇದು ಫಿಟ್ನೆಸ್ ಕುರಿತು ಪ್ರಮುಖ ಸಂದೇಶವನ್ನೂ ನೀಡುತ್ತದೆ.

ಅವರೊಂದಿಗೆ ಮಾತನಾಡಿ, ಅವರ ಈ ಪ್ರಯತ್ನಕ್ಕೆ ಅಭಿನಂದನೆ ಸಲ್ಲಿಸಿದೆ.

@nimmasuresh

https://timesofindia.indiatimes.com/city/bengaluru/age-illness-no-bar-at-70-bengaluru-legislator-pedals-702km-to-kanyakumari-in-five-days/articleshow/126258645.cms#