‘পিএম স্বনিধি’ যোজনায় ১ লক্ষেরও বেশি সুবিধাভোগীর হাতে অনুমোদিত ঋণের অর্থ হস্তান্তর করেছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী মুম্বাই মেট্রো রেলের ২এ এবং ৭ নম্বর লাইন জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেছেন
প্রধানমন্ত্রী ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাসের সংস্কার প্রকল্পের এবং সাতটি নিকাশি প্ল্যান্টের শিলান্যাস করেছেন
২০টি হিন্দু হৃদয় সম্রাট বালাসাহেব ঠাকরে ‘আপনা দাওয়াখানা’র উদ্বোধন
মুম্বাইয়ে ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ককে কংক্রিটে বাঁধানোর প্রকল্পের সূচনা
“ভারতের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতি সারা বিশ্বের আস্থা রয়েছে”
“ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ‘সুরজ’ এবং ‘স্বরাজ’ ভাবনা ডবল ইঞ্জিন সরকারের মধ্যে প্রতিফলিত”
“ভারত ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে অত্যাধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য বহু অর্থ ব্যয় করছে”
“বর্তমানের চাহিদা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ করা হচ্ছে”
“অমৃতকালে মহারাষ্ট্রের অনেক শহরই ভারতের উন্নয়নের চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে”
“বিভিন্ন শহরের উন্নয়নের জন্য দক্ষতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার কোনও ঘাটতি নেই”
“মুম্বাইয়ের উন্নয়নের ক্ষেত্রে কে
ঐ একই অনুষ্ঠানে তাঁর হাত দিয়ে ২০টি হিন্দু হৃদয় সম্রাট বালাসাহেব ঠাকরে ‘আপনা দাওয়াখানা’র উদ্বোধন ও মুম্বাইয়ে ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ককে কংক্রিটে বাঁধানোর প্রকল্পের সূচনা হয়েছে
“বর্তমান ভারতের মধ্যে যে অঙ্গীকার তা আসলে ‘বিকশিত ভারত’ ধারণার প্রতিফলন।”

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ে প্রায় ৩৮,৮০০ কোটি টাকার একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেছেন। এই একই অনুষ্ঠানে তিনি ‘পিএম স্বনিধি’ যোজনায় ১ লক্ষেরও বেশি সুবিধাভোগীর হাতে অনুমোদিত ঋণের অর্থ হস্তান্তর করেছেন। এছাড়াও, মুম্বাই মেট্রো রেলের ২এ এবং ৭ নম্বর লাইন জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেছেন তিনি। পাশাপাশি, ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাসের সংস্কার প্রকল্পের এবং সাতটি নিকাশি প্ল্যান্টের শিলান্যাস করেছেন শ্রী মোদী। ঐ একই অনুষ্ঠানে তাঁর হাত দিয়ে ২০টি হিন্দু হৃদয় সম্রাট বালাসাহেব ঠাকরে ‘আপনা দাওয়াখানা’র উদ্বোধন ও মুম্বাইয়ে ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ককে কংক্রিটে বাঁধানোর প্রকল্পের সূচনা হয়েছে।

 

এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জানান, আজ যে প্রকল্পগুলি উদ্বোধন ও শিলান্যাস হল সেগুলি মুম্বাইয়ের মতো মহানগরের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি মুম্বাইবাসীকে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলির জন্য অভিনন্দন জানান। “স্বাধীনতার পর এই প্রথম স্বপ্নকে বাস্তবে পূরণ করার সাহাস ভারত দেখাল।” শ্রী মোদী বলেন, আগে ভারতের দারিদ্র্য নিয়েই শুধু আলোচনা হত এবং সারা বিশ্ব থেকে সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করতে হত। এই প্রথমবার ভারতের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতি সারা বিশ্বের যে আস্থা রয়েছে তা অনুভূত হচ্ছে। ভারতবাসী উন্নত এক রাষ্ট্রের জন্য অপেক্ষা করছে আর সারা বিশ্বও একই উৎসাহে উন্নত ভারতের জন্য অপেক্ষা করে রয়েছে। ইতিবাচক এই মানসিকতার একমাত্র কারণ ভারত তার দক্ষতাকে শুভ কাজে ব্যবহার করে। “আজ ভারতের মধ্যে অভূতপূর্ব এক আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠেছে। ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ‘সুরজ’ এবং ‘স্বরাজ’ ভাবনা ডবল ইঞ্জিন সরকারের মধ্যে প্রতিফলিত হচ্ছে।”

 

প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে দুর্নীতি যুগের কথা স্মরণ করেন। সেই সময়ে দেশ এবং দেশের কোটি কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। “আমরা সেই ভাবনাচিন্তা থেকে বেরিয়ে এসেছি। ভারত ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে অত্যাধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য বহু অর্থ ব্যয় করছে।” দেশজুড়ে আবাসন, শৌচাগার নির্মাণ, বিদ্যুৎ, জল ও রান্নার গ্যাসের সংযোগ, বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করা হচ্ছে। আবার, দেশের বিভিন্ন অংশে মেডিকেল কলেজ, এইমস, আইআইটি এবং আইআইএম গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি, অত্যাধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি অতিমারীর সময়েও ভারত ৮০ কোটি নাগরিককে বিনামূল্যে রেশন সরবরাহ করেছে। ঐ সময়কালে পরিকাঠামো ক্ষেত্রের মানোন্নয়নের জন্য যে পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে তা অভূতপূর্ব। “বর্তমান ভারতের মধ্যে যে অঙ্গীকার তা আসলে ‘বিকশিত ভারত’ ধারণার প্রতিফলন।”

‘বিকশিত ভারত’ গড়ার ক্ষেত্রে দেশের শহরগুলির ভূমিকার প্রসঙ্গ প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। অমৃতকালে মহারাষ্ট্রের অনেক শহরই ভারতের উন্নয়নের চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে। আর তাই মুম্বাই ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে। ডবল ইঞ্জিন সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় মুম্বাইয়ের ভবিষ্যতের বিষয়টি সব সময়ই বিবেচনা করা হয়। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মুম্বাই শহরে মেট্রো রেল প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ২০১৪ সালে মুম্বাইয়ে ১০-১১ কিলোমিটার পথে মেট্রো রেল চলাচল করত। আজ ডবল ইঞ্জিন সরকারের উদ্যোগে এই শহরের মেট্রো রেলের কাজে গতি এসেছে। এখন মুম্বাইয়ে ৩০০ কিলোমিটার পথে মেট্রো চলাচলের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারতীয় রেলের মানোন্নয়নের জন্য দেশজুড়ে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুম্বাই শহরের মেট্রো রেল এবং লোকাল ট্রেনও এই উদ্যোগের সুফল পাবে। ডবল ইঞ্জিন সরকার উন্নত পরিষেবা, পরিচ্ছন্নতা এবং ভ্রমণের সময় হ্রাস পাওয়ার বিষয় নিয়ে কাজ করছে। ফলস্বরূপ, রেল স্টেশনগুলিকে এখন বিমানবন্দরের মতো সাজানো হচ্ছে। ভারতের প্রাচীনতম রেল স্টেশন ছত্রপতি মহারাজ টার্মিনাসকে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এই স্টেশন একবিংশ শতাব্দীর চাহিদা পূরণ করতে পারবে। “সাধারণ মানুষ যাতে ভালো পরিষেবা পান এবং তাঁদের সফর যাতে আরামপ্রদ হয়, সেটি নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। রেল স্টেশনগুলি শুধুমাত্র রেল পরিষেবা প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এগুলি মাল্টি-মডেল কানেক্টিভিটির আদর্শ কেন্দ্র।” বাস, মেট্রো, ট্যাক্সি বা অটো - যে কোনও পরিবহণ ব্যবস্থাকেই এক ছাদের তলায় নিয়ে আসা হবে। এর ফলে যাত্রীদের যাতায়াতে সুবিধা হবে। তিনি বলেন, এই ধরনের মাল্টি-মডেল যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতি শহরে গড়ে তোলা হবে।

 

শ্রী মোদী জানান, আগামীদিনগুলিতে মুম্বাইয়ে প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে। শহরের লোকাল ট্রেন, মেট্রো পরিষেবার সম্প্রসারণ, বন্দে ভারত এক্সপ্রেস এবং বুলেট ট্রেনের থেকেও দ্রুতগতির ট্রেনের ব্যবস্থা করা হবে। “দরিদ্র শ্রমিক এবং দোকান কর্মচারী থেকে শুরু করে ধনী ব্যবসায়ী - মুম্বাই শহরে যাঁরা বসবাস করবেন তাঁদের সকলের জন্য উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা করা হবে।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মুম্বাই থেকে পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে যাতায়াত করা এখন সহজ হয়ে উঠেছে। কোস্টাল রোড, ইন্দু মিল স্মারক, নবী মুম্বাই বিমানবন্দর, ফ্রান্স হারবার লিঙ্ক সহ বিভিন্ন প্রকল্প এই শহরেই বাস্তবায়িত হচ্ছে। ধারাভি পুনর্বিকাশ এবং ওল্ড চাউল উন্নয়ন প্রকল্পগুলি রূপায়ণের কাজ আবারও শুরু হয়েছে। এর জন্য তিনি শ্রী একনাথ শিন্ডে এবং তাঁর সরকারকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ মুম্বাইয়ের বিভিন্ন রাস্তাঘাটের মানোন্নয়ন ঘটানো হচ্ছে যা ডবল ইঞ্জিন সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শহরগুলির সম্পূর্ণ সংস্কারের কাজ চলেছে। দূষণ ও পরিচ্ছন্নতার মতো নগর জীবনের বড় বড় সমস্যাগুলির সমাধানের পদ্ধতি খোঁজা হচ্ছে। এ কারণে বৈদ্যুতিক যানবাহন, জৈব জ্বালানি-ভিত্তিক পরিবহণ ব্যবস্থাপনা, হাইড্রোজেন জ্বালানির ব্যবহার, বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করার প্রকল্প এবং জল শোধন প্রকল্পের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। “বিভিন্ন শহরের উন্নয়নের জন্য দক্ষতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার কোনও ঘাটতি নেই। তবে, মুম্বাইয়ের মতো শহরের দ্রুত উন্নয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনকে সক্রিয় হতে হবে। আর তাই এই শহরের উন্নয়নে পুরসভার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।” মহানগরীর জন্য নির্ধারিত অর্থের যথাযথ ব্যবহারের ওপর প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দেন। উন্নয়নমূলক কাজে রাজনীতি করার বিরোধিতা করে শ্রী মোদী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘স্বনিধি’ প্রকল্পে ৩৫ লক্ষ রাস্তার হকার উপকৃত হয়েছেন। তাঁরা সহজেই ঋণ পেয়েছেন। মহারাষ্ট্রের এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী প্রায় ৫ লক্ষ হকার। অথচ রাজনৈতিক কারণে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নেও বিঘ্ন ঘটেছে। এ কারণে তিনি কেন্দ্র এবং মহারাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে মুম্বাই পুরসভার মধ্যে যথাযথ সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্বনিধিকে একটি ঋণ প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করলে চলবে না, এটি হল রাস্তার হকারদের আত্মসম্মানের চাবিকাঠি। এই প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে তাঁরা ৫০ হাজার কোটি ডিজিটাল লেনদেন করেছেন। “যখন ‘সবকা প্রয়াস’ বাস্তবায়িত হয় তখন কোনকিছুই অসম্ভব হয় না - ডিজিটাল ইন্ডিয়া তারই আদর্শ উদাহরণ।”

 

তাঁর ভাষণের শেষে প্রধানমন্ত্রী রাস্তার হকারদের উদ্দেশে বলেন, “আমি আপনাদের সঙ্গে রয়েছি। আপনারা যদি ১০ পা এগিয়ে আসেন, আমরা তাহলে ১১ পা এগোব।” তিনি আশা করেন, দেশের ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের শ্রম ও অধ্যাবসায়ের কারণে ভারত নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছবে। আজ যেসব উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস হয়েছে তার জন্য তিনি মুম্বাই ও মহারাষ্ট্রবাসীকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, শিন্ডেজি এবং দেবেন্দ্রজির জোট মহারাষ্ট্রের স্বপ্নকে পূরণ করবে।

অনুষ্ঠানে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল শ্রী ভগৎ সিং কোশিয়ারি, মুখ্যমন্ত্রী শ্রী একনাথ শিন্ডে, উপ-মুখ্যমন্ত্রী শ্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী পীযূষ গোয়েল, শ্রী নারায়ণ রানে, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী, মহারাষ্ট্র সরকারের মন্ত্রী এবং সে রাজ্যের সাংসদরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রেক্ষাপট

প্রধানমন্ত্রী মহারাষ্ট্রে ৩৮,৮০০ কোটি টাকার কয়েকটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পাশাপাশি বেশ কিছু প্রকল্পের উদ্বোধনও করেছেন। মুম্বাইয়ে তিনি মেট্রো রেললাইনের ২এ এবং ৭ নম্বর অংশটি জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেছেন। এছাড়াও, সাতটি নিকাশি প্রকল্প এবং কংক্রিটের রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনও করেছেন তিনি। ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাসকে সংস্কারের মাধ্যমে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার একটি প্রকল্পের শিলান্যাসও হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর হাত দিয়ে।

 

প্রধানমন্ত্রী মালাড, ভান্ডুপ, বারসোবা, ঘাটকোপার, বান্দ্রা, ধারাভি এবং ওরলিতে ১৭,২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সাতটি নিকাশি ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্টের শিলান্যাস করেছেন। মুম্বাইয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়নের জন্য তিনি ২০টি হিন্দু হৃদয় সম্রাট বালাসাহেব ঠাকরে আপ্লা দাওয়াখানার উদ্বোধন করেন। এই কেন্দ্রগুলি থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হেলথ চেক-আপ, ওষুধ বিতরণ এবং বিভিন্ন রোগ নির্ণয় করা যাবে।

তিনি ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাসের সংস্কারের জন্য শিলান্যাস করেন। টার্মিনাসের দক্ষিণে ঐতিহ্যশালী অংশের ভিড় কমাতে একটি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর জন্য ব্যয় হবে ১,৮০০ কোটি টাকা।

 

সম্পূর্ণ ভাষণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
'Make in India' radar programme to help Tejas track targets gets Rs 2,205 crore boost

Media Coverage

'Make in India' radar programme to help Tejas track targets gets Rs 2,205 crore boost
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Text of PM’s address during inauguration of the Swami Vivekananda Cultural Youth Centre-Viveka Smaraka in Mysuru
August 01, 2026

एल्लरिगू नन्ना नमस्कारगलु।

रामकृष्ण मठ और रामकृष्ण मिशनबेलूर मठ के अध्यक्ष परम पूज्य स्वामी गौतमानंद जी महाराज, श्री रामकृष्ण आश्रम, मैसुरू के अध्यक्ष पूज्य स्वामी मुक्तिदानंद जी, रामकृष्ण मठ और रामकृष्ण मिशन के ट्रस्टी पूज्य स्वामी यादवेंद्रानंद जी, राज्यपाल श्री थावरचंद गहलोत जी, मुख्यमंत्री श्री डी.के. शिवकुमार जी, सांसद यदुवीर कृष्णदत्त चामराज वाडियार जी, विधायक विजयेंद्र येदियुरप्पा जी, के. हरीश गौड़ा जी, अन्य महानुभाव, पूज्य संतगण और भाईयों और बहनों।

सर्वप्रथम मैं मैसूरू की अधिष्ठात्री देवी मां चामुंडेश्वरी को प्रणाम करता हूं। अभी दो दिन पहले ही हम सभी ने गुरू पूर्णिमा भी मनाई है। आप सब जानते हैं, मेरी यात्रा जहां से शुरू हुई और आज मैं जहां हूं, इसमें राम कृष्ण मिशन का बहुत अहम योगदान है। मैं तीन महीने पहले हावड़ा में बेलूर मठ गया था। सभी पूज्य संतों से सतसंग करने का अवसर मिला था। मेरा सौभाग्य है कि आज मुझे फिर मैसूरू में श्री रामकृष्ण आश्रम से जुड़े संतों से, मेरे गुरू बंधुओं से मिलने का, उनसे आशीर्वाद लेने का अवसर मिला है। आप सभी की उपस्थिति की वजह से, आज मैसूरू की इस पवित्र भूमि पर मुझे एक अलग ही ऊर्जा अनुभव हो रही है। मैं आप सभी संतों के चरणों में सादर प्रणाम करता हूं।

साथियों,

मैसूरू भारत की अनादि सांस्कृतिक चेतना का केंद्र रहा है। यहां के मंदिर, यहां की परंपराएं और उत्सव, मैसूरू का दशहरा, यहां के भव्य महल, इसका संगीत और साहित्य, भारत की विरासत इस शहर के कण-कण में रची बसी है। और यह देखकर बहुत संतोष मिलता है। इस शहर ने इस विरासत को उसी कुशलता से सहेजा भी है, संवारा भी है। श्री रामकृष्ण आश्रम और स्वामी विवेकानंद जी की स्मृतियां भी मैसुरू की विरासत का ही एक समृद्ध हिस्सा हैं। कुछ देर पहले मैं उस ऐतिहासिक भवन में भी गया था, जहां स्वामी विवेकानंद जी ने अपने प्रवास के दौरान कुछ समय बिताया था। कर्नाटका के कितने ही विद्वान और मनीषी इस स्थान से जुड़े रहे हैं। राष्ट्रकवि कुवेम्पु जैसे महापुरुष जब मैसुरू में थे, उनका भी श्रीरामकृष्ण आश्रम से गहरा जुड़ाव था। आज स्वामी विवेकानंद कल्चरल यूथ सेंटर, यानी विवेका स्मारका के उद्घाटन के जरिए, हम इस मिशन को नया विस्तार दे रहे हैं। इसके लिए मैं श्रीरामकृष्ण आश्रम और इससे जुड़े सभी विद्वानों को हार्दिक बधाई देता हूं।

साथियों,

व्यक्ति से विभूति का निर्माण एकाएक नहीं होता। इसके लिए हमें जीवन की अनगिनत परीक्षाएँ देनी होती हैं। साधना करनी होती है, तप करना होता है, खुद को तपाना पड़ता है, खपाना पड़ता है। ख्याति के बाद तो संसार पीछे खड़ा होता है। लेकिन, तप के समय महान विभूतियों को पहचानना आसान नहीं होता। जो साधक को तपस्या में पहचानता है, वो उसकी सिद्धि का सहभागी भी होता है।

इसलिए भाइयों बहनों,

स्वामी विवेकानंद के जीवन में मैसुरू का इतना अहम योगदान था। करीब 130 वर्ष पहले, स्वामी जी, एक युवा संन्यासी के रूप में भ्रमण करते हुए मैसुरू आए थे। तब उनकी प्रसिद्धि वैसी नहीं थी। लेकिन, विचार उतने ही ऊंचे थे। उस समय उन्हें जिन लोगों ने पहचाना, जो उनके साथ जुड़े, उनमें से एक प्रमुख नाम मैसुरू के तत्कालीन महाराजा का भी था। जब स्वामी विवेकानंद जी अमेरिका में थे, तो उन्होंने वहाँ से मैसुरू के तत्कालीन महाराजा को एक पत्र लिखा था। उसमें उन्होंने स्वयं महाराजा के सहयोग का उल्लेख किया था।

साथियों,

स्वामी विवेकानंद जी ने भारतीय चेतना को आत्मसात किया था। उन्होंने शास्त्रों को आत्मसात किया था जो कहते हैं- “परं परोपकारार्थं यो जीवति स जीवति”। अर्थात्, वास्तव में वही जीता है जो दूसरों के लिए जीता है। इसी मंत्र पर चलते हुए, मैसुरू के इस श्री रामकृष्ण आश्रम ने पिछले वर्ष अपने सौ साल पूरे किए हैं। शिक्षा और स्वास्थ्य से जुड़ी सेवाएँ हों, या प्राकृतिक आपदा में राहत कार्य, श्री रामकृष्ण आश्रम ने स्वामी विवेकानंद जी की विरासत को जीवंत रखा है। मुझे विश्वास है विवेका स्मारका साधकों और श्रद्धालुओं के लिए आत्मिक उत्थान का तीर्थ बनेगा। स्वामी विवेकानंद जी की प्रेरणा थी- ‘शिव ज्ञाने जीव सेवा’। यानी जीव की सेवा ही शिव की सेवा है। हमें इस विवेका स्मारक में इसलिए, ऐसे युवाओं को गढ़ना है, जिनके लिए समाज और राष्ट्र के हित, गरीब-वंचित के दुःख, अपने सुख-दुःख से ऊपर हों। जिन युवाओं के लिए राष्ट्र प्रथम ही सर्वोपरि मंत्र हो, मां भारती की सेवा ही जिनका जीवन लक्ष्य हो।

साथियों,

स्वामी विवेकानंद जी युवाओँ की शिक्षा को राष्ट्र निर्माण का मजबूत आधार मानते थे। उन्होंने स्वयं ये देखा था कि कैसे दुनिया के देश अपने युवाओं को शिक्षित बना रहे हैं। लेकिन दुर्भाग्य से तब भारत गुलाम था। भारत के युवा भी गुलामी की जंजीरों में जक़ड़े हुए थे। उस दौर से लेकर अब तक, भारत के युवा ने एक लंबी यात्रा तय की है। भारत का जो युवा कभी जंजीरों में था, आज वो युवा दुनिया के विकास को गति दे रहा है।

· आज भारत की अर्थव्यवस्था, सबसे तेजी से आगे बढ़ रही है।

· किसकी वजह से? भारत के युवाओँके सामर्थ्य से।

· आज भारत में दुनिया की तीसरा सबसे बड़ा स्टार्ट-अप इकोसिस्टम है।

· किसकी वजह से? भारत के युवाओँ के सामर्थ्य से।

· आज भारत दुनिया का दूसरा सबसे बड़ा मोबाइल फोन निर्माता बन चुका है।

· किसकी वजह से?

· भारत के युवाओं के सामर्थ्य से।

· आज भारत से बने Digital Solutions, दुनिया के अनेक देशों के लिए प्रेरणा बन रहे हैं।

· किसकी वजह से?

· भारत के युवाओं के सामर्थ्य से।

· आज भारत सेमीकंडक्टर मैन्युफैक्चरिंग की नई यात्रा पर तेज़ी से आगे बढ़ रहा है।

· किसकी वजह से?

· भारत के युवाओं के सामर्थ्य से।

· आज भारत AI, Deep Tech, Space Technology और Innovation के नए अध्याय लिख रहा है।

· किसकी वजह से?

· भारत के युवाओं के सामर्थ्य से।

अभी कुछ दिन पहले ही हमने देखा है, भारत के युवाओं ने अंतरिक्ष में कमाल कर दिया है। पहली बार युवाओं का बनाया हुआ एक प्राइवेट कंपनी का रॉकेट, अंतरिक्ष तक पहुंचा है। आज कोई भी सेक्टर हो, भारत युवा अपना दम-खम दिखा रहा है। हम सभी अपने आसपास देख रहे हैं, आज छोटे से छोटे व्यवसाय में लगा युवा, भारत की डिजिटल इकॉनमी को आगे बढ़ा रहा है। वो मुद्रा लोन के जरिए नई शुरुआत कर रहा है। वो देश की स्टार्टअप revolutionको लीड कर रहा है। आत्मनिर्भर भारत का अभियान हो, मेक इन इंडिया का अभियान हो, इसकी सफलता के पीछे भारत के युवाओं की ही ताकत है।

साथियों,

किसी भी देश में, युवाओं का सामर्थ्य तभी उस राष्ट्र की शक्ति बनता है, जब उसे सही अवसर मिले, जब उसे सही दिशा मिले, और जब उसे अपनी ही धरती पर बड़े सपने देखने, उन्हें पूरा करने का भरोसा मिले। और इसमें बहुत बड़ी भूमिका हमारे शिक्षा संस्थानों की होती है। मुझे खुशी है कि आज भारत में शिक्षण संस्थाओँ की संख्या लगातार बढ़ रही है। पिछले 12 वर्षों में, 650 से ज्यादा नई यूनिवर्सिटीज बनी हैं। पिछले 12 वर्षों में करीब 14 हजार नए कॉलेज बने हैं। 4 हजार से ज्यादा नई ITI बनाई गई हैं। 9 नए आई.आई.एम, 7 नई आई.आई.टी, और13 नए एम्स भी स्थापित किए गए हैं। आज देश में MBBS की सीटें करीब 1 लाख 40 हजार हो चुकी हैं। मेडिकल कॉलेजों की संख्या बढ़कर 823 हो गई है।

साथियों,

एक ओर हम एजुकेशन इनफ्रास्ट्रक्चर को modernize कर रहे हैं। साथ ही, शिक्षा व्यवस्था को भी आधुनिक जरूरतों के हिसाब से ढाला जा रहा है। नेशनल एजुकेशन पॉलिसी, भारत के युवाओँ को 21वीं सदी के अनुरूप तैयार करने का माध्यम बन रही है।

साथियों,

स्कूली शिक्षा में भी बड़े स्तर पर काम हुआ है। देशभर में 14 हजार से ज्यादा पीएम श्री स्कूल विकसित किए गए हैं। शिक्षा केवल किताबी न रहे, बच्चों में इनोवेशन और साइंटिफिक टेंपरामेंट विकसित हो, इसके लिए,10 हजार से ज्यादा अटल टिंकरिंग लैब्स स्थापित हुई हैं।

साथियों,

स्वामी विवेकानंद जी, राष्ट्र उत्थान के लिए शिक्षा के साथ-साथ समानता को भी उतना ही अहम मानते थे। शिक्षा में भेदभाव न हो, अवसरों में भेदभाव न हो, आज ये देश का विज़न बन गया है। आज बेटियाँ भी सैनिक स्कूलों में एड्मिशन ले रहीं हैं। एनडीए में बेटियां राष्ट्र के लिए योगदान दे रही हैं। आज मेडिकल और इंजीनियरिंग जैसी पढ़ाई मातृभाषा में करने की सुविधा हो गई है। इससे, भाषा के आधार पर अवसरों में होने वाले भेदभाव पर लगाम लग रही है।

साथियों,

युवा शक्ति का स्वस्थ, अनुशासित और आत्मविश्वास से भरे रहना उतना ही जरूरी है। जो देश खेलों को महत्व देते हैं, वहां के युवाओं में इन तीनों गुणों का तेजी से विकास होता है। इसलिए आज खेलों को राष्ट्र निर्माण की एक महत्वपूर्ण धारा के रूप में देखा जा रहा है। खेलो इंडिया यूथ गेम्स, यूनिवर्सिटी गेम्स, पैरा गेम्स और विंटर गेम्स जैसे आयोजनों ने देशभर के युवाओं को अपनी प्रतिभा दिखाने का मंच दिया है। आज देशभर में आधुनिक स्पोर्ट्स इंफ्रास्ट्रक्चर का विस्तार हो रहा है, खेलो इंडिया सेंटर के माध्यम से सुविधाएं बढ़ रही हैं, गांवों से लेकर छोटे शहरों तक नई प्रतिभाओं की पहचान की जा रही है।

और साथियों,

आज इस अभियान के परिणाम भी साफ - साफ दिखाई दे रहे हैं। अंतरराष्ट्रीय खेल प्रतियोगिताओं में भारत का प्रदर्शन बेहतर होता जा रहा है। हमारे खिलाड़ी नए-नए कीर्तिमान बना रहे हैं, हमारी बेटियां देश का गौरव बढ़ा रही हैं।

साथियों,

स्वामी विवेकानंद जी की तरह, हमें विवेका स्मारका, बड़े उद्देश्य के लिए कार्य करने की प्रेरणा देता है। ऐसे स्थान पर मैं हमारे युवाओं से कुछ आग्रह करना चाहता हूं।

साथियों,

मैसुरू को अक्सर भारत के सबसे स्वच्छ शहरों में स्थान मिला है। मैं इसके लिए यहां के लोगों को हृदय से बधाई देता हूं। क्या इस अवसर पर हम ये संकल्प ले सकते हैं, कि भविष्य में स्वच्छता के संकल्प को निरंतर मजबूत करते रहेंगे। हमें यहाँ की प्राकृतिक संपदाओं को संरक्षित करना चाहिए। हमें पर्यावरण से जुड़े संकल्प लेने चाहिए। हमें पानी की हर बूंद बचाने के लिए मिशन मोड में काम करना होगा।

साथियों,

आज ही यहां ‘वाल्मीकि रामायण’ के कन्नड़ा अनुवाद का विमोचन भी हुआ है। मैं कन्नड़ा भाषा से जुड़ी एक अपील भी करना चाहता हूं। कर्नाटका महान लेखकों और कवियों की धरती है। कन्नड़ा भाषी लोग हमेशा से पढ़ने की संस्कृति के लिए जाने जाते हैं। स्मार्टफोन के इस युग में इस स्वभाव को और बढ़ावा मिलना चाहिए। क्या हम युवा पीढ़ी को कन्नड़ा साहित्य से गहराई से जुड़ने के लिए प्रेरित कर सकते हैं।

साथियों,

मैसुरू अपने सिल्क, चंदन और हस्तशिल्प के लिए प्रसिद्ध है। जब भी हम किसी को उपहार दें, तो क्या हम ये सुनिश्चित कर सकते हैं कि वो किसी भारतीय के हाथों और पसीने से बनी चीज हो? इससे हमारी संस्कृति को बढ़ावा मिलेगा, साथ ही, एक और परिवार को आर्थिक सहायता भी मिलेगी।

साथियों,

स्वामी विवेकानंद जी ने जिस तरह के भारत का सपना देखा था, उसे पूरा करने का दायित्व आज की पीढ़ी पर है। मुझे विश्वास है, विवेका स्मारका इसके लिए एक ऊर्जा स्रोत का काम करेगा। मैं एक बार फिर, यहां एकत्र पूज्य संतजनों गुरू बंधुओं और मैसुरू के लोगों को नमन करते हुए मेरी वाणी को विराम देता हूं। आप सबका बहुत-बहुत धन्यवाद।