“ভারতের চন্দ্র অভিযানের সফল বাস্তবায়ন বিজ্ঞান এবং শিল্পের কারণে হয়েছে”
“বি-২০-র ভাবনা – আর.এ.আই.এস.ই.-র মধ্যে যে ‘আই’অক্ষরটি আছে তা উদ্ভাবন (ইনোভেশন) শব্দটির প্রতিনিধিত্ব করছে; কিন্তু উদ্ভাবনের পাশাপাশি আমি এখানে আরেকটি ‘আই’ – অন্তর্ভুক্তিকরণকেও (ইনক্লুসিভনেস) দেখতে পাচ্ছি”
“বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যে জিনিসটির সবথেকে প্রয়োজন তা হল পারস্পরিক আস্থা”
“বিশ্বের উন্নয়নের ভবিষ্যৎ ব্যবসা-বাণিজ্যের ভবিষ্যতের মধ্যে নিহিত রয়েছে”
“ভারত একটি দক্ষ এবং বিশ্বাসযোগ্য আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ স্থান”
“স্থিতিশীলতা সুযোগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের মডেল হিসেবে সমানভাবে প্রযোজ্য”
“ভারত ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ-বান্ধব আমানতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলছে যেখানে প্রো-প্ল্যানেট উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে”
“বাণিজ্যিক সংস্থাগুলির উপভোক্তাদের ক্রয় করার ক্ষমতার বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করতে হবে, তারা যদি আত্মকেন্দ্রিক মনোভাব নিয়ে চলে তাহলে সেটি সকলের জন্যই ক্ষতিকারক”
“আন্তর্জাতিক উপভোক্তা দিবসের বিষয়ে আমাদের ভাবনাচিন্তার প্রয়োজন; এর মাধ্যমে বাণিজ্যিক সংস্থা এবং উপ
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ নতুন দিল্লিতে বি-২০ ইন্ডিয়া ২০২৩ শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য রেখেছেন। বি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নীতি নির্ধারক, বাণিজ্য জগতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং বিশেষজ্ঞরা এক জায়গায় জড়ো হন এবং ‘বি-২০ ভারত বিজ্ঞপ্তি’ নিয়ে আলোচনা করেন। এই বিজ্ঞপ্তিতে ৫৪টি সুপারিশ এবং বিভিন্ন নীতি প্রণয়নের জন্য ১৭২টি পদক্ষেপের প্রস্তাব রয়েছে, যা জি-২০ গোষ্ঠীর কাছে পাঠানো হবে।
“ভারতের সঙ্গে যত আপনারা বন্ধুত্ব করবেন, ততই উভয় পক্ষের সমৃদ্ধি নিশ্চিত হবে।”
আজ ভারত পরিবেশ-বান্ধব জ্বালানীর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক সৌর জোট উল্লেখযোগ্য।

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ নতুন দিল্লিতে বি-২০ ইন্ডিয়া ২০২৩ শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য রেখেছেন। বি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নীতি নির্ধারক, বাণিজ্য জগতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং বিশেষজ্ঞরা এক জায়গায় জড়ো হন এবং ‘বি-২০ ভারত বিজ্ঞপ্তি’ নিয়ে আলোচনা করেন। এই বিজ্ঞপ্তিতে ৫৪টি সুপারিশ এবং বিভিন্ন নীতি প্রণয়নের জন্য ১৭২টি পদক্ষেপের প্রস্তাব রয়েছে, যা জি-২০ গোষ্ঠীর কাছে পাঠানো হবে।   

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জানান, সফলভাবে চন্দ্রযান ২৩ আগস্ট চাঁদের মাটিতে পৌঁছনোয় দেশজুড়ে এক উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। ভারতে উৎসবের মরশুম এগিয়ে এসেছে এবং সমাজ ও বাণিজ্য জগৎ তা উপভোগ করছে। ইসরো-র সফল চন্দ্র অভিযানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অভিযানে যে সমস্ত উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলি বেসরকারি সংস্থা এবং অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। “এই সফল বাস্তবায়ন বিজ্ঞান এবং শিল্পের কারণে হয়েছে।”

 

শ্রী মোদী বলেন, ভারতের পাশাপাশি সারা বিশ্ব এই সাফল্য উদযাপন করছে। এটি একটি দায়বদ্ধ মহাকাশ অভিযান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অভিযান দায়বদ্ধ, ত্বরান্বিত, উদ্ভাবনী, সুস্থায়ী এবং সাম্যের প্রতিফলন , যা আজকের বি-২০ সম্মেলনের মূল ভাবনার সঙ্গে মিলে যায়। মানবজাতিকে – ‘এক বিশ্ব, এক পরিবার, এক ভবিষ্যৎ’-এর ধারণায় এগিয়ে যেতে হবে।  

বি-২০-র মূল ভাবনা প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বি-২০-র ভাবনা – আর.এ.আই.এস.ই.-র মধ্যে যে ‘আই’অক্ষরটি আছে তা উদ্ভাবন (ইনোভেশন) শব্দটির প্রতিনিধিত্ব করছে। কিন্তু উদ্ভাবনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী এখানে আরেকটি ‘আই’ – অন্তর্ভুক্তিকরণের (ইনক্লুশিভনেস) কথা বলেছেন। তিনি জানান এই ভাবনা থেকেই জি-২০ গোষ্ঠীতে আফ্রিকান ইউনিয়নকে স্থায়ী আসন দেওয়ার কথা আলোচনা হচ্ছে। বি-২০ সম্মেলনেও আফ্রিকার আর্থিক উন্নয়নকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। “ভারত বিশ্বাস করে, এই মঞ্চের সমন্বিত উদ্যোগের মধ্য দিয়ে এই গোষ্ঠীর ওপর একটি প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে।” যে সিদ্ধান্তগুলি গৃহীত হচ্ছে তার সাফল্য নির্ভর করবে ভবিষ্যতে সেগুলিকে কার্যকর করার সময় আন্তর্জাতিক স্তরে অর্থনৈতিক বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের মধ্য দিয়ে, যার ফলে সুস্থায়ী উন্নয়নের এক বাতাবরণ তৈরি হবে। 
 
শ্রী মোদী প্রতি শতাব্দীতে একবার বিপর্যয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, এই শতাব্দীতে তা কোভিড-১৯ অতিমারী হিসেবে উপস্থিত হয়েছিল। এই অতিমারী আমাদের শিখিয়েছে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যে জিনিসটির সবথেকে প্রয়োজন তা হল পারস্পরিক আস্থা। অতিমারী পারস্পরিক আস্থাকে নষ্ট করে দিলেও ভারতের তার ওপর ভরসা ছিল। তাই, ভারত ১৫০টির বেশি দেশকে ওষুধ সরবরাহ করেছে। এর ফলে সারা বিশ্বের কাছে নিজেকে ওষুধের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত করে তুলেছে। একইভাবে, এ দেশের উৎপাদিত টিকা বহু মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে। ভারতের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তার কাজের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে। “ভারতের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণে জি-২০ গোষ্ঠীর বিভিন্ন বৈঠক এ দেশের ৫০টির বেশি শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।”

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সংগঠনগুলির কাছে ভারত আকর্ষণীয় অংশীদার হিসেবে উঠে এসেছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ দেশে তরুণ প্রতিভার প্রাচুর্য রয়েছে এবং দেশ ডিজিটাল ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়েছে। “ভারতের সঙ্গে যত আপনারা বন্ধুত্ব করবেন, ততই উভয় পক্ষের সমৃদ্ধি নিশ্চিত হবে।”

 

শ্রী মোদী বলেন, “ব্যবসা-বাণিজ্য সম্ভাবনাকে সমৃদ্ধিতে, বাধা-বিপত্তিকে সম্ভাবনায় এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সাফল্যে পরিণত করে। বড় হোক কিংবা ছোট, আন্তর্জাতিক বা স্থানীয় – ব্যবসা-বাণিজ্য প্রত্যেকের উন্নতি নিশ্চিত করে।” বিশ্বের উন্নয়নের ভবিষ্যৎ ব্যবসা-বাণিজ্যের ভবিষ্যতের মধ্যে নিহিত রয়েছে।

কোভিড-১৯ মহামারীর ফলে মানুষের জীবনে যে পরিবর্তন এসেছে তার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই অতিমারী আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে চিরস্থায়ী বিঘ্ন ঘটিয়েছে। যে সময়ে সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রয়োজনীয়তা সবথেকে বেশি ছিল, সেই সময় তার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শ্রী মোদী বলেন, সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন ঘটার সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে ভারতই। ভারত একটি দক্ষ এবং বিশ্বাসযোগ্য আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ স্থান। একটি ভরসাযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে ভারত সক্ষম, যা বিশ্ব বাণিজ্যে সহায়ক হবে। 

জি-২০ গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বি-২০-র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন স্থিতিশীলতার দিকে গুরুত্ব আরোপের সময় এসেছে। স্থিতিশীলতা সুযোগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের মডেল, দুই ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। এ প্রসঙ্গে এখানে মোটা দানার শস্য অর্থাৎ, মিলেটের কথা তিনি উল্লেখ করেন। এই মিলেট একটি মহাখাদ্য। এটি চাষের ক্ষেত্রে পরিবেশ-বান্ধব বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করা যায়। ছোট চাষীদের জন্য মিলেট চাষ লাভজনক। অর্থাৎ, অর্থনীতি এবং জীবনশৈলী – উভয় ক্ষেত্রেই এটি সমান কার্যকরী। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বৃত্তীয় অর্থনীতি এবং পরিবেশ-বান্ধব জ্বালানীর কথা উল্লেখ করেন। আজ ভারত পরিবেশ-বান্ধব জ্বালানীর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক সৌর জোট উল্লেখযোগ্য।  

শ্রী মোদী বলেন, কোভিড পরবর্তী সময়কালে সকলেই নিজের স্বাস্থ্যের বিষয়ে অতিরিক্ত সচেতন হয়ে উঠেছেন, যা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় প্রকাশ পাচ্ছে। বাণিজ্য মহল এবং সমাজকে পৃথিবীর বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করতে হবে। তাদের সিদ্ধান্তগুলি পৃথিবীর ওপর কি প্রভাব ফেলে তা নিয়ে মূল্যায়নের প্রয়োজন। “এই পৃথিবীর কল্যাণসাধন করতে আমাদের দায়বদ্ধ।” তাঁর ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ‘মিশন লাইফ’-এর প্রসঙ্গটি উল্লেখ করেন। এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য, সকলের যৌথ উদ্যোগে এমন কিছু করা যা  আমাদের গ্রহের জন্য শুভ হবে। এ সংক্রান্ত সমস্যাগুলির সমাধান খুব শীঘ্রই করা যাবে যখন আমাদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসবে এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান প্রো-প্ল্যানেট নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। ভারত ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ-বান্ধব আমানতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলছে যেখানে গ্রহের প্রতি ইতিবাচক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এই উদ্যোগে সামিল হওয়ার জন্য বাণিজ্য মহলকে আহ্বান জানান, যাতে বিশ্বজুড়ে এক নতুন আন্দোলন গড়ে তোলা যায়।   

 

শ্রী মোদী ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রথাগত ভাবনাচিন্তার পরিবর্তন ঘটানোর ডাক দেন। এখন সময় এসেছে ব্র্যান্ড এবং বিক্রি নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা করার। “ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমাদের এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে যার দীর্ঘমেয়াদি সুফল আমরা সকলেই ভোগ করব। ভারত বেশ কিছু নীতি কার্যকর করার ফলে মাত্র পাঁচ বছরেই ১৩ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষ দারিদ্র্যের নাগপাশ থেকে মুক্ত হয়েছেন। এঁরা নতুন উপভোক্তা। এই নব্য মধ্যবিত্তরা ভারতের উন্নয়নে নতুন গতি এনেছেন। দরিদ্র মানুষের জন্য গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের সুফল এটি,  যার প্রভাব মধ্যবিত্ত শ্রেণী এবং অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগের ওপরও পড়ে।” বাণিজ্যিক সংস্থাগুলির উপভোক্তাদের ক্রয় করার ক্ষমতার বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করতে হবে। তারা যদি আত্মকেন্দ্রিক মনোভাব নিয়ে চলে তাহলে সেটি সকলের জন্যই ক্ষতিকারক। এই প্রসঙ্গে তিনি বিরল মৃত্তিকা বা রেয়ার আর্থ এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু খনিজ উপাদানের অপ্রতুলতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। “এই চাহিদাগুলিকে যদি আন্তর্জাতিক স্তরের দায়বদ্ধতা বলে বিবেচনা করা না হয়, তাহলে নতুন এক ধরনের ঔপনিবেশিকতার জন্ম নেবে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাভজনক বাজার তখনই স্থায়ী হয় যখন সেই বাজার উৎপাদক এবং গ্রাহক – দু’পক্ষের স্বার্থই বজায় রাখে। এই একই ভাবনা রাষ্ট্রগুলির ওপরও বর্তায়। অন্য দেশকে বাজার হিসেবে বিবেচনা করলে উৎপাদক রাষ্ট্রগুলি অচিরেই সমস্যার সম্মুখীন হবে। প্রত্যেককে উন্নয়ন যাত্রায় সমান অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাণিজ্য জগতের নেতৃবৃন্দকে প্রধানমন্ত্রী আরও বেশি উপভোক্তা-কেন্দ্রিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। এর ফলে তাদের সকলের স্বার্থই সুরক্ষিত থাকবে। “প্রতি বছর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহল এক জায়গায় বসে গ্রাহকদের মঙ্গলের জন্য এবং তাঁদের বাজার যাতে ভালো থাকে তার জন্য একজোট হয়ে শপথ গ্রহণ করুন।” 

শ্রী মোদী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলকে প্রস্তাব দেন যে বছরে একটি দিন নির্ধারণ করতে যে দিনটিতে তাঁরা উপভোক্তাদের স্বার্থ নিয়ে আলোচনা করবেন। “আমরা যখন উপভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলছি, তখন তাঁদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য আমাদের সচেতন হতে হবে। তাহলেই উপভোক্তাদের অধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়গুলির সমাধান করা যাবে। আন্তর্জাতিক উপভোক্তা দিবসের বিষয়ে আমাদের ভাবনাচিন্তার প্রয়োজন। এর মাধ্যমে বাণিজ্যিক সংস্থা এবং উপভোক্তাদের মধ্যে আস্থা শক্তিশালী হবে।” তিনি এ বিষয়ে আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, উপভোক্তাদের একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের মধ্যে খুচরো ক্রেতা হিসেবে বিবেচনা করলে হবে না, একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যে যে দেশগুলি যুক্ত রয়েছে তাদের সারা বিশ্বজুড়ে পণ্য ও পরিষেবা নিয়ে ভাবতে হবে। 

 

এই অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকায় প্রধানমন্ত্রী তাঁদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্ন রাখেন। তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং মানবজাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে এই প্রশ্নগুলির উত্তরের ওপর। এক্ষেত্রে উত্তরের জন্য পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানী ক্ষেত্রে সঙ্কট, অসম খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল, জলের নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা সহ বিভিন্ন বিষয়ের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে যথেষ্ট প্রভাব সৃষ্টি হবে। এই সমস্যাগুলির সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, ১০-১৫ বছর আগেও কেউ ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো সমস্যার কথা ভাবেননি। এই বিষয়ে একটি সুসংহত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন। একইভাবে কৃত্রিম মেধার বিষয় নিয়েও ভাবনাচিন্তা করতে হবে। আজ এই বিষয়ে যথেষ্ট উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এক্ষেত্রে দক্ষতা এবং নতুন দক্ষতা সৃষ্টি সংক্রান্ত কিছু নৈতিক প্রশ্ন দেখা যাচ্ছে। “নৈতিকভাবে কৃত্রিম মেধা ব্যবহারের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সংগঠন এবং সরকারগুলির একজোট হয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।” বিভিন্ন ক্ষেত্রের নানা সমস্যার সমাধানে এভাবেই সবাইকে একজোট হতে হবে। 

তাঁর ভাষণের শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য মহল বর্তমানে সফলভাবে দেশ ও কালের গণ্ডি অতিক্রম করেছে, কিন্তু এখন সময় এসেছে তৃণমূল স্তর থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করার। সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতার দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বি-২০ শীর্ষ সম্মেলন এক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার জন্য একটি যৌথ উদ্যোগ নিতে সাহায্য করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। “বিশ্বের সকলের মধ্যে প্রযুক্তির সাহায্যে যোগাযোগ গড়ে ওঠার মাধ্যমে অভিন্ন উদ্দেশ্য সাধন হয়, পৃথিবীর প্রতি দায়বদ্ধতা প্রকাশ পায়, সমৃদ্ধ এক ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে”

 

প্রেক্ষাপট
বিজনেস-২০’ বা বি-২০ হল জি-২০ গোষ্ঠীর ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে আলাপ-আলোচনা চালানোর সরকারি মঞ্চ। ২০১০ সালে বি-২০ প্রতিষ্ঠিত হয়। জি-২০ গোষ্ঠীর বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে বি-২০-র ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বিভিন্ন সংস্থা এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। আর্থিক উন্নতি এবং উন্নয়নে গতি আনতে বি-২০ গোষ্ঠী নীতিগত ক্ষেত্রে নানা ধরনের সুপারিশ করে থাকে। 
২৫ আগস্ট থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত বি-২০-র শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মূল ভাবনা আর.এ.আই.এস.ই. – দায়বদ্ধ (রেসপন্সিবল), ত্বরান্বিত (অ্যাক্সিলারেটেড), উদ্ভাবনী (ইনোভেটিভ), সুস্থায়ী (সাসটেনেবল) এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে সাম্য (ইক্যুইটেবল বিজনেসেস)। ২৭ আগস্টের সম্মেলনে ৫৫টি দেশের ১,৫০০-র বেশি প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেছেন। 

 

সম্পূর্ণ ভাষণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Parliament on verge of history, says PM Modi, as it readies to take up women's bills

Media Coverage

Parliament on verge of history, says PM Modi, as it readies to take up women's bills
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Text of PM Modi’s address during inauguration of the Delhi-Dehradun Economic Corridor
April 14, 2026
The Delhi-Dehradun Economic Corridor, being inaugurated today, is a world-class infrastructure project that will deepen connectivity, boost the economy and tourism: PM
With the completion of 25 years since its formation, Uttarakhand has now entered its 26th year; Today, with the inauguration of the Delhi-Dehradun Expressway, another major milestone has been added: PM
The Dehradun-Delhi Economic Corridor will transform the entire region: PM
The Corridor will save time, travel will become cheaper and faster, people will spend less on petrol and diesel, and fares and freight costs will decrease;it will also facilitate employment: PM
Our mountains, these forest areas, this heritage of Devbhoomi, these are very, very sacred places; It is our duty to keep such places clean: PM
Plastic bottles, heaps of garbage in these areas hurt the sanctity of Devbhoomi ; it is very essential that we keep these sites of Devbhoomi, our pilgrimage sites, clean and beautiful: PM

 

भारत माता की जय।

भारत माता की जय।

भारत माता की जय।

उत्तराखंड के राज्यपाल गुरमीत सिंह जी, यहां के लोकप्रिय और कर्मठ युवा मुख्यमंत्री पुष्कर सिंह धामी जी, केंद्रीय मंत्रिमंडल के मेरे साथी नितिन गड़करी जी, अजय टमटा जी, टेक्नॉलोजी के माध्यम से जुड़े उत्तर प्रदेश के मुख्यमंत्री योगी आदित्यनाथ जी, गर्वनर आनंदी बेन, दिल्ली की मुख्यमंत्री रेखा गुप्ता जी, मंच पर उपस्थित प्रदेश भाजपा अध्यक्ष महेंद्र भट्ट जी, पूर्व राज्यपाल भगत सिंह कोश्यारी जी, पूर्व मुख्यमंत्री भाई रमेश पोखरियाल, विजय बहुगुना जी, तीरथ सिंह रावत जी, त्रिवेंद्र सिंह रावत जी, उत्तराखंड सरकार के सभी मंत्रीगण, सांसद और विधायकगण और विशाल संख्या में पधारे मेरे प्यारे भाईयों बहनों।

देवभूमि उत्तराखंड़ की इस पावन धरती पर आप सभी को मेरा प्रणाम। बहुत बडी संख्या में आए हुए पूज्य संतगण को भी प्रणाम। उत्तराखंड का प्यारा भुलों-भैबंदों, बौड़ी-भूलियों, स्याणा-बुजुर्गों, आप सबु तैं नमस्कार! मेरो प्यारो दाजी भाई, दीदी-बैनी, आमा-बाबा सबई लाई मेरो तरफ़ देखी ढोग दिनछू।

इस कार्यक्रम से टेक्नोलॉजी के जरिये भी दिल्ली, यूपी से अनेक लोग जुड़े हैं, मैं सभी का अभिनन्दन करता हूं। सबसे पहले तो मैं आप सबकी क्षमा चाहता हूं, उत्तरप्रदेश और दिल्ली के कार्यक्रम में जुड़े हुए लोगों की भी क्षमा मांगता हूं, कि मुझे यहां पहुंचने में एक घंटे से भी ज्यादा देर हो गई, सब स्थान पर लंबे समय तक आप सबको इंतजार करना पड़ा, और कारण यही था, मैं निकला तो समय पर था, लेकिन करीब-करीब 12 किलोमीटर का रोड शो, काली मंदिर से लेकर के यहां तक, इतना उत्साह इतना उमंग, कि मेरे लिए तेज गति से गाड़ी चलाना बड़ा मुश्किल हो गया। तो धीरे-धीरे लोगों को प्रणाम करते-करते, जनता जनार्दन के आशीर्वाद लेते लेते यहां पहुंचने में मुझे एक घंटे से भी ज्यादा देरी हो गई, और इसके लिए मैं आपकी क्षमा मांगता हूं, और ऐसी धूप में 12 किलोमीटर ये जन सैलाब, ये उत्तराखंड़ का प्यार, माताओं-बहनों का आशीर्वाद, मैं आज उत्तराखंड़ से एक नई ऊर्जा लेकर के जाऊंगा, नई प्रेरणा लेकर के जाऊंगा और मैं इसके लिए हर किसी का हृदय से आभार व्यक्त करता हूं।

साथियों,

आज देश में पर्व त्योहार की उमंग है। विभिन्न हिस्सों में नववर्ष का आगमन हुआ है। मैं देशवासियों को बैसाखी, बोहाग बीहू और पुथांडु की शुभकामनाएं देता हूं!

साथियों,

अगले कुछ ही दिनों में, यमुनोत्री, गंगोत्री, बाबा केदारनाथ, बद्रीनाथ धाम की यात्रा भी शुरू होने जा रही है। इस पवित्र समय का, देश के कोटि-कोटि आस्थावान, श्रद्धाभाव से इंतज़ार करते हैं। मैं पंच बद्री, पंच केदार, पंच प्रयाग और यहां के आराध्य देवों को श्रद्धापूर्वक प्रणाम करता हूं। मैं संतला माता को भी नमन करता हूं। यहां आने से पहले मुझे, मां डाट काली के दर्शन करने का सौभाग्य मिला है। देहरादून शहर पर, मां डाट काली की बड़ी कृपा है। दिल्ली-देहरादून इकनॉमिक कॉरिडोर के इतने बड़े प्रोजेक्ट को पूरा करने में, माता डाट काली का आशीर्वाद बहुत बड़ी शक्ति रहा है।

साथियों,

उत्तराखंड राज्य अपनी स्थापना के 25 वर्ष पूरा करने के साथ ही छब्बीसवें वर्ष में प्रवेश कर चुका है। आज दिल्ली देहरादून एक्सप्रेस-वे के उद्घाटन के साथ इस प्रगति में एक और बड़ी उपलब्धि जुड़ी है। आपको याद होगा, बाबा केदार के दर्शन के बाद मेरे मुंह से अनायास निकला था, कि इस शताब्दी का तीसरा दशक उत्तराखंड का दशक होगा। मुझे बहुत खुशी है कि डबल इंजन सरकार की नीतियों, और उत्तराखंड के लोगों के परिश्रम से, ये युवा राज्य, विकास के नए आयाम जोड़ रहा है। ये प्रोजेक्ट भी, उत्तराखंड के विकास को नई गति देगा। इस एक्सप्रेसवे का बहुत बड़ा हिस्सा यूपी से होकर गुजरता है। इससे गाजियाबाद, बागपत, बड़ौत, शामली और सहारनपुर जैसे अनेक शहरों को भी बहुत फायदा होगा। टूरिज्म के लिहाज से ये प्रोजेक्ट बहुत अहम है। मैं पूरे देश को इस प्रोजेक्ट की बहुत-बहुत बधाई देता हूं।

साथियों,

आज डॉक्टर बाबा साहेब आंबेडकर की जयंती भी है। मैं बाबा साहेब को कोटि-कोटि देशवासियों की ओर से श्रद्धांजलि अर्पित करता हूं। बीते दशक में हमारी सरकार ने जो नीतियां बनाईं, जो निर्णय लिए, वो संविधान की गरिमा को पुनर्स्थापित करने वाले रहे हैं। आर्टिकल 370 हटने के बाद आज पूरे देश में भारत का संविधान लागू है। जिन दर्जनों जिलों में माओवाद-नक्सलवाद खत्म हुआ है, वहां भी अब संविधान की भावना के अनुरूप काम हो रहा है। देश में समान नागरिक संहिता लागू हो, ये हमारे संविधान की अपेक्षा है। उत्तराखंड ने संविधान की इस भावना को आगे बढ़कर और उस भावना को आगे बढ़ाकर पूरे देश को राह दिखाई है।

साथियों,

बाबा साहेब का जीवन, गरीबों को, वंचितों को, शोषितों को न्यायपूर्ण व्यवस्था देने के लिए समर्पित था। हमारी सरकार आज उसी भावना के साथ, हर गरीब, हर वंचित को सच्चा सामाजिक न्याय देने में जुटी है। और सामाजिक न्याय का एक बहुत बड़ा माध्यम, देश का संतुलित विकास है, सबको सुविधा है, सबकी समृद्धि है। इसलिए ही बाबा साहेब आधुनिक इंफ्रास्ट्रक्चर की, औद्योगीकरण की भरपूर वकालत करते थे।

साथियों,

भविष्य की दशा और दिशा क्या होगी, अक्सर लोग, इसके लिए हाथ की रेखाओं को देखते हैं, दिखाते हैं। जो भविष्य वक्ता होते हैं ना, वो हस्त रेखाएं देखते हैं, और हर व्यक्ति के भविष्य के विषय में बताते हैं। मैं इस विज्ञान को तो नहीं जानता हूं, लेकिन कहते हैं कि ये भी एक शास्त्र है। अब ये तो हो गई व्यक्ति के भाग्य की जो उसके हाथ में रेखाएं हैं उसकी बात, लेकिन मैं अगर इसी संदर्भ मे बात को, इसी संदर्भ को राष्ट्र-जीवन से जोड़कर के देखूं, तो राष्ट्र की भाग्य रेखाएं कौन सी होती हैं? राष्ट्र की भाग्य रेखाएं ये हमारी ये सड़कें होती हैं, हमारे हाईवे होते हैं, हमारे एक्सप्रेसवे होते हैं, एयरवे, रेलवे, वॉटरवे, ये हमारे राष्ट्र की भाग्य रेखाएं होती हैं। और बीते एक दशक से हमारा देश, विकसित भारत बनाने के लिए विकास की ऐसी ही भाग्य रेखाओं के निर्माण में जुटा हुआ है। ये विकास रेखाएं सिर्फ आज की सुविधाएं नहीं हैं, ये आने वाली पीढ़ियों की समृद्धि की गारंटी हैं और ये मोदी की भी गारंटी है। बीते दशक से हमारी सरकार राष्ट्र की इन विकास-रेखाओं पर अभूतपूर्व निवेश कर रही है। मैं आपको एक आंकड़ा देता हूं। अभी नितिन जी ने बहुत सारे आंकड़ें सिर्फ उत्तराखंड़ से संबंधित बताए हैं आपको। देखिए साल 2014 तक ऐसे इंफ्रास्ट्रक्चर के लिए साल में, पूरे देश में, 2 लाख करोड़ रुपए भी खर्च नहीं होते थे। ये मैं पूरे हिन्दुस्तान की बात बताता हूं, 2 लाख करोड़ भी नहीं होते थे, आज ये छह गुना अधिक, 12 लाख करोड़ रुपए से भी ज्यादा हो चुका है। यहां उत्तराखंड में ही, सवा दो लाख करोड़ रुपए से अधिक के इंफ्रास्ट्रक्चर प्रोजेक्ट्स पर काम जारी है। 2014 के पहले पूरे देश के लिए 2 लाख करोड़, आज अकेले उत्तराखंड़ के लिए सवा दो लाख करोड़ रूपया। कभी उत्तराखंड के गांवों में सड़क के इंतज़ार में पीढ़ियां बदल जाती थीं। आज डबल इंजन सरकार के प्रयासों से, अब सड़क गांव तक पहुंच रही है, जो गांव पहले वीरान पड़ गए थे, वो फिर से जीवंत हो रहे हैं। चारधाम महामार्ग परियोजना हो, रेल परियोजनाओं का विस्तार हो, केदारनाथ और हेमकुंड साहिब रोपवे हो, विकास की ये रेखाएं, इस क्षेत्र के कोने-कोने में जीवन की भी भाग्य रेखाएं बन रही हैं।

साथियों,

21वीं सदी का भारत आज जिस स्पीड और जिस स्केल पर काम कर रहा है, उसकी पूरी दुनिया चर्चा कर रही है। मैं आपको उत्तराखंड, पश्चिमी यूपी और दिल्ली का ही उदाहरण देता हूं। कुछ सप्ताह पहले ही, दिल्ली मेट्रो का विस्तार हुआ, मेरठ में मेट्रो-सेवा की शुरुआत हुई, दिल्ली-मेरठ नमो-भारत रेल देश को समर्पित की गई, नोएडा इंटरनेशनल एयरपोर्ट की शुरुआत हुई, हवाई जहाजों के लिए MRO फेसिलिटी पर काम शुरू हुआ, और आज, देहरादून-दिल्ली एक्सप्रेसवे शुरु हो रहा है।

साथियों,

इतने छोटे से रीजन में ये सब इतने कम समय में हो रहा है। कल्पना कीजिए, देश में कितने बड़े पैमाने पर इंफ्रास्ट्रक्चर बन रहा है। और इसलिए ही मैं कहता हूं - 21वीं सदी का भारत, आधुनिक इंफ्रास्ट्रक्चर के जिस नए युग में प्रवेश कर रहा है, वो अभूतपूर्व है, अकल्पनीय है।

साथियों,

आज भारत के अलग-अलग हिस्सों को जोड़ने वाले, अनेक इकोनॉमिक कॉरिडोर्स, उस पर काम चल रहा है। जैसे दिल्ली-मुबंई इंडस्ट्रियल कॉरिडोर, बेंगलुरू-मुंबई इंडस्ट्रियल कॉरिडोर, ईस्ट कोस्ट इकोनॉमिक कॉरिडोर, अमृतसर-कोलकाता इंडस्ट्रियल कॉरिडोर, ऐसे बहुत से इकोनॉमिक कॉरिडोर देश में बनाए जा रहे हैं। ये इकोनॉमिक कॉरिडोर, प्रगति के नए द्वार हैं, गेटवे हैं, डोर हैं। और इनसे उम्मीदों की डोर भी जुड़ी हुई है। ये इकोनॉमिक कॉरिडोर, सड़क के अलावा नए-नए व्यापार-कारोबार का मार्ग बनाते हैं। फैक्ट्रियों के लिए, गोदामों के लिए पूरा नेटवर्क, उसका आधार तैयार करते हैं।

साथियों,

देहरादून-दिल्ली इकोनॉमिक कॉरिडोर से भी इस पूरे क्षेत्र का कायाकल्प होने जा रहा है। पहला फायदा तो ये है कि इससे समय बचेगा, आना-जाना सस्ता और तेज होगा, लोगों का पेट्रोल-डीजल कम खर्च होगा, किराया-भाड़ा कम होगा, और दूसरा बड़ा फायदा रोजगार का होगा। अभी इसके निर्माण में 12 हजार करोड़ रुपए खर्च हुए, तो हज़ारों श्रमिकों को काम मिला है। साथ ही, जो इंजीनियर हैं, अन्य स्किल्ड वर्कफोर्स हैं, ट्रांसपोर्ट से, उससे जुड़े साथी हैं, उनको भी बहुत बड़ी मात्रा में काम मिला है। किसानों और पशुपालकों की उपज भी, अब तेज़ गति से, बड़ी मंडियों और बड़े बाज़ारों तक पहुंचेगी।

साथियों,

इस शानदार एक्सप्रेस-वे से उत्तराखंड के टूरिज्म को बहुत ही बड़ा फायदा होगा। देहरादून, हरिद्वार, ऋषिकेश, मसूरी और चारधाम यात्रा के लिए ये सबसे प्रमुख मार्ग बनेगा। और हम सभी जानते हैं, जब टूरिज्म का विकास होता है, तो हर कोई कुछ न कुछ कमाता है। होटल हो, ढाबे वाले हो, टैक्सी हो, ऑटो हो, होम स्टे हो, सबको इसका फायदा होता है।

साथियों,

मुझे खुशी है कि आज उत्तराखंड, विंटर टूरिज्म, विंटर स्पोर्टस और wed in india, शादी के लिए, बहुत बेहतरीन डेस्टिनेशन बनता जा रहा है।

साथियों,

उत्तराखंड की अर्थव्यवस्था के लिए बारहमासी पर्यटन बहुत जरूरी है। इसलिए मेरा सर्दियों में होने वाली धार्मिक यात्राओं को लेकर बहुत आग्रह रहा है। और मुझे खुशी है कि हर साल इन यात्राओं में लोगों की संख्या बढ़ रही है। आपको याद होगा, मैं 2023 में आदि कैलाश और ओम पर्वत की यात्रा पर गया था। पहले बहुत जाता था, बीच में बिल्कुल जा नहीं पाया, कई वर्षों के बाद मैं गया, और मुझे मुख्यमंत्री जी बता रहे थे, गर्वनर साहब बीच मे आए, वो भी बता रहे थे कि 2023 में वहां गया और उसके बाद, बहुत बड़ी संख्या में श्रद्धालु वहां जा रहे हैं। पहले वहां कुछ सौ लोग ही सर्दियों में यात्रा के लिए जाते थे। साल 2025 में, करीब-करीब 40 हजार से अधिक लोगों ने इन पवित्र स्थानों की यात्रा की है। कभी एक हजार नहीं होते थे, अगर चालीस हजार पहुंचते हैं तो यहां के लोगों की रोजी-रोटी की कितनी बड़ी ताकत आ जाती है। इसी तरह साल 2024 में शीतकालीन चारधाम यात्रा में, करीब अस्सी हज़ार श्रद्धालु आए थे। 2025 में ये संख्या डेढ़ लाख पार कर चुकी है।

साथियों,

हम ऐसा विकसित भारत बनाने में जुटे हैं, जहां प्रगति भी हो, प्रकृति भी हो और संस्कृति भी हो। और इसलिए, आज होने वाले हर निर्माण को, इन्हीं त्रिवेणी, प्रगति, प्रकृति और सांस्कृति की त्रिवेणी, इन्हीं मूल्यों के आधार पर विकसित किया जा रहा है। इंफ्रास्ट्रक्चर से इंसानों को भी सुविधा हो, और वहां रहने वाले वन्यजीवों को भी असुविधा न हो, ये हमारा प्रयास है। और इसलिए ही इस एक्सप्रेसवे पर, करीब 12 किलोमीटर लंबा एलिवेटेड वाइल्ड लाइफ कॉरिडोर भी बनाया गया है। हाथियों को भी असुविधा न हो, इसका भी ध्यान रखा गया है।

वैसे साथियों,

मैं आज देशभर के सभी पर्यटकों और तीर्थयात्रियों से भी एक आग्रह करना चाहता हूं। हमारे पहाड़, ये वन क्षेत्र, ये देवभूमि की धरोहर, ये बहुत ही बहुत पवित्र स्थान हैं। ऐसे स्थानों को साफ-सुथरा रखना, ये हम सभी का कर्तव्य है। यहां रहने वालों का भी और यात्री के रूप में आने वालों का भी। इन इलाकों में प्लास्टिक की बोतलें, कूड़े-कचरे का ढेर, ये देवभूमि की पवित्रता को ठेस पहुंचाता है। इसलिए बहुत आवश्यक है कि हम देवभूमि के इन स्थलों को, हमारे इन तीर्थ स्थलों को स्वच्छ रखें, सुंदर रखें।

साथियों,

अगले वर्ष हरिद्वार में कुंभ का भी आयोजन होना है। हमें आस्था के इस संगम को दिव्य-भव्य और स्वच्छ बनाने में कोई कोर-कसर बाकी नहीं छोड़नी है।

साथियों,

उत्तराखंड में नंदा देवी राजजात यात्रा भी होती है। ये आस्था का उत्सव तो है ही, ये हमारी सांस्कृतिक चेतना का भी जीवंत उदाहरण है। जहां मां नंदा को बेटी मानकर पूरे सम्मान के साथ विदा किया जाता है। इस यात्रा में बहनों-बेटियों की भागीदारी, इसे विशेष बनाती है। मैं मां नंदा को प्रणाम करते हुए, देशभर की बहनों-बेटियों को भी विशेष संदेश देना चाहता हूं। विकसित भारत के निर्माण में आपकी बहुत बड़ी भूमिका है। इस देश की बेटियों की, इस देश की माताओं की, बहनों की बहुत बड़ी भूमिका मैं देख रहा हूं। और बहनों-बेटियों की सुविधा, सुरक्षा और लोकतंत्र में भागीदारी, ये डबल इंजन सरकार की बहुत बड़ी प्राथमिकता है। आप अभी देख रही हैं, कि दुनिया में कितना बड़ा संकट आया है। इससे दुनिया के विकसित देशों में भी कितना हाहाकार मचा है। ऐसे मुश्किल हालात में भी, सरकार का निरंतर प्रयास है कि हमारी बहनों को कम से कम परेशानी हो।

साथियों,

बहनों-बेटियों की भागीदारी का एक और महत्वपूर्ण पड़ाव अब देश के सामने है। 4 दशकों के इंतज़ार के बाद संसद ने, नारीशक्ति वंदन अधिनियम पारित किया था। इससे विधानसभा और लोकसभा में महिलाओं के लिए तैंतीस प्रतिशत आरक्षण तय हो गया। सभी दलों ने आगे आकर इस महत्वपूर्ण कानून को समर्थन दिया। अब महिलाओं को ये जो हक मिला है ना, इस हक को लागू करने में देर नहीं होनी चाहिए। अब ये लागू होना चाहिए। अब जो 2029 में लोकसभा के चुनाव होंगे, अब तब से लेकर विधान सभा के भी चुनाव आते रहेंगे, जो भी चुनाव आते रहेंगे, 2029 से ही ये लागू हो जाना चाहिए। ये देश की भावना है, ये देश की हर बहन-बेटी की इच्छा है। मातृशक्ति की इसी इच्छा को नमन करते हुए, 16 अप्रैल से संसद में विशेष चर्चा तय की गई है। देश की बहनों-बेटियों के हक से जुड़े इस काम को, सभी राजनीतिक दल मिलकर के सर्वसम्मति से आगे बढ़ाएं, उसको पूरा करे। और मैंने आज देश की सभी बहनों के नाम एक खुला पत्र लिखा है, सोशल मीडिया में शायद ये मेरा पत्र आप तक पहुंचा होगा, हो सकता है टीवी और अखबार वाले भी इस पत्र का जिक्र करते होंगे। मैंने बड़े आग्रह के साथ देश की माताओं-बहनों को इस कार्य में भागीदार बनने के लिए निमंत्रित किया है। मुझे पक्का विश्वास है कि पत्र मेरे देश की माताएं-बहनें जरूर पढ़ेंगी। एक एक शब्द पर मनन करेंगी, और इतना बड़ा पवित्र कार्य करने के लिए 16-17-18 को संसद में आने वाले सभी सांसदों को उनके आशीर्वाद भी मिलेंगे। मैं आज देवभूमि से देश के सभी दलों से फिर अपील करूंगा कि नारीशक्ति वंदन अधिनियम में संशोधन का जरूर समर्थन करें। 2029 में हमारे देश की 50 प्रतिशत जनसंख्या हमारी माताएं-बहनें, हमारी बेटियां, उनको उनका हक हम देकर रहें।

साथियों,

मैं उत्तराखंड आउं और फौज की बात ना हो, तो बात अधूरी ही रहती है। ये गढ़ी कैंट, ये सभा स्थल, ये उत्तराखंड की महान सैन्य परंपरा का प्रमाण है। यहां पास ही देश की रक्षा सुरक्षा से जुड़े कई संस्थान हैं, 1962 की लड़ाई में, शहीद जसवंत सिंह रावत जी के शौर्य को देश कभी भुला नहीं सकता।

साथियों,

सेना के सामर्थ्य को सशक्त करना हो, या हमारे सैनिक परिवारों की सुविधा और सम्मान हो, हमारी सरकार इसके लिए निरंतर प्रयासरत है। वन रैंक वन पेंशन के माध्यम से हमारी सरकार ने, अब तक करीब सवा लाख करोड़ रुपए पूर्व फौजियों को उनके खाते में जमा कर दिए हैं। उत्तराखंड के भी हजारों परिवारों को इसका लाभ मिला है। इसके अलावा, इस वर्ष पूर्व फौजियों के लिए health scheme का बजट भी छत्तीस प्रतिशत बढ़ाया गया है। 70 वर्ष और इससे अधिक के ex-servicemen के लिए, दवाईयों की door step home delivery भी शुरू की गई है। पूर्व फौजियों के बच्चों की एजुकेशन ग्रांट भी डबल की गई है। और बेटियों के विवाह के लिए जो सहायता मिलती है, उसको भी 50 हज़ार से बढ़ाकर एक लाख रुपए किया गया है।

साथियों,

देशभक्ति, देवभक्ति और प्रगति, ऐसे हर आयाम को जोड़ते हुए, हमें देश को विकसित बनाना है। एक बार फिर दिल्ली-वासियों को, उत्तर प्रदेश वासियों को, और एक प्रकार से देशवासियों को, इस शानदार एक्सप्रेसवे की मैं बहुत-बहुत शुभकामनाएं देता हूं।

मेरे साथ बोलिये-

भारत माता की जय!

भारत माता की जय!

वंदे मातरम!

वंदे मातरम!

वंदे मातरम!

वंदे मातरम!

वंदे मातरम!

वंदे मातरम!

वंदे मातरम!

बहुत-बहुत धन्यवाद !