প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ নতুন দিল্লির ভারত মন্ডপমে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহণ অ্যাসোসিয়েশন আইএটিএ-এর ৮১ তম বার্ষিক সাধারণসভা এবং বিশ্ব বিমান পরিবহণ সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্য রেখেছেন। অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চার দশক পর ফের ভারতে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে। ভারতে যে রূপান্তর প্রক্রিয়া চলছে তার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। বিশ্ব বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে ভারত আজ শুধু এক বিশাল বাজারই নয়, নীতিগত নেতৃত্ব, উদ্ভাবন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের প্রতীক হয়ে উঠেছে। গত এক দশকে ভারতের ঐতিহাসিক অগ্রগতির উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে ভারত মহাকাশ ও বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে বিশ্ব নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।

এই শীর্ষ সম্মেলন ও আলোচনা শুধু বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রেরই নয়, বিশ্বজনীন সহযোগিতা, জলবায়ু সংক্রান্ত অঙ্গীকার এবং ভারসাম্যপূর্ণ বিকাশে এক মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে বলে আশাপ্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে হওয়া আলোচনা বিশ্ব বিমান পরিবহণকে নতুন দিশা দেবে, এই ক্ষেত্রের অসীম সম্ভাবনার পূর্ণ সদ্ব্যবহারে সহায়ক হবে। বিপুল দূরত্ব অতিক্রম করার এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আন্তঃমহাদেশীয় ভ্রমণের যে ক্ষমতা মানুষ অর্জন করেছে তার উল্লেখ করে শ্রী মোদী বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে মানুষের চিন্তাভাবনা প্রচলিত ভ্রমণের বাইরেও বিকাশ লাভ করছে। উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সুবাদে বহু দূরবর্তী গন্তব্যও এখন নিকটের হয়ে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের ভ্রমণের আকাঙ্ক্ষা আজ আর শুধু পৃথিবীর শহরগুলিতেই সীমাবদ্ধ নয়, মহাকাশ ও বিভিন্ন গ্রহেও মানুষ যেতে চাইছে, সেজন্য এক্ষেত্রে বাণিজ্যিক পরিবহণের আকাঙ্ক্ষা জোরালো হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে বিমান পরিবহণকে সংযুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে। যদিও এই রূপান্তর ঘটতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে, তবে এর মধ্য দিয়ে রূপান্তর ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভারত এর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের বিমান পরিবহণ ক্ষেত্র তিনটি মূল ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রথমত, ভারতের বিশাল বাজার – একে শুধু গ্রাহকদের সমষ্টি হিসেবে দেখলে ভুল করা হবে, এটি আসলে ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা সম্পন্ন সমাজের প্রতিচ্ছবি। দ্বিতীয়ত, ভারতের শক্তিশালী জনবিন্যাস ও প্রতিভার সম্ভার – যেখানে তরুণ উদ্ভাবকরা কৃত্রিম মেধা, রোবটিক্স ও দূষণমুক্ত জ্বালানির ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসছেন। তৃতীয়ত, শিল্প বিকাশের সহায়ক মুক্ত নীতি ও পরিমণ্ডল – যা ভারতের বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রকে নজিরবিহীন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে ভারতের বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব রূপান্তর ঘটেছে। ভারত আজ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহণ বাজারে পরিণত হয়েছে। উড়ান প্রকল্পের সাফল্যের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী একে ভারতের অসামরিক পরিবহণের ইতিহাসে এক সোনালী অধ্যায় বলে বর্ণনা করেন। শ্রী মোদী বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ যাত্রী সুলভে বিমানযাত্রার সুযোগ পেয়েছেন, অনেকে প্রথমবারের জন্য বিমানে চড়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রের বিকাশহার ধারাবাহিকভাবে দুই অঙ্কে রয়েছে। বার্ষিক ২৪ কোটি যাত্রী বিমানে যাতায়াত করেন, যা বিশ্বের বহু দেশের জনসংখ্যার থেকে বেশি। ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক যাত্রীর সংখ্যা ৫০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। শ্রী মোদী জানান, ভারতে বর্তমানে বিমানের মাধ্যমে বছরে ৩৫ লক্ষ টন পণ্য পরিবহণ করা হয়। এই দশকের শেষে এই পরিমাণ বেড়ে ১ কোটি টনে পৌঁছবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এগুলি নিছক পরিসংখ্যান নয়, ভারতের অপার সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি। বিশ্বমানের বিমানবন্দর পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভারতের উদ্যোগের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে দেশে মাত্র ৭৪টি বিমানবন্দর ছিল, যা আজ বেড়ে ১৬২ হয়েছে। ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলি ২০০০টিরও বেশি নতুন বিমান কেনার বরাত দিয়েছে, যা থেকে এই ক্ষেত্রের দ্রুত বিকাশের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের বিমান পরিবহণ শিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টেক অফ পয়েন্টে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এর লক্ষ্য নজিরবিহীন উচ্চতা স্পর্ষ করা। এই রূপান্তর কেবল ভৌগোলিক সীমানাই অতিক্রম করবে না, সুস্থিতি ও দূষণমুক্ত পরিবহণকে গতি দেবে এবং বিমানযাত্রাকে বিশ্বজুড়ে সবার নাগালের মধ্যে পৌঁছে দেবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ভারতীয় বিমানবন্দরগুলির বার্ষিক যাত্রীবহন ক্ষমতা ৫০ কোটি। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে হাতে গোনা যে কয়েকটি দেশ যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের ক্ষেত্রে নতুন মান সৃষ্টি করেছে, ভারত তাদের অন্যতম। যাত্রী নিরাপত্তা, সুস্থিতি ও দক্ষতা বৃদ্ধির উপরেও সমান জোর দেওয়া হচ্ছে। দূষণমুক্ত বিমান জ্বালানি ব্যবহারের উপর ভারত জোর দিচ্ছে, কার্বন নির্গমনের হার কমিয়ে দূষণমুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যে ভারত বিনিয়োগ করছে।
বিদেশীদের ডিজি যাত্রা অ্যাপ ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ভ্রমণের সহায়ক। এখানে যাত্রীর মুখ চিহ্নিতকরণের যে প্রযুক্তি রয়েছে, তার সাহায্যে যাত্রীরা বিমানবন্দরে প্রবেশ থেকে শুরু করে বোর্ডিং গেট পর্যন্ত অনায়াসে যেতে পারেন, তাঁদের কোনো কাগজ বা পরিচয়পত্র দেখাতে হয় না। এই ডিজিটাল প্রযুক্তি উন্নয়নশীল দেশগুলির সামনেও এক নতুন মডেল তৈরি করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভারতের বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে ক্রমাগত হয়ে চলা সংস্কারের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত এই ক্ষেত্রে বিশ্বের উৎপাদন কেন্দ্র হয়ে উঠতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সেজন্যই এই বছরের বাজেটে মিশন ম্যানুফ্যাকচারিং-এর ঘোষণা করা হয়েছে। সংসদে পাশ হওয়া প্রোটেকশন অফ ইন্ডারেস্ট ইন এয়ারক্রাফট অবজেক্ট বিলের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ফলে কেপটাউন কনভেনশন ভারতে আইনী বৈধতা পেলো। এর ফলে, বিশ্বের যেসব কোম্পানী ভারতে বিমান লিজ দেবে, তারা বিশেষ সুবিধা পাবে। এক্ষেত্রে গিফট সিটির জন্য বিশেষ উৎসাহদানের উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন ভারতীয় বিমান আইন, আইনী কাঠামো সহজ করেছে, বিধিগত বাধ্যবাধকতা মেনে চলার পথ মসৃণ করেছে এবং কর কাঠামো সরল করেছে। বড় বড় আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলির সামনে ভারতে বিনিয়োগের এক চমৎকার সুযোগ এসেছে। বিমান ক্ষেত্রের বিকাশ ঘটলে উড়ানের সংখ্যা বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান ও সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাইলট থেকে শুরু করে বিমানকর্মী, ইঞ্জিনিয়ার, গ্রাউন্ড স্টাফ সকলেরই কাজের সুযোগ বাড়বে। মেইনটেনেন্স রিপেয়ার অ্যান্ড ওভার হল (এমআরও) ক্ষেত্রকে সূর্যোদয়ের ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত বিমান রক্ষণাবেক্ষণের বিশ্বজনীন কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার লক্ষে এগচ্ছে। ২০১৪ সালে ভারতের ৯৬টি এমআরও কেন্দ্র ছিল, বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ১৫৪ হয়েছে। এখানে ১০০ শতাংশ প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ, জিএসটি ছাড় ও কর ছাড়ের সুবিধা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত ৪ বিনিয়ন ডলারের এমআরও হাব তৈরি করতে চায় বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত শুধু বিমান পরিবহণের বাজারই নয়, বিমানের নকসা থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বিমান হাতে তুলে দেওয়া – ভারত বিমান ক্ষেত্রের বিশ্বজনীন সরবরাহশৃঙ্খলের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে উঠতে চায়। বিমান সংস্থাগুলিকে কেবল ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ই নয়, ‘ডিজাইন ইন ইন্ডিয়া’র প্রতি মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের বিমান পরিবহণ ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্তিকরণের দিক থেকেও অনেক এগিয়ে। এখানকার ১৫ শতাংশেরও বেশি পাইলট মহিলা, যা বিশ্বগড়ের তিনগুণ। বিমানকর্মীদের সংখ্যার ক্ষেত্রে বিশ্বগড় যেখানে ৭০ শতাংশ, ভারতে তা ৮৬ শতাংশ। ভারতের এমআরও ক্ষেত্রে মহিলা ইঞ্জিনিয়ারদের অংশগ্রহণও বিশ্বগড়ের থেকে অনেক বেশি বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রের ভবিষ্যতের এক প্রধান উপাদান হল ড্রোন প্রযুক্তি। ভারত এই প্রযুক্তিকে আর্থিক ও সামাজিকভাবে কাজে লাগাচ্ছে। মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে কৃষি, পরিষেবা প্রদান ও অন্যান্য বহু ক্ষেত্রে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রের নিরাপত্তাকে ভারত সর্বদাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। এক্ষেত্রে আইসিএও-র বিশ্বমান মেনে চলা হয়েছে। আইসিএও-র সাম্প্রতিক নিরাপত্তা অডিটেও ভারতের ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত বরাবরই মুক্ত আকাশ ও বিশ্বজনীন সংযোগের সপক্ষে সমর্থন জানিয়ে এসেছে। শিকাগো কনভেনশনের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। ভারতের বিমান পরিবহণ ক্ষেত্র যাতে সবার নাগালের মধ্যে আসে এবং তা নিরাপদ হয় তা সুনিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী কিঞ্জারাপু রামমোহন নাইডু, শ্রী মুরলীধর মোহল, আইএটিএ বোর্ড অফ গভর্নর্সের চেয়ারম্যান পিটার এলবার্স, আইএটিএ-র মহানির্দেশক উইলি ওয়ালস, ইন্ডিগোর ম্যানেজিং ডিরেক্টর শ্রী রাহুল ভাটিয়া প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
Click here to read full text speech
Today, India is emerging as a leading force in the Global Space-Aviation convergence. pic.twitter.com/XBsSJIu7QY
— PMO India (@PMOIndia) June 2, 2025
Today, India is the world's third-largest domestic aviation market.
— PMO India (@PMOIndia) June 2, 2025
The success of the UDAN scheme is a golden chapter in Indian civil aviation. pic.twitter.com/z3gHkUqOJA
For the world's leading aviation companies, India presents an excellent opportunity for investment. pic.twitter.com/ZQe3J495Rd
— PMO India (@PMOIndia) June 2, 2025


