ডিজিটাল ইন্ডিয়া সপ্তাহ ২০২২-এর মূল ভাবনা: নতুন ভারতের প্রযুক্তি উদ্ভাবন
প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল ইন্ডিয়া ভাষিনী, ডিজিটাল ইন্ডিয়া জেনেসিস এবং ইন্ডিয়া স্টেক. গ্লোবাল – এরও সূচনা করেছেন। তিনি মাইস্কিম ও মেরি পেহচান উৎসর্গ করেছেন
প্রধানমন্ত্রী চিপস টু স্টার্টআপ কর্মসূচির আওতায় চালু হতে যাওয়া ৩০টি প্রতিষ্ঠানের প্রথম দলটির ঘোষণা করেছেন
ভারত চতুর্থ শিল্প বিপ্লব শিল্প ৪.০-তে বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে
ভারত অনলাইন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে লাইনে দাঁড়ানোর বিষয়টি তুলে দিতে সক্ষম হয়েছে
ডিজিটাল ইন্ডিয়া সরকারকে মানুষের কাছে ও ফোনে নিয়ে এসেছে
ভারতের ফিনটেক ব্যবস্থাপনা জনগণের দ্বারা, জনগনের মাধ্যমে জনগণের জন্য এক বাস্তব সমাধান
আমাদের ডিজিটাল সমাধানের নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক মূল্য রয়েছে।
ভারত আগামী ৩-৪ বছরে ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে
ভারত সহজলভ্য গ্রহীতা থেকে পরিবর্তিত হয়ে সুলভে নির্মাণকারী হতে চায়

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী গুজরাটের গান্ধীনগরে ডিজিটাল ইন্ডিয়া সপ্তাহ ২০২২-এর সূচনা করেছেন। এর মূল ভাবনা ভারতের কারিগরি কৌশলকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার প্রয়াস। এই অনুষ্ঠানে তিনি আরও বিভিন্ন ডিজিটাল উদ্যোগের সূচনা করেন। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা ও সহজে পরিষেবা প্রদান করে জীবনযাত্রার মান সহজ করতে এবং স্টার্টআপগুলিকে উৎসাহ দিতে এই উদ্যোগগুলি চালু করা হয়েছে। শ্রী মোদী চিপস টু  স্টার্টআপ কর্মসূচির আওতায়   চালু হতে যাওয়া ৩০টি প্রতিষ্ঠানের প্রথম দলটির ঘোষণা করেছেন । অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী ভূপেন্দ্রভাই প্যাটেল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং শ্রী রাজীব চন্দ্রশেখর। এছাড়াও, রাজ্যের বিভিন্ন মন্ত্রীরা জনগণের প্রতিনিধি স্টার্টআপ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

সমাবেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একুশ শতকের ভারতের ক্রমপরিবর্তনশীল ছবি পরিস্ফূট হচ্ছে। ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র মাধ্যমে ভারত কিভাবে মানবজাতির উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার করছে, তা ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, “আট বছর আগে শুরু হওয়া এই প্রচার সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যেভাবে বিকশিত হয়েছে, আমি তাতে আনন্দিত”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব দেশ সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ করেনি, সময় তাদের পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে। তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের সময় ভারত এর সুফলভোগী ছিল। কিন্তু, বর্তমানে আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, ভারত চতুর্থ শিল্প বিপ্লব শিল্প ৪.০ – এর ক্ষেত্রে গোটা বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে গুজরাটের ভূমিকারও প্রশংসা করেন।

৮-১০ বছর আগের কথা স্মরণ করে নরেন্দ্র মোদী বলেন, জন্মের শংসাপত্র, বিল জমা দেওয়া, রেশন দোকান, ফলাফল জানতে বা ব্যাঙ্কের কাজ - সব ক্ষেত্রেই জনগণকে লাইনে দাঁড়াতে হ’ত। কিন্তু, অনলাইন ব্যবস্থা চালুর ফলে ভারত থেকে এখন ঐ দীর্ঘ লাইনগুলি ক্রমশ অবলুপ্ত হচ্ছে। জীবনের শংসাপত্র, সংরক্ষণ, ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার মতো বিভিন্ন পরিষেবা দ্রুত সহজে পাওয়া যায়। পাশাপাশি, প্রযুক্তির মাধ্যমে সরাসরি ভর্তুকি প্রদান ব্যবস্থাপনায় গত আট বছরে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ২৩ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি সরাসরি পাঠানো সম্ভব হয়েছে। ‘প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে দেশের ২ লক্ষ ২৩ হাজার কোটি টাকা ভুল হাতে পৌঁছনো বন্ধ করা গেছে’। দুর্নীতি কমাতে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার ভূমিকার উপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ডিজিটাল ইন্ডিয়া বর্তমানে সরকারকে জনগণের দরজায় ও ফোনে নিয়ে এসেছে। ১ লক্ষ ২৫ হাজারেরও বেশি সাধারণ পরিষেবা কেন্দ্র এবং গ্রামীণ বিপণীগুলি বর্তমানে গ্রামীণ ভারতে ই-কমার্স ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এছাড়াও, গ্রামাঞ্চলের জমি-জমা সংক্রান্ত নথিপত্রও প্রযুক্তির সাহায্যে পাওয়া যাচ্ছে।

অতিমারীর সময় প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত আট বছরের ডিজিটাল ইন্ডিয়া দেশে যে ক্ষমতা তৈরি করেছে, তার সাহায্যে করোনা অতিমারী মোকাবিলায় সাহায্য পেয়েছে ভারত। দেশের কোটি কোটি মহিলা, কৃষক, শ্রমিকরা একটি মাত্র ক্লিকের মাধ্যমেই হাজার হাজার কোটি টাকা তাঁদের ব্যাঙ্কে পেয়েছেন। “এক দেশ, এক রেশন কার্ড - ব্যবস্থার মাধ্যমে আমরা ৮০ কোটিরও বেশি দেশবাসীর জন্য বিনামূল্যে রেশন নিশ্চিত করতে পেরেছি”। আমরা বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচেয়ে কার্যকর কোভিড টিকাকরণ কর্মসূচি চালাচ্ছি। আমাদের কোউইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ২০০ কোটির কাছাকাছি প্রতিষেধক ও এ-সংক্রান্ত শংসাপত্র দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের ফিনটেক কর্মসূচি বাস্তব অর্থেই জনগণের দ্বারা জনগণের জন্য কাজের উদাহরণ। ভারতের জনগণই এই প্রযুক্তি তৈরি করেছে। দেশবাসী এটিকে তাঁদের জীবনের অংশ করে নিয়েছে। এর ফলে, দেশের জনগণের বিনিময় ব্যবস্থা সহজতর হয়েছে। বিশ্বের ৪০ শতাংশ ডিজিটাল লেনদেনই ভারতে হয়ে থাকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ৪-৫ বছরে শিল্প ৪.০-এর জন্য ১৪-১৫ লক্ষ যুবসম্প্রদায়কে দক্ষ ও তাঁদের দক্ষতাকে আরও উন্নত করে তোলার কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ম্যাপিং, ড্রোন, গেমিং এবং অ্যানিমেশন সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আগামী দিনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে ভারত আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বৈদ্যুতিন সামগ্রী নির্মাণের লক্ষ্য নিয়েছে। ভারত সহজলভ্য গ্রহীতা থেকে পরিবর্তিত হয়ে সস্তায় প্রস্তুতকারক হয়ে উঠতে চায়। সেমিকন্ডাক্টরের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ভারত আরও বেশি মাত্রায় বিনিয়োগ করছে”।

ডিজিটাল ইন্ডিয়া কর্মসূচি দেশের মানুষকে পরিষেবা প্রদানের পাশাপাশি, নতুন দিশা পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

যে উদ্যোগুলি চালু হয়েছে, তার বিবরণ:

‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া ভাষিনী’ ভারতীয় ভাষায় ইন্টারনেট ও ডিজিটাল পরিষেবা প্রদান করবে। এতে কন্ঠস্বরের মাধ্যমে সুবিধা উপভোগ করা যাবে।

‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া জেনেসিস’ ভারতের টু টিয়ার ও থ্রি টিয়ার শহরগুলির স্টার্টআপগুলিকে সফল করে তুলতে একটি প্ল্যাটফর্ম ‘ইন্ডিয়াস টেক গ্লোবাল’ – আধার, ইউপিআই, ডিজিলকার, কোউইন প্রতিষেধক প্ল্যাটফর্ম, সরকারের ই-মার্কেট প্লেস (জেম), দীক্ষা প্ল্যাটফর্ম এবং আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল স্বাস্থ্য মিশনের মতো প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে সাহায্য করবে।

‘মাইস্কিম’ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম। প্রধানমন্ত্রী ‘মেরি পেহচান’ প্রকল্পেরও সূচনা করেন।

সি টু এস কর্মসূচি সেমিকন্ডাক্টরগুলি ডিজাইন করার ক্ষেত্রে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করবে।

ডিজিটাল ইন্ডিয়া সপ্তাহ ২০২২ – এর বিভিন্ন কর্মসূচি গান্ধীনগরে ৪-৬ জুলাই পর্যন্ত চলবে। ডিজিটাল ইন্ডিয়া বর্ষপূর্তিতে ইউপিআই, আধার, কোউইন, ডিজিলকারের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির সুবিধা জনগণ কিভাবে নিতে পারবেন, তা জানানো হবে। বিশ্বের জনগণের কাছে ভারতের প্রযুক্তির উন্নয়ন তুলে ধরা হবে। এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্টার্টআপ ক্ষেত্র ছাড়াও সরকারি ও শিল্প ক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। একটি ডিজিটাল মেলারও আয়োজন করা হয়েছে। এতে রয়েছে ২০০টি স্টল। ৭-৯ জুলাই ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে পালিত হবে ডিজিটাল ইন্ডিয়া সপ্তাহ।

সম্পূর্ণ ভাষণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
India's engineering goods exports rise 21 pc in June, Oman shipments jump five‑fold

Media Coverage

India's engineering goods exports rise 21 pc in June, Oman shipments jump five‑fold
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Prime Minister congratulates Weightlifter, Bindyarani Devi Sorokhaibam on winning Bronze at Commonwealth Games 2026
July 28, 2026

The Prime Minister, Shri Narendra Modi, has congratulated Weightlifter, Bindyarani Devi Sorokhaibam on winning the Bronze medal in the women’s 58 kg weightlifting event at the Commonwealth Games 2026.

The Prime Minister said that her success is the result of her hard work and determination.

Shri Modi extended his best wishes to her for her future endeavours.

The Prime Minister wrote on X;

“Yet another medal for India in Weightlifting! Proud of Bindyarani Devi Sorokhaibam for winning a Bronze in the Women's 58kg event at the Glasgow Commonwealth Games. Her success is due to her hard work and determination. Wishing her the very best for the endeavours ahead.

#CWG2026”