ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী একজন আতি সাধারণ মানুষ, যিনি খুব সাধারণ একটি পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তার জন্য প্রত্যেক ভারতীয়, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষরা অত্যন্ত গর্ববোধ করেন। যিনি এই রাজনীতিতে পরিবারের হাত ধরে আসেননি সম্পূর্ণ নিজের গুনে ও নিজের ক্ষমতায় আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তিনি এমন একজন সাধারণ ভারতীয়, যিনি নিজেকে অসাধারন কিছু পাওয়ার স্রোতে ভাষিয়ে দিয়েছেন। এমনই একজন, যিনি লক্ষ জনের মাঝে নিজেকে পরীক্ষায় পাশ করিয়ে নিয়ে শীর্ষস্থান গ্রহন করেছেন।
মধবিত্ত ভারতীয় যাঁরা সরকারি বা বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন বা নিজেদের একটা ছোটো ব্যবসা চালাতেন, তাঁদের নিজেদের ইচ্ছে পূরণের জায়গায় যথেষ্ট বাধ্যবাধকতা ছিল। সামাজিক ও অর্থনৈতিক গন্ডির মধ্যেই তাঁরা তাঁদের উচ্চাসাকে বেঁধে রেখেছিল। একটা সময় ছিল কিছু পাওয়ার জন্য তাঁদের ঘুষ দিতে হত বা দুর্নিতির সঙ্গে আপোষ করে নিতে হত, নানা ফাঁক ফোকর খুঁজে তারপর কিছু পাওয়া যেত। কিন্তু এই প্রক্রিয়া বেশি দিন চলতে পারল না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেই হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাস, সংস্কৃতি, সততাকে পুনরুদ্ধার করলেন কয়েকটি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে, যেমন ডিজিটাল লেনদেন, রিয়েল এস্টেট (রেগুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) অ্যক্ট, ২০১৬ এবং দেউলিয়া ও ঋণ খেলাপি বিধি, ২০১৬, এর পর থেকে ভারতীয়রা বিশ্বাস করতে শুরু করল যে সচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত ভাবেও কোনও কাজ করা যায়। যেমন এখন নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ বা জলের লাইন পাওয়া যায় কোন ধরনের ঘুষ না দিয়েই। সিংল উইন্ড অটোমেটেড পরিষেবার মাধ্যমে ক্ষমতাবানদের সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার প্রবনতা এখন উঠে গেছে। ভারতে এই প্রথম মানুষ নির্ভরতা কমিয়ে প্রযুক্তির হাত ধরে স্বচ্ছতা এসেছে।
দশকের পর দশক ধরে ইউপিএ জমানায় দুর্নীতি, কেলেঙ্কারি, অর্থ তছরুপ এবং সম্পদের অসমবন্টনের মতো ঘটনা ঘটে এসেছে দেশে। বিগত ৫ বছরে এই চিত্রটারও অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিদেশের মাটিতে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে তুলে ধরলেন যা প্রবাসী ও দেশবাসী সকলেই আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করলেন। ২০১৮ সালে দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে প্রধানমন্ত্রী হিন্দিতে ভাষণ দিলেন, যা সবার কাছে একটা গর্বের বিষয় হয়ে দাড়ালো। তিনি হিন্দি ভাষাকে বিশ্বের তাবর তাবর অর্থনৈতিকদের দরবারে পৌঁছে দিলেন। এই ফোরামেই তিনি মানব সভ্যতার তিনটি শত্রুর কথা বলেন, একটি হল জলবায়ু পরিবর্তন, সন্ত্রাস এবং বিশ্বায়নের বিরোধিতা করা।
জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপিএফ জওয়ানদের ওপরে সন্ত্রাস হামলার পর ভারত সারা বিশ্ব থেকে কূটনৈতিক সমর্থন পায়। সারা বিশ্বে পুলওয়ামায় আক্রান্তদের সপক্ষে অসংখ্য প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়। ভারত নতুন করে নিজেকে শক্তিশালী ক্ষমতা ও শক্তিশালী নেতৃত্বের উদাহরন হিসেবে তুলে ধরতে পেরেছে। মধ্যবিত্ত ভারতীয়রা নিজেকে ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক স্তরে ভাবতে শুরু করে, কারণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আমাদের সেই স্বপ্ন দেখাতে সক্ষম হয়। তিনি তাঁর প্রত্যেকটি বক্তব্যের মাধ্যমে দেশের প্রত্যেকটি মানুষের মনে ছাপ ফেলে যায়, যা একটি জাতীয় গর্বের সমাতূল্য।
বারাণসী, যেটা বিশ্বের পুরনো এটি শহর কিন্তু নরেন্দ্র মোদী সেই কেন্দ্র থেকে লড়াই করে জিতে এসে বারাণসীর মাথা থেকে শুধু মন্দির শহরের তকমাটাই মুছে দেয়নি সেই সঙ্গে একাধিক পদক্ষেপ নিয়ে শহরটিকে পৃথিবীর মানচিত্রে অন্যরুপে উথ্থাপন করতে পেরেছে। নমামি গঙ্গা যোজনার মাধ্যমে ভারতের পবিত্র নদীকে পরিস্কার করেছেন। আন্তর্জাতিক স্তরের গন্যমান্যদের নিয়ে অক্ষরধাম ও বারাণসী মন্দিরে নিয়ে গিয়ে তিনি দেশের সাংস্কৃতিক গর্বকে পুনরুদ্ধার করেন, যা একসময় অতলে তলিয়ে গিয়েছিল।
অযোধ্যাতে দিপাবলীর অনুষ্ঠানে রামায়নের রাম, সীতা ও লক্ষনের ১৪ বছর পর বনবাস থেকে ফিরে আসার কাহিনী সারা বিশ্বের কাছে চমৎকার ভাবে তুলে ধরেন। ২০১৯ সালের প্রয়াগরাজে কুম্ভমেলা সারা বিশ্বের পর্যটক ও মিডিয়াকে আকর্ষণ করে। এই মেলা গিনিস বুক ওফ ওয়ার্ড রেকর্ডে জায়গা করে নেয়, যা ভারতের হৃত গৌরব ও ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার করল। নরেন্দ্র মোদীর জন্য সারা ভারতের মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করল যে অধ্যাবসায় ও অনুশীলনের মাধ্যমে পরিবর্তন আনা যায়।




