প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে, দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি লি জে মিয়ং ১৯ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ভারত সফর করেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি হিসেবে এটিই ছিল তাঁর প্রথম ভারত সফর। রাষ্ট্রপতি লি জে মিয়ং - এর সঙ্গে ছিল এক উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধিদল। এই প্রতিনিধিদলে ছিলেন মন্ত্রী, উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলির প্রধান কর্মকর্তারা।
২০ এপ্রিল নতুন দিল্লিতে উভয় নেতা সৌহার্দ্যপূর্ণ, ফলপ্রসূ এবং ভবিষ্যৎমুখী দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। তাঁরা সরকারের  অঙ্গীকারের উপর জোর দেন। এর লক্ষ্য হলো  অস্থির ও দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে,উভয় দেশের জনগণের জন্য দীর্ঘস্থায়ী সমৃদ্ধি, শান্তি ও অগ্রগতি নিশ্চিত করা।  অর্থবহ সহযোগিতা গড়ে তুলতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত উপায়ে যৌথভাবে কাজের লক্ষ্য স্থির করা। ২০৩০ পর্যন্ত আগামী পাঁচ বছরে ভারত-দক্ষিণ কোরিয়া বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এবং এর বিষয়বস্তুকে আরও সমৃদ্ধ করার উদ্দেশ্যে তাঁরা যৌথ কৌশলগত রূপকল্প ঘোষণা করেন।
ভারত এবং দক্ষিণ কোরিয়া এশিয়ার এই দুই উজ্জীবিত  ও স্থিতিশীল গণতন্ত্র এবং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতি, গভীর ঐতিহাসিক সম্বন্ধসূত্র ও দু' দেশের জনগণের পারস্পরিক সদিচ্ছার সূত্রে একে অপরের সাথে সংযুক্ত। এই দুই দেশ গণতান্ত্রিক ও সভ্যতানির্ভর মূল্যবোধের অংশীদার এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ক্ষেত্রে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চলেছে। ভারত তার অ্যাক্ট ইস্ট নীতির ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়াকে একটি অপরিহার্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে। একইভাবে, দক্ষিণ কোরিয়াও ভারতকে তার বাস্তববাদী কূটনীতির মূল স্তম্ভ হিসেবে এবং নতুন দক্ষিণ নীতিকে বিকশিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে গণ্য করে। ভারত এবং দক্ষিণ কোরিয়া উভয়ই ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে এই অংশীদারিত্বের তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এর পাশাপাশি
উচ্চ-পর্যায়ের মতামত আদান-প্রদানের মাধ্যমে রাজনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করাও লক্ষ্য।
জুন ২০২৫-এ কানানাস্কিসে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন এবং নভেম্বর ২০২৫-এ জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের অবসরে তাঁদের ইতিবাচক আলোচনার কথা  উল্লেখ করেন। উভয় নেতা সহমত হন ভারত-দক্ষিণ কোরিয়া বিশেষ কৌশলগত  অংশিদারিত্ব কাজে লাগাতে চায়। তাঁরা বার্ষিক নেতৃত্ব পর্যায়ের বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেন। বৈঠকগুলো দু দেশের যেকোনো একটিতে অথবা  আন্তর্জাতিক বৈঠকের ফাঁকে উভয় দেশের সক্ষমতা এবং ভারত-দক্ষিণ কোরিয়া কৌশলগত সহযোগিতার ভবিষ্যত পথবিস্তার করবে। 
উচ্চ পর্যায়ের মতবিনিময়ের    বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ  দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন গতি সঞ্চার করে। উভয় নেতা দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক আদান-প্রদান এবং মন্ত্রী-পর্যায়ের সংলাপগুলোকে আরও জোরদার করতে সম্মত হন। সিদ্ধান্ত হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের নেতৃত্বে ভারত-দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ কমিশনের বৈঠক, অর্থমন্ত্রীদের বৈঠক এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীদের যৌথ কমিটির বৈঠক—এই বছরেই অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া, এটিও সিদ্ধান্ত হয়,  কোরীয় যুদ্ধে ভারতের অংশগ্রহণের স্মরণে নির্মিত যুদ্ধ স্মারক-এর যৌথ উদ্বোধনের উদ্দেশ্যে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী  ২০২৬-এর মে মাসে দক্ষিণ কোরিয়া সফর করবেন। তাঁরা আরও সিদ্ধান্ত নেন যে, ভারত-দক্ষিণ কোরিয়া শিল্প সহযোগিতা কমিটি নামে একটি নতুন সংলাপ ব্যবস্থা চালু করা হবে—যা উভয় দেশের শিল্প বিষয়ক মন্ত্রীদের নিয়ে গঠিত হবে। এই কমিটির প্রথম বৈঠকটি এই বছরেই অনুষ্ঠিত হবে।
জানুয়ারি ২০২৬-এ দক্ষিণ কোরিয়ার ডেপুটি স্পিকারের ভারত সফরের বিষয়টি উল্লেখ করে, দুই নেতা ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় পরিষদের স্পিকার এবং সংসদ সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত আদান-প্রদানের বিষয়টিকে সমর্থন জানান। উভয় দেশে ভারত-দক্ষিণ কোরিয়ার সংসদীয় মৈত্রী গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করে। ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার  পরবর্তী প্রজন্মের চিন্তাশীল নেতাদের একে অপরের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসার লক্ষ্যে, দুই নেতা উভয় দেশের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই বছর থেকে শুরু হওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি ও উদ্যোগকে স্বাগত জানান। এর ফলে তরুণ আইনপ্রণেতা, কূটনীতিক, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যম কর্মী এবং সরকারি কর্মকর্তারা একে অপরের দেশে সফর করবেন। এর মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া গভীর এবং অভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সুযোগগুলোর ক্ষেত্রে তাঁরা যৌথভাবে কাজ করতে পারবেন।
সুষম আঞ্চলিক বিকাশ, গতিশীলতা এবং পুনরুজ্জীবনকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে দু দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও প্রদেশের মধ্যে অধিকতর আদান-প্রদানের বিষয়টিকে উৎসাহিত করেন। এছাড়া, দুই নেতা সিস্টার-সিটি এবং ফ্রেন্ডশিপ-সিটি সম্পর্কগুলোর কথাও উল্লেখ করেন; যার মধ্যে রয়েছে বুসান-মুম্বাই, ইনচিয়ন-কলকাতা এবং উলসান-চেন্নাই সম্পর্ক।
দুই নেতা আইনের শাসনের ওপর ভিত্তি করে একটি মুক্ত, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভারত - প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গড়ে তোলার বিষয়ে তাঁদের নিজ নিজ দেশের দৃষ্টিভঙ্গির সাদৃশ্যের কথা স্বীকার করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে, প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় উদ্যোগ - এ দক্ষিণ কোরিয়ার যোগদানকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তাঁরা পদস্থ আধিকারিকদের মধ্যে সমসাময়িক কৌশলগত ও নিরাপত্তা-সম্পর্কিত ঘটনাবলি নিয়ে নিয়মিত আলোচনার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের বিদেশ মন্ত্রকের মধ্যে অনুষ্ঠিত ভারত-দক্ষিণ কোরিয়া বিদেশ নীতি ও নিরাপত্তা সংলাপ-এর ধারাবাহিকতায়, উভয় পক্ষে প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা বিষয়ক যৌথ কমিটির বৈঠক এবং উপ-মন্ত্রী পর্যায়ে প্রথম প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক বিষয়ক ২+২ সংলাপ আয়োজনের লক্ষ্য স্থির করেছে।
দুই নেতা ভারত-দক্ষিণ কোরিয়া অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সংলাপ-এর সূচনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। এী লক্ষ্য হলো পারস্পরিক কৌশলগত আস্থার ভিত্তিতে সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করা, বাজারের বহুমুখীকরণকে উৎসাহিত করা এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া।
উভয় নেতা সন্ত্রাসবাদ এবং হিংসাশ্রয়ী চরমপন্থা, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ সহ সব রকম হিংসাশ্রয়ী  প্রকাশের কঠোর ভাষায় নিন্দা করেছেন। সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল নির্মূল করা, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের পথ এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধের সাথে যোগসূত্র ছিন্ন করা এবং সন্ত্রাসীদের সীমান্তপারের চলাচল রোধ করার লক্ষ্যে তাঁরা পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হয়েছেন। উভয় পক্ষই ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহলগাঁও-এ সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং এর চক্রান্তকারী, সংগঠক ও অর্থদাতাদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী রাষ্ট্রপতি লি-কে আরও জানান যে, দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট- এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। রাষ্ট্রপতি লি এতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তাঁরা ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ  এবং শিল্প খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ উন্মোচনের কথা বলেছেন। বিশেষ করে অটোমোবাইল, জাহাজ নির্মাণ, রসায়নিক, সেমিকন্ডাক্টর, টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম, ডিসপ্লে এবং সেকেন্ডারি ব্যাটারির মতো খাতগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে ভারত-দক্ষিণ কোরিয়া শিল্প সহযোগিতা কমিটি বিষয়ক সমঝোতা স্বাক্ষরিত হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন। এছাড়া কৌশলগত সম্পদ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং বিরল মৃত্তিকা-এর সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালীকরণে সহযোগিতা; সবুজ হাইড্রোজেন ও এর উপজাত পণ্যের বাণিজ্য; পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প; এবং বিদেশে সম্পদ আহরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টিকেও তাঁরা স্বাগত জানান।
ভারতের ‘মেরিটাইম অমৃত কাল’ ভিশন দক্ষিণ কোরিয়ার—যারা জাহাজ নির্মাণ ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে একটি অগ্রণী রাষ্ট্র—সাথে দীর্ঘমেয়াদী ও কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন সুযোগের দ্বার উন্মোচন করেছে। দুই পক্ষ জাহাজ নির্মাণ, নৌ-পরিবহন এবং সামুদ্রিক লজিস্টিকস বিষয়ক অংশীদারিত্বের একটি বিস্তারিত রূপরেখা গ্রহণ করেছে এবং এর দ্রুত বাস্তবায়নের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। ভারতে জাহাজ নির্মাণ ইয়ার্ডের উন্নয়ন, ইয়ার্ড স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো নির্মাণ, বন্দর পরিচালনা এবং নৌ-পরিবহন ও সামুদ্রিক লজিস্টিকস খাতে ভারতীয় ও কোরিয়ান ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সম্পাদিত ও পরিকল্পিত বিভিন্ন বি-টু-বি বা ব্যবসায়িক সহযোগিতার উদ্যোগগুলোকে দুই নেতা স্বাগত জানিয়েছেন। এক্ষেত্রে তাঁরা তাঁদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা মুম্বাইতে ‘কোরিয়া মেরিন ইকুইপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন’-এর কার্যালয় উদ্বোধনকে স্বাগত জানান; এটিই এ ধরনের প্রথম কার্যালয়, যা সামুদ্রিক শিল্প খাতকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে একটি সহায়ক বাস্তুতন্ত্র গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
তাঁরা ২০ এপ্রিল  সফলভাবে আয়োজিত ভারত-দক্ষিণ কোরিয়া ব্যবসায়িক ফোরাম-এর সপ্রশংস উল্লেখ করেন। ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা ও যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে। শিল্প সহযোগিতা কমিটি এবং এর অধিনস্থ কার্যকরী দলগুলির বৈঠকের ফাঁকে উভয় দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প সমিতিগুলোর মধ্যে নিয়মিত মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হবে বলেও ঠিক হয়। ভারতীয় ও কোরিয়ার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে বিনিয়োগ এবং ‘বি-টু-বি’ সহযোগিতার বিষয়ে যেসব ঘোষণ হয়েছে, দুই নেতা সেগুলিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
কোরীয় ও ভারতীয় কোম্পানিগুলো যাতে একে অপরের বাজারে আরও বেশি বিনিয়োগে উৎসাহিত হয়, সেজন্য একটি অধিকতর অনুকূল ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়ে দুই নেতা সহমত পোষণ করেছেন।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়াকে দুই নেতা স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করার দিকগুলিকে খতিয়ে দেখেন। এর অন্তর্ভুক্ত হবে সমঝোতা স্মারকের আওতাধীন এমন সব কার্যক্রম, যা উভয় দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একে অপরের সাথে সংযুক্ত এবং তাদের নিজ নিজ বাজারের সুযোগগুলো নির্বিঘ্নে অন্বেষণ ও কাজে লাগাতে সহায়তা করবে। 
ইস্পাত শিল্পে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী একটি প্রধান অর্থনীতি হিসেবে ভারত এবং সবুজ ইস্পাত উৎপাদন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রগামী দেশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা একটি ‘ভারত-দক্ষিণ কোরিয়া বার্ষিক ইস্পাত সংলাপ’ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন; এই সংলাপের মূল লক্ষ্য হবে বাণিজ্যিক সুযোগ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক সুদৃঢ়করণ এবং ইস্পাত খাতে পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার উৎসাহিত করা। এছাড়া, ওড়িশায় ৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সমন্বিত ইস্পাত কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে এবং জেএসডব্লিউ-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটিকেও তাঁরা স্বাগত জানিয়েছেন।
বাণিজ্য, অর্থায়ন এবং উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে অংশীদারিত্ব জোরদারকরণ
 ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে এবং ডিজিটাল বাণিজ্য, সরবরাহ শৃঙ্খল সহযোগিতা ও সবুজ অর্থনীতিসহ বাণিজ্যের নতুন ক্ষেত্রগুলোতে পারস্পরিক সুবিধাজনক আদান-প্রদানকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে, দুই নেতা সিইপিএ(বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি)-র হালককিকত সংক্রান্ত আলোচনা পুনরায় শুরু  করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। এই আলোচনার লক্ষ্য হলো যত দ্রুত সম্ভব চুক্তিটি চূড়ান্ত করা।
ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণমূলক উদ্ভাবনের মাধ্যমে দৃশ্যমান ভারতের ফিনটেক বিপ্লব আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতার বহু সুযোগ সৃষ্টি করেছে। দুই নেতা ন্যাশনাল পেমেন্ট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড এবং কোরিয়া ফিনান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশনস অ্যান্ড ক্লিয়ারিং ইনস্টিটিউট-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতাপত্র-কে স্বাগত জানিয়েছেন। এই সমঝোতা স্মারকের লক্ষ্য হলো দুই দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাগুলোকে ধাপে ধাপে একীভূত করা, যাতে এদের পারস্পরিক কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনৈতিক ও জন-মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়। এছাড়া, আন্তঃসীমান্ত আর্থিক পণ্যগুলোর উন্নয়ন ও তদারকির ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদানের লক্ষ্যে ভারতের ইন্টারন্যাশনাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস সেন্টারস অথরিটি’ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস কমিশন তথা ফিনান্সিয়াল সুপারভাইজরি সার্ভিসের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতাপত্রটিকেও তাঁরা স্বাগত জানিয়েছেন।
ব্যাঙ্কিং, পুঁজিবাজার এবং ফিনটেকসহ আর্থিক খাতের সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে, দুই দেশের আর্থিক কর্তৃপক্ষ ও প্রতিষ্ঠানগুলির অংশগ্রহণে সফলভাবে আয়োজিত আরওকে - ভারত ফিনান্সিয়াল কো-অপারেশন ফোরাম বা আর্থিক সহযোগিতা মঞ্চ নিয়ে দুই নেতা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মূলত পরিকাঠামো, উৎপাদন খাত এবং ক্রমবিকাশমান আর্থিক বাজারের ওপর তাদের বিনিয়োগ কেন্দ্রীভূত। এই প্রেক্ষাপটে, দুই নেতা ভারতে -কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশনের সফল কার্যক্রমের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন এবং ভারতে একটি কার্যালয় খোলার বিষয়ে কোরিয়া ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল পেনশন সার্ভিসকেও ভারতে তাদের একটি কার্যালয় খোলার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে উন্নয়ন অংশীদারিত্বের সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি জানিয়ে, দুই নেতা উন্নয়ন সহযোগিতা এগিয়ে নিতে একযোগে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। এই সহযোগিতার মূল লক্ষ্য হলো ভারতে দক্ষ শিল্প-সম্পর্কিত মানবসম্পদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা; এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কেওআইসিএ-এর মাধ্যমে বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন প্রকল্প। দুই দেশের মধ্যে কার্যকর উন্নয়ন সহযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উভয় পক্ষ একযোগে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।
উদীয়মান শিল্প ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বিকাশে ভবিষ্যৎ-সুরক্ষা
 ভারত এবং দক্ষিণ কোরিয়া ডিজিটাল সক্ষমতার দিক থেকে শক্তিশালী ও একে অপরের পরিপূরক এই দুটি দেশ—বিশ্বের ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী শিল্প ও প্রযুক্তির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ। দুই নেতা ভারত-কোরিয়া ডিজিটাল সেতুর রূপরেখা বা ফ্রেমওয়ার্কের সূচনাকে স্বাগত জানান; এই রূপরেখাটি মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা পরিচালনা এবং ডিজিটাল ব্যবসার ওপর আলোকপাত করে। একই সাথে, ডিজিটাল উদ্ভাবন ও সহযোগিতাকে সহায়তা প্রদানে সেমিকন্ডাক্টরসহ অন্যান্য সহায়ক প্রযুক্তির ভূমিকার কথাও তাঁরা স্বীকার করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী রাষ্ট্রপতি লি-কে ভারতে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিকাশের কথা জানান এবং কোরীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারের উৎসাহদান ও ক্রমবর্ধমান বাজারের সুযোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। দুই নেতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশে নিজ নিজ দেশের দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন; এই দৃষ্টিভঙ্গিগুলো মূলত সবার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা  এবং মানব - এই নীতিগুলি দ্বারা অনুপ্রাণিত, যা উদ্ভাবনের পাশাপাশি প্রযুক্তি ব্যবহারের সহজলভ্যতা ও সর্বজনীন অন্তর্ভুক্তিকে উৎসাহিত করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন শাখায়—গবেষণা ও মেধা বিকাশের ক্ষেত্রসহ—ভারত-কোরিয়া অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার আকাঙ্ক্ষা তাঁরা ব্যক্ত করেন।
 দুই নেতা প্রতিরক্ষা শিল্পখাতে ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতার কৌশলগত গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা বিষয়ক রূপরেখা সংক্রান্ত ২০২০ সালের সমঝোতাপত্রটিকে  নতুন করে সক্রিয় করে তোলেন। তাঁরা ‘K9-Vajra’ হাউইৎজার কামানের সফল যৌথ উৎপাদন উদ্যোগ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন, যার দ্বিতীয় দফার উৎপাদনের কাজ চালু রয়েছে। তাঁরা এই সফল মডেলটিকে অন্যান্য ভবিষ্যৎমুখী প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও প্ল্যাটফর্মে—যেমন ‘স্বয়ংক্রিয় বিমান প্রতিরক্ষা গান-মিসাইল ব্যবস্থা’ এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে—প্রয়োগ করার চলমান প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানান।
উভয় দেশে প্রতিরক্ষা শিল্পখাতে ঘটে চলা উদ্ভাবনগুলোকে স্বীকৃতি জানিয়ে, একটি  কোরিয়া-ভারত ডিফেন্স অ্যাক্সিলারেটর উদ্ভাবন প্ল্যাটফর্ম চালু করার সিদ্ধান্ত নেন। এই প্ল্যাটফর্মটির লক্ষ্য হলো উভয় দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, ইনকিউবেটর, বিনিয়োগকারী, প্রতিরক্ষা খাতের স্টার্ট-আপ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা।
মহাকাশ ক্ষেত্রটি যেহেতু উভয় দেশের জাতীয় উন্নয়নের একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় দিক, তাই তাঁরা  এ সংক্রান্ত বেশ কিছু উদ্যোগকে স্বাগত জানান। এর মধ্যে রয়েছে—জাতীয় মহাকাশ সংস্থা পর্যায়ে সহযোগিতার সুযোগগুলো অন্বেষণ করার লক্ষ্যে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা এবং কোরিয়া অ্যারোস্পেস প্রশাসন-এর মধ্যে একটি যৌথ কার্যনির্বাহী দল  গঠনের উদ্যোগ; এবং মহাকাশ খাতের স্টার্ট-আপ, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও গবেষণা সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল বেঙ্গালুরুতে ‘IN-SPACe’-এর সহযোগিতায় একটি ভারত-দক্ষিণ কোরিয়া মহাকাশ দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত হয়। দুই নেতা নিজ নিজ দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একে অপরের স্যাটেলাইট নেভিগেশন বা উপগ্রহ-ভিত্তিক দিকনির্দেশনা ব্যবস্থায় পারস্পরিক সহায়তার সুযোগগুলো খতিয়ে দেখার জন্য উৎসাহিত করেন।
দুই নেতা স্বীকার করেন যে, বৈশ্বিক জ্বালানী ও সম্পদ বাজারে বর্তমান অস্থিরতার মুখে—হাইড্রোকার্বন এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের প্রধান আমদানিকারক হিসেবে—ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার উচিত পরিবেশগতভাবে টেঁকসই উপায়ে জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার, খনিজ উত্তোলন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পুনর্ব্যবহার এবং বিকল্প জ্বালানি ও উপকরণের যৌথ উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করা। নেতারা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নিরাপদ, স্থিতিস্থাপক ও উদ্ভাবন-চালিত সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার গুরুত্বের ওপরও জোর দেন। এই লক্ষ্যে, দুই নেতা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের মান-শৃঙ্খল জুড়ে সহযোগিতার বিষয়ে সম্মত হন; যার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের মানচিত্রাঙ্কন ও অনুসন্ধানের লক্ষ্যে দুই দেশের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থাগুলোর মধ্যকার সংযোগ জোরদার করা। চক্রাকার অর্থনীতির উদ্যোগের অংশ হিসেবে, ই-বর্জ্য এবং খনির বর্জ্যস্তূপের মতো অপ্রচলিত উৎস থেকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রেও তাঁরা পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতি সমর্থন জানান।
রাষ্ট্রপতি লি ভারতের প্যাক্স সিলিকা উদ্যোগে যোগদানের বিষয়টিকে স্বাগত জানালে, প্রধানমন্ত্রী মোদী রিসোর্স জিওস্ট্র্যাটেজিক এনগেজমেন্ট ফোরামের  সভাপতি হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বাজার পরিস্থিতি ও বাণিজ্যিক বিবেচনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে, সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া বা বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ার সময়ে ন্যাপথার মতো গুরুত্বপূর্ণ উপকরণগুলোর সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়টি খতিয়ে দেখতেও তাঁরা সম্মত হন। দুই পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ উপকরণগুলোর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগগুলো অন্বেষণ করবে।
ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া এমন একটি ইতিবাচক ও সক্রিয় কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অংশীদার হিসেবে কাজ করছে, যা তাদের অর্থনৈতিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে। এই প্রেক্ষাপটে, দুই নেতা প্যারিস চুক্তির ৬.২ অনুচ্ছেদের অধীনে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়টিকে স্বাগত জানান; যা বিনিয়োগ-চালিত প্রশমন প্রকল্পগুলোর জন্য একটি সহযোগিতামূলক পদ্ধতির ভিত্তি স্থাপন করে, উভয় দেশের জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান অর্জনের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেয় এবং জলবায়ু কার্যক্রমের ক্ষেত্রে তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করে।
পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা  হিসেবে, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া জলবায়ু ও পরিবেশ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতাপত্রের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়। দুই নেতা আন্তর্জাতিক সৌর জোটের সদস্য হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার যোগদানকে এবং ‘গ্লোবাল গ্রিন গ্রোথ ইনস্টিটিউট’-এর সদস্য হিসেবে ভারতের যোগদানকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী মোদী দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘গ্লোবাল বায়োফুয়েলস অ্যালায়েন্স’, ‘ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স’ এবং ‘দুর্যোগ সহনশীল পরিকাঠামো জোট’-এ যোগদানেরও আমন্ত্রণ জানান। 
মানবতার ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করে এমন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলায় ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাপক আগ্রহের স্বীকৃতিস্বরূপ, দুই নেতা স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে একটি যৌথ বিবৃতি গ্রহণকে স্বাগত জানান; পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, আর্কটিক এবং সামুদ্রিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সংলাপ শুরুর বিষয়টিকেও তাঁরা স্বাগত জানান।
সফট পাওয়ার এর প্রভাব বৃদ্ধি
 ভারত এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সমৃদ্ধ ও অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে, দুই দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সাংস্কৃতিক সংযোগ আরও জোরদার করার বিষয়টিকে দুই নেতা সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁরা ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জন্য সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির মেয়াদ বৃদ্ধিকে স্বাগত জানান এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে এটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য উপযুক্ত পরিকল্পনা প্রণয়নে উৎসাহিত করেন। তাঁরা আরও সিদ্ধান্ত নেন যে, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ২০২৮-২৯ সালকে 'ভারত-দক্ষিণ কোরিয়া মৈত্রী বর্ষ' হিসেবে উদযাপন করা হবে।
 দুই নেতা সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল শিল্পবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়টিকে স্বাগত জানান। এছাড়া, দুই পক্ষ চলচ্চিত্র খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও সম্মত হয়; যার মধ্যে রয়েছে যৌথ প্রযোজনা, প্রশিক্ষণ বিনিময় এবং অ্যানিমেশন ও ভিজ্যুয়াল এফেক্টস-এর মতো ক্ষেত্রে প্রযুক্তি বিনিময়।
দুই নেতা একে অপরের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিজ নিজ সফট পাওয়ার এর প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে গৃহীত কার্যক্রমগুলোকে সমর্থন করতে সম্মত হন; যার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায় ভারত দিবস এবং ভারতে কোরিয়া দিবস উদযাপন।
 দুই দেশের অভিন্ন বৌদ্ধ ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে এবং ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার ঐতিহাসিক ও সভ্যতাকেন্দ্রিক সংযোগকে আরও গভীর করার লক্ষ্যের সাথে সংগতি রেখে, দুই নেতা দক্ষিণ কোরিয়াকে ভারতের পক্ষ থেকে ২০০টি প্রত্নবস্তু উপহার প্রদানের বিষয়টিকে স্বাগত জানান। পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধির লক্ষ্যে গিমহে (Gimhae)-এর প্রচেষ্টাকেও তাঁরা স্বাগত জানান।
ক্রীড়া ক্ষেত্রে সহযোগিতার লক্ষ্যে একটি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরের বিষয়টিকে দুই নেতা স্বাগত জানান। এই সমঝোতার উদ্দেশ্য হলো ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বিশেষজ্ঞ ও কর্মী বিনিময়; কোচিং, প্রতিভা অন্বেষণ ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিষয়ক কর্মসূচি ও জ্ঞানের আদান-প্রদান; এবং ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য ক্রীড়া সংস্থার মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলোকে উৎসাহিত ও সহজতর করা।
জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক
দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের মূল ভিত্তি হিসেবে শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার অঙ্গীকার দুই নেতা পুনরায় ব্যক্ত করেন। তাঁরা তথ্য আদান-প্রদানের পরিধি বৃদ্ধি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি এবং যৌথ শিক্ষায়তনিক উদ্যোগ—বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং এসটিএম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) ক্ষেত্রে—বিশ্ববিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলির মধ্যে সহযোগিতাকে স্বাগত জানান।
 ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বোঝাপড়ার গুরুত্ব অনুধাবন করে, উভয় নেতা ভারতে কোরীয় ভাষা এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় ভারতীয় ভাষা—বিশেষ করে হিন্দি—শিক্ষাদান ও শেখার বিষয়টিকে সমর্থন জানান। এই শিক্ষাদান কার্যক্রম শিক্ষায়তনিক পাঠ্যক্রম, ডিজিটাল মাধ্যম, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হবে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ভারতে প্রথম ‘কোরিয় শিক্ষা কেন্দ্র’ চালু করার বিষয়টিকে তাঁরা স্বাগত জানান।
উভয় পক্ষ  ভারতের ২৩টি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ‘KNU10 কনসোর্টিয়াম’-এর অন্তর্ভুক্ত ১০টি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যৌথ গবেষণা এবং শিক্ষার্থী বিনিময়ের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়-পর্যায়ের একাডেমিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা নিয়ে সহমত প্রকাশ করে।
 দুই নেতা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য ‘গ্লোবাল কোরীয়া স্কলারশিপ’-এর সুযোগ চালু করার বিষয়টিকে স্বাগত জানান। পাশাপাশি, কোরীয় শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস’ -এর ‘অটল বিহারী বাজপেয়ী সাধারণ বৃত্তি’ এবং ‘লতা মঙ্গেশকর শিল্প ও সংস্কৃতি বৃত্তি প্রকল্প’, এবং সামগ্রিক সুস্থতার লক্ষ্যে ‘আয়ুষ বৃত্তি প্রকল্পের’ মাধ্যমে পারস্পরিক ভিত্তিতে বৃত্তি প্রদানের বিষয়টিকেও তাঁরা স্বাগত জানান। দ্বিপাক্ষিক শিক্ষাগত সম্পর্ককে আরও গভীর করার লক্ষ্যে, দুই নেতা তাঁদের নিজ নিজ বৃত্তি প্রকল্পের অধীনে একে অপরের দেশের নাগরিকদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি করে এই কর্মসূচিগুলোর পরিধি সম্প্রসারিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেন।
 মানবসম্পদ বা জনশক্তির ক্ষেত্রে ভারত এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে পারস্পরিক পরিপূরকতার এক শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে। দুই নেতা একে অপরের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে এবং তাঁদের বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান ও মানবসম্পদের মধ্যে সংযোগ জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এ প্রসঙ্গে, তাঁরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ওপর গঠিত পরবর্তী যৌথ কমিটির মাধ্যমে যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আদান-প্রদানকে আরও সক্রিয়ভাবে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে, ভিসা ও অভিবাসন-সংক্রান্ত প্রক্রিয়াগুলোকে আরও দক্ষ ও সহজতর করার উপায় অনুসন্ধানের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করে। জনগণ ও পণ্যের আদান-প্রদানকে আরও গতিশীল করতে ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়টিকেও দুই নেতা সমর্থন জানান।
একে অপরের দেশে বসবাসরত কোরীয় ও ভারতীয় জনগোষ্ঠীর অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে, দুই নেতা তাঁদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে এবং উভয় দেশের মঙ্গলের স্বার্থে নিজ নিজ সমাজে তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে সহায়তা করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈশ্বিক কল্যাণে অংশীদারিত্ব
বৈশ্বিক নিরস্ত্রীকরণ প্রচেষ্টার প্রতি উভয় দেশের অবদান ও অঙ্গীকারকে স্বীকৃতি জানিয়ে, দুই পক্ষ আন্তর্জাতিক নিরস্ত্রীকরণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ার্স গ্রুপ-এ ভারতের সদস্যপদ লাভের বিষয়ে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
উভয় পক্ষ একটি নিয়ম-ভিত্তিক, উন্মুক্ত, ন্যায্য, সমতাপূর্ণ, স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বৈষম্যহীন বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার প্রতি তাঁদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে—যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা। বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কার্যকারিতাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গঠনমূলকভাবে সংযুক্ত হওয়ার গুরুত্বের ওপর তাঁরা জোর দিয়েছেন। ২০২৮ সালে ‘জি-২০’ গোষ্ঠীর সভাপতিত্বের দায়িত্ব দক্ষিণ কোরিয়া গ্রহণ করতে যাচ্ছে—এই প্রেক্ষাপটে, জি-২০ সহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া একমত হয়েছে।
উভয় নেতা আন্তর্জাতিক আইনের মূলনীতি যার ওপর ভিত্তি করে সমুদ্র আইন বিষয়ক রাষ্ট্রসঙ্ঘের কনভেনশন -এ প্রতিফলিত হয়েছে—সমুদ্রে ও আকাশে চলাচলের স্বাধীনতা এবং বাধাহীন বৈধ বাণিজ্যের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। দুই নেতা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইনের সর্বজনস্বীকৃত মূলনীতিসমূহ—যার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ইউএনসিএলওএস—অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন।
দুই নেতা পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার মৌলিক নীতিসমূহ যার অন্তর্ভুক্ত  সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ—বজায় রাখা এবং  নাগরিকদের সুরক্ষা ও চলাচলের স্বাধীনতার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, উত্তেজনা প্রশমন এবং অন্তর্নিহিত সমস্যাগুলোর সমাধানের লক্ষ্যে সংলাপ ও কূটনীতির পথ অনুসরণ করা উচিত।
তাঁরা কোরীয় উপদ্বীপে সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ভারত দক্ষিণ কোরিয়ার সেই প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানায়, যার লক্ষ্য হলো সক্রিয়ভাবে উত্তেজনা প্রশমন ও আস্থাবর্ধক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আন্তঃ-কোরীয় সংলাপ পুনরায় শুরু করা; এর চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো আন্তঃ-কোরীয় আদান-প্রদান বৃদ্ধি, সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণ এবং পর্যায়ক্রমিক উপায়ে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ অর্জনের মাধ্যমে কোরীয় উপদ্বীপে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও যৌথ বিকাশ নিশ্চিত করা। এছাড়া, তাঁরা গণবিধ্বংসী অস্ত্র এবং তা নিক্ষেপকারী ব্যবস্থার বিস্তার রোধ করার—বিশেষত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও রাষ্ট্রবহির্ভূত পক্ষগুলোর হাতে এগুলোর পৌঁছানো ঠেকানোর—প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
দুই নেতা রাষ্ট্রসঙ্ঘেরর সনদ সহ আন্তর্জাতিক আইনের বিধান অনুযায়ী ইউক্রেনে একটি ন্যায্য ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায়  তাঁদের সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁরা সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে ইউক্রেন সংঘর্ষ বা শত্রুতা অবসানের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। উভয় পক্ষই রাষ্ট্রসঙ্ঘের ব্যাপক সংস্কারের কথা বলেন। এর অন্তর্ভুক্ত  নিরাপত্তা পরিষদের সম্প্রসারণে—যৌথভাবে কাজ করার সংকল্প ব্যক্ত করা হয়েছে।এর উদ্দেশ্য রাষ্ট্রসঙ্ঘকে আরও বেশি গণতান্ত্রিক, দায়বদ্ধ, অংশগ্রহণমূলক এবং বর্তমান বিশ্বের প্রকৃত প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে গড়ে তোলা। উপরন্তু, সমসাময়িক বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রয়োজনে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার সাধনে কাজ করতে উভয় নেতা সম্মত হয়েছেন।
দ্বিপাক্ষিক আলোচনায়  ভারত–দক্ষিণ কোরিয়া বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্বের সার্বিক পর্যালোচনা নিয়ে উভয় নেতা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ২০২৫ সালে এই অংশীদারিত্বের ১০ বছর পূর্ণ হওয়াকে গভীরতর সহযোগিতার এক দশক হিসেবে চিহ্নত করে তাঁরা আগামী দিনগুলোতে এই অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Rooftop solar cuts household electricity bills by average of 71%: CEEW

Media Coverage

Rooftop solar cuts household electricity bills by average of 71%: CEEW
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Prime Minister highlights remarkable momentum in India's digital infrastructure journey
June 05, 2026
PM Lauds AirTrunk’s proposed investment of around Rs. 3 lakh crore to develop 5 GW data centre capacity

Prime Minister Shri Narendra Modi today highlighted that India’s digital infrastructure journey is gathering remarkable momentum. The Prime Minister noted that AirTrunk has announced plans to invest around Rs. 3 lakh crore ($30 billion) in India and develop 5 GW of data centre capacity, observing that this is among the largest proposed investments in the country’s digital infrastructure ecosystem.

Shri Modi stated that such investments will significantly strengthen India’s position as a global hub for cloud computing and AI. The Prime Minister pointed out that these developments will simultaneously generate employment opportunities, support local supply chains, and accelerate innovation-led growth, affirming that the future of the world’s digital economy is increasingly being shaped in India.

The Prime Minister posted on X:

"India’s digital infrastructure journey is gathering remarkable momentum.
AirTrunk has announced plans to invest around Rs. 3 lakh crore ($30 billion) in India, and develop 5 GW of data centre capacity. This is among the largest proposed investments in the country’s digital infrastructure ecosystem.

Such investments will strengthen India’s position as a global hub for cloud computing and AI, while generating employment opportunities, supporting local supply chains and accelerating innovation-led growth.

It is clear that the future of the world’s digital economy is increasingly being shaped in India!"