ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে, মায়ানমারের প্রেসিডেন্ট উ মিন অং হ্লাইং ৩০ মে থেকে ৩ জুন ২০২৬ পর্যন্ত  তাঁর প্রথম ভারত সফর করছেন।

প্রেসিডেন্টের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তাঁর কার্যালয়, পররাষ্ট্র, অর্থ ও রাজস্ব, কৃষি ও সেচ, এবং শিল্প ও এমএসএমই ব্যবসা উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রীগণ, এবং মায়ানমারের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের গভর্নর। এছাড়া মায়ানমার প্রতিনিধিদলে রয়েছেন, ওষুধ শিল্প, জ্বালানি, ব্যাঙ্কিং, নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ, বাণিজ্য ও লজিস্টিক সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল এবং মায়ানমার-ভারত মৈত্রী সমিতির সদস্যরা।


ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং মায়ানমারের প্রেসিডেন্ট ১ জুন ২০২৬ তারিখে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় মিলিত হন; এই আলোচনায় তাঁরা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করেন। ভারত সফররত এই বিশিষ্ট অতিথির সম্মানে প্রধানমন্ত্রী একটি মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন। একই দিনে ভারতের মহামান্য রাষ্ট্রপতি শ্রীমতী দ্রৌপদী মুর্মু মায়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর আগে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ এস. জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শ্রী অজিত ডোভাল পৃথকভাবে মায়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

৩০ মে ২০২৬ তারিখে প্রেসিডেন্ট বুদ্ধগয়া সফর করেন; সেখানে তিনি মহাবোধি মন্দির, মহাবোধি ধ্যান কেন্দ্র এবং সুজাতা মন্দিরে প্রার্থনা  করেন। অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় এই পবিত্র স্থানগুলি পরিদর্শন দুই দেশের মধ্যে সুগভীর আধ্যাত্মিক ও বৌদ্ধ ঐতিহ্যগত সম্পর্ক, পাশাপাশি দুই দেশের মানুষের মধ্যে নিবিড় সংযোগকে বিশেষভাবে তুলে ধরে।


৩১ মে ২০২৬ তারিখে নতুন দিল্লিতে ইউএমএফসিসিআই এবং সিআইআই-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত 'ভারত-মায়ানমার বাণিজ্য কনক্লেভ'-এ প্রেসিডেন্ট বক্তব্য রাখেন। এই অনুষ্ঠানে উভয় পক্ষের ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা আরও জোরদার ও সম্প্রসারিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া, রাষ্ট্রপতি গ্রেটার নয়ডায় অবস্থিত 'এনটিপিসি এনার্জি টেকনোলজি রিসার্চ অ্যালায়েন্স'  প্রাঙ্গন পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি 
পরিবেশ-বান্ধব জ্বালানি উদ্ভাবন, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, নবীকরণযোগ্য জ্বালানির সমন্বয় এবং গ্রিড সুস্থায়িত্ব সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চলতে থাকা উন্নত গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। মায়ানমার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, মায়ানমার ভারতের 'প্রতিবেশী সর্বাগ্রে, ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ এবং ‘মহাসাগর’ (আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অগ্রগতির লক্ষ্যে পারস্পরিক ও সামগ্রিক অগ্রগতি) নীতিগুলির কেন্দ্রে রয়েছে। এই আলোচনায় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থা, উন্নয়ন সহায়তা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় সহ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়। উভয় পক্ষ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক নিয়ে বর্তমান আলোচনার বিষয়টি উল্লেখ করে এবং সেগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যাপারে আশা ব্যক্ত করে।


প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা  এই অঞ্চলে পারস্পরিকভাবে লাভজনক অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। এ প্রসঙ্গে ‘কালাদান মাল্টি-মোডাল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট’ প্রকল্প এবং ‘ভারত-মায়ানমার-থাইল্যান্ড ত্রিদেশীয় মহাসড়ক’ ‐ এই দুটি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার গুরুত্বের বিষয়ে উভয় পক্ষ সহমত পোষণ করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, ২০২৬ সাল থেকে মায়ানমারের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মেকং-গঙ্গা আইসিসিআর’ বৃত্তির সংখ্যা ৩৬ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করা হবে।


দু'পক্ষই 'রুপি-কিয়াত ব্যবস্থা' সহ বিভিন্ন মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে সহজতর ও সম্প্রসারিত করতে সম্মত হয়েছে এবং ২০২৪ সালের মে মাসে এই ব্যবস্থাটি চালু হওয়ার পর থেকে লেনদেনের পরিমাণে যে ধারাবাহিক বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে, তার প্রশংসা করেছে। এছাড়া, উভয় পক্ষই নিজ নিজ জাতীয় আইন ও বিধি মেনে কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ, পেট্রোলিয়াম, জ্বালানি এবং খনি ক্ষেত্রের মতো পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলিতে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী মায়ানমারের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি ভারতের সমর্থনের বিষয়টি ফের তুলে ধরেন। উভয় পক্ষই তাদের নিরাপত্তা স্বার্থের পরিপন্থী কার্যকলাপের জন্য নিজ নিজ সার্বভৌম ভূখণ্ডের অপব্যবহার রোধ করার ওপর জোর দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট মায়ানমারের পক্ষ থেকে এই নিশ্চয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ভারতের নিরাপত্তা স্বার্থের বিরোধী কোনও কাজে মায়ানমারের ভূখণ্ডকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, মায়ানমারের  অবিচল ও বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে ভারত দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতাকে আরও দৃঢ় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রধানমন্ত্রী শান্তি, স্থিতিশীলতা, জাতীয় সংহতি এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন অর্জনের লক্ষ্যে মায়ানমারের নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। 


প্রেসিডেন্ট উ মিন অং হ্লাইং-এর এই সফর মায়ানমার ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বকে এবং দুই দেশের পারস্পরিক কল্যাণের স্বার্থে সহযোগিতাকে আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয় দেশের যৌথ অঙ্গীকারকে পুনর্ব্যক্ত করেছে। উভয় পক্ষই সর্বস্তরে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ  রাখতে সম্মত হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট উ মিন অং হ্লাইং
 উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।  ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে মায়ানমার সফরেরও আমন্ত্রণ জানান তিনি।

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Nepal praises India's efforts in times of crisis; calls PM Modi 'exceptionally generous'

Media Coverage

Nepal praises India's efforts in times of crisis; calls PM Modi 'exceptionally generous'
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
সোশ্যাল মিডিয়া কর্নার 30 অগাস্ট 2026
August 30, 2026

Tiranga in Tashkent, Relief in Nepal: Soft Power Meets First Responder

Vocal for Local, Nari Shakti, Real Heroes: Mann Ki Baat’s Atmanirbhar Hour