Chhath Puja is about worshipping the nature. The sun and water are at the centre of Mahaparva Chhath: PM Modi during #MannKiBaat
Khadi and Handloom are empowering the poor by bringing positive and qualitative changes in their lives: PM during #MannKiBaat
Nation salutes the jawans who, with their strong determination, secure our borders and keep the nation safe: PM during #MannKiBaat
Our jawans play a vital role in the UN peacekeeping missions throughout the world: PM during #MannKiBaat
#MannKiBaat: PM Modi says, India is the land of ‘Vasudhiva Kutumbakam’, which means the whole world is our family
India has always spread the message of peace, unity and goodwill, says Prime Minister Narendra Modi during #MannKiBaat
#MannKiBaat: Every child is a hero in the making of a ‘New India’, says the PM Modi
Outdoor activities are a must for children. Elders must encourage children to move out and play in open fields: PM during #MannKiBaat
A person of any age can practice yoga with ease. It is simple to learn and can be practiced anywhere: PM Modi during #MannKiBaat
#MannKiBaat: PM Modi says, Guru Nanak Dev ji is not only the first Guru of the Sikhs but also a ‘Jagat Guru’
Sardar Vallabhbhai Patel not only had transformational ideas but had solutions to the most complex problems: PM Modi during #MannKiBaat

আমার প্রিয় দেশবাসী, নমস্কার!   

দীপাবলীর ছ’দিন পরে পালিত মহাপরব ‘ছট’। আমাদের দেশে সবথেকেবেশি নিয়ম-নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত উৎসবের মধ্যে একটা। যেখানে খাওয়াদাওয়া থেকে শুরুকরে বেশভূষা পর্যন্ত প্রতিটি বিষয় পরম্পরা মেনে পালন করা হয়। ছট পূজার অনুপম-পর্বপ্রকৃতি আর প্রকৃতির উপাসনার সঙ্গে পুরোপুরি যুক্ত। একদিকে সূর্য আর জল, মহাপরবছটের উপাসনার কেন্দ্রে, অন্যদিকে বাঁশ আর মাটি দিয়ে তৈরি বাসনপত্র আর মূল, এর পূজাবিধিরসঙ্গে জড়িত অভিন্ন সামগ্রী। আস্থার এই মহাপর্বে উদীয়মান সূর্যের উপাসনা আর ডুবন্তসূর্যের পূজার বার্তা অদ্বিতীয় সংস্কারে পরিপূর্ণ। সমস্ত জগৎ উদীয়মান সূর্যের পূজাকরে থাকে কিন্তু ছট পূজা অস্তগামী সূর্যকে আরাধনা করার সংস্কারও দেয় আমাদের।আমাদের জীবনে স্বচ্ছতার মহত্ত্বের অভিব্যক্তিও এর মধ্যে নিহিত। ছটের আগে গোটাবাড়ির সাফাই, সঙ্গে নদী, পুকুর, খানাখন্দের আশপাশ, পূজাস্থল অর্থাৎ ঘাটেরও সাফাই,প্রচুর উৎসাহের সঙ্গে সব লোক একজোট হয়ে করে। সূর্য বন্দনা অথবা ছট পূজা – পরিবেশসংরক্ষণ, রোগ নিবারণ এবং অনুশাসনের পর্ব। 

সাধারণভাবে কিছু চেয়ে নেওয়াকেমানুষ হীন বলে মনে করে কিন্তু ছট পূজায় সকালের অ র্ঘ্য  শেষ হওয়ার পরে প্রসাদ চেয়ে খাওয়ারএক বিশেষ পরম্পরা আছে। প্রসাদ চেয়ে খাওয়ার এই রীতির পেছনে এই যুক্তিও দেওয়া হয় যেএতে অহঙ্কার নষ্ট হয়। এই অহঙ্কার এমন ভাবনা যা ব্যক্তির প্রগতির পথে বাধা হয়েদাঁড়ায়। ভারতের এই মহান পরম্পরা নিয়ে সবার গর্বিত হওয়া খুব স্বাভাবিক।  

আমার প্রিয় দেশবাসী, ‘মন কি বাত’-এর প্রশংসাও হচ্ছে আবারসমালোচনাও হচ্ছে। কিন্তু যখন আমি ‘মন কি বাত’-এর প্রভাবের দিকে তাকিয়ে দেখি তখনআমার বিশ্বাস দৃঢ় হয় যে ‘মন কি বাত’ এদেশের জনমানসের সঙ্গে অটুট সম্পর্কে বাঁধাপড়েছে। খাদি আর হ্যান্ডলুমের উদাহরণই নিন। গান্ধী জয়ন্তীতে আমি সবসময় হ্যান্ডলুমেরজন্য, খাদির পক্ষে ওকালতি করে চলি। আর তার পরিণাম কী হয়েছে! আপনারাও এটা জেনে খুশিহবেন, আমাকে জানানো হয়েছে যে এই মাসের ১৭ই অক্টোবর ধনতেরাসের দিন দিল্লির খাদিগ্রামোদ্যোগ ভবন স্টোরে প্রায় এক কোটি বিশ লক্ষ টাকার রেকর্ড বিক্রি হয়েছে। খাদিআর হ্যান্ডলুমের একটা মাত্র স্টোরে এত বেশি বিক্রি হওয়া, এটা শুনে আপনাদেরওনিশ্চয়ই আনন্দ হয়েছে, সন্তুষ্টি হয়েছে। দীপাবলীর সময় খাদি গিফট কুপনের বিক্রিতেপ্রায় ছ’শো আশি শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। খাদি আর হ্যান্ডিক্র্যাফটের মোটবিক্রিতেও গত বছরের তুলনায় এই বছরে প্রায় নব্বই শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। এটাদেখা যাচ্ছে যে আজ তরুণরা, প্রবীণ-বৃদ্ধরা, মহিলারা – প্রত্যেক বয়সসীমার মানুষখাদি আর হ্যান্ডলুম পছন্দ করছে। আমি কল্পনা করতে পারছি যে এতে কত তাঁতি পরিবারের,গরীব পরিবারের, হস্তচালিত তাঁতে কাজ করা পরিবারের কতটা লাভ হয়েছে। আগে খাদি, ‘খাদিফর নেশন’ ছিল। আর আমরা ‘খাদি ফর ফ্যাশন’-এর কথা বলেছিলাম। কিন্তু বিগত কিছু সময়ধরে আমি অন্তর থেকে বলতে পারছি যে ‘খাদি ফর নেশন’ আর ‘খাদি ফর ফ্যাশন’-এর পরে এখন,‘খাদি ফর ট্র্যান্সফর্মেশন’ ওই জায়গা নিচ্ছে। খাদি দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর ব্যক্তিরজীবনে, হ্যান্ডলুম গরীব থেকে আরও গরীব মানুষের জীবনে বদল এনে তাকে সশক্ত বানানোরশক্তিশালী উপকরণ হিসাবে উঠে এসেছে। গ্রামোদয়ের জন্য খুব বড় ভূমিকা পালন করছে। 

শ্রীমান রাজন ভট্ট ‘নরেন্দ্রমোদীঅ্যাপ’-এ লিখেছেন যে উনি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে আমার দীপাবলীর অভিজ্ঞতারব্যাপারে জানতে চান আর উনি এটাও জানতে চান যে প্রতিরক্ষা বাহিনী কীভাবে দীপাবলীপালন করে। শ্রীমান তেজস গায়কোয়াড়-ও নরেন্দ্রমোদী অ্যাপে লিখেছেন – আমাদের বাড়িরমিষ্টিও প্রতিরক্ষা বাহিনীর কাছে পৌঁছনোর ব্যবস্থা কি করা যায়? আমরাও আমাদের বীরপ্রতিরক্ষা বাহিনীর কথা ভাবি। আমরাও মনে করি যে আমাদের ঘরের মিষ্টি দেশের জওয়ানদেরকাছে পৌঁছনো দরকার। আপনারা সবাই দীপাবলী খুব হর্ষোল্লাসের মধ্যে দিয়ে কাটিয়েছেননিশ্চয়ই। আমার জন্য দীপাবলী এবার এক বিশেষ অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে। আবার একবারসীমান্তে নিযুক্ত আমাদের বীর প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে দীপাবলী পালনের সৌভাগ্য হলআমার। এবার জম্মু-কাশ্মীরের গুরেজ সেক্টরে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে দীপাবলী পালনআমার জন্য অবিস্মরণীয় হয়ে রইল। সীমান্তে যে কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করে আমাদেরপ্রতিরক্ষা বাহিনী দেশকে রক্ষা করে সেই সঙ্ঘর্ষ, সমর্পণ আর ত্যাগের জন্য, আমি সকলদেশবাসীর পক্ষ থেকে আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রত্যেক জওয়ানকে সম্মান জানাই। যখনআমাদের কাছে অবকাশ আসে, যখন সুযোগ পাই তখন আমাদের জওয়ানদের অভিজ্ঞতা জানা উচিত,তাঁদের গৌরবগাথা শোনা উচিত। আমাদের মধ্যে অনেক লোক জানেই না যে আমাদের প্রতিরক্ষাবাহিনীর জওয়ান, শুধু বর্ডারেই না, গোটা বিশ্বে শান্তি স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাপালন করছেন। রাষ্ট্রসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর হয়ে এঁরা সারা দুনিয়ায় ভারতের নামউজ্জ্বল করছেন। এই তো কয়েক দিন আগে, ২৪শে অক্টোবর সারা বিশ্বে ইউ এন ডে, সংযুক্তরাষ্ট্র দিবস পালন করা হল। বিশ্বে শান্তি স্থাপনে রাষ্ট্রসঙ্ঘেরর প্রয়াস, এরসদর্থক ভূমিকার কথা মনে রাখে সবাই। আর আমরা তো ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ মেনে চলি অর্থাৎপুরো বিশ্বই আমাদের পরিবার। আর এই বিশ্বাসের জন্য শুরু থেকে ভারত রাষ্ট্রসঙ্ঘেরবিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে সক্রিয় অবদান রেখে চলেছে। আপনারা নিশ্চয়ই জানবেন যেভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনা আর ইউ এন চার্টারের প্রস্তাবনা, দুটোই ‘উই দ্য পিপ্‌ল’এই শব্দগুলো দিয়ে শুরু হয়। ভারত নারীর সমান অধিকারের উপর সব সময় জোর দিয়েছে আর ইউএন ডিক্লেয়ারেশন অফ হিউম্যান রাইট্‌স এর জীবন্ত উদাহরণ। এর প্রারম্ভিক বাক্যাংশেযে প্রস্তাব করা হয়েছে, সেটা ছিল ‘অল মেন আর বর্ন ফ্রি অ্যান্ড ইক্যুয়াল’ যাভারতের প্রতিনিধি হংসা মেহতার চেষ্টায় পালটে নেওয়া হয়েছে আর পরে সেটা হল ‘অলহিউমান বিয়িংস  আর বর্ন ফ্রি অ্যান্ড ইক্যুয়াল’।এমনিতে তো এটা খুব ছোট একটা পরিবর্তন মনে হয় কিন্তু এর মধ্যে একটা স্বাস্থ্যকরচিন্তার দর্শন পাই আমরা। ইউ এন আমব্রেলার ক্ষেত্রে ভারত যে এক সবথেকে গুরুত্বপূর্ণঅবদান রেখেছে তা হল রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তিরক্ষা প্রচেষ্টায় ভারতের ভূমিকা। সংযুক্তরাষ্ট্রের শান্তি-শিক্ষা মিশনে, ভারত সবসময়ই এক বড় ভূমিকা পালন করে এসেছে। আপনাদেরমধ্যে এমন অনেকে আছেন যাঁরা হয়ত প্রথমবার এই তথ্য জানছেন। আঠেরো হাজারের বেশিপ্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তিরক্ষা প্রচেষ্টায় নিজেদের অবদানরেখেছে। বর্তমানে ভারতের প্রায় সাত হাজার সৈনিক রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তিরক্ষারউদ্যোগের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে আর গোটা বিশ্বে এটা তৃতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যা। ২০১৭ সালেরঅগাস্ট পর্যন্ত বিশ্বের একাত্তরটি শান্তিরক্ষার প্রয়াসের মধ্যে প্রায় পঞ্চাশটিতেতারা নিজেদের অবদান রেখেছে। এই সব প্রচেষ্টা কোরিয়া, কাম্বোডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম,কঙ্গো, সাইপ্রাস, লাইবেরিয়া, লেবানন, সুদান প্রভৃতি বিশ্বের নানা ভূ-ভাগে, বিভিন্নদেশে চলছে। কঙ্গো আর দক্ষিণ সুদানে ভারতীয় সেনার হাসপাতালে কুড়ি হাজারেরও বেশিরোগীর চিকিৎসা হয়েছে এবং অগুন্তি মানুষকে বাঁচানো হয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনীবিভিন্ন দেশে কেবল সেখানকার মানুষদের রক্ষাই করে নি, সেখানে শান্তিরক্ষারপ্রচেষ্টা চালিয়ে তাদের মনও জয় করে নিয়েছে।   

ভারতীয় মহিলারা শান্তি স্থাপনপ্রক্রিয়ায় অত্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। খুব কমজনই একথা জানেন যে, ভারতইপ্রথম দেশ যে লাইবেরিয়ায় রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তি অভিযানে ‘মহিলা পুলিশ ইউনিট’ পাঠায়।আর দেখুন, ভারতের এই পদক্ষেপ এরপর থেকে সব দেশগুলির কাছে প্রেরণা হয়ে উঠল। এরপরথেকে সব দেশ নিজেদের ‘মহিলা পুলিশ ইউনিট’ পাঠাতে শুরু করল। আপনারা শুনে গর্ববোধকরবেন যে – ভারতের ভূমিকা শুধুমাত্র শান্তিরক্ষার কাজেই সীমাবদ্ধ নেই, ভারত ৮৫-টিদেশের শান্তিরক্ষা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজও করে। মহাত্মা গান্ধী ও গৌতমবুদ্ধের এই মাটি থেকে আমাদের বাহাদুর শান্তিরক্ষকরা সারা বিশ্বে শান্তি ওসদ্ভাবনার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন।   

শান্তি-সুরক্ষার অভিযানটি মোটেইসহজসাধ্য নয়। আমাদের সুরক্ষা বাহিনীর জওয়ান্দের দুর্গম সব এলাকায় গিয়ে কাজ করতেহয়। তাঁদের ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতি এবং আলাদা আলাদা সংস্কৃতি জানতে বুঝতে হয়।তাঁদের সেখানকার স্থানীয় প্রয়োজন, পরিবেশ নিজেদেরই বিচার- বিবেচনায় অনুভব করতে হয়।আজ যখন ‘রাষ্ট্রসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা বাহিনী’র কথা আমরা স্মরণ করছি, তখন ক্যাপ্টেনগুরবচন সিংহ সালারিয়ার কথা কে ভুলতে পারে। আফ্রিকার কঙ্গোয় শান্তির জন্য লড়াই করতেগিয়ে নিজের সর্বস্ব ত্যাগ করেছিলেন। তাঁকে স্মরণ করে সমস্ত দেশবাসীর বুক গর্বে ভরেওঠে। তিনি একমাত্র রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী-র সদস্য ছিলেন – বীরপুরুষছিলেন – যাঁকে পরমবীর চক্র সম্মানে সম্মানিত করা হয়।  

  লেফটেন্যাণ্টজেনারেল প্রেমচন্‌দ্‌জী ভারতীয় শান্তিরক্ষী বাহিনীর একজন, যিনি 
সাইপ্রাস-এও নিজের কাজের বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছেন। ১৯৮৯ সালে, ৭২ বছর বয়সে তাঁকেনামিবিয়ার অভিযানে বাহিনী কম্যাণ্ডার নিযুক্ত করা হয়। তিনি নামিবিয়ার স্বাধীনতাসুনিশ্চিত করতে নিজের সেবা প্রদান করেন।  

  ভারতীয় সেনার পূর্ব-প্রধানজেনারেল থিমৈয়্যা, সাইপ্রাস-এ রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীর নেতৃত্ব দেন এবংশান্তিস্থাপনে নিজের সর্বস্ব নিয়োজিত করেন। ভারত সর্বদাই শান্তির দূত হিসেবেবিশ্বে শান্তি, একতা আর সদ্ভাবনার বার্তা বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের বিশ্বাস,প্রত্যেকে শান্তি ও সদ্ভাবপূর্ণ জীবন যাপন করুক এবং এক উন্নততর ও শান্তিপূর্ণভবিষ্যৎ নির্মাণের লক্ষ্যে এগিয়ে চলুক।  

  আমার প্রিয়দেশবাসী, আমাদের পূণ্যভূমি এই ভারতবর্ষ এমন সব মহামানবের আবির্ভাবে সুরভিত, যাঁরাসারা জীবন নিঃস্বার্থভাবে মানবতার সেবাই করে গেছেন। সিস্টার নিবেদিতা, যাঁকে আমরাভালোবাসায়, শ্রদ্ধায় ভগিনী নিবেদিতা বলেই জানি – তিনিও এই সব অসাধারণ মহামানবদেরএকজন। মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল আয়ারল্যাণ্ডে জন্মেছিলেন, পরে তাঁকে স্বামীবিবেকানন্দ ‘নিবেদিতা’ নাম দেন। ‘নিবেদিতা’র অর্থই হল যিনি পূর্ণরূপে সমর্পিতা।পরে তিনি নিজের নামের যথার্থ মহিমাটি প্রমাণ করে দেখিয়েছিলেন। গতকাল সিস্টারনিবেদিতার সার্ধশত জন্মজয়ন্তী ছিল। তিনি স্বামী বিবেকানন্দের দ্বারা এতটাইপ্রভাবিত হয়েছিলেন যে, নিজের সুখ-স্বাচ্ছ্যন্দের জীবন ত্যাগ করে গরীব-দুঃখীমানুষদের জন্যই নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। সিস্টার নিবেদিতা, বৃটিশ রাজের অত্যাচারীশাসনে ভীষণ কষ্ট পেতেন। ইংরেজরা ভারতীয়দের সেসময়ে শুধুই শারীরিক ভাবেই নয়, মানসিকভাবেও গোলামি ও দাসত্ব মানতে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিল। আমাদের সংস্কৃতিকে নীচ,হীন প্রতিপন্ন করার চেষ্টাও চলতো সব সময়। ভগিনী নিবেদিতা ভারতীয় সংস্কৃতির গৌরবপুনঃস্থাপিত করেন। রাষ্ট্রীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে, জাগরিত করে, মানুষজনকে একজোটহতে সাহায্য করেন। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘুরে ঘুরে সনাতন ধর্ম ও দর্শন বিষয়েঅপপ্রচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। প্রসিদ্ধ জাতীয়তাবাদী তামিল কবি সুব্রহ্মণ্যভারতী তাঁর বৈপ্লবিক কবিতা ‘পুদুমই পেন্ন’,  NewWomen  আর ‘নারী সশক্তিকরণ’-এর জন্য চিরপ্রণম্য হয়েথাকবেন। বলা হয়, এসবেরও প্রেরণার উৎস ছিলেন ভগিনী নিবেদিতা।  

  ভগিনীনিবেদিতা মহান বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুকেও নানা ভাবে সাহায্য করেছিলেন। তাঁরলেখনী ও বিভিন্ন সম্মেলনের মাধ্যমে শ্রী বসুর যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রকাশনাএবং প্রচার – দুটিতেই খুব সাহায্য করেন। আমাদের ভারতবর্ষের এই এক আশ্চর্য সুন্দরসহাবস্থান – যেখানে আমাদের সংস্কৃতির আধ্যাত্মিকতা ও বিজ্ঞান – একে অন্যেরপরিপূরক। সিস্টার নিবেদিতা এবং আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু – এই ভাবনার সুন্দরউদাহরণ।  

  ১৮৯৯ সালেকলকাতা মহানগরীতে মারাত্মক প্লেগের প্রাদুর্ভাবে দেখতে দেখতে শ’য়ে শ’য়ে মানুষমৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। সিস্টার নিবেদিতা, নিজের শরীর-স্বাস্থ্য অবজ্ঞা করে,রাস্তাঘাট, নর্দমা সাফাই অভিযানে এগিয়ে আসেন। ইনি সেই মহিলা, যিনি বিলাস-ব্যসন,সুখ-ভোগ ছেড়ে গরীব-দুঃখী মানুষের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। ওঁর এই ত্যাগ ওনিষ্ঠার প্রেরণায় সেসময় বহু মানুষ তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে কর্মে ব্রতী হয়। নিজের কর্মেরউদাহরণ স্থাপন করে তিনি মানুষকে সেবা ও স্বচ্ছতার পথে চালিত করেন। তাঁর সমাধির ওপরলেখা আছে – “ Here reposes Sister Nivedita,who gave her all to India. ” – এখানে বিশ্রামকরছেন সিস্টার নিবেদিতা, যিনি তাঁর সবকিছুই দিয়ে গেছেন ভারতবর্ষকে। নিঃসন্দেহেএকথা সর্বৈব সত্য। এই মহিয়সী ব্যক্তিত্বের প্রতি এটাই হবে আমাদের যথার্থশ্রদ্ধাঞ্জলি – যদি প্রত্যেক ভারতবাসী তাঁর জীবন থেকে শিক্ষাগ্রহণ করি ও তাঁরপ্রদর্শিত সেবার পথ অনুসরণ করি।  

  একটি ফোন কলআসে আমার কাছে –   

  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার নাম ডক্টর পার্থ শাহ্‌। ১৪-ইনভেম্বর আমরা আমাদের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর জন্মদিনকে ‘শিশু দিবস’হিসেবে পালন করি। আবার এই দিনটি ‘বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস’ হিসেবেও স্বীকৃত।ডায়াবেটিস শুধুমাত্র বড়দের রোগই নয়, বহু শিশুও এই অসুখে আক্রান্ত। আমরা এই অসুখেরমোকাবিলা কীভাবে করতে পারি?  

  আপনার ফোনেরজন্য ধন্যবাদ। সবার আগে সমস্ত বাচ্চাদের জানাই আমাদের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলালনেহরুর জন্মদিন উপলক্ষে উদ্‌যাপিত ‘শিশু দিবস’-এর অনেক অনেক শুভেচ্ছা। শিশুরাই হল‘নব ভারত’ নির্মাণের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, আগামীদিনের নায়ক। আপনার উদ্বেগ যথার্থ।যে সমস্ত রোগব্যাধি আগে প্রৌঢ়ত্বে দেখা যেত, তা আজকাল শৈশবেই দেখা যাচ্ছে। শুনতেআশ্চর্য লাগলেও এটা সত্যি যে বাচ্চারাও আজকাল ডায়াবেটিস-এর শিকার। আগেকার দিনে এইসমস্ত অসুখ ‘রাজ রোগ’ নামে পরিচিত ছিল। ‘রাজ রোগ’ অর্থাৎ এমন সমস্ত রোগব্যাধি যাআগে কেবল স্বচ্ছল ঘরের, আরাম-আয়েসে জীবন কাটানো মানুষদের মধ্যে দেখা যেত।যুবাবস্থায় এই রোগ প্রায় হতই না। কিন্তু এখন আমাদের জীবনযাত্রার অনেক পরিবর্তনঘটেছে। আজকাল এই অসুখগুলিকে  lifestyledisorder  বলা হয়। কম বয়েসে এই সমস্ত রোগেআক্রান্ত হওয়ার প্রধান কারণ হল শারীরিক পরিশ্রমের ঘাটতি এবং খাদ্যাভ্যাসেরপরিবর্তন। সমাজ ও পরিবার উভয়েরই এতে নজর দেওয়া প্রয়োজন। এই বিষয়ে বিবেচনা করলেদেখা যাবে, অস্বাভাবিক বা মারাত্মক কোনো পরিবর্তনের দরকার নেই। যেটা দরকার তা হলছোটো ছোটো ব্যপারে মনোযোগ দেওয়া এবং তা নিজেদের অভ্যাসের অন্তর্গত করা। আমি চাইপরিবারের লোকজন সচেতনভাবে চেষ্টা করুন যাতে বাচ্চারা খোলা মাঠে খেলাধূলা করারঅভ্যাস তৈরি করে। সম্ভব হলে পরিবারের বড়রাও তাদের সঙ্গে অংশ নিক। বাচ্চাদের লিফ্‌ট–এরপরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করার অভ্যাস করানো হোক। ডিনারের পর পুরো পরিবার বাচ্চাদেরসঙ্গে নিয়ে হাঁটাহাঁটি করতে যাক। ‘ Yogafor Young India ’ – যোগ আমাদের যুবক-যুবতীদেরস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস তৈরি করতে এবং  lifestyledisorder  থেকে বাঁচতে সাহায্য করবে। স্কুলেরআগে তিরিশ মিনিটের যোগাভ্যাসে দেখুন কত উপকার হতে পারে। যোগ অনায়াসে ঘরেও অভ্যাসকরা যেতে পারে। যোগের বৈশিষ্ট্যই হল তা অত্যন্ত সহজ, এবং সহজ বলেই আমি বলছি, যেকোনো বয়সের মানুষই স্বচ্ছন্দে যোগাভ্যাস করতে পারেন। যোগ সরল এই জন্য যে, যোগঅনায়াসেই শেখা যেতে পারে। সর্বসুলভ এই জন্য যে, যেকোনো জায়গাতেই যোগ অভ্যাস করাসম্ভব। বিশেষ কোনো যন্ত্রপাতি বা ময়দানের প্রয়োজন নেই। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে যোগকতটা কার্যকরী এই বিষয়ে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এইমস্‌-এও এই বিষয়ে অনেক কাজচলছে এবং এখন পর্যন্ত যে ফলাফল পাওয়া গেছে তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। আয়ুর্বেদ এবংযোগকে শুধুমাত্র রোগমুক্তির পদ্ধতি না ভেবে একে দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ করা উচিত।  

  আমার প্রিয়দেশবাসী, বিশেষ করে আমার যুবা বন্ধুরা, খেলাধূলার জগত থেকে বিগত কয়েকদিনে সুখবরএসেছে। বিভিন্ন ধরনের খেলায় আমাদের ক্রীড়াবিদ্‌রা দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। হকিতেভারত অসাধারণ খেলে এশিয়া কাপ জিতেছে। তাদের এই অসাধারণ ক্রীড়ানৈপুণ্যের জন্য দীর্ঘদশ বছর পর ভারত এই খেতাব পেয়েছে। এর আগে ২০০৩ ও 
২০০৭-এ ভারত এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। পুরো টিম ও সাপোর্ট স্টাফদের আমার ওদেশবাসীর তরফ থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।  

  হকির মতব্যাডমিন্টনেও ভারতের জন্য সুখবর আছে। ব্যাডমিন্টন স্টার  Kidambi Srikant  অসাধারণ খেলেডেনমার্ক ওপেন জয় করেছেন এবং প্রত্যেক ভারতবাসীকে গৌরবান্বিত করেছেন। ইন্দোনেশিয়ানওপেন ও অস্ট্রেলিয়ান ওপেন-এর পর এটা ওঁর তৃতীয় সুপার সিরিজ খেতাব জয়। আমি এই যুবাখেলোয়ারকে তাঁর সাফল্যের জন্য এবং ভারতের গৌরববৃদ্ধির জন্য অভিনন্দন জানাই।  

  বন্ধুরা, এইমাসেই  FIFA Under-17 World Cup  আয়োজিত হয়েছে। বিশ্বের নানা দেশের টিম এতে অংশগ্রহণ করতে ভারতে এসেছে এবংতাদের ক্রীড়াকৌশল আমাদের মুগ্ধ করেছে। আমারও একটা ম্যাচ দেখার সুযোগ হয়েছিল।খেলোয়াড় থেকে দর্শক সবাই খুব উৎসাহী ছিলেন। ওয়ার্ল্ড কাপ বড় একটি আয়োজন, যেখানেগোটা বিশ্বের নজর আছে আপনার উপর। আমি যুবা খেলোয়াড়দের উৎসাহ, স্ফূর্তি আর উদ্দীপনাদেখে বিস্মিত হয়ে গেছিলাম। ওয়ার্ল্ড কাপের আয়োজন সুষ্ঠ ও সফল ভাবে সম্পন্ন হয়েছেএবং সব টিমই তাদের সর্বশ্রেষ্ঠ নৈপুণ্য দেখিয়েছে। ভারত খেতাব না জিততে পারলেওভারতের খেলোয়াড়রা সকলের মন জয় করে নিয়েছে। ভারত তথা গোটা বিশ্ব খেলার এই উৎসবকেউপভোগ করেছে। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য পুরো ফুটবল টুর্ণামেণ্টই ছিল অত্যন্ত মনোরঞ্জক।ফুটবলের ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল এবং এর পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। আমি পুনরায় সমস্তখেলোয়ার, তাঁদের সহযোগীদের এবং সমস্ত ক্রীড়াপ্রেমী সাধারণকে আমার অভিনন্দন ওশুভেচ্ছা জানাই।   

আমার প্রিয় দেশবাসী, ‘স্বচ্ছ ভারত’বিষয়ে আমায় যত মানুষ লেখেন তাঁদের প্রতি যদি সুবিচার করতে হয়, তবে আমায়প্রত্যেকদিন ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান করতে হবে এবং প্রত্যেকটা ‘মন কি বাত’-এইস্বচ্ছতা বিষয়ে চর্চা করতে হবে। কেউ ছোটো ছোটো বাচ্চাদের নানান প্রচেষ্টার ছবিপাঠায় তো আবার কোথাও তরুণদের টিম এফোর্টের সাফল্যর কথা থাকে। কোথাও স্বচ্ছতা নিয়ে‘ innovation ’-এর ঘটনা থাকে,আবার কোথাও কোনো আধিকারিকের কাজের প্রতি উৎসাহ  News  হয়ে যায়। কিছুদিন আগে আমি একটা বড়োরিপোর্ট পেয়েছি, যেখানে মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর কেল্লার নবরূপায়ণের বর্ণনা রয়েছে।  Ecological Protection Organisation  নামে একটি  NGO -র পুরো টিম চন্দ্রপুর কেল্লায় সাফাই অভিযান চালিয়েছিল।টানা দুশোদিন অবিরাম অক্লান্ত টিম ওয়ার্ক চালিয়ে ঝক্‌ঝকে তক্‌তকে করার কাজ চলেছে।একটানা দুশোদিন! সাফাইয়ের আগের ও পরের দুটো ছবিই ওঁরা আমায় পাঠিয়েছেন। দেখে আমিঅবাক হয়ে গেছি এবং আমার মনে হয়েছে যাঁরা চারপাশের আবর্জনা, দুর্গন্ধময় পরিবেশ দেখেহতাশ হয়ে পড়েছেন, ভাবছেন এতো নোংরা পরিষ্কার করা কী করে সম্ভব, তাঁরা এই চন্দ্রপুরকেল্লার ছবি দেখতে পারেন। তাঁদের আমি বলবো  EcologicalProtection Organisation –এর তরুণ-তরুণীদের শ্রম,সংকল্প, জেদ, সজীবতা ছবিতে কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে তা দেখুন। ওঁদের দেখে আপনারভেতরের হতাশা, অবিশ্বাস সব দূর হয়ে যাবে। স্বচ্ছতার জন্য এই ‘ভগীরথ প্রয়াস’সৌন্দর্য, দলবদ্ধতা ও ক্রমাণ্বয়তার এক অদ্ভুত উদাহরণ। কেল্লা তো আমাদের ঐতিহ্যেরপ্রতীক। ঐতিহাসিক সৌধ সুরক্ষা ও সংরক্ষণ সমস্ত দেশবাসীর দায়িত্ব। আমি  Ecological Protection Organisation -এর সমস্ত কর্মীকে এবং চন্দ্রপুরের সমস্ত অধিবাসীকে আমার অনেক অনেক ধন্যবাদজানাই।  

  আমার প্রিয়দেশবাসী, আগামী ৪-ঠা নভেম্বর আমরা গুরু নানকের জন্মজয়ন্তী পালন করবো। গুরু নানকশুধু শিখ সম্প্রদায়ের প্রথম গুরুই নন, তিনি জগদ্গুরু। তিনি সমগ্র মানবজাতিরকল্যাণের কথা ভেবেছেন। সমস্ত জাতি-সম্প্রদায় সমান এই বাণী দিয়েছেন। নারীরআত্মসম্মান ও সশক্তিকরণের ওপর জোর দিয়েছেন।  

  গুরু নানক দেব২৮ হাজার কিলোমিটার পদযাত্রা করেছেন এবং এই পদযাত্রায় তিনি মানবতার বার্তা ছড়িয়েদিয়েছেন। তিনি মানুষের সঙ্গে মিশেছেন, তাদেরকে সততা, ত্যাগ ও কর্মনিষ্ঠার পথদেখিয়েছেন। তিনি শুধু মুখেই একথা বলেননি, নিজের জীবনে, নিজের কাজেও তা পালনকরেছেন। তিনি লঙ্গরখানা চালু করে মানুষের মধ্যে সেবাব্রতের সঞ্চার করেছেন। একসঙ্গেবসে লঙ্গরখানায় খাদ্য গ্রহণ করলে ঐক্য ও সাম্যভাব জাগ্রত হয়। গুরু নানক সার্থকজীবনের তিনটি সাধনার কথা বলে গেছেন। পরমাত্মার নাম জপ কর, শ্রমকার্যে মগ্ন থাকোএবং বিপদগ্রস্তকে সাহায্য কর। গুরু নানক নিজের বাণী প্রচারের জন্য ‘গুরুবাণী’ও রচনাকরেছিলেন। আগামী ২০১৯-এ গুরু নানকের ৫৫০-তম জন্মজয়ন্তী উদ্‌যাপিত হবে। আসুন, আমরাতাঁর বাণী ও শিক্ষা মেনে জীবনে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করি।  

  আমার প্রিয়দেশবাসী, আর দু’দিন পরে ৩১শে অক্টোবর। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মজয়ন্তী পালনকরা হবে। আমরা সবাই জানি, অখণ্ড আধুনিক ভারতের পরিকল্পনা তিনিই রচনা করেছিলেন।ভারতমাতার এই মহান সন্তানের অসাধারণ জীবন থেকে আমরা বহু কিছু শিখতে পারি। ৩১শেঅক্টোবর শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী এই জগৎ ছেড়ে চলে গেছিলেন। সর্দার বল্লভভাইপ্যাটেলের বৈশিষ্ট্য ছিল তিনি শুধু পরিবর্তনের সিদ্ধান্তই নিতেন না, জটিল থেকেজটিলতর সমস্যার সমাধান করার কার্যকরী উপায় খুঁজে বের করতেও সমর্থ ছিলেন। পরিকল্পনাবাস্তবায়নে তাঁর এক মহান ক্ষমতা ছিল। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ভারতকে এক সূত্রেগাঁথার কাজ করেছিলেন। কোটি কোটি ভারতবাসীকে ‘এক রাষ্ট্র এক সংবিধান’-এর ছত্রছায়ায়আনা সুনিশ্চিত করেছিলেন। তাঁর বিচক্ষণতা সমস্ত বাধা অতিক্রম করার শক্তি দিয়েছিল।যেখানে মর্যাদা, সম্মান দেওয়ার প্রয়োজন – দিয়েছেন, আবার যেখানে বলপ্রয়োগের প্রয়োজনহয়েছে – বলপ্রয়োগ করেছেন। তিনি একটা লক্ষ্য স্থির করেছেন এবং পূর্ণোদ্যমে সেই লক্ষ্যপূরণে এগিয়ে গেছেন, এগোতেই থেকেছেন। তিনি বলতেন – “দেশকে এক সূত্রে গাঁথার কাজ সেইমানুষই করতে পারেন, যিনি এমন রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেন যেখানে সমস্ত মানুষের সমানঅধিকার আছে”। আমি চাই, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের এই বাণী আমাদের সদাসর্বদাঅনুপ্রাণিত করুক। তিনি বলেছিলেন, জাতি ও সম্প্রদায়ের বিভিন্নতা আমরা বদলাতে পারবোনা, ভারতের প্রত্যেক নারী-পুরুষের নিজের দেশকে ভালোবাসা এবং পারস্পরিক প্রেম ও সদ্‌ভাবনায়নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্দিষ্ট করা উচিত।  

  সর্দারসাহেবের বাণী আজও আমাদের ‘ New India Vision ’-এর অনুপ্রেরণা ও শক্তি। আর সেই কারণেই তাঁর জন্মদিন‘রাষ্ট্রীয় একতা দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। আমাদের দেশকে একটা অখণ্ড রূপ দেওয়ায়তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। সর্দার সাহেবের জন্মদিন ৩১শে অক্টোবর, সেই উপলক্ষ্যে সারাদেশ জুড়ে ‘ Run for Unity ’-এর আয়োজন করা হবে, যেখানে শিশু, নারী, যুবসমাজ, প্রবীণেরাপ্রত্যেকেই শামিল হবে। আমার আপনাদের সবার কাছে অনুরোধ, আপনারা প্রত্যেকেই  Run for Unity – এই সদ্‌ভাবনাউৎসবে অংশগ্রহণ করুন।   
  আমারপ্রিয় দেশবাসী, দিওয়ালির ছুটির পর আপনারা নতুন সংকল্প, নতুন নিষ্ঠায় নিজেদেরদৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ফিরে গেছেন। সমস্ত দেশবাসীর সমস্ত স্বপ্ন পূরণের শুভেচ্ছারইল আমার তরফ থেকে ।

অনেক অনেক ধন্যবাদ!

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Indian public relations industry pegged to reach ₹4,500 cr by 2030: Report

Media Coverage

Indian public relations industry pegged to reach ₹4,500 cr by 2030: Report
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Prime Minister’s visit to Indonesia, Australia and New Zealand
July 03, 2026

At the invitation of the President of the Republic of Indonesia, H.E. Mr. Prabowo Subianto, Prime Minister Shri Narendra Modi will pay a visit to Indonesia from 6-8 July, 2026. This will be Prime Minister’s fourth visit to Indonesia and his first bilateral visit since the elevation of India-Indonesia ties to the level of Comprehensive Strategic Partnership in May 2018. During the visit, Prime Minister will hold bilateral discussions with President Prabowo and review the progress made in the partnership. In Jakarta, Prime Minister will address a large gathering of the Indian Diaspora. India and Indonesia share historical and warm people-to-people ties. In keeping with these special bonds, Prime Minister will visit the Prambanan Temple complex at Yogyakarta, a prominent UNESCO world heritage site in Indonesia.

From Indonesia, at the invitation of the Prime Minister of Australia, the Honourable Anthony Albanese MP, Prime Minister will travel to Melbourne from 8-10 July, 2026. In Melbourne, Prime Minister will hold bilateral discussions with Prime Minister Albanese. He will also call on the Governor General of Australia, the Honourable Ms Sam Mostyn AC. During his visit, Prime Minister will also participate in the India-Australia CEOs Forum, where he will address a gathering of top business leaders from both countries. Prime Minister will also address a large gathering of the Indian Diaspora, who constitute a strong pillar of the India-Australia relationship.

From Melbourne, at the invitation of the Prime Minister of New Zealand, Rt Honourable Christopher Luxon, Prime Minister will travel to Auckland for a state visit from 10-11 July, 2026. This will be the first state visit of an Indian Prime Minister to New Zealand in four decades. In Auckland, Prime Minister will hold bilateral discussions with Prime Minister Luxon and review the entire gamut of the bilateral relationship, which has seen significant progress in the last two years, especially in the areas of trade and commerce and defence. While in Auckland, Prime Minister will also interact with prominent business and sports personalities. In a reflection of the strong people-to-people ties that exist between India and New Zealand, Prime Minister will address a large gathering of the Indian Diaspora during the visit.