ভারত- জার্মানী যৌথ বিবৃতি

Published By : Admin | January 12, 2026 | 15:50 IST

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে জার্মানীর চ্যান্সেলর মাননীয় ফ্রেডরিক মার্জ ১২-১৩ জানুয়ারী ২০২৬ ভারত সফর করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ২৩ জন শীর্ষ স্থানীয় জার্মান সিইও এবং শিল্পজগতের কুশীলবেরা।

চ্যান্সেলর মার্জ তাঁর প্রথম সরকারি সফরে এই প্রথম এশিয়ায় এলেন। এর থেকেই ভারত- প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে ভারতকে জার্মানী কতটা গুরুত্ব দেয় তা স্পষ্ট। ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর নতুন দিল্লিতে ভারত-জার্মানী সপ্তম আন্তঃ সরকার আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। ২০২৫ সালে  দু’দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বের ২৫ বছর সম্পূর্ণ হয়েছে। ২০২৬ সালটি ভারত-জার্মানী কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ তম বছর। এই প্রেক্ষিতে জার্মান চ্যান্সেলরের এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং চ্যান্সেলর মার্জ সরকারি ও বাণিজ্যিক স্তরে এবং নাগরিক ও শিক্ষা পরিমণ্ডলে দু’দেশের আদান-প্রদান আরও জোরদার হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এর মাধ্যমে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন।

আমেদাবাদে প্রধানমন্ত্রী মোদী জার্মান চ্যান্সেলরকে স্বাগত জানান। সবরমতী আশ্রমে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন দুই নেতা। যোগ দেন ঘুড়ি উৎসবে। ভারত-জার্মানী সিইও ফোরামের সভায় ভাষণ দেন তাঁরা। বাণিজ্য এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা নিয়ে আলোচনার জন্য বেঙ্গালুরুতে একাধিক অনুষ্ঠানে যোগদানও জার্মান চ্যান্সেলরের সফর সূচিতে অন্তর্ভুক্ত। 

আমেদাবাদে ১২ জানুয়ারী একান্তে ও প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং চ্যান্সেলর মার্জ। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ছাড়াও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয় নিয়ে তাঁরা মত বিনিময় করেন। 

প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা


প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করার কথা বলেন দুই নেতা। ২০২৫ সালের নভেম্বরে নতুন দিল্লিতে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত আলোচনার ফলাফলে তাঁরা খুশি। যৌথ মহড়ার মাধ্যমে সামরিক সহযোগিতা জোরদার করায় জোর দেন তাঁরা। দু’দেশের মধ্যে নতুন একটি ট্র্যাক ১.৫ বিদেশ নীতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলাপচারিতা কাঠামো চালু হওয়া অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে তাঁরা মনে করেন। 

প্রধানমন্ত্রী মোদী নৌ মহড়া মিলন-এ, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারীতে ভারত মহাসাগরীয় নৌ সিম্পোজিয়াম, ২০২৬-এর সেপ্টেম্বরে বায়ুসেনার তরঙ্গ শক্তি মহড়ায় জার্মানীর অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। ইনফরমেশন ফিউশন সেন্টার- ইন্ডিয়ান ওশান রিজিয়ন (আইএফসি-আইওআর)- এ জার্মানীর তরফ থেকে একজন লিয়াঁজো আধিকারিক রাখার সিদ্ধান্তকেও তিনি স্বাগত জানিয়েছেন। ইউরোড্রোন এমএএলই ইউএভি কর্মসূচির  ক্ষেত্রে ডিআরডিও এবং অর্গানাইজেশন ফর জয়েন্ট আর্মামেন্ট কর্পোরেশনের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়েও দুপক্ষ ইতিবাচক মন্তব্য করেছে। এরফলে, ইউরোপের সঙ্গে কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সুদৃঢ় করার পাশাপাশি ভারত অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে সক্ষম হবে। 

প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতার কর্মসূচি সংক্রান্ত বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে যৌথ ঘোষণাতেও দুই নেতা খুশি। প্রযুক্তি সরঞ্জাম রপ্তানীতে গতি আনতে জার্মানীর উদ্যোগকেও স্বাগত জানিয়েছে ভারত। নতুন দিল্লি এবং বার্লিনে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত আলোচনা কর্মসূচি নিবিড় হওয়াকেও ইতিবাচক প্রবণতা বলে মনে করে দুই দেশ। সাবমেরিন, হেল্কপ্টারের উড়ানে বিঘ্ন দূর করা, মানববিহীন উড়ান যানের বৈরী তৎপরতা প্রতিরোধের মতো নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একযোগ কাজ করছে দুই দেশ। 

প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা আদান-প্রদান, লজিস্টিক্স সহায়তা প্রভৃতি ক্ষেত্রেও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে ভারত ও জার্মানী। ডিআরডিও এবং জার্মানীর ফেডারেল অফিস অফ বুন্দেশওয়ের ইক্যুইপমেন্ট, ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড ইন-সার্ভিস সাপোর্ট (বিএএআইএনবিডব্লু)-এর মধ্যে সহযোগিতার পরিসরও বাড়ানো হচ্ছে। 

সীমান্তপারের সন্ত্রাস সহ যাবতীয় জঙ্গি কার্যকলাপের কড়া নিন্দা করেছে দুই দেশ। এর প্রতিরোধে রাষ্ট্রসংঘের সনদ এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী একযোগে কাজ করবে নতুনদিল্লি ও বার্লিন। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে এবং ২০২৫-এর ১০ নভেম্বর নতুনদিল্লিতে জঙ্গি তৎপরতাকে ধিক্কার জানিয়েছে ভারত ও জার্মানী। সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় যৌথ কর্মীগোষ্ঠীর কাজকর্মে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দু’দেশের নেতারা। 

বাণিজ্য ও অর্থনীতি

২০২৪ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমান ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।  এই ধারা অব্যাহত রয়েছে ২০২৫ সালেও। ভারত- ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাণিজ্যিক আদান-প্রদানের ২৫ শতাংশই হয়ে থাকে জার্মানীর সঙ্গে। এই বিষয়গুলি অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক- মনে করেন দুপক্ষ। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, স্টার্ট আপ, ডিজিটালাইজেশন, এআই প্রভৃতি ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগকে আরও বেশি করে কাজে লাগানোর কথা বলেছেন দুই নেতা। জার্মানী, ভারতীয় লগ্নিকারীদের অন্যতম গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন চ্যান্সেলর মার্জ। ইইউ-ভারত শিখর সম্মেলনে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হোক- এমনটাই চায় নতুনদিল্লি ও বার্লিন। সিইও ফোরামের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার কথা বলেন দুই নেতা।

প্রযুক্তি, উদ্ভাবনা, বিজ্ঞান ও গবেষণা

অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, সেমি কন্ডাক্টর, ক্রিটিক্যাল মিনারেলস, স্বাস্থ্য, জৈব অর্থনীতির ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির কথা বলেন দুই নেতা। গত বছর মার্চে জিআইএফটি সিটিতে জার্মান প্রযুক্তি সংস্থা ইনফিনিয়নের মাধ্যমে গ্লোবাল কেপেবিলিটি সেন্টার চালু হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ইন্টারনেট এবং ডেটা গভর্মেন্সের ক্ষেত্রে ২০২৬-২৭ কর্ম পরিকল্পনার উল্লেখ রয়েছে বিবৃতিতে। মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্রেও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও প্রসারিত করার কথা বলা হয়েছে। চিরাচরিত চিকিৎসা ক্ষেত্রেও সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করবে দুই দেশ। 

পরিবেশ বান্ধব ও ধারাবাহিক বিকাশ

এক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা পূরণে ২০২৬ সালটির গুরুত্ব উল্লেখ করেন দুই নেতা। প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দায়বদ্ধতার কথা জানান তাঁরা। ২০২৩০ পর্যন্ত এই খাতে জার্মানীর সরকার ১০ বিলিয়ন ইউরো ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের ক্ষেত্রে জার্মানীর সঙ্গে অংশীদারিত্ব ভারতের পিএম ই-বাস পরিষেবা, বাড়ির ছাদে সৌরশক্তি উৎপাদন, ন্যাশনাল গ্রীণ হাইড্রোজেন মিশন প্রভৃতি কর্মসূচি রূপায়নে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়্ন্ত্রক পর্যদ এবং জার্মানীর টেকনিক্যাল অ্যান্ড সায়েন্টিফিক অ্যাসোসিয়েশন ফর গ্যাস অ্যান্ড ওয়াটার ইন্ড্রাস্ট্রিজের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতার গুরুত্ব উল্লেখ করেছেন দুই নেতা।

ভারত- প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সংযোগ এবং আন্তর্জাতিক নানা বিষয়

দুই নেতা মুক্ত ও অবাধ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পক্ষে সওয়াল করেছেন। এক্ষেত্রে একটি দ্বিপাক্ষিক আলোচনা প্রক্রিয়া চালু করার কথা বলেছেন তাঁরা। ভারত এবং জার্মানীর মাধ্যমে পরিচালিত ইন্ডিয়া-প্যাসিফিক ওশানস ইনিসিয়েটিভের কথাও উঠে এসেছে যৌথ বিবৃতিতে। ভারত-মধ্য প্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের চালচিত্র অনেকটাই পাল্টে দিতে পারে বলে মনে করে দুই দেশ। 

রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সার্বিক সংস্কারের পক্ষে ফের সওয়াল করেছে ভারত ও জার্মানী। আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রসংঘের সনদ অনুযায়ী আলোচনার মাধ্যমে ইউক্রেনে শান্তি ফেরানোর কথা বলেছেন তাঁরা। গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে দুই দেশ। 

শিক্ষা, দক্ষতায়ণ, যাতায়াত ও সংস্কৃতি

ভারতীয়দের ভিসা সংক্রান্ত ছাড়ের জন্য চ্যান্সেলর মার্জকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মানব পাচার প্রভৃতি সমস্যার মোকাবিলায় মাইগ্রেশন অ্যান্ড মবিলিটি পাটর্নারশিপের সংস্থানগুলিকে ঠিকভাবে কাজে লাগানোর কথা বলেছে দুই দেশ। জার্মানীতে ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টিও যৌথ বিবৃতিতে জায়গা পেয়েছে। 

ভারত এবং জার্মানীর ঐতিহাসিক ও সংস্কৃতিগত সংযোগ খুবই দৃঢ়। এইসব ক্ষেত্রে গৃহীত নানা যৌথ উদ্যোগের প্রসঙ্গ উঠে আসে বিবৃতিতে। 

উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন চ্যান্সেলর মার্জ। তাঁদের বৈঠকে স্থির হয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ দিকে জার্মানীতে বসবে ভারত-জার্মানী আন্তঃসরকার আলোচনার পরবর্তী বৈঠক।

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
India to add 100 merchant ships to its fleet in 5 years: Sarbananda Sonowal

Media Coverage

India to add 100 merchant ships to its fleet in 5 years: Sarbananda Sonowal
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
২৭শে আগস্ট ‘খেলো ইন্ডিয়া ডায়ালগ’-এ তরুণদের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী
August 26, 2026
Khelo India Dialogue will bring together sports, youth leadership, civic responsibility, volunteering, fitness and nation-building on a common platform
Yuva Samvaad under Khelo India Dialogue to Focus on Five Key Themes: Sports, Olympic Aspirations, Youth Leadership, Viksit Bharat and Nasha Mukt Yuva

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ২৭শে আগস্ট সকাল ১১টায় ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ‘খেলো ইন্ডিয়া ডায়লগ’-এ ভাষণ দেবেন। তরুণদের ভারতের খেলাধুলোয় যুক্ত করা, তাদের আকাঙ্ক্ষাগুলি তুলে ধরা এবং যুব-নেতৃত্বাধীন এক শক্তিশালী ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধারণা বা পরামর্শ প্রদান করাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য।

‘মেরা যুব ভারত’ (MY Bharat)-এর আয়োজনে এবং ‘জাতীয় ক্রীড়া দিবস ২০২৬’-এর উদযাপনের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচিটি দেশজুড়ে পরিচালিত হবে। এতে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রতিটি জেলার দুটি করে কলেজের তরুণরা অংশগ্রহণ করবেন। একটি সুস্থ, সুশৃঙ্খল ও ক্রীড়াপ্রেমী দেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন কর্মসূচিতে তরুণদের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার যে লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই কর্মসূচিটি আয়োজন করা হচ্ছে।

দেশব্যাপী আয়োজিত এই ‘খেলো ইন্ডিয়া ডায়লগ’ ক্রীড়া, যুব নেতৃত্ব, নাগরিক দায়িত্ববোধ, স্বেচ্ছাসেবা, শারীরিক সুস্থতা এবং দেশ গঠনের বিষয়গুলিকে একটি অভিন্ন মঞ্চে নিয়ে আসবে। এটি তরুণদের জন্য দেশের ক্রীড়া-সংক্রান্ত লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার একটি সরাসরি মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া ভারতের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক যে চলতি আলোচনা ও কর্মসূচিতে, তাদের ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গি যাতে অন্তর্ভুক্ত হয়, তা নিশ্চিত করবে।

এই জাতীয় কর্মসূচির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও তরুণ অংশগ্রহণকারী, ‘মাই ভারত’-এর স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় ক্রীড়াবিদ এবং জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে মতবিনিময় বা আলোচনার আয়োজন করা হবে। খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী তরুণদের সঙ্গে ভারতের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়াবিদ ও পদকজয়ীদের সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ করে দেওয়া এই উদ্যোগের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। কর্মসূচির একটি কেন্দ্রীয় আকর্ষণ হলো ‘যুব সংবাদ’। এখানে তরুণ অংশগ্রহণকারীদের তাদের নিজস্ব ধারণা, দৃষ্টিভঙ্গি ও আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। এই আলোচনাটি মূলত পাঁচটি মূল বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে:

• উন্নত সুযোগ-সুবিধা, প্রশিক্ষণ, ক্রীড়া বিজ্ঞান এবং সর্বজনীন অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভারতের ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়ন।

• বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রতিভা শনাক্তকরণ, স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং ক্রীড়াবিদদের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের মাধ্যমে ২০৩৬ সালের অলিম্পিকের জন্য প্রতিভাবানদের গড়ে তোলা।

• শাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন মঞ্চ ও ‘মাই ভারত’-এর নেতৃত্বাধীন স্বেচ্ছাসেবক কর্মসূচির মাধ্যমে যুব নেতৃত্ব গড়ে তোলা।

• নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি, ভবিষ্যতের উপযোগী দক্ষতা অর্জন এবং সুসংগঠিত স্বেচ্ছাসেবক কর্মসূচির মাধ্যমে ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে যুবসমাজকে ক্ষমতাবান করে তোলা।

• খেলাধুলা ও সমবয়সী নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের লক্ষ্যে ‘নেশা মুক্ত যুব’বা মাদক-মুক্ত যুবসমাজ আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এর অংশ হিসেবে ২ আগস্ট ২০২৬-এ শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রীর ১০০-সপ্তাহব্যাপী দেশব্যাপী প্রচার অভিযানের আওতায় সাপ্তাহিক ‘জন-অংশীদারিত্ব’কর্মসূচি পরিচালিত হবে।