প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মাননীয় ডঃ আলেকজান্ডার স্টুব ৪ থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত ভারত সফরে রয়েছেন। এটি তাঁর প্রথম ভারত সফর। এখন তিনি দিল্লি ও মুম্বই সফর করছেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ফিনল্যান্ডের জলবায়ু ও পরিবেশ মন্ত্রী শ্রীমতী সারি মুলতালা সহ এক উচ্চ পর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধিদল ও বাণিজ্য জগতের নেতৃবৃন্দ। ৫ মার্চ নতুন দিল্লিতে রাইসিনা ডায়ালগের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শ্রী মোদী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট স্টুব।
৫ মার্চ রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রেসিডেন্ট স্টুব’কে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি শ্রীমতী দ্রৌপদী মুর্মু। প্রধানমন্ত্রী শ্রী মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সময়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন প্রেসিডেন্ট স্টুব। পরে তাঁরা যৌথ সাংবাদিক বৈঠকও করেন।
দুই নেতাই ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে স্বাগত জানান। পাশাপাশি, ডিজিটাল ক্ষেত্রে কৌশলগত অংশীদারিত্ব সহ পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বোঝাপড়া মজবুত করার উপর জোর দেন তাঁরা।
২০৩০ সালের মধ্যে ভারত ও ফিনল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্যকে দ্বিগুণ করার ব্যাপারে দুই নেতা সহমত ব্যক্ত করেন। দুই নেতাই ভারত-ফিনল্যান্ড বিজনেস সামিট এবং ৭ মার্চ মুম্বইয়ে আয়োজিত সিইও পর্যায়ের বৈঠক বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের পথ সুগম করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া, স্টার্টআপ ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বৃদ্ধির উপর জোর দেন তাঁরা।
সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং আর্থিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থাকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেন দুই নেতা। তাঁদের আলোচনায় ৫জি, ৬জি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো প্রযুক্তির নানা দিক উঠে আসে।
ডিজিটাল ক্ষেত্রে যৌথ কর্মীগোষ্ঠী তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নির্দেশ দেন দুই নেতা। তাঁদের আলোচনায় মহাকাশ ক্ষেত্রে সম্ভাবনার কথাও উঠে আসে। এক্ষেত্রে বেসরকারি অংশগ্রহণের উপরও জোর দেওয়া হয়।
কম কার্বন নিঃসরণ, শক্তির যথাযথ ব্যবহার, জৈব জ্বালানি, স্মার্ট গ্রিড এবং গ্রিন হাইড্রোজেনের মতো ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দেন দুই নেতা।
পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে স্বাক্ষরিত মউ’কে কার্যকর করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আবহাওয়ার ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতাকে আরও প্রসারিত করার ব্যাপারে একমত হন দুই নেতা। এক্ষেত্রে ফিনিশ মেটিওরোলজিক্যাল ইন্সটিটিউট এবং ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়কে আরও জোরদার করার উপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।
দক্ষ শ্রমিক, বিশেষজ্ঞ ও তরুণ পেশাদার, গবেষক ও পড়ুয়া, ব্যবসায়ী ও শিক্ষাবিদ সহ সমস্ত ক্ষেত্রে পারস্পরিক যোগাযোগের গুরুত্বের কথা স্বীকার করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট।
ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাণিজ্যকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তাঁরা। এই চুক্তির মাধ্যমে সুস্থায়ী সরবরাহ-শৃঙ্খল গড়ে ওঠার পাশাপাশি, নতুন নতুন বাজারও তৈরি হবে বলে মনে করেন দুই নেতা।
ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব চুক্তিকে এক উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত করেন দুই নেতা। এর ফলে, সামুদ্রিক সুরক্ষা, প্রতিরক্ষা শিল্প, সাইবার ও হাইব্রিড সংক্রান্ত সমস্যা, মহাকাশ ও সন্ত্রাস দমনের মতো ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।
দুই নেতা রাষ্ট্রসংঘের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তাঁদের মতে, সংস্কারের মাধ্যমে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে আরও দক্ষ, প্রতিনিধিত্বমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপযোগী করে গড়ে তোলা সম্ভব। রাষ্ট্রসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির মধ্যে সহযোগিতার গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন তাঁরা।
দুই নেতা যে কোনও ধরনের সন্ত্রাসবাদ এবং হিংসাত্মক উগ্রপন্থী কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা করেন। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সর্বাত্মক আন্তর্জাতিক বোঝাপড়ার উপর জোর দেন তাঁরা।
সন্ত্রাসবাদীদের অর্থের যোগান বন্ধ করা সহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ দমনে সহযোগিতা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেন তাঁরা।
এই সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রী।মোদীকে ধন্যবাদ জানান ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট এবং দুই নেতা আশা প্রকাশ করে বলেন যে, খোলামেলা ও গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সহযোগিতাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। প্রেসিডেন্ট স্টুব প্রধানমন্ত্রীকে ফিনল্যান্ড সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।


