ভারত থেকে জাপানে ৫০,০০০ দক্ষ কর্মী এবং সম্ভাবনাময় মেধা পাঠানো সহ আগামী ৫ বছরে দুই দেশের মধ্যে ৫ লক্ষ কর্মী বিনিময়। 

২০২৫-এ ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকের সময় ভারত ও জাপানের দুই প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের নাগরিকদের পারস্পরিক যাতায়াত ও বিনিময়ের মাধ্যমে বোঝাপড়াকে আরও মজবুত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছিলেন। সেই লক্ষ্যে আগামী ৫ বছরে দুই দেশ ৫ লক্ষের বেশি কর্মী বিনিময়ের লক্ষ্য স্থির করেছে। এর মধ্যে  ৫০,০০০ দক্ষ কর্মী ও সম্ভাবনাময় মেধা ভারত থেকে জাপানে পাঠানো হবে। এর লক্ষ্য হল, দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা সৃষ্টি করা। নিম্নলিখিত লক্ষ্যের মাধ্যমে এই প্রয়াসে গতি আনা হবে :

১. ভারত থেকে জাপানে দক্ষ কর্মী ও সম্ভাবনাময় মেধা পাঠানো।

২. যৌথ গবেষণা, বাণিজ্যিকীকরণের ক্ষেত্রে মানব শক্তির ব্যবহার।

৩. ভারতে জাপানি ভাষা শিক্ষার প্রসার এবং সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও তৃণমূল স্তরে পারস্পরিক বিনিময়।

৪. তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী সহ জাপানে মানবশক্তির ঘাটতি কমানো। অন্যদিকে ভারতে দক্ষতা উন্নয়ন ও উৎপাদন ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করা।

৫. জাপানি সংস্থা এবং ভারতীয় পড়ুয়াদের মধ্যে যোগাযোগকে সুদৃঢ় করা। 

এই লক্ষ্যে ভারত ও জাপান যৌথভাবে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে, যা শিল্প এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাবে। 

উচ্চ প্রশিক্ষিত কর্মী :

আগামী ৫ বছরে জাপানে ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার ও শিক্ষা কর্মীদের সংখ্যা বাড়ানো হবে। 

ক) ভারতের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে জাপানি সংস্থাগুলির বিশেষ মিশন। এর লক্ষ্য হল, সেমিকন্ডাক্টর ও এআই সহ সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলিতে জাপানি সংস্থায় কর্মসংস্থানের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

খ) জাপানে ভারতীয় পেশাদারদের কর্মসংস্থান সম্পর্কে সমীক্ষা চালানো, সাফল্যের ক্ষেত্রগুলিকে চিহ্নিত করা, সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলা ও কর্মসংস্থানকে মসৃণ করা, যা জাপানে ভারতীয় প্রতিভাদের উচ্চ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। 

গ) জাপান এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড টিচিং (জেইটি) কর্মসূচির আওতায় জাপানে ইংরেজি ভাষা শিক্ষার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ। 

পড়ুয়া ও গবেষক :

আগামী ৫ বছরে জাপানে ভারতীয় পড়ুয়া, বিজ্ঞানী এবং গবেষকদের সংখ্যা বাড়ানো 

ক) জাপানের এমইএক্সটি এবং ভারতের শিক্ষা মন্ত্রকের মধ্যে  উচ্চস্তরীয় নীতি সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক মতবিনিময়, জাপানে ভারতীয় মেধার জন্য উচ্চশিক্ষা পরবর্তী ইন্টার্নশিপ এবং কর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ জোর। 

খ) এমইএক্সটি-র মাধ্যমে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিনিময় প্রকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, যা জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ভারতের পড়ুয়াদের উন্নত শিক্ষা সুনিশ্চিত করবে।

গ) জাপান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংস্থা (জেএসটি) সাকুরা সায়েন্স এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের আওতায় প্রতি বছর ভারতীয় পড়ুয়া ও গবেষকরা জাপান সফর করবেন, এই কর্মসূচিতে মহিলা গবেষকদের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা হবে। 

ঘ) জাপান সরকারের (এমইএক্সটি) বৃত্তির মাধ্যমে জাপানে অধ্যয়নরত ভারতীয় পড়ুয়াদের সহায়তা করা হবে। 

ঙ) নতুন চালু হওয়া জাপানের বিদেশ মন্ত্রকের এমআইআরএআই-সেতু কর্মসূচিতে ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও স্নাতকোত্তর স্তরের পড়ুয়াদের আমন্ত্রণ এবং জাপানি সংস্থাগুলিতে এক মাসের ইন্টার্নশিপ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। 

চ) আন্তর্জাতিক যুব বিজ্ঞান কর্মসূচির মাধ্যমে ভারত ও জাপানের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক বা এজেন্সিগুলি উচ্চ বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানাবে। সংক্ষিপ্ত সময়ের এই বিনিময়ের ফলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে শিক্ষালাভ করতে পারবে ভারতীয় পড়ুয়ারা।  

ছ) স্নাতকোত্তর স্তর সহ জাপানে যাওয়া তরুণ গবেষকদের জন্য জাপানে এমইএক্সটি-র চালু করা লোটাস (ইন্ডিয়া-জাপান সার্কুলেশন অফ ট্যালেন্টেড ইয়্যুথ ইন সায়েন্স) কর্মসূচিতে ভারত ও জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে আধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যৌথ গবেষণা।

স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কার (এসএসডব্লু) সিস্টেম/টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিং প্রোগ্রাম (টিআইটিপি):

জাপানের এসএসডব্লু সিস্টেমের আওতায় ভারতীয় কর্মীদের সংখ্যা বৃদ্ধি

ক) ভারতে ১৬টি ক্যাটাগরিতে এসএসডব্লু পরীক্ষা।

খ) ভারতের উত্তর, পূর্ব, দক্ষিণ, পশ্চিম এবং উত্তরপূর্বাঞ্চলে জাপানি ভাষা শিক্ষার জন্য নতুন নতুন পরীক্ষা কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রয়াস চালানো।

গ) ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের প্রবাসী কৌশল বিকাশ যোজনা কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য ভারতীয় এসএসডব্লু কর্মীদের জন্য পেশাগত ভাষা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা।

ঘ) ভারতের ই-মাইগ্রেট পোর্টালে জাপানকে গন্তব্য দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ঙ) টিআইটিপি এবং এমপ্লয়মেন্ট ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট (ইএসডি) কর্মসূচির মাধ্যমে ভারতের সম্ভাবনাময় মেধাকে জাপানে টেনে নিয়ে যাওয়া। 

দক্ষতা উন্নয়ন :

জাপানের পরিচালনা, শিল্পগত এবং উৎপাদন সংক্রান্ত দক্ষতা বৃদ্ধি করতে 

ক) ভারতে সুনির্দিষ্ট পাঠক্রম ও পেশাগত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে জাপানি সংস্থাগুলির ভর্তুকির ব্যবস্থা এবং জাপানে ভারতীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণে ভর্তুকি প্রদান।

খ) “ইন্ডিয়া-জাপান ট্যালেন্ট ব্রিজ” এবং অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে ভারতীয় পড়ুয়া ও মিড-কেরিয়ার ভারতীয় দক্ষ পেশাদারদের জন্য ইন্টার্নশিপ এবং উপযুক্ত চাকরির ব্যবস্থা। 

গ) জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নিগম (এনএসডিসি)-র সঙ্গে সমন্বয় রেখে ভারতের রাজ্য সরকারগুলিকে সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের জন্য সহায়তা।

ঘ) যোগ এবং আর্য়ুবেদের জন্য উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ে তোলা। এর তদারকি করবে ভারতীয় দূতাবাস এবং ভারতের আয়ুষ মন্ত্রকের আয়ুষ সেল। 

ভাষা সক্ষমতার বিকাশ :

দক্ষতার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জাপানি ভাষা শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া 

ক) সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগে ভারতের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে জাপানি ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা।

খ) ভাষা শিক্ষায় খরচের ক্ষেত্রে জাপানি সংস্থাগুলির ভর্তুকির ব্যবস্থা।

গ) জাপানি ভাষা শিক্ষার জন্য দক্ষ শিক্ষক তৈরির লক্ষ্যে জাপানি ভাষা বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ।

ঘ) জাপানি ভাষার শিক্ষক ও পড়ুয়াদের সহায়তার লক্ষ্যে উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে জাপানি নাগরিকদের পাঠানো।

ঙ)  দক্ষ কর্মীর চাহিদা মেটাতে জাপান ফাউন্ডেশন ৩৬০-ঘন্টা শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। 

চ) ভারতে জাপানি ভাষা শিক্ষার পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি করা। 


সচেতনতা বৃদ্ধি, সহায়তা ও সমন্বয় :

আগামী ৫ বছর এবং তার পরবর্তী সময়ের জন্য এইসব বিনিময় কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ সক্রিয়ভাবে কাজ করবে

ক) বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে চাকরি মেলা, বিজ্ঞাপন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় মাধ্যমে জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে কর্মসূচি।

খ) জাপানের প্রিফেকচারগুলিতে কর্মী এবং নিয়োগকারীদের জন্য সেমিনারের আয়োজন।

গ) কর্মশালা এবং অভিযোগের নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ভারতীয় দূতাবাসগুলির সহায়তা।

ঙ) বিভিন্ন ক্ষেত্রে দু-দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে প্রাসঙ্গিক তথ্য আদান-প্রদানের লক্ষ্যে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা।

চ) অংশীদারিত্বের মাধ্যমে মানব সম্পদ ও মেধা বিনিময় এবং জাপানের প্রিফেকচারগুলিতে ভারতীয় রাজ্যগুলি থেকে দক্ষ কর্মীদের নিয়োগ।

ছ) দু দেশের মধ্যে মানব সম্পদ বিনিময় নিয়ে আলোচনা চক্রের ব্যবস্থা। 


উল্লিখিত কর্ম পরিকল্পনা রূপায়ণের ক্ষেত্রে সামগ্রিক দায়িত্ব পালন করবে ভারত এবং জাপানের বিদেশ মন্ত্রক। এই লক্ষ্যে যুগ্ম সচিব/মহা নির্দেশক স্তরে বার্ষিক নিয়মিত শলাপরামর্শ চলবে। 

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
India's food services market to reach USD 150 billion by FY31, online share to rise to 18%: Report

Media Coverage

India's food services market to reach USD 150 billion by FY31, online share to rise to 18%: Report
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
সোশ্যাল মিডিয়া কর্নার 10 জুলাই 2026
July 10, 2026

Building Viksit Bharat: PM Modi Accelerating India's Growth at Home and Across the World