For the development of the nation, prosperity of farmers is essential: PM
We saw the green & white revolution. Time has come for the blue revolution & sweet revolution: PM Modi
Along with 'Jan Andolan', 'Jal Andolan' can help us for the future: PM Modi

আজ ২৪ আগস্ট অর্থাৎ এই সংস্থার প্রতিষ্ঠা দিবসটি আপনারা গৌরব দিবস রূপেপালন করেন। আমাদের দেশ গঠনে ‘বায়ফ’-এর ভূমিকা অনস্বীকার্য, সেজন্য আমি আপনাদেরঅভিনন্দন জানাই। 

আমার খুব ভালো লাগত যদি আমি আজ স্বশরীরে আপনাদের মাঝে পৌঁছে আনন্দোৎসবেসামিল হতে পারতাম, আপনাদের নতুন অভিজ্ঞতা শুনতাম, আপনাদের থেকে নতুন কিছু শিখতাম। 

আমার মনে পড়ে, কয়ক বছর আগে ‘ওয়াডি’ প্রকল্প শুরু হয়েছিল, তখন নওসারি আরওয়ালসাডে’তে আমি অনেক্ কাছ থেকে আপনাদের কাজ দেখেছি। সেজন্য আমি মানসিকভাবে নিজেকে‘বায়ফ’-এর সঙ্গে যুক্ত বলে অনুভব করি। যে মিশন নিয়ে দেশের অনেক রাজ্যে আপনাদেরসংস্থা কাজ করছে, এটা একটা সংস্থার জন্য আনন্দের বিষয়। 

আজ এখানে এই অনুষ্ঠানে বেশ কিছু পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।সম্মান-প্রাপকদের মধ্যে বেশ কিছু স্বনির্ভর গোষ্ঠী রয়েছে। বেশ কয়েকজনকেউল্লেখযোগ্য ব্যক্তিগত প্রয়াসের জন্য পুরস্কৃত করা হয়েছে। এঁদের মধ্যে কেউকর্ণাটকের, কেউ গুজরাটের, কেউ মহারাষ্ট্রের আবার কেউ ঝাড়খন্ডের। আমি তাঁদেরকেওঅভিনন্দন জানাই এবং কামনা করি তাঁরা ভবিষ্যত্যেও এরকম সমাজহিতে কাজ করে যাবেন। 

বন্ধুগণ, এ বছর আমরা সাবরমতী আশ্রম স্থাপনার শতবর্ষ এবং চম্পারণসত্যাগ্রহেরও শতবর্ষ পালন করছি। এ বছর সার্বজনিক গণেশ উৎসবেরও ১২৫ বছর পূর্ণহচ্ছে। দেশের ইতিহাসে এই তিনটিই স্বাধীনতা আন্দোলনকে নতুন পথ প্রদর্শনের ক্ষেত্রেগুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই তিনটিই গণঅংশীদারিত্বের মাধ্যমে কিভাবেসংকল্পকে সিদ্ধিতে পরিণত করা যায়, তার প্রতীক। 

গণঅংশীদারিত্বের মাধ্যমে জনকল্যাণে এই দূরদৃষ্টিই ভারতীয় অ্যাগ্রোইন্ডাস্ট্রিজ ফাউন্ডেশনেরও মূল ভিত্তি। আজ এর সুবর্ণ জয়ন্তী পালিত হচ্ছে ঠিকই,কিন্তু তারও অনেক আগে ১৯৪৬ সালে মণিভাই যেদিন গান্ধীজির সঙ্গে উরুলিকঞ্চন গ্রামেপৌঁছেছিলেন, সেদিনই গান্ধিজির প্রেরণায় মণিভাই মনে মনে এই বিষয়ে কাজের পরিকল্পনাকরে সংকল্প নিয়েছিলেন আর তারপর গুজরাটের গির থেকে কিছু গাভী এনে এখানে কাজ করাশুরু করেছিলেন। 

আমাদের গ্রামবাসীদের পরম্পরাগত জ্ঞানের সঙ্গে বিজ্ঞান এবং আধুনিক প্রযুক্তিজুড়ে কিভাবে কৃষকের আয় বৃদ্ধি করা যায়, আপনাদের সংস্থা তা বাস্তবে করে দেখিয়েছে। 

বন্ধুগণ, দেশের উন্নয়নে ভারসাম্য রক্ষার জন্যে গ্রামের কৃষকদের ক্ষমতায়নজরুরি। কৃষকদের ক্ষমতায়ন না হলে নতুন ভারত-এর স্বপ্নও সফল হতে পারবে না। আর সেজন্যএই সরকার ২০২২ সালের মধ্যে কৃষকদের রোজগার দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।সেজন্য এখন কৃষি প্রকল্পসমূহের ধাঁচ বদলে সেগুলিকে উৎপাদন-কেন্দ্রিক করার পাশাপাশিরোজগার-কেন্দ্রিকও করা হয়েছে। 

আজ সরকার বীজ থেকে বাজার পর্যন্ত কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছে। কৃষকরা যাতেপ্রত্যেক জলবিন্দু ব্যবহার করতে পারেন, সেদিকে জোর দিয়েছে। জৈবচাষ আর ফসলেবৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষারমাধ্যমে সুনিশ্চিত করার জন্য ইতিমধ্যেই ৯ কোটিরও বেশি মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ডদেওয়া হয়েছে। 

ই-নাম প্রকল্পের মাধ্যমে সারা দেশে ৫০০-রও বেশি বাজারকে অনলাইনে যুক্ত করাহয়েছে। সম্প্রতি ‘প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্পদা যোজনা’ও চালু হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্যহ’ল, দেশে গুদামজাতকরণের সমস্যার মোকাবিলা করা এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণকে উৎসাহদেওয়া। 

যে কোনও কারণে ফসলের ক্ষতি হলে যাতে কৃষকের জীবনে বিপর্যয় না নেমে আসে, তাসুনিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকদেরসুদখোর মহাজনদের কবল থেকে উদ্ধার করে ন্যূনতম সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে।

আপনারা হয়তো লক্ষ্য করেছেন যে, সরকারের এইসব প্রচেষ্টা কৃষককেদুশ্চিন্তামুক্ত করে আমদানি বৃদ্ধির পথে এগিয়ে দিতে অনেকটাই সফল হয়েছে। দেশেরঅন্নদাতারা যদি দুশ্চিন্তামুক্ত থাকেন, তা হলে দেশের উন্নয়নও সহজেই নতুন উচ্চতায়পৌঁছতে পারবে। 

‘বায়ফ’ অত্যন্ত সেবাভাব নিয়ে বছরের পর বছর ধরে এই কাজে নিয়োজিত। কিন্তু আজআমি আপনাদের মনে কিছু নতুন চিন্তার বীজ বপন করতে চাই। এই উপদেশকে আপনারা কোনওবিশেষজ্ঞর পরামর্শ বা জ্ঞান হিসাবে গ্রহণ করবেন না, আপনাদের মতো বিশেষজ্ঞদের কাছেএটি আমার অনুরোধ মাত্র। 

আমি জানি যে, মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির মাধ্যমে ‘বায়ফ’ কিভাবে লক্ষ লক্ষমহিলার ক্ষমতায়ন সুনিশ্চিত করছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়াতে কি আরেকটু বেশি গুরুত্বদেওয়া যায়। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী দেশে পশুপালন ক্ষেত্রটিকে ৭০ শতাংশের বেশিমহিলারাই সামলাচ্ছেন। পশুদের খাদ্য, জল ও ওষুদের ব্যবস্থা করা, দুধ দোয়ানো ইত্যাদিসমস্ত কাজে মহিলার বেশি অংশগ্রহণ করেন। 

অর্থাৎ, দেশের পশুপালন ক্ষেত্র প্রায় সম্পূর্ণভাবেই মহিলাদের দক্ষতার ওপরনির্ভরশীল। সেজন্য আজ এই মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে পশু চিকিৎসা সম্পর্কিতশিক্ষা প্রদান, গবেষণা এবং পরিষেবা ও বিতরণ পদ্ধতি সম্পর্কে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিতেপারলে দেশের প্রাণীসম্পদ আরও সুরক্ষিত থাকবে। আর মহিলাদের মাধ্যমে পরিবারেরক্ষমতায়ন সুনিশ্চিত হবে। 

‘বায়ফ’-এর মতো সংস্থা অধিকাংশ মহিলাদের এই প্রশিক্ষণের জন্য প্রেরণা যোগাতেসক্ষম। পাশাপাশি, তারা এই প্রশিক্ষণের জন্য প্রকল্পও চালু করতে পারে। 

বন্ধুগণ, আমাদের দেশে প্রতি বছর গৃহপালিত পশুদের নানা রোগের কারণে প্রায় ৪০হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়। এই লোকসানের মোকাবিলা করতে কিছু রাজ্যে পশু আরোগ্যমেলার আয়োজন করা হয়। সেই মেলায় পশুদের চোখ অপারেশন থেকে শুরু করে দাঁত পরিস্কারকরার মতো প্রয়োজনীয় কাজও করা হয়। সারা দেশে এ ধরনের পশু আরোগ্য মেলার সংখ্যাবৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে মিলেমিশে এ ধরনের পশু আরোগ্য মেলারআয়োজনে ‘বায়ফ’-এর মতো সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। 

এ ক্ষেত্রে আপনাদের প্রতি আমার প্রত্যাশার মূল কারণ হ’ল, আপনারা ইতিমধ্যেই১৫টি রাজ্যে কাজ করছেন আর নিজেদের কাজের পরিধি সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছেন। বিশেষকরে, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি আপনাদের মতো দক্ষ সংস্থা তাদের রাজ্যে পা রাখারঅপেক্ষায় রয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের ঐ রাজ্যগুলিকে আমি বলি ‘অষ্টলক্ষ্মী’। সেইরাজ্যগুলিতে জৈবচাষের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। আপনাদের অভিজ্ঞতা থেকে ঐ রাজ্যগুলিঅনেক উপকৃত হতে পারে। 

এভাবে ঔষধি এবং নানা ভেষজ বৃক্ষ ও গুল্মলতার চাষে লাভের সম্ভাবনা নিয়েওকৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আমাদের দেশে হাজার হাজার প্রজাতিরঔষধি ও ভেষজ বৃক্ষ ও গুল্মলতা রয়েছে, যেগুলির চাহিদা সারা পৃথিবীতে ক্রমবর্ধমান।কিন্তু চাহিদা আর সরবরাহের মধ্যে পার্থক্য অনেক বেশি। সরকার, প্রগতিশীল কৃষক আর‘বায়ফ’-এর মতো সংগঠন এই মূল্যবান বৃক্ষ ও গুল্মলতাগুলির চাষের পর সরবরাহ শৃঙ্খলাসম্পূর্ণ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। 

বন্ধুগণ, আমাদের দেশ সবুজ বিপ্লব এবং শ্বেত বিপ্লবের সঙ্গে ভালোভাবেইপরিচিত। কিন্তু এখন সময়ের চাহিদা হ’ল দেশে নীল বিপ্লব আনতে হবে। নীল বিপ্লবেরমাধ্যমে আমাদের মৎস্যজীবী ভাইদের জীবনে পরিবর্তন আনতে হবে। মিষ্টি বিপ্লবেরমাধ্যমে মউ পালন এবং মধু উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করতে হবে। 

সবুজ বিপ্লব, শ্বেত বিপ্লবের পর এবার আমরা নীল বিপ্লব, মিষ্টি বিপ্লব এবংজল বিপ্লবকেও যুক্ত করার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। 

শুধু গম, ধান আর সরষে চাষকে কৃষি বলা যায় না। পরম্পরাগত চাষবাসের পাশাপাশিকৃষির সঙ্গে যুক্ত সমস্ত ক্ষেত্রের দিকে যত নজর দেওয়া যাবে, ততই কৃষকদের আমদানিবৃদ্ধির পথ প্রশস্ত হবে। যেমন মৌ পালনের কথাই ধরুন না কেন, একটি গবেষণা অনুযায়ীপরম্পরাগত চাষবাসের পাশাপাশি একজন কৃষক ৫০টি ছোট ছোট মৌ উপনিবেশ বসিয়ে অতিরিক্ত ২লক্ষ টাকা রোজগার করতে পারেন। মধু উৎপাদনের পাশাপাশি এই মৌমাছিরা পরাগমিলনেরক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা পালন করে। 

মৌচাষ, মৎস্যচাষ, আখচাষ, আখের ছিবড়ে ও অবশিষ্টাংশ থেকে ইথানল উৎপাদন; এভাবেসমাজের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পরম্পরাগত চাষবাসের সঙ্গে যুক্ত কৃষকদের এ ধরনেরনতুন সব উপার্জনের উপায় সম্পর্কে সচেতনতার কাজ ‘বায়ফ’ অত্যন্ত সুচারুভাবে সম্পন্নকরতে পারে। 

বন্ধুগণ, মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, তেলঙ্গানা ওঅন্ধ্রপ্রদেশের কিছু অঞ্চল, উত্তর প্রদেশের বুন্দেলখন্ড অঞ্চল – এরকম কিছু এলাকারকৃষকরা বরাবরই নিদারুণ জলকষ্টে বরাবরই ভোগেন। 

সরকারের পক্ষ থেকে লাগাতার এই জলের অভাব দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে।‘প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিঞ্চাই যোজনা’র মাধ্যমে এমন ৯৯টি প্রকল্প সম্পূর্ণ করা হচ্ছেযেগুলি দীর্ঘকাল অসম্পূর্ণ ছিল। এবছর সেগুলির মধ্যে ২১টি প্রকল্প সম্পূর্ণ হয়েছে।পাশাপাশি প্রতিটি জলবিন্দুর সর্বাধিক ব্যবহারের দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। বিন্দুবিন্দু জলসেচ প্রকল্প, অনু সেচপ্রকল্প এবং ফসল বৈচিত্র্যে বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিটিজলবিন্দুর সর্বাধিক ব্যবহার সুনিশ্চিত করা হচ্ছে। মনরেগার ৬০ শতাংশেরও বেশি টাকাজল সংরক্ষণ এবং জল ব্যবস্থাপনায় ব্যয় করা হচ্ছে। 

কিন্তু, ভাই ও বোনেরা, যতক্ষণ পর্যন্ত দেশের সমস্ত কৃষক এই প্রচেষ্টারসঙ্গে যুক্ত না হবেন, ততদিন আমরা এই প্রচেষ্টায় পূর্ণ সাফল্য পাবো না। আমাকে বলাহয়েছে যে, আজ এই অনুষ্ঠানে হিওরে বাজার থেকে শ্রদ্ধেয় শ্রী পোপটরাও পাওয়ারওএসেছেন। আমাদের জল ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি, আর মাটির নিচের জলের উৎসগুলির স্থায়ী ওসুদূরপ্রসারী ব্যবহারের ক্ষেত্রে হিওরেবাজার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সেখানকার কৃষকরা কিভাবে সমন্বয়সাধনের মাধ্যমেপরস্পরের হিতের কথা মাথায় রেখে জল ব্যবহার করছেন, তা আজ সর্বজনবিদিত। ‘বায়ফ’-এর মতো সংস্থাগুলির কাছে আমার প্রত্যাশাতারা যে গ্রামগুলিতে এ ধরনের কাজ করছেন, সেখানেই গণঅংশীদারিত্বের মাধ্যমেজনআন্দোলন গড়ে তুলে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। 

এছাড়া, ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’ আর ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেওয়ারক্ষেত্রেও তাঁদেরকে উৎসাহ যুগিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকদের জীবনে স্বাচ্ছন্দ্যআনার ক্ষেত্রে আপনারা সাহায্য করতে পারেন। 

ভাই ও বোনেরা, রাষ্ট্রসন্ত তুকড়োজি মহারাজ তাঁর রচিত গ্রামগীতায় লিখেছেন – 

“গ্রামসুধারণেচা মূলমন্ত্র, সজ্জনাঁনী ওয়াভে একত্র! 

সংঘটন হেচী শক্তিচে সূত্র, গ্রামরাজ্য নির্মাণ করী”!! 

অর্থাৎ, গ্রাম সংস্কারের মূল মন্ত্র হ’ল সবাই মিলে সংগঠন শক্তিকে কাজেলাগিয়ে কাজ করতে হবে। তবেই গ্রামরাজ্য নির্মাণ করা সম্ভব। মণিভাই দেশাই মহাত্মাগান্ধীর কাছ থেকে এই মন্ত্রের প্রেরণা নিয়েই সারা জীবন তার বাস্তবায়নে কাটিয়েদিয়েছেন। আজ আপনাদের সংস্থার সংগঠনশক্তির মাধ্যমে গ্রামোন্নয়নের নতুন দরজা খুলতেপারে। আজকের প্রয়োজন হ’ল আমরা যেন নিজেদের গ্রামগুলিকে নিয়ে গর্ব করতে পারি,গ্রামের মানুষরা যেন গ্রামের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করেন, একটি দূরদৃষ্টি নিয়ে এগিয়েযান। আপনারা যে ৮০ হাজার গ্রামে কাজ করছেন, সেই গ্রামগুলির নেতৃত্ব একটি নির্দিষ্টদৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে যেন এগিয়ে যায়। এটাই হবে নতুন ভারত নির্মাণের একটি উত্তম উপায়। 

বন্ধুগণ, চাষের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ ব্যয় কম করার জন্য সরকার লাগাতার চেষ্টাচালিয়ে যাচ্ছে। আজ মৃত্তিকা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে, সয়েল হেলথ কার্ডেরমাধ্যমে, ইউরিয়ায় নিম কোটিং-এর মাধ্যমে বিন্দু বিন্দু সেচ প্রকল্প উৎসাহ প্রদানেরমাধ্যমে চাষের ক্ষেত্রে কৃষকদের বিনিয়োগ ব্যয় হ্রাস পেয়েছে। অধিকতম সৌরপাম্পেরব্যবহার, কৃষকের ডিজেলের ব্যয় হ্রাস করেছে। এই আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগে ফলনওবেড়েছে। এক্ষেত্রে ‘বায়ফ’-এর যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। আর সেজন্য কৃষি ক্ষেত্রেবিনিয়োগ ব্যয় হ্রাসের ক্ষেত্রে আর কি কি করা যেতে পারে, সে বিষয়ে আপনাদের পরামর্শআহ্বান করি। আপনারা যত বেশি কৃষকদের এই অভিযানে যুক্ত হবেন, কৃষকদের ততই সাশ্রয়হবে আর মুনাফাও বাড়বে। 

বন্ধুগণ, আজকের বড় প্রয়োজন হ’ল বর্জ্য থেকে সম্পদ উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমেভবিষ্যত্যের নানা সমস্যার মোকাবিলা। 

কৃষি বর্জ্যের পুনর্নবীকরণের মাধ্যমে, কম্পোস্ট সার উৎপাদনের মাধ্যমেকৃষকদের আমদানি বৃদ্ধি পেতে পারে আর গোটা গ্রাম উপকৃত হতে পারে। আমাদের চাষেরক্ষেতে উপজ কোনও কিছুকেই আজ বর্জ্য বলে গণ্য করা হয় না। প্রতিটি উৎস থেকেই সম্পদআহরণ করা সম্ভব। 

এভাবে গ্রামগুলিতে শক্তি উৎপাদনের বিকল্প পদ্ধতিকে উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমেবিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও গ্রামগুলিকে আত্মনির্ভর করে তোলা সম্ভব। 

ফসলের ক্ষেতের পাশে যতটা জায়গা থাকে সেখানে সৌর প্যানেল লাগিয়ে বিদ্যুৎউৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহ যোগাতে হবে। দেশে যেরকম দুধের সমবায়-সমিতিগুলি রয়েছে, তেমনইসৌরশক্তিরও সমবায়-সমিতি গড়ে তুলে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করা যেতে পারে। 

বন্ধুগণ, আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন যে, আজ দেশের প্রতিটি গ্রামে প্রায়প্রত্যেক বাড়ির ছাদে ছোট ছোট ডিস অ্যান্টেনা দেখা যায়। এই ডিজিটাল প্রযুক্তিসবকিছু এত সহজ করে দিয়েছে। আগে টিভিতে দু-একটা চ্যানেল আসতো আর এখন ১৫০-২০০চ্যানেল। এখন গ্রামের দু-তিন বছরের বাচ্চারাও রিমোর্ট টিপে চ্যানেল বদলাতে পারে। 

এভাবে প্রযুক্তিকে আপন করে নিতে পারলেই দেশে ডিজিটাল গ্রামের কল্পনাবাস্তবায়িত হবে। এমন গ্রাম যেখানে অধিকাংশ লেনদেন ডিজিটাল মাধ্যমে হবে, ঋণ থেকেশুরু করে ছাত্রবৃত্তি পর্যন্ত সমস্ত ফর্মই অনলাইনে পূরণ করা যাবে। স্কুলগুলিতেডিজিটাল মাধ্যমে পড়ানো হবে, স্বাস্থ্য পরিষেবাও ডিজিটাল মাধ্যমে সুলভ হবে। 

ডিজিটাল গ্রামের এই কল্পনা বাস্তবায়িত করার জন্য সরকার দেশের প্রতিটিপঞ্চায়েতকে অপ্টিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে যুক্ত করছে। কিন্তু শুধুই উপকরণ যোগানোইযথেষ্ট নয়। এগুলি ব্যবহারের জন্য গ্রামবাসীর সামর্থ্য বৃদ্ধিতে আপনাদের মতোসংস্থাগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এজন্য আমার অনুরোধ, আপনাদেরসংস্থা কি এমন শপথ গ্রহণ করতে পারে যে, প্রতি বছর ন্যূনতম ৫০০টি গ্রামকে ‘ন্যূনতমনগদ গ্রাম’-এ পরিণত করবেন। আপনারা দেখবেন, আপনারা ৫০০টি গ্রামকে ‘ন্যূনতম নগদগ্রাম’-এ পরিণত করতে পারলে, সেগুলির পার্শ্ববর্তী ১ হাজার থেকে ২ হাজার গ্রাম নিজেনিজেই এই ব্যবস্থা রপ্ত করে নেবে। একটি প্রতিক্রিয়া-শৃঙ্খলের মতো এই পরিবর্তন একগ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ছড়িয়ে পড়বে। বন্ধুগণ, গান্ধীজির মন্ত্র ছিল, গ্রামেরক্ষমতায়নের মাধ্যমেই দেশের উন্নয়ন সম্ভব। সেই মন্ত্র অনুসরণ করে ‘বায়ফ’ সেবাভাবনিয়ে লক্ষ লক্ষ কৃষকের জীবনে পরিবর্ত্ন এনেছে, তাঁদের আত্মনির্ভর হতে শিখিয়েছে।শপথ নিয়ে সিদ্ধিপ্রাপ্তি কিভাবে করা যায়, তার সাক্ষাৎ প্রমাণ আপনাদের এই সংস্থা। 

আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ, আমি আজ যেকথাগুলি বললাম, সেগুলিকে কোনও নাকোনওভাবে আপনাদের নতুন সংকল্পের সঙ্গে যুক্ত করুন। তবেই আগামী ২০২২ সালে যখন দেশস্বাধীনতার ৭৫তম বছর পূর্তি পালন করবে, তখন আপনাদের সংকল্পগুলি বাস্তবায়নেরমাধ্যমে দেশের কোটি কোটি কৃষকের সাফল্যের মুখ দেখবেন। 

ধন্যবাদ!!! 

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Internet subscribers in India up 6.24% in March-26 quarter

Media Coverage

Internet subscribers in India up 6.24% in March-26 quarter
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Prime Minister Shri Narendra Modi receives a telephone call from the Amir of Qatar
June 23, 2026
Qatar Amir expresses condolences over the loss of lives of Indian nationals in an accident in Qatar.
PM thanks him and conveys appreciation for prompt medical help to the injured.
The two leaders reaffirm their commitment to ensure the wellbeing and safety of their citizens.
PM conveys appreciation for Qatar’s positive contribution in the peace efforts in West Asia.
The two leaders reaffirm their commitment to expand bilateral cooperation.

Prime Minister Shri Narendra Modi received a telephone call today from the Amir of the State of Qatar, H.H. Sheikh Tamim Bin Hamad Al-Thani.

Qatar Amir expressed condolences over the loss of lives of Indian nationals in an accident at Ras Laffan Industrial City in Qatar on June 21 and conveyed wishes for speedy recovery of those injured.

PM thanked him for his words of sympathy towards affected families and conveyed appreciation for providing prompt medical help to the injured.

The two leaders reaffirmed their commitment to ensure the wellbeing and safety of their citizens and reiterated their support and solidarity with each other.

While discussing the situation in West Asia, PM conveyed appreciation for Qatar’s positive contribution in the peace efforts and expressed hope that they would lead to lasting peace and stability in the region.

The two leaders also reaffirmed their commitment to expand bilateral cooperation in all areas.

They agreed to remain in close touch.