“ভারতের সংসদের ৭৫ বছরের যাত্রার স্মরণ এবং স্মৃতিচারণার উপলক্ষে হল আজ”
“জি২০ সভাপতিত্বকালে ‘বিশ্ব মিত্র’ হিসেবে ভারতের আত্মপ্রকাশ”
“গত ৭৫ বছরের সবচেয়ে বড় সাফল্য হল সংসদের উপর সাধারণ নাগরিকদের ক্রমবর্ধমান আস্থা”
“সংসদে জঙ্গি হামলা ভারতের আত্মার ওপর হামলা”
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ সংসদের বিশেষ অধিবেশন উপলক্ষে লোকসভায় ভাষণ দেন। ১৮ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংসদের এই বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।
চন্দ্রযান ৩ –এর সাফল্যের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি আধুনিকতা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ভারতীয় বিজ্ঞানীদের নৈপুণ্য এবং ১৪০ কোটি ভারতবাসীর শক্তিকে এক অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে। সংসদ এবং দেশের হয়ে সাফল্যের জন্য বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।
অমৃত কালের আলোকে প্রধানমন্ত্রী ভারতের মানুষের আস্থা, সাফল্য এবং সক্ষমতার কথা তুলে ধরেন। সেইসঙ্গে গোটা বিশ্বে কীভাবে ভারত এবং ভারতীয়দের সাফল্য নিয়ে চর্চা চলছে, তারও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “সংসদের ৭৫ বছরের ইতিহাসে যৌথ প্রয়াসের ফলশ্রূতি হল এই সাফল্য।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদের ৭৫ বছরের ইতিহাসে নতুন ভারত গড়ার পাশাপাশি দেশ অসংখ্য ঘটনার সাক্ষী হয়েছে এবং আজ ভারতের সাধারণ নাগরিকদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের সুযোগ এসেছে।
মাত্র ২৫ বছর বয়সে শ্রীমতী চন্দ্রাণী মুর্মু-র সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,
 
নবনির্মিত সংসদ ভবনে যাওয়ার আগে দেশের ৭৫ বছরের সংসদীয় যাত্রাকে আবারও স্মরণ করার এবং ইতিহাসের সেই অনুপ্রেরণামূলক মুহূর্তগুলি এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলিকে স্মরণ করে এগিয়ে যাওয়ার এটাই সুযোগ। আমরা সবাই এই ঐতিহাসিক ভবন থেকে বিদায় নিচ্ছি। এই ভবনে. স্বাধীনতার আগে ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সভাঘর ছিল। স্বাধীনতার পর এটি সংসদ ভবন হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এটা ঠিক যে এই ভবনটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত বিদেশী সংসদ সদস্যরা নিয়েছিলেন, কিন্তু আমরা এটি কখনই ভুলতে পারি না, এবং আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, এই ভবনটি নির্মাণে আমাদের দেশবাসীর ঘাম এবং কঠোর পরিশ্রমের অবদান রয়েছে। টাকাও খরচ হয়েছে আমাদের দেশের মানুষেরই।

আমাদের ৭৫ বছরের সফরে এই ভবনে অনেক শ্রেষ্ঠ থেকে শ্রেষ্ঠতর গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও প্রক্রিয়া গড়ে উঠেছে। আর এই ভবনে সংসদ সদস্য হিসেবে প্রত্যেকেই সক্রিয়ভাবে এই শ্রেষ্ঠতর গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও প্রক্রিয়া সৃষ্টিতে অবদান রেখেছেন এবং সাক্ষী হিসেবে প্রত্যক্ষও করেছেন। আমরা নতুন ভবনে অবশ্যই যাবো, তবে এই পুরানো ভবনেও… এই ভবনটিও আগামী প্রজন্মকে সবসময় অনুপ্রাণিত করতে থাকবে। এটি ভারতের গণতন্ত্রের সোনালী যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যা এই ভবনের মাধ্যমে গোটা বিশ্ব ভারতের শিরা-উপশিরায় গণতন্ত্রের শক্তি কেমন, সেই সম্পর্কে সচেতন হতে থাকবে। 

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

অমৃতকালের প্রথম প্রভাতের আলো, দেশে একটি নতুন বিশ্বাস, নতুন আত্মবিশ্বাস, নতুন উদ্যম, নতুন স্বপ্ন, নতুন সংকল্প, আর জাতির নতুন সামর্থ তা পূরণ করছে। চারিদিকে আজ ভারতীয়দের সাফল্যগাথা আর তা অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। এটা আমাদের ৭৫ বছরের সংসদীয় ইতিহাসে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। সেজন্যই আজ সারা বিশ্বে সেই প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

চন্দ্রযান-৩-এর সাফল্যে সমগ্র ভারত, গোটা দেশ অভিভূত। আর এতে ভারতের শক্তির একটি নতুন রূপ, যা আধুনিকতার সঙ্গে যুক্ত, যা বিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত, যা প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত, যা আমাদের বিজ্ঞানীদের সামর্থের সঙ্গে যুক্ত, যা ১৪০ কোটি জনগণের সংকল্পের শক্তির সঙ্গে যুক্ত, যা দেশ ও বিশ্বে নতুন প্রভাব সৃষ্টি করতে চলেছে। এই সংসদ ভবন এবং এই সভার মাধ্যমে আমি আবারও দেশের বিজ্ঞানী ও তাঁদের সহকর্মীদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়, ।   
 
অতীতে, যখন নির্জোট আন্দোলনের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেই সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাব পাস হয়েছিল এবং দেশ সেই প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছিল। আজ আপনারা সর্বসম্মতভাবে জি-২০-র সাফল্যের প্রশংসা করেছেন। আমি বিশ্বাস করি, এভাবে আপনারা দেশবাসীর গর্ব বাড়িয়েছেন, আমি আপনাদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। জি-২০-এর সাফল্য ১৪০ কোটি দেশবাসীর সাফল্য। এটা ভারতের সাফল্য, কোনও ব্যক্তির সাফল্য নয়, কোনও দলের সাফল্য নয়। ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো, ভারতের বৈচিত্র্য। জি-২০র সভাপতি হিসেবে ভারতের ৬০টি স্থানে ২০০ টিরও বেশি শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন হয়। এতে ভারতের নানা অঞ্চলে এবং দেশের বিভিন্ন রাজ্য সরকার ব্যাপক আড়ম্বর সহকারে নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করে, যেখানে  সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ আর তার প্রভাব আজ সারা বিশ্বে অনুভূত হচ্ছে। এটি আমাদের সকলের জন্যই উদযাপনের বিষয়। এতে দেশের গর্ব বাড়বে। আর আপনি যেমন উল্লেখ করেছেন, ভারত গর্বিত হবে যে যখন ভারত জি-২০-র চেয়ারম্যান ছিল তখনই আফ্রিকান ইউনিয়ন এর সদস্য হয়েছিল। আমি সেই আবেগময় মুহূর্তটি ভুলতে পারি না যখন আফ্রিকান ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্তি ঘোষণা করা হয়েছিল, তখন আফ্রিকান ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট আমাকে আবেগাপ্লুত কন্ঠে বলেছিলেন যে আমার জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত এসেছে, যখন কথা বলার সময় আমি সম্ভবত কেঁদেছি। আজ আবার তেমন কেঁদেছি। আপনারা কল্পনা করতে পারেন যে, আফ্রিকার দেশগুলির এত বড় আকাঙ্খা এবং আশা পূরণ করার সৌভাগ্য আমাদের হয়েছে! 
 
মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,
ভারতকে সন্দেহ করার প্রবণতা অনেকের মধ্যেই রয়েছে এবং স্বাধীনতার পর থেকেই তা চলে আসছে। এবারও তাই হয়েছে। কোনও মতভেদ থাকবে না, এটা অসম্ভব। কিন্তু এটাই ভারতের শক্তি, সেটাও ঘটেছে এবং বিশ্ব সর্বসম্মতিক্রমে একটি সাধারণ ঘোষণাপত্র গ্রহণ করেছে আর  এখান থেকে ভবিষ্যতের জন্য একটি রোডম্যাপ নিয়ে কাজ শুরু করেছে। 

এবং মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়, 

আপনার নেতৃত্বে, যেহেতু ভারতের জি-২০ সভাপতিত্ব এবছর নভেম্বরের শেষ দিন পর্যন্ত, তাই আমরা এখন যে সময় হাতে পেয়েছি তা কাজে লাগাতে চলেছি, এবং আপনার নেতৃত্বে, সারা বিশ্বের এই জি-২০ সদস্যরা, পি-২০ পার্লামেন্টগুলির স্পিকারদের একটি শীর্ষ সম্মেলনের কথা আপনি যেমন ঘোষণা করেছেন, তা বাস্তবায়িত করতে সরকার আপনার প্রচেষ্টাকে পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা করবে।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

এটা আমাদের সকলের জন্য গর্বের বিষয়, আজ ভারত বিশ্বের বন্ধু হিসেবে নিজের জায়গা তৈরি করতে পেরেছে। সারা বিশ্ব ভারতে তাদের বন্ধু খুঁজছে, সারা বিশ্ব ভারতের বন্ধুত্ব অনুভব করছে। আর এর মূল কারণ হল আমাদের মূল্যবোধ, যা আমরা বেদ থেকে শুরু করে স্বামী বিবেকানন্দ পর্যন্ত সবার কাছে পেয়েছি, 'সবকা সাথ, সবকা বিকাশ' এর মন্ত্র আজ আমাদের একত্রিত করার মাধ্যমে বিশ্বকে সংযুক্ত করছে।
 
মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,
এই পুরনো সংসদ ভবন থেকে বিচ্ছেদ হওয়া একটি অত্যন্ত আবেগঘন মুহূর্ত। পরিবার যদি পুরানো বাড়ি ছেড়ে নতুন বাড়িতে যায়, তখন অনেক স্মৃতি কিছু মুহুর্তের জন্য নাড়া দেয় এবং যখন আমরা ঘর ছেড়ে চলে যাই, তখন আমাদের মন ও মস্তিষ্কও আবেগে পরিপূর্ণ থাকে। সেই আবেগ অনেক স্মৃতিমাখা। অনেক তিক্ত-মধুর অভিজ্ঞতা, অনেক ঝগড়া, অনেক সংঘাতের আবহ গড়ে উঠেছে আবার কখনও উৎসব ও উদ্দীপনার পরিবেশও তৈরি হয়েছে এই সংসদ ভবনে। এই সমস্ত স্মৃতিগুলি আমাদের সকলের সাধারণ স্মৃতি, সম্মিলিত স্মৃতি, এটি আমাদের সকলের সাধারণ ঐতিহ্য, সম্মিলিত ঐতিহ্য; আর তাই এর জন্য গর্বও আমাদের সকলের কাছে সাধারণ, সম্মিলিত গর্ব। এই ৭৫ বছরে আমরা স্বাধীন ভারতের পুনর্গঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত অনেক ঘটনা এখানে এই সংসদে রূপ নিতে দেখেছি। আজ, যখন আমরা এই সংসদ ভবন ছেড়ে নতুন সংসদ ভবনের দিকে পা বাড়াতে যাচ্ছি, তখন ভারতের সাধারণ মানুষের অনুভূতি যে আদর ও সম্মান পেয়েছে - তা প্রকাশ করারও এটি একটি সুযোগ। 

আর সেজন্যেই মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়, 

আমি যখন প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এই ভবনে প্রবেশ করি, তখন স্বাভাবিকভাবেই সিঁড়িতে কপাল ঠেকিয়ে প্রণাম করে এই সংসদ ভবনের দরজায় পা রেখেছিলাম, এই গণতন্ত্রের মন্দিরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলাম। সেই মুহূর্তটি আমার জন্য আবেগে পরিপূর্ণ ছিল, আমি কল্পনাও করতে পারিনি, কিন্তু এটি ভারতীয় গণতন্ত্রের শক্তি, এটিই গণতন্ত্রের প্রতি ভারতের সাধারণ মানুষের বিশ্বাসের প্রতিফলন, যা রেলের প্ল্যাটফর্মে বসবাসকারী একটি দরিদ্র পরিবারের সন্তানকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করে সংসদে পৌঁছে দেয়। আমি কল্পনাও করিনি যে দেশ আমাকে এত সম্মান দেবে, আমাকে এত আশীর্বাদ করবে, আমাকে এত ভালবাসবে - তা কখনও ভাবিনি মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

আমাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যাঁরা সংসদ ভবনের ভেতরে যা লেখা রয়েছে সেগুলি পড়তে থাকেন এবং কখনও কখনও তাঁদের বক্তব্যে সেগুলি উল্লেখও করেন। আমাদের সংসদ ভবনের প্রবেশ দ্বারে ‘লোকদ্বারম’ শীর্ষক চাঙ্গদেবের উপদেশের একটি বাক্য উৎকীর্ণ রয়েছে। এই বাক্যটির অর্থ হল – জনগণের জন্য দরজা খুলুন আর দেখুন কিভাবে তাঁরা তাঁদের অধিকার অর্জন করেন। এভাবে আমাদের ঋষি-মুনিদের লিখে যাওয়া অনেক বাক্যই আমাদের প্রবেশ দ্বারে লেখা রয়েছে। আমরা সবাই বা আমাদের আগে যাঁদের এই সংসদ ভবনে জনপ্রতিনিধি হয়ে আসার সৌভাগ্য হয়েছে, তাঁরা প্রত্যেকেই এই সত্যের সাক্ষী।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

সময়ের সঙ্গে যেভাবে যেভাবে পরিস্থিতি বদলেছে, আমাদের পুরনো সংসদ ভবনের সংস্কারও সেভাবে নিরন্তর হয়েছে। এভাবে ভারতীয় সমাজের প্রত্যেক বর্গের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বৈচিত্র্যগুলির প্রতিনিধিত্বে ভরা এই সংসদ ভবনের প্রতিটি কোণে অনেক ভাষা, অনেক উপ-ভাষা, কথ্যভাষা, অনেক রকম খাদ্যাভ্যাস – সবকিছু রয়েছে। আর সমাজের প্রত্যেক শ্রেণীর মানুষ তা সে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে হোক কিংবা আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে, গ্রাম থেকে হোক কিংবা শহর থেকে, তাঁদের সবাইকে আপন করার ক্ষমতা এই সংসদ ভবনের রয়েছে। এখানে এসে তাঁরা প্রত্যেকেই  সাধারণ মানুষের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষাগুলি নির্দ্বিধায় প্রকাশ করতে পারেন। সময়ের সঙ্গে এ দেশের দলিত, পীড়িত, আদিবাসী, পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের মানুষজন এবং মহিলারা – সবার অংশগ্রহণ এই সংসদ ভবনে ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। 

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

শুরুতে মহিলাদের সংখ্যা কম ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে এই সংসদ ভবনে মা ও বোনেদের গরিমা বেড়েছে। আর এই সংসদ ভবনের গরিমায় অনেক বড় পরিবর্তন আনতে আমাদের মা ও বোনেদের অবদান অনস্বীকার্য।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি জনপ্রতিনিধি উভয় সভায় তাঁদের অবদান রেখেছেন। এই সময়ের মধ্যে প্রায় ৬০০ মহিলা সাংসদও উভয় কক্ষের গরিমা বাড়িয়েছেন।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

আপনারা সবাই জানেন যে মাননীয় ইন্দ্রজিৎ গুপ্তজি দীর্ঘ ৪৩ বছর, হ্যাঁ আমি যদি ভুল না করে থাকি, ৪৩ বছর এই সংসদের সদস্য ছিলেন। ৪৩ বছর ধরে যত অধিবেশন হয়েছে তার সাক্ষী হওয়ার সৌভাগ্য তাঁর হয়েছে। আর এই সংসদেই শতিগুর রহমানজি ৯৩ বছর বয়স পর্যন্ত তাঁর অবদান রেখেছেন। আর মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়, এটাই ভারতীয় গণতন্ত্রের শক্তি যে মাত্র ২৫ বছর বয়সে চন্দ্রমণি মুর্মু এই সংসদের সদস্য হয়েছিলেন। এখনও পর্যন্ত তিনিই সর্বকনিষ্ঠ সদস্য যিনি এই সংসদে অবদান রেখেছেন।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

তর্ক, বিতর্ক, কটাক্ষ – এসব কিছুতে আমরা সবাই অভ্যস্ত। আমরা প্রত্যেকেই কোনও না কোনো সময়ে এই ধরনের বিতর্কের সূত্রপাত করেছি। তা সত্ত্বেও আমাদের মধ্যে যে একটা পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে, আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মের মধ্যেও ছিল, যাঁরা বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে সংসদের অধিবেশন দেখেন, তাঁরা হয়তো সেটা অনুভব করেছেন। কিন্তু এখান থেকে যখন আমরা বেরিয়ে যাই, তখন সেই সম্পর্ককে, দলের উর্দ্ধে উঠে অনেকেই সেই পারিবারিক সম্পর্ককে একটু ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে যাই। এটাই এই সংসদের শক্তি। এই পরিবারভাব থাকার ফলেই আমরা শত তর্ক, বিতর্ক, কটাক্ষ ও কলহ সত্ত্বেও পরস্পরের বিরুদ্ধে মনে কোনও তিক্ততা পোষণ করি না। সংসদের সদস্যপদ চলে যাওয়ার অনেক বছর পরও যদি কারোর সঙ্গে দেখা হয়, তখনও আমরা সেই হৃদ্যতা নিয়ে পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হই, সেই স্নেহ-ভালোবাসাময় অতীতকে আমরা ভুলতে পারি না। 

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

আমাদের আগেও হয়েছে এবং এখনও আমরা অনেকবার দেখেছি যে অনেক ব্যক্তিগত সঙ্কট ও অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও আমাদের সাংসদরা অধিবেশনের সময় সংসদ ভবনে এসেছেন। এমনকি তাঁদের শারীরিক সমস্যা থাকলেও একজন সংসদ সদস্য রূপে, জনপ্রতিনিধি রূপে নিজের কর্তব্য পালন করেছেন। এরকম অনেক ঘটনা আজও আমাদের সামনে রয়েছে। অনেক কঠিন রোগ থাকা সত্ত্বেও অনেকে হুইল চেয়ারে বসে এসেছেন, কাউকে হয়তো ডাক্তারকে বাইরে দাঁড় করিয়ে আসতে হয়েছে। কিন্তু তাঁরা সংসদের অধিবেশনে নিজের ভূমিকা ঠিক পালন করে গেছেন। 

আমাদের সামনে বড় উদাহরণ হল করোনাকাল। প্রত্যেক পরিবার তাঁদের বাড়ির কোনো সদস্যকে বাইরে যেতে দিতে চাইত না। ভয় পেত যে বাইরে গিয়ে সংক্রমণের শিকার হলে মৃত্যু অসময়ে দরজায় এসে কড়া না নাড়ে। তা সত্ত্বেও আমাদের মাননীয় সাংসদরা করোনাকালেও উভয় সভায় তাঁদের উপস্থিতি বজায় রেখেছেন, তাঁদের কর্তব্য পালন করেছেন। আমরা কেউ দেশের কাজ থামতে দিইনি। প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট দূরত্ব রক্ষা করেছি এবং বারবার করোনা পরীক্ষার যন্ত্রণা ও ঝামেলা সহ্য করেছি। মাস্ক পড়ে সংসদে এসেছি। সভাকক্ষে বসার ক্ষেত্রেও দূরত্ব বাড়িয়েছি। প্রত্যেক পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছি, কিন্তু দেশের কাজ থামতে দিইনি। প্রত্যেক সদস্য এই মনোভাব নিয়ে এই সংসদে নিজের কর্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ ভেবে কাজ করে গেছেন। সংসদের প্রতি এত আপনত্ব, এত টান, আমরা আগে কম দেখেছি। হয়তো ৩০-৩৫ বছর আগে ছিল। কিন্তু এখন প্রত্যেক সদস্য এই সেন্ট্রাল হল-এ অবশ্যই উপস্থিত হয়েছেন। যেমন, অনেকের মন্দিরে যাওয়ার স্বভাব থাকে, তেমনই আজকের প্রত্যেক সংসদ সদস্যের সংসদ ভবনে আসার স্বভাব গড়ে উঠেছে। এই সংসদের সঙ্গে তাঁদের একটা আপনত্ব গড়ে উঠেছে। একটা আত্মীয়ভাব নিয়ে তাঁরা এর সঙ্গে জুড়ে গেছেন। আর যাঁরা আজ এই সংসদের সদস্য নন, এমনকি জনপ্রতিনিধিও নন, তাঁদের এলাকায় গেলে আমরা তাঁদের সঙ্গে দেখা করি, আর তাঁদের এলাকার কোনও সমস্যা যদি তাঁরা তুলে ধরেন, আমাদের সামর্থ্য মতো তা পূরণ করার চেষ্টা করি। 

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

স্বাধীনতার পর অনেক বড় বড় বিদ্বান ব্যক্তিরা আশঙ্কা ব্যক্ত করেছিলেন, না জানি দেশটার কী হবে, দেশের নেতারা চালাতে পারবেন কি পারবেন না, ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারবেন, নাকি টুকরো টুকরো হয়ে যাবে, গণতন্ত্র টিকে থাকবে কিনা - এরকম অসংখ্য দ্বিধা ও আশঙ্কা তাঁদের মনে ছিল। কিন্তু এ দেশের সংসদের সামর্থ্য এমনই যে গোটা বিশ্বের তাবড় তাবড় বিদ্বানদের আশঙ্কাকে ভুল প্রমাণ করে দিয়েছে। আর এই দেশ পূর্ণ সামর্থ্য নিয়ে সামনে এগিয়ে গেছে। এই বিশ্বাস নিয়েই আমরা ভবিষ্যতে আমরা এগিয়ে যাব। এখনও অনেক আশঙ্কা থাকবে, ঘন কালো মেঘ থাকবে, কিন্তু সাফল্য আমরা পাবই। আমাদের পুরনো প্রজন্মের মানুষরা যেমন মিলেমিশে কাজ করে সাফল্য এনেছেন, আমরাও তেমনই আনব। আমাদের সংসদ ভবনের গৌরব প্রচার করার এই সুযোগকে আমরা হাতছাড়া করব না।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

এই সংসদ ভবনে দু’বছর এগারো মাস ধরে সংবিধান সভার বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠক থেকেই ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর রচিত হয়েছে আমাদের সংবিধান, যে সংবিধান বাস্তবায়িত হয়েছে ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি। এই ৭৫ বছরে সবচাইতে বড় সাফল্য যেটা এসেছে তা হল, এই সংসদের ওপর দেশের সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ক্রমে বেড়েছে। গণতন্ত্রের সবচাইতে বড় শক্তি এটাই যে এই মহান প্রতিষ্ঠানের প্রতি, এই ব্যবস্থার প্রতি তাঁদের বিশ্বাস অটুট রয়েছে। এই ৭৫ বছরে আমাদের সংসদ যেভাবে এখানে সাধারণ মানুষের ভাবনার অভিব্যক্তিকে তুলে ধরেছে তা এই সংসদকে গণ-ভাবনার অভিব্যক্তির ভবনে পরিণত করেছে। আমরা দেখেছি, রাজেন্দ্রবাবু থেকে শুরু করে ডঃ কালাম,  রামনাথ কোবিন্দজি এবং দ্রৌপদী মুর্মু পর্যন্ত – এই সকলের অভিভাবকত্ব ও পথ প্রদর্শন এই সংসদকে ঋদ্ধ করেছে।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

পণ্ডিত নেহরুজি, শাস্ত্রীজি থেকে শুরু করে অটলজি, মনমোহনজি পর্যন্ত অনেক মহান নেতা এই সংসদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। আর এই সংসদের মাধ্যমে তাঁরা দেশকে পথ দেখিয়েছেন। দেশকে নতুন রঙ ও রূপে রূপান্তরিত করার জন্য তাঁরা অনেক পরিশ্রম করেছেন, দিন-রাত এক করে কাজ করেছেন। আজ তাঁদের সকলের গৌরবগান করার দিন। 

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল, লোহিয়াজি, চন্দ্রশেখরজি, আদবানীজির মতো অসংখ্য নাম আমাদের সামনে রয়েছে যাঁরা এই সংসদকে সমৃদ্ধ করেছেন, এর আলোচনাকে উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন।  দেশের সাধারণ মানুষের কন্ঠকে শক্তি যোগানোর কাজ এই সংসদ করেছে। বিশ্বের অনেক মহান রাষ্ট্রাধ্যক্ষ আমাদের এই সংসদে এসে বক্তব্য রেখে দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তাঁদের বক্তব্যে ভারতের গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা ব্যক্ত হয়েছে। 

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

উৎসাহ-উদ্দীপনার পাশাপাশি এই সদনে অনেকের চোখের জলও পড়েছে। এই সদন অনেক দুঃখে কাতর হয়েছে যখন দেশের তিন তিনজন প্রধানমন্ত্রী তাঁদের শাসনকালেই প্রাণ হারিয়েছেন। নেহরুজি, শাস্ত্রীজি, ইন্দিরাজির মৃত্যুর পর এই সংসদ ভবনের সমস্ত সদস্যরা অশ্রুসজল চোখে তাঁদের বিদায় জানিয়েছেন।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

অনেক সমস্যা থাকা সত্ত্বেও লোকসভার প্রত্যেক অধ্যক্ষ, রাজ্যসভার প্রত্যেক সভাপতি অসাধারণভাবে নিজেদের সভাকে পরিচালনা করেছেন। তাঁদের কার্যকালে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তগুলি মাওলঙ্কারজির সময় থেকে শুরু করে সুমিত্রাজির সময়কাল হয়ে আজকের ওম বিড়লাজি পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে সংসদকে সমৃদ্ধ করেছে। আজও তাঁদের সিদ্ধান্তগুলিকে ‘রেফারেন্স পয়েন্ট’ হিসেবে মানা হয়। এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৭ জন অধ্যক্ষ এই লোকসভায় তাঁদের আসন অলঙ্কৃত করেছেন। এঁদের মধ্যে দু’জন মহিলা অধ্যক্ষ ছিলেন। প্রত্যেকেরই নিজস্ব কর্মশৈলী ছিল। কিন্তু তাঁরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সংবিধান নির্দেশিত নিয়ম পালন করে সংসদকে সবসময় প্রাণশক্তিতে ভরিয়ে রেখেছেন। আমি আজ সেই সকল লোকসভার অধ্যক্ষদেরও স্মরণ করি, অভিনন্দন জানাই। 

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

এটা ঠিক যে আমরা জনপ্রতিনিধিরা নিজের নিজের ভূমিকা পালন করি, কিন্তু অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে আমাদের মাঝে বসে যাঁরা কাজ করেন, সেই কর্মচারীদের প্রজন্মও বদলে গেছে। আগে যাঁরা ছিলেন তাঁরা প্রয়োজনে কাগজ নিয়ে দৌড়ে আসতেন। তাঁদেরও অবদান কম নয়। আমাদেরকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাঁরা যেমন ছুটতেন, তেমনই সংসদে কোনও ভুল কিছু না হয়ে যায়, কোনও সিদ্ধান্ত যেন ভুল না নেওয়া হয়, তা দেখার ক্ষেত্রেও তাঁরা সতর্ক থাকতেন। তাঁদের এই কাজের মাধ্যমেও সংসদের ‘কোয়ালিটি অফ গভর্ন্যান্স’ ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা হয়েছে। আমি সেই সমস্ত বন্ধুদের এবং তাঁদের পূর্বে যাঁরা ছিলেন তাঁদেরকেও হৃদয় থেকে অভিনন্দন জানাই। শুধু তাই নয়, সংসদ মানে শুধু এই বাড়িটাই নয়, এই গোটা পরিসরে এমন অনেকে রয়েছেন যাঁরা আমাদের চা খাইয়েছেন, জল খাইয়েছেন, অনেক সময় মাঝরাত পর্যন্ত সংসদের কাজ চলেছে তখন কাউকে ক্ষুধার্ত থাকতে দেননি, এরকম পরিষেবা যাঁরা দিয়েছেন, তাঁদেরকেও আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। যে মালিরা এই সংসদ ভবন এলাকার পরিবেশকে সুন্দর করে রেখেছেন, যে সাফাই কর্মীরা সবসময় সংসদ ভবনকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রেখেছেন, এরকম অসংখ্য মানুষ সততার সঙ্গে আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিজেদের কাজ করে গেছেন, তাঁদের অবদানও কম নয়। এখানে কাজের উপযুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা, সমস্ত ব্যবস্থাকে সুচারুভাবে চলতে দেওয়ার ক্ষেত্রে যাঁদের যাঁদের অবদান রয়েছে, আমার পক্ষ থেকে তাঁদের সকলকে আমি বিশেষভাবে প্রণাম জানাই।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

ভারতের এই সংসদ ভবনে সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়েছিল। গোটা বিশ্বে এ এক অভাবনীয় ঘটনা। এই হামলা এই ভবনের ওপর ছিল না, আমাদের দেশের গণতন্ত্র যাকে ‘গণতন্ত্রের জননী’ বলা হয়, তার ‘জীবাত্মা’র ওপর হামলা ছিল। এই দেশ সেই ঘটনাকে কখনও ভুলতে পারবে না। যাঁরা সেদিন সেই সন্ত্রাসবাদীদের আক্রমণ থেকে এই সংসদ ভবনকে বাঁচানোর জন্য লড়াই করেছেন, সংসদে কর্মরত প্রত্যেক সদস্যের জীবন বাঁচানোর জন্য নিজেদের বুককে গুলিবিদ্ধ করেছেন, তাঁদের সবাইকে আজ আমি প্রণাম জানাই। তাঁরা আমাদের মধ্যে নেই, কিন্তু তাঁরা আমাদের অনেকের জীবন বাঁচিয়েছেন।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

আজ যখন আমরা এই সংসদ ভবন ছেড়ে যাচ্ছি, তখন সেই সাংবাদিক বন্ধুদেরও স্মরণ করছি যাঁরা জীবনের অনেকটা সময় এই সংসদ ভবনে কাটিয়েছেন। অনেক সাংবাদিক তো এমন ছিলেন যাঁরা তাঁদের সম্পূর্ণ সাংবাদিক জীবনই এই সংসদের অধিবেশন রিপোর্ট করতে করতে কাটিয়ে দিয়েছেন। তাঁরাই এক প্রকার এই সংসদের জীবন্ত সাক্ষী। এখানকার প্রতিটি মুহূর্তের খবর তাঁরা দেশের জনগণের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, তখন এত প্রযুক্তি ছিল না। তবুও তাঁরা এখানকার সমস্ত খবর সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সামর্থ্য রাখতেন। অনেক ভেতরের খবর তাঁরা পৌঁছে দিতে পারতেন। অনেক গুহ্য খবরও তাঁরা পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁদের এই অবদান ভোলার মতো নয়। শুধু সংবাদ পরিবেশনের জন্য নয়, ভারতের এই উন্নয়ন যাত্রায় সংসদ ভবনকে বোঝার জন্য তাঁরা নিজেদের সমস্ত শক্তিকে উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন। আজও যখন সেইসব পুরনো সাংবাদিক বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয় যাঁরা কখনও সংসদ ভবন থেকে রিপোর্টিং করতেন, তাঁরা এমন সব অজানা তথ্য তুলে ধরেন যা তাঁরা নিজেদের চোখে দেখেছেন, কানে শুনেছেন; আশ্চর্য সব ঘটনা। তাঁরা যেন এই সংসদ ভবনের দেওয়ালের মতো, তাঁদের কলম যেন আয়নার মতো - যার মাধ্যমে দেশবাসী সংসদের প্রতি, সংসদ সদস্যদের সঙ্গে একটি যোগসূত্র অনুভব করতেন। আমি আজ এই আবেগঘন সময়ে সেই সাংবাদিক  বন্ধুদের স্মরণ করছি যাঁরা আজ আমাদের মধ্যে নেই। কিন্তু যাঁরা রয়েছেন, আমি নিশ্চিত যে সেই সাংবাদিক বন্ধুদের জন্যও এই সংসদ ভবন ছেড়ে যাওয়া ততটাই আবেগমথিত মুহূর্ত রচনা করছে। অনেক সাংবাদিক খুব অল্প বয়স থেকেই এই সংসদ ভবনের সংবাদ পরিবেশনের দায়িত্ব পালন করছেন। গণতন্ত্রের শক্তিকে মজবুত করার জন্য তাঁদের অবদান রাখছেন। আজ তাঁদের সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানানোর সময়।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়, 

যখন আমরা সংসদ ভবনের ভেতরে আসি, তখন ব্রহ্মকে কল্পনা করি। এই সংসদের নিয়ন্তাও সেই ব্রহ্ম, আমাদের শাস্ত্র তাই মনে করে। যে কোনও একটা স্থানে অনেকবার যখন একই লয়ে কারোর নাম উচ্চারিত হয়, তখন সেটা তপোস্থল হয়ে ওঠে। তার একটি ‘পজিটিভ ভাইভ’ থাকে। নাদ-এর একটি শক্তি রয়েছে যা যে কোনও স্থানকে সিদ্ধ স্থানে রূপান্তরিত করে দেয়। আমি মনে করি, এই সংসদ ভবনে সেই সাড়ে সাত হাজার জনপ্রতিনিধিরা যে শব্দগুলি বারবার উচ্চারণ করেছেন, তাঁদের যে দাবিগুলি গুঞ্জরিত হয়েছে, তাঁরা এই সংসদ ভবনে বসে যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন অথবা করেননি, তাঁদের সেইসব ভাবনার অনুরণন এই সংসদ ভবনকে তীর্থক্ষেত্রে পরিণত করেছে, একটি স্পন্দিত, জাগ্রত স্থানে পরিণত করেছে। গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা রয়েছে এমন প্রত্যেক মানুষ আজ থেকে ৫০ বছর পরেও যখন এই সংসদ ভবন দেখতে আসবেন, তখনও তাঁরা সেই অনুরণনকে অনুভব করবেন যে কখনও ভারতের আত্মার আওয়াজ এখানে গুঞ্জরিত হত।

আর সেজন্যই অধ্যক্ষ মহোদয়,   

এটা সেই সংসদ ভবন যেখানে কখনও ভগৎ সিং, বটুকেশ্বর দত্তরা তাঁদের বীরত্ব, সামর্থ্য দিয়ে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন। দেশের স্বার্থে তাঁদের সেই বীরত্ব, তাঁদের সেই বোমার আওয়াজ এমনই ছিল যা এরপর থেকে ইংরেজ শাসকদের ঘুমোতে দেয়নি।  

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

এটা সেই সংসদ ভবন যেখানে পণ্ডিতজিকে আমাদের স্মরণ করতে হবে … তাঁর অনেক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের জন্য স্মরণ করতে হবে। এই সংসদ ভবনে পণ্ডিত নেহরুর ‘অ্যাট দ্য স্ট্রোক অফ মিডনাইট’-এর ভাষণ আমাদের সবাইকে প্রেরণা যোগাতে থাকবে। আর এই সংসদেই অটলজি যা বলে গেছেন, সেসব কথা আজও এই সংসদে গুঞ্জরিত হয়। তিনি বলেছিলেন, ‘সরকারের পর সরকার আসবে, যাবে, রাজনৈতিক দল তৈরি হবে, ভাঙবে, কিন্তু এই দেশ যেন চলতে থাকে’।  

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

পণ্ডিত নেহরুজির প্রাথমিক মন্ত্রিসভার একজন সদস্য ছিলেন বাবাসাহেব আম্বেদকরজিও। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ‘বেস্ট প্র্যাক্টিসেস’গুলিকে ভারতে চালু করার চেষ্টা করে গেছেন। কারখানা আইনে আন্তর্জাতিক পরিষেবা সামিল করার ক্ষেত্রে বাবাসাহেব আম্বেদকর সর্বাধিক আগ্রহী ছিলেন, আর এর পরিণামস্বরূপ আজ দেশ সুফল পাচ্ছে। বাবাসাহেব আম্বেদকরজি নেহরুজির সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দেশকে ‘জলনীতি  দিয়ে গেছেন। সেই ‘ওয়াটার পলিসি’ রচনায় স্বয়ং বাবাসাহেব আম্বেদকরজির অনেক বড় ভূমিকা ছিল।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়, 

আমরা এটা জানি যে বাবাসাহেব আম্বেদকর একটি কথা প্রায়ই বলতেন যে ভারতে সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য দ্রুত শিল্পায়ন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কিন্তু দেশের দলিত ও পশ্চাৎপদ শ্রেণীর যে মানুষগুলির কাছে জমিই নেই, তাঁরা কী করবেন? শিল্পায়ন হওয়া উচিত। আর বাবাসাহেবের এই  কথাকে মেনে পণ্ডিত নেহরুজির মন্ত্রিসভার আরও এক মন্ত্রী ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি, যিনি দেশের প্রথম বাণিজ্য ও শিল্পোদ্যোগ মন্ত্রী ছিলেন, তিনি দেশকে শিল্প নীতি’ দিয়ে গেছেন। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত যত শিল্প নীতি রচিত হয়েছে তাতে রকমফের থাকলেও সেখানে প্রথম সরকারের আমলে রচিত সেই ‘শিল্প নীতি’র ছাপ থেকে যায়। সেজন্য তাঁদের এই গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে মনে রাখতে হবে।   

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

লালবাহাদুর শাস্ত্রীজি ১৯৬৫-র যুদ্ধে আমাদের দেশের সৈনিকদের উদ্বুদ্ধ করতে এই সংসদ ভবন থেকেই তাঁদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন, তাঁরা যেন নিজেদের সামর্থ্যকে সম্পূর্ণ রূপে দেশের স্বার্থে অর্পণ করেন। এই সংসদ ভবন থেকেই লাল বাহাদুর শাস্ত্রীজি প্রথম ‘সবুজ বিপ্লব’-এর শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। 

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

এই সংসদ ভবনে বসেই ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের মুক্তি আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। আবার এই সংসদ ভবনে বসেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হেনেছিলেন। তারপর এই সংসদ ভবনই ভারতের গণতন্ত্রের শক্তিকে অনুভবের মাধ্যমে শক্তিশালী গণতন্ত্র পুনঃস্থাপিত হতে দেখেছে। অর্থাৎ, এই সংসদ ভবন অনেক রাষ্ট্রীয় সঙ্কট যেমন দেখেছে, তেমনই তা থেকে উত্তরণের সামর্থ্যও দেখেছে।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

এই সংসদ ভবন সব সময় আমাদের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী চরণ সিং-এর প্রতি ঋণী থাকবে, কারণ তিনিই প্রথম গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক স্থাপন করেছিলেন। এই সংসদেই জনগণের ভোটাধিকারের বয়স ২১ থেকে কমিয়ে ১৮ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আর দেশের যুব প্রজন্মকে তাঁদের অবদান রাখার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে, উৎসাহিত করা হয়েছে। আমাদের দেশ অনেক জোট সরকার দেখেছে। ভি পি সিং-জির নেতৃত্বে এবং চন্দ্রশেখরজির নেতৃত্বে জোট সরকারের উত্থান-পতনের সময় দীর্ঘকাল সীমাবদ্ধ অর্থনীতির বোঝা দেশকে নিমজ্জিত করে রেখেছিল। কিন্তু নরসীমা রাওয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার সাহস করে পুরনো অর্থনীতিকে ত্যাগ করে নতুন পথ অনুসরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশ আজ তার সুফল পাচ্ছে। 

আমরা এই সংসদ ভবনে অটল বিহারী বাজপেয়ীজির নেতৃত্বাধীন সরকারও দেখেছি। তাঁর আমলে চালু হওয়া ‘সর্বশিক্ষা অভিযান’ আজ দেশে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁর আমলে শুরু হওয়া আদিবাসী কল্যাণ মন্ত্রক এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চল মন্ত্রক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর আমলেই যে পারমাণবিক পরীক্ষা হয়েছিল, তা ভারতের সামর্থ্যের পরিচায়ক হয়ে ওঠে। আর এই সংসদ ভবনই মনমোহনজির সরকারের আমলে ‘ক্যাশ ফর ভোট’-এর কাণ্ডও দেখেছে।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর মন্ত্র, অনেক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, কয়েক দশক ধরে স্থগিত থাকা অনেক বিষয়ের স্থায়ী সমাধানও এই সংসদেই হয়েছে। এই সংসদ গর্বের সঙ্গে বলতে পারবে যে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করার মতো কাজও এই কার্যকালেই হয়েছে। ‘এক দেশ এক কর ব্যবস্থা’ – জিএসটি-র সিদ্ধান্তও এই সংসদ নিয়েছে। প্রাক্তন সৈনিকদের ‘এক পদ, এক পেনশন’ – ওআরওপি চালু করার সিদ্ধান্তও এই সংসদ নিয়েছে। গরীবদের জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণের সিদ্ধান্তও কোনরকম বিতর্ক ছাড়াই সর্বসম্মতিক্রমে এই সংসদই দেশকে উপহার দিয়েছে।
 
মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়, 

ভারতের গণতন্ত্রের অসংখ্য উত্থান-পতন আমরা দেখেছি, আর এই সংসদ গণতন্ত্রের শক্তি, গণতান্ত্রিক শক্তির সাক্ষী, গণ-বিশ্বাসের একটি কেন্দ্রবিন্দুও। এই সংসদের বৈশিষ্ট্য এমনই যা দেখে বিশ্বের অনেক মানুষ অবাক হয়ে যান যে এই সংসদে কখনও এমন সময় এসেছে যখন মাত্র চারজন সাংসদের দল ক্ষমতাসীন হয়েছে আর ১০০ সাংসদের দল বিপক্ষে বসতে বাধ্য হয়েছে। এটাও আমাদের গণতন্ত্রের একটি সামর্থ্য। এই সংসদ এরকম গণতন্ত্রের বহুবিধ শক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়েছে। এই সংসদেই মাত্র ১ ভোটে অটলজির নেতৃত্বাধীন সরকার পড়ে গিয়েছিল। আমি মনে করি এই ঘটনাও গণতন্ত্রের গরিমাকে বাড়িয়েছে। আজ অনেক ছোট ছোট আঞ্চলিক দলের প্রতিনিধিত্ব আমাদের দেশের বিবিধতাকে, আমাদের দেশের প্রত্যাশাকে তুলে ধরে। তাঁরা এক প্রকার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। 

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

এ দেশে এমন দু’জন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন – মোরারজি দেশাই এবং ভি পি সিং-জি যাঁরা জীবনের অধিকাংশ সময় কংগ্রেস দলের সদস্য ছিলেন, কিন্তু কংগ্রেস বিরোধী সরকারের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এটাও একটি বৈশিষ্ট্য। আর আমাদের নরসীমা রাওজি, তিনি তো সংসদ ছেড়ে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস ঘোষণা করে দিয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের এই গণতন্ত্রের শক্তি দেখুন যে তারপরেও তিনি প্রধানমন্ত্রী রূপে দেশকে পাঁচ বছর সেবা করেছেন।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

সকলের সম্মতিতে অনেক কঠিন কাজ সম্পন্ন হতে আমরা দেখেছি। ২০০০ সালে অটলজির নেতৃত্বাধীন সরকার এই সংসদের সর্বসম্মতিতে তিনটি নতুন রাজ্য গঠন করেছিল, আর অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে সেই রাজ্যগুলি নিজেদের অস্তিত্ব প্রকাশ করেছিল। যখন ছত্তিশগড় রাজ্য তৈরি হয়, তখন ছত্তিশগড়ে যেমন উৎসব পালিত হয়েছে, মধ্যপ্রদেশেও তেমনই উৎসব পালিত হয়েছে। যখন উত্তরাখণ্ড রাজ্য তৈরি হয়, তখন সেই রাজ্যে যেমন উৎসব পালিত হয়েছে, তেমনই উত্তরপ্রদেশেও উৎসব পালিত হয়েছে। যখন ঝাড়খণ্ড রাজ্য তৈরি হয়, তখন ঝাড়খণ্ডেও যেমন উৎসব পালিত হয়েছে, বিহারেও তেমন উৎসব পালিত হয়েছে। সর্বসম্মতির আবহ গড়ে তুলে এভাবে কাজ করার সামর্থ্য আমাদের এই সংসদের রয়েছে। পাশাপাশি এই সংসদের কিছু তিক্ত স্মৃতিও রয়েছে। যেভাবে তেলেঙ্গানার অধিকারকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা হয়েছে, রক্তের নদী প্রবাহিত হয়েছে, আর তেলেঙ্গানা রাজ্য গড়ে ওঠার পরও সে রাজ্যে উৎসব পালিত হয়নি আর অন্ধ্রপ্রদেশেও উৎসব পালিত হয়নি। একটি তিক্ততার বীজ বপন করা হয়েছিল কিন্তু সর্বসম্মতিক্রমে এই কাজটি হলে, উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে তেলেঙ্গানা রাজ্য গড়ে উঠলে এতদিনে সেই রাজ্যটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যেতে পারত। 

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়, 

এই সংসদের পরম্পরা অনুসারে সংবিধান সভা সেই সময় দৈনিক ভাতা ৪৫ টাকা থেকে কমিয়ে ৪০ টাকা করে দিয়েছিল। কারণ, তাঁদের মনে হয়েছিল যে তাঁদের নিজেদের ভাতা কমানো উচিত।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

এই সংসদের ক্যান্টিনে যে ভর্তুকিতে সস্তায় খাবার পাওয়া যেত, এই সংসদের সমস্ত সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে সেই ভর্তুকি সমাপ্ত করেছে, আর এখন তাঁরা পুরো টাকা দিয়ে ক্যান্টিনে খান।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

করোনাকালে যখন প্রয়োজন হয়েছে তখন আমাদের সাংসদরা এমপি ল্যাড তহবিল ছেড়ে দিয়েছেন। এভাবে তাঁরা দেশকে সেই সঙ্কট থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য অবদান রেখেছেন। শুধু তাই নয়, করোনাকালে এই সংসদ দেখেছে যে তার সাংসদরা তাঁদের বেতন থেকে ৩০ শতাংশ কাটিয়ে দেশবাসীকে সেই সঙ্কট থেকে উদ্ধার করার স্বার্থে দান করে অনেক বড় দায়িত্ব পালন করেছেন।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি,  এই সংসদে বসে আমরাও বলতে পারি, আমাদের আগে যাঁরা সংসদে বসতেন, তাঁরাও বলতে পারেন যে আমরাও নিজেদের ওপর নিয়মানুবর্তিতা চালু করার জন্য বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনকে কঠোর করেছি, নতুন নতুন নিয়ম নিজেদের ওপর প্রয়োগ করেছি। আমি মনে করি, এটাই জীবন্ত গণতন্ত্রের একটা বড় উদাহরণ। সমস্ত মাননীয় সাংসদ, তা সে পুরনো প্রজন্মের সাংসদরা হোন কিংবা বর্তমান প্রজন্মের, তাঁদের এই অবদানের কথা আমাদের সকলকেই মনে রাখতে হবে।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

আমরা যাঁরা বর্তমান সাংসদ তাঁরা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান। তাঁদের জন্য এটা অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয় যে তাঁরা ইতিহাস এবং ভবিষ্যৎ উভয়ের অংশ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। গতকাল এবং আজকের সঙ্গে ভবিষ্যতকে যুক্ত করার সুযোগ আমরা পাচ্ছি। ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য নতুন বিশ্বাস, নতুন উদ্দীপনা, নতুন উৎসাহ নিয়ে আমরা এখান থেকে বিদায় নিতে চলেছি। 

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

আজকের দিনটি শুধু এবং শুধু এই সংসদ ভবনে যে সাড়ে সাত হাজার জনপ্রতিনিধি কাজ করে গেছেন, তাঁদের গৌরব গান করার দিন। এই দেওয়ালগুলি থেকে আমরা যে প্রেরণা পেয়েছি, যে নতুন বিশ্বাস পেয়েছি, সেই বিশ্বাসকে এখান থেকে আমরা নিয়ে যাব। এরকম অনেক বিষয়, এরকম অনেক কথা, সংসদে প্রত্যেকের হাততালির যোগ্য ছিল। কিন্তু হয়তো রাজনীতি মাঝখানে আসায় আমরা তাঁদের হাততালি দিয়ে প্রশংসা করতে পারিনি। নেহরুজির অবদানের গৌরব গান যদি এই সংসদে হয়, তখন এখানে এমন কে রয়েছেন যাঁর হাততালি দেওয়ার ইচ্ছা করবে না? কিন্তু তা সত্ত্বেও দেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় আমরা যেন প্রত্যেকেই আশা নিয়ে কাজ করি। মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়, আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে আপনার নেতৃত্বে, আপনার নির্দেশ অনুসারে আর মাননীয় অভিজ্ঞ সাংসদদের সামর্থ্যে আমরা যখন নতুন সংসদ ভবনে যাব, তখন এখান থেকে নতুন বিশ্বাসও নিয়ে যাব। 

আজকের সারা দিন আপনাদের সবাই পুরনো স্মৃতি তাজা করার জন্য রেখেছেন, একটি সুস্থ আবহে সবাইকে স্মরণ করার সুযোগ দিয়েছেন। সেজন্য আমি আপনাদের সবাইকে আরও একবার হৃদয় থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। আর আমি সমস্ত সদস্যদের অনুরোধ জানাই যে আপনাদের জীবনের সুখস্মৃতিগুলি অবশ্যই এখানে তুলে ধরুন যাতে তা দেশবাসীর কাছে পৌঁছয় আর তাঁরা অনুভব করেন যে প্রকৃতই আমাদের সংসদে যাঁদেরকে পাঠাই, যাঁরা আমাদের জনপ্রতিনিধি, তাঁদের সমস্ত কর্মকাণ্ড প্রকৃত অর্থে দেশের জন্য সমর্পিত। এই মনোভাব যেন জনগণের কাছে পৌঁছয় সেই প্রত্যাশা নিয়ে আরও একবার এই মাটিকে প্রণাম জানাই, এই সংসদকে প্রণাম জানাই। ভারতের যে শ্রমিকদের পরিশ্রমে এই ভবনের দেওয়ালগুলি গড়ে উঠেছে, তার প্রত্যেকটি ইঁটকে প্রণাম জানাই। আর বিগত ৭৫ বছরে ভারতের গণতন্ত্রকে নতুন সামর্থ্য ও শক্তি প্রদানকারী প্রত্যেক গুরুকে, সেই নাদ ব্রহ্মকে প্রণাম জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি । 

অনেক অনেক ধন্যবাদ! 

 

Explore More
ভারতের ৭৭তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লালকেল্লার প্রাকার থেকে দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

জনপ্রিয় ভাষণ

ভারতের ৭৭তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লালকেল্লার প্রাকার থেকে দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ
India a 'green shoot' for the world, any mandate other than Modi will lead to 'surprise and bewilderment': Ian Bremmer

Media Coverage

India a 'green shoot' for the world, any mandate other than Modi will lead to 'surprise and bewilderment': Ian Bremmer
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
PM Modi's Interview to Navbharat Times
May 23, 2024

प्रश्न: वोटिंग में मत प्रतिशत उम्मीद के मुताबिक नहीं रहा। क्या, कम वोट पड़ने पर भी बीजेपी 400 पार सीटें जीत सकती है? ये कौन से वोटर हैं, जो घर से नहीं निकल रहे?

उत्तर: किसी भी लोकतंत्र के लिए ये बहुत आवश्यक है कि लोग मतदान में बढ़चढ कर हिस्सा लें। ये पार्टियों की जीत-हार से बड़ा विषय है। मैं तो देशभर में जहां भी रैली कर रहा हूं, वहां लोगों से मतदान करने की अपील कर रहा हूं। इस समय उत्तर भारत में बहुत कड़ी धूप है, गर्मी है। मैं आपके माध्यम से भी लोगों से आग्रह करूंगा कि लोकतंत्र के इस महापर्व में अपनी भूमिका जरूर निभाएं। तपती धूप में लोग ऑफिस तो जा ही रहे हैं, हर व्यक्ति अपने काम के लिए घर से बाहर निकल रहा है, ऐसे में वोटिंग को भी दायित्व समझकर जरूर पूरा करें। चार चरणों के चुनाव के बाद बीजेपी ने बहुमत का आंकड़ा पा लिया है, आगे की लड़ाई 400 पार के लिए ही हो रही है। चुनाव विशेषज्ञ विश्लेषण करने में जुटे हैं, ये उनका काम है, लेकिन अगर वो मतदाताओं और बीजेपी की केमिस्ट्री देख पाएं तो समझ जाएंगे कि 400 पार का नारा हकीकत बनने जा रहा है। मैं जहां भी जा रहा हूं, बीजेपी के प्रति लोगों के अटूट विश्वास को महसूस रहा हूं। एनडीए को 400 सीटों पर जीत दिलाने के लिए लोग उत्साहित हैं।

प्रश्न: लेकिन कश्मीर में वोट प्रतिशत बढ़े। कश्मीर में बढ़ी वोटिंग का संदेश क्या है?

उत्तर: : मेरे लिए इस चुनाव में सबसे सुकून देने वाली घटना यही है कि कश्मीर में वोटिंग प्रतिशत बढ़ी है। वहां मतदान केंद्रों के बाहर कतार में लगे लोगों की तस्वीरें ऊर्जा से भर देने वाली हैं। मुझे इस बात का संतोष है कि जम्मू-कश्मीर के बेहतर भविष्य के लिए हमने जो कदम उठाए हैं, उसके सकारात्मक परिणाम सामने आ रहे हैं। श्रीनगर के बाद बारामूला में भी बंपर वोटिंग हुई है। आर्टिकल 370 हटने के बाद आए परिवर्तन में हर कश्मीरी राहत महसूस कर रहा है। वहां के लोग समझ गए हैं कि 370 की आड़ में इतने वर्षों तक उनके साथ धोखा हो रहा था। दशकों तक जम्मू-कश्मीर के लोगों को विकास से दूर रखा गया। सिस्टम में फैले भ्रष्टाचार से वहां के लोग त्रस्त थे, लेकिन उन्हें कोई विकल्प नहीं दिया जा रहा था। परिवारवादी पार्टियों ने वहां की राजनीति को जकड़ कर रखा था। आज वहां के लोग बिना डरे, बिना दबाव में आए विकास के लिए वोट कर रहे हैं।

प्रश्न: 2014 और 2019 के मुकाबले 2024 के चुनाव और प्रचार में आप क्या फर्क महसूस कर रहे हैं?

उत्तर: 2014 में जब मैं लोगों के बीच गया तो मुझे देशभर के लोगों की उम्मीदों को जानने का अवसर मिला। जनता बदलाव चाहती थी। जनता विकास चाहती थी। 2019 में मैंने लोगों की आंखों में विश्वास की चमक देखी। ये विश्वास हमारी सरकार के 5 साल के काम से आया था। मैंने महसूस किया कि उन 5 वर्षों में लोगों की आकांक्षाओं का विस्तार हुआ है। उन्होंने और बड़े सपने देखे हैं। वो सपने उनके परिवार से भी जुड़े थे, और देश से भी जुड़े थे। पिछले 5 साल तेज विकास और बड़े फैसलों के रहे हैं। इसका प्रभाव हर व्यक्ति के जीवन पर पड़ा है। अब 2024 के चुनाव में मैं जब प्रचार कर रहा हूं तो मुझे लोगों की आंखों में एक संकल्प दिख रहा है। ये संकल्प है विकसित भारत का। ये संकल्प है भ्रष्टाचार मुक्त भारत का। ये संकल्प है मजबूत भारत का। 140 करोड़ भारतीयों को भरोसा है कि उनका सपना बीजेपी सरकार में ही पूरा हो सकता है, इसलिए हमारी सरकार की तीसरी पारी को लेकर जनता में अभूतपूर्व उत्साह है।

प्रश्न: 10 साल की सबसे बड़ी उपलब्धि आप किसे मानते हैं और तीसरे कार्यकाल के लिए आप किस तरह खुद को तैयार कर रहे हैं?

उत्तर: पिछले 10 वर्षों में हमारी सरकार ने अर्थव्यवस्था, सामाजिक न्याय, गरीब कल्याण और राष्ट्रहित से जुड़े कई बड़े फैसले लिए हैं। हमारे कार्यों का प्रभाव हर वर्ग, हर समुदाय के लोगों पर पड़ा है। आप अलग-अलग क्षेत्रों का विश्लेषण करेंगे तो हमारी उपलब्धियां और उनसे प्रभावित होने वाले लोगों के बारे में पता चलेगा। मुझे इस बात का बहुत संतोष है कि हम देश के 25 करोड़ लोगों को गरीबी से बाहर ला पाए। करोड़ों लोगों को घर, शौचालय, बिजली-पानी, गैस कनेक्शन, मुफ्त इलाज की सुविधा दे पाए। इससे उनके जीवन में जो बदलाव आया है, उसकी उन्होंने कल्पना तक नहीं की थी। आप सोचिए, कि अगर करोड़ों लोगों को ये सुविधाएं नहीं मिली होतीं तो वो आज भी गरीबी का जीवन जी रहे होते। इतना ही नहीं, उनकी अगली पीढ़ी भी गरीबी के इस कुचक्र में पिसने के लिए तैयार हो रही होती।

हमने गरीब को सिर्फ घर और सुविधाएं नहीं दी हैं, हमने उसे सम्मान से जीने का अधिकार दिया है। हमने उसे हौसला दिया है कि वो खुद अपने पैरों पर खड़ा हो सके। हमने उसे एक विश्वास दिया कि जो जीवन उसे देखना पड़ा, वो उसके बच्चों को नहीं देखना पड़ेगा। ऐसे परिवार फिर से गरीबी में न चले जाएं, इसके लिए हम हर कदम पर उनके साथ खड़े हैं। इसीलिए, आज देश के 80 करोड़ लोगों को मुफ्त राशन दिया जा रहा है, ताकि वो अपनी आय अपनी दूसरी जरूरतों पर खर्च कर सकें। हम कौशल विकास, पीएम विश्वकर्मा और स्वनिधि जैसी योजनाओं के माध्यम से उन्हें आगे बढ़ने में मदद कर रहे हैं। हमने घर की महिला सदस्य को सशक्त बनाने के भी प्रयास किए। लखपति दीदी, ड्रोन दीदी जैसी योजनाओं से महिलाएं आर्थिक रूप से मजबूत हुई हैं। मेरी सरकार के तीसरे कार्यकाल में इन योजनाओं को और विस्तार मिलेगा, जिससे ज्यादा महिलाओं तक इनका लाभ पहुंचेगा।

प्रश्न: हमारे रिपोर्टर्स देशभर में घूमे, एक बात उभर कर आई कि रोजगार और महंगाई पर लोगों ने हर जगह बात की है। जीतने के बाद पहले 100 दिनों में युवाओं के लिए क्या करेंगे? रोजगार के मोर्चे पर युवाओं को कोई भरोसा देना चाहेंगे?

उत्तर: पिछले 10 वर्षों में हम महंगाई दर को काबू रख पाने में सफल रहे हैं। यूपीए के समय महंगाई दर डबल डिजिट में हुआ करती थी। आज दुनिया के अलग-अलग कोनों में युद्ध की स्थिति है। इन परिस्थितियों का असर देश की अर्थव्यवस्था और महंगाई पर पड़ा है। हमने दुनिया के ताकतवर देशों के सामने अपने देश के लोगों के हित को प्राथमिकता दी, और पेट्रोल-डीजल की कीमतें बढ़ने नहीं दीं। पेट्रोल-डीजल की कीमतें बढ़तीं तो हर चीज महंगी हो जाती। हमने महंगाई का बोझ कम करने के लिए हर छोटी से छोटी चीज पर फोकस किया। आज गरीब परिवारों को अच्छे से अच्छे अस्पताल में 5 लाख रुपये तक इलाज मुफ्त मिलता है। जन औषधि केंद्रों की वजह से दवाओं के खर्च में 70 से 80 प्रतिशत तक राहत मिली है। घुटनों की सर्जरी हो या हार्ट ऑपरेशन, सबका खर्च आधे से ज्यादा कम हो गया है। आज देश में लोन की दरें सबसे कम हैं। कार लेनी हो, घर लेना हो तो आसानी से और सस्ता लोन उपलब्ध है। पर्सनल लोन इतना आसान देश में कभी नहीं था। किसान को यूरिया और खाद की बोरी दुनिया के मुकाबले दस गुना कम कीमत पर मिल रही है। पिछले 10 वर्षों में रोजगार के अनेक नए अवसर बने हैं। लाखों युवाओं को सरकारी नौकरी मिली है। प्राइवेट सेक्टर में रोजगार के नए मौके बने हैं। EPFO के मुताबिक पिछले सात साल में 6 करोड़ नए सदस्य इसमें जुड़े हैं।

PLFS का डेटा बताता है कि 2017 में जो बेरोजगारी दर 6% थी, वो अब 3% रह गई है। हमारी माइक्रो फाइनैंस की नीतियां कितनी प्रभावी हैं, इस पर SKOCH ग्रुप की एक रिपोर्ट आई है। इस रिपोर्ट के मुताबिक पिछले 10 साल में हर वर्ष 5 करोड़ पर्सन-ईयर रोजगार पैदा हुए हैं। युवाओं के पास अब स्पेस सेक्टर, ड्रोन सेक्टर, गेमिंग सेक्टर में भी आगे बढ़ने के अवसर हैं। देश में डिजिटल क्रांति से भी युवाओं के लिए अवसर बने हैं। आज भारत में डेटा इतना सस्ता है तभी देश की क्रिएटर इकनॉमी बड़ी हो रही है। आज देश में सवा लाख से ज्यादा स्टार्टअप्स हैं, इनसे बड़ी संख्या में रोजगार के अवसर बन रहे हैं। हमने अपनी सरकार के पहले 100 दिनों का एक्शन प्लान तैयार किया है, उसमें हमने अलग से युवाओं के लिए 25 दिन और जोड़े हैं। हम देशभर से आ रहे युवाओं के सुझाव पर गौर कर रहे हैं, और नतीजों के बाद उस पर तेजी से काम शुरू होगा।

प्रश्न: सोशल मीडिया में एआई और डीपफेक जैसे मसलों पर आपने चिंता जताई है। इस चुनाव में भी इसके दुरुपयोग की मिसाल दिखी हैं। मिसइनफरमेशन का ये टूल न बने, इसके लिए क्या किया जा सकता है? कई एक्टिविस्ट और विपक्ष का कहना रहा है कि इन चीजों पर सख्ती की आड़ में कहीं फ्रीडम ऑफ एक्सप्रेशन पर पाबंदी तो नहीं लगेगी? इन सवालों पर कैसे आश्वस्त करेंगे?

उत्तर: तकनीक का इस्तेमाल जीवन में सुगमता लाने के लिए किया जाना चाहिए। आज एआई ने भारत के युवाओँ के लिए अवसरों के नए द्वार खोल दिए हैं। एआई, मशीन लर्निगं और इंटरनेट ऑफ थिंग्स अब हमारे रोज के जीवन की सच्चाई बनती जा रही है। लोगों को सहूलियत देने के लिए कंपनियां अब इन तकनीकों का उपयोग बढ़ा रही हैं। दूसरी तरफ इनके माध्यम से गलत सूचनाएं देने, अफवाह फैलाने और लोगों को भ्रमित करने की घटनाएं भी हो रही हैं। चुनाव में विपक्ष ने अपने झूठे नरैटिव को फैलाने के लिए यही करना शुरू किया था। हमने सख्ती करके इस तरह की कोशिश पर रोक लगाने का प्रयास किया। इस तरह की प्रैक्टिस किसी को भी फायदा नहीं पहुंचाएगी, उल्टे तकनीक का गलत इस्तेमाल उन्हें नुकसान ही पहुंचाएगा। अभिव्यक्ति की आजादी का फेक न्यूज और फेक नरैटिव से कोई लेना-देना नहीं है। मैंने एआई के एक्सपर्ट्स के सामने और अंतरराष्ट्रीय मंचों पर डीप फेक के गलत इस्तेमाल से जुड़े विषयों को गंभीरता से रखा है। डीप फेक को लेकर वर्ल्ड लेवल पर क्या हो सकता है, इस पर मंथन चल रहा है। भारत इस दिशा में गंभीरता से प्रयास कर रहा है। लोगों को जागरूक करने के लिए ही मैंने खुद सोशल मीडिया पर अपना एक डीफ फेक वीडियो शेयर किया था। लोगों के लिए ये जानना आवश्यक है कि ये तकनीक क्या कर सकती है।

प्रश्न:देश के लोगों की सेहत को लेकर आपकी चिंता हम सब जानते हैं। आपने अंतरराष्ट्रीय योग दिवस शुरू किया, योगा प्रोटोकॉल बनवाया, आपने आयुष्मान योजना शुरू की है। तीसरे कार्यकाल में क्या इन चीज़ों पर भी काम करेंगे, जो हमारी सेहत खराब होने के मूल कारक हैं। जैसे लोगों को साफ हवा, पानी, मिट्टी मिले।

उत्तर: देश 2047 तक विकसित भारत का लक्ष्य लेकर आगे बढ़ रहा है। इस सपने को शक्ति तभी मिलेगी, जब देश का हर नागरिक स्वस्थ हो। शारीरिक और मानसिक रूप से मजबूत हो। यही वजह है कि हम सेहत को लेकर एक होलिस्टिक अप्रोच अपना रहे हैं। एलोपैथ के साथ ही योग, आयुर्वेद, भारतीय परंपरागत पद्धतियां, होम्योपैथ के जरिए हम लोगों को स्वस्थ रखने की दिशा में काम कर रहे हैं। राजनीति में आने से पहले मैंने लंबा समय देश का भ्रमण करने में बिताया है। उस समय मैंने एक बात अनुभव की थी कि घर की महिला सदस्य अपने खराब स्वास्थ्य के बारे छिपाती है। वो खुद तकलीफ झेलती है, लेकिन नहीं चाहती कि परिवार के लोगों को परेशानी हो। उसे इस बात की भी फिक्र रहती है कि डॉक्टर, दवा में पैसे खर्च हो जाएंगे। जब 2014 में मुझे देश की सेवा करने का अवसर मिला तो सबसे पहले मैंने घर की महिला सदस्य के स्वास्थ्य की चिंता की। मैंने माताओं-बहनों को धुएं से मुक्ति दिलाने का संकल्प लिया और 10 करोड़ से ज्यादा महिलाओं को मुफ्त गैस कनेक्शन दिए। मैंने बुजुर्गों की सेहत पर भी ध्यान दिया है। हमारी सरकार की तीसरी पारी में 70 साल से ऊपर के सभी बुजुर्गों को आयुष्मान भारत योजना का लाभ मिलने लगेगा। यानी उनके इलाज का खर्च सरकार उठाएगी। साफ हवा, पानी, मिट्टी के लिए हम काम शुरू कर चुके हैं। सिंगल यूज प्लास्टिक पर हमारा अभियान चल रहा है। जल जीवन मिशन के तहत हम देश के लाखों गांवों तक साफ पानी पहुंचा रहे हैं। सॉयल हेल्थ कार्ड, आर्गेनिक खेती की दिशा में काम हो रहा है। हम मिशन लाइफ को प्राथमिकता दे रहे हैं और इस विचार को आगे बढ़ा रहे हैं कि हर व्यक्ति पर्यावरण के अनुकूल जीवन पद्धति को अपनाए।

प्रश्न: विदेश नीति आपके दोनों कार्यकाल में काफी अहम रही है। इस वक्त दुनिया काफी उतार चढ़ाव से गुजर रही है, चुनाव नतीजों के तुरंत बाद जी7 समिट है। आप नए हालात में भारत के रोल को किस तरह देखते हैं?

उत्तर: शायद ये पहला चुनाव है, जिसमें भारत की विदेश नीति की इतनी चर्चा हो रही है। वो इसलिए कि पिछले 10 साल में दुनियाभर में भारत की साख मजबूत हुई है। जब देश की साख बढ़ती है तो हर भारतीय को गर्व होता है। जी20 समिट में भारत ग्लोबल साउथ की मजबूत आवाज बना, अब जी7 में भारत की भूमिका बहुत महत्वपूर्ण होने वाली है। आज दुनिया का हर देश जानता है कि भारत में एक मजबूत सरकार है और सरकार के पीछे 140 करोड़ देशवासियों का समर्थन है। हमने अपनी विदेश नीति में भारत और भारत के लोगों के हित को सर्वोपरि रखा है। आज जब हम व्यापार समझौते की टेबल पर होते हैं, तो सामने वाले को ये महसूस होता है कि ये पहले वाला भारत नहीं है। आज हर डील में भारतीय लोगों के हित को प्राथमिकता दी जाती है। हमारे इस बदले रूप को देखकर दूसरे देशों को हैरानी हुई, लेकिन धीरे-धीरे उन्होंने इसे स्वीकार कर लिया। ये नया भारत है, आत्मविश्वास से भरा भारत है। आज भारत संकट में फंसे हर भारतीय की मदद के लिए तत्पर रहता है। पिछले 10 वर्षों में अनेक भारतीयों को संकट से बाहर निकालकर देश में ले आए। हम अपनी सांस्कृतिक धरोहरों को भी देश में वापस ला रहे हैं। युद्ध में आमने-सामने खड़े दोनों देशों को भारत ने बड़ी मजबूती से ये कहा है कि ये युद्ध का समय नहीं है, ये बातचीत से समाधान का समय है। आज दुनिया मानती है कि भारत का आगे बढ़ना पूरी दुनिया और मानवता के लिए अच्छा है।

प्रश्न: अमेरिका भी चुनाव से गुजर रहा है। आपके रिश्ते ट्रम्प और बाइडन दोनों के साथ बहुत अच्छे रहे हैं। आप कैसे देखते हैं अमेरिका के साथ भारतीय रिश्तों को इन संदर्भ में?

उत्तर: हमारी विदेश नीति का मूल मंत्र है इंडिया फर्स्ट। पिछले 10 वर्षों में हमने इसी को ध्यान में रखकर विभिन्न देशों और प्रभावशाली नेताओं से संबंध बनाए हैं। भारत-अमेरिका संबंधों की मजबूती का आधार 140 करोड़ भारतीय हैं। हमारे लोग हमारी ताकत हैं, और दुनिया हमारी इस शक्ति को बहुत महत्वपूर्ण मानती है। अमेरिका में राष्ट्रपति चाहे ट्रंप रहे हों या बाइडन, हमने उनके साथ मिलकर दोनों देशों के संबंध को और मजबूत बनाने का प्रयास किया है। भारत-अमेरिका के संबंधों पर चुनाव से कोई अंतर नहीं आएगा। वहां जो भी राष्ट्रपति बनेगा, उसके साथ मिलकर नई ऊर्जा के साथ काम करेंगे।

प्रश्न: BJP का पूरा प्रचार आप पर ही केंद्रित है, क्या इससे सांसदों के खुद के काम करने और लोगों के संपर्क में रहने जैसे कामों को तवज्जो कम हो गई है और नेता सिर्फ मोदी मैजिक से ही चुनाव जीतने के भरोसे हैं। आप इसे किस तरह काउंटर करते हैं?

उत्तर: बीजेपी एक टीम की तरह काम करती है। इस टीम का हर सदस्य चुनाव जीतने के लिए जी-तोड़ मेहनत कर रहा है। चुनावी अभियान में जितना महत्वपूर्ण पीएम है, उतना ही महत्वपूर्ण कार्यकर्ता है। ये परिवारवादी पार्टियों का फैलाया गया प्रपंच है। उनकी पार्टी में एक परिवार या कोई एक व्यक्ति बहुत अहम होता है। हमारी पार्टी में हर नेता और कार्यकर्ता को एक दायित्व दिया जाता है।

मैं पूछता हूं, क्या हमारी पार्टी के राष्ट्रीय अध्यक्ष रोज रैली नहीं कर रहे हैं। क्या हमारे मंत्री, मुख्यमंत्री, पार्टी पदाधिकारी रोड शो और रैलियां नहीं कर रहे। मैं पीएम के तौर पर जनता से कनेक्ट करने जरूर जाता हूं, लेकिन लोग एमपी उम्मीदवार के माध्यम से ही हमसे जुड़ते हैं। मैं लोगों के पास नैशनल विजन लेकर जा रहा हूं, उसे पूरा करने की गारंटी दे रहा हूं, तो हमारा एमपी उम्मीदवार स्थानीय आकांक्षाओं को पूरा करने का भरोसा दे रहा है। हमने उन्हीं उम्मीदवारों का चयन किया है, जो हमारे विजन को जनता के बीच पहुंचा सकें। विकसित भारत की सोच से लोगों को जोड़ने के लिए जितनी अहमियत मेरी है, उतनी ही जरूरत हमारे उम्मीदवारों की भी है। हमारी पूरी टीम मिलकर हर सीट पर कमल खिलाने में जुटी है।

प्रश्न: महिला आरक्षण पर आप ने विधेयक पास कराए। क्या नई सरकार में हम इन पर अमल होते हुए देखेंगे?

उत्तर: ये प्रश्न कांग्रेस के शासनकाल के अनुभव से निकला है, तब कानून बना दिए जाते थे लेकिन उसे नोटिफाई करने में वर्षों लग जाते थे। हमने अगले 5 वर्षों का जो रोडमैप तैयार किया है, उसमें नारी शक्ति वंदन अधिनियम की महत्वपूर्ण भूमिका है। हम देश की आधी आबादी को उसका अधिकार देने के लिए प्रतिबद्ध हैं। इंडी गठबंधन की पार्टियों ने दशकों तक महिलाओं को इस अधिकार से वंचित रखा। सामाजिक न्याय की बात करने वालों ने इसे रोककर रखा था। देश की संसद और विधानसभा में महिलाओं की भागीदारी बढ़ने से महिला सशक्तिकरण का एक नया दौर शुरू होगा। इस परिवर्तन का असर बहुत प्रभावशाली होगा।

प्रश्न: महाराष्ट्र की सियासी हालत इस बार बहुत पेचीदा हो गई है। एनडीए क्या पिछली दो बार का रिकॉर्ड दोहरा पाएगा?

उत्तर: महाराष्ट्र समेत पूरे देश में इस बार बीजेपी और एनडीए को लेकर जबरदस्त उत्साह है। महाराष्ट्र में स्थिति पेचीदा नहीं, बल्कि बहुत सरल हो गई है। लोगों को परिवारवादी पार्टियों और देश के विकास के लिए समर्पित महायुति में से चुनाव करना है। बाला साहेब ठाकरे के विचारों को आगे बढ़ाने वाली शिवसेना हमारे साथ है। लोग देख रहे हैं कि नकली शिवसेना अपने मूल विचारों का त्याग करके कांग्रेस से हाथ मिला चुकी है। इसी तरह एनसीपी महाराष्ट्र और देश के विकास के लिए हमारे साथ जुड़ी है। अब जो महा ‘विनाश’ अघाड़ी की एनसीपी है, वो सिर्फ अपने परिवार को आगे बढ़ाने के लिए वोट मांग रही है। लोग ये भी देख रहे हैं कि इंडी गठबंधन अभी से अपनी हार मान चुका है। अब वो चुनाव के बाद अपना अस्तित्व बचाने के लिए कांग्रेस में विलय की बात कर रहे हैं। ऐसे लोगों को मतदान करना, अपने वोट को बर्बाद करना है। इस बार हम महाराष्ट्र में अपने पिछले रिकॉर्ड को तोड़ने वाले हैं।

प्रश्न: पश्चिम बंगाल में भी बीजेपी ने बहुत प्रयास किए हैं। पिछली बार बीजेपी 18 सीटें जीतने में कामयाब रही थी। बाकी राज्यों की तुलना में यह आपके लिए कितना कठिन राज्य है और इस बार आपको क्या उम्मीद है?

उत्तर: TMC हो, कांग्रेस हो, लेफ्ट हो, इन सबने बंगाल में एक जैसे ही पाप किए हैं। बंगाल में लोग समझ चुके हैं कि इन पार्टियों के पास सिर्फ नारे हैं, विकास का विजन नहीं हैं। कभी दूसरे राज्यों से लोग रोजगार के लिए बंगाल आते थे, आज पूरे बंगाल से लोग पलायन करने को मजबूर हैं। जनता ये भी देख रही है कि बंगाल में जो पार्टियां एक-दूसरे के खिलाफ चुनाव लड़ रही हैं, दिल्ली में वही एक साथ नजर आ रही हैं। मतदाताओं के साथ इससे बड़ा छल कुछ और नहीं हो सकता। यही वजह है कि इंडी गठबंधन लोगों का भरोसा नहीं जीत पा रहा। बंगाल के लोग लंबे समय से भ्रष्टाचार, हिंसा, अराजकता, माफिया और तुष्टिकरण को बर्दाश्त कर रहे हैं। टीएमसी की पहचान घोटाले वाली सरकार की बन गई है। टीएमसी के नेताओं ने अपनी तिजोरी भरने के लिए युवाओं के सपनों को कुचला है। यहां स्थिति ये है कि सरकारी नौकरी पाने के बाद भी युवाओं को भरोसा नहीं है कि उनकी नौकरी रहेगी या जाएगी। लोग बंगाल की मौजूदा सरकार से पूरी तरह हताश हैं।अब उनके सामने बीजेपी का विकास मॉडल है। मैं बंगाल में जहां भी गया, वहां लोगों में बीजेपी के प्रति अभूतपूर्व विश्वास नजर आया। विशेष रुप से बंगाल में मैंने देखा कि माताओं-बहनों का बहुत स्नेह मुझे मिल रहा है। मैं उनसे जब भी मिलता हूं, वो खुद तो इमोशनल हो ही जाती हैं, मैं भी अपने भावनाओं को रोक नहीं पाता हूं। इस बार बंगाल में हम पहले से ज्यादा सीटों पर जीत हासिल करेंगे।

प्रश्न: शराब मामले को लेकर अरविंद केजरीवाल को जेल जाना पड़ा है। उनका कहना है कि ईडी ने जबरदस्ती उन्हें इस मामले में घसीटा है जबकि अब तक उनके पास से कोई पैसा बरामद नहीं हुआ?

उत्तर: आपने कभी किसी ऐसे व्यक्ति को सुना है जो आरोपी हो और ये कह रहा हो कि उसने घोटाला किया था। या कह रहा हो कि पुलिस ने उसे सही गिरफ्तार किया है। अगर एजेंसियों ने उन्हें गलत पकड़ा था, तो कोर्ट से उन्हें राहत क्यों नहीं मिली। ईडी और एजेसिंयो पर आरोप लगाने वाला विपक्ष आज तक एक मामले में ये साबित नहीं कर पाया है कि उनके खिलाफ गलत आरोप लगा है। वो कुछ दिन के लिए जमानत पर बाहर आए हैं, लेकिन बाहर आकर वो और एक्सपोज हो गए। वो और उनके लोग गलतियां कर रहे हैं और आरोप बीजेपी पर लगा रहे हैं। लेकिन जनता उनका सच जानती है। उनकी बातों की अब कोई विश्वसनीयता नहीं रह गई है।

प्रश्न: इस बार दिल्ली में कांग्रेस और आम आदमी पार्टी मिलकर चुनाव लड़ रहे हैं। इससे क्या लगातार दो बार से सातों सीटें जीतने के क्रम में बीजेपी को कुछ दिक्कत हो सकती है? इस बार आपने छह उम्मीदवार बदल दिए

उत्तर: इंडी गठबंधन की पार्टियां दिल्ली में हारी हुई लड़ाई लड़ रहे हैं। उनके सामने अपना अस्तित्व बचाने का संकट है। चुनाव के बाद वैसे भी इंडी गठबंधन नाम की कोई चीज बचेगी नहीं। दिल्ली की जनता ने बहुत पहले कांग्रेस को बाहर कर दिया था, अब दूसरे दलों के साथ मिलकर वो अपनी मौजूदगी दिखाना चाहते हैं। क्या कभी किसी ने सोचा था कि देश पर इतने लंबे समय तक शासन करने वाली कांग्रेस के ये दिन भी आएंगे कि उनके परिवार के नेता अपनी पार्टी के नहीं, बल्कि किसी और उम्मीदवार के लिए वोट डालेंगे।

दिल्ली में इंडी गठबंधन की जो पार्टियां हैं, उनकी पहचान दो चीजों से होती है। एक तो भ्रष्टाचार और दूसरा बेशर्मी के साथ झूठ बोलना। मीडिया के माध्यम से ये जनता की भावनाओं को बरगलाना चाहते हैं। झूठे वादे देकर ये लोगों को गुमराह करना चाहते हैं। ये जनता के नीर-क्षीर विवेक का अपमान है। जनता आज बहुत समझदार है, वो फैसला करेगी। बीजेपी ने लोगों के हित को ध्यान में रखते हुए अपने उम्मीदवार उतारे हैं। बीजेपी में कोई लोकसभा सीट नेता की जागीर नहीं समझी जाती। जो जनहित में उचित होता है, पार्टी उसी के अनुरूप फैसला लेती है। हमारे लिए राजनीति सेवा का माध्यम है। यही वजह है कि हमारे कार्यकर्ता इस बात से निराश नहीं होते कि टिकट कट गया, बल्कि वो पूरे मनोयोग से जनता की सेवा में जुट जाते हैं।

प्रश्न: विपक्ष का कहना है कि लोकतंत्र खतरे में है और अगर बीजेपी जीतती है तो लोकतंत्र औपचारिक रह जाएगा। आप उनके इन आरोपों को कैसे देखते हैं?

उत्तर: कांग्रेस और उसका इकोसिस्टम झूठ और अफवाह के सहारे चुनाव लड़ने निकला है। पुराने दौर में उनका यह पैंतरा कभी-कभी काम कर जाता था, लेकिन आज सोशल मीडिया के जमाने में उनके हर झूठ का मिनटों में पर्दाफाश हो जाता है।

उन्होंने राफेल पर झूठ बोला, पकड़े गए। एचएएल पर झूठ बोला, पकड़े गए। जनता अब इनकी बातों को गंभीरता से नहीं लेती है। देश जानता है कि कौन संविधान बदलना चाहता है। आपातकाल के जरिए देश के लोकतंत्र को खत्म करने की साजिश किसने की थी। कांग्रेस के कार्यकाल में सबसे ज्यादा बार संविधान की मूल प्रति को बदल दिया। कांग्रेस पहले संविधान संसोधन का प्रस्ताव अभिव्यक्ति की आजादी पर पहरा लगाने के लिए लाई थी। 60 वर्षों में उन्होंने बार-बार संविधान की मूल भावना पर चोट की और एक के बाद एक कई राज्य सरकारों को बर्खास्त किया। सबसे ज्यादा बार राष्ट्रपति शासन लगाने का रेकॉर्ड कांग्रेस के नाम है। उनकी जो असल मंशा है, उसके रास्ते में संविधान सबसे बड़ी दीवार है। इसलिए इस दीवार को तोड़ने की कोशिश करते रहते हैं। आप देखिए कि संविधान निर्माताओं ने धर्म के आधार पर आरक्षण का विरोध किया था। लेकिन कांग्रेस अपने वोटबैंक को खुश करने के लिए बार-बार यही करने की कोशिश करती है। अपनी कोई कोशिशों में नाकाम रहने के बाद आखिरकार उन्होंने कर्नाटक में ओबीसी आरक्षण में सेंध लगा ही दी।

कांग्रेस और इंडी गठबंधन के नेता लोकतंत्र की दुहाई देते हैं, लेकिन वास्तविकता ये है कि लोकतंत्र को कुचलने के लिए, जनता की आवाज दबाने के लिए ये पूरी ताकत लगा देते हैं। ये लोग उनके खिलाफ बोलने वालों के पीछे पूरी मशीनरी झोंक देते हैं। इनके एक राज्य की पुलिस दूसरे राज्य में जाकर कार्रवाई कर रही है। इस काम में ये लोग खुलकर एक-दूसरे का साथ दे रहे हैं। जनता ये सब देख रही है, और समझ रही है कि अगर इन लोगों के हाथ में ताकत आ गई तो ये देश का, क्या हाल करेंगे।

प्रश्न: आप एकदम चुस्त-दुरुस्त और फिट दिखते हैं, आपकी सेहत का राज, सुबह से रात तक का रूटीन?

उत्तर: मैं यह मानता हूं कि मुझ पर किसी दैवीय शक्ति की बहुत बड़ी कृपा है, जिसने लोक कल्याण के लिए मुझे माध्यम बनाया है। इतने वर्षों में मेरा यह विश्वास प्रबल हुआ है कि ईश्वर ने मुझे विशेष दायित्व पूरा करने के लिए चुना है। उसे पूरा करने के लिए वही मुझे सामर्थ्य भी दे रहा है। लोगों की सेवा करने की भावना से ही मुझे ऊर्जा मिलती है।

प्रश्न: प्रधानमंत्री जी, आप काशी के सांसद हैं। बीते 10 साल में आप ने काशी को खूब प्रमोट किया है। आज काशी देश में सबसे प्रेफर्ड टूरिज्म डेस्टिनेशमन बन रही है। इसके अलावा आप ने जो इंफ्रास्ट्रक्चर के काम किए हैं, उससे भी बनारस में बहुत बदलाव आया है। इससे बनारस और पूर्वांचल की इकोनॉमी और रोजगार पर जो असर हुआ है, उसे आप कैसे देखते हैं?

उत्तर: काशी एक अद्भूत नगरी है। एक तरफ तो ये दुनिया का सबसे प्राचीन शहर है। इसकी अपनी पौराणिक मान्यता है। दूसरी तरफ ये पूर्वी उत्तर प्रदेश और बिहार की आर्थिक धुरी भी है। 10 साल में हमने काशी में धार्मिक पर्यटन का खूब विकास किया। शहर की गलियां, साफ-सफाई, बाजारों में सुविधाएं, ट्रेन और बस के इंतजाम पर फोकस किया। गंगा में सीएनजी बोट चली, शहर में ई-बस और ई-रिक्शा चले। यात्रियों के लिए हमने स्टेशन से लेकर शहर के अलग-अलग स्थानों पर तमाम सुविधाएं बढ़ाई।

इन सब के बाद जब हम बनारस को प्रमोट करने उतरे, तो देशभर के श्रद्धालुओं में नई काशी को देखने का भाव उमड़ आया। यह यहां सालभर पहले से कई गुना ज्यादा पर्यटक आते हैं। इससे पूरे शहर में रोजगार के नए अवसर तैयार हुए।

हमने बनारस में इंडस्ट्री लानी शुरू की है। TCS का नया कैंपस बना है, बनास डेयरी बनी है, ट्रेड फैसिलिटी सेंटर बना है, काशी के बुनकरों को नई मशीनें दी जा रही है, युवाओं को मुद्रा लोन मिले हैं। इससे सिर्फ बनारस ही नहीं, आसपास के कई जिलों की अर्थव्यवस्था को नई गति मिली।

प्रश्न: आपने कहा कि वाराणसी उत्तर प्रदेश की राजनीतिक धुरी जैसा शहर है। बीते 10 वर्षों में पू्र्वांचल में जो विकास हुआ है, उसको कैसे देखते हैं?

उत्तर: देखिए, पूर्वांचल अपार संभावनाओं का क्षेत्र है। पिछले 10 वर्षों में हमने केंद्र की तमाम योजनाओं में इस क्षेत्र को बहुत वरीयता दी है। एक समय था, जब पूर्वांचल विकास में बहुत पिछड़ा था। वाराणसी में ही कई घंटे बिजली कटौती होती थी। पूर्वांचल के गांव-गांव में लालटेन के सहारे लोग गर्मियों के दिन काटते थे। आज बिजली की व्यवस्था में बहुत सुधार हुआ है, और इस भीषण गर्मी में भी कटौती का संकट करीब-करीब खत्म हो चला है। ऐसे ही पूरे पूर्वांचल में सड़कों की हालत बहुत खराब थी। आज यहां के लोगों को पूर्वांचल एक्सप्रेस-वे की सुविधा मिली है। गाजीपुर, आजमगढ़, मऊ, बलिया, चंदौली जैसे टियर थ्री कहे जाने वाले शहरों में हजारों की सड़कें बनी हैं।

आजमगढ़ में अभी कुछ दिन पहले मैंने एयरपोर्ट की शुरुआत की है। महाराजा सुहेलदेव के नाम पर यूनिवर्सिटी बनाई गई है। पूरे पूर्वांचल में नए मेडिकल कॉलेज बन रहे हैं। बनारस में इनलैंड वाटर-वे का पोर्ट बना है। काशी से ही देश की पहली वंदे भारत ट्रेन चली थी। देश का पहला रोप-वे ट्रांसपोर्ट सिस्टम बन रहा है।

कांग्रेस की सरकार में पूर्वांचल के लोग ऐसी सुविधाएं मिलने के बारे में सोचते तक नहीं थे। क्योंकि लोगों को बिजली-पानी-सड़क जैसी मूलभूत सुविआधाओं में ही उलझाकर रखा गया था। यह स्थिति तब थी जब इनके सीएम तक पूर्वांचल से चुने जाते थे। तब पूर्वांचल में सिर्फ नेताओं के हेलिकॉप्टर उतरते थे, आज जमीन पर विकास उतर आया है।

प्रश्न: आप कहते हैं कि बनारस ने आपको बनारसी बना दिया है। मां गंगा ने आपको बुलाया था, अब आपको अपना लिया है। आप काशी के सांसद हैं, यहां के लोगों से क्या कहेंगे?

उत्तर: मैं एक बात मानता हूं कि काशी में सबकुछ बाबा की कृपा से होता है। मां गंगा के आशीर्वाद से ही यहां हर काम फलीभूत होते हैं! 10 साल पहले मैंने जब ये कहा था कि मां गंगा ने मुझे बुलाया है, तो वो बात भी मैंने इसी भावना से कही थी। जिस नगरी में लोग एक बार आने को तरसते हैं, वहां मुझे दो बार सांसद के रूप में सेवा करने का अवसर मिला। जब पार्टी ने तीसरी बार मुझे काशी की उम्मीदवारी करने को कहा, तभी मेरे मन में यह भाव आया कि मां गंगा ने मुझे गोद ले लिया है। काशी ने मुझे अपार प्रेम दिया है। उनका यह स्नेह और विश्वास मुझ पर एक कर्ज है। मैं जीवनभर काशी की सेवा करके भी इस कर्ज को नहीं उतार पाऊंगा।

Following is the clipping of the interview:

 

 

Source: Navbharat Times