জয় জিনেন্দ্র!
এই পবিত্র অনুষ্ঠানে, আমি প্রথমে আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস, পূজনীয় ভুবনভানুসুরিশ্বর জি মহারাজের চরণে প্রণাম জানাই। আমি প্রশান্তমূর্তি সুবিশাল গচ্ছাধিপতি পূজ্য শ্রীমদ বিজয় রাজেন্দ্রসুরিশ্বর জি মহারাজ, পূজ্য গচ্ছাধিপতি শ্রী কল্পতরুসূরিশ্বর জি মহারাজ, সরস্বতী কৃপাপ্রাপ্ত পরম পূজ্য আচার্য ভগবন্ত শ্রীমদ বিজয়রত্নসুন্দরসুরিশ্বর জি মহারাজ এবং এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল সাধু ও সাধ্বীদের প্রতিও আমার শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করি।
আমি শ্রী কুমারপালভাই শাহ, কল্পেশভাই শাহ, সঞ্জয়ভাই শাহ এবং কৌশিকভাই সাংভি সহ ‘উর্জা মহোৎসব কমিটি’র সকল সদস্যকে আন্তরিকভাবে অভিনন্দন জানাই এবং তাঁদের শুভেচ্ছা জানাই। পূজনীয় সাধুগণ, আজ আমরা শ্রীমদ বিজয়রত্ন সুন্দর সুরিশ্বর জি মহারাজের ৫০০তম গ্রন্থ প্রকাশের সাক্ষী হতে পেরে ধন্য। মহারাজ সাহেব জ্ঞানকে কেবল শাস্ত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং তিনি তা নিজের জীবনে ধারণ করেছেন এবং অন্যদেরও তা জীবনে প্রয়োগ করতে অনুপ্রাণিত করেছেন। তাঁর ব্যক্তিত্ব সংযম, সরলতা এবং স্বচ্ছতার এক অসাধারণ মিশ্রণ। যখন তিনি লেখেন, তাঁর শব্দে অভিজ্ঞতার গভীরতা থাকে; যখন তিনি কথা বলেন, তাঁর কণ্ঠে করুণার শক্তি থাকে; এবং এমনকি নীরবতার মধ্যেও তিনি দিকনির্দেশ করেন। তাঁর ৫০০তম গ্রন্থ, “প্রেমের বিশ্ব, বিশ্বের প্রেম” (প্রেমনু বিশ্ব, বিশ্বনো প্রেম)-এর বিষয়বস্তুই নিজের মধ্যে অনেক কিছু বলে দেয়। আমি নিশ্চিত যে আমাদের সমাজ, আমাদের তরুণ প্রজন্ম এবং সমগ্র মানবজাতি এই সৃষ্টি থেকে উপকৃত হবে। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে, ‘উর্জা (প্রাণশক্তি) মহোৎসব মানুষের মধ্যে চিন্তার এক নতুন শক্তি ছড়িয়ে দেবে। আমি আপনাদের সকলকে অভিনন্দন জানাই।
বন্ধুগণ, মহারাজ সাহেবের ৫০০টি গ্রন্থ রচনা হলো চিন্তার অগণিত রত্নে পরিপূর্ণ এক বিশাল মহাসাগরের মতো। এই গ্রন্থগুলি মানবজাতির বহু সমস্যার সহজ ও আধ্যাত্মিক সমাধান প্রদান করে। সময় ও পরিস্থিতি অনুসারে, প্রতিটি গ্রন্থই দিকনির্দেশের আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে। আমাদের তীর্থঙ্কর এবং পূর্ববর্তী আচার্যদের দ্বারা প্রদত্ত অহিংসা, অপরিগ্রহ এবং অনেকান্তবাদের শিক্ষা, সেইসঙ্গে প্রেম, সহনশীলতা এবং সম্প্রীতির শিক্ষা এই রচনাগুলিতে আধুনিক ও সমসাময়িক রূপে দেখা যায়। বিশেষ করে আজকের দিনে, যখন বিশ্ব বিভেদ ও সংঘাতের সঙ্গে লড়াই করছে, তখন ‘প্রেমনু বিশ্ব, বিশ্বনো প্রেম’ শুধু একটি বই নয়, এটি একটি মন্ত্র। এই মন্ত্রটি আমাদের ভালোবাসার শক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং সেই শান্তি ও সম্প্রীতির পথ দেখায়, যা বিশ্ব আজ মরিয়া হয়ে খুঁজছে।
বন্ধুগণ,
আমাদের জৈন দর্শনের মূল নীতি হলো “পরস্পরোপগ্রহো জীবনম্”—অর্থাৎ প্রতিটি জীবন একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত। যখন আমরা এই নীতিটি বুঝতে পারি, তখন আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্তি থেকে সমষ্টির দিকে ধাবিত হয়। আমরা ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার ঊর্ধ্বে উঠে সমাজ, জাতি এবং মানবতার লক্ষ্য নিয়ে ভাবতে শুরু করি। এই একই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে, আপনাদের মনে থাকবে, আমি নবকার মন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে আপনাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলাম। সেই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে চারটি সম্প্রদায় একত্রিত হয়েছিল এবং আমি নয়টি আবেদন, নয়টি সংকল্পের কথা বলেছিলাম। আজকের এই অনুষ্ঠানটিও সেগুলোকে পুনরাবৃত্তি করার একটি সুযোগ।
প্রথম সংকল্প — জল সংরক্ষণ করা।
দ্বিতীয় — নিজের মায়ের নামে একটি গাছ লাগানো।
তৃতীয় — পরিচ্ছন্নতার অভিযান।
চতুর্থ — স্থানীয় পণ্যের প্রচার।
পঞ্চম — ভারত দর্শন।
ষষ্ঠ — প্রাকৃতিক কৃষিকাজ গ্রহণ করা।
সপ্তম — একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গ্রহণ করা।
অষ্টম — যোগব্যায়াম এবং খেলাধুলাকে দৈনন্দিন জীবনে অন্তর্ভুক্ত করা।
নবম — দরিদ্রদের সাহায্য করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া।
বন্ধুগণ,
আজ ভারত বিশ্বের অন্যতম তরুণ দেশ। আমাদের যুবশক্তি একটি উন্নত ভারত গড়ার পাশাপাশি আমাদের সাংস্কৃতিক ভিত্তিকেও শক্তিশালী করছে। এই রূপান্তরের ক্ষেত্রে মহারাজ সাহেবের মতো সাধুদের নির্দেশনা, তাঁর সাহিত্য এবং গভীর আধ্যাত্মিক সাধনা দ্বারা সমৃদ্ধ তাঁর বাণী এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমি আবারও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং তাঁর ৫০০তম গ্রন্থের জন্য শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আমি নিশ্চিত যে তাঁর চিন্তাভাবনা ভারতের বৌদ্ধিক, নৈতিক এবং মানবিক যাত্রাকে আলোকিত করে যাবে।
আমাকে আপনাদের কাছে ক্ষমাও চাইতে হবে। আমি সত্যিই ব্যক্তিগতভাবে আসতে চেয়েছিলাম এবং অনেক আগেই তার পরিকল্পনা করেছিলাম, কিন্তু আপনারা জানেন, এমন কিছু পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যার কারণে আমি আপনাদের মাঝে উপস্থিত হতে এবং আপনাদের দর্শন লাভ করতে পারিনি। তবুও এটি মহারাজ সাহেবেরই কৃপা যে তিনি আমার অসুবিধাটি বুঝতে পেরেছেন এবং এই ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আপনাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করার, আপনাদের সঙ্গে দেখা করার ও কথা বলার সুযোগ দিয়েছেন। এর জন্যও আমি তাঁর কাছে গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।
জয় জিনেন্দ্র!


