“This museum is a living reflection of the shared heritage of each government”
“This museum has come as a grand inspiration in the time of Azadi ka Amrit Mahotsav”
“Every government formed in independent India has contributed in taking the country to the height it is at today. I have repeated this thing many times from Red Fort also”
“It gives confidence to the youth of the country that even a person born in ordinary family can reach the highest position in the democratic system of India”
“Barring a couple of exceptions, India has a proud tradition of strengthening democracy in a democratic way”
“Today, when a new world order is emerging, the world is looking at India with a hope and confidence, then India will also have to increase its efforts to rise up to the occasion”

আমার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সকল সদস্যগণ, সংসদে আমার সমস্ত বরিষ্ঠ সহযোগীগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্মানিত বন্ধুগণ, অন্যান্য উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ, ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ,

দেশের ভিন্ন ভিন্ন প্রান্তে আজ অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে নানা উৎসব এবং পরবের উদযাপন সমারোহ চলছে। আজ দেশের নানা প্রান্তে কোথাও বৈশাখী পালিত হচ্ছে, কোথাও আবার বোহাগ বিহু!  আজ থেকেই ওড়িয়া নববর্ষও শুরু হচ্ছে, সমস্ত ওডিশাবাসীকে আমার শুভেচ্ছা জানাই।  আমাদের তামিলনাড়ুর ভাই ও বোনেরাও আজ নতুন বছরকে স্বাগত জানাচ্ছেন, আমি তাঁদের সবাইকে ‘পুত্তান্ড’-র অজস্র শুভকামনা জানাই। তাছাড়াও, দেশের অনেক অঞ্চলে নববর্ষ শুরু হচ্ছে, অনেক ধরনের পরব উদযাপন করা হচ্ছে। আমি সমস্ত দেশবাসীকে এই সকল পরব, অনুষ্ঠান ও উৎসব উপলক্ষে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই, আপনাদের সবাইকে ভগবান মহাবীর জয়ন্তী উপলক্ষেও অনেক অনেক শুভকামনা জানাই।

বন্ধুগণ,

আজকের এই অনুষ্ঠান অন্য কয়েকটি কারণেও অত্যন্ত বিশেষ হয়ে উঠেছে। আজ গোটা দেশ শ্রদ্ধেয় বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকরজিকে তাঁর জয়ন্তী উপলক্ষে সাদর প্রণাম জানাচ্ছে, শ্রদ্ধা সহকারে স্মরণ করছে। বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকর যে সংবিধানের মুখ্য শিল্পী ছিলেন, সেই সংবিধান আমাদের সংসদীয় প্রক্রিয়াকে একটি দৃঢ় ভিত্তির ওপর স্থাপন করেছে। এই সংসদীয় প্রক্রিয়াতে দেশের প্রধান দায়িত্ব দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদকে দেওয়া হয়েছে। এটা আমার সৌভাগ্য যে, আজ আমি দেশের নবনির্মিত প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহালয়টি দেশকে সমর্পণ করার সুযোগ পেয়েছি। এমন সময়ে একটি অসাধারণ প্রেরণা আমাকে উজ্জীবিত করে তুলছে। বিগত ৭৫ বছরে দেশ অনেক গৌরবময় মুহূর্ত দেখেছে। ইতিহাসের পাতায় এই মুহূর্তগুলির যে গুরুত্ব রয়েছে -  তা সত্যিই অতুলনীয়। এরকম অনেক মুহূর্তের ঝলক এই নবনির্মিত প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহালয়েও দেখা যাবে। আজ এই নবনির্মিত প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহালয় উদ্বোধন উপলক্ষে আমি দেশবাসীকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। কিছুক্ষণ আগে আমার এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সকল বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও পরিচয় হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। এঁরা সকলেই অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ করেছেন। সেজন্য এই গোটা টিমকে আমি শুভেচ্ছা জানাই। আমি আজ এখানে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীদের পরিবারের সদস্যদেরকেও দেখতে পাচ্ছি। আপনাদের সবাইকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানাই, স্বাগত জানাই। নবনির্মিত প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহালয় উদ্বোধনের এই পূণ্য লগ্নটি আপনাদের সকলের উপস্থিতিতে আরও ধন্য হয়ে উঠেছে। আপনাদের উপস্থিতি এই নবনির্মিত প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহালয়ের সার্থকতাকে, এর প্রাসঙ্গিকতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

বন্ধুগণ,

দেশ আজ যে উচ্চতায় রয়েছে সেখান পর্যন্ত তাকে পৌঁছে দিতে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর গড়ে ওঠা প্রত্যেক সরকারের অবদান রয়েছে। আমি লালকেল্লার প্রাকার থেকেও একথা অনেকবার উচ্চারণ করেছি। আজ এই নবনির্মিত প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহালয়ও স্বাধীনতা পরবর্তী প্রত্যেক সরকারের মিলিত ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতিবিম্ব হয়ে উঠেছে। দেশের প্রত্যেক প্রধানমন্ত্রী তাঁর সময়ের ভিন্ন ভিন্ন সমস্যাগুলিকে সমাধান করে, চ্যালেঞ্জগুলিকে অতিক্রম করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। সকলের ব্যক্তিত্ব, কৃতিত্ব ও নেতৃত্বের ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা ছিল। এসব কিছুই আজ লোকস্মৃতির বিষয়। দেশের জনগণ বিশেষ করে, নবীন প্রজন্ম, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যদি সকল প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে পারেন, তাহলে তাঁরা প্রেরণা পাবেন। ইতিহাস এবং বর্তমান থেকে ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথ গড়ে তোলা নিয়ে কখনও রাষ্ট্রকবি রামধারী সিং দিনকরজি লিখেছিলেন –

“প্রিয়দর্শন ইতিহাস কন্ঠ মে, আজ ধ্বনিত হো কাব্য বনে।

বর্তমান কী চিত্রপটী পর, ভূতকাল সম্ভাব্য বনে।”

অর্থাৎ, প্রিয়দর্শন ইতিহাস আজ সকলের কন্ঠে ধ্বনিত হয়ে কাব্য হয়ে উঠুক। বর্তমানের চিত্রপটে নিহিত অতীত যেন ভবিষ্যতকে সম্ভব করে তোলে। এই পংক্তির মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চাইছেন, আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনায় যে গৌরবময় অতীত সমাহিত রয়েছে তা যেন কাব্যে রূপান্তরিত হয়ে গুঞ্জরিত হয়। এ দেশের সম্পন্ন ইতিহাস আমরা বর্তমানের প্রেক্ষিতেও যেন সম্ভব করে তুলতে পারি। আগামী ২৫ বছর স্বাধীনতার এই অমৃতকাল দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, এই নবনির্মিত প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহালয় ভবিষ্যতের নির্মাণেরও একটি প্রাণশক্তি কেন্দ্র হয়ে উঠবে। ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ‘লিডারশিপ’ বা দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সামনে কী কী চ্যালেঞ্জ ছিল, কিভাবে তাঁরা সেই চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলা করেছেন, তা নিয়েও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই নবনির্মিত প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহালয় একটি বড় প্রেরণার মাধ্যম হয়ে উঠবে। এখানে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীদের বিভিন্ন কাজ ও পদক্ষেপের সংশ্লিষ্ট দুর্লভ ফটো, ভাষণ, সাক্ষাৎকার, মূল রচনার মতো স্মরণীয় সামগ্রী সংরক্ষণ করা হয়েছে।

বন্ধুগণ,

সার্বজনিক জীবনে যাঁরা উচ্চ পদগুলিতে কাজ করেন, যখন আমরা তাঁদের জীবনের দিকে ফিরে তাকাই তখন এটাও এক ধরনের ইতিহাসেরই অবলোকন করা হয়। তাঁদের জীবনের ঘটনাগুলি, তাঁদের সামনে উঠে আসা নানা সমস্যা, সেগুলির সমাধানে তাঁদের নানা সিদ্ধান্ত আমাদের অনেক কিছু শেখায়। অর্থাৎ, একভাবে তাঁদের জীবন চলতে থাকে, আর পাশাপাশি ইতিহাসেরও রচনা জারি থাকে। এই জীবনকে পড়া, ইতিহাসের অধ্যয়নের মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই নবনির্মিত প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহালয়ে এলে স্বাধীন ভারতের ইতিহাসকে জানা যাবে। আমরা কয়েক বছর আগেই ‘সংবিধান দিবস’ পালনের সূত্রপাত করে দেশের মানুষের মনে জাতীয় চেতনা জাগিয়ে তোলার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছি। এই নবনির্মিত প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহালয়ও সেই লক্ষ্যে আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়।

বন্ধুগণ,

দেশের প্রত্যেক প্রধানমন্ত্রী সংবিধান সম্মত গণতন্ত্রের লক্ষ্যকে সার্থকভাবে পূরণের ক্ষেত্রে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই নিজের নিজের মতো করে অবদান রেখেছেন। তাঁদেরকে স্মরণ করা, তাঁদের অবদানের কথা জানা, স্বাধীন ভারতের অগ্রগতির ইতিহাস জানার প্রক্রিয়াকে একটি নতুন মাত্রা দেবে। এখানে যাঁরা আসবেন তাঁরা দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীদের অবদানের সঙ্গে পরিচিত হবেন। তাঁদের প্রেক্ষিত, তাঁদের সংঘর্ষ, তাঁদের সৃষ্টিকে জানবেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এখান থেকে এই শিক্ষাও পাবে যে আমাদের গণতান্ত্রিক দেশে কোন কোন প্রেক্ষিত থেকে উঠে এসে ভিন্ন ভিন্ন প্রধানমন্ত্রী তাঁদের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। এটা আমাদের আপামর ভারতবাসীর জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয় যে, আমাদের অধিকাংশ প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। সুদূর গ্রাম, দেহাত থেকে উঠে এসে, একদম গরীব পরিবার থেকে উঠে এসে, কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসেও প্রধানমন্ত্রী পদ পর্যন্ত পৌঁছনো, ভারতীয় গণতন্ত্রের মহান পরম্পরাগুলির প্রতি বিশ্বাসকে দৃঢ় করে। এই দেশকে, এ দেশের যুব সম্প্রদায়ের মনেও বিশ্বাসের জন্ম দেয় যে ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিও তাঁদের কর্মের মাধ্যমে দেশের শীর্ষতম পদগুলিতে পৌঁছতে পারেন, সেগুলিকে অলঙ্কৃত করতে পারেন।

বন্ধুগণ,

এই নবনির্মিত প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহালয়ে যতটা অতীত রয়েছে, ততটাই ভবিষ্যতও রয়েছে। এই নবনির্মিত প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহালয় দেশের জনগণের বিগত সময়ের যাত্রাপথের নানা পর্যায়ে নতুন লক্ষ্যগুলিকে এবং লক্ষ্য পূরণের ইতিহাসকে সংরক্ষিত করে, নতুন রূপে ভারতের উন্নয়ন যাত্রাকে অব্যাহত রাখতে সাহায্য করবে। এটি একটি এমন যাত্রাপথ যেখানে আপনারা একটি নতুন ভারতের স্বপ্নগুলিকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার নানা পর্যায়কে নিবিড়ভাবে দেখতে পাবেন। এই বিল্ডিং-এ ৪০টিরও বেশি গ্যালারি রয়েছে, আর প্রায় ৪ হাজার মানুষের একসঙ্গে ঘুরে দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি, রোবোটস এবং অন্যান্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুতগতিতে পরিবর্তনশীল ভারতের চিত্রও এই নবনির্মিত প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহালয়ের মাধ্যমে বিশ্ববাসী দেখতে পাবেন। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে দর্শকদের মনে এমন সব অনুভূতি উপহার দেওয়া হবে,… যেন আমরা সত্যিই সত্যিই সেই সময়ে রয়েছি, সেই প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে সেলফি নিচ্ছি, তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে পারছি।

বন্ধুগণ,

আমাদের দেশের নবীন বন্ধুদের, ছাত্রছাত্রীদের এই নবনির্মিত প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহালয়ে আসার জন্য বেশি করে উৎসাহিত করতে হবে। এই নবনির্মিত প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহালয় তাঁদের অভিজ্ঞতাকে আরও সম্প্রসারিত করবে। আমাদের নবীন প্রজন্ম অত্যন্ত সক্ষম আর তাঁদের মধ্যে দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। তাঁরা নিজেদের দেশ সম্পর্কে, স্বাধীন ভারতের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলি সম্পর্কে, ঘটনাগুলি সম্পর্কে যত বেশি জানবেন, যত বেশি বুঝবেন, ততটাই তাঁরা ভবিষ্যতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারঙ্গম হয়ে উঠবেন, সক্ষম হয়ে উঠবেন। এই নবনির্মিত প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহালয় ভবিষ্যৎ প্রজন্মগুলির জন্য জ্ঞানের, ভাবনার, অভিজ্ঞতার, অনুভবের এক একটি অনুপম দরজা খোলার কাজ করবে। এখানে এসে তাঁরা যত কিছু জানতে পারবেন, যে তথ্যগুলির সঙ্গে তাঁরা পরিচিত হবেন তা তাঁদেরকে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। ইতিহাসের ছাত্রছাত্রীরা যখন গবেষণা করতে চান, তাঁরাও এখানে এসে অনেক লাভবান হবেন।

বন্ধুগণ,

ভারত গণতন্ত্রের জননী, ‘মাদার অফ ডেমোক্র্যাসি’। ভারতের গণতন্ত্রের এটাই সবচাইতে বড় বৈশিষ্ট্য যে সময়ের সঙ্গে এই গণতন্ত্রে ক্রমাগত পরিবর্তন আসতে থাকে। প্রত্যেক যুগে, প্রত্যেক প্রজন্মে গণতন্ত্রকে আরও আধুনিক করে তুলতে, আরও বেশি শক্তিশালী করে তোলার নিরন্তর প্রচেষ্টা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে যেভাবে অনেকবার সমাজের কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি, কুসংস্কারে পরিণত হয়, তেমনই গণতন্ত্রের সামনেও নানা সময়ে অনেক সমস্যা এসেছে, অনেক প্রতিস্পর্ধা এসেছে। এই প্রতিস্পর্ধাগুলিকে, এই ত্রুটিগুলিকে দূর করতে থাকা, নিজেকে পরিষ্কৃত করতে থাকা, এটাই ভারতীয় গণতন্ত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এটাই ভারতীয় গণতন্ত্রের আসল সৌন্দর্য, আর এক্ষেত্রে প্রত্যেক নেতাই তাঁদের অবদান রেখেছেন। দু-একটি ব্যক্তিক্রম ছেড়ে দিলে, আমাদের দেশে গণতন্ত্রকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই শক্তিশালী করার গৌরবময় পরম্পরা পরিলক্ষিত হয়েছে। সেজন্য আমাদেরও এই দায়িত্ব রয়েছে যে নিজেদের প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের গণতন্ত্রকে যেন আরও মজবুত করে যাই। আজ যেসব সমস্যা আমাদের গণতন্ত্রের সামনে রয়েছে, সময়ের সঙ্গে যেসব ত্রুটি এখন আমাদের বিড়ম্বনায় ফেলছে, সেগুলি দূর করে যেন আমরা এগিয়ে যেতে পারি, এটাই আমাদের কাছ থেকে এ দেশের গণতন্ত্র প্রত্যাশা করে। দেশবাসীও আমাদের সকলের কাছ থেকে এটাই প্রত্যাশা করে। আজকের এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত গণতন্ত্রকে শক্তিশালী এবং সমৃদ্ধ করার সঙ্কল্পকে পুনরুচ্চারণেরও একটি শুভ মুহূর্ত। আমাদের ভারতে যুগে যুগে বিভিন্ন ভাবধারা, বিভিন্ন মত, পথ ও পরম্পরার সমাবেশ হয়ে এসেছে। আমাদের গণতন্ত্র আমাদের একথাও শেখায় না যে কোনও একটি নির্দিষ্ট দর্শন, নির্দিষ্ট ভাবনাই সর্বোত্তম আর অন্যগুলি নয়। আমরা তো সেই সভ্যতার কোলে লালিত-পালিত হয়েছি, যেখানে একথা বলা হয়েছে যে –

“আ নো ভদ্রাঃ

ক্রতভো য়ন্তু বিশ্বতঃ”

অর্থাৎ, আমাদের কাছে যেন সব দিক থেকে সদ্বিচার, শুদ্ধ ভাবনা আসে! আমাদের গণতন্ত্র সর্বদাই আমাদের প্রেরণা দেয় নবীনতাকে স্বীকার করে নেওয়ার, নতুন ভাবনা-চিন্তাকে মেনে নেওয়ার, নতুন ভাবনা-চিন্তাকে গ্রহণ করার। নবনির্মিত প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহালয়ে যাঁরা দর্শক হয়ে আসবেন, তাঁরা গণতন্ত্রের এই শক্তিকেও দেখতে পাবেন, অনুভব করবেন। ভাবনা নিয়ে, দর্শন নিয়ে সহমতি, অসহমতি হতে পারে, ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক ধারা থাকতে পারে, কিন্তু গণতন্ত্রে সকলের উদ্দেশ্য, সকলের ধ্যেয় একটাই থাকে তা হল – দেশের উন্নয়ন। সেজন্য এই নবনির্মিত প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহালয়ে শুধুই দেশের প্রধানমন্ত্রীদের সাফল্য, তাঁদের অবদানগুলিকে সংরক্ষণে সীমাবদ্ধ থাকেনি, এই নবনির্মিত প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহালয় প্রত্যেক বিপরীত পরিস্থিতিতে, নানা কঠিন সময়ে আমাদের দেশে গণতন্ত্রের শেকড় কিভাবে আরও গভীরে পৌঁছেছে, আরও কত দৃঢ় হয়েছে – এটা অনুধাবন করাবে। এই নবনির্মিত প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহালয় আমাদের সংস্কৃতিতে হাজার হাজার বছর ধরে পল্লবিত ও পুষ্পিত গণতান্ত্রিক সংস্কারগুলির দৃঢ়তা এবং সংবিধানের প্রতি মজবুত হতে থাকা আস্থারও প্রতীক হয়ে উঠেছে।

 

বন্ধুগণ,

নিজেদের ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করা, সেগুলিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রত্যেক রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমাদের দেশে স্বাধীনতা আন্দোলন, আমাদের সাংস্কৃতিক বৈভবের যাবতীয় প্রেরণাদায়ী প্রসঙ্গ এবং প্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্বদের কৃতিত্বকে তুলে ধরা, জনগণের সমস্ত আন্দোলনকে তুলে ধরার জন্য আমাদের সরকার নিরন্তর কাজ করে চলেছে। দেশ থেকে চুরি হয়ে যাওয়া মূর্তিগুলি এবং নানা গুরুত্বপূর্ণ কলাকৃতিকে ফিরিয়ে আনা থেকে শুরু করে পুরনো মিউজিয়াম বা সংগ্রহালয়গুলির পুনর্নির্মাণ, নতুন নতুন সংগ্রহালয় নির্মাণের একটি অনেক বড় অভিযান বিগত ৭-৮ বছর ধরে লাগাতার জারি রয়েছে, আর এই প্রচেষ্টাগুলির পেছনে একটি অনেক বড় উদ্দেশ্য রয়েছে। যখন আমাদের নবীন প্রজন্ম এই জীবন্ত প্রতীকগুলিকে দেখবেন, তখন তাঁদের মনে তথ্য সম্পর্কে বোধও যেমন জেগে উঠবে, তেমনই সত্য সম্পর্কেও নিজস্ব বোধ অঙ্কুরিত হবে। যখন কেউ জালিয়ানওয়ালা বাগ স্মারককে দেখেন তখন তিনি সেই স্বাধীনতার গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেন, যে স্বাধীনতার আনন্দ আজ তিনি উপভোগ করছেন। যখন কোনও জনজাতির মানুষ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সংগ্রহালয় দেখেন, তখন তাঁরা জানতে পারেন যে স্বাধীনতা সংগ্রামে দূরদুরান্তের অরণ্যে বসবাসকারী আমাদের দেশের প্রত্যেক এলাকার জনজাতি ভাই-বোনেরাও কিভাবে অবদান রেখেছেন, প্রত্যেক শ্রেণীর মানুষেরা কিভাবে তাঁদের সর্বস্ব উৎসর্গ করেছেন। যখন কেউ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নিয়ে তৈরি সংগ্রহালয় দেখেন, তখন তাঁরা অনুভব করেন যে দেশের জন্য আত্মবলিদানের মানে কী হয়। এটা আমাদের সরকারের সৌভাগ্য যে এখানে দিল্লির আলিপুর রোডে আমরা বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকরের ‘মহাপরিনির্বাণ স্থলী’তে বাবাসাহেব মেমোরিয়াল নির্মাণ করিয়েছি। বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকরকে নিয়ে যে ‘পঞ্চতীর্থ’ গড়ে তোলা হয়েছে, সেগুলি ইতিমধ্যেই আজকের নবীন প্রজন্ম ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সামাজিক ন্যায় এবং অটুট রাষ্ট্র নিষ্ঠার প্রেরণাকেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

বন্ধুগণ,

এই নবনির্মিত প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহালয়ও জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীদের ঐতিহ্যকে প্রদর্শিত করে আমাদের ‘সবকা প্রয়াস’-এর ভাবনার উৎসব উদযাপন করছে। এর যে লোগো, সেটার দিকেও যখন আপনারা তাকাবেন, ভালো করে দেখবেন, তখন বুঝতে পারবেন, এই নবনির্মিত প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহালয়ের লোগো অনেকটা এরকম যে এতে দেখা যায়, কোটি কোটি ভারতবাসীর হাত চক্রটিকে তুলে ধরেছে। এই চক্র ২৪ ঘন্টা নিরন্তরতার প্রতীক। সমৃদ্ধির সঙ্কল্পের জন্য এই চক্র পরিশ্রমের প্রতীক। এটাই সেই পণ, এটাই সেই শপথ, এটাই সেই চেতনা, এটাই সেই শক্তি যা আগামী ২৫ বছরে ভারতের উন্নয়নকে পরিভাষিত করতে থাকবে।

বন্ধুগণ,

ভারতের ইতিহাসের মহানতার সঙ্গে, ভারতের সমৃদ্ধিকালের সঙ্গে আমরা সবাই এখানে এসে পরিচিত হতে পারব। সেজন্য আমরা সব সময় গর্ব করতে পারব। ভারতের ঐতিহ্যের সঙ্গে আর ভারতের বর্তমানের সঙ্গে আজ বিশ্ববাসী যাতে সঠিকভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন তা সুনিশ্চিত করতে এ ধরনের সংগ্রহালয় অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আজ যখন একটা নতুন ওয়ার্ল্ড অর্ডার গড়ে উঠছে, বিশ্ব ভারতের দিকে একটি আশা এবং বিশ্বাসপূর্ণ দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে রয়েছে, তখন ভারতকেও প্রতি মুহূর্তে নতুন উচ্চতায় পৌঁছনোর জন্য নিজেদের প্রচেষ্টা বাড়াতে হবে। এহেন সময়ে স্বাধীনতা পরবর্তী এই ৭৫ বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ৭৫ বছর সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীদের কার্যকাল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই নবনির্মিত প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহালয় আমাদের সাহায্য করবে, আমাদের নিরন্তর প্রেরণা যোগাবে। এই নবনির্মিত প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহালয় আমাদের মনের মধ্যে ভারতের জন্য বড় সঙ্কল্পগুলির বীজ বপনের সামর্থ্য গড়ে তুলবে। এই নবনির্মিত প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহালয় ভারতের ভবিষ্যতকে যাঁরা গড়ে তুলবেন, সেই যুব সম্প্রদায়ের মনে কিছু করে দেখানোর ভাবনা অঙ্কুরিত করবে। আগামী সময়ে এখানে আর যাঁদের নাম যুক্ত হবে তাঁদের কাজগুলিও যুক্ত হবে। তা থেকে আমরা সবাই একটি ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্নকে, একতি উন্নত ভারতের স্বপ্নকে সাকার হওয়ার শান্তি খুঁজে পাব। এর জন্য আজ পরিশ্রম করে যেতে হবে। এই সময়, স্বাধীনতার এই অমৃতকাল, ঐক্যবদ্ধতা, একনিষ্ঠতা আর নানা প্রচেষ্টার বাস্তবায়নের সময়। সমগ্র দেশবাসীর প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা নিজেরা এই নবনির্মিত প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহালয় দেখতে আসুন, আর নিজেদের সন্তান-সন্ততিকেও এই সংগ্রহালয় দর্শন করানোর জন্য অবশ্যই নিয়ে আসুন। এই আমন্ত্রণ জানিয়ে, এই অনুরোধ জানিয়ে আরও একবার এই নবনির্মিত প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহালয়ের জন্য সমগ্র দেশবাসীকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। ধন্যবাদ!

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Govt directs faster processing of city gas projects, hikes commercial LPG allocation to ease supply stress

Media Coverage

Govt directs faster processing of city gas projects, hikes commercial LPG allocation to ease supply stress
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
This is the New India that leaves no stone unturned for development: PM Modi
March 23, 2026
Today, India is moving forward with a new confidence; Now India faces challenges head-on: PM
From the Gulf to the Global West and from the Global South to neighbouring countries, India is a trusted partner for all: PM
What gets measured gets improved and ultimately gets transformed: PM
This is the new India, It is leaving no stone unturned for development: PM

नमस्कार!

पिछले कुछ समय में मुझे एक-दो बार टीवी9 भारतवर्ष देखने का मौका मिला है। नॉर्मली भी युद्धों और मिसाइलों पर आपका बहुत फोकस होता है और आजकल तो आपको कंटेंट की ओवरफीडिंग हो रही है। बड़े-बड़े देश टीवी9 को इतना सारा कंटेंट देने पर तुले हुए हैं, लेकिन On a Serious Note, आज विश्व जिन गंभीर परिस्थितियों से गुजर रहा है, वो अभूतपूर्व है और बेहद गंभीर है। और इन स्थितियों के बीच, आज टीवी-9 नेटवर्क ने विचारों का एक बेहद महत्वपूर्ण मंच बनाया है। आज इस समिट में आप सभी India and the world, इस विषय पर चर्चा कर रहे हैं। मैं आप सबको बधाई देता हूं। इस समिट के लिए अपनी शुभकामनाएं देता हूं। सभी अतिथियों का अभिनंदन करता हूं।

साथियों,

आज जब दुनिया, conflicts के कारण उलझी हुई है, जब इन conflicts के दुष्प्रभाव पूरी दुनिया पर दिख रहे हैं, तब India and the world की बात करना बहुत ही प्रासंगिक है। भारत आज वो देश है, जिसकी अर्थव्यवस्था तेजी से आगे बढ़ रही है। 2014 के पहले की स्थितियों को पीछे छोड़कर के आज भारत एक नए आत्मविश्वास के साथ आगे बढ़ रहा है। अब भारत चुनौतियों को टालता नहीं है बल्कि चुनौतियों से टकराता है। आप बीते 5-6 साल में देखिए, कोरोना की महामारी के बाद चुनौतियां एक के बाद एक बढ़ती ही गई हैं। ऐसा कोई साल नहीं है, जिसने भारत की, भारतीयों की परीक्षा न ली हो। लेकिन 140 करोड़ देशवासियों के एकजुट प्रयास से भारत हर आपदा का सामना करते हुए आगे बढ़ रहा है। इस समय युद्ध की परिस्थितियों में भी भारत की नीति और रणनीति देखकर, भारत का सामर्थ्य देखकर दुनिया के अनेकों देश हैरान हैं। हमारे यहां कहावत है, सांच को आंच नहीं। 28 फरवरी से दुनिया में जो उथल-पुथल मची है, इन कठोर विपरीत परिस्थितियों में भी भारत प्रगति के, विकास के, विश्वास के संकल्प के साथ आगे बढ़ रहा है। इन 23 दिनों में भारत ने अपनी Relationship Building Capacity दिखाई है, Decision Making Capacity दिखाई है और Crisis Management Capacity दिखाई है।

साथियों,

आज जब दुनिया इतने सारे खेमों में बंटी हुई है, भारत ने अभूतपूर्व और अकल्पनीय bridges बनाए हैं। Gulf से लेकर Global West तक, Global South से लेकर पड़ोसी देशों तक भारत सभी का trusted partner है। कुछ लोग पूछते हैं, हम किसके साथ हैं? तो उनको मेरा जवाब यही है कि हम भारत के साथ हैं, हम भारत के हितों के साथ हैं, शांति के साथ हैं, संवाद के साथ हैं।

साथियों,

संकट के इसी समय में जब global supply chains डगमगा रही हैं, भारत ने diversification और resilience का मॉडल पेश किया है। Energy हो, fertilizers हों या essential goods अपने नागरिकों को कम से कम परेशानी हो, इसके लिए भारत ने निरंतर प्रयास किया है और आज भी कर रहे है।

साथियों,

जब राष्ट्रनीति ही राजनीति का मुख्य आधार हो, तब देश का भविष्य सर्वोपरि होता है। लेकिन जब राजनीति में व्यक्तिगत स्वार्थ हावी हो जाता है, तब लोग देश के फ्यूचर के बजाय अपने फ्यूचर के बारे में सोचते हैं। आप ज़रा याद कीजिए 2004 से 2010 के बीच क्या हुआ था? तब कांग्रेस सरकार के समय पेट्रोल-डीजल और गैस की कीमतों का संकट आया था और तब कांग्रेस ने देश की नहीं बल्कि अपनी सत्ता की चिंता की। उस वक्त कांग्रेस ने एक लाख अड़तालीस हज़ार करोड़ रुपए के ऑयल बॉन्ड जारी किए थे और प्रधानमंत्री मनमोहन सिंह जी ने खुद कहा था कि वो आने वाली पीढ़ी पर कर्ज का बोझ डाल रहे हैं। यह जानते हुए भी कि ऑयल बॉन्ड का फैसला गलत है, जो रिमोट कंट्रोल से सरकार चला रहे थे, उन लोगों ने अपनी सत्ता बचाने के लिए यह गलत निर्णय किया क्योंकि जवाबदेही उस समय नहीं होनी थी, उस बॉन्ड पर री-पेमेंट 2020 के बाद होनी थी।

साथियों,

बीते 5-6 वर्षों में हमारी सरकार ने कांग्रेस सरकार के उस पाप को धोने का काम किया है, और इस धुलाई का खर्चा कम नहीं आया है, ऐसी लाँड्री आपने देखी नहीं होगी। 1 लाख 48 हज़ार करोड़ रुपए की जगह, देश को 3 लाख करोड़ रुपए से अधिक की पेमेंट करनी पड़ी क्योंकि इसमें ब्याज भी जुड़ गया था। यानी हमने करीब-करीब दोगुनी राशि चुकाने के लिए मजबूर हुए। आजकल कांग्रेस के जो नेता बयानों की मिसाइलें दाग रहे हैं, मिसाइल आई तो टीवी9 को मजा आएगा, उनकी इस विषय का जिक्र आते ही बोलती बंद हो जाती है।

साथियों,

पश्चिम एशिया में बनी परिस्थितियों पर मैंने आज लोकसभा में अपना वक्तव्य दिया है। दुनिया में जहां भी युद्ध हो रहे हैं, वो भारत की सीमा से दूर हैं। लेकिन आज की व्यवस्थाओं में कोई भी देश युद्धों से दुष्प्रभाव से दूर रहे, ऐसा संभव नहीं होता। अनेक देशों में तो स्थिति बहुत गंभीर हो चुकी है। और इन हालातों में हम देख रहे हैं कि राजनीतिक स्वार्थ से भरे कुछ लोग, कुछ दल, संकट के इस समय में भी अपने लिए राजनीतिक अवसर खोज रहे हैं। इसलिए मैं टीवी9 के मंच से फिर कहूंगा, यह समय संयम का है, संवेदनशीलता का है। हमने कोरोना महासंकट के दौरान भी देखा है, जब देशवासी एकजुट होकर संकट का सामना करते हैं, तो कितने सार्थक परिणाम आते हैं। इसी भाव के साथ हमें इस युद्ध से बनी परिस्थितियों का सामना करना है।

साथियों,

दुनिया की हर उथल-पुथल के बीच, भारत ने अपनी प्रगति की गति को भी बनाए रखा है। अगर मैं 28 फरवरी को युद्ध शुरू होने के बाद, बीते 23 दिनों का ही ब्यौरा दूं, तो पूरब से पश्चिम तक, उत्तर से दक्षिण तक देश में हजारों करोड़ के डेवलपमेंट प्रोजेक्ट्स का काम हुआ है। दिल्ली मेट्रो रेल के महत्वपूर्ण कॉरिडोर्स का लोकार्पण, सिलचर का हाई स्पीड कॉरिडोर का शिलान्यास, कोटा में नए एयरपोर्ट का शिलान्यास, मदुरै एयरपोर्ट को इंटरनेशनल एयरपोर्ट का दर्जा देना, ऐसे अनेक काम बीते 23 दिनों में ही हुए हैं। बीते एक महीने के दौरान ही औद्योगिक विकास को गति देने के लिए भव्य स्कीम को मंजूरी दी गई है। इसके तहत देशभर में 100 plug-and-play industrial parks विकसित किए जाएंगे। देश में Small Hydro Power Development Scheme को भी हरी झंडी दी गई है। इससे आने वाले वर्षों में 1,500 मेगावाट नई hydro power capacity जोड़ी जाएगी। इसी दौरान जल जीवन मिशन को साल 2028 तक बढ़ाने का निर्णय लिया गया है। किसानों के हित में भी अनेक बड़े निर्णय लिए गए हैं। बीते एक महीने में ही पीएम किसान सम्मान निधि के तहत 18 हजार करोड़ रुपए से अधिक सीधे किसानों के खातों में ट्रांसफर किए गए हैं। और जो हमारे MSMEs हैं, जो हमारे निर्यातक हैं, उनके लिए भी करीब 500 करोड़ रुपए के राहत पैकेज की भी घोषणा की गई है। यह सारे कदम इस बात का प्रमाण हैं कि विकसित भारत बनाने के लिए देश कितनी तेज गति से काम कर रहा है।

साथियों,

Management की दुनिया में एक सिद्धांत कहा जाता है - What gets measured, gets managed. लेकिन मैं इसमें एक बात और जोड़ना चाहता हूं, What gets measured, gets improved और ultimately, gets transformed. क्योंकि आकलन जागरूकता पैदा करता है। आकलन जवाबदेही तय करता है और सबसे महत्वपूर्ण आकलन संभावनाओं को जन्म देता है।

साथियों,

अगर आप 2014 से पहले के 10-11 साल और 2014 के बाद के 10-11 साल का आप आकलन करेंगे, तो यही पाएंगे कि कैसे इसी सिद्धांत पर चलते हुए, भारत ने हर सेक्टर को Transform किया है। जैसे पहले हाईवे बनते थे, करीब 11-12 किलोमीटर प्रति दिन की रफ्तार से, आज भारत करीब 30 किलोमीटर प्रतिदिन की स्पीड से हाईवे बना रहा है। पहले पोर्ट्स पर शिप का Turnaround Time, 5-6 दिन का होता था। आज वही काम, करीब-करीब 2 दिन से भी कम समय में पूरा हो रहा है। पहले Startup Culture के बारे में चर्चा ही नहीं होती थी। 2014 से पहले, हमारे देश में 400-500 स्टार्ट अप्स ही थे। आज भारत में 2 लाख से ज्यादा रजिस्ट्रर्ड स्टार्ट अप्स हैं। पहले मेडिकल education में सीटें भी सीमित थीं, करीब 50-55 हजार MBBS seats थीं, आज यह बढ़कर सवा लाख से ज्यादा हो चुकी हैं। पहले देश के Banking system से भी करोड़ों लोग बाहर थे। देश में सिर्फ 25 करोड़ के आसपास ही बैंक account थे। वहीं जनधन योजना के माध्यम से 55 करोड़ से ज्यादा बैंक अकाउंट खुले हैं। पहले हमारे देश में airports की संख्या भी 70 से कम थी। आज एयरपोर्ट्स की संख्या भी बढ़कर 160 से ज्यादा हो चुकी है।

साथियों,

पहले भी योजनाएं तो बनती थीं, लेकिन आज फर्क है, आज परिणाम दिखते हैं। पहले गति धीमी थी, आज भारत fastrack पर है। पहले संभावनाएं भी अंधकार में थीं, आज संकल्प सिद्धियों में बदल रहे हैं। इसलिए दुनिया को भी यह संदेश मिल रहा है कि यह नया भारत है। यह अपने विकास के लिए कोई कोर-कसर बाकी नहीं छोड़ रहा है।

साथियों,

आज हमारा प्रयास है कि अतीत में विकास का जो असंतुलन पैदा हो गया था, उसको अवसरों में बदला जाए। अब जैसे हमारा पूर्वी भारत है। हमारा पूर्वी भारत संसाधनों से समृद्ध है, दशकों तक वहां जिन्होंने सरकारें चलाई हैं, उनकी उपेक्षा ने पूर्वी भारत के विकास पर ब्रेक लगा दी थी। अब हालात बदल रहे हैं। जिस असम में कभी गोलियों की आवाज सुनाई देती थी, आज वहां सेमीकंडक्टर यूनिट बन रही है। ओडिशा में सेमीकंडक्टर से लेकर पेट्रोकेमिकल्स तक अनेक नए-नए सेक्टर का विकास हो रहा है। जिस बिहार में 6-7 दशक में गंगा जी पर एक बड़ा पुल बन पाया था एक, उस बिहार में पिछले एक दशक में 5 से ज्यादा नए पुल बनाए गए हैं। यूपी में कभी कट्टा मैन्युफैक्चरिंग की कहानियां कही जाती थीं, आज यूपी, मोबाइल फोन मैन्युफैक्चरिंग में दुनिया में अपनी पहचान बना रहा है।

साथियों,

पूर्वी भारत का एक और बड़ा राज्य पश्चिम बंगाल है। पश्चिम बंगाल, एक समय में भारत के कल्चर, एजुकेशन, इंडस्ट्री और ट्रेड का हब होता था। बीते 11 वर्षों में केंद्र सरकार ने पश्चिम बंगाल के विकास के लिए बड़ी मात्रा में निवेश किया है। लेकिन दुर्भाग्य से, आज वहां एक ऐसी निर्मम सरकार है, जो विकास पर ब्रेक लगाकर बैठी है। TV9 बांग्ला के जो दर्शक हैं, वो जानते हैं कि बंगाल में आयुष्मान योजना पर निर्मम सरकार ने ब्रेक लगाया हुआ है। पीएम सूर्यघर मुफ्त बिजली योजना पर ब्रेक लगाया हुआ है। पीएम आवास योजना पर ब्रेक लगाया हुआ है। चाय बागान श्रमिकों के लिए शुरू हुई योजना के लिए ब्रेक लगाया हुआ है। यानी विकास और जनकल्याण से ज्यादा प्राथमिकता निर्मम सरकार अपने राजनीतिक स्वार्थ को दे रही है।

साथियों,

देश में इस तरह की राजनीति की शुरुआत जिस दल ने की है, वो अपने गुनाहों से बच नहीं सकती और वो पार्टी है - कांग्रेस। कांग्रेस पार्टी की राजनीति का एक ही लक्ष्य रहा है, किसी भी तरह विकास का विरोध और कांग्रेस यह तब से कर रही है, जब मैं गुजरात में था। गुजरात में वर्षों तक जनता ने हमें आशीर्वाद दिया, तो कांग्रेस ने उस जनादेश को स्वीकार नहीं किया। उन्होंने गुजरात की छवि पर सवाल उठाए, उसकी प्रगति को कटघरे में खड़ा किया और जब यही विश्वास पूरे देश में दिखाई दिया, तो कांग्रेस का विरोध भी रीजनल से नेशनल हो गया।

साथियों,

जब राजनीति में विरोध, विकास के विरोध में बदल जाए, जब आलोचना देश की उपलब्धियों पर सवाल उठाने लगे, तब यह सिर्फ सरकार का विरोध नहीं रह जाता, यह देश की प्रगति से असहज होने की मानसिकता बन जाती है। आज कांग्रेस इसी मानसिकता की गुलाम बन चुकी है। आज स्थिति यह है कि देश की हर सफलता पर प्रश्न उठाया जाता है, हर उपलब्धि में कमी खोजी जाती है और हर प्रयास के असफल होने की कामना की जाती है। कोविड के समय, देश ने अपनी वैक्सीन बनाई, तो कांग्रेस ने उस पर भी संदेह जताया। Make in India की बात हुई, तो कहा गया कि यह सफल नहीं होगा, बब्बर शेर कहकर इसका मजाक उड़ाया गया। जब देश में डिजिटल इंडिया अभियान शुरू हुआ, तो उसका मजाक उड़ाया गया। लेकिन हर बार यह कांग्रेस का दुर्भाग्य और देश का सौभाग्य रहा कि भारत ने हर चुनौती को सफलता में बदला। आज भारत दुनिया की सबसे बड़ी वैक्सीनेशन ड्राइव का उदाहरण है। भारत डिजिटल पेमेंट्स में दुनिया का अग्रणी देश है। भारत मैन्युफैक्चरिंग और स्टार्टअप्स में नई ऊंचाइयों को छू रहा है।

साथियों,

लोकतंत्र में विरोध जरूरी होता है। लेकिन विरोध और विद्वेष के बीच एक रेखा होती है। सरकार का विरोध करना लोकतांत्रिक अधिकार है। लेकिन देश को बदनाम करना, यह कांग्रेस की नीयत पर सवाल खड़ा करता है। जब विरोध इस स्तर तक पहुंच जाए कि देश की उपलब्धियां भी असहज करने लगें, तो यह राजनीति नहीं, यह दृष्टिकोण की समस्या है। अभी हमने ग्लोबल AI समिट में भी देखा है। जब पूरी दुनिया भारत में जुटी हुई थी, तो कांग्रेस के लोग कपड़े फाड़ने वहां पहुंच गए थे। इन लोगों को देश की इज्जत की कितनी परवाह है, यह इसी से पता चलता है। इसलिए आज आवश्यकता है कि देशहित को, दलहित से ऊपर रखा जाए क्योंकि अंत में राजनीति से ऊपर, राष्ट्र होता है, राष्ट्र का विकास होता है।

साथियों,

आज का यह दिन भी हमें यही प्रेरणा देता है। आज के ही दिन शहीद भगत सिंह, शहीद राजगुरु और शहीद सुखदेव ने देश के लिए सर्वोच्च बलिदान दिया था। आज ही, समाजवादी आंदोलन के प्रखर आदर्श डॉ. राम मनोहर लोहिया जी की जयंती भी है। यह वो प्रेरणाएं हैं, जिन्होंने देश को हमेशा स्व से ऊपर रखा है। देशहित को सबसे ऊपर रखने की यही प्रेरणा, भारत को विकसित भारत बनाएगी। यही प्रेरणा भारत को आत्मनिर्भर बनाएगी। मुझे पूरा विश्वास है कि टीवी9 की यह समिट भी भारत के आत्मविश्वास और दुनिया के भरोसे पर, भारतीयों पर जो भरोसा है, उस भरोसे को और सशक्त करेगी। आप सभी को मेरी तरफ से बहुत-बहुत शुभकामनाएं हैं और आपके बीच आने का अवसर दिया, आप सबसे मिलने का मौका लिया, इसलिए बहुत-बहुत धन्यवाद!

नमस्‍कार!