India is the world's fastest-growing large economy: PM
The fact sheet on India's growth is a success story of the Reform-Perform-Transform mantra: PM
At a time of great global uncertainty, India is moving ahead with remarkable certainty: PM
Along with infrastructure, an industry-ready workforce is today's biggest need: PM
Today's India is moving rapidly towards becoming a developed nation; the Reform Express is playing a crucial role in achieving this objective: PM

আন্তরিক শুভেচ্ছা!

গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী ভূপেন্দ্র ভাই প্যাটেল, উপ মুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংভি, গুজরাট সরকারের অন্য মন্ত্রীগণ, সাংসদ ও বিধায়কবৃন্দ, শিল্পমহলের প্রতিনিধিবৃন্দ, সম্মানীয় ভদ্র মহিলা ও ভদ্র মহোদয়গণ।

২০২৬ শুরুর পর এই প্রথম আমার গুজরাট সফর। এটি অত্যন্ত শুভ, তার কারণ সোমনাথ দাদার পায়ে মাথা ঠেকিয়ে এবছরের আমার যাত্রা শুরু হল। রাজকোটে এই অসাধারণ অনুষ্ঠানে আমি উপস্থিত। উন্নয়ন এবং ঐতিহ্যের মন্ত্র সর্বত্র ধ্বনিত হচ্ছে। ভাইব্র্যান্ট গুজরাট আঞ্চলিক শিখর সম্মেলনে দেশ ও বিশ্বের নানা প্রান্তের প্রতিনিধিবৃন্দকে আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানাচ্ছি।
বন্ধুগণ,

ভাইব্র্যান্ট গুজরাট শিখর সম্মেলনের মঞ্চ যেখানেই গড়ে উঠুক, আমি একে কেবলমাত্র শিখর সম্মেলন হিসেবেই দেখি না। আমি প্রত্যক্ষ করি একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক ভারতকে- যে যাত্রা শুরু হয়েছিল স্বপ্নের মধ্যে দিয়ে, এখন তা অবিচল আস্থায় রূপ নিয়েছে। দু’দশকের মধ্যে ভাইব্র্যান্ট গুজরাটের যাত্রা বৈশ্বিক মানদণ্ড হয়ে উঠেছে। সম্মেলনের ১০টি পর্ব অতিবাহিত। এই পর্বে শিখর সম্মেলনের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হয়ে ধরা দিয়েছে। 

 

বন্ধুগণ,

ভাইব্র্যান্ট গুজরাট শিখর সম্মেলনের দিশার সঙ্গে শুরু থেকেই আমি জড়িত। আগে আমাদের লক্ষ্য ছিল গুজরাটের সামর্থ সম্পর্কে বিশ্বকে অবহিত করা। এখানে বিনিয়োগের জন্য সকলকে আমন্ত্রণ জানানো, যাতে ভারত ও বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা সকলেই উপকৃত হতে পারেন। কিন্তু, আজ এই শিখর সম্মেলন বিনিয়োগের প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে বৈশ্বিক বিকাশ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং অংশীদারিত্বের এক দৃঢ় মঞ্চ হয়ে উঠেছে। বছরের পর বছর ধরে এতে বৈশ্বিক সহযোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ঘটনাচক্রে এই শিখর সম্মেলন অন্তর্ভু্ক্তিকরণের এক মহান দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। এখানে কর্পোরেট গোষ্ঠী, সমবায়, এমএসএমই, স্টার্ট আপ, বহুজাতিক সংস্থা এবং দ্বিপাক্ষিক সংগঠন, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমূহ সকলেই যুক্ত হয়েছেন, পারস্পরিক মত বিনিময় করেছেন এবং গুজরাটের উন্নয়নে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন। 

বন্ধুগণ,

বিগত দু’দশক ধরে গুজরাট শিখর সম্মেলনে নিয়মিতভাবে নতুনত্বের সঞ্চার হয়েছে। এই ভাইব্র্যান্ট গুজরাট শিখর সম্মেলন এক দৃষ্টান্তস্বরূপ। গুজরাটের নানা প্রান্তের অধরা সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো এর লক্ষ্য। গুজরাটের উপকূলবর্তী কিছু এলাকারও বিশেষ সামর্থ রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে সুদীর্ঘ জনজাতি অধ্যুষিত এলাকা, কিছু এলাকায় রয়েছে শিল্প ক্ল্যাস্টারের বিরাট পরিমণ্ডল, আবার কোনো জায়গায় রয়েছে কৃষি ও পশু পালনের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য। বলতে গেলে, গুজরাটের প্রতিটি এলাকার নিজস্ব অনন্য শক্তি রয়েছে। ভাইব্র্যান্ট গুজরাট আঞ্চলিক শিখর সম্মেলন এইসব এলাকাগত সম্ভাবনার ওপর আলোকপাত করে এগিয়ে চলেছে। 

 

বন্ধুগণ,
একবিংশ শতাব্দীর এক চতুর্থাংশ অতিক্রান্ত। ভারতের দ্রুত অগ্রগতি ঘটছে এবং গুজরাট দেশের এই উন্নতিতে যে এক বিরাট ভূমিকা পালন করেছে, তা আপনারা সকলেই জানেন। ভারত অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠতে চলেছে। পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট, ভারতকে ঘিরে বিশ্বের প্রত্যাশা ক্রমবর্ধমান। ভারত বিশ্বের দ্রুততম বিকাশশীল বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে, কৃষি উৎপাদনে ভারত নতুন রেকর্ড স্থাপন করছে। দুগ্ধ উৎপাদনে ভারত ১ নম্বর। জেনেরিক ঔষধ উৎপাদনের ভারতের স্থান প্রথম। টিকা উৎপাদনের ক্ষেত্রেও ভারত বিশ্বের বৃহত্তম উৎপাদনকারী দেশ। 

বন্ধুগণ,

ভারতের বৃদ্ধির তথ্য তালিকা সংস্কার, সম্পাদন এবং রূপান্তরের এক সাফল্যের ইতিবৃত্ত। বিগত ১১ বছরে ভারত বিশ্বের সর্ববৃহৎ মোবাইল ডেটা ব্যবহারকারী দেশ। আমাদের ইউপিআই বিশ্বের ১ নম্বর ডিজিটাল বিনিময় মঞ্চ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। অতীতে ১০টি মোবাইল ফোনের ৯টিই আমাদের আমদানি করতে হতো। আজ ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল উৎপাদনকারী দেশ। ভারতে এখন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্ট আপ পরিমণ্ডল রয়েছে। সৌরশক্তি উৎপাদনেও ভারত বিশ্বের প্রথম ৩টি দেশের একটি। আমরা তৃতীয় বৃহত্তম বিমান চলাচল বাজার, মেট্রো নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের প্রথম ৩টি দেশের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে।

 

বন্ধুগণ,

আজ বিশ্বে প্রত্যেক বিশেষজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠান ভারত সম্পর্কে উৎসাহী। আইএমএফ ভারতকে বৈশ্বিক বৃদ্ধির ইঞ্জিন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এস অ্যান্ড পি ১৮ বছর পর ভারতের রেটিং-এর পুণর্মূল্যায়ন ঘটিয়েছে। ফিচ রেটিং ভারতের আর্থিক বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ম্যাক্রো স্থিতিশীলতার প্রশংসা করেছে। সারা বিশ্ব জুড়ে গভীর অনিশ্চয়তার মাঝেও ভারতের প্রতি বিশ্বক্ষেত্রের বিশ্বাস বৃদ্ধি পাচ্ছে। আজ ভারতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নীতিগত ধারাবাহিকতা রয়েছে। ভারতে ক্রমবর্ধমান নব মধ্যবিত্ত শ্রেণী দেখা দিচ্ছে, যাদের বর্ধিত ক্রয় ক্ষমতা রয়েছে। এগুলি ভারতকে এখন অপরিসীম সম্ভাবনার দেশ হিসেবে গড়ে তুলেছে। দেশ ও বিদেশের প্রত্যেক বিনিয়োগকারীর এইসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর এটাই উপযুক্ত সময়। ভাইব্র্যান্ট গুজরাট আঞ্চলিক শিখর সম্মেলন সকল বিনিয়োগকারী কাছে এই বার্তাই পৌঁছে দিচ্ছে, সৌরাষ্ট্র- কচ্ছে বিনিয়োগ করুন, এটাই উপযুক্ত সময়। 

বন্ধুগণ,

সৌরাষ্ট্র এবং কচ্ছ এলাকা আমাদের শিখিয়েছে যে, চ্যালেঞ্জ যতই বড় হোক না কেন সততা এবং কঠোর পরিশ্রমে সাফল্য সুনিশ্চিত হয়। এই কচ্ছই এই শতাব্দীর শুরুতে ভয়াবহ ভূমিকম্প প্রত্যক্ষ করেছে। এই সৌরাষ্ট্রই বছরের পর বছর ধরে খরার মুখোমুখি হয়েছে। মা ও বোনেদের মাইলের পর মাইল পথ হেঁটে পাণীয় জয় সংগ্রহ করতে হয়েছে। বিদ্যুৎ অনিশ্চিত ছিল। সর্বত্র ছিল সমস্যা পীড়িত। 

 

বন্ধুগণ,

আজকের ২০-২৫ বছর বয়সের তরুণরা সেই পর্বের গল্পই কেবল শুনেছেন। বাস্তব অবস্থা এমনই ছিল যে, কচ্ছ এবং সৌরাষ্ট্রের বসবাসকারী মানুষদের মধ্যে এখানে বসবাসে প্রবল অনীহা তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছিল যে, এই অবস্থার আর কোনে পরিবর্তন নেই বলেই মনে হতো। কিন্তু, ইতিহাসে কেবলই সাক্ষ্য থাকে- কিন্তু সময়ের পরিবর্তন হয়।  কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সৌরাষ্ট্র এবং কচ্ছের মানুষরা নিজেদের ভাগ্যের রূপান্তর ঘটিয়েছেন। 

বন্ধুগণ,

সৌরাষ্ট্র এবং কচ্ছ এলাকা আজ কেবল সম্ভাবনাপূর্ণই নয়, ভারতের বিকাশের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। আত্মনির্ভর ভারত অভিযানের এগুলি মূল কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ভারতকে বিশ্বের নির্মাণ হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সৌরাষ্ট্র এবং কচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই ভূমিকা, বাজার চালিত ভূমিকা। এটাই হল বিনিয়োগকারীদের জন্য সব থেকে বড় নিশ্চয়তা। এই রাজকোটেই ২৫০,০০০-এর বেশি এমএসএমই রয়েছে। নানাবিধ শিল্প ক্ল্যাস্টারে স্ক্র ড্রাইভার থেকে শুরু করে গাড়ির যন্ত্রাংশ, মেশিন পত্র, বিলাস বহুল গাড়ি, এরোপ্লেন, ফাইটার জেট, রকেটের যন্ত্রাংশ সমস্ত কিছু তৈরি হচ্ছে। এই এলাকা স্বল্প মূল্যের নির্মাণ থেকে শুরু করে উচ্চ প্রযুক্তি সম্পন্ন নির্মাণের এলাকা হয়ে উঠেছে। এখানকার অলঙ্কার শিল্প বিশ্বখ্যাত। এই ক্ষেত্র দক্ষতা এবং বৈশ্বিক সংযোগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

 

 

 বন্ধুগণ,

আলাং বিশ্বের বৃহত্ত্ম শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড, যেখানে বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ জাহাজের পুণর্নির্মাণ হচ্ছে। চক্রবৎ অর্থনীতিতে ভারতের নেতৃত্বের এ এক দৃষ্টান্ত। টাইলসের ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম উৎপাদনকারী দেশগুলির একটি। মর্বি জেলার অবদান এক্ষেত্রে বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এখানে সাশ্রয়ী মূল্যে বিশ্ব মানের নির্মাণ কাজ হয়। সৌরাষ্ট্র সংবাদ মাধ্যমের অনেকেরই হয়তো স্মরণে আছে যে, আমি আমার ভাষণে বলেছিলাম, মর্বি, জামনগর এবং রাজকোট ক্ষুদ্র জাপানের ত্রিভুজ সম। সেসময় আমাকে উপহাস করা হয়েছিল। কিন্তু, আজ সেই দিশা আমার চোখের সামনেই বাস্তবায়িত হয়ে উঠছে। ঢোলেরা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে আমরা  গর্বিত। আজ এই শহর আধুনিক নির্মাণের প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠছে।  ভারতের প্রথম সেমিকন্ডাক্টর ফেব্রিকেশন ফেসিলিটি গড়ে উঠছে এই শহরে। ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির অগ্রগণ্য জায়গা হিসেবে এই এলাকা আত্মপ্রকাশ করছে। আপনাদের বিনিয়োগের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এই ক্ষেত্র। পরিকাঠামো তৈরি রয়েছে। রয়েছে স্থিতিস্থাপক নীতি, আর রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী দিশা। 

বন্ধুগণ,

সৌরাষ্ট্র এবং কচ্ছ ভারতের পরিবেশবান্ধব বৃদ্ধির প্রধান হাব হয়ে উঠেছে। পরিবেশবান্ধব সুরক্ষা থেকে শুরু করে যানবাহনের কেন্দ্র হয়ে উঠছে। ৩০ গিগা ওয়াট পুণর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানী পার্ক গড়ে উঠেছে এখানে। যা বিশ্বের বৃহত্ত্ম জ্বালানী পার্ক হিসেবে চিহ্নিত। একবার ভেবে দেখুন এই পার্ক প্যারিস শহরের থেকে ৫ গুণ বড়। এখানে পরিবেশবান্ধব জ্বালানী কেবল এক দায়বদ্ধতা নয়, বাণিজ্যিক বাস্তবতা। গ্রীণ হাইড্রোজেনের সক্ষমতা সম্পর্কে আপনারা সকলেই অবহিত। ভারত অভূতপর্ব গতিতে এই লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। কচ্ছ এবং জামনগর গ্রিণ হাইড্রোজেন উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। বৃহদায়তন ব্যাটারী এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএশস) গড়ে উঠছে কচ্ছে। পুণর্নবীকরণযোগ্য শক্তির পাশাপাশি এতে গ্রিড স্থিতিশীলতা এবং নির্ভরযোগ্যতাকে সুনিশ্চিত করবে। 

 

বন্ধুগণ,

কচ্ছ এবং সৌরাষ্ট্রের আরও এক বিরাট সামর্থের দিকও রয়েছে। এই এলাকায় রয়েছে ভারতের বিশ্বমানের বন্দরগুলি। ভারতের রফতানির এক বিরাট অংশ এখান থেকেই হয়। পিপাভব এবং মুন্দ্রা ভারতের গাড়ি রফতানির বিরাট হাব হয়ে উঠেছে। গতবছর এই গুজরাট বন্দরগুলি থেকে প্রায় ১৭৫,০০০ গাড়ি রফতানি হয়েছে। এটি কেবল লজিস্টিক্সই নয়, বন্দর নির্ভর উন্নয়নের অপরিসীম সম্ভাবনা এখানে নিহীত রয়েছে। এর পাশাপাশি, গুজরাট সরকার মৎস্য ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। মৎস্য পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে বিপুল আয়তন কাজ হয়েছে এখানে। সমুদ্রজাত খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে বিনিয়োগকারীদের জন্য এক শক্তিশালী পরিমণ্ডল এখানে গড়ে উঠেছে।

বন্ধুগণ,

পরিকাঠামোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কর্মশক্তি আজকের সর্বোত্তম চাহিদার অংশ। গুজরাট এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্পূর্ণ নিশ্চয়তা প্রদান করছে। দক্ষতা বিকাশ এবং শিক্ষার আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল রয়েছে এখানে। গুজরাটের স্কিল ইউনিভারসিটি ভবিষ্যৎ বান্ধব তরূণদের তৈরি করছে। অস্ট্রেলিয়া এবং সিঙ্গাপুরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সঙ্গে যৌথ সহযোগিতার ভিত্তিতে এই কাজ করা হচ্ছে। ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভা্রসিটি ভারতের প্রথম জাতীয় স্তরের প্রতিরক্ষা বিশ্বিদ্যালয়। গতি শক্তি ইউনিভারসিটি, সড়ক, রেলপথ, বিমানপথ, জলপথ এবং লজিস্ট্রিক্স প্রতিটি ক্ষেত্রের দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তুলছে। এর অর্থ হল বিনিয়োগের সঙ্গে মেধা ক্ষেত্রও সুনিশ্চিত। আজ অনেক বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ভারতকে নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে এবং গুজরাট তাদের কাছে প্রথম পছন্দের গন্তব্য হয়ে উঠছে। অস্ট্রেলিয়ার দুটি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয় এখানে তাদের ক্যাম্পাস তৈরি করছে। আগামীদিনে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।

 

বন্ধুগণ,
 
গুজরাটে প্রকৃতি, অ্যাডভেঞ্চার, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের মেলবন্ধন রয়েছে। পর্যটন ক্ষেত্রে যা কিছু দরকার তার সবই এখানে উপস্থিত। লোথাল ভারতের ৪,৫০০ বছরের পুরোনো সামুদ্রিক ঐতিহ্যের প্রতীক। বিশ্বের প্রাচীনতম ম্যান- মেড ডক ইয়ার্ডের দেখা মেলে এখানে। ন্যাশনাল মেরিটাইম হেরিটেজ কমপ্লেক্স গড়ে উঠেছে এখানে। কচ্ছ-এ রান উৎসব এই সময় উদযাপিত হচ্ছে। এখানকার তাঁবু শহরে দিনযাপন এক অনন্য অভিজ্ঞতার সাক্ষ্য বহন করে।

বন্যপ্রানী উৎসাহীদের ক্ষেত্রে গির অরণ্যে এশিয়াটিক সিংহ প্রত্যক্ষ করার থেকে ভালো অভিজ্ঞতা আর কি হতে পারে। বার্ষিক ৯০০,০০০-এর বেশি পর্যটক এখানে ভিড় করেন। যাঁরা সমুদ্র ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য রয়েছে শিবরাজপুর সমুগ্রতট, যার ব্লু  ফ্ল্যাগ শংসাপত্র রয়েছে। এছাড়া মাণ্ডবী, সোমনাথ, দ্বারকা সমুদ্রতট পর্যটনের অপরিসীম সম্ভাবনাপূর্ণ এলাকা। সংলগ্ন দিউ, জলক্রীড়া এবং বিচ গেমসের আকর্ষণীয় ক্ষেত্র। এই সমগ্র এলাকা বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রভূত সম্ভাবনাময়। আপনারা এইসব সুযোগকে সর্বতোভাবে কাজে লাগান। সৌরাষ্ট্র- কচ্ছে আপনাদের বিনিয়োগ গুজরাটের উন্নয়নকে তরান্বিত করবে, ভারতের উন্নয়নের প্রসার ঘটাবে। এটিই সৌরাষ্ট্রের উদ্যম।

 

বন্ধুগণ,


সৌরাষ্ট্রের সক্ষমতা যে কি, তা বিদেশেও প্রত্যক্ষ করা যায়। রোয়ান্ডার হাই কমিশনার সম্প্রতি বলেছেন, আমার রোয়ান্ডা সফরে আমি দুশোটি গির গাভী উপহার দিয়েছিলাম। নিয়ম হল প্রথম জন্মানো মেয়ে বাছুরকে  ফিরিয়ে দিতে হবে, যা অন্য একটি পরিবারকে দেওয়া হবে। এই দুশোটি গাভী থেকেই রোয়ান্ডায় হাজারো পরিবারের কাছে এখন গিরের গরু রয়েছে। সেখানে প্রতিটি পরিবারে এখন গিরের গরু দেখা যায়, যা রোয়ান্ডার গ্রামীন অর্থনীতিতে শক্তি যোগাচ্ছে।

 

 বন্ধুগণ,

উন্নত রাষ্ট্র হয়ে ওঠার পথে আজকের ভারত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে এবং এই লক্ষ্য অর্জনে রিফর্ম এক্সপ্রেস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রিফর্ম এক্সসপ্রেসের অর্থ হল প্রতিটি ক্ষেত্রে পরবর্তী প্রজন্মের সংস্কার। সম্প্রতি ভারত পরবর্তী প্রজন্মের জিএসটি সংস্কার সাধন করেছে, যার সদর্থক প্রভাব পড়েছে এমএসএমই সহ প্রতিটি ক্ষেত্রে। রিফর্ম এক্সপ্রেসে ভর করে ভারত বিমা ক্ষেত্রে বৃহৎ সংস্কার ঘটিয়েছে। এতে একশো শতাংশ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পথ খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে নাগরিকদের কাছে সর্বজনীন বিমা সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার কাজ তরান্বিত হবে। অনুরূপভাবে প্রায় ৬ দশক পর আয়কর আইনের আধুনিকীকরণ ঘটানো হয়েছে, যাতে উপকৃত হয়েছেন লক্ষ লক্ষ আয়করদাতা। ভারত ঐতিহাসিক শ্রম সংস্কার ঘটিয়েছে, যাতে মজুরি, সামাজিক সুরক্ষা, শিল্প এবং সংযুক্ত পরিকাঠামোকে যুক্ত করা হয়েছে। শ্রমিক এবং শিল্প উভয়ই এতে উপকৃত হচ্ছে। 

ডেটা নির্ভর উদ্ভাবন, কৃত্রিম মেধা নির্ভর গবেষণা এবং সেমিকন্ডাক্টর নির্মাণে ভারত বিশ্ব হাব হয়ে উঠেছে। ভারতের বিদ্যুৎ শক্তির চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই জ্বালানী নিশ্চয়তা এতে অত্যাবশ্যক হয়ে দেখা দিচ্ছে। এর প্রধান ক্ষেত্র হয়ে উঠছে পরমাণু বিদ্যুৎ। আমরা একথা মাথায় রেখে পরমাণু বিদ্যুৎ শক্তি ক্ষে্ত্রে পরবর্তী প্রজন্মের সংস্কার নিয়ে এসেছি। সংসদে শেষ অধিবেশনে শান্তি আইনের মাধ্যমে অসামরিক বিদ্যুৎ শক্তিকে বে-সরকারি অংশীদারিত্বের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি বিরাট সুযোগ।

বন্ধুগণ,

এখানে উপস্থিত সমস্ত বিনিয়োগকারীকে আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে, আমাদের রিফর্ম এক্সপ্রেস চলা বন্ধ হবে না। আমাদের সংস্কার যাত্রা এখন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে।

আপনারা এখানে কেবলমাত্র সমঝোতা পত্র নিয়েই আসেন নি। সৌরাষ্ট্র – কচ্ছের ঐতিহ্য উন্নয়নের সঙ্গে আপনারা যুক্ত হতে চান । আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিচ্ছি, এখানে আপনাদের প্রতিটি অর্থ বিনিয়োগ ফলদায়ী রিটার্ণ যোগাবে। আরও একবার আপনাদের সকলকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। গুজরাট সরকার এবং তার সহযোগীদের এই প্রয়াসের জন্য আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। ২০২৭ সালে ভাইব্র্যান্ট শিখর সম্মেলনের আগে এই আঞ্চলিক সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতার সাক্ষ্য বহন করবে। আমি আনন্দিত যে, যে কাজ আমি শুরু করেছিলাম আমার সহকর্মীরা নতুন উৎসাহে, নতুন কলেবরে তার প্রসার ঘটিয়েছেন। এতে আমার আনন্দ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আপনাদের সকলকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। ধন্যবাদ !

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
'Eisob cholbe na': PM Modi says TMC has become carbon copy of Left in Murshidabad rally

Media Coverage

'Eisob cholbe na': PM Modi says TMC has become carbon copy of Left in Murshidabad rally
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Prime Minister condoles loss of lives in a mishap in Katihar, Bihar
April 11, 2026
PM announces ex-gratia from PMNRF

Prime Minister Shri Narendra Modi today expressed profound grief over the tragic mishap in Katihar, Bihar, describing the incident as extremely painful.

The Prime Minister extended his heartfelt condolences to the families who have lost their loved ones and prayed for the earliest recovery of those who sustained injuries. Shri Modi further announced an ex-gratia of Rs. 2 lakh from the Prime Minister’s National Relief Fund (PMNRF) for the next of kin of each deceased, noting that Rs. 50,000 would be provided to those injured in the accident.

The Prime Minister wrote on X:

"The mishap in Katihar, Bihar, is extremely painful. Condolences to those who have lost their loved ones. May the injured recover at the earliest.

An ex-gratia of Rs. 2 lakh from PMNRF would be given to the next of kin of each deceased. The injured would be given Rs. 50,000."