PM Modi launches various development projects across railways, agriculture, rural development, fisheries and animal husbandry sectors in Tarakeswar, West Bengal
Today, we are witnessing the dreams of the great souls of Bengal turning into reality on West Bengal Day: PM
May this historic date become the inspiration for the development of West Bengal, let us create a new and glorious history: PM
Today's projects related to rail, road, agriculture and fisheries will give a new momentum to Bengal's development and will strengthen the rural economy here: PM
Bengal endured bloodshed, lost its own people and witnessed the fragmentation of its homeland, yet it did not allow its identity and sense of self to be destroyed: PM
On Paschimbanga Divas, we are not just remembering a date; we are remembering an entire history and paying homage to Bengal's thousands-year-old heritage: PM
The biggest foundation of the resolve for a developed India is the development of Eastern India. For this, we are working on Mission Purvodaya: PM

জয় বাবা তারকনাথ!

হর হর মহাদেব!

মঞ্চে উপবিষ্ট রাজ্যপাল আর. এন. রবিজি, জনপ্রিয় ও উদ্যমী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীজি, অন্যান্য সকল গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বাংলার আমার ভাই ও বোনেরা।

বাবা তারকনাথের এবং বাংলার এই পবিত্র ভূমিতে, পশ্চিমবঙ্গ দিবসে, আপনাদের সকলের এমন বিপুল উপস্থিতিতে, নির্বাচন ও শপথ গ্রহণের পর এই প্রথমবার আপনাদের মাঝে আসার সৌভাগ্য আমার হলো। বাংলার বাতাসে এক নতুন সতেজতা, প্রতিটি কণা থেকে এক নতুন সুবাস ভেসে আসছে। মনে হচ্ছে যেন বাংলা এখন শৃঙ্খলমুক্ত হয়েছে। যেন বাংলার গৌরব পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে। আজকের এই কর্মসূচি, এই প্রকল্পগুলির উদ্বোধন, এই সত্যেরই সাক্ষ্য বহন করে যে আমাদের বাংলা এক নতুন ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে নিয়োজিত। বাংলার মানুষের মুখের সেই দীপ্তি, প্রতিটি গ্রামের আনন্দ ও আত্মবিশ্বাসের অনুভূতি — আমি আপনাদের সেই আনন্দে অংশীদার হতে এসেছি। আপনার একটি ভোট, একটি নির্বাচন, কত বড় পরিবর্তন আনতে পারে, তা বাংলায় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

আপনারা কি এটাকে পরিবর্তন মনে করেন?

এই উপলক্ষে, পশ্চিমবঙ্গ দিবসের জন্য আমি বাংলার জনগণকে এবং সকল দেশবাসীকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

বন্ধুগণ,

আজ আমি 'স্বচ্ছতা সে স্বাগত' উদ্যোগের জন্য আপনাদের সকলকে সাধুবাদ জানাতে চাই। পরিচ্ছন্নতা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া উচিত। যেখানে পরিচ্ছন্নতা আছে, উন্নয়নও ঠিক ততটাই সুন্দর হবে। 'স্বচ্ছতা সে স্বাগত'-এর জন্য আমি আপনাদের অভিনন্দন জানাই।

বন্ধুগণ,

এই বছর পশ্চিমবঙ্গ দিবস আরও বেশি বিশেষ। স্বাধীনতার পর বাংলার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য যে স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, বাংলার মহান আত্মারা যে রূপকল্প দেখেছিলেন, আজ পশ্চিমবঙ্গ দিবসে প্রথমবারের মতো আমরা সেই স্বপ্নগুলিকে সত্যি হতে দেখছি। এই ঐতিহাসিক দিনটি পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠুক। আমরা যেন এক নতুন ও গৌরবময় ইতিহাস রচনা করতে পারি। আজ বিজেপি-এনডিএ সরকারের অধীনে এই উদ্দেশ্যেই এক ব্যাপক উন্নয়ন অভিযান শুরু করা হচ্ছে।

বন্ধুগণ,

প্রথমে বাম এবং তারপর টিএমসি-র দ্বারা কয়েক দশক ধরে বাংলায় সৃষ্ট শূন্যস্থান পূরণের জন্য ডাবল-ইঞ্জিন সরকার অতি দ্রুত গতিতে কাজ শুরু করেছে। বিদ্যুতের গতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে এবং আটকে থাকা প্রকল্পগুলি এগিয়ে চলেছে। এই প্রসঙ্গে, আজ শত শত কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। রেল, সড়ক, কৃষি এবং মৎস্য সম্পর্কিত এই প্রকল্পগুলি বাংলার উন্নয়নে এক নতুন গতি আনবে। এই প্রকল্পগুলি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। আমি এই উন্নয়ন প্রকল্পগুলির জন্য বাংলার জনগণকে অভিনন্দন জানাই। আজ ‘পিএম কিষাণ সম্মান নিধি’র ২৩তম কিস্তিও প্রকাশ করা হয়েছে। সারা দেশের ৯ কোটিরও বেশি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৯,০০০ কোটি টাকা সরাসরি স্থানান্তরিত হয়েছে। আমি সারা দেশের সমস্ত সুবিধাভোগী এবং আমার কৃষক পরিবারগুলিকে আমার শুভেচ্ছা জানাই।

বন্ধুগণ,

দাসত্বের যুগে আমাদের বাংলা কী সহ্য করেছিল? আমরা কত ত্যাগ স্বীকার করেছি? ১৯৪৬ সালে কলকাতার দাঙ্গায়, নোয়াখালীর দাঙ্গায় কত নিরীহ বাঙালি, বাংলার মানুষ, বলি হয়েছিলেন?

ভাই ও বোনেরা,

বাংলা রক্তপাত সহ্য করেছে, প্রিয়জনদের হারিয়েছে, এবং তার মাতৃভূমির বিভাজন প্রত্যক্ষ করেছে, কিন্তু বাংলা তার পরিচয় ও আত্মসম্মানকে ধ্বংস হতে দেয়নি। ফলস্বরূপ, যখন ভারত থেকে বাংলাকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র চলছিল, তখন পৃথক পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গঠন সেই পরিকল্পনাকে সফল হতে দেয়নি। হাজার হাজার বছরের সভ্যতা ও সংস্কৃতি, এই ভূমির আদি বিশ্বাস ও ঐতিহ্য বহু সংগ্রামের পর টিকে ছিল। এবং আজও, এই ভূমির সেই মূল্যবোধ, সেই ঐতিহ্য শুধু সংরক্ষিতই নয়, পশ্চিমবঙ্গ রূপে প্রাণবন্তও। তাই, পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মাধ্যমে আমরা শুধু একটি তারিখকে স্মরণ করছি না; আমরা সমগ্র ইতিহাসকে স্মরণ করছি। আমরা বাংলার সেই হাজার বছরের পুরোনো ঐতিহ্যকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

বন্ধুগণ,

পশ্চিমবঙ্গ দিবসের গুরুত্ব আজকের প্রজন্মকে বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। তরুণ প্রজন্মের জানা দরকার সেই সময়ে কী ঘটছিল। যখন সমগ্র বাংলাকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছিল, তখন কংগ্রেস দল ষড়যন্ত্রকারীদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। ঠিক সেই সময়েই ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। ১৯৪৭ সালের এপ্রিলে তিনি একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব পাশ করেন, যেখানে ঘোষণা করা হয় যে সমগ্র বাংলা পাকিস্তানের অংশ হবে না। এই লক্ষ্যে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বাঙালি হিন্দু স্বদেশভূমি আন্দোলন শুরু হয়। প্রখ্যাত বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা, ঐতিহাসিক আর. সি. মজুমদার, ঐতিহাসিক যদুনাথ সরকার, সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় এবং বাংলার আরও অগণিত আলোকিত ও বিশিষ্ট ব্যক্তি এই আন্দোলনের অংশ হয়েছিলেন। জি. ডি. বিড়লার মতো উদ্যোক্তারা একে আরও এগিয়ে নিয়েছিলেন। মতুয়া নেতা পি. আর. ঠাকুর এই আন্দোলনকে সমর্থন করতে এগিয়ে এসেছিলেন। সংবাদপত্রে প্রবন্ধ লেখা হয়েছিল, নানা কাহিনী বর্ণিত হয়েছিল। বন্দে মাতরমের চেতনা পুনরায় প্রজ্বলিত হয়েছিল। ধর্মীয় উদ্দেশ্যের দ্বারা দমিত বাংলার কণ্ঠস্বর এই গণ-আন্দোলনের দ্বারা পুনরুজ্জীবিত হয়েছিল। ফলস্বরূপ, ভারত-বিরোধী শক্তিগুলি বুঝতে পেরেছিল যে সমগ্র বাংলাকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করা অসম্ভব। এবং এই অংশটি, পশ্চিমবঙ্গ রূপে, মাতৃভূমি ভারতের সঙ্গেই রয়ে গেল।

বন্ধুগণ,

স্বাধীনতার পর, যে চেতনায় পশ্চিমবঙ্গকে রক্ষা করা হয়েছিল, সেই একই চেতনায় একে রক্ষা করা প্রয়োজন ছিল। দুর্ভাগ্যবশত, ঠিক তার বিপরীতটাই ঘটল। পশ্চিমবঙ্গ দিবস এবং তার চেতনাকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের কারণে ইতিহাসকে ধুয়েমুছে সাফ করে দেওয়া হয়েছিল।

ভাই ও বোনেরা,

দেশভাগের সময় যে কংগ্রেস বাংলাকে পরিত্যাগ করতে চেয়েছিল, দেশভাগের পর অবশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গে তারাই তোষণের খেলা শুরু করে। পশ্চিমবঙ্গের এই ইতিহাসকে দমন করা হয়েছিল। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা হওয়ায় তাঁর অবদানকে অস্বীকার করা হয়েছিল। যে চেতনায় তিনি বাংলার জন্য লড়াই করেছিলেন, সেই চেতনাকে নির্মূল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, স্বামী বিবেকানন্দ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো মহান ব্যক্তিদের সঙ্গে যুক্ত ভূমিতে বিদেশী মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রথমে কংগ্রেস, তারপর বামেরা, তারপর টিএমসি, দশকের পর দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গকে সংরক্ষণ ও উন্নত করার পরিবর্তে, একে অবৈধ অভিবাসীদের কেন্দ্রস্থল হতে দিয়েছিল। বাংলা, যা ভারতের উন্নয়নে নেতৃত্ব দিতে পারত, উন্নতির পরিবর্তে পিছিয়ে পড়েছিল।

বন্ধুগণ,

আজ, পশ্চিমবঙ্গ দিবসে, আমাদের এই প্রতিজ্ঞা করা কর্তব্য যে ইতিহাসের সেই ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি হবে না। এখন, পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুপ্রেরণায় এক নতুন ইতিহাস রচিত হবে।

বন্ধুগণ,

কয়েক দশকের অপশাসন পশ্চিমবঙ্গকে বহু মাইল পিছিয়ে দিয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারগুলোর আমলে পরিস্থিতি কেমন ছিল তা আপনারা সবাই দেখেছেন। বড় শিল্পগুলো এখান থেকে পালিয়ে গেছে, ছোট ব্যবসাগুলো ভেঙে পড়েছে, যুবকেরা কর্মহীন হয়েছে এবং সম্পদগুলো অনুপ্রবেশকারীদের দখলে চলে গেছে। একসময় সুযোগের দেশ পশ্চিমবঙ্গ এখন অভিবাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, আপনারা তৃণমূল সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতাচ্যুত করার সংকল্প করেছিলেন। আপনারা বিজেপিকে আশীর্বাদ করে রেকর্ড সংখ্যক আসনে আমাদের বিজয় নিশ্চিত করেছেন, এবং আজ সমগ্র দেশ দেখছে কীভাবে বাংলা অবিলম্বে তার সুফল ভোগ করছে। যে অধিকারগুলো থেকে আপনাকে বছরের পর বছর বঞ্চিত করা হয়েছিল, তা এখন আপনার দোরগোড়ায় এসে পৌঁছাচ্ছে। নির্বাচনের সময় আমি আপনাকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আশ্বাস দিয়েছিলাম। এখন বাংলার প্রত্যেক দরিদ্র মানুষ আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত। মা ও বোনেরা অন্নপূর্ণা প্রকল্পের সরাসরি সুবিধা পেতে শুরু করেছেন। প্রতিটি ঘরে বিশুদ্ধ জল পৌঁছানো নিশ্চিত করতে জল জীবন মিশন বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। নির্বাচনের সময় আমরা বাংলার যুবকদের একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করে চাকরির বয়সসীমা শিথিল করা হয়েছে। মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাস ভ্রমণের প্রতিশ্রুতিও পূরণ করা হয়েছে।

বন্ধুগণ,

বছরের পর বছর ধরে রাজনৈতিক শত্রুতার কারণে যে প্রকল্পগুলো আটকে ছিল, সেগুলো আবার চালু হয়েছে এবং আজ জনকল্যাণ শিবিরের মাধ্যমে প্রতিটি সরকারি প্রকল্পের সুফল সরাসরি আপনাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এখন কোনো মধ্যস্থতাকারী নেই, কোনো বাধা নেই; একমাত্র লক্ষ্য আপনাদের অধিকার, বাংলার উন্নয়ন এবং বাংলা ও দেশের নিরাপত্তা। আপনারা হয়তো লক্ষ্য করেছেন যে, সীমান্ত বেড়ার জন্য জমি হস্তান্তরের যে কাজটি পূর্ববর্তী সরকারগুলো দশকের পর দশক ধরে আটকে রেখেছিল, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার সাথে সাথেই তা সম্পন্ন হতে শুরু করেছে।

ভাই ও বোনেরা,

আমি আনন্দিত যে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পোন্নতির ভিত্তি আবার স্থাপিত হতে শুরু করেছে। এই ভিত্তির দুটি অবিচ্ছেদ্য উপাদান হলো সৎ ও স্বচ্ছ প্রশাসন! এবং দ্বিতীয়ত, আইনের শাসন! শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, আজ সমগ্র দেশ এই পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করছে। যারা আপনাদের লুট করেছে, তারাই এগিয়ে এসে লুট করা টাকা ফেরত দিচ্ছে। বড় বড় ডাকাতদের জেলে পাঠানো হচ্ছে। সিন্ডিকেটগুলো জনগণের কাছে ক্ষমা চাইছে। টোল বুথে যারা চাঁদাবাজি করত, সেই গুন্ডারা পালিয়ে গেছে। বাংলার মানুষ কোনো বাধা ছাড়াই যাতায়াত করছেন। সমস্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং নতুন কাজ শুরু হয়েছে।

বন্ধুগণ,

বাংলায়, যা আগে খারাপ রাস্তাঘাট এবং জরাজীর্ণ পরিকাঠামোর সমস্যায় জর্জরিত ছিল, সেখানে বছরের পর বছর ধরে আটকে থাকা প্রকল্পগুলি এখন দ্রুত এগিয়ে চলেছে। আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন, চিংড়িঘাটা ক্রসিং-এ কলকাতা মেট্রোর অরেঞ্জ লাইনের আটকে থাকা কাজ সম্পন্ন হয়েছে। হাওড়ায় প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি নতুন বিভাগীয় রেলওয়ে হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করা হয়েছে। এটি জরুরি পরিষেবা এবং গুরুতর অসুস্থতার চিকিৎসা প্রদান করবে। পূর্ব মেদিনীপুরের হাওর এবং রাধামোহনপুরের মধ্যে রোড ওভারব্রিজ এবং সাঁকরাইল-সাঁত্রাগাছি লিঙ্ক লাইনের মতো প্রকল্পগুলি এখানকার মানুষের সুবিধা করে দেবে।

বন্ধুগণ,

আজ, পিএম কিষাণ সম্মান নিধির অধীনে সারা দেশে ৯ কোটিরও বেশি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তহবিল স্থানান্তর করা হয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের জন্য আরও একটি সুখবর রয়েছে। আজ থেকে রাজ্যে ‘পিএম শস্য বিমা প্রকল্প’ চালু হচ্ছে। এই ‘পিএম শস্য বিমা প্রকল্প’ দুঃসময়ে কৃষকদের পরিবারকে সহায়তা প্রদান করবে। ফসল নষ্ট হলে কৃষকদের উপর কোনো বোঝা চাপবে না।

বন্ধুগণ,

পশ্চিমবঙ্গও এখন ডিজিটাল কৃষি মিশনে যোগ দিচ্ছে। এগ্রি-স্ট্যাকের মাধ্যমে একটি কৃষক রেজিস্ট্রি তৈরি করা হবে। গ্রামের মানচিত্র এবং বপন করা ফসলের তথ্য ডিজিটালভাবে পাওয়া যাবে। এর ফলে সার সংগ্রহ, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড, ডিবিটি এবং ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে সংগ্রহের মতো পরিষেবাগুলি সহজতর হবে।

বন্ধুগণ,

কৃষিক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা জেলাগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকার ‘পিএম ধন-ধান্য কৃষি যোজনা’ চালু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের চারটি জেলা: পুরুলিয়া, দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার এবং ঝাড়গ্রাম। এই জেলাগুলিতে কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, সংরক্ষণাগার তৈরি এবং কৃষকদের জন্য ঋণ প্রাপ্তি সহজ করার কাজ করা হবে। বাংলার মৎস্যশিল্পে কৃষক, জেলে এবং ব্যবসায়ীরা জড়িত। তাই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্য বন্দরের ধারণক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। বীরভূমে একটি আধুনিক মাছের বাজার তৈরির কাজও করা হয়েছে। এখন বাংলা থামবে না, বাংলা এখন ইতিহাস গড়বে। বাংলা এখানে থামবে না, ইতিহাস গড়বে, আর থামবে না।

বন্ধুগণ,

আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ কৃষক এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন। দেশের বিভিন্ন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল এবং মন্ত্রীরাও অংশগ্রহণ করছেন। এর পাশাপাশি, লক্ষ লক্ষ কৃষক এই দিনটি উদযাপনের অংশীদার হয়েছেন। এই সমস্ত কৃষকরাই পিএম কিষাণ সম্মান নিধির সুবিধাভোগী। আজ আমি আমার সমস্ত কৃষক ভাই ও বোনদের কাছে একটি অনুরোধ করতে চাই। আমার কৃষক ভাই ও বোনেরা, দয়া করে মন দিয়ে শুনুন। আমি আপনাদের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি, কারণ আমাদের সন্তানদের নষ্ট হয়ে যাওয়া কৃষিজমি দেওয়া উচিত নয়; আমাদের সন্তানদের উর্বর কৃষিজমি দিতে হবে। আমাদের ধরিত্রী মাকে বাঁচাতে হবে। বর্তমানে ভারত সরকার ‘ক্ষেত বাঁচাও অভিযান’ চালাচ্ছে, যার অধীনে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো এবং প্রাকৃতিক চাষাবাদ গ্রহণের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যত বেশি সম্ভব ‘ক্ষেত বাঁচাও’ অভিযানে যোগ দিন, আপনার নিজের কৃষিজমি বাঁচানোর প্রতিজ্ঞা করুন। আশেপাশের কৃষকদেরও একই কাজ করতে অনুপ্রাণিত করুন, এবং আসুন আমরা সবাই মিলে আমাদের ধরিত্রী মাকে রক্ষা করি। তিনি আমাদের মা; রাসায়নিক দিয়ে তাঁকে হত্যা করার পাপ আমরা করতে পারি না। আমাদের অবশ্যই ধরিত্রী মাকে বাঁচাতে হবে।

বন্ধুগণ,

ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশ হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। একটি উন্নত ভারত গড়ার এই সংকল্পের সবচেয়ে বড় ভিত্তি হলো পূর্ব ভারতের উন্নয়ন! এই লক্ষ্যে আমরা ‘মিশন পূর্বোদয়’ নিয়ে কাজ করছি। এতে বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলার অগ্রগতি পূর্ব ভারতের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করবে।

ভাই ও বোনেরা,

উন্নয়নের এই অভিযানে আমাদের আরও একটি বিষয় মনে রাখতে হবে। উন্নয়নের প্রথম শর্ত, যা আমরা কখনও ভুলব না, তা হলো শান্তি, সম্প্রীতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা! আমাদের বাংলার সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং সামাজিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। আমাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হবে।

বন্ধুগণ,

আগামীকাল দেশজুড়ে এবং বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হবে। এবার আমি বাংলায় যোগ দিবস উদযাপনের অংশ হব। স্বামী বিবেকানন্দ এবং মহর্ষি অরবিন্দের মতো যোগীদের এই ভূমি থেকে যে বার্তা ছড়িয়ে পড়বে তা সমগ্র বিশ্বকে পথ দেখাবে। আমি চাই এই বছর বাংলায় এবং দেশের প্রতিটি কোণে যোগ দিবসের উদযাপন হোক। আপনারা সকলে যোগাভ্যাস করুন এবং যোগ দিবসের অংশ হোন। এই অনুরোধের সাথে, আমি উন্নয়ন প্রকল্পগুলির জন্য আপনাদের সকলকে আবারও অভিনন্দন জানাই। আজ, আমরা যখন উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন করছি, আমি আপনাদের সকলকে অনুরোধ করছি আপনাদের মোবাইল ফোন বের করুন, ফ্ল্যাশলাইট জ্বালান এবং আসুন আমরা সকলে একসাথে এই বাংলা দিবসটি উদযাপন করি। প্রত্যেকের মোবাইল ফোনের আলো জ্বালান এবং আমার সাথে উচ্চারণ করুন: ভারত মাতা কি জয়। ভারত মাতা কি জয়। ভারত মাতা কি জয়।

বন্দে মাতরম। বন্দে মাতরম। বন্দে মাতরম।

বন্দে মাতরম। বন্দে মাতরম। বন্দে মাতরম।

বন্দে মাতরম।

অনেক ধন্যবাদ।

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
'PM Modi Is One Of Our Greatest Friends': Netanyahu Says Israel Is 'Investing Heavily' In India Ties

Media Coverage

'PM Modi Is One Of Our Greatest Friends': Netanyahu Says Israel Is 'Investing Heavily' In India Ties
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
সোশ্যাল মিডিয়া কর্নার 04 অগাস্ট 2026
August 04, 2026

From Auto PLI to Ramsar Sites: How India is Winning on Every Front Under PM Modi