For changes to be sweeping and outcomes to be enduring, it is imperative that society and the government work in tandem: PM
Today, initiatives in the education sector are being driven by ground realities and the National Education Policy is a prime example of this: PM
Startups are growing rapidly in small towns, with women’s participation increasing and sectors once considered risky now attracting more youth: PM
If the Covid-19 pandemic was the greatest crisis of this century, then the situation arising from the war in West Asia is one of the major crises of this decade: PM
Just as we collectively tackled the pandemic, we will undoubtedly overcome the West Asia crisis too: PM
The government is making relentless efforts to ensure that impact of West Asia war crisis on our citizens is kept to an absolute minimum: PM
Earlier, whenever the nation faced a major crisis, every citizen stepped forward to fulfill their responsibilities at the government’s call: PM
Today, there is once again a need for all of us to collectively discharge our duties and ease the burden on the nation's resources: PM
We must reduce the use of imported products and avoid activities that lead to foreign exchange spending: PM
It is the need of the hour that we transform 'Vocal for Local' into a mass movement: PM
We must adopt local products and empower the entrepreneurs of our villages, our cities and our nation: PM

ভারত মাতার জয়।

ভারত মাতার জয়।

গুজরাটের জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী ভূপেন্দ্র ভাই প্যাটেল, উপ-মুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংভি জি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মনসুখ ভাই মান্ডভিয়া, সর্দার ধামের সভাপতি গগজি ভাই সুতারিয়া জি, দুষ্মন্ত ভাই প্যাটেল, পঙ্কজ ভাই প্যাটেল, রাজ্য বিজেপির সভাপতি জগদীশ বিশ্বকর্মা জি, মঞ্চে উপস্থিত গুজরাট সরকারের  মন্ত্রীরা, সকল দাতা, ট্রাস্টি, বিশিষ্ট অতিথি এবং আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা।

আজকের দিনটি কোনও পবিত্র উৎসবের চেয়ে কম নয়। এখানে আসার আগে, আমি সোমনাথ মন্দিরে ছিলাম। সর্দার প্যাটেলের দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমেই সোমনাথ মন্দিরের পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছিল। এই বিশেষ উপলক্ষ্যে, প্রভাস পাটনে ‘সোমনাথ অমৃত মহোৎসব’ উদযাপিত হচ্ছে। আর ঠিক একই দিনে, ভাদোদরায় ‘সর্দার ধাম’-এর সঙ্গে যুক্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান হচ্ছে।


বন্ধুগণ,

আজ আপনাদের মাঝে উপস্থিত হওয়াটা আমার জন্য আরও একটি আনন্দের উপলক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলা, আসাম এবং পুদুচেরির নির্বাচনের ফলাফল দেশজুড়ে এক উৎসাহ-উদ্দীপনার আবহ তৈরি করেছে। এর পাশাপাশি, আপনারা সবাই মিলে এক ইতিহাস তৈরি করেছেন। গুজরাটের পৌরসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফলও  অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য, এবং তা নিয়ে এখন দেশজুড়ে আলোচনা চলছে।

বন্ধুগণ,

গুজরাটের মানুষ সর্বদা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে মূল্য দিয়ে এসেছেন। এটি তাঁদের রাজনৈতিক দূরদৃষ্টিরই প্রতিফলন।  যেখানেই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে, সেখানেই অর্থনৈতিক বিকাশের গতি ত্বরান্বিত হয়। গুজরাট বহু আগেই এই সত্যটি উপলব্ধি করেছিল।

বন্ধুগণ,

আপনাদের মাঝে আসা এবং আপনাদের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা আমার কাছে সবসময়ই এক আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা; মনে হয় যেন ঘরে ফিরে এসেছি। কারণ, আপনাদের মাঝে সমাজের শক্তি অনুভব করা যায়। আমরা সবাই জানি যে, যখনই প্রকৃত পরিবর্তন ঘটে, তখন তা সমাজের সম্মিলিত শক্তির মাধ্যমেই হয়। 

সেই কারণেই, ভাই ও বোনেরা,

সর্দার ধামের প্রতিটি উদ্যোগে, যখনই আমি সুযোগ পাই, আমি সর্বদা আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করি। গগজি ভাই যেমনটি এইমাত্র বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করলেন, ২০২১ সালে আমি আহমেদাবাদে সর্দার ধামের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলাম, সেখানে একটি বালিকা ছাত্রাবাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। গত বছর সেটির উদ্বোধন করা হয়। আজ সেখানে হাজার হাজার কন্যাসন্তান শিক্ষালাভ করছে এবং তাদের স্বপ্নগুলিকে এক নতুন দিশা প্রদান করছে। সুরাট, রাজকোট, ভুজ, মেহসানা এবং দিল্লিতে সর্দার ধামের এমন অনেক প্রতিষ্ঠান তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছে। এমনকি আজকেও আহমেদাবাদের নিকোল-এ এক হাজার বালিকার জন্য একটি নতুন ছাত্রাবাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হল।

বন্ধুগণ,

পরিবর্তনকে ব্যাপক ও তার ফলকে দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে, সমাজ ও সরকারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সেই কারণেই এখন শিক্ষাক্ষেত্রে বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে কাজ করা হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষানীতি এর একটি বড় উদাহরণ। আজ তরুণদের পথের বাধা দূর করা হচ্ছে। ভাষাভিত্তিক বৈষম্যের অবসান ঘটছে। এখন আর শুধুমাত্র বই আর ডিগ্রির ওপর মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে না। দক্ষতা উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনকে শিক্ষার অংশ করা হয়েছে। গবেষণায় আগ্রহী তরুণদের সঠিক পরিবেশ দেওয়া হচ্ছে। ডিগ্রি শেষ করার পর অভিজ্ঞতাহীন তরুণরা যাতে দিকভ্রষ্ট না হযন, তা সুনিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। একবার ভাবুন তো, ভবিষ্যতে দেশে কত বড় একটি দক্ষ কর্মশক্তি তৈরি হবে। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা পাবে ভারতের উৎপাদন ক্ষেত্র। 


বন্ধুগণ,

গুজরাটের যুবসমাজের মধ্যে সহজাতভাবেই উদ্যোক্তাসুলভ শক্তি রয়েছে। বর্তমানে ‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া’ মিশন তাঁদের স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করছে। ছোট ছোট শহরের যুবকরাও এখন উদ্যোক্তা হয়ে উঠছেন। ছোট ছোট শহরেই বড় বড় স্টার্টআপ গড়ে উঠছে। স্টার্টআপের ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ ক্রমাগত বাড়ছে।  যে সব ক্ষেত্রকে একসময় ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হত, সেগুলোই এখন যুবসমাজের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠছে। গত ১০-১২ বছরে খেলাধুলা থেকে শুরু করে মহাকাশ প্রযুক্তি, বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের যে সাফল্য অর্জিত হয়েছে, তা এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ। আর গুজরাটের আমাদের সন্তানেরা, এখানকার তরুণ-তরুণীরা, এর মাধ্যমে ব্যাপকভাবে উপকৃত হচ্ছেন।

বন্ধুগণ,

সমাজের অগ্রগতির মূল ভিত্তি হলো নারীদের অংশগ্রহণ।  গুজরাট দুই দশক আগেই এই সত্যটি অনুধাবন করেছিল এবং এই লক্ষ্যে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল।

বন্ধুগণ,

আজ সেই গুজরাট মডেলের সাফল্যই সারা দেশে প্রতিফলিত হচ্ছে। কোটি কোটি নারীকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট প্রদান করা হয়েছে। তাঁদের জন্য শৌচালয়, নলবাহিত জল সংযোগ এবং গ্যাস সংযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুদ্রা যোজনার মাধ্যমে নারীরা আজ স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। আয়ুষ্মান ভারত এবং মাতৃ বন্দনা-র মতো প্রকল্পগুলি নারীদের সুস্বাস্থ্য সুনিশ্চিত করতে এক রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে।


বন্ধুগণ,

অতীতে অনেক ক্ষেত্রেই নারীদের জন্য দরজা বন্ধ ছিল। আজ সেই ক্ষেত্রগুলিতেই নারীরা নেত্রী হিসেবে উঠে আসছেন। বর্তমানে ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমিতে নারী ক্যাডেটরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন। আমাদের কন্যারা এখন যুদ্ধবিমান চালক হয়ে উঠছেন। রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যেও নিরন্তর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ‘নারী শক্তি বন্দন সংশোধনী’-র মাধ্যমে আমরা এই দিশায় আরও একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলাম। রাজনৈতিক কারণে সেটি পাস হতে পারেনি; তবে আমি আপনাদের এবং সারা দেশের নারীদের এই আশ্বাস দিচ্ছি যে, আমরা এই লক্ষ্যে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রাখব।

বন্ধুগণ,

প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের জন্য সুযোগের দ্বার উন্মুক্ত করা কেবল সরকারেরই দায়িত্ব নয়,  সমাজেরও দায়িত্ব রয়েছে। আমি আনন্দিত যে, সর্দার ধাম পূর্ণ নিষ্ঠার সাথে এই দায়িত্ব পালন করছে। এই প্রচেষ্টার জন্য আমি আপনাদের সকলকে বিশেষ অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই।

বন্ধুগণ,

গুজরাটের অন্যতম প্রধান শক্তি সর্বদা এটিই ছিল যে, এখানকার সমাজ সময়ের গতিপথকে দ্রুত অনুধাবন করতে পারে। পরিবর্তনকে সুযোগে রূপান্তরিত করা, নতুন সম্ভাবনাগুলিকে সাদরে গ্রহণ করা এবং ভবিষ্যতের জন্য আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া – এগুলি সর্বদা গুজরাটের কর্মসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থেকেছে। আজ যখন গোটা বিশ্ব ভবিষ্যতের প্রযুক্তির দিকে ছুটছে,  তখন গুজরাটও এক নতুন উদ্দীপনা নিয়ে এগিয়ে চলেছে। সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, মহাকাশ প্রযুক্তি, উন্নত প্রকৌশল, পরিবেশ-বান্ধব শক্তি এবং আর্থিক পরিষেবার মতো ক্ষেত্রগুলিতে গুজরাট নিজের এক নতুন পরিচিতি গড়ে তুলছে। সানন্দে এখন ‘মেড-ইন-ইন্ডিয়া’ সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদিত হচ্ছে। ‘কেইনস’  সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্টেও উৎপাদনের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। ধোলেরা এবং সুরাটেও নতুন নতুন সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্পগুলি দ্রুত এগিয়ে চলেছে।

বন্ধুগণ,

ভারত এবং গুজরাটকে আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে্য অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছি। আগামী বছরগুলিতে এই ক্ষেত্রে ভাদোদারাও এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এখানে নির্মিত মেট্রো কোচগুলি বর্তমানে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। সাভলিতে তৈরি হচ্ছে আধুনিক রেল ব্যবস্থা ও কোচ। প্রকৌশল, ভারী যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক ও ঔষধশিল্প, বিদ্যুৎ সরঞ্জাম এবং এমএসএমই – এইসব ক্ষেত্রে ভাদোদারা এখন একটি শক্তিশালী উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এখানকার ‘গতি শক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ পরিবহন ও লজিস্টিকস ক্ষেত্রের জন্য দক্ষ পেশাদার তৈরি করছে। বর্তমানে মহাকাশ বা অ্যারোস্পেস ক্ষেত্রেও ভাদোদারা এক নতুন পরিচিতির দিকে এগিয়ে চলেছে। এখানে বিমান তৈরির প্রকল্পটি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

বন্ধুগণ,

গুজরাট এবং সারা দেশে চলমান এই সমস্ত উন্নয়ন প্রয়াসের মধ্যেই, আরেকটি বিষয় ক্রমশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। গত কয়েক বছর ধরে বিশ্ব এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রথমে এল করোনা সঙ্কট, তারপর বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জসমূহ এবং এখন পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা। এই পরিস্থিতিগুলি প্রতিনিয়ত গোটা বিশ্বকে প্রভাবিত করছে এবং ভারতও এর প্রভাবমুক্ত নয়। করোনা অতিমারী যদি এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় সঙ্কট হয়ে থাকে, তবে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি হল, এই দশকের অন্যতম বড় সঙ্কট। ঠিক যেভাবে আমরা সবাই মিলে সেই অতিমারী জয় করেছিলাম, ঠিক সেভাবেই আমরা এই সঙ্কটকেও জয় করব।

সরকার নিরন্তর এই বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে এই প্রতিকূল পরিস্থিতি সাধারণ নাগরিকদের ওপর ন্যূনতম প্রভাব ফেলে।  এমন এক সময়ে ভারতের নাগরিক হিসেবে, আমাদের অবশ্যই নিজেদের কর্তব্যের প্রতি অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিগত দশকগুলিতেও, যখনই দেশ যুদ্ধ কিংবা বড় কোনও সঙ্কটের মুখোমুখি হয়েছে, নাগরিকরা সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন। আজও, দেশের সম্পদের ওপর থেকে বোঝা লাঘব করতে আমাদের সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। বহু পণ্য আমদানির পিছনে ভারত বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে থাকে, যার পরিমাণ লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা। একই সময়ে, আমদানিকৃত পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এমতাবস্থায়, দেশ এক দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

ঠিক যেমন ফোঁটা ফোঁটা করে একটি পাত্র পূর্ণ হয়, তেমনি আমাদেরও প্রতিটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমদানি করা পণ্যের ব্যবহার কমাতে হবে এবং এমন সব ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড পরিহার করতে হবে, যা অনাবশ্যক বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বন্ধুগণ,

ভারতের আমদানির একটি বড় অংশ হলো অপরিশোধিত তেল। দুর্ভাগ্যবশত, বিশ্বের তেলের একটি বড় অংশের জোগান দেয় যে অঞ্চলটি, সেটি এখন সংঘাত ও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। তাই, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কিছু ছোটখাটো সংকল্প গ্রহণ করতে হবে। গতকাল কর্ণাটক ও তেলেঙ্গনায় আমি এ বিষয়ে কথা বলেছিলাম; আর আজ গুজরাটে আমি আবারও সেই একই কথার ওপর জোর দিচ্ছি। আর যেহেতু আপনাদের ওপর আমার অধিকার কিছুটা বেশি, তাই অত্যন্ত স্নেহের সঙ্গে আমি আপনাদের এই কথাটি বলব: যেখানে সম্ভব, পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে দিন। মেট্রো পরিষেবা, বৈদ্যুতিক বাস এবং গণ পরিবহনের ব্যবহার বাড়ান। যাঁদের নিজস্ব গাড়ি রয়েছে, তাঁরা যেন গাড়িতে করে যাতায়াতের সময় আরও বেশি সংখ্যক সহযাত্রীকে সঙ্গে নেন। আর যাঁদের কাছে বৈদ্যুতিক যান রয়েছে, তাঁরাও যেন অন্যদের সহায়তা করার জন্য এগিয়ে আসেন।

বন্ধুগণ,

ডিজিটাল প্রযুক্তি অনেক কিছুই সহজ করে দিয়েছে। প্রযুক্তি আমাদের প্রভূত উপকার করতে পারে। সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ধরনের দপ্তরেরই ভার্চুয়াল বৈঠক এবং ‘বাড়ি থেকে কাজ’-এর ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আমি কিছু স্কুলকেও অনুরোধ জানাব, তারা যেন সাময়িককালের জন্য অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করার বিষয়ে উদ্যোগী হয়।

বন্ধুগণ,

কেবল জ্বালানিই নয়, ভোজ্য তেল আমদানিতেও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। আমরা যদি কিছুটা সংযম অবলম্বন করি এবং রান্নার তেলের ব্যবহার কমিয়ে দিই, তবে দেশ এবং আমাদের স্বাস্থ্য, উভয়ই উপকৃত হবে। 

একইভাবে, আপনাদের পরিবারেরই একজন সদস্য হিসেবে আমি সকল ভাই-বোনের কাছে এই আবেদন জানাচ্ছি: সোনা আমদানির ফলেও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যায়। আমি সমস্ত দেশবাসীর কাছে আহ্বান জানাচ্ছি যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমরা যেন সোনা কেনা থেকে বিরত থাকি। এই মুহূর্তে সোনার কোনও প্রয়োজন নেই।

বন্ধুগণ,

আজ সময়ের দাবি হল, 'ভোকাল ফর লোকাল'কে একটি গণ আন্দোলনে পরিণত করা। বিদেশি পণ্যের পরিবর্তে স্থানীয় পণ্য ব্যবহার করুন। আপনাদের গ্রাম, শহর এবং দেশের উদ্যোক্তাদের শক্তিশালী করে তুলুন। এখানে উপস্থিত অনেকেই অত্যন্ত চমৎকার ও বিশ্বমানের পণ্য উৎপাদন করেন।

বন্ধুগণ,

কৃষিক্ষেত্রে আমাদের দেশীয় সার এবং প্রাকৃতিক চাষপদ্ধতির প্রসার ঘটানো উচিত। ডিজেল পাম্পের পরিবর্তে সৌর পাম্পের ব্যবহার চালু করা প্রয়োজন। আমরা কৃষকেরই সন্তান; তাই সবার আগে আমাদের নিজেদের ফসলের ক্ষেত এবং ধরিত্রী মাতাকে রক্ষা করতে হবে। রাসায়নিক সারের ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের মাটির উর্বরতা কোনওভাবেই নষ্ট করা উচিত নয়। তাই আমি আপনাদের সবার কাছে আহ্বান জানাচ্ছি যে, আপনারা আপনাদের গ্রামের প্রতিটি কৃষককে রাসায়নিক সারের নির্ভরতা থেকে মুক্ত হয়ে প্রাকৃতিক চাষপদ্ধতি গ্রহণ করার জন্য সঠিক পথ দেখান। 


বন্ধুগণ,

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে, যা আপনাদের অনেকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। দয়া করে কেউ কিছু মনে করবেন না। আজকাল একটি নতুন চল শুরু হয়েছে যে, ছুটি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ছেলেমেয়েদের হাতে বিদেশে যাওয়ার টিকিট তুলে দেওয়া হয়। মানুষ তাদের ছুটির দিনগুলি বিদেশে কাটায়। গ্রীষ্মকালীন ছুটি আসন্ন। ইদানীং বিদেশে ভ্রমণ এবং বিদেশে গিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান করার প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। আগে মানুষ আমাকে বিয়ের নিমন্ত্রণ পাঠাতেন; কিন্তু এখন আর তা করেন না, কারণ বিয়ের অনুষ্ঠানগুলি এখন বিদেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু এর ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাও ব্যয় হচ্ছে।

বন্ধুগণ,

একটু ভেবে দেখুন, ভারতে কি এমন কোনও সুন্দর জায়গা নেই, যেখানে আমরা আমাদের ছুটির দিনগুলি কাটাতে পারি? আসুন, আমরা আমাদের সন্তানদের নিজেদের ইতিহাস সম্পর্কে শিক্ষা দিই এবং আমাদের নিজস্ব স্থানগুলিকে নিয়ে গর্ববোধ করি। এটি অত্যন্ত জরুরি যে, আমরা যেন ভারতের সীমানার মধ্যেই আমাদের ছুটি কাটাই। আর বিয়ের অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও আমি মনে করি না যে, ভারতের চেয়ে বেশি পবিত্র কোনও জায়গা থাকতে পারে। যখন এখানে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়, তখন আমাদের পূর্বপুরুষদের পুণ্য মাটিও যেন আমাদের আশীর্বাদ করে।

বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্যও ভারতে অসংখ্য চমৎকার স্থান রয়েছে এবং আমাদের উচিত সেগুলির মধ্যে থেকেই বেছে নেওয়া। কেবল গুজরাটের বুকেই রয়েছে অসংখ্য সুন্দর জায়গা। আমি বিশেষ করে আমার পাটিদার ভাইদের বলছি, আপনারা এখন থেকে ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’-তে বিয়ের আয়োজন করুন; সেখানে স্বয়ং সর্দার সাহেব প্রতিটি বিবাহিত দম্পতিকে আশীর্বাদ করবেন। ঠিক যেভাবে হরিদ্বার ও ঋষিকেশে শান্তি ও আধ্যাত্মিকতার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, একইভাবে ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’-তেও বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য অনুরূপ সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলা উচিত।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’ এবং ‘একতা নগর’ পর্যটনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। আমরা কি এমন একটি সংকল্প গ্রহণ করতে পারি যে, আমরা যথাসম্ভব অধিক সংখ্যক মানুষকে ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’ পরিদর্শনে উৎসাহিত করব? বহু ভারতীয় এখন বিদেশে বসবাস করেন; আমি তাঁদের বলি যে, বিদেশি পরিবারগুলিকে ভারত দর্শনে নিয়ে আসা তাঁদেরই দায়িত্ব। আপনার পরিচিত এমন প্রতিটি পরিবারকে, তা তাঁরা ভারতেই থাকুন কিংবা বিদেশে, যাঁরা এখনো ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’ পরিদর্শন করেননি, অন্তত একবার সেখানে ভ্রমণে যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করুন। বিবাহ অনুষ্ঠানের জন্যও ‘একতা নগর’ একটি চমৎকার গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে। ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’তে থাকা সমস্ত সুযোগ-সুবিধা অত্যন্ত উন্নতমানের; আর আমরা সবাই এ নিয়ে গর্ববোধ করি যে, বিশ্বের সর্বোচ্চ এই মূর্তিটি সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের। এই দেশের কোনও নাগরিকই এ বিষয়ে গর্ব অনুভব না করে থাকতে পারেন না।

বন্ধুগণ,

আমি যে সব প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেছি, সেগুলি সবই ছোট ছোট প্রচেষ্টা।  মনে রাখবেন, ১৪০ কোটি ভারতীয় যখন এক সংকল্প নিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে চলেন, তখন এই ছোট ছোট প্রয়াসগুলিই জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত হয়। যখন ১৪০ কোটি মানুষ এক পা এগিয়ে যান, তখন দেশ ১৪০ কোটি পা এগিয়ে যায়।

তাই, আবারও বলছি, আমাদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, যাতে কোনো সঙ্কটই আমাদের অগ্রগতি ও উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে না পারে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আমরা সবাই মিলে এই সংকল্পগুলি পূরণ করব এবং দেশকে আরও শক্তিশালী করে তুলব।

আর গগজি ভাইকে আমি আরও একটি কথা বলতে চাই। আপনি আমাকে ‘সর্দার গৌরব রত্ন’ সম্মানে ভূষিত করেছেন। কোনও পুরস্কারের সঙ্গে যখন ‘সর্দার সাহেব’-এর নাম যুক্ত থাকে, তখন তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দায়িত্ববোধও বহুগুণ বেড়ে যায়। এক অর্থে, গগজি ভাই অত্যন্ত কৌশলে আমাকে এক দায়বদ্ধতার বাঁধনে বেঁধে ফেলেছেন এবং পরোক্ষভাবে বলে দিয়েছেন, আমি যেন কখনই পিছিয়ে না আসি। হয়তো আমার ভাগ্যলিপিতে এমনই লেখা ছিল যে, সর্দার সাহেবের দেখা সমস্ত স্বপ্ন এবং তাঁর অসমাপ্ত কাজগুলি আমাকেই সম্পন্ন করতে হবে।

আজ এই সম্মাননা ও পুরস্কার গ্রহণ করার পর আমি আপনাদের এই আশ্বাস দিচ্ছি যে, আপনাদের আশীর্বাদ এবং গুজরাটের এই পুণ্যভূমি থেকে আমি যে শক্তি ও মূল্যবোধ লাভ করেছি, তা নিশ্চিত করবে যে, সর্দার সাহেবের স্বপ্ন বাস্তবায়নের কাজ থেকে আমি কখনই এক পা-ও পিছিয়ে আসব না। 

এই সম্মান আমার কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমি একবার জেনারেল কারিয়াপ্পাকে নিয়ে একটি গল্প পড়েছিলাম। তাঁর নিজের গ্রামে তাঁকে সম্মানিত করার উদ্দেশ্যে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল এবং তিনি তাতে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলেন। মানুষ যখন তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করল, তখন তিনি বলেছিলেন যে, সারা বিশ্বেই সামরিক প্রথা মেনে তিনি কুর্নিশ ও সম্মান লাভ করেছেন; কিন্তু নিজের ঘরে, নিজের আপনজনদের কাছ থেকে সম্মান পাওয়ার আনন্দ একেবারে আলাদা।  

আজ ভারতের প্রধানমন্ত্রী সারা বিশ্বে সমাদৃত, কারণ ভারত ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে। কিন্তু যখন কেউ নিজের মানুষের কাছ থেকে, নিজের পরিবারের কাছ থেকে আশীর্বাদ লাভ করেন, তখন তা কাজ করার শক্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

এই ‘সর্দার রত্ন’ পুরস্কারের মাধ্যমে আপনারা আমাকে যে আশীর্বাদ প্রদান করেছেন, তার জন্য আমি আপনাদের সকলের কাছে গভীর কৃতজ্ঞ; এবং আমি অত্যন্ত বিনম্রচিত্তে এই ঋণের দায় গ্রহণ করছি।


আরও একবার, ঈশ্বর আপনাকে সেই স্বপ্ন ও সংকল্পগুলি পূরণ করার শক্তি দিন, যা নিয়ে আপনি এগিয়ে চলেছেন। সর্দার সাহেবের আশীর্বাদ সর্বদা আপনার ওপর বর্ষিত হোক এবং পঙ্কজ ভাইয়ের মতো সঙ্গীদের আপনি সবসময় পাশে পেতে থাকুন।


 

আপনাদের সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

সর্দার কি জয়! সর্দার কি জয়! ধন্যবাদ। ধন্যবাদ।


প্রধানমন্ত্রী মূল ভাষণটি দিয়েছেন হিন্দিতে।

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
In a first, NCERT adds Emergency to Class 9 textbooks; chapter details rights suspension and press censorship

Media Coverage

In a first, NCERT adds Emergency to Class 9 textbooks; chapter details rights suspension and press censorship
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Governor of Gujarat meets the Prime Minister
June 25, 2026

Governor of Gujarat, Shri Acharya Devvrat met with the Prime Minister Shri Narendra Modi, today.

The Prime Minister posted on X;

Governor of Gujarat, Shri @ADevvrat met Prime Minister @narendramodi today.