Transformative projects in road, power and industrial sectors launched today in Surat will drive growth and improve ‘Ease of Living’ for the people: PM
Today, India is advancing its development guided by the principle of 'progress in harmony with nature': PM
'Waste to wealth' public movement active in the country for the past 12 years is significantly contributing to city sanitation and helping keep our urban areas green and clean: PM
Amid unprecedented global challenges, the country continues to move ahead through the collective efforts of 140 crore Indians: PM

ভারতমাতার জয়। ভারতমাতার জয়। ভারতমাতার জয়।

গুজরাটের জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী ভূপেন্দ্র ভাই প্যাটেল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আমার সহকর্মী সি. আর. পাটিল, উপ-মুখ্যমন্ত্রী ভাই হর্ষ সাংভি, গুজরাট বিজেপির সভাপতি জগদীশ বিশ্বকর্মা জি, উপস্থিত অন্যান্য মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি এবং আমার সুরাটের প্রিয় ভাই ও বোনেরা।

কেম ছো? আপনারা সবাই কেমন আছেন? সুরাট বেশ আনন্দে আছে, তাই না? ভাই, আপনি কী নিয়ে এসেছেন? ধন্যবাদ বন্ধু, আপনি খুব সুন্দর একটি ছবি এঁকেছেন। এসপিজি-র লোকজন, এই যে ভাইটি ছবিটি উপহার দিতে চাইছেন, আপনারা নিন,  আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ভাই, দয়া করে এটি আমার টিমের কাছে দিন।

বন্ধুগণ,

আমার বক্তব্য শুরু করার আগে বলি, মাত্র কয়েক দিন আগেই আমার ঘনিষ্ঠ এক সহচর, যাঁর সঙ্গে আমি বহু বছর কাজ করেছি এবং যিনি জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সক্রিয় ছিলেন, সেই কানুবাই মাভানি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছি। একজন সঙ্গীকে হারানোর বেদনা স্বাভাবিক, কিন্তু আজ সুরাটের মাটিতে দাঁড়িয়ে তাঁর পবিত্র স্মৃতির কথা স্মরণ করেই আমি আমার বক্তব্য এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

বন্ধুগণ,

অনেক সময় আমার মনে হয় সুরাট কেবল একটি শহর নয়, সুরাট হলো এক প্রাণশক্তি। আর যখন এই প্রাণশক্তি কাজ করে, তখন পরিবেশ দিবসে প্রতিটি পরিবার একত্রিত হয় এবং পরিবেশ সংক্রান্ত ১৫,০০০ পোস্টার তৈরি করে এখানে নিয়ে আসে। যাঁরা এই কাজটি করেছেন, সেই সব পরিবারকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। কারণ, যখন তাঁরা এই বিষয়টি নিয়ে ভেবেছেন, তখন তাঁদের মন পরিবেশ রক্ষায় নিবেদিত হয়েছে। সুরাটে আমাদের অনেক কাথিয়াওয়াড়ি ভাই বসবাস করেন এবং সেখানে তাঁদের কৃষিজমি রয়েছে। পরিবেশ রক্ষার কাজের অংশ হিসেবে আমি তাঁদের ‘সেভ দ্য ফার্ম’ (কৃষিজমি বাঁচান) অভিযানে শামিল হওয়ার অনুরোধ করছি। রাসায়নিক-মুক্ত চাষাবাদ, সেই প্রাকৃতিক চাষাবাদ যা আমাদের পূর্বপুরুষরা করতেন। সুরাটের যেসব মানুষের কৃষিজমি আছে—তাঁরা যেখানেই থাকুন না কে, তাঁদের সবার কাছে আমি পূর্ণ অধিকারের সঙ্গেই বলছি যে, এই কাজটিই আমি আপনাদের কাছে চাইছি।

বন্ধুগণ,

এখানে সবাই আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন, নানা স্মারক ও উপহার দিয়েছেন। কিন্তু এর বাইরেও সুরাট আমাকে এক অমূল্য উপহার দিয়েছে, যা আরও বেশি মূল্যবান। সুরাট আমাকে উপহার হিসেবে দিয়েছে আবর্জনা। এক লক্ষ মানুষ মিলে পাঁচ দিন ধরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছেন। আমার কাছে এটিই সবচেয়ে বড় উপহার। আমি সেই এক লক্ষ মানুষ এবং সমগ্র সুরাটবাসীকে অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানাই। মানুষ হয়তো ভাবছেন, ইনি কেমন প্রধানমন্ত্রী? স্বাগত উপহার হিসেবে আবর্জনা গ্রহণ করায় তিনি গর্বিত। কারণ আমার কাছে পরিচ্ছন্নতা একটি মূল্যবোধে পরিণত হওয়া প্রয়োজন। এক লক্ষ মানুষের অংশগ্রহণের অর্থ হলো এক লক্ষ পরিবারের অংশগ্রহণ। আর এটি কেবল একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযান নয়, বরং সুস্থ ভবিষ্যতের লক্ষ্যে মূল্যবোধের এক উৎসব। এ জন্য সুরাটের সকল সহযোগী অশেষ অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য।

বন্ধুগণ,

স্থানীয় সংস্থার নির্বাচনের পর এই প্রথম আমি গুজরাটে, সুরাটে এসেছি। সুরাট থেকেই আমি গুজরাটের জনগণকে প্রণাম জানাই ও অভিনন্দন জানাই।

বন্ধুগণ,

আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে আপনারা আমাদের—অর্থাৎ বিজেপিকে—নিরন্তর আশীর্বাদ দিয়ে আসছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আশীর্বাদ কেবল বেড়েই চলেছে। দেখুন, এক কন্যা আপনাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলেছে। সম্প্রতি জেলা পরিষদ, তালুকা পরিষদ, পৌরসভা এবং পৌর নিগমগুলোর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে গুজরাটের জনগণ বিজেপিকে এতটাই সমর্থন জানিয়েছে যে সমস্ত পুরনো রেকর্ড ভেঙে গেছে। আর আজ আমি আরও বেশি আনন্দিত কারণ আপনারা আমার রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছেন। আমি রাজনীতিতে খুব দেরিতে এসেছিলাম, সম্ভবত ১৯৮৭ সালে; তখন সুরাট-আহমেদাবাদ পৌর নিগমের প্রথম নির্বাচনটি হয়েছিল এবং সেই প্রথম নির্বাচনেই আমরা বিশাল জয়লাভ করেছিলাম। আর তারপর থেকেই জয়ের এই যাত্রা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বের গণতান্ত্রিক সমাজে এমন ঘটনা খুব কমই দেখা যায়। কোনো দলের পক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে জনগণের আশীর্বাদ পাওয়া এবং সেবা করার সুযোগ লাভ করা—এটি সত্যিই এক বিশাল ব্যাপার।

বন্ধুগণ,

সুরাট ও নবসারির অনেক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিও এখানে উপস্থিত আছেন। আমি আপনাদের সবাইকে আমার শুভেচ্ছা জানাই। আমাদের সর্বদা মনে রাখতে হবে, গুজরাটের জনগণ আমাদের সেবার মানসিকতাকে সমর্থন জানিয়েছে। এই বিশাল জয় হলো আমাদের সেবার এই মিশনকে আরও প্রসারিত করার সুযোগ। আমাদের সবাইকে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। আমাদের সংকল্প হল এক উন্নত গুজরাট, এক উন্নত ভারত গড়ে তোলা। সেবার প্রতি নিষ্ঠার মাধ্যমেই এই সংকল্প পূরণ করতে হবে। আমি যখন বলি 'সুরাট কোনো শহর নয়, সুরাট একটি চেতনা', তখন তার পেছনে আমার দৃঢ় বিশ্বাস কাজ করে। একবার ভাবুন, সমগ্র ভারতের মধ্যে এমন একটি শহর যা ক্রমাগত পরিচ্ছন্নতার জন্য পুরস্কার পাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই মনে হতে পারে—যথেষ্ট হয়েছে, আমরা তো অনেক পুরস্কার পেয়েছি, আর কী করার আছে? কিন্তু সুরাট এমনটা ভাবে না। তারা এখনও পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে অগ্রাধিকার দেয়। তাই আমি বলি, সুরাট কোনো শহর নয়, সুরাট একটি চেতনা।

বন্ধুগণ,

উন্নত ভারত ও উন্নত গুজরাট গড়ে তোলার যে সংকল্প আমরা নিয়েছি, তা তখনই পূরণ হবে যখন আমরা দেশের প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি জেলা ও প্রতিটি শহরের উন্নয়ন ঘটাতে পারব। তাই বিজেপির সকল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বন্ধুগণ,

আজ একটি সুখকর কাকতালীয় ঘটনাও ঘটেছে। আজ ৫ই জুন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস। আজ এই পরিবেশ দিবসে আমি দেশের অন্যতম পরিচ্ছন্ন শহর সুরাটে উপস্থিত আছি। আর এটি সত্যিই অত্যন্ত গর্বের বিষয়! এই সেই সুরাট যা একসময় প্লেগের মতো মহামারীর কবলে পড়েছিল, আর আজ তা পরিচ্ছন্নতার জন্য পরিচিত। এর জন্য আড়াই দশক ধরে নিরলস প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। সুরাটের সকল বাসিন্দা, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং জনপ্রতিনিধি - প্রত্যেকেই এতে অবদান রেখেছেন। আমি জেনেছি যে, ইদানীং এখানে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক বিশেষ অভিযানও চালানো হয়েছে। আমি সুরাটের সকল বাসিন্দাকে, আমার প্রিয় সুরাটবাসীদের অশেষ অভিনন্দন জানাই। সুরাটের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে আজ এখানে অনেক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের জন্য আমি আপনাদের সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

বন্ধুগণ,

বিশ্ব এখন একটি সবুজ যুগ বা 'গ্রিন ফিউচার'-এর দিকে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন এবং ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করছে। ভারতও 'গ্রিন গ্রোথ' বা পরিবেশ-বান্ধব প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যাপক কাজ করছে। আর গুজরাট বহু বছর আগেই এই পথে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছিল। গুজরাটই সেই রাজ্য যার সরকার এই শতাব্দীর শুরুতেই জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য একটি পৃথক বিভাগ গঠন করেছিল। দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণকারী প্রথম রাজ্য ছিল গুজরাট। আর মুখ্যমন্ত্রী জি যেমনটি উল্লেখ করলেন, গুজরাটের পাটান জেলার চারঙ্কা গ্রামেই ভারতের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ পার্ক বা সোলার পার্কটি গড়ে তোলা হয়েছিল। সেই সময় এটি এক ধরণের তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছিল; দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এত বিশাল এক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র দেখতে আসত।

বন্ধুগণ,

সেই সময় আপনারা গুজরাটে যা করেছিলেন, তা পুরো দেশকে অনুপ্রাণিত করেছিল। আজ ভারত 'প্রকৃতির সঙ্গে উন্নয়ন'-এর মন্ত্র নিয়ে এগিয়ে চলেছে—অর্থাৎ অর্থনীতি এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে উন্নয়ন।

আর বন্ধুগণ,

সুরাটে বিষয়টি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। আজকাল সুরাটের "সার্কুলার ওয়াটার ইকোনমি" বা চক্রাকার জল-অর্থনীতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। এখানে শহরের বর্জ্য জল শোধন করে শিল্পকারখানায় সরবরাহ করা হয়। এর ফলে একদিকে যেমন দূষিত জলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা হচ্ছে, তেমনি জল থেকে আয়ও হচ্ছে। গত ১২ বছর ধরে দেশে 'বর্জ্য থেকে সম্পদ' তৈরির এক বিশাল গণ-আন্দোলন চলছে। এটি আমাদের শহরগুলোকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নির্মল করে তুলতে দারুণভাবে সহায়তা করছে।

বন্ধুগণ,

এখন লক্ষ্য হলো সুরাটের জন্য আগামী বহু দশকের প্রয়োজনীয় পানীয় জলের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এর জন্য 'তাপী ব্যারেজ প্রকল্প'-এর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, জল ব্যবস্থাপনা এবং জল নিষ্কাশন ব্যবস্থাও সরকারের অত্যন্ত অগ্রাধিকারের বিষয়। আজ এখানে এমন অনেক প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে।

বন্ধুগণ,

সুরাটের পরিচিতি কেবল পরিচ্ছন্নতা বা চক্রাকার অর্থনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এখানে 'সবুজ প্রবৃদ্ধি' বা পরিবেশ-বান্ধব উন্নয়নের অন্যান্য ক্ষেত্রেরও অভূতপূর্ব গতিতে সম্প্রসারণ ঘটছে। যেমন — ইলেকট্রিক মোবিলিটি বা বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবস্থা। সুরাট এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে যেখানে রাস্তায় চলাচলকারী সমস্ত বাস হবে বৈদ্যুতিক। এর পাশাপাশি সুরাট মেট্রোরও সম্প্রসারণ হচ্ছে। এই সমস্ত পদক্ষেপ 'গ্রিন সিটি' বা সবুজ শহর হিসেবে সুরাটের পরিচিতিকে আরও সুদৃঢ় করবে। আর হ্যাঁ, আগামী দিনে হাজিরা শিল্পাঞ্চল 'গ্রিন স্টিল' বা পরিবেশ-বান্ধব ইস্পাত উৎপাদনের জন্যও পরিচিত হয়ে উঠবে। অর্থাৎ, ইস্পাত উৎপাদনে সবুজ শক্তি বা পরিবেশ-বান্ধব জ্বালানি ব্যবহার করা হবে।

বন্ধুগণ,

আজ বিশ্ব এক অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন আগেই আমি বলেছিলাম যে, এই দশকটি বিশ্বের জন্য দুর্যোগের দশক হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা একের পর এক বৈশ্বিক দুর্যোগের সাক্ষী হয়েছি। প্রথমে এল করোনার মতো বিশাল সংকট, তারপর বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ শুরু হলো, আর এখন এক ব্যাপক জ্বালানি সংকট পুরো বিশ্বকে অস্থির করে তুলেছে। বিশ্বজুড়ে পেট্রোলের দাম ক্রমাগত ওঠানামা করছে এবং গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে।

কিন্তু ভাই ও বোনেরা,

আমি অত্যন্ত সন্তুষ্টির সাথে লক্ষ্য করছি যে, ১৪০ কোটি ভারতবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ প্রতিটি সংকট দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করছে। এই লড়াইয়ে আপনারা আমার সঙ্গে আছেন, তাই না? এই লড়াইয়েও আমাদের জিততে হবে, তাই না? 

এবং বন্ধুগণ,

এক্ষেত্রেও গুজরাটের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গুজরাট তেল শোধন, সৌরশক্তি এবং বায়ুশক্তির ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে, যা দেশের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ প্রমাণিত হচ্ছে। বর্তমানে ভারতের নবায়নযোগ্য শক্তির সক্ষমতা ২৫০ গিগাওয়াট। একসময় আমাদের দেশে আমরা কেবল মেগাওয়াটের কথা ভাবতাম, আর আজ আমরা গিগাওয়াটের কথা বলছি। আর এর মধ্যে একাই গুজরাটের অবদান ৫০ গিগাওয়াট। মোট ২৫০ গিগাওয়াটের মধ্যে ৫০ গিগাওয়াটই হলো আপনাদের শক্তি। অর্থাৎ, দেশের মোট সবুজ শক্তির এক-পঞ্চমাংশই উৎপাদিত হয় গুজরাটে। সৌরশক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে গুজরাট প্রশংসনীয় কাজ করেছে। আর এখন, যখন দেশ গ্রিন হাইড্রোজেন এবং গ্রিন অ্যামোনিয়ার মতো ক্ষেত্রে কাজ করছে, তখনও গুজরাটের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হবে।

বন্ধুগণ,

বর্তমান বিশ্বসংকট আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে যে জ্বালানির ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা কতটা জরুরি। গত ১২ বছরে দেশ যে সক্ষমতা গড়ে তুলেছে, তার গুরুত্ব অপরিসীম। একদিকে আমরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তেল ও গ্যাস সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছি; অন্যদিকে নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক বিনিয়োগ করেছি। বারো বছর আগে ভারতে সৌরশক্তি উৎপাদনের পরিমাণ ছিল নগণ্য। আজ আমরা বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছি। শুধু সৌরশক্তিই নয়, আমরা ইথানল মিশ্রণের সক্ষমতা বাড়িয়েছি, রেলপথের বৈদ্যুতিকীকরণের কাজ ত্বরান্বিত করেছি, পারমাণবিক শক্তি নিয়ে কাজ করেছি, আমাদের পুরনো বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সম্প্রসারিত করেছি, গ্যাস পাইপলাইন নেটওয়ার্ক ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করেছি এবং বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়েছি যাতে আরও বেশি পেট্রোলিয়াম পণ্য সেখানে পৌঁছাতে পারে এবং প্রয়োজনে সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়। আগামী দিনগুলোতে দেশের এই সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকারের প্রচেষ্টা নিরন্তর অব্যাহত রয়েছে।

বন্ধুগণ,

সুরাটে আপনাদের মধ্যে আসার আগে আমি হাজিরায় গিয়েছিলাম, যার কথা হর্ষ ভাই একটু আগেই বলছিলেন। 'আত্মনির্ভর ভারত'-এর প্রকৃত অর্থ হাজিরায় স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। হাজিরা আজ কেবল একটি শিল্পাঞ্চল নয়; এটি এমন এক বাস্তুতন্ত্রে (ecosystem) পরিণত হয়েছে যেখানে শক্তি (energy), ইস্পাত, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, বন্দর এবং বিশ্ববাণিজ্যের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হাজিরা দেশের একটি প্রধান সামুদ্রিক-শিল্প কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে এবং 'আত্মনির্ভর ভারত'-এর এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।

কিন্তু বন্ধুগণ,

আজ দেশে এমন কিছু হতাশাবাদী মানুষ আছেন যারা 'আত্মনির্ভর ভারত' অভিযানকে নিয়ে উপহাস করেন। তাঁরা প্রতিনিয়ত জাতির এই সংকল্পকে খাটো করে দেখেন। এঁরাই সেই মানুষ যারা ভারতকে সর্বদা অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীল করে রেখেছিলেন। তাঁরা ভুলে যান যে, অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীল কোনো দেশ কখনোই নিজের যোগ্যতা অনুসারে উন্নয়নের যথাযথ উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে না।

বন্ধুগণ,

'আত্মনির্ভর ভারত'-এর গতি ত্বরান্বিত করতে আজ দেশ সংযোগ ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ভাদোদরা-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়ে, ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোর এবং বুলেট ট্রেনের মতো প্রকল্পগুলো ভারতের এই অগ্রাধিকারকেই প্রতিফলিত করে। আজ ভাদোদরা-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়ের একটি বড় অংশের উদ্বোধন করা হয়েছে। এটি দেশের দুটি প্রধান শিল্প ও বাণিজ্য কেন্দ্রের মধ্যে উন্নত সংযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে।

বন্ধুগণ,

আমাদের প্রচেষ্টা হলো সবাইকে সংযুক্ত করা এবং সবার জন্য সমান সুযোগ ও সুবিধা নিশ্চিত করা। প্রত্যন্ত ও আদিবাসী অঞ্চলগুলো, যেখানে আগে কোনো সুবিধাই পৌঁছাত না, সেখানে আজ আধুনিক সংযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠছে। দাহোদ-বোডেলী-ভাপি করিডোর আমাদের এই সংকল্পেরই প্রতিফলন। একবার ভাবুন, নর্মদা ও তাপি জেলার আদিবাসী এলাকাগুলোতেও আজ চার লেনের সড়ক সুবিধা পৌঁছে যাচ্ছে। এর ফলে যাতায়াতের সময় ও খরচ কমবে এবং আদিবাসী ও গ্রামীণ মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবিকার ক্ষেত্রে উন্নত সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

বন্ধুগণ,

এই করিডোরের মাধ্যমে ছোট উদয়পুর, নর্মদা, ভারুচ ও তাপী জেলার আদিবাসী এলাকাগুলো শিল্পাঞ্চলের সাথে সংযুক্ত হবে। এটি দক্ষিণ গুজরাটের আদিবাসী এলাকাগুলোতে পর্যটনকেও উৎসাহিত করবে। এর ফলে 'স্ট্যাচু অফ ইউনিটি', সাপুতারা এবং নিকটবর্তী পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যাতায়াত অনেক সহজ হয়ে উঠবে।

বন্ধুগণ,

আজ সুরাটে একটি আধুনিক ইএসআইসি হাসপাতালেরও উদ্বোধন করা হয়েছে। এই হাসপাতালটি আমাদের শ্রমিক ভাই-বোন ও তাঁদের পরিবারের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবার এক নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠবে। অন্য রাজ্য থেকে এখানে বসবাস ও কাজ করতে আসা মানুষরাও এই হাসপাতাল থেকে ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন। 

বন্ধুগণ,

আমাদের সরকার জাতীয় উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে চলেছে। আর তাই দেশের মানুষের আস্থা রয়েছে বিজেপির ওপর এবং বিজেপির উন্নয়নমূলক কাজের ওপর। এ কারণেই দেশের মানুষ বারবার বিজেপিকে জনরায় দিচ্ছে। সম্প্রতি বাংলায় নির্বাচন হয়েছে, বাংলার কথা বললেই হয়তো আপনাদের মধ্যে এক নতুন উদ্দীপনা বা শক্তির সঞ্চার হয়, তবে আমার অভিজ্ঞতা হলো, সম্প্রতি আমার পাঁচটি দেশ সফরের সময় সব জায়গাতেই বাংলাকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। সবাই বাংলার কথা বলছে। বাংলা, আসাম এবং পুদুচেরির নির্বাচনে বিজেপি ও এনডিএ বিপুল জনসমর্থন পেয়েছে। এছাড়া, সারা দেশে যেসব পঞ্চায়েত ও পৌরসভা নির্বাচন হচ্ছে, সেগুলোতেও বিজেপি জয়লাভ করছে।

বন্ধুগণ,

প্রতিটি নির্বাচনই একটি বার্তা বহন করে: দেশ বিশৃঙ্খলা, অনিশ্চয়তা এবং হতাশা পছন্দ করে না। কংগ্রেস গত ১২ বছর ধরে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য বিশৃঙ্খলা ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে আসছে, কিন্তু দেশের মানুষ বারবার তাদের কড়া জবাব দিচ্ছে। আপনারা গুজরাটের মানুষ কংগ্রেসকে কোণঠাসা করে দিয়েছেন; এমনকি যেসব রাজ্যে কংগ্রেস ক্ষমতায় আছে, সেখানেও মানুষ তাদের অপশাসনে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি হিমাচলে স্থানীয় সংস্থার নির্বাচন হয়েছে—যেখানে কংগ্রেস ক্ষমতায়—এবং সেখানে তারা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে। হিমাচলের মানুষ কংগ্রেসের অপশাসনকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এর আগে হরিয়ানার স্থানীয় নির্বাচনেও কংগ্রেস হেরেছে এবং পাঞ্জাবের মানুষও তাদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। সেই বার্তাটি হলো, কংগ্রেসের পরজীবী রাজনীতি আর চলবে না, বিশৃঙ্খলার মধ্যে সুযোগ খোঁজার রাজনীতিও আর কাজ করবে না। এমনকি কর্ণাটকেও কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। আর সে কারণেই কর্ণাটকেও কংগ্রেসকে মুখ্যমন্ত্রী বদলাতে হচ্ছে।

বন্ধুগণ,

ভারত নেতিবাচকতার অনেক ঊর্ধ্বে উঠে এসেছে। এই দেশ আজ অসীম আশাবাদের দেশ হয়ে উঠেছে। অসাধারণ সব আকাঙ্ক্ষায় পরিপূর্ণ এক দেশ হয়ে উঠেছে। ভারতের নাগরিকরা আজ স্বপ্ন ও সংকল্পে ভরপুর। আর মানুষ তাদের সংকল্পকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের মানুষ যখন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়, তখন দেশ যেকোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। আর এটাই ভারতের শক্তি। আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি উন্নত ভারত গড়ার কাজকে ত্বরান্বিত করি। আসুন, নিজেদের পুরোপুরি উৎসর্গ করে স্বপ্নকে সংকল্পে এবং সংকল্পকে সাফল্যে রূপান্তর করি। আমি আপনাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাশে আছি। আপনারা যদি দুই পদক্ষেপ এগোন, তবে আমি তিন পদক্ষেপ এগোতে প্রস্তুত। থেমে যাওয়া বা ক্লান্ত হয়ে পড়া আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এই আহ্বানের সঙ্গে, উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর জন্য আবারও অনেক অনেক অভিনন্দন।

ভারত মাতা কি জয়।

ভারত মাতা কি জয়।

বন্দে মাতরম।

বন্দে মাতরম।

বন্দে মাতরম।

বন্দে মাতরম।

বন্দে মাতরম।

বন্দে মাতরম।

বন্দে মাতরম।

বন্দে মাতরম।

বন্দে মাতরম।

বন্দে মাতরম।

বন্দে মাতরম।

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Centre releases Rs 44,544 crore capex loans to states so far in FY27

Media Coverage

Centre releases Rs 44,544 crore capex loans to states so far in FY27
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Prime Minister expresses anguish over the loss of lives due to tunnel collapse in Namchi, Sikkim
July 21, 2026
PM announces ex-gratia from PMNRF

Prime Minister Shri Narendra Modi today expressed anguish over the loss of lives due to the collapse of an under-construction tunnel in Namchi, Sikkim. He extended his deepest condolences to the bereaved families and prayed that those injured recover at the earliest.

The Prime Minister announced that an ex-gratia of Rs. 2 lakh from PMNRF would be given to the next of kin of each deceased. Shri Modi stated that the injured would be given Rs. 50,000.

In a post on X, the Prime Minister shared:

"Anguished by the loss of lives due to the collapse of an under-construction tunnel in Namchi, Sikkim. I extend my deepest condolences to the bereaved families. I pray that those injured recover at the earliest.

An ex-gratia of Rs. 2 lakh from PMNRF would be given to the next of kin of each deceased. The injured would be given Rs. 50,000: PM @narendramodi"