নমস্কার!
বঁজু!

মনে হচ্ছে, আপনারা সবাই ছুটির মেজাজে আছেন।

বন্ধুগণ,

এই প্যারিস শহর হল আলোর শহর, রঙের শহর। এখানে আছে শিল্প, ভাবনা, এবং উদ্ভাবনের অনুপ্রেরণাও। ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা আপনারা সকলে এই শহরকে আরও সুন্দর করে তুলেছেন। নতুন নতুন রঙে ভরিয়ে তুলেছেন।

কেউ তামিল, কেউ পাঞ্জাবি, কেউ গুজরাটি, কেউ মারাঠি, আবার কেউ বাঙালি। ভারতের প্রতিটি প্রান্তের প্রতিনিধিত্ব এখানে দেখা যাচ্ছে।

বন্ধুগণ,

আমি যখন ১৪ জুন নিস শহরে পৌঁছেছিলাম, তখন প্রথমেই ‘ভারত ইনোভেটস’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলাম। আর আজ যখন ফ্রান্স থেকে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি, তখন মনে হচ্ছে যেন ‘ভারত কানেক্টস’ অনুষ্ঠানে এসে পৌঁছেছি।

ফ্রান্সে বসবাসকারী আপনারা যেভাবে একবিংশ শতাব্দীর ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ককে সংযুক্ত করেছেন, তা আমাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বের একটি বড় শক্তিতে পরিণত হচ্ছে। আমি আপনাদের সকলের জন্য ভারত থেকে ১৪০ কোটি দেশবাসীর শুভেচ্ছা নিয়ে এসেছি। এই আন্তরিক অভ্যর্থনার জন্য আমি আপনাদের সকলের কাছে হৃদয় থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

বন্ধুগণ,

আজ আমি এমন এক সময়ে ফ্রান্সে এসেছি, যখন মাত্র কয়েক দিন আগেই আমাদের সরকারের ১২ বছর পূর্ণ হয়েছে। নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টানা ১২ বছর দেশসেবা করার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের এক বিরাট সৌভাগ্য। এটি ভারতের গণতন্ত্রের শক্তি, যা এক চা বিক্রেতাকে এখান পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে।

বন্ধুগণ,

গত ১২ বছর ১৪০ কোটি ভারতীয়ের অসাধারণ সামর্থ্যের সময়কাল। এই ১২ বছরে ভারতের জিডিপি দ্বিগুণ হয়েছে। বিমানবন্দরের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও দ্বিগুণ হয়েছে। হাইওয়ে নির্মাণের গতি তিন গুণ বেড়েছে। আর মেট্রো নেটওয়ার্ক চার গুণ বড় হয়েছে।

আমি আপনাদের আরও কিছু তথ্য দেব, যা থেকে আপনারা বুঝতে পারবেন ভারত কত দ্রুত গতিতে এবং কত বড় পরিসরে কাজ করছে। গত ১২ বছরে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি ৩৫ গুণ বেড়েছে।

আরও একটি তথ্য শুনুন—ভারতে মোবাইল ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটের সংখ্যা ১০০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১০০ টাইমস। ভারত এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন নির্মাতা। এই গতি ও অগ্রগতির ফলেই আজ ভারত বিশ্বের দ্রুততম বিকাশশীল বড় অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে।

বন্ধুগণ,

আজ ভারতের কাহিনি শুধু অর্থনৈতিক অগ্রগতির কাহিনি নয়। এটি শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি সামাজিক পরিবর্তনেরও কাহিনি।

গত ১২ বছরে দেশে ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছেন। অর্থাৎ এমন এক অগ্রগতি, যার সুফল সমাজের শেষ প্রান্তের মানুষের কাছেও পৌঁছে যাচ্ছে। ফ্রান্সে যতগুলি বাড়ি রয়েছে, তার থেকেও বেশি পাকা বাড়ি গত ১২ বছরে আমরা তৈরি করেছি।

এখন প্রতিটি পরিবারের—সে যতই দরিদ্র হোক না কেন—একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এখন শুধু কোনও সরকারি কর্মসূচি নয়, বরং একটি সামাজিক পরিবর্তনের অভিযানে পরিণত হয়েছে।

বন্ধুগণ,

এই ১২ বছরের সাফল্যের মধ্যে এমন একটি সাফল্যও রয়েছে, যাকে কোনও সংখ্যার মাধ্যমে মাপা যায় না। সেটি হল ১৪০ কোটি ভারতীয়ের আত্মবিশ্বাস।

আজকের ভারত এবং আজকের ভারতের যুবসমাজ খুব বড় স্বপ্ন দেখছে। ভারতের কৃষক নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে চলেছেন। ভারতের মহিলারা নতুন নেতৃত্বের পরিচয় দিচ্ছেন। তাই এটি শুধু সাফল্যের ১২ বছর নয়, এটি এমন এক সময়কাল, যখন ভারতের আকাঙ্ক্ষাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

বন্ধুগণ,

এক সময় ছিল যখন দূর-দূরান্তের গ্রামগুলিতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়া সত্যিই অত্যন্ত কঠিন ছিল। আজ সেই গ্রামগুলিতেই বিদ্যুৎ আছে, ইন্টারনেট আছে এবং ডিজিটাল পরিষেবার সম্পূর্ণ এক জগৎ রয়েছে। আজ এক ক্লিকেই, যে কোনও সময়, যে কোনও জায়গা থেকে ব্যাংকিং পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে।

আজ মোবাইল ফোন ভারতের নাগরিকদের বহু সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে যুক্ত করছে। আমাদের কৃষক, আমাদের মৎস্যজীবী, আমাদের দুগ্ধ উৎপাদকরা, আমাদের মহিলারা, আমাদের ছাত্রছাত্রীরা—সকলেই প্রযুক্তির মাধ্যমে সক্ষম হচ্ছেন এবং নিজেদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছেন।

বন্ধুগণ,

আপনারা ১২৫ কোটিরও বেশি আধার আইডি-র কথা শুনেছেন। কিন্তু আজ ভারত শুধু পরিচয়কে ডিজিটাল করছে না। আজ প্রায় ৯০ কোটি ভারতীয়ের ইউনিক ডিজিটাল হেলথ আইডি  তৈরি হয়ে গেছে। এর ফলে চিকিৎসার নথি নিরাপদ এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদান আরও সহজ এবং কার্যকর হয়ে উঠছে।

বন্ধুগণ,

এই সাফল্যগুলির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল—এর মধ্যে অধিকাংশ বিষয়ই কয়েক বছর আগেও কল্পনার মতো মনে হত। কে ভাবতে পেরেছিল যে গ্রামে-গ্রামে উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছে যাবে? কে ভাবতে পেরেছিল যে প্রত্যন্ত গ্রামীণ জীবনেও QR কোডের ব্যবহার সাধারণ হয়ে উঠবে? গ্রামের কোনও বোন ড্রোনের মাধ্যমে কৃষিকাজে সাহায্য করবেন—এটাও একসময় অসম্ভব মনে হত।

কিন্তু আজ এসবই ভারতের কোটি কোটি মানুষের জীবনের স্বাভাবিক অংশ হয়ে উঠছে। আর বন্ধুগণ, এতে আপনাদের গর্ব হবে—এটাই নতুন ভারতের পরিচয়।

যা একসময় স্বপ্ন ছিল, তা আজ বাস্তব। যা একসময় অসম্ভব মনে হত, তা আজ সম্ভব হয়েছে। আর এর পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি কী? কার কারণে এসব সম্ভব হয়েছে? এটি মোদীর কারণে নয়। এই শক্তি হল—ভারতের গণতন্ত্র, ভারতের ডেমোক্রেসি। এই গণতন্ত্রে রয়েছে সকলের অংশগ্রহণ, সকলের উন্নয়ন।

বন্ধুগণ,

আজ থেকে ৫০ বা ১০০ বছর পরে যখন ভারতের এই সময়কালকে মূল্যায়ন করা হবে, তখন এই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠবে যে এই সময়কালকে ভারতের আকাঙ্ক্ষাই পরিচালিত করেছে। এটি ভারতের আকাঙ্ক্ষার এক নতুন যুগ।

যেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে, সেখানে মানুষ শুধু বিদ্যুৎ চান না, তাঁরা স্মার্ট জীবনযাপন (Smart Living) চান। যেখানে ট্রেন পৌঁছেছে, সেখানে মানুষ হাই-স্পিড কানেক্টিভিটি চান। যেখানে হাইওয়ে তৈরি হয়েছে, সেখানে মানুষ বিশ্বমানের এক্সপ্রেসওয়ে চান। যেখানে ইন্টারনেট পৌঁছেছে, সেখানে মানুষ AI এবং ডিজিটাল উদ্ভাবনে নেতৃত্ব চান।

অর্থাৎ আজ ভারতের মানুষ নিজেদের জীবনকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যেতে চান, এবং ভারতকেও পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়া তাঁদের লক্ষ্য, তাঁদের সংকল্প, তাঁদের স্বপ্ন।

আর বন্ধুগণ,

এই আকাঙ্ক্ষাই আজ ভারতের উন্নয়ন যাত্রার সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি আপনাদের ভারতের মহাকাশ যাত্রার উদাহরণ দেব।

ভারত চন্দ্রযানকে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করিয়েছে। বিশ্ব এটিকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু ভারত এটিকে নিজের চূড়ান্ত লক্ষ্য মনে করে থেমে থাকেনি। আজ দেশ গগনযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভারত মহাকাশে নিজস্ব স্পেস স্টেশন তৈরির লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে।

আমাদের স্পেস স্টার্টআপগুলি (Space Startups) বিশ্বব্যাপী মহাকাশ অর্থনীতিতে (Global Space Economy) নিজেদের জায়গা তৈরি করার জন্য উৎসাহের সঙ্গে কাজ করছে এবং এগিয়ে চলেছে।

বন্ধুগণ,

সবুজ শক্তির (Green Energy) ক্ষেত্রেও ভারতের এই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। সৌরশক্তির ক্ষেত্রে ভারতের সাফল্য নিয়ে সারা বিশ্বে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু ভারত এখন পরবর্তী বড় পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গ্রিন হাইড্রোজেন ক্ষেত্রে বড় বিনিয়োগ করা হচ্ছে। উন্নত পারমাণবিক শক্তি নিয়েও দ্রুত কাজ চলছে। আপনারা নিশ্চয়ই ভারতের ফাস্ট ব্রিডার নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টরের অগ্রগতি সম্পর্কে শুনেছেন। এটি ভারতের পারমাণবিক শক্তির ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের বড় সাফল্য, যা আমাদের বিজ্ঞানীরা অর্জন করেছেন।

বন্ধুগণ,

আজকের ভারত ভবিষ্যতের সম্পূর্ণ ইকোসিস্টেম তৈরি করছে। আগামী দশকগুলির দিশা নির্ধারণ করবে এমন প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারত একসঙ্গে বিনিয়োগ করছে।

কয়েক দিন আগেই আপনারা দেখেছেন, নিস শহরে ‘ভারত ইনোভেটস’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এই অনুষ্ঠান ভারতের ডিপ টেক (Deep Tech) সক্ষমতাকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার আরেকটি মাধ্যম ছিল। এতে ভারতের ১২০টি ডিপ-টেক স্টার্টআপ অংশ নিয়েছিল। ‘ভারত ইনোভেটস’-এ প্রায় ১,৪০০টি B2B বৈঠক হয়েছে। বহু স্টার্টআপের জন্য বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এগিয়ে গেছে, বাণিজ্যিক অর্ডারের জন্য নতুন পথ খুলেছে। ফরাসি ও ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইনকিউবেটরগুলির সঙ্গে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ছাত্র বিনিময়, যৌথ গবেষণা এবং উদ্ভাবন সহায়তার নতুন পথ তৈরি হয়েছে। তাই ‘ভারত ইনোভেটস’ শুধু একটি সম্মেলন ছিল না, এটি উদ্ভাবন কূটনীতির (Innovation Diplomacy) একটি নতুন মডেল হয়ে উঠেছে।

আর আজই প্যারিসে VivaTech অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা এই যাত্রাকে আরও এগিয়ে নিয়েছি। নিস শহরে আমরা ভাবনাকে পুঁজির সঙ্গে যুক্ত করেছি এবং প্যারিসে ভারতীয় উদ্ভাবনকে বিশ্বব্যাপী পরিসরের সঙ্গে যুক্ত করেছি। আজ বিশ্ব দেখছে, ভারত শুধু ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে না, ভারত ভবিষ্যৎকে গড়ে তুলছে।

বন্ধুগণ,

এক সময় ছিল যখন দেশগুলির মধ্যে সম্পর্ক শুধুমাত্র বাণিজ্যের মাধ্যমে নির্ধারিত হত। আজ বাণিজ্যের পাশাপাশি বিশ্বাস (Trust)-ও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রতিটি দেশ নির্ভরযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল (Reliable Supply Chains) চায়। প্রতিটি দেশ স্থিতিশীল অংশীদারিত্ব (Stable Partnerships) চায়। প্রতিটি দেশ এমন সহযোগীর সন্ধান করে, যাদের উপর দীর্ঘ সময় ধরে ভরসা করা যায়। আর এমন সময়ে ভারত বিশ্বে একটি বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার (Trusted Partner) হিসেবে উঠে আসছে।

এভিয়ানে অনুষ্ঠিত G7 বৈঠকের সময় আমি বিশ্বাসভিত্তিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার উপর জোর দিয়েছিলাম। দক্ষিণী বিশ্বের দেশগুলির সঙ্গে সমান অংশীদার হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলাম। G7 সম্মেলনে ভারতের বার্তা ছিল—গ্লোবাল গভর্ন্যান্স তখনই কার্যকর হবে, যখন তা অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে। গ্লোবাল গ্রোথ তখনই স্থায়ী হবে, যখন তা সবার সঙ্গে ভাগ করা হবে। আর গ্লোবাল প্রযুক্তি তখনই মানবতার জন্য উপকারী হবে, যখন তা বিশ্বাসযোগ্য হবে।

বন্ধুগণ,

ভারত এবং বিশ্বের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন শক্তি দেখা যাচ্ছে। ফ্রান্সের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত কয়েক বছরে ভারত বিশ্বের বহু দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (Free Trade Agreements) করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন হোক, যুক্তরাজ্য হোক, বিশ্বের প্রতিটি দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গে ভারত সমঝোতা করছে।

আগামী মাস থেকে ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তিও কার্যকর হবে। এই চুক্তি ভারতের কৃষক, শ্রমিক এবং উদ্ভাবকদের জন্য বহু নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

বন্ধুগণ,

আজ বিশ্ব অনিশ্চয়তা এবং পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এমন সময়ে ভারত ও ফ্রান্সের অংশীদারিত্ব বিশ্বাস, স্থিতিশীলতা এবং সহযোগিতার একটি শক্তিশালী স্তম্ভ হয়ে উঠছে।

এই বছর আমরা ভারত ও ফ্রান্সের সম্পর্ককে বিশেষ বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব (Special Global Strategic Partnership)-এর মর্যাদা দিয়েছি। নিস শহরে আমার বন্ধু প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ এবং আমি আমাদের সম্পর্ককে বিশ্বকল্যাণের শক্তি (Force for Global Good) হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা করেছি। প্রতিরক্ষা থেকে মহাকাশ, পারমাণবিক শক্তি থেকে AI, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ থেকে উচ্চগতির রেল—প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যাব।

বন্ধুগণ,

সৌরশক্তি হোক বা AI ক্ষেত্রে সহযোগিতা—ভারত ও ফ্রান্স একসঙ্গে এমন সমাধান তৈরি করছে, যা সমগ্র মানবতার স্বার্থে কাজ করবে। গত বছর প্যারিসে এবং এই বছর দিল্লিতে আমরা AI সম্মেলনের সহ-সভাপতিত্ব করেছি।

এখন আমরা একসঙ্গে আগামী বছর ‘তৃষ্ণা’ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে চলেছি। এই ‘তৃষ্ণা’ স্যাটেলাইট বিশ্বে খাদ্য ও জল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

আর বন্ধুগণ,

এই সমস্ত সরকার-থেকে-সরকার উদ্যোগে আপনাদের সকলের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনারাই ভারত ও ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী সেতু। আপনারা দুই সমাজকে বোঝেন, দুই বাজারকে বোঝেন। আগামী দিনে প্রতিভা, বাণিজ্য , প্রযুক্তি, পর্যটন এবং বিনিয়োগের নতুন সুযোগ এগিয়ে নিয়ে যেতে আপনাদের ভূমিকা আরও বাড়বে।

বন্ধুগণ,

ভারত ও ফ্রান্সের সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে গেছে আমাদের যৌথ ইতিহাস, যৌথ মূল্যবোধ এবং যৌথ বিশ্বাস। বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্রান্সের মাটিতে আত্মবলিদান দেওয়া ভারতীয় সৈনিকদের স্মৃতি আজও আমাদের যুক্ত করে রেখেছে।

আমি এর আগে ন্যু শাপেল-এ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পেয়েছি। গত বছর প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁর সঙ্গে মার্সেই-এর ওয়ার মেমোরিয়ালে যাওয়ার সুযোগও হয়েছিল। এটি আমাদের যৌথ ঐতিহ্য।

ফ্রান্স ভারতীয়দের অবদানকে সংরক্ষণ এবং সম্মান করে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত নূর ইনায়াত খান, ফ্রান্সের রেজিস্ট্যান্স আন্দোলনের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, অথবা মহারাজা রণজিৎ সিংহের সঙ্গে কাজ করা জেনারেল জাঁ ফ্রাঁসোয়া আলার—এঁরা সকলেই ভারত ও ফ্রান্স যৌথ ঐতিহ্যের প্রতীক।

ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতেও ফরাসি ঐতিহ্যের ছাপ দেখা যায়। সেখানকার স্থাপত্য, শিল্প-সংস্কৃতি এবং খাদ্যাভ্যাস—সবকিছুর মধ্যেই আমাদের সম্পর্কের সুবাস রয়েছে।

বন্ধুগণ,

এই সময়ে ফ্রান্সসহ সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের প্রস্তুতিও চলছে। এই উপলক্ষে আমি ফ্রান্সে যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া শ্রী মহেশ ঘাত্রাডিয়ালজিকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। আমি পদ্ম পুরস্কারে সম্মানিত শার্লট শোপাঁজিকেও প্রণাম জানাই। যিনি ১০০ বছর বয়সেও যোগের মাধ্যমে ফ্রান্সকে ভারতের ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তাঁর জীবন প্রমাণ করে—“Yoga does not add years to life, it adds life to years.”(যোগ জীবনে বছর যোগ করে না, বরং বছরের জীবনীশক্তি বাড়ায়।)

বন্ধুগণ, আমি ফ্রেড নেগ্রিজিকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। ভারতীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণে তাঁর অবদান অতুলনীয়।

বন্ধুগণ,

ভারত ও ফ্রান্সকে যুক্ত করা আরেকটি বিষয় হল ফুটবল। এই মুহূর্তে এখানে ফুটবল জ্বর তুঙ্গে। ফ্রান্সে এর উন্মাদনা সর্বত্র দেখা যায়। কিন্তু ভারতেও ফুটবলের জনপ্রিয়তা খুব।

বিশেষ করে ফ্রান্স দলের সমর্থক ভারতে প্রচুর। ফ্রান্স এই বিশ্বকাপের শুরু করেছে দুর্দান্ত জয়ের মাধ্যমে। আমি ফ্রান্স দলকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

বন্ধুগণ,

বিদায় নেওয়ার আগে আপনাদের জন্য আরও কিছু সুখবর নিয়ে এসেছি। গত বছর মার্সেই-এ কনস্যুলেট খোলা হয়েছে, যার ফলে অনেক বেশি সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ফরাসি বিমানবন্দরে ভিসা-ফ্রি ট্রানজিটের ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

ছাত্র ও পেশাজীবীদের যাতায়াত বৃদ্ধি করা, শিক্ষাগত যোগ্যতার পারস্পরিক স্বীকৃতি, অথবা ফরাসি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতে ক্যাম্পাস খোলা—এই সব বিষয়েই আমরা একসঙ্গে এগিয়ে চলেছি।

এখন ফ্রান্সে UPI ব্যবহারের পরিধিও আরও বাড়তে চলেছে। অর্থাৎ ভারত-ফ্রান্স সংযোগও হবে তাৎক্ষণিক এবং পারস্পরিক পেমেন্টও হবে তাৎক্ষণিক।

বন্ধুগণ,

এই সমস্ত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা ভারত ও ফ্রান্সকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসছি। আর আমি আবারও বলব—এই অংশীদারিত্বের ভিত্তি, এই সম্পর্কের প্রকৃত শক্তি আপনারাই। আপনারা সকলেই আমার দেশের মানুষ।

আজ যখন ভারত দ্রুত বিকশিত ভারতের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আমি আপনাদের সকলকে ভারতের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই। এতে ভারতের উন্নয়ন যাত্রা নতুন শক্তি পাবে এবং আপনাদেরও নিজের পূর্বপুরুষের দেশের সেবা করার সুযোগ মিলবে।

এই কথাগুলির সঙ্গে, আপনাদের ভালোবাসা, উৎসাহ এবং এই আন্তরিক অভ্যর্থনার জন্য আমি আবারও আপনাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

ভারত মাতা কি জয়!

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Stranded in Tehran, 50 Iranian Sikhs return safely to India

Media Coverage

Stranded in Tehran, 50 Iranian Sikhs return safely to India
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Prime Minister Narendra Modi pays tributes to Freedom Fighter, Shri Pingali Venkayya on his 150th birth anniversary
August 02, 2026

The Prime Minister, Shri Narendra Modi, paid tributes to freedom fighter, Shri Pingali Venkayya on his 150th birth anniversary.

The Prime Minister remembered Pingali Venkayya for his invaluable role in giving the nation the Tricolour and said that his efforts continue to inspire people to serve the country with dedication and patriotic fervour.

Shri Modi said that the Tiranga fills every Indian heart with immense pride and inspires the nation to work towards nation-building.

The Prime Minister wrote on X;

“Tributes to Pingali Venkayya Ji on his 150th birth anniversary. He is remembered for his invaluable role in giving our nation the Tricolour. May his efforts always inspire people to serve our country with dedication and patriotic fervour.

The Tiranga fills every Indian heart with immense pride and inspires us to work towards nation building.”