গোটা বিশ্বের চোখ আজ ভারতের দিকে : প্রধানমন্ত্রী
ভারতের তরুণরা দ্রুত দক্ষ হয়ে উঠছে এবং উদ্ভাবনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
ভারতের বিদেশ নীতির মূলমন্ত্র হয়ে উঠেছে - ভারত সর্বাগ্রে: প্রধানমন্ত্রী
ভারত আজ, কেবল বিশ্ব ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করছে না বরং বিশ্বের ভবিষ্যত গঠন সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রেও অবদান রাখছে: প্রধানমন্ত্রী
ভারত একচেটিয়া অধিকারকে নয়, মানবতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
আজ ভারত নিছকই একটি স্বপ্ন দেখানোর দেশ নয়, এখন ভারত বিভিন্ন স্বপ্নের বাস্তবায়নের দেশে পরিণত হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

শ্রীযুক্ত রামেশ্বর গারু জি, রামু জি, বরুণ দাস জি, টিভি৯-এর পুরো টিম, আমি আপনাদের নেটওয়ার্কের সকল দর্শকদের, এখানে উপস্থিত সকল গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে শুভেচ্ছা জানাই এবং এই শীর্ষ সম্মেলনের জন্য আপনাদের অভিনন্দন জানাই।

TV9 নেটওয়ার্কের আঞ্চলিক দর্শক সংখ্যা বিশাল। আর এখন বিশ্বব্যাপী TV9-এর দর্শকসংখ্যা বাড়ছে। এই শীর্ষ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রবাসী ভারতীয়রা বিশেষভাবে সরাসরি যুক্ত আছেন। আমি এখান থেকে অনেক দেশের মানুষদের দেখতে পাচ্ছি, তাঁরা সম্ভবতঃ সেখান থেকে হাত নাড়ছেন, আমি সকলের জন্য শুভকামনা জানাই। নীচের স্ক্রিনে আমি ভারতের বিভিন্ন শহরের অসংখ্য দর্শককে একই উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে বসে থাকতে দেখতে পাচ্ছি। আমি তাঁদেরকেও স্বাগত জানাই।

বন্ধুগণ,

আজ বিশ্বের চোখ ভারতের দিকে, আমাদের দেশের দিকে। পৃথিবীর যে দেশেই যান না কেন, সেখানকার মানুষ আজ ভারত সম্পর্কে নতুন কৌতূহলে পরিপূর্ণ। এমন কী হয়েছে যে, স্বাধীনতার পর থেকে ৭০ বছরে বিশ্বের ১১তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হওয়া ভারত মাত্র ৭-৮ বছরের মধ্যে পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হলো? আইএমএফের নতুন পরিসংখ্যান সবেমাত্র প্রকাশিত হয়েছে। এই পরিসংখ্যানগুলি বলছে যে ভারতই বিশ্বের একমাত্র প্রধান অর্থনীতি যারা গত ১০ বছরে তার জিডিপি দ্বিগুণ করেছে। গত দশকে, ভারত তার অর্থনীতিতে দুই ট্রিলিয়ন ডলার যোগ করেছে। জিডিপি দ্বিগুণ করা কেবল পরিসংখ্যানের পরিবর্তন নয়। এর প্রভাব দেখুন, ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে এসেছেন, এবং এই ২৫ কোটি মানুষ একটি নব্য মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অংশ হয়ে উঠেছেন। এই নব্য মধ্যবিত্ত শ্রেণী এক অর্থে নতুন জীবন শুরু করছে। তাঁরা নতুন স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছেন, দেশের আর্থিক উন্নয়নে অবদান রাখছেন এবং অর্থনীতিকে প্রাণবন্ত করে তুলছেন। আজ আমাদের ভারতে বিশ্বের বৃহত্তম যুব জনসংখ্যা রয়েছে। এই তরুণরা দ্রুত দক্ষ হয়ে উঠছে এবং উদ্ভাবনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর এই সবকিছুর মাঝেই ভারতের বিদেশ নীতির মূলমন্ত্র হয়ে উঠেছে - ভারত সর্বাগ্রে। একটা সময় ছিল যখন ভারতের নীতি ছিল সকলের থেকে সমান দূরত্ব বজায় রাখা, সম-দূরত্বের নীতি। আজকের ভারতের নীতি হলো সকলের সঙ্গে সমানভাবে ঘনিষ্ঠ হওয়া, সম-ঘনিষ্ঠতার নীতি। বিশ্বের দেশগুলি আজ ভারতের মতামত, ভারতের উদ্ভাবন, ভারতের প্রচেষ্টাকে যত গুরুত্ব দিচ্ছে, ততটা আগে কখনও দেয়নি। আজ বিশ্বের দৃষ্টি ভারতের দিকে, আজ বিশ্ব জানতে চায়, What India Thinks Today, ভারত আজ কী ভাবছে!

 

বন্ধুগণ,

ভারত আজ, কেবল বিশ্ব ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করছে না বরং বিশ্বের ভবিষ্যত গঠন  সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রেও অবদান রাখছে। করোনার সময় বিশ্ব এটা ভালোভাবেই অনুভব করেছে। বিশ্ববাসী ভেবেছিল যে প্রত্যেক ভারতবাসীর কাছে টিকা পৌঁছাতে অনেক বছর সময় লাগবে। কিন্তু ভারত প্রতিটি আশঙ্কা ভুল প্রমাণ করেছে। আমরা আমাদের নিজস্ব টিকা তৈরি করেছি, দ্রুত আমাদের নাগরিকদের টিকা দিয়েছি, এবং বিশ্বের ১৫০ টিরও বেশি দেশে ওষুধ ও টিকা পৌঁছে দিয়েছি। আর যখন বিশ্ব সংকটের মধ্যে ছিল, তখন ভারতের এই ভাবনা বিশ্বের প্রতিটি কোণে পৌঁছেছে যে আমাদের শিষ্টাচার কী, আমাদের আচার-ব্যবহার কেমন!

বন্ধুগণ,

অতীতে, বিশ্ব দেখেছে যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে যখনই কোনও আন্তর্জাতিক সংগঠন গড়ে উঠেছে, তখন সেখানে কেবল কয়েকটি দেশের একচেটিয়া অধিকার ছিল। কিন্তু ভারত একচেটিয়া অধিকারকে নয়, মানবতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। ভারত একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গঠনের পথ প্রশস্ত করেছে এবং আমরা নিশ্চিত করেছি যাতে এতে সকলের অংশগ্রহণ এবং অবদান থাকে।  যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে যে দেশেই বিপর্যয় আসুক না কেন, এই দুর্যোগগুলি পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করে। আজ যদি আপনারা টিভিতে মায়ানমারে হয়ে যাওয়া ভূমিকম্পের দিকে তাকান, তাহলে একটি বিশাল ভবন ধ্বংস হতে এবং একটি সেতু ভেঙে পড়তে দেখেছেন। আর তাই ভারত বিপর্যয় প্রতিরোধী পরিকাঠামোর জন্য সিডিআরআই নামে একটি নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এটি নিছকই একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন নয়, বরং প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলার ক্ষেত্রে বিশ্বকে প্রস্তুত করার একটি সঙ্কল্পের প্রতিফলন। ভারতের প্রচেষ্টা হল সেতু, সড়কপথ, বড় বড় অট্টালিকা, বিদ্যুতের গ্রিড ইত্যাদির মতো প্রতিটি পরিকাঠামোকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে নিরাপদ রাখা এবং এগুলি যেন নিরাপদে নির্মিত হয় তা সুনিশ্চিত করা। 

বন্ধুগণ,

ভবিষ্যতের বিপর্যয়গুলি মোকাবিলার জন্য বিশ্বের প্রত্যেক দেশের একসঙ্গে মিলেমিশে কাজ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। এমনই একটি বড় সমস্যা হল আমাদের এনার্জি রিসোর্সেস বা শক্তি উৎপাদনের উৎসগুলি। সেজন্য গোটা বিশ্বের কথা ভেবে ভারত আন্তর্জাতিক সৌর সঙ্ঘ বা আইএসএ গড়ে তুলেছে যাতে বিশ্বের ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতম দেশও টেকসই এবং সুদূরপ্রসারী শক্তি উৎপাদনের সুযোগ নিতে পারে। এক্ষেত্রে পরিবেশের ওপর প্রভাব যেমন ইতিবাচক হবে, তেমনই গ্লোবাল সাউথ-এর দেশগুলির শক্তি উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তাকেও নিরাপদ রাখবে। আর আপনাদের সবাই একথা জেনে গর্বিত হবেন যে ভারতের এই প্রচেষ্টার সঙ্গে আজ বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশ যুক্ত হয়েছে। 

বন্ধুগণ,

বিগত কিছু সময় ধরে বিশ্ব, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা এবং পণ্য পরিবহণ সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার মোকাবিলা করছে। এই সমস্যাগুলি সমাধানের জন্যও ভারত বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে মিলে নতুন নতুন প্রয়াস শুরু করেছে। ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকনমিক করিডর বা আইএমইসি এমনই একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প। এই প্রকল্প, বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে এশিয়া, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যকে একসঙ্গে জুড়বে। এর ফলে নানারকম আর্থিক সম্ভাবনা যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনই বিশ্ব বেশ কিছু নতুন বিকল্প বাণিজ্য পথ পাবে। এর ফলে বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খলও আরও শক্তিশালী হবে।

 

বন্ধুগণ,

আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাগুলিকে আরও বেশি পারস্পরিক অংশগ্রহণকারী, আরও বেশি গণতান্ত্রিক করে তোলার জন্য ভারত অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। আর এখানেই, এই পরিসরেই ভারত মণ্ডপমে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন হয়েছিল। এই সম্মেলনে আফ্রিকান ইউনিয়নকে জি-২০-র স্থায়ী সদস্যপদ দেওয়া হয়েছিল। এটা অনেক বড় ঐতিহাসিক পদক্ষেপ ছিল। দীর্ঘকাল ধরে এর দাবি উঠছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়েছে ভারতের সভাপতিত্বের সময়। আজ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে ভারত গ্লোবাল সাউথ-এর দেশগুলির কন্ঠস্বরে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল সেন্টার ফর ট্র্যাডিশনাল মেডিসিন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ফর গ্লোবাল ফ্রেমওয়ার্ক – এরকম কত না আন্তর্জাতিক উদ্যোগে ভারতের প্রচেষ্টা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় আমাদের শক্তিশালী উপস্থিতিকে প্রতিষ্ঠা করেছে। আর এটা তো এখন সবে সূত্রপাত। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের সামর্থ্য এখন নতুন নতুন উচ্চতার দিকে এগিয়ে চলেছে। 

বন্ধুগণ,

একবিংশ শতাব্দীর ২৫ বছর পেরিয়ে গেছে। এই ২৫ বছরের মধ্যে ১১ বছর আমাদের সরকার দেশের সেবা করছে। আর যখন আমরা What India thinks today বা আজকের ভারতের ভাবনা সংক্রান্ত কোনও প্রশ্ন তুলবো, তখন আমাদের এটাও দেখতে হবে যে অতীতে কী কী প্রশ্ন ছিল এবং সেগুলির কী জবাব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে টিভি৯-এর বিশাল দর্শক গোষ্ঠী এটা বুঝতে পারবেন যে কিভাবে নির্ভরতা থেকে আত্মনির্ভরতা পর্যন্ত, উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে সাফল্য পর্যন্ত, আর আশাহীনতা থেকে উন্নয়ন পর্যন্ত পৌঁছেছি। আপনারা স্মরণ করুন, এক দশক আগে যখন গ্রামে শৌচাগার নির্মাণের প্রশ্ন উঠত, তখন মা ও বোনেদের কাছে সূর্য ডোবার অপেক্ষা এবং তারপর ভোর হওয়ার আগে পর্যন্তই সমাধান থাকত। আজ সেই প্রশ্নের জবাব স্বচ্ছ ভারত মিশনের মাধ্যমে সমাধানে পরিণত হয়েছে। ২০১৩ সালে যখন কারোর চিকিৎসার প্রশ্ন উঠত, তখন চিকিৎসা অনেক মহার্ঘ্য ছিল। আজ সেই প্রশ্নের সমাধান হিসেবে আমরা আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পকে দেখতে পাই। ২০১৩ সালে যখন কোনও গরিব মানুষের রান্নাঘরের প্রসঙ্গ উঠত, তখন একটি ধোঁয়াময় চিত্র সামনে পরিস্ফুট হত। আজ সেই সমস্যার সমাধান আমরা পেয়েছি ‘উজ্জ্বলা যোজনা’র মাধ্যমে। ২০১৩ সালে মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে যদি প্রশ্ন করা হত, তাহলে নীরবতা ছাড়া আর কোনও জবাব ছিল না। কিন্তু তারপর থেকে ‘জন ধন যোজনা’ চালু হওয়ার ফলে ৩০ কোটিরও বেশি মা ও বোনেরা নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। ২০১৩ সালে পানীয় জলের জন্য কুয়ো এবং পুকুরের জলের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হত। আজ সেই অসহায়তার সমাধান হিসেবে প্রত্যেক বাড়িতে নলের মাধ্যমে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে ‘হর ঘর জল যোজনা’র মাধ্যমে। অর্থাৎ, শুধুই দশক বদলায়নি, গোটা দেশের জীবনযাত্রার মান বদলে গেছে। আজ বিশ্ববাসীও এই বিষয়গুলি লক্ষ্য করছে, আর ভারতের এই উন্নয়নের মডেলকে স্বীকার করছে। আজ ভারত নিছকই একটি স্বপ্ন দেখানোর দেশ নয়, এখন ভারত বিভিন্ন স্বপ্নের বাস্তবায়নের দেশে পরিণত হয়েছে। 

বন্ধুগণ,

যখন কোনও দেশ তার নাগরিকদের পরিষেবা এবং তাঁদের সময়কে গুরুত্ব দেয়, তখন সেই দেশের সময়ও বদলায়। এটাই আজ আমরা ভারতে অনুভব করছি। আমি আপনাদেরকে একটি উদাহরণ দিতে বোঝানোর চেষ্টা করছি। আপনারা জানেন যে আগে পাসপোর্ট তৈরি করা কতটা ঝক্কির কাজ ছিল। দীর্ঘ অপেক্ষা, অনেক জটিল ডকুমেন্টেশনের প্রক্রিয়া, প্রায়ই বিভিন্ন রাজ্যের রাজধানীতে যে পাসপোর্ট কেন্দ্রগুলি ছিল, সেখানে ছোট ছোট শহর ও গ্রাম থেকে মানুষ দীর্ঘপথ অতিক্রম করে গিয়ে লাইন লাগাতেন, দু-একদিন হাতে নিয়ে তাঁদেরকে যেতে হত। এখন সেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। একটা পরিসংখ্যানের দিকে যদি আপনারা নজর দেন তাহলে দেখবেন যে ২০১৩ সালের আগে দেশে মাত্র ৭৭টি পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র ছিল। আজ এই সংখ্যা ৫৫০-এরও বেশি হয়েছে। আগে পাসপোর্ট তৈরি করলে, আমি ২০১৩ সালের কথা বলছি মশাই, আমি গত শতাব্দীর কথা বলছি না। এই ২০১৩ সালে পাসপোর্ট তৈরি করতে হলে ওয়েটিং টাইম ৫০ দিন ছিল। আর এখন সেই সময় কমে ৫-৬ দিন হয়েছে। মাত্র ৫-৬ দিনের মধ্যেই আমরা পাসপোর্ট হাতে পেতে পারি।

বন্ধুগণ,

এরকমই রূপান্তর আমরা ব্যাঙ্কিং পরিকাঠামোর ক্ষেত্রেও দেখেছি। আমাদের দেশে ৫০-৬০ বছর আগে ব্যাঙ্কগুলিকে একথা বলে জাতীয়করণ করা হয়েছিল যে এর ফলে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা সুলভ হবে। কিন্তু বাস্তবে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা কতটা সুলভ হয়েছিল তা আমরা সবাই জানি। পরিস্থিতি এমন ছিল যে লক্ষ লক্ষ গ্রামে কোনও ব্যাঙ্কিং পরিষেবাই ছিল না। আমরা এই পরিস্থিতিকেও বদলেছি। আমরা প্রত্যেকের বাড়িতে অনলাইন ব্যাঙ্কিং-এর ব্যবস্থা পৌঁছে দিয়েছি। আজ দেশে প্রত্যেক ৫ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো না কোন ‘ব্যাঙ্কিং টাচ-পয়েন্ট’ অবশ্যই রয়েছে। আর আমরা শুধুই ব্যাঙ্কিং পরিকাঠামোর পরিধি বাড়াইনি, আমরা ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করেছি। আজ ব্যাঙ্কগুলির এনপিএ অনেক হ্রাস পেয়েছে। আজ ব্যাঙ্কগুলির লাভের অঙ্ক ১ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকার নতুন রেকর্ড অতিক্রম করেছে। শুধু তাই নয়, যারা জনগণকে লুন্ঠন করেছে, তাদেরকেও এখন লুন্ঠিত ধন ফেরত দিতে হচ্ছে। তারা দিন-রাত ইডি-কে গালি দিচ্ছে, কারণ ইডি ইতিমধ্যেই ২২ হাজার কোটি টাকারও বেশি লুন্ঠিত অর্থ ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় ফিরিয়ে এনেছে। এই অর্থ আইনসম্মতভাবে সেই সমস্ত ভুক্তভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে যাঁদের অর্থ একদিন লুন্ঠিত হয়েছিল। 

 

বন্ধুগণ,

দক্ষতার মাধ্যমেই যে কোনও সরকার আরও বেশি কার্যকর হয়ে উঠতে পারে। কম সময়ে বেশি কাজ থেকে শুরু করে কম সম্পদ ব্যবহার করে অধিক কাজ, অপব্যয় রোধ করা এবং লালফিতের ফাঁসকে নিষ্ক্রিয় করে লাল কার্পেটের ব্যবহার বাড়ানো; যখন কোনও সরকার এইভাবে এগোয়, তখন মনে করবেন যে দেশের সম্পদকে সম্মান জানানো হচ্ছে। বিগত ১১ বছর ধরে আমাদের সরকারের এটাই ছিল সবচাইতে বড় অগ্রাধিকার। আমি আমার বক্তব্যকে কিছু উদাহরণের মাধ্যমে পেশ করব। 

বন্ধুগণ,

অতীতে আমরা দেখেছি যে সরকারগুলি কিভাবে অধিকাংশ সংসদ সদস্যকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়ার চেষ্টা করত। কিন্তু আমাদের সরকার প্রথম কার্যকালেই বেশ কিছু মন্ত্রক উঠিয়ে দিয়েছে। আপনারা ভাবুন, আর্বান ডেভেলপমেন্ট-এর স্বতন্ত্র মন্ত্রক ছিল এবং হাউজিং অ্যান্ড আর্বান পভার্টি এলিভিয়েশন-এর স্বতন্ত্র মন্ত্রক ছিল। আমরা এই দুটিকে একত্রিত করে হাউজিং অ্যান্ড আর্বান অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রক গড়ে তুলেছি। এভাবে মিনিস্ট্রি অফ ওভারসিজ অ্যাফেয়ার্স আলাদা ছিল, আবার বিদেশ মন্ত্রক আলাদা ছিল। আমরা এই দুটিকে একসঙ্গে জুড়ে দিয়েছি। আগে জল সরবরাহ এবং নদী উন্নয়নের মন্ত্রক আলাদা ছিল। আবার, পানীয় জল মন্ত্রক আলাদা ছিল। আমরা এগুলিকে জুড়ে দিয়ে জল শক্তি মন্ত্রক তৈরি করেছি। আমরা রাজনৈতিক অসহায়তার জায়গায় দেশের অগ্রাধিকারগুলিকে গুরুত্ব দিয়েছি এবং দেশের সম্পদ রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। 

বন্ধুগণ,

আমাদের সরকার ‘রুলস অ্যান্ড রেগুলেশন্স’-এর সংখ্যা হ্রাস করেছে, সেগুলিকে সহজ করেছে। প্রায় ১,৫০০ এমন আইন ছিল যা সময়ের সঙ্গে নিজেদের গুরুত্ব হারিয়েছিল। সেগুলিকে আমাদের সরকার বাতিল করেছে। প্রায় ৪০ হাজার কমপ্লায়েন্সেস নির্মূল করেছে। এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে দুটি লাভ হয়েছে। প্রথমত, জনগণ নানারকম হয়রানি থেকে মুক্তি পেয়েছেন, আর দ্বিতীয় সরকারি মেশিনারির অনেক শক্তি ও সময়ের অপচয় রোধ করা গেছে। আরও একটি উদাহরণ হল জিএসটি। ৩০-টিরও বেশি করকে একসঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে করদান প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন নথির হিসাবের ক্ষেত্রে অনেক বড় সময় ও অর্থের সাশ্রয় হয়েছে। 

বন্ধুগণ,

আগে সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে অনেক অপব্যয় হত, অনেক দুর্নীতিও যে হত তা আপনারা সংবাদমাধ্যমের সদস্যরা প্রায় প্রতিদিন রিপোর্ট করতেন। আমরা জিইএম বা গভর্নমেন্ট ই-মার্কেটপ্লেস প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছি। ফলে, সমস্ত সরকারি বিভাগ এই প্ল্যাটফর্মে নিজেদের প্রয়োজনের কথা জানায়। এর মাধ্যমেই সমস্ত ভেন্ডাররা দরপত্র জমা দেয়, আর তাকে যাচাই করে দপ্তরগুলিতে পন্য সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ফলে নানা স্তরে দুর্নীতির সুযোগ হ্রাস পেয়েছে। পরিণামস্বরূপ ইতিমধ্যেই সরকারের ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অর্থ সাশ্রয় হয়েছে। প্রত্যক্ষ সুবিধা হস্তান্তর বা ডিবিটি-র যে ব্যবস্থা ভারত গড়ে তুলেছে, তা এখন বিশ্ববাসীর প্রশংসা কুড়োচ্ছে। এই ডিবিটি চালু হওয়ার ফলে ইতিমধ্যেই দেশের করদাতাদের ৩ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অর্থ দালালদের হাতে যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে। ১০ কোটিরও বেশি ভুতুড়ে সুবিধাভোগী যাদের জন্মই হয়নি, তারা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেত।  আমরা এই ধরনের ভুতুড়ে নামগুলিকে ব্যবস্থা থেকে সরিয়েছি। 

বন্ধুগণ,

আমাদের সরকার জনগণের দেওয়া কর-এর প্রতিটি পয়সা সততার সঙ্গে ব্যবহার করছে। এভাবে করদাতাদের সম্মান জানাচ্ছে। আমাদের সরকার কর ব্যবস্থাকেও করদাতা-বান্ধব করে তুলেছে। আজ আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া আগের থেকে অনেক বেশি সরল ও দ্রুত হয়েছে। আগে কোনো চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের সাহায্য ছাড়া আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া কঠিন ছিল, আর আজ আপনারা নিজেরাই কিছুক্ষণের মধ্যে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারছেন। আর রিটার্ন জমা দেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই আপনাদের অ্যাকাউন্টে রিফান্ড এসে যাচ্ছে। ফেসলেস অ্যাসেসমেন্ট স্কিমও করদাতাদের অনেক সমস্যার সুরাহা করেছে। শাসন ব্যবস্থায় দক্ষতা সংক্রান্ত অনেক সংস্কার বিশ্বকে একটি নতুন শাসন ব্যবস্থার মডেল দিয়েছে। 

 

বন্ধুগণ,

বিগত ১০-১১ বছরে ভারত প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন এনেছে, প্রত্যেক ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে। সবচাইতে বড় পরিবর্তন এসেছে ভাবনাচিন্তায়। স্বাধীনতার পর থেকে অনেক দশক ধরে ভারতে এরকম ভাবনাকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে যেখানে শুধু বিদেশিদেরকেই উন্নত বলে মনে করা হত। দোকানে কোনও জিনিস কিনতে গেলে দোকানদার আগে একথা বলতেন যে, এটা নিন, এটা বিদেশ থেকে আমদানি করা জিনিস!
আজ এই পরিস্থিতি বদলে গেছে। আজ কেউ বাজারে গিয়ে আগে জিজ্ঞাসা করে যে ভাই ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্য আছে তো?

বন্ধুগণ,

আজ আমরা ভারতের নির্মাণ দক্ষতাকে একটি নতুন রূপে দেখতে পাচ্ছি। সম্প্রতি ৩-৪ দিন আগেই একটি খবরে দেখলাম যে ভারত তার নিজস্ব এমআরআই মেশিন তৈরি করে নিয়েছে। এখন ভাবুন যে এত দশক ধরে আমাদের দেশ কোনও স্বদেশী এমআরআই মেশিনই ছিল না, আর এখন ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ এমআরআই মেশিন বাজারে আসায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার খরচ অনেক কমে যাবে। 

বন্ধুগণ,

আত্মনির্ভর ভারত আর ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ অভিযান দেশের নির্মাণ ক্ষেত্রকে একটি নতুন প্রাণশক্তি দিয়েছে। আগে বিশ্ববাসীকে ভারতকে আন্তর্জাতিক বাজার হিসেবে গুরুত্ব দিত। আজ সেই বিশ্বই ভারতকে একটি বড় ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে দেখছে। এই সাফল্য কতটা বড় তার উদাহরণ আপনারা প্রতিটি ক্ষেত্রে দেখতে পাবেন। যেমন আমাদের মোবাইল ফোন শিল্পের কথাই ধরুন না। ২০১৪-১৫ সালে এক্ষেত্রে আমাদের রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলারও ছিল না। কিন্তু গত এক দশকে আমরা ২০ বিলিয়ন ডলারের পরিসংখ্যানকে অতিক্রম করেছি। আজ ভারত গ্লোবাল টেলিকম অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং ইন্ডাস্ট্রির একটি শক্তি কেন্দ্রে পরিণত হতে চলেছে। অটোমোটিভ সেক্টরের সাফল্যের সঙ্গেও আপনারা খুব ভালভাবে পরিচিত। এর যত উপাদান ও যন্ত্রাংশ ভারত থেকে এখন বিদেশে রপ্তানি হয়, তা বিশ্ববাজারে ভারতের একটি নতুন পরিচয় গড়ে তুলেছে। আগে আমরা অনেক বড় মাত্রায় মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ আমদানি করতাম, কিন্তু আজ ভারতে নির্মিত যন্ত্রাংশ সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং জার্মানির মতো অনেক উন্নত দেশে পৌঁছচ্ছে। সৌরশক্তি ক্ষেত্রেও আমরা সাফল্যের নতুন নতুন মাত্রা গড়ে তুলেছি। আমাদের সোলার সেল থেকে শুরু করে সোলার মডিউলগুলি বিশ্বের অন্যত্র রপ্তানি হচ্ছে। এক্ষেত্রে আমদানি অনেক কমেছে, আর রপ্তানি ২৩ গুণ বেড়েছে। বিগত এক দশকে আমাদের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের রপ্তানিও ২১ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সমস্ত সাফল্য দেশের নির্মাণ অর্থনীতির শক্তিকে তুলে ধরছে। এথেকে বোঝা যায় যে ভারত কিভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ গড়ে তুলছে। 

বন্ধুগণ,

টিভি৯-এর এই শীর্ষ সম্মেলনে অনেক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা ও মন্থন হবে। আজ আমরা যাই ভাবব, যে দৃষ্টিকোণ নিয়ে এগিয়ে যাব, তাই আমাদের ভবিষ্যতের নকশা তৈরি করবে। বিগত শতাব্দীর এই দশকে ভারত একটি নতুন প্রাণশক্তি নিয়ে দেশের স্বাধীনতার লক্ষ্যে নতুন যাত্রা শুরু করেছিল। আর ১৯৪৭-এ আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এখন এই শতাব্দীর বর্তমান দশকে আমরা উন্নত ভারতের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছি। ২০৪৭-এর মধ্যে আমাদের উন্নত ভারতের স্বপ্নকে অবশ্যই বাস্তবায়িত করতে হবে। আর আমি যেকথা লালকেল্লার প্রাকার থেকে বলেছি, আমাদের ‘সবকা প্রয়াস’ বা সকলের প্রচেষ্টা প্রয়োজন। আজকের এই শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করে টিভি৯-ও নিজের পক্ষ থেকে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে। আপনাদের সবাইকে আরও একবার এই সাফল্যের জন্য আমার পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। 

আমি টিভি৯-কে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানাব কারণ আগেও বিভিন্ন মিডিয়া হাউজ শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। কিন্তু অধিকাংশই একটি ফাইভ-স্টার হোটেলের ছোট কামরায়। সেই শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের সময় বক্তা এবং শ্রোতা উভয়েই ওই একটি কামরাতেই থাকতেন। টিভি৯ এই পরম্পরাকে ভেঙেছে আর এই যে মডেল গড়ে তুলেছে, আমি নিশ্চিত যে দু’বছরের মধ্যে আপনারা দেখবেন যে সমস্ত মিডিয়া হাউজই এই মডেলকে অনুসরণ করছে। অর্থাৎ, টিভি৯ থিঙ্কস টুডে, বাকিদের জন্য নতুন পথ খুলে দিয়েছে। আমি এ ধরনের প্রচেষ্টাকে অনেক অনেক অভিনন্দন জানাই। আপনাদের সম্পূর্ণ টিমকে শুভেচ্ছা জানাই। সবচাইতে আনন্দের বিষয় হল যে আপনারা এই অনুষ্ঠানকে নিছকই একটি মিডিয়া হাউজের উন্নতির জন্য সীমাবদ্ধ রাখেননি, দেশের উন্নতির কথা ভেবে আপনারা এই অনুষ্ঠান সাজিয়েছেন। ৫০ হাজারেরও বেশি নবীন প্রজন্মের মানুষের সঙ্গে একটি মিশন মোডে বার্তালাপ, এর মাধ্যমে তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হওয়া, আর তাঁদের মধ্যে থেকে যে যুবক-যুবতীরা নির্বাচিত হয়ে এসেছেন, তাঁদের পরবর্তী প্রশিক্ষণের কথা ভাবা, এটাও আপনাদের একটি অভূতপূর্ব পদক্ষেপ। আমি আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। আমার এখানে যে যুবক-যুবতীদের সঙ্গে ফটো তোলার সুযোগ হয়েছে, তাঁদেরকে জানাই যে আমারও খুব ভালো লেগেছে যে দেশের মেধাবী যুবক-যুবতীদের সঙ্গে আমি ফটো তুলতে পেরেছি। আমি এটাকে নিজের সৌভাগ্য বলে মনে করি দোস্ত যে, আজ আপনাদের সঙ্গে আমার ফটো উঠেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে সমস্ত নবীন প্রজন্মের যুবক-যুবতীদের, যাঁদেরকে আমি সামনে দেখতে পাচ্ছি, ২০৪৭-এ যখন দেশ উন্নত ভারতে পরিণত হবে, তখন এই নবীন প্রজন্মের মানুষেরাই বেশি সুবিধা পাবেন কারণ, আপনারা বয়সের সেই স্তরে পৌঁছবেন যখন ভারত উন্নত ভারতে পরিণত হবে, আর সেটা হবে আপনাদের জন্য আনন্দের সময়। আপনাদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

ধন্যবাদ।

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
EPFO settles 8.3 crore claims in FY26; cheque leaf upload reform benefits 7 crore members, says govt

Media Coverage

EPFO settles 8.3 crore claims in FY26; cheque leaf upload reform benefits 7 crore members, says govt
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Prime Minister Narendra Modi receives a telephone call from the US Vice President
August 08, 2026
PM and Vice President Vance review progress in the India-U.S. Strategic Partnership.
PM and Vice President Vance exchange views on regional and global developments.
PM warmly congratulates Vice President Vance and Ms. Usha Vance on the birth of their son.

Prime Minister Shri Narendra Modi received a telephone call today from the Vice President of the United States, Mr. J.D. Vance.

Prime Minister and Vice President Vance reviewed progress in the India-U.S. Comprehensive Global Strategic Partnership. They noted the sustained momentum in the high-level engagements and reaffirmed their commitment to further strengthening cooperation in trade, defence, critical and emerging technologies, energy security and critical minerals.

They also exchanged views on regional and global developments of mutual interest.

Prime Minister warmly congratulated Vice President Vance and Ms. Usha Vance on the birth of their son and conveyed best wishes to the family.