শেয়ার
 
Comments
ভারতের অগ্রগতি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সাফল্যের ওপর নির্ভরশীল: প্রধানমন্ত্রী মোদী
বিজ্ঞান চর্চা ও গবেষণার অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে এবং লালফিতের ফাঁস মুক্ত করে তথ্য প্রযুক্তির উপযুক্ত ব্যবহারের লক্ষ্যে আমাদের প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
২০২৪ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের জৈব-উৎপাদন শিল্প হাব ভারতে গড়ে তুলতে আমাদের উদ্যোগী হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী মোদী

বন্ধুগণ, সর্বপ্রথম আমি আপনাদেরকে ইংরাজি ২০২০ সালের শুভেচ্ছা জানাই। এই বছর আপনাদের জীবনে সমৃদ্ধি বয়ে নিয়ে আসুক এবং আপনাদের গবেষণাগারগুলি আরও উৎপাদনক্ষম হোক। আমি বিশেষভাবে আনন্দিত যে, নতুন বছর এবং নতুন দশকে আমার প্রথম অনুষ্ঠানটি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানটি হচ্ছে বেঙ্গালুরুতে যে শহরটি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সঙ্গে জড়িত। শেষবার আমি যখন বেঙ্গালুরুতে এসেছিলাম তখন গোটা দেশের দৃষ্টি চন্দ্রযান-২-এর ওপর নিবদ্ধ ছিল। সেই সময় যেভাবে আমাদের জাতি বিজ্ঞান, মহাকাশ গবেষণা এবং আমাদের বিজ্ঞানীদের ক্ষমতাকে নিয়ে গর্ব অনুভব করেছে তা সবসময়ই আমার মনে থাকবে।

 

বন্ধুগণ, উদ্যান নগরী বেঙ্গালুরু নতুন উদ্যোগের আদর্শ জায়গা। সারা বিশ্ব এখানে উদ্ভাবনের জন্য আসে। এই শহরে গবেষণা ও উন্নয়নের এমন এক পরিবেশ গড়ে উঠেছে যার সঙ্গে প্রতিটি বিজ্ঞানী, উদ্ভাবক, ইঞ্জিনিয়ার যুক্ত হতে চায়। কিন্তু তাঁদের এই চাওয়া কি শুধু নিজের উন্নতি বা নিজের কেরিয়ারের কথা ভেবে? না। তাঁরা এই স্বপ্ন দেখেন দেশের জন্য কিছু করার ইচ্ছা থেকে। নিজের উন্নতির সঙ্গে দেশের উন্নতিকে যুক্ত করার ভাবনা থেকে।

 

আর তাই, আমরা যখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ২০২০ সালকে এক ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে স্বাগত জানাচ্ছি, আমরা আমাদের স্বপ্ন পূরণের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে যাচ্ছি।

 

বন্ধুগণ,

 

আমাকে জানানো হয়েছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন প্রকাশনায় আন্তর্জাতিক স্তরে ভারত তৃতীয় স্থানে পৌঁছেছে। সারা বিশ্বে যেখানে ৪ শতাংশ হারে এই বৃদ্ধি হয়েছে, ভারতের ক্ষেত্রে তার পরিমাণ ১০ শতাংশ। আমি আরও জেনে আনন্দিত হয়েছি যে, উদ্ভাবন সূচকে ভারত এগিয়ে ৫২তম স্থানে পৌঁছেছে। বিগত ৫০ বছরের তুলনায় সর্বশেষ পাঁচ বছরে আমরা যে কর্মসূচিগুলি গ্রহণ করেছি তার মাধ্যমে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। এই কারণে আমি আমাদের বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানাচ্ছি।

বন্ধুগণ,

 

ভারতের উন্নয়ন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। ভারতীয় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে বিপ্লব আনার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। এই দেশের তরুণ বিজ্ঞানীদের উদ্দেশে আমার বার্তা হল ‘উদ্ভাবন, ধৈর্য, উৎপাদন এবং সমৃদ্ধি’র মন্ত্রে এগিয়ে চলুন। এই চারটি পদক্ষেপের মাধ্যমে আমাদের দেশের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে। আমরা যদি উদ্ভাবন করি তাহলে আমরা স্বত্ত্বাধিকার হব, আর তার ফলে আমাদের উৎপাদন প্রক্রিয়া আরও মসৃণ হবে এবং আমরা যখন এই উৎপাদিত সামগ্রী আমাদের দেশবাসীর কাছে পৌঁছে দেব, তাঁরাও সমৃদ্ধ হবেন। আমাদের ‘নতুন ভারত’-এর দিশা হল জনগণের জন্য এবং জনগণের দ্বারা উদ্ভাবন।

 

বন্ধুগণ, নতুন ভারতের প্রযুক্তিও দরকার আবার যুক্তিসম্মত চিন্তাধারারও প্রয়োজন যার ফলে, নতুন দিশায় আমাদের সামাজিক এবং আর্থিক জীবন বিকশিত হবে। আমার সবসময়ই মনে হয় যে, ভারতের সমাজে কাজ করার ক্ষেত্রে, সাম্য আনার ক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আর যখন বিজ্ঞান ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশ হচ্ছে, দেশে স্মার্ট ফোন তৈরি হচ্ছে, সস্তায় তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তখন এক শ্রেণীর মধ্যে এই সুবিধাগুলি কুক্ষিগত থাকার ব্যাপারটিও শেষ হচ্ছে। এর থেকে আজ অত্যন্ত সাধারণ নাগরিকের মনে এই বিশ্বাস জন্মাচ্ছে যে তাঁরা আলাদা নন। সরকারের সঙ্গে তাঁদের সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হচ্ছে। তাঁদের কথা সরাসরি সরকারের কাছে পৌঁছচ্ছে। এই পরিবর্তনটিকেই আমাদের উৎসাহিত করতে হবে, আরও শক্তিশালী করতে হবে।

 

বন্ধুগণ, এখন আমি গ্রামোন্নয়নে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ভূমিকার বিষয়ে কিছু কথা বলব। বিগত পাঁচ বছরে গ্রামোন্নয়নের ক্ষেত্রে দেশের সাধারণ নাগরিকেরও উপকার হয়েছে। স্বচ্ছ ভারত অভিযান থেকে শুরু করে আয়ুষ্মান ভারত, বিশ্বের সবথেকে বড় প্রকল্প যা আজ সফলভাবে রূপায়িত হয়েছে তার পিছনে প্রযুক্তি এবং সুপ্রশাসনের ভূমিকাই সবথেকে বেশি।

 

বন্ধুগণ, আজ দেশে প্রশাসনের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার আগে কখনও হয়নি। গতকালই আমাদের সরকার দেশের ৬ কোটি কৃষককে একসঙ্গে পিএম-কিষান সম্মান নিধির অর্থ হস্তান্তরিত করেছে যা একটি রেকর্ড। কিভাবে এটি সম্ভব হল? আধার প্রযুক্তির সহায়তায়।

 

বন্ধুগণ,

 

যেভাবে দেশের প্রতিটি গ্রামে গরিব পরিবারগুলির কাছে শৌচালয় পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে, বিদ্যুৎ পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে তার মূল কারণ প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির মাধ্যমেই সরকার ৮ কোটি গরিব বোনকে সনাক্ত করতে পেরেছে যাঁদের জীবন কাঠের ধোঁয়ায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিল। প্রযুক্তির মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। একইসঙ্গে, নতুন নতুন সরবরাহ কেন্দ্র কম সময়ের মধ্যে গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। আজ গ্রামে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাস্তা তৈরি হচ্ছে, প্রযুক্তির মাধ্যমে দরিদ্রদের জন্য ২ কোটিরও বেশি বাড়ি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। জিও-ট্যাগিং এবং ডেটা সায়েন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আসছে। যথাযথ নজরদারির ফলে প্রকল্প এবং তার সুবিধাভোগীদের মধ্যে ব্যবধান ঘোচানো সম্ভব হয়েছে। নির্দিষ্ট সময় কাজ শেষ করার ফলে অর্থের সাশ্রয় হয়েছে এবং নতুন নতুন প্রকল্পের পরিকল্পনার বিষয়ে যে সমস্যাগুলি তৈরি হত তার অবসান ঘটেছে।

 

বন্ধুগণ, ‘ইজ অফ ডুয়িং সায়েন্স’ নিশ্চিত করতে আমরা প্রয়াস অব্যাহত রাখব এবং লাল ফিঁতের সমস্যা কমাতে যথাযথ তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করব। কৃষকরা দালালদের দয়া-দাক্ষিণ্য ছাড়াই তাঁদের ফসল সরাসরি বাজারে বিক্রি করতে পারছেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে গ্রামীণ জীবনে ডিজিটালাইজেশন, ই-কমার্স, ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং এবং মোবাইল ব্যাঙ্কিং পরিষেবার সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে। আজ আবহাওয়ার পূর্বাভাস কৃষকরা বিভিন্ন ই-গভর্ন্যান্স ব্যবস্থার মাধ্যমে সহজেই পাচ্ছেন।

 

বন্ধুগণ, ভারতের উন্নয়নে বিশেষ করে, গ্রামের উন্নয়নে প্রযুক্তির প্রয়োগ আরও ব্যাপকভাবে করতে হবে। আগামী দশকে দেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর প্রশাসন নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে, কৃষিক্ষেত্রে ব্যয় কমানো এবং উৎপাদিত সামগ্রী উপভোক্তার কাছে পৌঁছনোর লক্ষ্যে প্রযুক্তির মাধ্যমে সরবরাহের একটি চেন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার বিশেষ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গ্রামই এর ফলে সবথেকে বেশি সরাসরি উপকৃত হবে এবং গ্রামীণ অর্থ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। আপনাদের সকলের জ্ঞাতার্থে জানাই গ্রামে প্রত্যেক বাড়িতে জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ‘জল জীবন মিশন’ নামে একটি বিরাট বড় প্রকল্প শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের সবথেকে বড় শক্তি প্রযুক্তি। আর এখন আপনাদের দায়িত্ব হল জলকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে সস্তা এবং কার্যকর একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা। এক্ষেত্রে জল প্রশাসন আপনাদের জন্য একটি নতুন ক্ষেত্র হিসেবে উঠে আসবে। বাড়িতে ব্যবহৃত জল খেতে সেচের কাজে ব্যবহারের উপযুক্ত করার জন্য সস্তা ও কার্যকর উপায় আপনাদের খুঁজে বের করতে হবে। আমাদের এমন বীজ তৈরি করতে হবে যা পুষ্টিতে ভরপুর হবে অথচ চাষের কাজে জলের ব্যবহারও কমবে। সারা দেশে আজ যে সয়েল হেল্‌থ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে, চাষের কাজে এর ব্যবহার কিভাবে করা যায় তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে হবে। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল এই সাপ্লাই চেনে আমাদের কৃষকদের যে ক্ষতি হয়, তার থেকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির অনুসন্ধান অত্যন্ত জরুরি।

বন্ধুগণ,

 

আগামীদিনে গ্রামীণ অর্থ ব্যবস্থার উন্নতিতে আমাদের অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আসুন, এখন আমরা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বিষয়ে কথা বলি। দেশকে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের থেকে মুক্তি দেওয়ার সঙ্কল্প আমরা গ্রহণ করেছি যার মাধ্যমে আমারা আমাদের পরিবেশ, পশু, মাছ ও মাটিকে বাঁচাতে পারি। কিন্তু প্লাস্টিকের মতো সস্তা ও টেঁকসই বিকল্প কিছু তো আপনাদের খুঁজে বের করতে হবে। ধাতুই হোক, মাটি বা তন্তু – প্লাস্টিকের বিকল্প আপনাদের গবেষণাগার থেকেই বের করতে হবে। প্লাস্টিকের বর্জ্যের সঙ্গে বৈদ্যুতিন সামগ্রীর বর্জ্য থেকে ধাতু নিঃসরণ করে তার পুনর্ব্যবহারের বিষয়ে নতুন নতুন প্রযুক্তির সন্ধান অত্যন্ত জরুরি।

 

আপনারা যে সমাধানই আমাদের দেবেন, আমাদের ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোগী, কুম্ভকার, ছুতোর তার মাধ্যমেই পণ্য তৈরি করে তা বাজারজাত করবে। এর ফলে, পরিবেশ বাঁচবে। একইসঙ্গে ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোগেরও উন্নতি হবে।

 

বন্ধুগণ,

 

পরিবেশ-বান্ধব, সার্কুলার ও সুস্থায়ী অর্থনীতির জন্য গ্রামের আর্থিক পরিস্থিতির অনুকূল নতুন উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। ফসলের অবশিষ্টাংশ এবং বাড়ির বর্জ্য পদার্থের থেকে পরিবেশ দূষণ একটি বড় সমস্যা। এই বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করার জন্য চেষ্টা করতে হবে। ২০২২ সালের মধ্যে তেলের ব্যবহার ১০ শতাংশ কম করা আমাদের লক্ষ্য। জৈব জ্বালানি, জৈব প্রযুক্তি এবং ইথানল তৈরির ক্ষেত্রে উদ্যোগ স্থাপনের বিশেষ সম্ভাবনা রয়েছে।

 

এই শিল্পগুলির বিষয়ে আরও গবেষণার জন্য আমাদের উৎসাহ দিতে হবে। এর সঙ্গে যাঁরা কাজ করবেন, তাঁদের খবরগুলি আমাদের প্রচার করতে হবে। মনে রাখবেন, ভারতের অর্থনীতিকে ৫ লক্ষ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করতে হলে আপনাদের সকলের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

 

বন্ধুগণ, কৃষিকাজে প্রযুক্তির ব্যবহারে বিপ্লব আনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর সমস্যাটির একটি কৃষক-কেন্দ্রিক সমাধান কি আমরা খুঁজে পেতে পারি? নিঃসরণ কমিয়ে শক্তির যথাযথ ব্যবহারের লক্ষ্যে আমরা কি আমাদের ইঁটভাটাগুলির জন্য নতুন নকশা তৈরি করতে পারি? দেশ জুড়ে বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহের লক্ষ্যে আমাদের আরও ভালো এবং কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন। বছরের পর বছর ধরে কলকারখানা থেকে যে বর্জ্য বেরিয়ে আমাদের মাটি এবং ভূগর্ভস্থ জলস্তরকে ধ্বংস করছে, সেটিকে কিভাবে আটকানো যায়?

 

বন্ধুগণ,

 

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমি এখানে উল্লেখ করতে চাই যে চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত যন্ত্রপাতিগুলি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির মাধ্যমে তৈরি করে আমাদের জনগণের কাছে তার সুফল পৌঁছে দিতে হবে।

 

মহাত্মা গান্ধী একবার বলেছিলেন, “স্বাস্থ্যই প্রকৃত সম্পদ, সোনা বা রূপো নয়।” সুস্বাস্থ্যের লক্ষ্যে আমাদের কিছু প্রথাগত প্রজ্ঞার ব্যবহার করলেই চলবে না, আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়াতে হবে এবং সমসাময়িক জৈব-চিকিৎসার ক্ষেত্রে গবেষণার ওপর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে।

 

নিপা, ইবোলা ইত্যাদির মতো সংক্রমণযোগ্য ব্যাধিগুলির হাত থেকে জনগণকে বাঁচানোর লক্ষ্যে আমাদের ভাবনাচিন্তা করতে হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে যক্ষ্মা নির্মূল করার লক্ষ্যে আমাদের নিরন্তর প্রয়াস চালাতে হবে। আন্তর্জাতিক স্তরে টিকা সরবরাহের ক্ষেত্রে ভারত প্রথম সারিতে রয়েছে। ২০২৪ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের জৈব-উৎপাদন শিল্প হাব ভারতে গড়ে তুলতে আমাদের উদ্যোগী হতে হবে। সঠিক নীতি গ্রহণ এবং উদ্ভাবনী গবেষণা, মানবসম্পদ ও শিল্পোদ্যোগের মাধ্যমেই এই লক্ষ্যে পৌঁছনো সম্ভব।

বন্ধুগণ,

 

সুস্থায়ী ও পরিবেশ-বান্ধব বিদ্যুৎ মজুত করা এবং তা সরবরাহ করার ক্ষেত্রে ভারতকে একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে গ্রিড ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, কারণ আমরা পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তি বন্টনের পরিমাণ বৃদ্ধি করছি। এর জন্য নতুন ধরনের ব্যাটারির প্রয়োজন যেগুলি ক্রান্তিয় জলবায়ুতে শত শত গিগাওয়াট স্কেলের বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের লক্ষ্যে সহজলভ্য, পরিবেশ-বান্ধব সামগ্রী দিয়ে তৈরি করতে হবে।

 

বন্ধুগণ, জলবায়ুর যথাযথ পূর্বাভাসে ব্যাপক সামাজিক ও আর্থিক উপকার হয়। গ্রীষ্মকালীন ঘূর্নিঝড়ের ক্ষেত্রে বিশেষ করে আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং সতর্কীকরণের বিষয়ে যথেষ্ট উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর ফলে, প্রাণহানি কমেছে। মহাকাশ অভিযানে আমাদের সাফল্য এখন সমুদ্রের গভীরেও প্রতিফলিত হচ্ছে। মহাসাগর থেকে প্রাপ্ত জল, শক্তি, খাদ্য এবং খনিজ পদার্থের বিষয়ে আমাদের অনুসন্ধান করে তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতে হবে। এ কাজে গভীর জলে স্বয়ংক্রিয় যানবাহন, সমুদ্রে খনিজ উত্তোলন এবং মনুষ্যচালিত যন্ত্রপাতির উন্নয়নের প্রয়োজন। আমি তাই আশা করি, ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রক যে ‘ডিপ ওশন মিশন’-এর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে তা এই উদ্যোগগুলির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।

 

বন্ধুগণ,

 

আমি বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে জেনেছি যে গতিশীল শক্তির ক্ষমতা এতটাই যে তা একটি পাহাড়কে নাড়িয়ে দিতে পারে। আমরা কি গতিবিজ্ঞান তৈরি করতে পারি? একটু কল্পনা করুন যে, প্রাসঙ্গিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, নতুন উদ্যোগ এবং শিল্পের মাধ্যমে আমাদের সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনাকে আমরা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজে লাগালে তার কি ব্যাপক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই প্রবল গতিকে বশীভূত করে আমরা কি নতুন ভারতের সুযোগগুলিকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে তা চালনা করতে পারি না?

 

বন্ধুগণ,

 

সরকার এবং জনগণের মধ্যে প্রযুক্তি সেতুবন্ধনের কাজ করে। প্রযুক্তির দ্রুত এবং প্রকৃত বিকাশের মাধ্যমে প্রকৃত লক্ষ্যে পৌঁছনো সম্ভব। প্রযুক্তি পক্ষপাতদুষ্ট হয় না। এই কারণেই মানুষের চিন্তাভাবনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করলে অভূতপূর্ণ ফলাফল পাওয়া সম্ভব। আমার পুরো বিশ্বাস, নতুন বছর এবং নতুন দশকে নতুন ভারতের নতুন মনোভাব, চিন্তাভাবনা আমরা একযোগে আরও দৃঢ় করতে পারব। আরও একবার আপনাদের সকলকে, পুরো বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়কে এবং আপনাদের পরিবারকে নতুন বছরের শুভ কামনা। অনেক অনেক ধন্যবাদ!

Explore More
৭৬তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লালকেল্লার প্রাকার থেকে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর জাতির উদ্দেশে ভাষণের বঙ্গানুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

৭৬তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লালকেল্লার প্রাকার থেকে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর জাতির উদ্দেশে ভাষণের বঙ্গানুবাদ
Arming Armenia: India to export missiles, rockets and ammunition

Media Coverage

Arming Armenia: India to export missiles, rockets and ammunition
...

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
4Ps of 'people, public, private partnership' make Surat special: PM Modi
September 29, 2022
শেয়ার
 
Comments
“Surat is a wonderful example of both people's solidarity and public participation”
“4 P means people, public, private partnership. This model makes Surat special”
“In double engine government, clearances and implementation of development work have attained an unprecedented momentum”
“New National Logistics policy will benefit Surat a great deal”
“Surat will also be known for electric vehicles very soon”
“When trust grows, effort grows, and the pace of development of the nation is accelerated by Sabka Prayas”

भारत माता की– जय

भारत माता की– जय

आप सभी सूरतवासियों को नवरात्रि की अनेक-अनेक शुभकामनाएं। वैसे नवरात्रि के समय मेरे जैसे व्‍यक्ति को सूरत आना आनंददायक है, अच्‍छा लगता है, लेकिन नवरात्रि का व्रत चलता हो, तब सूरत आने में थोड़ा कठिन लगता है। सूरत आओ और सूरती खाना खाए बिना जाओ।

ये मेरा सौभाग्‍य है कि नवरात्रि के इस पावन अवसर के समय मैं आज और कल, गुजरात की धरती पर इंफ्रास्ट्रक्चर, खेल-संस्कृति और आस्था से जुड़े कई बड़े आयोजनों का हिस्सा बनूंगा। गुजरात के गौरव को और बढ़ाने का ये सौभाग्य मिलना, आपके बीच आना और आप सबके आशीर्वाद लेना, आपका ये प्‍यार, आपका ये उत्‍साह दिनों दिन बढ़ता ही जा रहा है। गुजरात के लोगों का, सूरत के लोगों का धन्‍यवाद करने के लिए मेरे शब्‍द भी कम पड़ रहे हैं, इतना प्‍यार आपने दिया है।

सूरत में विकास का लाभ जिस तरह हर घर तक पहुंच रहा है, वो जब मैं देखता हूं, सुनता हूं तो मेरी खुशी अनेक गुना बढ़ जाती है। इसी क्रम में आज सूरत के विकास से जुड़ी अनेक परियोजनाओं का उद्घाटन या शिलान्यास किया गया है। इनमें से अधिकतर प्रोजेक्ट, सामान्य सूरत वासियों को, मध्यम वर्ग को, व्यापारी वर्ग को अनेक प्रकार की सुविधाएं और लाभ पहुंचाने वाले हैं। मुझे बताया गया है कि 75 अमृत सरोवरों के निर्माण का काम सूरत में बहुत तेजी से चल रहा है। इसके लिए भी जिले के सभी साथी, शासन-प्रशासन, हर कोई और मेरे सूरतवासी भी बधाई के पात्र हैं।

साथियों,

सूरत शहर लोगों की एकजुटता औऱ जनभागीदारी, दोनों का बहुत ही शानदार उदाहरण है। हिन्दुस्तान का कोई प्रदेश ऐसा नहीं होगा, जिसके लोग सूरत की धरती पर न रहते हों, एक प्रकार से मिनी हिन्‍दुस्‍तान। सूरत की सबसे बड़ी खासियत ये है कि ये शहर सूरत, इस बात के लिए मैं हमेशा इसका गर्व करता हूं, ये शहर श्रम का सम्मान करने वाला शहर है। यहां टैलेंट की कद्र होती है, प्रगति की आकांक्षाएं पूरी होती हैं, आगे बढ़ने के सपने साकार होते हैं। और सबसे बड़ी बात, जो विकास की दौड़ में पीछे छूट जाता है, ये शहर उसे ज्यादा मौका देता है, उसका हाथ थामकर आगे ले लाने का प्रयास करता है। सूरत की यही स्पिरिट आज़ादी के अमृतकाल में विकसित भारत के निर्माण के लिए बहुत बड़ी प्रेरणा है।

साथियों,

इस सदी के शुरुआती दशकों में जब दुनिया में तीन ''P'' यानि पब्लिक-प्राइवेट पार्टनरशिप की चर्चा होती थी, तब मैं कहता था कि सूरत चार ‘पी’ का उदाहरण है। चार ''P'' यानि पीपल्स, पब्लिक, प्राइवेट, पार्टनरशिप। यही मॉडल सूरत को विशेष बनाता है। सूरत के लोग वो दौर कभी भूल नहीं सकते, जब महामारियों को लेकर, बाढ़ की परेशानियों को लेकर यहां अपप्रचार को हवा दी जाती थी। उस कालखंड में यहां के व्यापारी और व्‍यापारी समाज के अनेक लोगों से मैंने एक बात कही थी। मैंने कहा था कि अगर सूरत शहर की ब्रांडिंग हो गई तो हर सेक्टर, हर कंपनी की ब्रांडिंग अपने आप हो जाएगी। और आज देखिए, सूरत के आप सभी लोगों ने ऐसा करके दिखा दिया है। मुझे खुशी है कि आज दुनिया के सबसे तेज़ी से विकसित होते शहरों में सूरत का नाम है और इसका लाभ यहां हर व्यापार-कारोबार को हो रहा है।

भाइयों और बहनों,

पिछले 20 वर्षों में सूरत ने देश के बाकी शहरों की अपेक्षा बहुत अधिक प्रगति की है, तेजी से प्रगति की है। आज हम अक्सर देश के सबसे स्वच्छ शहरों में सूरत का गर्व से ज़िक्र करते हैं। लेकिन ये सूरत के लोगों की निरंतर मेहनत का परिणाम है। सैकड़ों किलोमीटर से अधिक के नए ड्रेनेज नेटवर्क ने सूरत को एक नया जीवनदान दिया है। दो दशकों में इस शहर में जो सीवरेज ट्रीटमेंट की कैपेसेटी बनी है, उससे भी शहर को साफ-सुथरा रखने में मदद मिली है। आज भाकर और बामरौली में नई कैपेसिटी जुड़ गई है। यहां जिन साथियों को काम करते हुए 20 साल से ज्यादा का समय हो चुका है, वो इस बदलाव के बहुत बड़े साक्षी हैं। बीते वर्षों में सूरत में झुग्गियों की संख्या में भी काफी कमी आई है। इन 2 दशकों में यहां गरीबों के लिए, झुग्गियों में रहने वालों के लिए करीब-करीब 80 हज़ार घर बनाए गए हैं। सूरत शहर के लाखों लोगों के जीवन स्तर में इससे सुधार आया है।

साथियों,

डबल इंजन की सरकार बनने के बाद अब घर बनाने में भी तेज़ी आई है और सूरत के गरीबों, मिडिल क्लास को दूसरी अनेक सुविधाएं भी मिलने लगी हैं। आयुष्मान भारत योजना के तहत देश में अभी तक लगभग 4 करोड़ गरीब मरीज़ों को मुफ्त इलाज मिल चुका है। इसमें 32 लाख से अधिक मरीज़ गुजरात के और लगभग सवा लाख मरीज, ये मेरे सूरत से हैं।

वहीं पीएम स्वनिधि योजना के तहत रेहड़ी, पटरी, ठेले पर काम करने वाले देश के लगभग 35 लाख साथियों को अभी तक बैंकों से बिना गारंटी का सस्ता ऋण मिल चुका है। अभी शायद आपने दुनिया में बहुत जाने-माने दानवीर बिल गेट्स का एक आर्टिकल पढ़ा होगा, उसमें उन्‍होंने इस बात का जिक्र किया है। एक लेख लिखा है उसमें इन सब चीजों का उल्‍लेख किया है उन्‍होंने। साथियों, इसमें गुजरात के ढाई लाख से ज्यादा लोगों और सूरत के करीब 40 हजार साथियों को इसकी मदद मिली है।

साथियों,

सूरत शहर के पश्चिमी हिस्से रानदेर, अरायण, पाल, हज़ीरा, पालनपुर, जहांगीरपुरा और दूसरे क्षेत्रों में आज जितनी चहल-पहल दिखती है, वो 20 साल के अखंड एकनिष्ठ परिश्रम का परिणाम है। शहर के अलग-अलग हिस्सों में तापी पर आज दर्जनभर से ज्यादा पुल हैं, जो शहर को भी जोड़ रहे हैं और सूरतवासियों को समृद्धि से भी जोड़ रहे हैं। इस स्तर की इंटरसिटी कनेक्टिविटी बहुत कम देखने को मिलती है। सूरत सही मायने में सेतुओं का शहर है। जो मानवीयता, राष्ट्रीयता और समृद्धि की खाइयों को पाट करके जोड़ने का काम करता है।

भाइयों और बहनों,

आज जिन प्रोजेक्ट्स का शिलान्यास और लोकार्पण हुआ है, वे सभी सूरत की इसी पहचान को सशक्त करने वाले हैं। सूरत के कपड़ा और हीरा कारोबार से देशभर के अनेक परिवारों का जीवन चलता है। DREAM City प्रोजेक्ट जब पूरा हो जाएगा तो सूरत, विश्व के सबसे सुरक्षित और सुविधाजनक डायमंड ट्रेडिंग हब के रूप में विकसित होने वाला है। वो दिन दूर नहीं जब सूरत, दुनिया भर के डायमंड कारोबारियों, कंपनियों के लिए एक आधुनिक ऑफिस स्पेस के रूप में पहचाना जाएगा।

इतना ही नहीं, कुछ महीने पहले ही केंद्र सरकार ने सूरत पावरलूम मेगाकलस्टर, ये बहुत बड़ा निर्णय है भारत सरकार का, पावरलूम मेगाकलस्‍टर, उसकी स्वीकृति दे दी है और इससे सायन और ओलपाडो, इन क्षेत्रों में पावरलूम वालों को जो समस्याएं आती थीं वो समस्याएं कम होंगी। यही नहीं, इससे प्रदूषण से जुड़ी समस्याओं का भी समाधान होगा।

साथियों,

सूरती लोगों की खासियत है सुरतीलाला को मौज करे बिना नहीं चलता, और बाहर से आने वाला व्यक्ति भी देखते ही देखते सुरतीलाला के रंग में रंग जाता है। और मैं तो काशी का सांसद हूँ, इसलिए लोग मुझे रोज सुनाते हैं कि सूरत का भोजन और काशी की मृत्यु। शाम हुई नहीं और ताप्ती नदी के आसपास के इलाकों में घूम कर ठंडी हवा का लुत्फ उठाते हैं और कुछ खा-पीकर ही घर लौटते हैं। इसलिए ताप्ती के किनारों सहित, सूरत को और आधुनिक बनाने के प्रयासों को आगे बढ़ाने के लिए भूपेंद्र भाई और सी आर पाटिल और कॉर्पोरेशन से जुड़े लोग, यहां के विधायक, इन सबको मैं बधाई देता हूं आपके इन प्रयासों के लिए। बायोडायवर्सिटी पार्क प्रोजेक्ट के बनने से सूरतवासियों की टहलने की इस आदत को और सुविधा मिलेगी, उठने-बैठने-सीखने के लिए नए स्थान मिलेंगे।

भाइयों और बहनों,

एयरपोर्ट से शहर को जोड़ने वाली सड़क जो बनी है, वो सूरत की संस्कृति, समृद्धि और आधुनिकता को दर्शाती है। लेकिन यहां अनेक साथी ऐसे हैं, जिन्होंने एयरपोर्ट के लिए भी हमारे लंबे संघर्ष को देखा है, उसका हिस्सा भी रहे हैं। तब जो दिल्ली में सरकार थी, हम उनको बताते-बताते थक गए कि सूरत को एयरपोर्ट की ज़रूरत क्यों है, इस शहर का सामर्थ्य क्या है। आज देखिए, कितनी ही फ्लाइट्स यहां से चलती हैं, कितने ही लोग हर रोज़ यहां एयरपोर्ट पर उतरते हैं। आपको याद होगा, यही स्थिति मेट्रो को लेकर भी थी। लेकिन आज जब डबल इंजन की सरकार है, तो स्वीकृति भी तेज़ गति से मिलती है और काम भी उतनी ही तेज़ी से होता है।

भाइयों और बहनों,

व्यापार-कारोबार में लॉजिस्टिक्स का कितना महत्व होता है, ये सूरत वाले अच्छे से जानते हैं। नई राष्ट्रीय लॉजिस्टिक्स पॉलिसी से सूरत को बहुत लाभ होने वाला है। मल्टी मॉडल कनेक्टिविटी के लिए भी सूरत में एक बड़ी योजना पर काम शुरू हो चुका है। घोघा-हजीरा Ropax Ferry Service ने सौराष्ट्र के कृषि हब को सूरत के बिजनेस हब से जोड़ने में बहुत महत्वपूर्ण भूमिका निभाई है। घोघा और हजीरा के बीच रो-रो फेरी सर्विस की वजह से लोगों का समय भी बच रहा है और पैसा भी बच रहा है। सड़क के रास्ते घोघा और हजीरा के बीच की दूरी करीब-करीब 400 किलोमीटर के आसपास होती है। जबकि समंदर के रास्ते यही दूरी कुछ ही किलोमीटर हो जाती है। अब ये, इससे बड़ी सुविधा क्‍या हो सकती है। इस वजह से जहां पहले घोघा से हजीरा आने-जाने में 10-12 घंटे लगते थे, वहीं अब ये सफर साढ़े तीन-चार घंटे के अंदर हो जाता है। हम फेरी की वजह से, भावनगर, अमरेली और सौराष्ट्र के दूसरे हिस्सों से सूरत आए लोगों को बहुत लाभ होगा। अब पर्मानेंट टर्मिनल तैयार होने के कारण, आने वाले दिनों में और ज्यादा रूट खुलने की संभावना बढ़ी है। इससे यहां के उद्योगों को, किसानों को पहले से ज्यादा लाभ होगा।

साथियों,

हमारी सरकार सूरत के व्यापारियों-कारोबारियों की हर आवश्यकता को देखते हुए काम कर रही है, नए-नए इनोवेशन कर रही है। मैं आपको एक उदाहरण देता हूं। आप जानते हैं कि सूरत के टेक्सटाइल का एक बड़ा बाजार काशी और पूर्वी उत्तर प्रदेश से भी जुड़ा हुआ है। यहां से बड़ी संख्या में ट्रकों के जरिए सामान, पूर्वी यूपी भेजा जाता रहा है। अब रेलवे और पोस्टल डिपार्टमेंट ने मिलकर एक नया समाधान भी खोजा है, एक नया इनोवेशन किया है। रेलवे ने अपने कोच की डिजाइन को इस तरह से बदला है कि उसमें आसानी से कार्गो फिट हो जाता है। इसके लिए खास तौर पर एक टन के कंटेनर भी बनाए गए हैं। ये कंटेनर आसानी से चढ़ाए और उतारे जा सकते हैं। शुरुआती सफलता के बाद अब सूरत से काशी के लिए पूरी एक नई ट्रेन ही चलाने की कोशिश हो रही है। ये ट्रेन, सूरत से माल-सामान ढो करके काशी तक जाया करेगी। इसका बहुत बड़ा लाभ सूरत के व्यापारियों को होगा, यहां के कारोबारियों को होगा, यहां के मेरे श्रमिक भाइयों-बहनों को होगा।

बहुत जल्द सूरत बिजली से चलने वाली इलेक्ट्रिक व्‍हीकल, बिजली से चलने वाली गाड़ियों के लिए भी ये सूरत पहचाना जाएगा। सूरत की नित नई-नई पहचान बनती है, कभी सिल्‍क सिटी, कभी डायमंड सिटी, कभी सेतु सिटी और अब इलेक्ट्रिक व्‍हीकल वाले सिटी के रूप में जाना जाएगा। केंद्र सरकार आज पूरे देश में इलेक्ट्रिक वाहनों को चलाने के लिए सरकारों को मदद दे रही है। सूरत इस मामले में भी देश के बाकी शहरों की तुलना में बहुत तेज़ी से काम कर रहा है और मैं सूरत को बधाई देता हूं, इस काम के लिए। आज सूरत शहर में 25 चार्जिंग स्टेशन्स का लोकार्पण और इतने ही स्टेशनों का शिलान्यास हुआ है। आने वाले कुछ समय में सूरत में 500 चार्जिंग स्टेशन्स स्थापित करने की तरफ ये बहुत बड़ा कदम है।

साथियों,

बीते 2 दशकों से विकास के जिस पथ पर सूरत चल पड़ा है, वो आने वाले सालों में और तेज़ होने वाला है। यही विकास आज डबल इंजन सरकार पर विश्वास के रूप में झलकता है। जब विश्वास बढ़ता है, तो प्रयास बढ़ता है। और सबका प्रयास से राष्ट्र के विकास की गति तेज़ होती है। इस गति को हम बनाए रखेंगे, इसी आशा के साथ सूरत वासियों का जितना आभार व्यक्त करूं ,उतना कम है। सूरत ने उदाहरण स्वरूप प्रगति की है। मित्रों, हिंदुस्तान में सूरत के समकक्ष कई शहर हैं, लेकिन सूरत ने सबको पीछे छोड़ दिया है। और यह शक्ति गुजरात में ही है दोस्तों, यह गुजरात की शक्ति को जरा भी आंच ना आये, गुजरात की विकास यात्रा में कोई कमी ना रहे, इसके लिए कोटी-कोटी गुजराती प्रतिबद्ध है, संकल्पबद्ध है। यही विश्वास के साथ फिर एक बार आप सभी का बहुत-बहुत आभार।

भारत माता की- जय,

भारत माता की-जय,

भारत माता की- जय,

धन्यवाद!