শেয়ার
 
Comments
PM inaugurates Shrimad Rajchandra Hospital at Dharampur in Valsad, Gujarat
PM also lays foundation stone of Shrimad Rajchandra Centre of Excellence for Women and Shrimad Rajchandra Animal Hospital, Valsad, Gujarat
“New Hospital strengthens the spirit of Sabka Prayas in the field of healthcare”
“It is our responsibility to bring to the fore ‘Nari Shakti’ as ‘Rashtra Shakti’”
“People who have devoted their lives to the empowerment of women, tribal, deprived segments are keeping the consciousness of the country alive”

নমস্কার,

নমস্কার, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল, শ্রীমদ রাজচন্দ্রজির ভাবনাগুলিকে বাস্তবায়িত করার জন্য অহর্নিশ প্রচেষ্টারত শ্রীমান রাকেশজি, সংসদে আমার সহযোগী শ্রী সি.আর.পাটিলজি, গুজরাটের মন্ত্রীগণ, এই পবিত্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল মাননীয় ব্যক্তিবর্গ, ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ,

আমাদের দেশের শাস্ত্রগুলিতে লেখা রয়েছে যে –

সহজীবনী গুণায়স্য, ধর্মো য়স্য জীবতী।

অর্থাৎ, যাঁর গুণধর্ম, যাঁর কর্তব্য জীবিত থাকে, তিনিই জীবিত থাকেন, অমর থাকেন। যাঁর কর্ম অমর থাকে, তাঁর প্রাণশক্তি এবং প্রেরণা অনেক প্রজন্ম ধরে সমাজের সেবা করতে থাকে।

শ্রীমদ রাজচন্দ্র মিশন, ধরমপুরের আজকের এই অনুষ্ঠান এই শ্বাশত ভাবনার প্রতীক। আজ এখানে একটি মাল্টি-স্পেশালিটি হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন হয়েছে, একটি পশু হাসপাতালের শিলান্যাস করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, মহিলাদের জন্য সেন্টার অফ এক্সেলেন্স-এর নির্মাণের কাজও আজ থেকে শুরু হচ্ছে। এর মাধ্যমে গুজরাটের গ্রামবাসী, গরীব এবং বিভিন্ন জনজাতির মানুষেরা বিশেষ করে, দক্ষিণ গুজরাটের বন্ধুরা, আমাদের মা ও বোনেরা অনেক লাভবান হবেন। এই আধুনিক পরিষেবাগুলির জন্য আমি রাকেশজিকে, এই সমগ্র মিশনকে, আপনাদের সমস্ত ভক্তজন এবং সেবাব্রতীদের যত ধন্যবাদ জানাব তা কম পড়বে, যত অভিনন্দন জানাব তাও কম হবে।

আজ যখন আমার সামনে ধরমপুরে এত বিশাল জনসমুদ্র দেখতে পাচ্ছি, আমি ভেবেছিলাম, এখানে আজ রাকেশজির কাছ থেকে অনেক কথা শোনার সৌভাগ্য হবে। কিন্তু তিনি অত্যন্ত সংক্ষেপে বক্তব্য সম্পূর্ণ করেছেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে শ্রদ্ধেয় রণছোড়দাস মোদীজিকে স্মরণ করেছেন। আমি এই এলাকার সঙ্গে অনেকটাই পরিচিত। অনেক বছর আগে আপনাদের সকলের মাঝেই ছিলাম। কখনও ধরমপুর, কখনও সিন্ধুবর, আপনাদের মধ্যেই থাকতাম, আর আজ যখন এত বড় উন্নয়নের ফলক দেখতে পাচ্ছি, আর এই এলাকার মানুষের এত উৎসাহ দেখতে পাচ্ছি, তখন আমার খুব আনন্দ হচ্ছে। এখানে আজ সুদূর মুম্বাই থেকেও মানুষ এসে সেবাকর্মে নিজেদের সমর্পণ করছেন।

গুজরাটের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ এসে জুটেছেন। অনেকে বিদেশ থেকেও এসে এ কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। কারণ, শ্রীমদ রাজচন্দ্রজি একজন মূক সেবকের মতো সমাজের প্রতি ভক্তির যে বীজ বপন করে গেছেন তা আজ কিভাবে বটবৃক্ষে পরিণত হয়েছে, এটা আমরা সবাই অনুভব করতে পারছি।

বন্ধুগণ,

শ্রীমদ রাজচন্দ্র মিশনের সঙ্গে আমার পুরনো সম্পর্ক রয়েছে। আমি আপনাদের নানা সামাজিক গতিবিধিকে অত্যন্ত কাছ থেকে দেখেছি। সেজন্য যখন এই শ্রীমদ রাজচন্দ্র মিশনের নাম শুনি, তখনই আপনাদের সকলের প্রতি আমার মন সম্মানে ভরে ওঠে। আজ যখন দেশ স্বাধীনতার ৭৫ বর্ষ পূর্তির উৎসব পালন করছে, অমৃত মহোৎসব পালন করছে, তখন আমাদের এই কর্তব্যভাবেরই সবচাইতে বেশি প্রয়োজন। এই পবিত্র ভূমিতে, এই মহান ভূমিতে, এই পূণ্য ভূমিতে আমরা যত কিছু পেয়েছি তার একটি অংশও যদি আমরা সমাজকে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি, তাহলে সমাজে অনেক দ্রুতগতিতে পরিবর্তন আসবে। আমি একথা ভেবে অত্যন্ত আনন্দ অনুভব করি যে পূজনীয় গুরুদেবের নেতৃত্বে শ্রীমদ রাজচন্দ্র মিশন আজ গুজরাটের গ্রামীণ এলাকায় চিকিৎসাক্ষেত্রে প্রশংসনীয় কাজ করছে। দরিদ্র মানুষের সেবার প্রতি এই দায়বদ্ধতা এই নতুন হাসপাতালটির মাধ্যমে আরও ভালোভাবে পালন করা সম্ভব হবে। এই হাসপাতাল এবং গবেষণা কেন্দ্রটি গ্রামীণ ক্ষেত্রে অনেক আধুনিক পরিষেবা প্রদান করতে চলেছে। সকলের জন্য সুলভ মূল্যে উন্নতমানের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে চলেছে। এটি স্বাধীনতার অমৃতকালে সুস্থ ভারতের জন্য দেশের দূরদৃষ্টিকে শক্তিশালী করে তুলবে। এটি চিকিৎসাক্ষেত্রে ‘সবকা প্রয়াস’-এর ভাবনাকে শক্তিশালী করে তুলবে।

বন্ধুগণ,

স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসবে দেশ তার সেই সন্তানদের স্মরণ করছে যাঁরা ভারতকে দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করার জন্য জীবনপণ লড়াই করেছেন। শ্রীমদ রাজচন্দ্রজি তেমনই একজন সন্ন্যাসী পুরুষ, জ্ঞানী পুরুষ, একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন মহান সন্ন্যাসী ছিলেন। এ দেশের ইতিহাসে তাঁর একটা বড় অবদান রয়েছে। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় যে ভারতের জ্ঞানে সমৃদ্ধ, ভারতের প্রকৃত শক্তিকে দেশবাসী এবং বিশ্ববাসীর সঙ্গে যিনি পরিচিত করাচ্ছিলেন, সেই শ্রীমদ রাজচন্দ্রজির মতো তেজস্বী নেতৃত্বকে আমরা দ্রুত হারিয়েছি। পূজনীয় ‘বাপু’ মহাত্মা গান্ধী নিজে বলেছিলেন, “আমাদের হয়তো অনেক জন্ম নিতে হবে, কিন্তু শ্রীমদ-এর জন্য একটা জন্মই যথেষ্ট।” আপনারা কল্পনা করতে পারেন! যে মহাত্মা গান্ধীকে আজ আমরা বিশ্বে একজন পথ প্রদর্শক রূপে দেখি, সেই পূজনীয় ‘বাপু’ তাঁর আধ্যাত্মিক চেতনার জন্য শ্রীমদ রাজচন্দ্রজির কাছ থেকে প্রেরণা পেতেন। আমি মনে করি, দেশ আজ রাকেশজির কাছে অত্যন্ত ঋণী যিনি শ্রীমদ রাজচন্দ্রজির জ্ঞান প্রবাহকে জারি রেখেছেন, আর আজ তাঁর সমস্ত উদ্যোগ ও ভালোবাসা দিয়ে এই হাসপাতাল গড়ে তুলেছেন। কিন্তু রাকেশজির দৃষ্টিতে এই পবিত্র প্রকল্পটি তিনি শ্রদ্ধেয় রণছোড়দাস মোদীকে অর্পণ করেছেন। এটা রাকেশজির বড় মনের পরিচয়। সমাজের গরীব, বঞ্চিত জনজাতির মানুষদের জন্য এভাবে নিজের জীবন সমর্পণ করে দেওয়া ব্যক্তিত্বরাই দেশের চেতনাকে জাগ্রত রেখেছে।

বন্ধুগণ,

এখানে এই যে নতুন সেন্টার অফ এক্সলেন্স ফর উইমেন গড়ে উঠছে এটি আমাদের বিভিন্ন জনজাতির বোন ও কন্যাদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তাঁদের জীবনকে অধিক সমৃদ্ধ করে তোলার লক্ষ্যে আরও একটি বড় পদক্ষেপ। শ্রীমদ রাজচন্দ্রজির আগ্রহ ছিল শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন। তিনি অত্যন্ত কম বয়সেই নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বক্তব্য রেখেছেন। তাঁর লেখা একটি কবিতায় তিনি লিখেছেন –

“উধারে করেলু বহু, হুমলো হিম্মত ধরী

ওয়ধারে-ওয়ধারে জোর, দর্শাভ্যু খরে

সুধারনা নী সামে জেণে

কমর সিনচে হাঁনসি,

নিত্য নিত্য কুনসংবজে, লাওয়াভা ধ্যান ধরে

তেনে কাঢ়ভা নে তমে নার কেড়ওয়ণী আপো

উচালোঁ নঠারা কাঢ়োঁ, বীজাজে বহু নড়ে।”

এর মূল ভাব হল, মেয়েদের পড়াশোনা করাতে হবে যাতে এই সমাজে দ্রুতগতিতে উন্নয়ন হতে পারে। সমাজ থেকে নানা কুসংস্কারকে আমরা আরও দ্রুতগতিতে দূর করতে পারি।

তিনি মহিলাদের স্বাধীনতা আন্দোলনেও অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহ যুগিয়েছেন। এর পরিণাম গান্ধীজির সত্যাগ্রহেও আমরা স্পষ্টভাবে দেখেছি যেখানে মহিলাদের অনেক বড় অংশীদারিত্ব ছিল। দেশের নারীশক্তিকে স্বাধীনতার অমৃতকালে রাষ্ট্রশক্তি রূপে সামনে তুলে ধরা আজ আমাদের সকলের দায়িত্ব। কেন্দ্রীয় সরকার আজ বোন ও মেয়েদের অগ্রগতির পথে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এইসব প্রচেষ্টার সঙ্গে যখন সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষ যুক্ত হন এবং যখন আপনাদের মতো সেবাকর্মীরা যুক্ত হন, তখন অবধারিতভাবেই দ্রুতগতিতে পরিবর্তন আসে, আর এই পরিবর্তন আজ দেশবাসী অনুভব করছেন।

বন্ধুগণ,

আজ স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ভারত যে নীতি নিয়ে চলছে, এতে আমাদের চারপাশে প্রতিটি জীবের চিকিৎসার ভাবনা রয়েছে। মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য টিকাকরণের পাশাপাশি পশুদের জন্যও দেশব্যাপী টিকাকরণ অভিযান জারি রেখেছে ভারত। দেশে গরু, মোষ সহ সমস্ত পশুদের ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ থেকে সুরক্ষার জন্য প্রায় ১২ কোটি টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০ লক্ষ টিকা গুজরাটেই দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসার আধুনিক পরিষেবাগুলির পাশাপাশি বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা গড়ে তোলাও ততটাই প্রয়োজনীয়। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে এই সকল প্রচেষ্টায় শ্রীমদ রাজচন্দ্র মিশনের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বন্ধুগণ,

আধ্যাত্ম এবং সামাজিক দায়িত্ব – উভয়েই কিভাবে পরস্পরের পরিপূরক হতে পারে তা শ্রীমদ রাজচন্দ্রজির জীবন থেকে বোঝা যায়। আধ্যাত্ম ও সমাজ সেবার ভাবনাকে তিনি মিলিয়ে দিয়েছেন, শক্তিশালী করেছেন। সেজন্য আধ্যাত্মিক এবং সামাজিক – প্রত্যেক দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজে শ্রীমদ রাজচন্দ্রজির প্রভাব অত্যন্ত গভীর। তাঁর এই প্রচেষ্টাগুলি আজকের সময়ে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। আজ একবিংশ শতাব্দীতে আমাদের নবীন প্রজন্ম একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে নিজেদের সামর্থ্যবান করে তুলছে। এই প্রজন্মের সামনে অনেক নতুন নতুন সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনই অনেক সমস্যাও রয়েছে আর অনেক নতুন দায়িত্বও রয়েছে। এই যুব প্রজন্মের মন উদ্ভাবনের ইচ্ছাশক্তিতে পরিপূর্ণ। আপনাদের মতো সংগঠনের পথ প্রদর্শন এই প্রজন্মকে কর্তব্যপথে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্যবোধ এবং সেবাভাবের এই অভিযানকে শ্রীমদ রাজচন্দ্র মিশন এভাবেই সমৃদ্ধ করতে থাকবে।

আপনাদের সকলের মাঝে এসে এই অনুষ্ঠানে আমি দুটি কথা অবশ্যই বলব। প্রথমটি হল, আমাদের দেশে এখন করোনা সতর্কতামূলক প্রিকশন ডোজের অভিযান চলছে। যাঁরা টিকার দুটি ডোজ নিয়েছেন তাঁদের জন্য এই তৃতীয় টিকা স্বাধীনতার ৭৫ বর্ষ পূর্তি উৎসব উপলক্ষে ৭৫ দিনের জন্য দেশের সর্বত্র বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। এখানে উপস্থিত সমস্ত গণ্যমান্য ব্যক্তি, বন্ধু ও সহযোগীদের, আমার জনজাতি ভাই ও বোনেদের প্রতি আমার সনির্বন্ধ অনুরোধ, আপনারা যাঁরা এই তৃতীয় ডোজ নেননি, তাঁরা যত দ্রুত সম্ভব তা নিয়ে নিন। সরকার এই তৃতীয় ডোজ বিনামূল্যে দেওয়ার অভিযান ৭৫ দিন ধরে চালু রাখবে। আপনারা এর সুফলভোগী হয়ে উঠুন আর এই অভিযানকে এগিয়ে নিয়ে যান। নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখুন, পরিবারের সমস্ত সদস্যের স্বাস্থ্যের প্রতিও লক্ষ্য রাখুন আর আপনাদের গ্রাম, পাড়া এবং এলাকার সকলের স্বাস্থ্যের প্রতিও যত্নশীল হোন। আজ যদি আমি সশরীরে ধরমপুর আসার সুযোগ পেতাম তাহলে একটি বিশেষ আনন্দ পেতাম কারণ, ধরমপুরের অনেক পরিবারের সঙ্গে আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু সময়ের অভাবে আসতে পারিনি। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আপনাদের সকলের সঙ্গে কথা বলছি। আমি রাকেশজির কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যিনি এই অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু যেদিন ওখানে যাওয়ার সুযোগ হবে, সেরকম কর্মসূচি নিয়ে যাব, তখন আপনাদের এই হাসপাতাল ঘুরে দেখতে পেলে আমার খুব আনন্দ হবে। আপনাদের সেবাকর্ম দেখতে পেলে আনন্দ হবে। অনেক বছর আগে গিয়েছিলাম। মাঝে অনেক সময়ের ব্যবধান তৈরি হয়েছে, কিন্তু আবার যখন যাব তখন অবশ্যই আপনাদের সকলের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করব। আমি আপনাদের সকলের উত্তম স্বাস্থ্য কামনা করি। আপনারা যে সেন্টার ফর এক্সেলেন্স গড়ে তুলছেন তার সুরভি যেন প্রতিদিন বাড়তে থাকে, দেশ ও বিশ্বের সকল প্রান্তে পৌঁছে যেতে থাকে, এই কামনা করি। আপনাদের অনেক অনেক শুভকামনা জানাই। অনেক অনেক ধন্যবাদ!

এটি প্রধানমন্ত্রীর হিন্দি ও গুজরাটিতে দেওয়া ভাষণের অনুবাদ

Explore More
৭৬তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লালকেল্লার প্রাকার থেকে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর জাতির উদ্দেশে ভাষণের বঙ্গানুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

৭৬তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লালকেল্লার প্রাকার থেকে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর জাতির উদ্দেশে ভাষণের বঙ্গানুবাদ
Arming Armenia: India to export missiles, rockets and ammunition

Media Coverage

Arming Armenia: India to export missiles, rockets and ammunition
...

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
4Ps of 'people, public, private partnership' make Surat special: PM Modi
September 29, 2022
শেয়ার
 
Comments
“Surat is a wonderful example of both people's solidarity and public participation”
“4 P means people, public, private partnership. This model makes Surat special”
“In double engine government, clearances and implementation of development work have attained an unprecedented momentum”
“New National Logistics policy will benefit Surat a great deal”
“Surat will also be known for electric vehicles very soon”
“When trust grows, effort grows, and the pace of development of the nation is accelerated by Sabka Prayas”

भारत माता की– जय

भारत माता की– जय

आप सभी सूरतवासियों को नवरात्रि की अनेक-अनेक शुभकामनाएं। वैसे नवरात्रि के समय मेरे जैसे व्‍यक्ति को सूरत आना आनंददायक है, अच्‍छा लगता है, लेकिन नवरात्रि का व्रत चलता हो, तब सूरत आने में थोड़ा कठिन लगता है। सूरत आओ और सूरती खाना खाए बिना जाओ।

ये मेरा सौभाग्‍य है कि नवरात्रि के इस पावन अवसर के समय मैं आज और कल, गुजरात की धरती पर इंफ्रास्ट्रक्चर, खेल-संस्कृति और आस्था से जुड़े कई बड़े आयोजनों का हिस्सा बनूंगा। गुजरात के गौरव को और बढ़ाने का ये सौभाग्य मिलना, आपके बीच आना और आप सबके आशीर्वाद लेना, आपका ये प्‍यार, आपका ये उत्‍साह दिनों दिन बढ़ता ही जा रहा है। गुजरात के लोगों का, सूरत के लोगों का धन्‍यवाद करने के लिए मेरे शब्‍द भी कम पड़ रहे हैं, इतना प्‍यार आपने दिया है।

सूरत में विकास का लाभ जिस तरह हर घर तक पहुंच रहा है, वो जब मैं देखता हूं, सुनता हूं तो मेरी खुशी अनेक गुना बढ़ जाती है। इसी क्रम में आज सूरत के विकास से जुड़ी अनेक परियोजनाओं का उद्घाटन या शिलान्यास किया गया है। इनमें से अधिकतर प्रोजेक्ट, सामान्य सूरत वासियों को, मध्यम वर्ग को, व्यापारी वर्ग को अनेक प्रकार की सुविधाएं और लाभ पहुंचाने वाले हैं। मुझे बताया गया है कि 75 अमृत सरोवरों के निर्माण का काम सूरत में बहुत तेजी से चल रहा है। इसके लिए भी जिले के सभी साथी, शासन-प्रशासन, हर कोई और मेरे सूरतवासी भी बधाई के पात्र हैं।

साथियों,

सूरत शहर लोगों की एकजुटता औऱ जनभागीदारी, दोनों का बहुत ही शानदार उदाहरण है। हिन्दुस्तान का कोई प्रदेश ऐसा नहीं होगा, जिसके लोग सूरत की धरती पर न रहते हों, एक प्रकार से मिनी हिन्‍दुस्‍तान। सूरत की सबसे बड़ी खासियत ये है कि ये शहर सूरत, इस बात के लिए मैं हमेशा इसका गर्व करता हूं, ये शहर श्रम का सम्मान करने वाला शहर है। यहां टैलेंट की कद्र होती है, प्रगति की आकांक्षाएं पूरी होती हैं, आगे बढ़ने के सपने साकार होते हैं। और सबसे बड़ी बात, जो विकास की दौड़ में पीछे छूट जाता है, ये शहर उसे ज्यादा मौका देता है, उसका हाथ थामकर आगे ले लाने का प्रयास करता है। सूरत की यही स्पिरिट आज़ादी के अमृतकाल में विकसित भारत के निर्माण के लिए बहुत बड़ी प्रेरणा है।

साथियों,

इस सदी के शुरुआती दशकों में जब दुनिया में तीन ''P'' यानि पब्लिक-प्राइवेट पार्टनरशिप की चर्चा होती थी, तब मैं कहता था कि सूरत चार ‘पी’ का उदाहरण है। चार ''P'' यानि पीपल्स, पब्लिक, प्राइवेट, पार्टनरशिप। यही मॉडल सूरत को विशेष बनाता है। सूरत के लोग वो दौर कभी भूल नहीं सकते, जब महामारियों को लेकर, बाढ़ की परेशानियों को लेकर यहां अपप्रचार को हवा दी जाती थी। उस कालखंड में यहां के व्यापारी और व्‍यापारी समाज के अनेक लोगों से मैंने एक बात कही थी। मैंने कहा था कि अगर सूरत शहर की ब्रांडिंग हो गई तो हर सेक्टर, हर कंपनी की ब्रांडिंग अपने आप हो जाएगी। और आज देखिए, सूरत के आप सभी लोगों ने ऐसा करके दिखा दिया है। मुझे खुशी है कि आज दुनिया के सबसे तेज़ी से विकसित होते शहरों में सूरत का नाम है और इसका लाभ यहां हर व्यापार-कारोबार को हो रहा है।

भाइयों और बहनों,

पिछले 20 वर्षों में सूरत ने देश के बाकी शहरों की अपेक्षा बहुत अधिक प्रगति की है, तेजी से प्रगति की है। आज हम अक्सर देश के सबसे स्वच्छ शहरों में सूरत का गर्व से ज़िक्र करते हैं। लेकिन ये सूरत के लोगों की निरंतर मेहनत का परिणाम है। सैकड़ों किलोमीटर से अधिक के नए ड्रेनेज नेटवर्क ने सूरत को एक नया जीवनदान दिया है। दो दशकों में इस शहर में जो सीवरेज ट्रीटमेंट की कैपेसेटी बनी है, उससे भी शहर को साफ-सुथरा रखने में मदद मिली है। आज भाकर और बामरौली में नई कैपेसिटी जुड़ गई है। यहां जिन साथियों को काम करते हुए 20 साल से ज्यादा का समय हो चुका है, वो इस बदलाव के बहुत बड़े साक्षी हैं। बीते वर्षों में सूरत में झुग्गियों की संख्या में भी काफी कमी आई है। इन 2 दशकों में यहां गरीबों के लिए, झुग्गियों में रहने वालों के लिए करीब-करीब 80 हज़ार घर बनाए गए हैं। सूरत शहर के लाखों लोगों के जीवन स्तर में इससे सुधार आया है।

साथियों,

डबल इंजन की सरकार बनने के बाद अब घर बनाने में भी तेज़ी आई है और सूरत के गरीबों, मिडिल क्लास को दूसरी अनेक सुविधाएं भी मिलने लगी हैं। आयुष्मान भारत योजना के तहत देश में अभी तक लगभग 4 करोड़ गरीब मरीज़ों को मुफ्त इलाज मिल चुका है। इसमें 32 लाख से अधिक मरीज़ गुजरात के और लगभग सवा लाख मरीज, ये मेरे सूरत से हैं।

वहीं पीएम स्वनिधि योजना के तहत रेहड़ी, पटरी, ठेले पर काम करने वाले देश के लगभग 35 लाख साथियों को अभी तक बैंकों से बिना गारंटी का सस्ता ऋण मिल चुका है। अभी शायद आपने दुनिया में बहुत जाने-माने दानवीर बिल गेट्स का एक आर्टिकल पढ़ा होगा, उसमें उन्‍होंने इस बात का जिक्र किया है। एक लेख लिखा है उसमें इन सब चीजों का उल्‍लेख किया है उन्‍होंने। साथियों, इसमें गुजरात के ढाई लाख से ज्यादा लोगों और सूरत के करीब 40 हजार साथियों को इसकी मदद मिली है।

साथियों,

सूरत शहर के पश्चिमी हिस्से रानदेर, अरायण, पाल, हज़ीरा, पालनपुर, जहांगीरपुरा और दूसरे क्षेत्रों में आज जितनी चहल-पहल दिखती है, वो 20 साल के अखंड एकनिष्ठ परिश्रम का परिणाम है। शहर के अलग-अलग हिस्सों में तापी पर आज दर्जनभर से ज्यादा पुल हैं, जो शहर को भी जोड़ रहे हैं और सूरतवासियों को समृद्धि से भी जोड़ रहे हैं। इस स्तर की इंटरसिटी कनेक्टिविटी बहुत कम देखने को मिलती है। सूरत सही मायने में सेतुओं का शहर है। जो मानवीयता, राष्ट्रीयता और समृद्धि की खाइयों को पाट करके जोड़ने का काम करता है।

भाइयों और बहनों,

आज जिन प्रोजेक्ट्स का शिलान्यास और लोकार्पण हुआ है, वे सभी सूरत की इसी पहचान को सशक्त करने वाले हैं। सूरत के कपड़ा और हीरा कारोबार से देशभर के अनेक परिवारों का जीवन चलता है। DREAM City प्रोजेक्ट जब पूरा हो जाएगा तो सूरत, विश्व के सबसे सुरक्षित और सुविधाजनक डायमंड ट्रेडिंग हब के रूप में विकसित होने वाला है। वो दिन दूर नहीं जब सूरत, दुनिया भर के डायमंड कारोबारियों, कंपनियों के लिए एक आधुनिक ऑफिस स्पेस के रूप में पहचाना जाएगा।

इतना ही नहीं, कुछ महीने पहले ही केंद्र सरकार ने सूरत पावरलूम मेगाकलस्टर, ये बहुत बड़ा निर्णय है भारत सरकार का, पावरलूम मेगाकलस्‍टर, उसकी स्वीकृति दे दी है और इससे सायन और ओलपाडो, इन क्षेत्रों में पावरलूम वालों को जो समस्याएं आती थीं वो समस्याएं कम होंगी। यही नहीं, इससे प्रदूषण से जुड़ी समस्याओं का भी समाधान होगा।

साथियों,

सूरती लोगों की खासियत है सुरतीलाला को मौज करे बिना नहीं चलता, और बाहर से आने वाला व्यक्ति भी देखते ही देखते सुरतीलाला के रंग में रंग जाता है। और मैं तो काशी का सांसद हूँ, इसलिए लोग मुझे रोज सुनाते हैं कि सूरत का भोजन और काशी की मृत्यु। शाम हुई नहीं और ताप्ती नदी के आसपास के इलाकों में घूम कर ठंडी हवा का लुत्फ उठाते हैं और कुछ खा-पीकर ही घर लौटते हैं। इसलिए ताप्ती के किनारों सहित, सूरत को और आधुनिक बनाने के प्रयासों को आगे बढ़ाने के लिए भूपेंद्र भाई और सी आर पाटिल और कॉर्पोरेशन से जुड़े लोग, यहां के विधायक, इन सबको मैं बधाई देता हूं आपके इन प्रयासों के लिए। बायोडायवर्सिटी पार्क प्रोजेक्ट के बनने से सूरतवासियों की टहलने की इस आदत को और सुविधा मिलेगी, उठने-बैठने-सीखने के लिए नए स्थान मिलेंगे।

भाइयों और बहनों,

एयरपोर्ट से शहर को जोड़ने वाली सड़क जो बनी है, वो सूरत की संस्कृति, समृद्धि और आधुनिकता को दर्शाती है। लेकिन यहां अनेक साथी ऐसे हैं, जिन्होंने एयरपोर्ट के लिए भी हमारे लंबे संघर्ष को देखा है, उसका हिस्सा भी रहे हैं। तब जो दिल्ली में सरकार थी, हम उनको बताते-बताते थक गए कि सूरत को एयरपोर्ट की ज़रूरत क्यों है, इस शहर का सामर्थ्य क्या है। आज देखिए, कितनी ही फ्लाइट्स यहां से चलती हैं, कितने ही लोग हर रोज़ यहां एयरपोर्ट पर उतरते हैं। आपको याद होगा, यही स्थिति मेट्रो को लेकर भी थी। लेकिन आज जब डबल इंजन की सरकार है, तो स्वीकृति भी तेज़ गति से मिलती है और काम भी उतनी ही तेज़ी से होता है।

भाइयों और बहनों,

व्यापार-कारोबार में लॉजिस्टिक्स का कितना महत्व होता है, ये सूरत वाले अच्छे से जानते हैं। नई राष्ट्रीय लॉजिस्टिक्स पॉलिसी से सूरत को बहुत लाभ होने वाला है। मल्टी मॉडल कनेक्टिविटी के लिए भी सूरत में एक बड़ी योजना पर काम शुरू हो चुका है। घोघा-हजीरा Ropax Ferry Service ने सौराष्ट्र के कृषि हब को सूरत के बिजनेस हब से जोड़ने में बहुत महत्वपूर्ण भूमिका निभाई है। घोघा और हजीरा के बीच रो-रो फेरी सर्विस की वजह से लोगों का समय भी बच रहा है और पैसा भी बच रहा है। सड़क के रास्ते घोघा और हजीरा के बीच की दूरी करीब-करीब 400 किलोमीटर के आसपास होती है। जबकि समंदर के रास्ते यही दूरी कुछ ही किलोमीटर हो जाती है। अब ये, इससे बड़ी सुविधा क्‍या हो सकती है। इस वजह से जहां पहले घोघा से हजीरा आने-जाने में 10-12 घंटे लगते थे, वहीं अब ये सफर साढ़े तीन-चार घंटे के अंदर हो जाता है। हम फेरी की वजह से, भावनगर, अमरेली और सौराष्ट्र के दूसरे हिस्सों से सूरत आए लोगों को बहुत लाभ होगा। अब पर्मानेंट टर्मिनल तैयार होने के कारण, आने वाले दिनों में और ज्यादा रूट खुलने की संभावना बढ़ी है। इससे यहां के उद्योगों को, किसानों को पहले से ज्यादा लाभ होगा।

साथियों,

हमारी सरकार सूरत के व्यापारियों-कारोबारियों की हर आवश्यकता को देखते हुए काम कर रही है, नए-नए इनोवेशन कर रही है। मैं आपको एक उदाहरण देता हूं। आप जानते हैं कि सूरत के टेक्सटाइल का एक बड़ा बाजार काशी और पूर्वी उत्तर प्रदेश से भी जुड़ा हुआ है। यहां से बड़ी संख्या में ट्रकों के जरिए सामान, पूर्वी यूपी भेजा जाता रहा है। अब रेलवे और पोस्टल डिपार्टमेंट ने मिलकर एक नया समाधान भी खोजा है, एक नया इनोवेशन किया है। रेलवे ने अपने कोच की डिजाइन को इस तरह से बदला है कि उसमें आसानी से कार्गो फिट हो जाता है। इसके लिए खास तौर पर एक टन के कंटेनर भी बनाए गए हैं। ये कंटेनर आसानी से चढ़ाए और उतारे जा सकते हैं। शुरुआती सफलता के बाद अब सूरत से काशी के लिए पूरी एक नई ट्रेन ही चलाने की कोशिश हो रही है। ये ट्रेन, सूरत से माल-सामान ढो करके काशी तक जाया करेगी। इसका बहुत बड़ा लाभ सूरत के व्यापारियों को होगा, यहां के कारोबारियों को होगा, यहां के मेरे श्रमिक भाइयों-बहनों को होगा।

बहुत जल्द सूरत बिजली से चलने वाली इलेक्ट्रिक व्‍हीकल, बिजली से चलने वाली गाड़ियों के लिए भी ये सूरत पहचाना जाएगा। सूरत की नित नई-नई पहचान बनती है, कभी सिल्‍क सिटी, कभी डायमंड सिटी, कभी सेतु सिटी और अब इलेक्ट्रिक व्‍हीकल वाले सिटी के रूप में जाना जाएगा। केंद्र सरकार आज पूरे देश में इलेक्ट्रिक वाहनों को चलाने के लिए सरकारों को मदद दे रही है। सूरत इस मामले में भी देश के बाकी शहरों की तुलना में बहुत तेज़ी से काम कर रहा है और मैं सूरत को बधाई देता हूं, इस काम के लिए। आज सूरत शहर में 25 चार्जिंग स्टेशन्स का लोकार्पण और इतने ही स्टेशनों का शिलान्यास हुआ है। आने वाले कुछ समय में सूरत में 500 चार्जिंग स्टेशन्स स्थापित करने की तरफ ये बहुत बड़ा कदम है।

साथियों,

बीते 2 दशकों से विकास के जिस पथ पर सूरत चल पड़ा है, वो आने वाले सालों में और तेज़ होने वाला है। यही विकास आज डबल इंजन सरकार पर विश्वास के रूप में झलकता है। जब विश्वास बढ़ता है, तो प्रयास बढ़ता है। और सबका प्रयास से राष्ट्र के विकास की गति तेज़ होती है। इस गति को हम बनाए रखेंगे, इसी आशा के साथ सूरत वासियों का जितना आभार व्यक्त करूं ,उतना कम है। सूरत ने उदाहरण स्वरूप प्रगति की है। मित्रों, हिंदुस्तान में सूरत के समकक्ष कई शहर हैं, लेकिन सूरत ने सबको पीछे छोड़ दिया है। और यह शक्ति गुजरात में ही है दोस्तों, यह गुजरात की शक्ति को जरा भी आंच ना आये, गुजरात की विकास यात्रा में कोई कमी ना रहे, इसके लिए कोटी-कोटी गुजराती प्रतिबद्ध है, संकल्पबद्ध है। यही विश्वास के साथ फिर एक बार आप सभी का बहुत-बहुत आभार।

भारत माता की- जय,

भारत माता की-जय,

भारत माता की- जय,

धन्यवाद!