Dadi Janki is a true Karma Yogi, who continues to serve society even at the age of 100 years: PM
PM Modi appreciates the work done by the Brahma Kumaris institution in many fields, including in solar energy
Brahma Kumar and Kumaris have spread the message of India's rich culture throughout the world: PM
By 2030, India aims to generate 40% energy from non-fossil fuels. By 2022, our aim is to ensure 175 GW of clean energy: PM
Let us further the use of digital transactions and make the system more transparent: PM Modi
We have amended the Maternity Bill. This will benefit working women as leaves have been enhanced from 12 to 26 weeks: PM

ব্রহ্ম কুমারী সংস্থার সকল সদস্যবৃন্দ, আন্তর্জাতিক সম্মেলন এবং সাংস্কৃতিকমহোৎসবে অংশগ্রহণের জন্য দেশের নানা প্রান্ত ও বিদেশ থেকে সমাগত সকলকে অন্তর থেকেঅভিনন্দন জানাই। আপনাদের সকলকে আমার পক্ষ থেকে ‘ঔঁ’ ওম শান্তি বলে অভিবাদন করছি।প্রজাপিতা ব্রহ্ম কুমারী ঈশ্বরীয় বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রতিষ্ঠাতা দাদা লেখরাজজি, আজঅবশ্যই তাঁর আত্মা শান্তি পারে, কারণ যে ভাবনাকে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানকরেছেন, আর স্ত্রী শক্তির মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে গেছেন; সেই আন্দোলনের বয়সও আজ ৮০বছর। আমাদের দেশে ৮০ বছরকে একটি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশ্বে ২৫ বছর, ৫০ বছর,৭৫ বছর, ১০০ বছর উদযাপন করা হয়, কিন্তু ভারতে ৮০ বছরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।আমাদের দেশে একে সহস্রবার চন্দ্রদর্শনের পরব হিসেবে পালন করা হয়। ৮০ বছরের যাত্রা সম্পূর্ণকরার মানে কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা এক হাজার বার পূর্ণ চন্দ্র দর্শন করেছে ।

আজ ব্রহ্ম কুমারী বিশ্ববিদ্যালয়, দাদা লেখরাজজির শুরু করা ব্রহ্ম কুমারীআন্দোলনও তেমনই সহস্র পূর্ণ চন্দ্রদর্শনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একটি প্রতিষ্ঠান হিসাবেবিশ্বকে ও গোটা মানবজাতিকে শীতলতা প্রদানের কর্মপ্রদানে নতুন উৎসাহের জ্বালানিপেয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে ।

গত বছর দাদী জানকিজির একশো বছর বয়স পূর্ণ হয়েছে। এই ১০১ বছর বয়সেও একজনকর্মযোগীর মতো সময়দানের মাধ্যমে তিনি আমাদের আশীর্বাদ দিচ্ছেন। আমি এখান থেকেদাদীজিকে প্রণাম জানাই। দু’দিন পর ‘চেটি চাঁদ’ উৎসব পালন করা হবে। গোটা ভারতেসম্বৎসর উৎসব পালনের দিন সমাগত। আপনি আপনাদের সকলকে নব-সম্বৎসর এবং চেটি চাঁদেরঅনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।

অনেকবারই আপনাদের মাঝে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। আপনাদের অপার স্নেহেরছোঁয়া অনুভব করছি। একটা উচ্চ ভাবনা অনুসরণ করে চলা প্রতিষ্ঠানের জীবনে ৮০ বছর কমসময় নয়। আজ বিশ্বের যেমন পরিস্থিতি, মানুষের স্বভাবে যেরকম পরিবর্তন আসছে, এতে যেকোনও সংগঠন কিংবা ব্যবস্থা; ১০-১৫-২০ বছর পরই ভেঙে টুকরো টুকরো হতে শুরু করে।গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব শুরু হয়, একটি সংস্থা ভেঙে দশটি সংস্থা তৈরি হয়। দাদা লেখরাজজিরদূরদৃষ্টির সুফল হ’ল, ৮০ বছর পরও যেসব আদর্শ, মূল্যবোধ নিয়ে ব্রহ্ম কুমারীবিশ্ববিদ্যালয়, ব্রহ্ম কুমারী আন্দোলনকে পরিচালিত করেছিলেন, নারীশক্তির প্রাধান্যপ্রতিস্থাপিত করেছিলেন আজও এই সংস্থা ততটাই ঐকান্তিকতা, কর্মঠতা ও ঐক্যকে সম্বলকরে গোটা বিশ্বে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন; লক্ষ লক্ষ কর্মীর শৃঙ্খলা গড়েউঠেছে। ব্রহ্ম কুমার এবং ব্রহ্ম কুমারী, ভারতের আধ্যাত্মিক বার্তা সমগ্র বিশ্বেপৌঁছে দিচ্ছে। আপনারা সকলে অভিনন্দনযোগ্য কাজ করছেন, আপনাদের অভিনন্দন জানাই।

অনেকবারই আপনাদের মাঝে আসার সৌভাগ্য হয়েছে। আপনাদের সকলের প্রবৃদ্ধিকে আমিকাছে থেকে দেখেছি। আপনাদের ভাবনাচিন্তাকে বোঝার চেষ্টা করেছি, আপনাদের সান্নিধ্যেআমি ঋদ্ধ হয়েছি।

আজকাল ব্যস্ততা বেড়ে গেছে, সময় বের করা কঠিন, সেজন্য আমি এবার সশরীরেআপনাদের মাঝে আসতে পারিনি, কিন্তু ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আপনাদের দর্শনলাভেরসৌভাগ্য হ’ল। ব্রহ্ম কুমারী কর্মপ্রকল্পের নানা বিশেষত্ব থাকে, আজ তেমনই একটি নতুনবিশেষত্ব আপনারা প্রদর্শন করেছেন। অন্ধকারে আলোর খেলা দেখিয়ে আপনারা অভিবাদনজানিয়েছেন। এখানে আমি আমার সামনে রাখা টেলিভিশনের পর্দায় আপনাদের দেখছি। দাদালেখরাজজি এবং বর্তমানে দাদীজির নেতৃত্বে এই প্রতিষ্ঠান সমগ্র বিশ্বে এমনই জ্ঞানেরআলোর ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াস নিরন্তর চালিয়ে গেছেন।

আমরা এমন একটি দেশের সন্তান, এমন দেশের প্রতিনিধিত্ব করি সেদেশের সংস্কৃতিকখনও নিজেদের মতাদর্শ অন্যের উপর চাপিয়ে দেওয়ায় বিশ্বাস করি না। আমরা বিশ্বাস করিযে, জ্ঞানের কোনও সীমা নেই, সময়ের বন্ধন নেই, জ্ঞানের কোনও ভিসা কিংবা পাসপোর্টেরপ্রয়োজন পড়ে না। জ্ঞান যুগ যুগ ধরে মানবসম্পদ হিসাবে পরিগণিত হয়। জ্ঞান কালাতীত ওকালবাহ্য। জ্ঞান নিত্যনতুন, সেই জ্ঞানের পথেই আমরা জীবনের সত্যকে জানতে পারি।

ব্রহ্ম কুমারীর মাধ্যমে এই জীবনের সত্যজ্ঞাপনেরই নিরন্তর প্রয়াস জারিরয়েছে। এটাই ভারতের বিশেষত্ব। এই দেশই বিশ্বকে প্রথম বলেছে, ঈশ্বর এক ও অভিন্ন।মানুষ তাঁকে নানা রূপে জানে, হিন্দুরা আলাদা রূপে, মুসলমানরা আলাদারূপে,খ্রীস্টানরা আলাদারূপে, পারসীরা আলাদা রূপে। কিন্তু ভারতের মহাপুরুষরা, আমাদেরশাস্ত্রে বৈদিককাল থেকে শিখিয়েছেন : –

একম্‌সৎ, বিপ্রাঃ বহুধা বদন্তি

Truth is one, sages call it indifferent ways.

নানামুনির নানা মত। কিন্তু সত্য সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিকোণ সেই ভাবধারা পূর্ণ।

আমিশুনেছি যে, আজ শান্তিবনে আপনারা একটি সৌর প্রকল্প চালু করেছেন। আপনাদের শান্তিবনসংলগ্ন হাসপাতালে যাওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। নিজের চোখে দেখেছি, সেখানে আপনারা কিভাবে দরিদ্র নারায়ণের সেবা করেন। সৌরশক্তি থেকেবিদ্যুৎ উৎপাদনের এই প্রকল্প আমাকে মনে করিয়ে দেয় আজ থেকে অনেক বছর আগে আপনারা আবুপাহাড়ে সৌরশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন, তখন সারাপৃথিবীতে ‘বিশ্ব উষ্ণায়ন’ নিয়ে এতে আশঙ্কাজ্ঞাপক আলোচনা হতো না। আপনারা কতোদূরদৃষ্টি নিয়ে কাজ করে চলেছেন, এটা তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আপনাদেরপ্রদর্শিত পথ অনুসরণ করে দেশে এমন এক জ্বালানি বিপ্লব শুরু হবে, মানব-জীবনে এমনজ্বালানি বিপ্লব আসবে। আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, প্রকৃতিতে সৌরশক্তির যত গুরুত্ব,ব্যক্তিত্বতেও সৌরশক্তির ততটাই গুরুত্ব। আর তেজ, ওজস্‌, সামর্থ্য ও সংকল্প থাকলেব্যক্তিত্ব নতুন উচ্চতা অতিক্রম করে। আজ আপনাদের এই সৌরশক্তি প্রকল্প থেকে ৩মেগাওয়াট সৌরশক্তি উৎপন্ন হবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আবু পাহাড় অঞ্চলে এই প্রয়াস অনেকপ্রেরণা যোগাবে।

প্রতিবেশী রাজ্য গুজরাটে সৌরশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনেঅনেক বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এই উদ্যোগ দেশের সকল সরকারকে সৌরশক্তি থেকে বিদ্যুৎউৎপাদনে প্রেরণা জুগিয়েছিল। গুজরাট সরকারের প্রকল্প খুবই সফল হয়েছে। আর আজশান্তিবনও এই সৌর-জ্বালানি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, প্রকৃতি সংরক্ষণে এরভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শান্তিবন সৌর-জ্বালানি প্রকল্প উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়েপ্রতিদিন ৩৮ হাজারেরও বেশি মানুষের দু’বেলার খাবার রান্না করা সম্ভব হবে।

প্রকৃতি সংরক্ষণে এটি কত বড় পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে!আপনাদের আন্দোলনের অংশ হিসাবে সৌরলন্ঠন, গৃহ বিদ্যুতায়ন ব্যবস্থা, সোলার কুকিংবক্সেস প্রত্যেক বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সমাজে একটি বড় পরিবর্তন আনারপ্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। শুধু আধ্যাত্মিকতা নিয়ে কথা নয়, প্রকৃতির সঙ্গে থেকে গরিবমানুষের জীবনে কিভাবে পরিবেশ-বান্ধব পরিবর্তন আনা যায় সেই লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন।

ভারত ও বিশ্ব যে সংকটের সঙ্গে যুঝছে, বিশ্ব উষ্ণায়নহ্রাস করতে বিশ্বে ভারত কিভাবে অবদান রাখতে পারে! ভারত সংকল্প নিয়েছে যে, আগামী২০৩০ সালে অর্থাৎ আজ থেকে ১৩ বছরের মধ্যেই ভারতে মোট যত পরিমাণ জ্বালানির প্রয়োজনহবে তার ৪০ শতাংশের পূর্তি ‘নন ফসিল ফুয়েল বেস’ বা পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তিউৎপাদনের মাধ্যমে সম্পন্ন করবে।

আগামী ২০২২ সালে ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি হতেচলেছে। সেই সময়কালের মধ্যে ভারত মোট ১৭৫ গিগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনেরলক্ষ্য ধার্য করা করেছে। সরকার, সমাজ ও বিভিন্ন সংস্থার মিলিত উদ্যোগে যেভাবে আজআপনারা ৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা চালু করলেন! এক্ষেত্রে আমরা যতটা সফলহব, তত বেশি মানবজাতি, প্রকৃতি ও পরমাত্মার সেবা করতে পারব! আপনারাও এই অভিযানেসামিল হয়েছেন, সেজন্য আপনাদের অভিনন্দন জানাই।

এমনিতেও আপনারা প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য অনেক কাজ করেন –যেমন বৃক্ষরোপণ। আমাদের দেশে উদ্ভিদকেও পরমাত্মার স্বরূপ মানা হয়। সবুজ বিপ্লব,দুগ্ধ বিপ্লব, জ্বালানি বিপ্লব ইত্যাদির মাধ্যমে প্রকৃতি সংরক্ষণ ও মানবজাতিকেনতুন পথ দেখানোর কাজে আপনারাও নিয়মিত অবদান রাখছেন। সেজন্য আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাজানাই। আপনারা জানেন, জ্বালানি সাশ্রয় সুনিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকার এলইডি বাল্বলাগানোর অভিযান শুরু করেছে। দেশের নগরপালিকাগুলি, মহানগরপালিকাগুলি, মানুষেরবাড়িতে বাড়িতে ইতিমধ্যেই ২২ কোটি এলইডি বাল্ব লাগানোর ফলে সাধারণ মানুষের সাশ্রয়হচ্ছে বছরে ১১ হাজার কোটি টাকা।

আপনাদের ব্রহ্ম কুমারীর ৮৫০০ কেন্দ্র রয়েছে, লক্ষাধিককর্মচারী কাজ করেন। সৌরশক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে আপনারা পথদেখিয়েছেন। বাড়িতে বাড়িতে এলইডি বাল্ব লাগানোর জন্যো আপনারা মানুষকে প্রেরণাযোগান। তা হলে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি গরিব মানুষের অর্থ সাশ্রয় হবে, সাধারণমানুষের পকেটে পয়সা বাঁচবে, পৌরসভা ও পৌর সংস্থাগুলিরও সাশ্রয় হবে। আগে একটা সময়েএকটি এলইডি বাল্বের দাম ছিল ৪০০-৫০০ টাকা। অথচ এখন বাজারে ৫০-৬০-৭০ টাকায় এলইডিবাল্ব কিনতে পাওয়া যাচ্ছে। ব্রহ্ম কুমারীর মাধ্যমে সমাজে যা করেছেন, তার সঙ্গে এবিষয়ে সাধারণ মানুষকেও যুক্ত করা যেতে পারে। আজ আমরা আমদানিকৃত ডিজেল ও পেট্রোলেরউপর নির্ভর করি। আমরা যদি বায়ুশক্তি, জলশক্তি, সৌরশক্তি থেকে বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থাকরতে পারি, তা হলে দেশের বাইরে থেকে পেট্রোলিয়াম আমদানি বাবদ খরচ না করে হাজার হাজারকোটি টাকা বাঁচাতে পারব! ওই সাশ্রয় করা টাকা ভারতের গরিব মানুষের কাজে লাগবে।এক্ষেত্রে আপনাদের এই উদ্যোগ একটি সঠিক পদক্ষেপ। সেজন্য আপনাদের অভিনন্দন জানাই।

ব্রহ্ম কুমারী সংস্থার মূলমন্ত্র ‘- এক ঈশ্বর, এক বিশ্বপরিবার’ মূলত আমাদের দেশের সংস্কৃতির মূলমন্ত্র। ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ হয়তো বিশ্বেএত বিশাল, ব্যাপক আর চিরন্তন দর্শন এই দেশের মাটিতেই জন্মগ্রহণ করেছে। নানা সময়েএর বাক্যরচনায় ভিন্নতা এসেছে, অভিব্যক্তি ভিন্ন হয়েছে, আর সেজন্যই ভারত বিশ্বেন্যায়, গরিমা, অবসর আর সমৃদ্ধির জন্য যত্নশীল থাকে। ভারতেরই প্রচেষ্টার ফলস্বরূপআজ বিশ্বে ‘ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স’-এর মাধ্যমে প্রকৃতির সুরক্ষার জন্যএকটি আন্দোলন শুরু হয়েছে আর বিশ্বের অনেক দেশ আমাদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। আজ যখনব্রহ্ম কুমারী সংগঠনের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সারা দেশের মানুষ ওখানে একত্রিতহয়েছেন, আপনাদের অনুরোধ ২০২২ সালে যখন ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি হবে, দেশেরস্বাধীনতার জন্য আত্মবলিদান দেওয়া স্বাধীনতা সংগ্রামী ও বিপ্লবীদের প্রতি শ্রদ্ধাজানাতে তাঁরা যেসব স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেগুলি সম্পন্ন করার জন্য আপনারাও সংকল্পগ্রহণ করুন। সঠিক লক্ষ্যে, সামগ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে সংকল্প নিন।

ব্রহ্ম কুমারী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে, ব্রহ্ম কুমারএবং ব্রহ্ম কুমারীদের প্রজ্ঞার মাধ্যমে, বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকাব্রহ্মকুমারী সংগঠনের মাধ্যমে, ভারতের বুকে ৮,০০০ থেকেও বেশি শাখার মাধ্যমে দুই,তিন, পাঁচ, সাত – যেকটা আপনার ঠিক মনে হয়। সংকল্প গ্রহণ করুন যে, আগামী ২০২২ সালেরমধ্যে এই সংকল্পগুলি পুরো করবই। দেশ ও বিশ্ববাসীর জীবনে আপনারা যদি কিছু ইতিবাচকপরিবর্তন, পরিবেশ-বান্ধব পরিবর্তন আনতে পারেন, তা হলে আপনারা মানবতার সপক্ষে অনেকবড় অবদান রাখবেন। যে ভারত এ রকম বিশ্ব পরিবেশ সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছে, আমার দৃঢ়বিশ্বাস, আপনারা ঐ ইচ্ছাশক্তিতে নতুন ইন্ধন যোগাবেন।

সম্প্রতি আপনারা দেখেছেন, বিমুদ্রাকরণের পর দুর্নীতি ওকালো টাকার বিরুদ্ধে আমরা একটি নির্ণায়ক লড়াইয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। দেশকে আরেকবারকালো টাকার পথে নিয়ে যাওয়া থেকে বাঁচাতে ডিজিটাল প্রযুক্তি অনেক বড় কাজ করতে পারে।নগদ লেনদেন যত কমানো যাবে, যত বেশি ডিজিটাল কারেন্সির উপযোগ বাড়বে, আমরা দেশে একটিসৎ ব্যবস্থার বিকাশ ঘটাতে পারি। সকল ব্রহ্ম কুমার, ব্রহ্ম কুমারী – যেখানে যেখানেআপনাদের প্রভাব রয়েছে; আপনারা নিজস্ব মোবাইল ফোনে BHIM APP ডাউনলোডকরে ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহিত করতে পারবেন কী? প্রযুক্তিরমাধ্যমে হলেও আজ যখন আপনাদের মাঝে এসেছি, আপনাদের সঙ্গে আমার যে সম্পর্ক সেইঅধিকারবোধ থেকে আপনাদের কাছে এই অনুরোধ রাখছি, দেশের এই পরিবর্তনে আপনাদের শিক্ষিতমানবশক্তি সূত্রধারের ভূমিকা পালন করুক।

ব্রহ্ম কুমারী আন্দোলনে ব্রহ্ম কুমাররা সক্রিয় থাকলেওব্রহ্ম কুমারীরা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আমাদের দেশে আজও লক্ষলক্ষ শিশু নানা রোগের প্রতিষেধক টীকাকরণের আওতাভুক্ত হয়নি। আর টীকাকরণ বঞ্চিতহওয়ার ফলে তারা কোনও না কোনও কঠিন রোগের শিকার হয়ে পড়ছে। মাতা মৃত্যু হার এবং শিশুমৃত্যু হার এখনও আমাদের দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে রয়েছে। অপুষ্টি দুশ্চিন্তার বিষয় হয়েরয়েছে। এক রামধনু প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত সরকার প্রত্যয়ের সঙ্গে টীকাকরণকেপ্রত্যেক বাড়িতে পৌঁছে দিতে চায়। এই অভিযানে আমাদের ব্রহ্ম কুমার ও ব্রহ্মকুমারীরা স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা পালন করুন। আপনারা তো এই সেবাধর্মকেও জীবনের ব্রতকরে নিয়েছেন।

আরেকটি বিষয়ে আজ আমি আপনাদের অনুরোধ করতে চাই। ব্রহ্মকুমারী বিশ্ববিদ্যালয়ে কি ‘পুষ্টি’ বিষয়ে একটি অনলাইন সার্টিফিকেট কোর্স চালু করতেপারেন? যার পাঠ্যক্রম থেকে পরীক্ষা সব অনলাইন হবে। কোন্‌ বয়সে কী কী খাওয়া উচিৎ,কতটা খাওয়া উচিৎ, খাদ্যের ভারসাম্য কিভাবে রক্ষা করা উচিৎ – এই জ্ঞানের অভাবআমাদের দেশের সর্বস্তরে রয়েছে। দু’বেলা পেট ভরে খেয়ে নিতে পারলেই অধিকাংশ মানুষখুশি। যাদের আর্থিক অবস্থা ভাল, দু’বেলাই ভালমন্দ খেতে পারেন, তাঁরাও জানেন না কোনখাবার কতটা খেলে খাদ্যের ভারসাম্য শরীরকে সুঠাম ও রোগমুক্ত রাখবে। আপনারা এইসার্টিফিকেট কোর্স চালু করলে অসংখ্য মানুষ এই বিষয়ে জ্ঞানলাভ করে দেশে একটি নীরবসুষম খাদ্য আন্দোলন গড়ে তুলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অপুষ্টি ও কুপুষ্টি থেকে বাঁচাতেপারবেন। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও আপনাদের এই আন্দোলনে সামিল হতে পারে।আপনাদের সংগঠনে মহিলা কর্মীদের সংখ্যা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি। দেশকে অপুষ্টি ওকুপুষ্টি সমস্যা থেকে মুক্ত করতে আপনারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।আমার অনুরোধ, আপনারা এ বিষয়ে ভাবুন। কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্টবিভাগের আধিকারিকদের আমি অনুরোধ করব আপনাদের দিকে প্রযুক্তিগত ও উপকরণগত সাহায্যেরহাত বাড়িয়ে দিতে। প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। এভাবে কি আমরা অপুষ্টি ও কুপুষ্টিদূরীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন গড়ে তুলতে পারি?

আমাদের দেশের নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে পাঠরতছাত্রছাত্রীরা যদি পুষ্টি বিষয়ে শিক্ষিত হয়ে ওঠে, তারা যখন বড় হয়ে পরিবারেরদায়িত্ব পালন করবে, রান্নাঘরে এই শিক্ষার প্রভাব পড়বেই। সমাজে এতে কত বড় পরিবর্তনআসবে তা আপনারা কল্পনা করতে পারেন? এক্ষেত্রে আপনারা সমাজে পথপ্রদর্শকের ভূমিকাপালন করতে পারেন। ২০২২ সালকে লক্ষ্য স্থির করে এক্ষেত্রে সংকল্প গ্রহণের জন্য আমিআপনাদের আমন্ত্রণ জানাই।

ভারত সরকার নারী ক্ষমতায়নের স্বার্থে বেশ কিছু পদক্ষেপনিয়েছে। সম্প্রতি কর্মরত মহিলাদের গর্ভাবস্থা ও প্রসব পরবর্তী ছুটি আমরা ১২ সপ্তাহথেকে বাড়িয়ে ২৬ সপ্তাহ করে দিয়েছি। যাতে ঐ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শিশুকে বেশি করেদেখাশোনা করতে পারেন। ঐ সময়ে প্রত্যেক শিশুর জীবনে মায়ের ভূমিকাই সর্বাধিক উপযোগীহয়। বিশ্বের দু-তিনটি দেশই শুধু ২৬ সপ্তাহ থেকেও বেশি মাতৃত্বকালীন ছুটি মঞ্জুরকরে। বিশ্বের অনেক সমৃদ্ধ এবং প্রগতিশীল দেশও এত বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। আমাদেরমা ও বোনেদের ক্ষমতায়নের কথা চিন্তা করেই ভারত সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তনিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নারী ক্ষমতায়ন প্রক্রিয়ায় নতুন ইন্ধন যোগাবে, নতুন গতিপ্রণয়ন করবে আর পরিণামের দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের সাফল্যের পথে এগিয়ে দেবে।

সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা, গর্ভবতী মহিলাদের ব্যাঙ্কঅ্যাকাউন্টে তিন কিস্তিতে ৬,০০০ টাকা অনুদানের প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষিতমাতৃত্ব অভিযানের পর সম্প্রতি উজ্জ্বলা যোজনার মাধ্যমে একটি অভিযানে আমরা সাফল্যপেয়েছি। আমাদের দরিদ্র মা ও বোনেরা কাঠের উনুন জ্বালিয়ে রান্না করেন, আরচিকিৎসকেরা বলেন যে, কাঠের উনুনে রান্না করলে একজন মায়ের ফুসফুসে একদিনে ৪০০টিসিগারেটের ধোঁয়ার সমান ধোঁয়া প্রবেশ করে। সেজন্য তাঁরা বেশি অসুস্থ হন। দ্রুত ক্ষয়রোগের শিকার হয়ে পড়েন। সেই অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে ভারত সরকার দরিদ্র মায়েদেরহাতে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের সংযোগ তুলে দিচ্ছে। বিগত ১০ মাস ধরে এই অভিযানচালিয়ে ইতিমধ্যেই ২ কোটি গরিব পরিবারে রান্নার সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ২কোটি মহিলা এবং তাঁদের পরিবার কাঠের উনুন এবং ধোঁয়া থেকে মুক্তি পেয়েছে। এভাবে তিনবছরে আমরা ৫ কোটি গরিব পরিবার রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার পৌঁছে দেব।

আমাদের মাতৃশক্তি, নারীশক্তির ক্ষমতায়নে সরকারঅগ্রাধিকার দিচ্ছে। ব্রহ্ম কুমারীদের মাধ্যমেও এক্ষেত্রে আমরা এগিয়ে যেতে পারি।আপনারা এগিয়ে আসুন। আপনারা এ ধরনের অনেক কাজ নিজে থেকেই করেন। সরকারের সঙ্গে হাতমিলিয়ে সেই কাজে গতি আনতে পারেন।

আজ আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সৌভাগ্য হয়েছে। প্রকৃতির সুরক্ষা,মাতৃশক্তির সুরক্ষা, শিশুদের জীবনে পরিবর্তন আনার প্রয়াস, এই বিষয়গুলি অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ। আপনাদের এই সমাগমে দেশের নানা প্রান্ত ও বিশ্বের নানা দেশ থেকেপ্রতিনিধিরা এসেছেন। ভারতের মহান দর্শনকে তাঁরা বিশ্বের সর্বত্র পৌঁছে দিচ্ছেন। এইসমাগমের মন্থন থেকে যেসব কথা উঠে আসবে, সেগুলিও আপনারা সারা পৃথিবীতে পৌঁছে দেবেন।জ্ঞানের আলো দূর দূরান্তে পৌঁছে যাবে, মানব কল্যাণে কাজে লাগবে। দাদা লেখরাজ যেকাজ শুরু করেছিলেন, আপনাদের প্রচেষ্টা সেই কাজে নতুন ইন্ধন যোগাবে। শতবর্ষ পারকরেও দাদাজির এই কঠোর পরিশ্রম, দাদীজির জীবন নবীন প্রজন্মকে প্রেরণা জুগিয়ে যাবে,একটি নতুন উদ্যমের জ্বালানি নিয়ে কাজ করার শক্তি যোগাবে।

যখন ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’ শুরু হয়েছিল, দাদীজি আমাদের‘দূত’ হিসেবে কাজ করেছেন। দাদীজি ব্রহ্ম কুমারীদের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা অভিযানেজোর দিয়েছেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, শ্বেতবস্ত্র পরিহিতা এই ব্রহ্ম কুমারীরা, ব্রহ্মকুমাররা সারা দেশে পরিচ্ছন্নতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন,ভবিষ্যতেও এই আন্দোলনকে শক্তিশালী করে তুলবেন।

২০২২ সালকে লক্ষ্য রেখে এ ধরনের কিছু সংকল্প নিয়ে এগিয়েযাব। তার আগে ২০১৯ সালে মহাত্মা গান্ধীর জন্মের সার্ধশতবার্ষিকী আসছে। গান্ধীজিরজন্ম সার্ধশতবর্ষে ভারতের জনগণের সকলের স্বভাবে কিভাবে পরিচ্ছন্নতাকে ভালভাবেপ্রোথিত করে দেওয়া যায় – একথা মাথায় রেখে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

আজ আপনাদের সামনে বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়ে আপনাদের কাছেকিছু অনুরোধ রেখেছি। আমার বিশ্বাস, আপনারা এগুলি করে দেখাবেন। আপনাদের এই সামর্থ্যরয়েছে, সংগঠন রয়েছে, সংকল্প রয়েছে। আপনারা পবিত্র ভাবনায় প্রেরিত উজ্জীবিত মানুষআপনারা কিছু করলে পরিণাম আসবেই। আমি আরেকবার দেশ ও বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকেসমাগত সকল শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিবর্গকে অন্তর থেকে স্বাগত জানাই। এই জ্ঞানের আলোবিশ্বের সর্বত্র পৌঁছে দিতে আপনাদের ভূমিকাকে অভিনন্দন জানাই।

আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আমিআপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আপনাদের সবাইকে আমার পক্ষ থেকে ওম শান্তি, ওম শান্তি, ওমশান্তি।

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Private capex jumps 67% to Rs 7.7 lakh crore, signals investment revival: CII

Media Coverage

Private capex jumps 67% to Rs 7.7 lakh crore, signals investment revival: CII
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
PM visits Somnath Temple, terms the 75th anniversary of its rebuilding a milestone in Bharat's civilisational journey
May 11, 2026

Prime Minister Shri Narendra Modi today visited the Somnath Temple and expressed feeling blessed on the occasion marking 75 years since the rebuilt temple opened its doors for devotees.

The Prime Minister noted his divine experience upon arriving at the holy shrine of Somnath on the 75th anniversary of the rebuilt temple's inauguration. Shri Modi highlighted that seeing the immense energy and enthusiasm of Lord Somnath's devotees along the temple path left him overwhelmed and emotional. He stated that he is reliving the very moment today that India's first President, Dr. Rajendra Prasad Ji, must have experienced during the inauguration of the rebuilt temple. He further added that the devotional atmosphere of the Somnath Amrut Mahotsav is infusing an amazing energy all around.

The Prime Minister also observed that one can experience Bhakti in every corner of Somnath. Acknowledging that countless people have come together to mark 75 years since the rebuilt temple opened its doors, Shri Modi emphasised that the historic day was indeed a milestone in the civilisational journey of Bharat.

In a series of posts on X, the Prime Minister wrote:

"Jai Somnath! Feeling blessed to be here, when we are marking 75 years since the rebuilt Temple opened its doors for devotees."

"पुनर्निर्मित सोमनाथ मंदिर के लोकार्पण की 75वीं वर्षगांठ पर पावनधाम सोमनाथ आकर दिव्य अनुभूति हुई है। इस अवसर पर मंदिर मार्ग पर भगवान सोमनाथ के भक्तों के जोश और प्रचंड उत्साह को देखकर मन अभिभूत और भावविभोर है! मैं आज यहां उस क्षण को जी रहा हूं, जिसका अनुभव भारत के प्रथम राष्ट्रपति डॉ. राजेंद्र प्रसाद जी ने पुनर्निर्मित मंदिर के लोकार्पण के अवसर पर किया होगा। सोमनाथ अमृत महोत्सव का भक्तिमय वातावरण हर तरफ अद्भुत ऊर्जा का संचार कर रहा है।" 

"At Somnath, one can experience Bhakti in every corner. Countless people have come together to mark 75 years since the rebuilt Temple opened its doors to devotees. That day was indeed a milestone in the civilisational journey of Bharat."

 At Somnath, one can experience Bhakti in every corner. Countless people have come together to mark 75 years since the rebuilt Temple opened its doors to devotees. That day was indeed a milestone in the civilisational journey of Bharat. pic.twitter.com/wvNbmAN5V8