Rashtrapati Ji clearly highlighted the rapid progress made over the past year in India's journey towards a Viksit Bharat: PM
The second quarter of this century will be vital in building a Viksit Bharat: PM
Every citizen feels the nation has reached a crucial moment and must keep moving forward without looking back: PM
India has emerged as a strong voice of the Global South: PM
For the nation's youth, this is a time of endless opportunities: PM
No matter how many challenges there are, we have 140 crore solutions: PM
India will no longer miss the bus, it will now lead from the front: PM

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী সংসদে রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের ওপর ধন্যবাদ সূচক প্রস্তাবে রাজ্যসভায় আজ জবাবি ভাষণ দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রস্তাবের সপক্ষে নিজের মতামত ব্যক্ত করা তাঁর কাছে সৌভাগ্যের। তিনি বলেন, দেশ গত বছর  উন্নতির পথে দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে গেছে। সমাজের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই রূপান্তর প্রত্যক্ষ করা গেছে, সঠিক লক্ষ্যে দেশ এগিয়ে চলেছে। শ্রী মোদী বলেন, রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে এই অগ্রগতিকে স্বচ্ছতা এবং সংবেদনশীলতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন। 

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি বিস্তারিতভাবে মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত, গ্রাম, কৃষক কৃষি নানা বিষয় তুলে ধরেছেন।  ভারতের যুব সম্প্রদায়ের সক্ষমতার সঙ্গে এগিয়ে চলার কথা তুলে ধরেছেন। উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে গভীর আস্থার সঙ্গে এগিয়ে চলা সকলের কাছে অনুপ্রেরণাদায়ক বলেও তিনি জানিয়েছেন। 

শ্রী মোদী বলেন, একবিংশ শতাব্দীর প্রথম ২৫ বছর শেষ হয়েছে। গত শতাব্দীতে স্বাধীনতা সংগ্রামের শেষ ২৫ বছর যেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল, ঠিক তেমনি উন্নত ভারত গড়ে তোলার পথে একবিংশ শতাব্দীর সদ্য শুরু হওয়া ২৫ বছরও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, প্রত্যেক নাগরিক সম্যক অনুভব করতে পারছেন ভারত এখন গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণের মুখে দাঁড়িয়ে। এখান থেকে  ফেরার আর কোনও পথ নেই, লক্ষ্য অর্জনে দ্রুততার সঙ্গে সামনে এগিয়ে চলতে হবে। লক্ষ্যে পৌঁছনোর পরেই বিশ্রামের অবকাশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের  পরিস্থিতি এখন অনুকূল। বিশেষত ধনী দেশগুলি যেখানে ক্রমশ বয়স্ক হয়ে উঠছে, ভারত সেখানে  উত্তরোত্তর তারুণ্যের শক্তিতে  ভর করে উন্নতির নতুন লক্ষ্যসীমা স্পর্শ করছে।  ক্রমবর্ধমান যুব জনসংখ্যা এই  অগ্রগতির পথ পথ রচনা করছে। শ্রী মোদী আরও বলেন, ভারতের প্রতি বিশ্বের আকর্ষণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতের মেধা শক্তিকে তারা স্বীকৃতি দিচ্ছে। এই তরুণ শক্তির স্বপ্ন, সংকল্প, দেশের সামর্থ্যের এক আশীর্বাদস্বরূপ। 

শ্রী মোদী বলেন, ভারত এখন এক আশার আলোকবর্তিকা হয়ে দেখা দিয়েছে। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলির সমাধানসূত্র যোগাচ্ছে। ভারতের অর্থনীতিতে উচ্চ বিকাশ এবং নিম্ন মূদ্রাস্ফীতি স্থিতিশীলতাকে তুলে ধরছে। তিনি বলেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার যখন ক্ষমতায় এলো তখন ভারত ‘ভঙ্গুর পাঁচ’ অর্থনীতির দেশগুলির মধ্যে গণ্য হত। স্বাধীনতার পর যে দেশ ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে পরিগণিত হত, তা একাদশ স্থানে নেমে গেছিল। কিন্তু ভারত আজ দ্রুততার সঙ্গে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হয়ে ওঠার পথে এগিয়ে চলেছে । 

শ্রী মোদী বলেন, বিজ্ঞান, মহাকাশ, ক্রীড়া প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই ভারতের প্রবল আস্থা লক্ষ্য করা যাচ্ছে কোভিড অতিমারী পরবর্তীকালে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন বিশ্ব শৃঙ্খল দেখা দিয়েছে। নিরপেক্ষ বিশ্লেষণে বিশ্ব এখন ভারতের দিকে ঝুঁকছে। ভারত এখন বিশ্বের নানান দেশের বিশ্বস্ত সহযোগী হয়ে উঠেছে। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিশ্ব কল্যাণের উদ্দেশ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণী বিশ্বের এক শক্তিশালী কণ্ঠ হয়ে উঠেছে ভারত। প্রধান দেশগুলির সঙ্গে ভবিষ্যৎ বান্ধব চুক্তিতে দেশ অগ্রসর হয়েছে। তিনি বলেন, অতি সম্প্রতি ৯টি উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ২৭টি দেশকে নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সাম্প্রতিক চুক্তিকে তিনি সব চুক্তির সেরা  আখ্যা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী অতীতের সরকারগুলির সমালোচনা করে বলেন, দেশের এমন একটা অবস্থা হয়েছিল যেখানে কোনও দেশ ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী ছিল না। বর্তমানে তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে। 

তিনি তাঁর গুজরাটের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, ভাইব্র্যান্ট গুজরাট শিখর সম্মেলনে জাপান ভারতের সহযোগী দেশ ছিল। ভারত আজ জাপানের অনুরূপ সামর্থ সম্পন্ন দেশ হয়ে উঠেছে বলে তিনি জানান। এটা সম্ভব যখন দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হয়, নাগরিকদের মধ্যে কর্ম চাঞ্চল্য দেখা দেয় এবং নির্মাণ ক্ষেত্রে এক দৃঢ় পরিমণ্ডল রচিত হয়। ভোট ব্যাঙ্ক রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিরোধীরা ক্ষমতায় থেকে এইসব অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রগুলিকে অবহেলা করছে। বিরোধী সরকারগুলির দৃষ্টিশক্তির অভাব, সদিচ্ছা এবং আদর্শের অভাবে রাষ্ট্র ক্ষতির শিকার হয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তাঁরা তাঁকে দেশ সেবার যে সুযোগ দিয়েছেন, তাতে তিনি বিশ্বে ভারতের ভাবমূর্তিকে নতুন করে গড়ে তুলছেন। নীতি নির্ভর সংস্কার এবং রূপান্তর মন্ত্রে দেশ এগিয়ে চলেছে। দেশ এখন রিফর্ম এক্সপ্রেস সওয়ার বলে জানান তিনি। দেশের নির্মাণ ক্ষেত্র, উদ্যোগ ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সংস্কারমূলক নীতি নিয়ে আসা হয়েছে। যাতে মূল্য সংযোজন নিশ্চিত হচ্ছে এবং ভারত এখন বিশ্ব ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় সম্পূর্ণ তৈরি। 

বৈশ্বিক সিইও ফোরাম ভারতীয় উদ্যোগপতিদের এখন সমতার চোখে দেখে জানিয়ে শ্রী মোদী বলেন, সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিরা বিশ্ব ক্ষেত্রে অনুরূপ মতই ব্যক্ত করেছেন। ভারতের এমএসএমই ক্ষেত্রকে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক শক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমানের যন্ত্রাংশও এখন ভারতের ছোট এমএসএমইগুলিতে তৈরি হচ্ছে যা বিশ্বের আস্থা অর্জন করছে। বিশ্বের প্রধান দেশগুলি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কতে আগ্রহী জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির পর সাম্প্রতির মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রশংসিত হয়েছে। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তি বিশ্ব আস্থা এবং বিশ্ব স্থিতিশীলতা জোগানোর পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তি এক দিকে নির্ণায়ক হয়ে বিশ্বের জন্য এক সদর্থক বার্তাবাহী হয়ে উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক এই যাবতীয় সম্ভবনার সুযোগ পৌঁছবে তরুণ সম্প্রদায়ের কাছে। তরুণ সম্প্রদায়ের অর্থ মধ্যবিত্ত, শহুরে, গ্রামীণ, পুত্র, কন্যা সকলে। এই যুব শক্তিতে দেশের গর্ববোধ হওয়া উচিত। বৈশ্বিক ক্ষেত্র  তাদের জন্য নতুন সুযোগ করে দিচ্ছে। বিশ্বজুড়ে ভারতীয় পেশাদারদের চাহিদা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।  বিশ্বের নানা কোম্পানি ভারতের শিক্ষিত প্রতিভাকে ব্যবহারের জন্য আমাদের দেশে কার্যালয় খুলছে। 

শ্রী মোদী বলেন, রাজ্যসভায় সমস্ত রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। কিন্তু  বিতর্কের যে মান প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে, তা আরও উন্নত হওয়া উচিত ছিল। তার কারণ দশকের পর দশক ধরে যারা দেশ শাসন করেছেন এবং দেশের সম্ভাবনাকে হেলায় হারিয়েছেন, দেশ এখন তাদেরকে কিভাবে বিশ্বাস করবে সেটাই বড় প্রশ্ন। এক সদস্যের ক্ষেত্রে পরিহাসের বিষয় হল, তিনি আর্থিক সমতা নিয়ে বলতে গিয়ে নিজেকে রাজা হিসেবে প্রতিপন্ন করতে চান। দেশে বর্তমানে যে অর্থনৈতিক বৈপরীত্য প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে তাতে সেই বক্তার অবস্থান নিয়েই সংশয় দেখা যায়। পশ্চিমবঙ্গে শাসক দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই সরকারের নিজের দিকে তাকানো দরকার। মানদণ্ডের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই তারা নিম্নমুখী। রাজ্যের মানুষকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়ে অন্যদেরকে তারা ভাষণ দিয়ে বেড়ায়। বেআইনী অনুপ্রবেশকারীদের সপক্ষে রাজ্যের অবস্থানের কঠোর নিন্দা করে শ্রী মোদী বলেন, এইসব অনুপ্রবেশকারীরা ভারতের যুব সম্প্রদায়কে নিজস্ব অধিকার, জীবন ধারণ, জনজাতি ভূমি থেকে বঞ্চিত করছে, সেইসঙ্গে পুত্র-কন্যাদের জীবনে হুমকির মতো দেখা দিচ্ছে। মহিলাদের প্রতি নৃশংসতা  বিনা বাধায় মেনে চলেছে। অনুপ্রবেশকারীদের স্বার্থ রক্ষায় যারা আদালতের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে তারা ভারতের যুব সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করছে যা ক্ষমার অযোগ্য বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। 

প্রধানমন্ত্রী বিরোধী সদস্যদের সমালোচনা করে বলেন, যাদের সরকার দূর্নীতি এবং অন্যায়ে  নিমজ্জিত, তারা বস্তুত ঘৃণার প্রতীক হয়ে দেখা দিয়েছে। কেন্দ্র এবং রাজ্যে দীর্ঘ দশক ধরে তারা ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু তাদের দূর্নীতি এবং ব্যর্থ প্রশাসন তাদের স্বরূপকে চিহ্নিত করেছে। তিনি বলেন, যখন কোনও বিল নিয়ে আলোচনা হয়, তখন গর্বের সঙ্গে তাদেরকে বলতে দেখা  গেলেও অতীতের বোফর্স চুক্তির মতো কেলেঙ্কারি তাদের স্বরূপ উদ্ঘাটিত করে দিয়েছে। নিজেদের পকেট ভর্তি করতে গিয়ে নাগরিকদের জীবনের উন্নতিতে তাদের লক্ষ্য ছিল না। 

ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ২০১৪ সালের পূর্বে ছিল ‘ফোন ব্যাঙ্কিং’-এর পর্ব। নেতাদের ফোনে ব্যাঙ্ক থেকে কোটি কোটি টাকা তাদের হাতে পৌঁছোত , আর গরিব মানুষ অবহেলায় পর্যবসিত হয়ে ব্যাঙ্কিং সুযোগ থেকে বঞ্চিত হত। তিনি বলেন,সে সময় জনসংখ্যার পঞ্চাশ শতাংশেরই কখনও ব্যাঙ্কে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। অন্যদিকে নেতারা নিজেদের জোর খাটিয়ে কোটি কোটি টাকা নিজের পছন্দের গোষ্ঠীর হাতে তুলে দিতে  বাধ্য করতো। ব্যাঙ্কের টাকা তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এতে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছিল। শ্রী মোদী জানান প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এক বৈদেশিক নেতা তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, সংস্কারের কাজে হাত দেওয়ার আগে ভারতের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাকে ভালো করে পর্যালোচনা করতে। তাতেই এই করুণ চিত্র ধরা পড়ে। খেলাপি ঋণের সংখ্যা অতীতের সরকারগুলির সময় পাহাড়প্রমাণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এর থেকেই প্রমাণিত ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা কতখানি অবহেলিত ছিল। 

শ্রী মোদী বলেন, তাঁর সরকার ধৈর্য্য এবং বিচক্ষণতার সঙ্গে কাজ করে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত অংশীদারদের মধ্যে আস্থা বর্ধন করে এবং ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিয়ে আসে। দুর্বল রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাঙ্ক যারা কাজ করতে পারছিল না, তাদের শক্তিশালী ব্যাঙ্কগুলির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার স্বাস্থ্য এখন পুনরুদ্ধার করা গেছে। দ্রুততার সঙ্গে তাদের অগ্রগতি হচ্ছে। ব্যাঙ্কিং বিনিময় বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষ তহবিলের সুযোগ পাচ্ছেন। শ্রী মোদী বলেন, যে সমস্ত গরীব আগে ব্যাঙ্কের সুযোগ বর্জিত ছিলেন, তাদের কাছে ব্যাঙ্ক ঋণ পৌঁছচ্ছে। মুদ্রা ঋণের সাফল্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুবকদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে ক্ষমতায়ন ঘটানো হচ্ছে, স্বনিযুক্তির পথে অনুপ্রাণিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মুদ্রা যোজনার মাধ্যমে ৩০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ঋণ যুবকদের মধ্যে কোনওরকম জমানত ছাড়াই প্রদান করা হয়েছে। তারা এতে ব্যবসার সম্প্রসারণ ঘটিয়েছেন। এই সুবিধাপ্রাপকদের মধ্যে মহিলাদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, গ্রামীণ মহিলারা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে আজ নতুন স্বপ্ন দেখছেন। ১০ কোটি মহিলা প্রত্যক্ষ আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন। এমএসএমই ক্ষেত্রগুলিতে ঋণের সুযোগ সম্প্রসারিত হচ্ছে। ২০১৪ সালের পূর্বে ব্যাঙ্কের খেলাপি ঋণের পরিমাণ যেখানে পাহাড়প্রমাণ দাঁড়িয়েছিল, বর্তমানে তা এক শতাংশে -এর নিচে নেমে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রায়ত্ব ক্ষেত্রগুলির উল্লেখ করে বলেন, ধসে পড়া, বন্ধ হতে বসা যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলির কাছে ভাগ্যের পরিহাস হয়ে দেখা দিয়েছিল, তাদের অবস্থার এখন পরিবর্তন হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ব ক্ষেত্রগুলি নিয়ে যাঁরা নেতিবাচক প্রচার করেন, শহুরে নকশালদের সঙ্গে তাদের তুলনা টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ব ক্ষেত্রের কর্মীদের তারা বিপথে চালিত করেছিল। এলআইসি, এসবিআই এবং হ্যাল-এর মতো প্রতিষ্ঠানের উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতের সরকার তাদের বিপথে চালিত করেছিল। কিন্তু বর্তমানে ক্রমাগত সংস্কার ঘটিয়ে তাদের অবস্থার রূপান্তর ঘটানো হয়েছে। এলআইসি তার সর্বাধিক সাফল্য দেখাচ্ছে। বন্ধ হয়ে যাওয়ার মুখে যেসব রাষ্ট্রায়ত্ব ক্ষেত্রগুলি দাঁড়িয়েছিল তার এখন লাভদায়ক হয়ে উঠছে। মেক ইন ইন্ডিয়া অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছে জানান প্রধানমন্ত্রী।  রেকর্ড সংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিরাট মাপের অর্ডার এই সমস্ত সংস্থাগুলি পাচ্ছে। উন্নত ভারত হয়ে ওঠার পথে ২৫ বছরের সময়কাল ভারতের অগ্রগতির বার্তাবাহক হয়ে উঠবে বলে তিনি জানান। 

শ্রী মোদী বিরোধীদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, তাঁরা দেশের কৃষক সমাজের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। কেবলমাত্র বড় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে ক্ষুদ্র কৃষকদের  অবহেলা করেছে। তাঁর সরকার বাস্তব এই অবস্থা সম্পর্কে সচেতন হয়েই পিএম কিষাণ সম্মান নিধির সূচনা করেছে। অতি অল্প সময়ের মধ্যে ছোট কৃষকদের ব্যাঙ্ক আমানতে সরাসরি ৪ লক্ষ কোটি টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে, যা তাঁদের মধ্যে নতুন শক্তি ও স্বপ্ন গড়েছে। 

শ্রী মোদী বলেন, কিছু বিরোধী নেতা সভার কাজে বিঘ্ন ঘটাতে সংকল্পবদ্ধ। তিনি বলেন, এক প্রবীণ বিরোধী নেতা এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছিলেন পরিকল্পনা কমিশন নিয়ে সমস্যার কথা। পাহাড়ী এলাকার জন্য কোনও পৃথক প্রকল্প করার কথা পরিকল্পনা কমিশন অস্বীকার করেছিল। তা সত্ত্বেও কোনও সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শ্রী মোদী বলেন, ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর তাঁর সরকার পরিকল্পনা কমিশনের বিলোপ ঘটিয়ে নীতি আয়োগ গড়ে তুলেছিল, যা এখন অত্যন্ত গতিশীলতার সঙ্গে কাজ করছে। 

উচ্চাকাঙ্ক্ষী জেলাগুলির সাফল্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলি এখন উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য এই উন্নয়ন মডেলকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। তিনি বলেন, যে সমস্ত জেলাগুলি আগে পিছিয়ে পড়া এবং অবহেলিত ছিল, এখন সেই অবস্থার রূপান্তর প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে। অতীতে কোনও সরকারি আধিকারিককে এইসব জেলাগুলিতে পাঠানো শাস্তিমূলক পোস্টিং হিসেবে দেখা হত। তাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে দেখা দেয়। কিন্তু তিনি অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। তিনি বলেন, ছত্তিশগড়ের বস্তার জেলা যা উচ্চাকাঙ্ক্ষী জেলা হিসেবে চিহ্নিত হয়, এখন দেশজুড়ে তা বস্তার অলিম্পিকস হিসেবে চিহ্নিত। সেখানে প্রতিটি গ্রামে উন্নয়নের সুফল পৌঁছচ্ছে। গ্রামে বাস চলাচলের দেখা প্রথম মিলছে। এর মধ্যে দিয়ে এক রূপান্তরমূলক পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে। শ্রী মোদী বলেন, বিরোধী নেতারা এইসব পরিবর্তন চোখে দেখতে পান না। তারা অতীতের পরিকল্পনা কমিশনে আটকে আছেন। তিনি বলেন, তাঁর জন্মের পূর্বেই সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল নর্মদা নদীর ওপর বাঁধের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন শ্রী জওহরলাল নেহরু। কিন্তু তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরই কেবলমাত্র এই সেতুর উদ্বোধন সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন গুজরাটের চাষিদের দাবির সমর্থনে তিনি ৩ দিন অনশনে বসেছিলেন যাতে সর্দার সরোবর বাঁধে চালু করা যায়। তিনি বলেন, আজ নর্মদার জল কাভাডা, কচ্ছ প্রভৃতি দূরবর্তী স্থানগুলিতে পৌঁছচ্ছে। 

প্রগতির মতো প্রযুক্তিমঞ্চ তৈরির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বন্ধ হয়ে থাকা প্রকল্পগুলি নতুন করে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি সংসদে হিমাচল প্রদেশের জন্য গঠিত ট্রেনের কথা উল্লেখ করে বলেন, তাঁর ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত সেই ট্রেনের পরিকল্পনাই তৈরি হয়নি। কেবলমাত্র নির্বাচনী সাফল্য পেতেই ঘোষণা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় খরচ উত্তোরোত্তর ৯০০ কোটি টাকা থেকে ৯০,০০০ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। এই কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। 

জম্মু-উধমপুর-শ্রীনগর-বারামুলা রেলপথের উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ তিন দশক ধরে এই প্রকল্প বন্ধ হয়েছিল। অথচ তাঁর সময়কালে বরফাবৃত পথে বন্দে ভারত ট্রেন এগিয়ে চলেছে। সেই ছবি ভাইরালও হয়েছে বলে তিনি জানান। প্রধানমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে বিরোধীদের সমালোচনা করে আসামের উল্লেখ করে বলেন, বগিবিল সেতু দীর্ঘ সময়কাল ধরে বন্ধ থাকার পর অরুণাচল এবং আসামকে এখন যুক্ত করেছে। এই সেতু আসাম এবং সমগ্র উত্তর পূর্বাঞ্চলের নানা সুবিধা পৌঁছে দিচ্ছে বলে তিনি জানান।

শ্রী মোদী বলেন, সময়সীমার আগেই তাঁর সরকার অনেক প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করে ফেলছে। ২০৩০ সালের আগেই সৌরশক্তি উৎপাদনের প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জন করা গেছে। ঠিক তেমনি ইথানলের লক্ষ্য ২-৩ বছর আগেই সম্পূর্ণ করা গেছে। তিনি বলেন, কোনও চ্যালেঞ্জের সমাধান তাঁর কাছে বিরোধীদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁর সরকার বিশ্বাস করে দেশের ১৪০ কোটি মানুষ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সমাধান বের করতে সক্ষম। তিনি বলেন, তাঁর সরকারের কাছে নাগরিকরা হল, সহায়ক মূলধন, স্থপতি এবং ভারতের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আলো। নাগরিকরা কোনওভাবেই তাঁর কাছে সমস্যা নয়। 

বিরোধীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাঁরা দেশের রাষ্ট্রপতিকে সম্প্রতি অপমান করেছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর সম্পর্কে যে শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে তা অত্যন্ত অপমানজনক। লোকসভাতেও ভারতের রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা হতে পারেনি, যা দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের প্রতি এক বড় অসম্মান। তিনি বলেন, গরিব জনজাতির কোনও মহিলা যখন দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদাধিকারী হন, তাঁকে  অপমান জনজাতি সম্প্রদায়কে অপমান। মহিলাদের অপমান, সংবিধানকে অপমান এবং রাষ্ট্রকে অপমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসামের কোনও সদস্য যখন লোকসভার পরিচালনা করছিলেন, সেই টেবিলের দিকে কাগজ ছোঁড়া অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। এটা উত্তর পূর্বাঞ্চল এবং সেখানকার মানুষদের অপমান। তিনি বলেন, অন্ধপ্রদেশের কোনও দলিত পরিবারের সন্তান যখন সভা পরিচালনা করছেন, এটা তাঁর প্রতিও অপমান। প্রান্তিক সম্প্রদায়ের প্রতি বিরোধীদের ঘৃণা বোধ এতে পরিলক্ষিত হয়। শ্রী মোদী বলেন, বিরোধীরা অসমের মানুষদের প্রতি অবহেলাবশতই ভূপেন হাজারিকাকে ভারতরত্ন সম্মান দেওয়ার সমালোচনা করেছিল। ভূপেন হাজারিকার কণ্ঠ সমগ্র রাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধ করার এক প্রকাশ হিসেবে ঘোষণা করে সরকার তাঁকে ভারতরত্নে সম্মানিত করে বলে তিনি জানান। 

শ্রী মোদী সংসদে এক বিরোধী নেতার এক শিখ সদস্যকে দেশদ্রোহী বলে আখ্যা নিন্দা করে বলেন, এটা শিখদের প্রতি অপমান, বিশেষত কোনোও শিখ পরিবার যখন দেশের জন্য জীবন বিসর্জন দিয়েছেন, সেই পরিবারের ক্ষেত্রে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত সদানন্দন মাস্টারের দুটি পা কেটে দেওয়া হয়েছিল, এখনও তিনি গভীর বিনম্রতার সঙ্গে দেশ সেবায় যুক্ত। এ নিয়ে বিরোধী জোটের  সমালোচনা করেন শ্রী মোদী। দেশের জন্য আত্মত্যাগ এবং সেবার কাজে ব্রতী এই জাতীয় মানুষের নিদর্শন তুলে ধরে শ্রী মোদী বলেন, ভারতের অগ্রগতিতে রাষ্ট্রের কাছে এঁরা অনুপ্রেরণাসূচক। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের যে দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পিত হয়েছে, উন্নত ভারতের সেই শক্ত ভিত গড়ে দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি কাজ করছেন। তিনি বলেন, বিগত ২৫ বছরে এমন একটা অধিবেশনও যায়নি যেখানে তাঁকে লক্ষ্য করে  অপমানজনক কথা বলা হয়নি। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩৭০ ধারার বিলোপ ঘটিয়ে তিনি উত্তর পূর্বাঞ্চলে শান্তি ও উন্নয়ন নিয়ে এসেছেন। পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদীদের ঘরে ঢুকে জবাব দিয়েছে অপারেশন সিঁদুর। মাও সন্ত্রাসের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করা হয়েছে এবং অন্যায়ভাবে সিন্ধু জলবন্টন বন্ধ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হতে দেখায়  বিরোধী দলের মধ্যে হতাশা ক্রমবর্ধমান। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারকে নিজেদের পরিবারের উত্তরাধিকার বলে মনে করে এবং অন্য কেউ সে আসনে বসুক তা তাঁরা দেখতে চান না। তিনি বলেন, বিরোধীদের দশকের পর দশক ক্ষমতায় থাকার সুযোগ পেয়েছে। গরিবি হটাও শ্লোগান তুলে দেশকে বিপথে চালিত করেছে। গরিবি হটাওয়ের কথা বললেও তা কেবল শ্লোগানেই থেকে গেছে কাজের কাজ কিছু হয়নি। তাঁর সময়কালে ২৫ কোটি পরিবারকে দারিদ্র সীমার ওপরে তুলে আনা হয়েছে বলে জানান শ্রী মেদি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের পথে এই মানুষেরা এখন পায়ে পা মিলিয়ে চলেছেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালের আগে অরক্ষিত রেলওয়ে ক্রসিংয়ের জন্য দুর্ঘটনায় অনেক মানুষের মৃত্যু হত। এমনকি একটা স্কুল বাসের সঙ্গে ট্রেনের ধাক্কায় শিশুদের মমান্তিক মৃত্যুর কথাও তুলে ধরেন তিনি। এই সমস্যার সমাধান অসম্ভব ছিলনা। কিন্তু বিরোধী সরকার এ ব্যাপারে চোখ বুজেছিল। শ্রী মোদী আরও বলেন, ২০১৪ সালের আগে ১৮০০০ গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছয়নি। কিন্তু তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার পর সমস্ত গ্রামে এখন বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। 

তিনি বলেন, আগে খবরের কাগজের হেডলাইনে দেখা যেত সীমান্তে সেনাদের গোলাগুলির অভাব, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট নেই, উপযুক্ত জুতো ছাড়াই সেনারা বরফের মধ্যে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। কিন্তু তাঁর সরকার দেশের অর্থ ভান্ডারকে সেনাদের জন্য খুলে দিয়েছেন। তাঁদের যা কিছু প্রয়োজন তা মেটানোকে সরকার তার সংকল্প হিসেবে গ্রহণ করেছে। 

শ্রী মোদী বলেন, উত্তর প্রদেশের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সংসদে একবার তাঁর রাজ্যের শিশুদের দুর্গতির কথা বলতে গিয়ে আক্ষেপ করেন। অসংখ্য শিশু এনসেফালাইটিস রোগে মারা যাচ্ছিল। অথচ তৎকালীন সরকার চোখ বন্ধ করে ছিল। তিনি বলেন, তাঁর সরকার দেশকে এনসেফেলাইটিস থেকে মুক্ত করেছে এবং ট্রাকোমা চোখের রোগের হাত থেকেও দেশকে মুক্ত করা হয়েছে। এটাই তাঁর সরকারের সংকল্প বলে তিনি জানান। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের সরকারগুলি রিমোট কন্ট্রোল দ্বারা চালিত হত। তাঁর সরকারও রিমোটে চালিত হয়, কিন্তু সেই রিমোট হচ্ছে দেশের ১৪০ কোটি মানুষ, তাঁদের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা এবং যুব সম্প্রদায়ের সংকল্প। মুদ্রা যোজনা প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে লক্ষ লক্ষ স্বনিযুক্তির ক্ষেত্র প্রসারিত হচ্ছে। অতীতের সরকার স্টার্টআপ সংস্কৃতির প্রসারে কোনও উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপই নেয়নি। সেই সময়কার হাতে গোনা কয়েকশো স্টার্টআপ থেকে তাঁর সরকারের সময়কালে সেই সংখ্যা ২ লক্ষ ছাপিয়ে গেছে বলে তিনি জানান। শ্রী মোদী বলেন, বিএসএনএল-কে একসময় তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হত। কিন্তু তাঁর সরকারের আমলে স্বদেশী ৪জি স্ট্যাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং ভারত বিশ্বজুড়ে দ্রুততার সঙ্গে ৫জি প্রযুক্তি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে যোগাযোগ ও প্রযুক্তির প্রসার হচ্ছে।

তিনি বলেন, গরিবের জন্য কাজ করা তাঁর কাছে সৌভাগ্যের। ৪ কোটি গরিব পরিবারকে পাকা গৃহ, বিদ্যুৎ, জল, গ্যাস সিলিন্ডার এবং শৌচালয়ের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ মহিলারা নিজেদের গর্বের সঙ্গে `লাখপতি দিদি' বললে রূপান্তর প্রকৃতই পরিলক্ষিত হয়। শ্রী মোদী বিরোধী দলের চৌর্যবৃত্তিকে বংশানুক্রমিক পেশা হিসেবে আখ্যা দিয়ে গুজরাটি মহাত্মা গান্ধীর পদবী হরণের কথাও উল্লেখ করেন। দেশের মানুষ তাঁদের এই চালাকির উপযুক্ত জবাব দিয়েছে। তাঁর সরকার উন্নত ভারত গড়ে তোলার স্বপ্নকে দেশের মানুষের জাতীয় সংকল্প হিসেবে গড়ে তোলার পথে দেশের মানুষকে যুক্ত করেছে। বিরোধীরা ২০৪৭-এর এই দিশাপথ নিয়েও সন্দিহান বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। শ্রী মোদী বলেন, ডিজিটাল ইন্ডিয়া, ফিনটেক, ইউপিআই এইসব নিয়েও সন্দেহবাতিকরা কটাক্ষ করেছিল। কিন্তু ৩ বছরের মধ্যে ভারত প্রমাণ করে দেখিয়েছে মানুষের হাতের মোবাইলে প্রকৃত শক্তি লুকিয়ে। সেই মোবাইল থেকেই ইউপিআই-এর মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন হচ্ছে।

শ্রী মোদী বলেন, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে ক্রমাগত কাজ করে যেতে হবে। তিনি বলেন, ২০৪৭-এর মধ্যে উন্নত ভারতের লক্ষ্য অর্জনে এই ২৫ বছরে ৫টি পর্বে ভাগ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যেই বাজেট বরাদ্দও হচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচন আসবে-যাবে, কিন্তু রাষ্ট্র মহান এবং সর্বোত্তম। ভারতের যুব সম্প্রদায়ের হাতে সমৃদ্ধ ভারত তুলে দেওয়া তাঁর অঙ্গীকার। তিনি বলেন, মহাকাশ, বিজ্ঞান, প্রযু্ক্তি, সাগর, স্থল, অন্তরীক্ষ এবং বহিঃস্থ  মহাকাশে নতুন উদ্দীপনা ও শক্তির সঙ্গে ভারত এগিয়ে চলেছে। গ্রীন হাইড্রোজেন, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং এআই মিশনের লক্ষ্যে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সারা বিশ্ব এখন ভারতের শক্তির প্রতি আস্থাশীল। দুর্লভ ধাতু এবং বিরল মৃত্তিকার ওপরও এখন আলোকপাত করা হচ্ছে, যা ভূ-রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে পরিগণিত। 

শ্রী মোদী বলেন, ভারতে এখন প্রভূত পরিমাণ বিদেশী বিনিয়োগ হচ্ছে, যা ভারতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, ভারতে তারুণ্যের মেধা এবং প্রতিশ্রুতিময় পথের প্রতি এক দিশা। কেউ কেউ হয়তো বুঝতে পারছেন না যে ভারত কেন উন্নত দেশ হয়ে ওঠার কথা বলছে। কিন্তু সারা বিশ্ব বুঝছে যে ভারত সঠিক পথেই এগিয়ে চলেছে। তারা এখন দ্রুত  বিনিয়োগ নিয়ে ভারতে আসতে চাইছে। শ্রী মোদী বলেন, আগামীদিন ভারতের জন্য সম্ভাবনায় ভরপুর। তিনি সাংসদদের আহ্বান জানান, যাতে তাঁরা তাঁদের সংসদীয় ক্ষেত্রে উন্নয়নের সঙ্গে কোনও রকম সমঝোতা না করেই  সুযোগকে মানুষের কাছে  পৌঁছে দেন। জনগণ কেন্দ্রিক উদ্ভাবন, গবেষণা ভারতকে বিশ্ব মানচিত্রে উজ্জ্বল স্থানে প্রতিষ্ঠিত করবে এই নয়, ‘মেড ইন ইন্ডিয়া, মেড ফর দ্য ওয়ার্ল্ড’ - এই ধ্বনি সারা বিশ্বজুড়ে ভারতের সুখ্যাতিতে মুখরিত হবে। 

প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তিনি যাতে বলতে না পারেন, বিগত এক দশকে ৫-৬ বার এরকম চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু তিনি যদি শুরু করেন, তিনি থামতে জানেন না। বিরোধীরাও সম্ভবত তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছেন, এই জাতীয় প্রয়াসে কাজের কাজ কিছু হবে না। যত তাড়াতাড়ি তাঁদের মধ্যে শুভ বুদ্ধি জাগ্রত হয়, ততই ভালো বলে শ্রী মোদী জানান। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদসূচক প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে সদস্যদের বক্তব্যের উল্লেখযোগ্য নানা দিক এবং নতুন দৃষ্টিকোন ভারতের অগ্রগতির পথে দেখাবে বলে তিনি জানান। রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন। 

 

Click here to read full text speech

 

 

 

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
PM Modi Leads International Yoga Day Event In Kolkata, Says It Has Become 'World's Biggest Festival'

Media Coverage

PM Modi Leads International Yoga Day Event In Kolkata, Says It Has Become 'World's Biggest Festival'
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
PM Modi commissions three indigenously designed and built naval ships – INS Dunagiri, INS Sanshodhak and INS Agray
June 21, 2026
INS Agray, INS Dunagiri, and INS Sanshodhak have been inducted into the Indian Navy: PM
Today, 21 June is also celebrated as World Hydrography Day, And it is a truly remarkable coincidence that on this very day we have commissioned India's most advanced hydrography ship, INS Sandhayak: PM
The country whose maritime strength is robust,its economic and strategic influence will be equally robust; And India understands this reality well, India is preparing itself for this: PM
The journey from INS Vikrant to today is not merely the journey of new warships; It is the journey of India's growing self-reliance, today, INS Agray, INS Dunagiri, and INS Sanshodhak are giving new momentum to that very journey: PM
India has begun to move forward with a new vision for the shipbuilding sector; Special steps have been taken to enhance domestic construction capacity: PM
Shipbuilding, ship repair, and MRO are being viewed as part of a major national mission: PM
India has always regarded the ocean as a medium of cooperation, but India also knows that strength is essential to safeguard peace; Security is necessary to protect prosperity and self-reliance is imperative for building the future: PM
Today, INS Agray, INS Dunagiri, and INS Sanshodhak have joined the Indian Navy as symbols of this very spirit: PM

Prime Minister, Shri Narendra Modi, today commissioned three indigenously designed and built naval ships - INS Dunagiri, an advanced stealth frigate, INS Sanshodhak, a survey vessel (large) and INS Agray, an anti-submarine warfare shallow water craft, at Syama Prasad Mookerjee Port, Kolkata, West Bengal. These inductions will significantly bolster the nation’s operational capabilities, enhance maritime domain awareness, and strengthen the security of our coastal waters against geopolitical threats. All three ships were designed by the Indian Navy’s Warship Design Bureau and constructed in Kolkata by Garden Reach Shipbuilders & Engineers (GRSE), with extensive participation by Indian industry, including more than 200 MSMEs. With an indigenous content of over 75 percent, these ships are also a testament to India’s commitment to Aatmanirbharta.

Addressing the gathering, the Prime Minister noted that the occasion coincides with the International Day of Yoga being celebrated across the world and expressed happiness at having the opportunity to visit the historic land of Bengal, which has played a pivotal role in shaping India's intellectual, cultural and national renaissance and has connected India with the world through maritime routes for centuries. “The event represented an important milestone in the journey towards an Aatmanirbhar Bharat, a secure India and a developed India”, Shri Modi noted. He pointed out that June 21 is also observed globally as World Hydrography Day and described it as a remarkable coincidence that India's most advanced hydrographic survey vessel, INS Sanshodhak, is commissioned on the same day. Congratulating the Indian Navy, scientists, engineers, workers and all citizens of the country, Shri Modi said the achievement reflected India's growing technological and maritime capabilities. “No nation can emerge as a major power without strong maritime capabilities. Development, security and prosperity are closely linked to the oceans. Most of the world's trade moves through sea routes, while vast global data networks operate beneath the oceans”, Shi Modi stated while emphasizing the importance of maritime strength in the modern world. He further noted that critical minerals, deep-sea resources and future sources of energy will increasingly be connected to the maritime domain. Therefore, he said, a nation's economic and strategic influence is directly linked to the strength of its maritime sector.

Shri Modi stated that India fully understands this reality and is preparing itself accordingly. “The commissioning of the three naval platforms stands as testimony to the country's growing capabilities and skills”, he remarked. Recalling the commissioning of INS Vikrant, he said that it had marked the beginning of a new chapter in India's maritime journey and announced India's growing naval strength to the world. He noted that the journey from INS Vikrant to the commissioning of INS Agray, INS Dunagiri and INS Sanshodhak is not merely a story of new warships but also a reflection of India's increasing self-reliance. “All three vessels symbolize India's commitment to indigenous design, manufacturing and innovation. Designed and built in India, the vessels showcase the talent of Indian industries, the expertise of Indian engineers and the hard work of Indian workers”, Shri Modi underscored.

Shri Modi asserted that India does not wish to remain merely a buyer in the defence sector. “The strength of the nation's military cannot be measured by its dependence on global markets but by its ability to become self-reliant. India seeks to become a producer and a manufacturer, because nations that manufacture become decisive players on the global stage”, he added. Highlighting recent achievements, the Prime Minister noted that more than 40 indigenously built warships and submarines have been inducted into the Indian Navy over the past few years. He remarked that nearly every few weeks the Navy has received a new capability, while 45 major naval platforms are currently under construction. These figures, he said, are not merely statistics but indicators of India's industrial capacity and future potential.

Underlining the immense employment-generating potential of the maritime sector, Shri Modi said, “The Government views the maritime sector not as an isolated industry but as a major engine of employment and economic growth for a developed India. A modern ship requires large quantities of steel, electronics, machinery and thousands of components, creating opportunities across extensive industrial supply chains”. Referring to the three commissioned vessels, he noted that more than 200 MSMEs contributed to their construction, generating substantial employment and economic activity across the country.

Shri Modi stated that the time has come for India to enter the next phase of maritime development, and the Government has adopted a new vision for the shipbuilding sector and has introduced several policy reforms in recent years to enhance domestic manufacturing capabilities. “The ₹70,000 crore incentive package announced for the shipping sector is not merely an economic measure but an investment in India's maritime future and industrial expansion. Initiatives such as Sagarmala reflect this comprehensive vision and are helping reduce logistics costs, accelerate industrial growth and create new opportunities in coastal regions” he stated.

Reflecting on India's transformation in the defence sector, Shri Modi observed that there was a time when India was counted among the world's largest defence importers, creating both strategic and security challenges. Following the formation of the Government in 2014, he said, a determined effort was made to change this situation through major policy reforms and a strong emphasis on self-reliance in defence manufacturing. “These efforts have opened new opportunities in defence design, manufacturing and exports. While India's total defence production stood at around ₹40,000 crore in 2014, it has now risen to nearly ₹1.8 lakh crore, demonstrating the significant progress made towards building a strong, self-reliant and globally competitive defence industry”, he remarked. Shri Modi emphasized that the progress made over the past twelve years demonstrates how transformative change becomes possible when policies are clear, direction is correct, and all stakeholders work together with a shared commitment towards national development.

Referring to India's rich maritime heritage, the Prime Minister said that the name of West Bengal naturally comes to mind whenever the country's maritime legacy is discussed. He observed that Bengal has historically played a crucial role in India's maritime connections with the world. The waters of the Hooghly River, he said, have witnessed changing chapters of history, the growth of trade, and new journeys of development. He also noted that the port bears the name of Dr. Syama Prasad Mookerjee, the son of Bengal and India's first Minister for Industry, making the occasion even more significant. “West Bengal is poised to become a major hub for India's Blue Economy, maritime manufacturing, logistics and coastal development in the years ahead”, Shri Modi stated.

Shri Modi reiterated that India has always viewed the oceans as a medium for cooperation and connectivity. “Security is indispensable for protecting prosperity, while self-reliance is necessary for building the future. INS Agray, INS Dunagiri and INS Sanshodhak embody these very ideals and symbolize a nation that is increasingly aware of its capabilities, confident in its strengths and determined to move forward with renewed energy and purpose in the twenty-first century” he emphasised.

Concluding his address, the Prime Minister extended his best wishes to all personnel of the Indian Navy, scientists, engineers, workers and all citizens for their contribution to these achievements and expressed confidence that India's maritime and defence sectors would continue to strengthen the nation's security, prosperity and global standing.