জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ প্রেস বিবৃতির সময় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ 

নতুনদিল্লি, ২ জুলাই, ২০২৬ 

সুধী, আমার ছোট বোন তাকাইচীজি, 
দুই দেশের প্রতিনিধিরা, 
সংবাদ মাধ্যমের বন্ধুরা, 
নমস্কার! 
কোনিচিওয়া  

ভারত- জাপান বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচীর প্রথম ভারত সফরে তাঁকে স্বাগত জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।  

উনি জাপানের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী এবং একই সঙ্গে একজন দূরদর্শী ও জনপ্রিয় নেত্রী। তাছাড়া, উনি জাপানের নারা প্রশাসনিক অঞ্চলের বাসিন্দা; এই অঞ্চলটি ভারত ও জাপানের যৌথ বৌদ্ধ ঐতিহ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র।  

বন্ধুগণ, 

মাত্র কয়েক দিন আগে জি-সেভেন শীর্ষ সম্মেলনে আমি বলেছিলাম, পৃথিবীজুড়ে এখন এক অস্থির অবস্থা চলছে, এই সময়ে পারস্পরিক আস্থাই আমাদের সবচেয়ে বড় কৌশলগত সম্পদ। আর আমি গর্বিত যে, ভারত ও জাপানের মধ্যে অংশীদারিত্বে এই আস্থা পুরোপুরি বজায় রয়েছে।    

 

গত কয়েক দশক ধরে — স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র, গাড়ি শিল্প থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিন সামগ্রী পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে—জাপান ভারতের উন্নয়নযাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠেছে এবং বন্ধুত্ব ও আস্থার এক অমূল্য ভিত্তি গড়ে তুলেছে ।   
 
আর আজ, প্রধানমন্ত্রী তাকাইচীর এই সফরের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের ‘বিশেষ কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক স্তরের অংশীদারিত্ব’-র এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছি।

বন্ধুগণ, 

বর্তমানে ভারত ও জাপান—উভয় দেশই বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে পরিচিত। একটি অবাধ, সমৃদ্ধ এবং নিয়ম মেনে চলা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গড়ে তোলা যৌথভাবে আমাদের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে।   

এই অঞ্চলের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক ও বাজার-ভিত্তিক অর্থনীতি হিসেবে আমরা আজ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এগুলির মাধ্যমে আমরা সমগ্র অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করব।  
 
বন্ধুগণ, 

প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি এবং আমি মনে করি, প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতার সবচেয়ে শক্তিশালী স্তম্ভ হয়ে উঠবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য আমরা আজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক একটি যৌথ বিবৃতিও প্রকাশ করেছি। ভারতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইকোসিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান আজ তাদের জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে চুক্তিস্বাক্ষর করেছে। জাপানের নিখুঁত প্রযুক্তি এবং সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে ভারতের দক্ষতার এই মেলবন্ধন বিশ্বজুড়ে এআই-এর বিকাশে নতুন গতি ও শক্তি জোগাবে।   

আজ আমরা প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত ও জাপানের মধ্যে প্রথম যৌথ-উন্নয়ন প্রকল্প বিষয়ক একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। নৌ-বাহিনীর রেডিও অ্যান্টেনা সংক্রান্ত এই প্রকল্পটি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আমাদের প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এখন আমরা যৌথভাবে এমন সব প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত প্রযুক্তি গড়ে তুলব, যা আঞ্চলিক শান্তি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং নিয়ম-ভিত্তিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে।  

 

ওষুধ শিল্প, চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত এবং জৈব প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে আজ যে চুক্তিগুলি স্বাক্ষরিত হয়েছে এর মধ্য দিয়ে আমরা আন্তর্জাতিক স্তরে স্বাস্থ্যক্ষেত্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণ করব। ভারতের প্রাচুর্যর সঙ্গে জাপানের গুণমান যুক্ত হয়ে ব্যয়সাশ্রয়ী, বিশ্বাসযোগ্য এবং উন্নত এক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা পৃথিবীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা কাজ করছি। 

বন্ধুগণ,

ভারত ও জাপানের মধ্যে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যে অংশীদারিত্ব রয়েছে, তা ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। গত এক বছর ধরে ১০০টিরও বেশি নতুন বাণিজ্যিক চুক্তি হয়েছে। এর আওতায় ভারতে জাপানী সংস্থাগুলি ১০০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ বিনিয়োগ করবে। আজ আর্থিক পরিষেবা সংক্রান্ত সংস্থাগুলির মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে বিনিয়োগ ও মূলধনের জোগান আরও বৃদ্ধি পাবে।  

আমাদের উদ্দেশ্য অত্যন্ত স্পষ্ট- আগামী ১০ বছরে জাপান ভারতে ১ লক্ষ কোটি ইয়েন বিনিয়োগ করবে। আর ভারতে জাপানী প্রতিষ্ঠানগুলির সংখ্যা দ্বিগুণ হবে। ভারতে প্রতিনিয়ত সংস্কারের ফলে সহজে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। জাপানীর কোম্পানীগুলি এর সুযোগ কাজে লাগাতে পারছে।

বন্ধুগণ,  

বর্তমান অনিশ্চয়তার এই যুগে, ভারত এবং জাপান দুটি দেশই আর্থিক সুরক্ষা এবং জ্বালানি সংক্রান্ত নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে পারে। এই লক্ষ্যে আজ আমরা আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়ে একটি যৌথ পরিকল্পনা তৈরি করেছি। এর মাধ্যমে আমরা সেমিকণ্ডাক্টর, কোয়ান্টাম এবং উন্নত গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রির মতো কৌশলগত ক্ষেত্রে সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।  

জ্বালানি নিরাপত্তা ক্ষেত্রের বিষয়ে আজ আমরা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। ভারত-জাপান জৈব গ্যাস উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা ভারতে ১০০০ জৈব গ্যাস এবং জৈব সার তৈরির কারখানা গড়ে তুলতে জাপানের সহায়তা পাব। এর ফলে আমাদের ‘গোবর্ধন পহল’-এর উদ্যোগ আরও মজবুত হবে। 

ফলস্বরূপ ভারতের গ্রামগুলিতে স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে নতুন গতি আসবে। ‘অয়েল শক’-এর মতো পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আজ আমরা জ্বালানি ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ব্যাটারি, পরিবেশ বান্ধব হাইড্রোজেন এবং পারমাণবিক শক্তির মতো ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে সহযোগিতার ফলে পৃথিবীর পরিবেশ বান্ধব জ্বালানির ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আমরা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবো।  

 

ভারত এবং জাপান আর্থিক সুরক্ষাকে অভিন্ন এক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিণত করতে  এবং জ্বালানির ব্যবহারের পরিবর্তনকে অভিন্ন এক সুযোগে রূপান্তরিত করছে। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলির প্রসার ঘটাতে আমরা কাজ করবো, যার মধ্য দিয়ে পরিবর্তন আসবে। 

আজ আমরা ভারত-জাপান নেক্সড জেনারেশন মোবিলিটি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্কও তৈরি করেছি। এর ফলে যানবাহন ক্ষেত্রে আমাদের সাফল্য অর্জিত হবে, জাহাজ নির্মাণ শিল্প, বিমান এবং পণ্য পরিবহণের মতো ক্ষেত্রগুলিতেও সুবিধা হবে। 

বন্ধুগণ,

আমাদের সম্পর্কের সব থেকে বড় শক্তি হল দু-দেশের জনসাধারণের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ। আমরা দুই দেশের প্রতিভাকে কাজে লাগাতে চাই, দক্ষতা ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত শিক্ষানবিশ কর্মসূচির সুযোগ বাড়াতে চাই। আর দুই দেশের মধ্যে গবেষণা, শিক্ষা ও স্টার্টআপ ক্ষেত্রে সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করে তোলা হবে।  

আগামী বছর আমরা ভারত-জাপান কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর উদযাপন করব। এর জন্য আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়কালে আমরা সংস্কৃতি, পর্যটন এবং সৃজনশীল অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবো। 

সুধী,

ভারত এবং জাপানের অর্থনীতি পরিপূরক। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্র থেকে আধুনিক প্রযুক্তি- সর্বত্র আমাদের চিন্তাভাবনা অভিন্ন।

আর সব থেকে বড় কথা হল, পারস্পরিক আস্থার ওপর ভিত্তি করে আমাদের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ জাপান গড়ে তোলার জন্য আপনাদের স্বপ্ন, বিকশিত ভারত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমাদের সংকল্প এবং বিশ্বের উন্নয়নকে আমাদের মধ্যে বিশেষ এই অংশীদারিত্বই নতুন এক উচ্চতায় উন্নীত করবে। 

একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ জাপান গড়ে তোলার জন্য আপনাদের স্বপ্ন, বিকশিত ভারত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমাদের সংকল্প এবং সমগ্র বিশ্বের উন্নয়নের জন্য
আমরা একযোগে কাজ করবে। 

আমি আরও একবার আপনাদের সকলকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। 

আপনাদের অনেক অনেক ধন্যবাদ।

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
‘Give mothers, sisters their due rights’: PM Modi pushes for women's reservation from the ramparts of Red Fort

Media Coverage

‘Give mothers, sisters their due rights’: PM Modi pushes for women's reservation from the ramparts of Red Fort
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
সোশ্যাল মিডিয়া কর্নার 16 অগাস্ট 2026
August 16, 2026

Aatmanirbhar Ambitions Meet Global Alliances: The Modi Doctrine in Action