Even after a thousand years, the flag still flies atop the Somnath Temple, it reminds the world of India's strength and spirit: PM
SomnathSwabhimanParv marks a journey of a thousand years, it stands as a celebration of India's existence and self-pride: PM
The history of Somnath is not one of destruction or defeat, it is a history of victory and renewal: PM
Those who came to destroy Somnath are now confined to a few pages of history, while Somnath Temple stands tall by the sea with its flag of faith flying high: PM
Somnath shows that while creation takes time, it alone endures: PM

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ গুজরাটের সোমনাথে ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’- এ ভাষণ দেন। এই উপলক্ষে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, এই সময়টি অসাধারণ, এই পরিবেশ অসাধারণ এবং এই উদযাপনও অসাধারণ। তিনি বলেন যে, একদিকে স্বয়ং ভগবান মহাদেব এবং অন্যদিকে সমুদ্রের বিশাল ঢেউ, সূর্যের কিরণ, মন্ত্রের অনুরণন এবং ভক্তির জোয়ার। তিনি বলেন যে, এই দিব্য পরিবেশে ভগবান সোমনাথের সকল ভক্তের উপস্থিতি এই অনুষ্ঠানকে আরও দিব্য ও মহিমান্বিত করে তুলেছে। শ্রী মোদী বলেন যে, সোমনাথ মন্দির ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হিসেবে ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’- এ সক্রিয়ভাবে সেবা করার সুযোগ পেয়ে তিনি নিজেকে অত্যন্ত ভাগ্যবান মনে করেন। তিনি ৭২ ঘণ্টা ধরে ওঙ্কার মন্ত্রের অবিরাম জপ এবং ৭২ ঘণ্টা ধরে মন্ত্র পাঠের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন যে, গতকাল সন্ধ্যায় এক হাজার ড্রোন এবং বৈদিক গুরুকুলের এক হাজার ছাত্রের উপস্থিতিতে সোমনাথের হাজার বছরের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছিল এবং আজ ১০৮টি ঘোড়া নিয়ে ‘শৌর্য যাত্রা’ মন্দিরে এসে পৌঁছেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, মন্ত্র ও ভজনের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়, এই অভিজ্ঞতা কেবল সময়ই ধারণ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, এই উদযাপন গর্ব ও সম্মান, মর্যাদা ও জ্ঞান, মহিমা ও ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা ও উপলব্ধি, অভিজ্ঞতা, আনন্দ এবং অন্তরঙ্গতার প্রতীক। সর্বোপরি, তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি ভগবান মহাদেবের আশীর্বাদ বহন করে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, আজ যখন তিনি কথা বলছেন, তখন বারবার তাঁর মনে এই প্রশ্ন জাগছে যে, ঠিক এক হাজার বছর আগে এই স্থানে, যেখানে এখন মানুষ বসে আছেন, সেখানকার পরিবেশ কেমন ছিল। তিনি বলেন যে, এখানে উপস্থিত সকলের পূর্বপুরুষরা, আমাদের পূর্বসূরিরা, তাঁদের বিশ্বাস, তাঁদের আস্থা এবং তাঁদের ভগবান মহাদেবের জন্য নিজেদের জীবন বাজি রেখেছিলেন এবং তাঁদের সবকিছু উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি বলেন যে, এক হাজার বছর আগে আক্রমণকারীরা ভেবেছিল যে তারা জয়ী হয়েছে, কিন্তু আজ, এক সহস্রাব্দ পরেও, সোমনাথ মহাদেবের মন্দিরের চূড়ার পতাকা সমগ্র সৃষ্টিকে হিন্দুস্তানের শক্তি ও সামর্থ্যের কথা ঘোষণা করছে। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন যে, প্রভাস পাটনের মাটির প্রতিটি কণা সাহস, বীরত্ব এবং শৌর্য্যের সাক্ষী এবং সোমনাথের রূপ রক্ষার জন্য অসংখ্য শিবভক্ত তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি বলেন, সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব উপলক্ষে আমি প্রথমে সেই সব বীর নারী-পুরুষকে প্রণাম জানাই, যাঁরা ভগবান মহাদেবের কাছে সবকিছু উৎসর্গ করে সোমনাথের সুরক্ষা ও পুনর্গঠনের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

প্রভাস পাটন যে কেবল ভগবান শিবের ক্ষেত্র নয়, বরং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দ্বারাও পবিত্র, এই কথা উল্লেখ করে শ্রী মোদী বলেন যে মহাভারতের যুগে পাণ্ডবরাও এই পবিত্র স্থানে তপস্যা করেছিলেন। তিনি মন্তব্য করেন যে এই উপলক্ষটি তাই ভারতের অগণিত মাত্রাকে শ্রদ্ধা জানানোর একটি সুযোগ। তিনি বলেন, এটি একটি সৌভাগ্যজনক কাকতালীয় ঘটনা যে সোমনাথের স্বাভিমান যাত্রা যখন হাজার বছর পূর্ণ করছে, তখন আজ ১৯৫১ সালে হওয়া এর পুনর্নির্মাণেরও পঁচাত্তর বছর পূর্ণ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ ভক্তকে শুভেচ্ছা জানান।

এই উৎসবটি কেবল হাজার বছর আগে ঘটে যাওয়া ধ্বংসযজ্ঞের স্মৃতিচারণ নয়, এই কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে এটি হাজার বছরের যাত্রার পাশাপাশি ভারতের অস্তিত্ব ও গর্বের উদযাপন। তিনি বলেন, প্রতিটি পদক্ষেপে এবং মাইলফলকে সোমনাথ ও ভারতের মধ্যে অনন্য সাদৃশ্য দেখা যায়। ঠিক যেমন সোমনাথকে ধ্বংস করার জন্য অসংখ্য প্রচেষ্টা হয়েছিল, তেমনি বিদেশী আক্রমণকারীরা কয়েক শতাব্দী ধরে ভারতকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছিল। তবুও সোমনাথ ধ্বংস হয়নি, ভারতও হয়নি, কারণ ভারত এবং তার বিশ্বাসের কেন্দ্রগুলি অবিচ্ছেদ্যভাবে সংযুক্ত।

 

শ্রী মোদী বলেন, হাজার বছর আগের ইতিহাস কল্পনা করতে হবে, যখন ১০২৬ খ্রিস্টাব্দে গজনীর মাহমুদ প্রথম সোমনাথ মন্দির আক্রমণ করে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন, এই ভেবে যে তিনি এর অস্তিত্ব মুছে ফেলেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েক বছরের মধ্যেই সোমনাথ পুনর্নির্মিত হয়েছিল এবং দ্বাদশ শতাব্দীতে রাজা কুমারপাল মন্দিরটির একটি বিশাল সংস্কার করেছিলেন। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষে আলাউদ্দিন খিলজি আবারও সোমনাথ আক্রমণ করার সাহস করেছিলেন, কিন্তু জালোরের শাসক খিলজির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, চতুর্দশ শতাব্দীর শুরুতে জুনাগড়ের রাজা আবারও মন্দিরটির মর্যাদা পুনরুদ্ধার করেন এবং পরে একই শতাব্দীতে মুজাফফর খান সোমনাথ আক্রমণ করেন, কিন্তু তার চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। শ্রী মোদী স্মরণ করেন যে পঞ্চদশ শতাব্দীতে সুলতান আহমেদ শাহ মন্দিরটিকে অপবিত্র করার চেষ্টা করেছিলেন এবং তার নাতি সুলতান মাহমুদ বেগাদা এটিকে মসজিদে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু মহাদেবের ভক্তদের প্রচেষ্টায় মন্দিরটি আরও একবার পুনরুজ্জীবিত হয়েছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীতে আওরঙ্গজেব সোমনাথকে অপবিত্র করেছিলেন এবং এটিকে আবারও মসজিদে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পরে অহল্যাবাই হোলকার একটি নতুন মন্দির প্রতিষ্ঠা করে সোমনাথকে পুনরুজ্জীবিত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সোমনাথের ইতিহাস ধ্বংস ও পরাজয়ের নয়, বরং বিজয় ও পুনর্নির্মাণের।” তিনি জোর দিয়ে বলেন যে,   আক্রমণকারীরা আসতেই থেকেছে, ধর্মীয় সন্ত্রাসের নতুন নতুন আক্রমণ ঘটেছে, কিন্তু প্রতিটি যুগেই সোমনাথকে বারবার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন যে, শত শত বছর ধরে চলা এই সংগ্রাম, এই দীর্ঘ প্রতিরোধ, পুনর্নির্মাণের ক্ষেত্রে এই অপরিসীম ধৈর্য, সৃজনশীলতা এবং সহনশীলতা, এবং সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের প্রতি এই অটল আস্থা বিশ্ব ইতিহাসে অতুলনীয়।

প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন যে আমাদের নিজেদেরকেই প্রশ্ন করা উচিত, আমরা কি আমাদের পূর্বপুরুষদের বীরত্বকে স্মরণ করব না, আর তাঁদের প্রদর্শিত সাহস থেকে অনুপ্রেরণা নেব না? তিনি জোর দিয়ে বলেন যে কোনো পুত্র বা বংশধরেরই তার পূর্বপুরুষদের বীরত্বপূর্ণ কাজ ভুলে যাওয়ার ভান করা উচিত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের স্মরণ কেবল একটি কর্তব্যই নয়, এটি শক্তিরও একটি উৎস, এবং তিনি সকলকে নিশ্চিত করার আহ্বান জানান যাতে আমাদের পূর্বপুরুষদের ত্যাগ ও বীরত্ব আমাদের চেতনায় জীবন্ত থাকে।

শ্রী মোদি আরও বলেন যে, গজনী থেকে আওরঙ্গজেব পর্যন্ত আক্রমণকারীরা যখন সোমনাথ আক্রমণ করেছিল, তখন তারা বিশ্বাস করেছিল যে তাদের তরবারি চিরন্তন সোমনাথকে জয় করছে, কিন্তু সেই ধর্মান্ধরা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিল যে ‘সোম’ নামের মধ্যেই অমৃতের সারমর্ম নিহিত রয়েছে, বিষ পান করার পরেও অমর থাকার ধারণাটি এর মধ্যে রয়েছে। তিনি আরও বলেন যে সোমনাথের মধ্যে সদাশিব মহাদেবের সচেতন শক্তি বিরাজ করে, যিনি একই সঙ্গে কল্যাণকারী এবং ভয়ংকর ‘প্রচণ্ড তাণ্ডব শিব’।

 

প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন যে সোমনাথে অধিষ্ঠিত ভগবান মহাদেবের একটি নাম হলো মৃত্যুঞ্জয়, যিনি মৃত্যুকে জয় করেছেন, যিনি স্বয়ং কালের মূর্ত প্রতীক। একটি শ্লোক আবৃত্তি করে শ্রী মোদি ব্যাখ্যা করেন যে সৃষ্টি তাঁর থেকেই উদ্ভূত হয় এবং তাঁর মধ্যেই বিলীন হয়ে যায়, এবং এই বিশ্বাসকে পুনঃনিশ্চিত করেন যে শিব সমগ্র মহাবিশ্বে পরিব্যাপ্ত, প্রতিটি কণার মধ্যে শঙ্কর বিদ্যমান। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে শঙ্করের অগণিত রূপকে কেউ ধ্বংস করতে পারে না, কারণ জীবন্ত প্রাণীদের মধ্যেও আমরা শিবকে দেখতে পাই, এবং তাই কোনো শক্তিই আমাদের বিশ্বাসকে টলাতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন যে কালের চক্র সোমনাথকে ধ্বংস করতে চাওয়া সেই ধর্মান্ধ আক্রমণকারীদের ইতিহাসের পাতায় নিন্দিত চরিত্রে পরিণত করেছে, অথচ মন্দিরটি বিশাল সমুদ্রের তীরে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এবং তার সুউচ্চ ধর্মধ্বজা উড্ডীন রেখেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে সোমনাথের চূড়া ঘোষণা করে, “আমি চন্দ্রশেখর শিবের উপর নির্ভর করি, কালও আমার কী করতে পারে?”

প্রধানমন্ত্রী শ্রী মোদী এই কথাটি তুলে ধরেন যে সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব শুধু ঐতিহাসিক গর্বের উৎসবই নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য এক শাশ্বত যাত্রাকে জীবন্ত রাখার একটি মাধ্যমও বটে। তিনি আহ্বান জানান যে এই উপলক্ষকে আমাদের অস্তিত্ব ও পরিচয়কে শক্তিশালী করার জন্য ব্যবহার করতে হবে। তিনি বলেন, যেখানে কিছু দেশ কয়েক শতাব্দীর পুরোনো ঐতিহ্যকেও বিশ্বের সামনে নিজেদের পরিচয় হিসেবে তুলে ধরে, সেখানে ভারতের কাছে সোমনাথের মতো হাজার হাজার বছরের পুরোনো পবিত্র স্থান রয়েছে, যা শক্তি, প্রতিরোধ এবং ঐতিহ্যের প্রতীক। তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে দুর্ভাগ্যবশত, স্বাধীনতার পর ঔপনিবেশিক মানসিকতার লোকেরা এই ধরনের ঐতিহ্য থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে এবং এই ইতিহাস মুছে ফেলার জন্য বিদ্বেষপূর্ণ প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সোমনাথের সুরক্ষার জন্য করা আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন এবং রাওয়াল কানহারদেবের মতো শাসকদের প্রচেষ্টা, বীর হামিরজি গোহিলের বীরত্ব এবং ভেগড়া ভিলের সাহসিকতার কথা উল্লেখ করে বলেন যে এই মন্দিরের ইতিহাসের সাথে এমন অনেক বীর যুক্ত ছিলেন, কিন্তু তাঁদের কখনও যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। তিনি সমালোচনা করে বলেন যে কিছু ইতিহাসবিদ এবং রাজনীতিবিদ আক্রমণের ইতিহাসকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, ধর্মীয় গোঁড়ামিকে নিছক লুটপাট হিসেবে আড়াল করেছেন এবং সত্য গোপন করার জন্য বই লিখেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে সোমনাথ শুধু একবার নয়, বারবার আক্রান্ত হয়েছিল এবং যদি এই আক্রমণগুলো কেবল অর্থনৈতিক লুটের জন্য হতো, তবে হাজার বছর আগে প্রথম বড় লুটের পরেই তা থেমে যেত, কিন্তু তা হয়নি। তিনি বলেন যে সোমনাথের পবিত্র মূর্তিগুলো ভাঙা হয়েছিল, মন্দিরের রূপ বারবার পরিবর্তন করা হয়েছিল, এবং তবুও মানুষকে শেখানো হয়েছিল যে সোমনাথ কেবল লুটের জন্যই ধ্বংস হয়েছিল, অথচ ঘৃণা, নিপীড়ন এবং সন্ত্রাসের নিষ্ঠুর ইতিহাস আমাদের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন যে নিজের ধর্মের প্রতি সৎ কোনো ব্যক্তিই এমন চরমপন্থী চিন্তাভাবনাকে সমর্থন করবে না, তবুও তোষণ নীতির দ্বারা চালিত ব্যক্তিরা সর্বদা এর সামনে মাথা নত করেছে। তিনি বলেন যে যখন ভারত দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়েছিল এবং সর্দার প্যাটেল সোমনাথ পুনর্নির্মাণের শপথ নিয়েছিলেন, তখন তাঁকে থামানোর চেষ্টা করা হয়েছিল এবং এমনকি ১৯৫১ সালে রাষ্ট্রপতি ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ যখন এসেছিলেন, তখনও আপত্তি তোলা হয়েছিল। তিনি স্মরণ করেন যে সেই সময় সৌরাষ্ট্রের শাসক হিসেবে জাম সাহেব মহারাজা দিগ্বিজয় সিং জি জাতীয় গর্বকে সবার উপরে স্থান দিয়েছিলেন, সোমনাথ মন্দিরের জন্য এক লক্ষ টাকা দান করেছিলেন এবং অত্যন্ত দায়িত্বের সাথে ট্রাস্টের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়টির ওপর জোর দিয়ে বলেন যে, দুর্ভাগ্যবশত, আজও দেশে এমন শক্তি সক্রিয় রয়েছে যারা সোমনাথের পুনর্নির্মাণের বিরোধিতা করেছিল, শ্রী মোদি বলেন, এখন তরবারির পরিবর্তে অন্যান্য বিদ্বেষপূর্ণ উপায়ে ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়। তিনি সবাইকে সতর্ক, শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ থাকার পরামর্শ দিয়ে আমাদের বিভক্ত করতে চায় এমন প্রতিটি শক্তিকে পরাজিত করার আহ্বান জানান।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন আমরা আমাদের বিশ্বাস ও শিকড়ের সঙ্গে সংযুক্ত থাকি এবং পূর্ণ গর্বের সঙ্গে আমাদের ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করি, তখন আমাদের সভ্যতার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়। তিনি মন্তব্য করেন, হাজার বছরের এই যাত্রা আমাদের আগামী হাজার বছরের জন্য প্রস্তুত হতে অনুপ্রাণিত করে।

প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করে বলেন যে রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে তিনি ভারতের জন্য এক হাজার বছরের এক মহিমান্বিত রূপকল্প তুলে ধরেছিলেন এবং ‘দেব থেকে দেশ’ এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন, তিনি বলেন যে আজ ভারতের সাংস্কৃতিক নবজাগরণ কোটি কোটি নাগরিককে নতুন আত্মবিশ্বাসে ভরিয়ে তুলছে, প্রত্যেক ভারতীয় একটি উন্নত ভারতের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ১৪০ কোটি মানুষ ভবিষ্যতের লক্ষ্য পূরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন যে ভারত তার গৌরবকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হবে এবং উন্নয়নের নতুন স্তরে পৌঁছাবে, যার লক্ষ্য হবে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়া এবং তারও ঊর্ধ্বে যাওয়া, আর এই সংকল্পগুলোকে সোমনাথ মন্দিরের শক্তি আশীর্বাদ জোগাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন যে আজকের ভারত ঐতিহ্য থেকে উন্নয়নের অনুপ্রেরণা নিয়ে এগিয়ে চলেছে, এবং সোমনাথ এই দুটিরই প্রতীক। তিনি একথা উল্লেখ করেন যে, মন্দিরের সাংস্কৃতিক বিস্তার, সোমনাথ সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, মাধবপুর মেলার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং গির সিংহের সংরক্ষণ ঐতিহ্যকে শক্তিশালী করছে, অন্যদিকে প্রভাস পাটন উন্নয়নের নতুন মাত্রা তৈরি করছে। তিনি বলেন, কেশোদ বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের ফলে দেশ-বিদেশের তীর্থযাত্রীদের জন্য সরাসরি যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হয়েছে, আহমেদাবাদ-ভেরাবল বন্দে ভারত ট্রেন চালু হওয়ায় ভ্রমণের সময় কমেছে এবং এই অঞ্চলে একটি তীর্থযাত্রা সার্কিট তৈরি করা হয়েছে। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন যে আজকের ভারত তার বিশ্বাসকে স্মরণ করছে এবং পরিকাঠামো, সংযোগ ও প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য তাকে শক্তিশালী করছে।

ভারতের সভ্যতার বার্তা যে কখনও অন্যকে পরাজিত করা নয়, বরং জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখা—এই কথাটির ওপর জোর দিয়ে শ্রী মোদী বলেন যে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস আমাদের ঘৃণার দিকে নিয়ে যায় না এবং শক্তি আমাদের ধ্বংসের অহংকার দেয় না। তিনি বলেন, সোমনাথ আমাদের শেখায় যে সৃষ্টির পথ দীর্ঘ হলেও তা স্থায়ী, তলোয়ারের ডগায় হৃদয় জয় করা যায় না এবং যে সভ্যতাগুলো অন্যকে মুছে ফেলতে চায়, তারা নিজেরাই কালের গর্ভে হারিয়ে যায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে ভারত বিশ্বকে শেখিয়েছে কীভাবে অন্যকে পরাজিত করে জয়ী হতে হয় তা নয়, বরং কীভাবে হৃদয় জয় করে বাঁচতে হয়—এমন একটি ভাবনা যা আজকের বিশ্বের জন্য প্রয়োজন।

 

প্রধানমন্ত্রী সবশেষে বলেন যে সোমনাথের হাজার বছরের কাহিনী মানবজাতিকে এই শিক্ষাই দেয়। তিনি আমাদের অতীত ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে, আধুনিকতাকে আলিঙ্গন করে এবং চেতনাকে রক্ষা করে উন্নয়ন ও ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য একটি অঙ্গীকার করার আহ্বান জানান। তিনি সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে দ্রুত অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাওয়ার, প্রতিটি চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছানোর এবং সকল নাগরিককে আবারও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানানোর কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী ভূপেন্দ্রভাই প্যাটেল উপস্থিত ছিলেন।

প্রেক্ষাপটঃ

৮ থেকে ১১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সোমনাথে 'সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব' -এর আয়োজন করা হচ্ছে। মন্দিরটি রক্ষা করার জন্য ভারতের যে অগণিত নাগরিক আত্মত্যাগ করেছিলেন, এবং যাদের আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাংস্কৃতিক চেতনাকে আজও অনুপ্রাণিত করে, তাঁদের স্মরণ করার জন্যই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।

এই অনুষ্ঠানটি ১০২৬ সালে গজনীর মাহমুদ কর্তৃক সোমনাথ মন্দির আক্রমণের ১,০০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে পালিত হচ্ছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটিকে ধ্বংস করার জন্য বারবার বহু প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, সম্মিলিত সংকল্প এবং এটিকে তার প্রাচীন গৌরবে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টার কারণে সোমনাথ মন্দির আজ সহনশীলতা, বিশ্বাস এবং জাতীয় গর্বের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

 

স্বাধীনতার পর সর্দার প্যাটেল মন্দিরটি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেন। এই পুনরুজ্জীবনের যাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হয়েছিল ১৯৫১ সালে, যখন তৎকালীন ভারতের রাষ্ট্রপতি ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদের উপস্থিতিতে পুনরুদ্ধার করা সোমনাথ মন্দিরটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল। ২০২৬ সালে এই ঐতিহাসিক পুনরুদ্ধারের ৭৫ বছর পূর্তি সোমনাথ স্বাভিমান পর্বকে বিশেষ তাৎপর্য প্রদান করেছে।

 

এই উদযাপনে সারা দেশ থেকে শত শত সাধু অংশগ্রহণ করবেন এবং মন্দিরের প্রাঙ্গণে ৭২ ঘন্টা ধরে অবিরাম ‘ওম’ ধ্বনি উচ্চারিত হবে।

সোমনাথ স্বাভিমান পর্বে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ ভারতের সভ্যতার অক্ষয় চেতনাকে তুলে ধরে এবং ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও উদযাপনের প্রতি তাঁর অঙ্গীকারকে পুনর্নিশ্চিত করে।

 

সম্পূর্ণ ভাষণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Target Olympic Podium Scheme becomes bigger with more responsibility and streamlining

Media Coverage

Target Olympic Podium Scheme becomes bigger with more responsibility and streamlining
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Prime Minister urges citizens to take precautions amid soaring temperatures across India
May 27, 2026
Prime Minister calls for vigilance, hydration and care for vulnerable people during heatwave
Prime Minister appeals to citizens to help birds, animals and those affected by extreme heat

The Prime Minister, Shri Narendra Modi has urged citizens across the country to take all possible precautions amid soaring temperatures being witnessed in different parts of India.

Shri Modi urged people to stay hydrated, carry water while stepping out and extend help to others by offering them water during the harsh weather conditions.

The Prime Minister also advised people to remain alert to signs of heat exhaustion such as dizziness, nausea and extreme fatigue. He urged citizens to immediately help anyone feeling unwell, weak or suffering from headaches by moving them to a cool and shaded place and ensuring availability of water and ORS.

Shri Modi noted that children, elderly people and those working outdoors are especially vulnerable during extreme heat and cautioned that ignoring warning signs may lead to heatstroke.

Shri Modi also called upon people to regularly check on elderly parents, grandparents and loved ones during the heatwave and remind them to stay hydrated, avoid stepping out during peak afternoon hours and take adequate rest.

Emphasising compassion during extreme weather conditions, the Prime Minister appealed to citizens to keep bowls of water outside homes, balconies, terraces, shops and offices for birds and animals.

In a series of X posts, Shri Modi said;

“Different parts of India are witnessing soaring temperatures and the challenges that come with it. This heat is harsh on all of us and I urge you all to take as many precautions as possible. Please stay hydrated, keep water with you when stepping out. Offer a glass of water to others. In weather like this, such kindness goes a long way.”

“Watch for signs of heat exhaustion like dizziness, nausea or extreme fatigue. If someone around you feels unusually unwell, weak or develops a headache, it is best to help move them to a cool and shaded place immediately. Ensure they get water, ORS etc. that helps them. Children, the elderly and those working outdoors are especially vulnerable during extreme heat. Ignoring these warning signs can quickly turn dangerous and may even lead to heatstroke. In such weather, timely care and attention go a long way.”

“Whenever possible, call and check on elderly parents, grandparents and loved ones during this heatwave. Remind them to stay hydrated, avoid stepping out in peak afternoon hours and take rest whenever possible.”

“In this extreme heat, let us also remember the birds and animals around us. A small bowl of water kept outside your home, balconies, terraces, shops or offices can become a lifeline for a thirsty bird. May compassion guide us in these difficult days.”

“देश के अलग-अलग हिस्सों में तापमान लगातार बढ़ रहा है और इसके साथ ही दैनिक जीवन में गर्मी से होने वाली कई कठिनाइयां भी बढ़ रही हैं। मैं सभी देशवासियों से आग्रह करता हूं कि जितनी अधिक सावधानी बरत सकें, अवश्य बरतें। कृपया स्वयं को हाइड्रेटेड रखें, घर से बाहर निकलते समय पानी साथ रखें। ऐसे मौसम में आपकी संवेदनशीलता भी बहुत बड़ा सहारा बन जाती है। यदि संभव हो, तो किसी प्यासे व्यक्ति को एक गिलास पानी अवश्य दें। मैं ऐसे लोगों की सराहना भी करूँगा जो अपने घरों के और दुकानों के बाहर मटके में जल रखते हैं ताकि कोई भी उनसे पानी पी सके।”

“अत्यधिक गर्मी से होने वाली परेशानी, जैसे चक्कर आना, मतली या ज्यादा थकान लगे तो उसे बिल्कुल भी नजरअंदाज न करें। यदि आपके आसपास किसी व्यक्ति को अचानक बेहोशी जैसा लगे, कमजोरी महसूस करे या फिर अस्वस्थ दिखाई दे, तो उसे तुरंत किसी ठंडी और छायादार जगह पर ले जाएं। उसे पानी, ORS या अन्य तरल पदार्थ दें, जिससे शरीर को राहत मिल सके। बच्चे, बुज़ुर्ग और धूप में काम करने वाले लोग इस भीषण गर्मी में सबसे अधिक प्रभावित होते हैं। समय रहते ध्यान न देने पर यह स्थिति हीटस्ट्रोक जैसी गंभीर समस्या का रूप ले सकती है। ऐसे समय में आपकी सतर्कता और देखभाल किसी का जीवन बचा सकती है।”

“जब भी संभव हो, अपने माता-पिता, दादा-दादी, नाना-नानी और अन्य प्रियजनों को फोन कर उनका हालचाल अवश्य पूछें। उन्हें पर्याप्त पानी पीने, दोपहर की तेज धूप में बाहर न निकलने और जितना हो सके, आराम करने की सलाह दें।”

“इस प्रचंड गर्मी में हमें अपने आसपास के पशु-पक्षियों को भी नहीं भूलना चाहिए। अपने घर, बालकनी, छत, दुकान या ऑफिस के बाहर पानी से भरा एक छोटा-सा बर्तन रखना भी किसी प्यासे पक्षी के लिए जीवनदान बन सकता है। आइए, इन कठिन दिनों में पूरी संवेदनशीलता और करुणा के साथ एक-दूसरे का ध्यान रखें।”