এটি গোটা ভারতের জন্য একটি খুব বিশেষ দিন: বোড়ো শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদী
বোড়ো শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে কয়েক দশক পুরনো সমস্যার সমাধান হবে: প্রধানমন্ত্রী মোদী
আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর ত্রিপুরা, মিজোরাম, মেঘালয় এবং অরুণাচল প্রদেশের অধিকাংশ এলাকা আফস্‌পা মুক্ত হয়ে গেছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী বোড়ো সংগঠনগুলির সদস্যদের মতো হিংসাশ্রয়ী অন্যান্য সংগঠনের সদস্যদেরকেও অস্ত্র ত্যাগ করে সমাজের মূলস্রোতে ফিরে আসার আন্তরিক আবেদন জানিয়েছেন। 

প্রধানমন্ত্রী আজ অসমের কোকরাঝাড়ে বোড়ো চুক্তি স্বাক্ষর উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। 

ঐতিহাসিক বোড়ো চুক্তি গত ২৭শে জানুয়ারি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর উত্তর-পূর্বে এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর। 

তিনি বলেন, “উত্তর-পূর্বই হোক বা নকশাল অধ্যুষিত এলাকাই হোক অথবা জম্মু-কাশ্মীরই হোক – সর্বত্রই যারা অস্ত্র ও হিংসার ওপর আস্থা রাখেন, আমি তাদের বোড়ো জনজাতির যুবাদের থেকে শিক্ষা নিয়ে ও অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজের মূলস্রোতে ফিরে আসার আন্তরিক অনুরোধ জানাই। স্বাভাবিক জনজীবনে ফিরে আসুন এবং জীবনকে উপভোগ করুন।” 

উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মজি, রূপনাথ ব্রহ্মজির মতো বোড়ো নেতাদের অবদানের কথা প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন। 

বোড়ো চুক্তি – সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাসের প্রতিফলন

প্রধানমন্ত্রী বোড়ো চুক্তি স্বাক্ষরে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করার জন্য অল বোড়ো স্টুডেন্টস ইউনিয়ন, ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট অফ বোড়োল্যান্ড, বোড়ো আঞ্চলিক পরিষদের প্রধান শ্রী হাগরামা মাহিলাড়ে এবং অসম সরকারের প্রশংসা করেন। 

শ্রী মোদী বলেন, “আজ অসম সহ সমগ্র উত্তর-পূর্বে একবিংশ শতাব্দীতে এক নতুন সূচনাকে, এক নতুন ঊষাকালকে এবং এক নতুন প্রেরণাকে স্বাগত জানানোর দিন। আজ এই দিনে শপথ নিই যে উন্নয়ন ও আস্থার পরিবেশ আমাদের অগ্রাধিকার হিসেবে বজায় থাকুক এবং এই মানসিকতা আরও মজবুত হোক। আসুন আমরা আরও একবার হিংসার অন্ধকারে কলুষিত না হই। আসুন আমরা এক শান্তিপূর্ণ অসম, এক দৃঢ় অঙ্গীকারপূর্ণ ভারতকে স্বাগত জানাই।” 

তিনি বোড়ো চুক্তি স্বাক্ষরকে সমগ্র দেশের কাছে এ বছর মহাত্মা গান্ধীর জন্ম সার্ধশতবার্ষিকী উদযাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা করেন। 

গান্ধীজি বলতেন, অহিংসার পরিণতি যাই হোক না কেন, তা সর্বত্রই সকলের কাছে স্বীকৃতি পায় বলে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন। 

বোড়ো চুক্তি স্বাক্ষর সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এর ফলে এই অঞ্চলের সমস্ত মানুষ উপকৃত হবেন। তিনি আরও বলেন, বোড়ো আঞ্চলিক পরিষদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং এই চুক্তির ফলে তা আরও মজবুত হবে। 

শ্রী মোদী বলেন, “এই চুক্তির ফলে সকলেই লাভবান হয়েছেন, শান্তির জয় হয়েছে, মানবতার জয় হয়েছে।” 

বোড়ো আঞ্চলিক এলাকা জেলাগুলির সীমানা নির্ধারণে একটি কমিশন গঠন করা হবে। 

প্রধানমন্ত্রী কোকরাঝাড়, চিরাং, বাকসা ও উদলগুড়ির জন্য ১,৫০০ কোটি টাকার প্যাকেজের কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, এর ফলে বোড়ো সংস্কৃতি, এই অঞ্চল ও শিক্ষাক্ষেত্রের সার্বিক উন্নয়ন সহায়ক হবে। 

বোড়ো আঞ্চলিক পরিষদ ও অসম সরকারের বর্ধিত দায়িত্ব পালনের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবকা সাথ, সবকা বিকাশ ও সবকা বিশ্বাসের মাধ্যমেই সার্বিক উন্নয়নের মূলমন্ত্র বাস্তবায়িত হবে। 

শ্রী মোদী বলেন, “আজ বোড়ো অঞ্চলে নতুন আশা-আকাঙ্ক্ষা, নতুন স্বপ্ন, নতুন মানসিকতা একত্রিত হয়েছে। আপনাদের সকলেরই দায়িত্ব বেড়েছে। আমি আশাবাদী যে বোড়ো আঞ্চলিক পরিষদ এবার উন্নয়নের এক নতুন আদর্শ হয়ে উঠবে যা প্রত্যেক সমাজকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এই মানসিকতা অসমকে শক্তিশালী করবে, ভারতের আত্মাকে মজবুত করবে এবং এক শক্তিশালী ভারত গড়ে তুলবে।” 

উত্তর-পূর্বের প্রত্যাশা পূরণে নতুন পদক্ষেপ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উত্তর-পূর্বে চলতি বিভিন্ন সমস্যার মোকাবিলায় সরকার এক নতুন প্রয়াস গ্রহণ করেছে। 

তিনি বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও আবেগ-অনুভূতিগুলি সম্পর্কে গভীরভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারলেই, এ ধরনের প্রয়াস গ্রহণ সম্ভব। 

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে আন্তরিকতা নিয়ে আলাপ-আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমেই আজ এই সমাধানে পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে। এই সমাধানে পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে কারণ, “আমরা সকলকে নিয়ে কথা বলেছি এবং এদের কারোকেই বহিরাগত হিসেবে ভাবিনি।” “আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছি যে তারা বাইরের কেউ নয়, সকলেই নিজেদের।” শ্রী মোদী বলেন, এই উদ্যোগের ফলেই হিংসা ও বৈরিতার প্রভাব কমেছে। আগে উত্তর-পূর্বে হিংসার দরুণ প্রায় এক হাজার মানুষের হত্যা হয়েছে। কিন্তু আজ সামগ্রিকভাবে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ রয়েছে। 

উত্তর-পূর্ব দেশের বিকাশে চালিকাশক্তি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উত্তর-পূর্বে বিগত তিন-চার বছরে তিন হাজার কিলোমিটারেরও বেশি সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। একাধিক নতুন জাতীয় মহাসড়ক নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। উত্তর-পূর্বের সমগ্র রেল নেটওয়ার্ককে ব্রডগেজে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এই অঞ্চলে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দক্ষতা প্রতিষ্ঠান ও ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে যুবাদের সার্বিক বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলি ছাড়াও দিল্লি এবং ব্যাঙ্গালোরে উত্তর-পূর্বের ছাত্রছাত্রীদের জন্য একাধিক নতুন ছাত্রাবাস গড়ে তোলা হয়েছে।” 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকাঠামো কেবল সিমেন্ট ও অন্যান্য উপকরণের মেলবন্ধন নয়। পরিকাঠামোর সঙ্গে মানুষেরও যোগসূত্র রয়েছে। আর এ বিষয়টি সকলের মধ্যে এই অনুভূতি তৈরি করে যে, কোন একজন ব্যক্তি তাঁদের প্রতি সহানুভূতিশীল। 

কয়েক দশকের বকেয়া বোগিবিল সেতুর কথা উল্লেখ করে শ্রী মোদী বলেন, “যখন লক্ষ লক্ষ মানুষ বিভিন্ন প্রকল্পের রূপায়ণের ফলে যোগাযোগের সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন, তখন সরকারের প্রতি তাঁদের আস্থাও বাড়ে। সার্বিক এই উন্নয়ন সাধারণ মানুষের মনে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলের পৃথক থাকার মানসিকতাকে দূর করে একত্রিত হওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে। যখন মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগসূত্র তৈরি হয়, তখন অগ্রগতি সব মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছে যায়। একইভাবে মানুষও উন্নয়নের লক্ষ্যে একযোগে কাজ করতে প্রস্তুত হয়ে ওঠেন। যখন মানুষ একযোগে কাজ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে ওঠেন তখন বড় সমস্যাগুলিরও সমাধান হয়ে যায়।” 

Click here to read PM's speech

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
'History Created In Glasgow': PM Modi Hails Indian Athletes For CWG 2026 Glory

Media Coverage

'History Created In Glasgow': PM Modi Hails Indian Athletes For CWG 2026 Glory
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Prime Minister extends greetings on Global Tiger Day, reaffirms commitment to tiger conservation
July 29, 2026

The Prime Minister, Shri Narendra Modi, has extended greetings to all wildlife enthusiasts on Global Tiger Day.

The Prime Minister said that the people of India are proud that the country is home to almost 70 per cent of the global tiger population.

He noted that India’s tiger conservation efforts are inspired by the country’s centuries-old culture of living in harmony with nature and powered by the collective will of its people.

Shri Modi reaffirmed the commitment to science-based conservation, community participation and sustainable development that strengthens tiger conservation.

Shri Modi also lauded the efforts and dedication of forest personnel, scientists and conservationists for their key role in tiger protection. The Prime Minister added that India remains committed to empowering local communities and reducing human-wildlife conflict.

In a thread posts on X, Shri Modi said;

“Greetings to all wildlife enthusiasts on Global Tiger Day. The people of India are proud of the fact that we are home to almost 70% of the global tiger population. India’s tiger conservation efforts are inspired by our centuries-old culture of living in harmony with nature and powered by the collective will of our people. We also reaffirm our commitment to science-based conservation, community participation and sustainable development that strengthens tiger conservation.”

“The efforts and dedication of our forest personnel, scientists and conservationists have also played a key role in tiger protection. In that spirit, India remains committed to empowering local communities and reducing human-wildlife conflict.”