শেয়ার
 
Comments
বুন্দেলখণ্ডের আরও এক ভূমিপুত্র মেজর ধ্যানচাঁদ বা দাদা ধ্যানচাঁদের কথা স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী
উজ্জ্বলা যোজনায় এত মানুষের বিশেষ করে মহিলাদের জীবনযাপন আরও উন্নত হয়েছে, যা অভূতপূর্ব : প্রধানমন্ত্রী
উজ্জ্বলা যোজনার মাধ্যমে আমাদের বোনেদের স্বাস্থ্য, সুযোগ-সুবিধা ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে দৃঢ় সঙ্কল্প আরও গতি পেয়েছে : প্রধানমন্ত্রী
আবাসন, বিদ্যুৎ, জল, শৌচালয়, রান্নার গ্যাস, সড়ক, হাসপাতাল ও বিদ্যালয়ের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধাগুলি এক দশক আগেই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব ছিল : প্রধানমন্ত্রী
উজ্জ্বলা ২.০ কর্মসূচির ফলে লক্ষ লক্ষ প্রবাসী শ্রমিক পরিবার উপকৃত হবেন : প্রধানমন্ত্রী
জৈব জ্বালানি না কেবল আত্মনির্ভরতার, সেইসঙ্গে দেশের ও গ্রামাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নেরও চালিকাশক্তি : প্রধানমন্ত্রী
ভারতকে আরও বেশি সক্ষম করে তোলার সঙ্কল্প পূরণে আমাদের বোনেরা আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছেন : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উত্তরপ্রদেশে মাহোবা থেকে রান্নার গ্যাস সংযোগের নথিপত্র সুফলভোগীদের হস্তান্তরিত করে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার দ্বিতীয় পর্বের (উজ্জ্বলা ২.০) সূচনা করেছেন। এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা কর্মসূচির সুফলভোগীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্বের সূচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাখি বন্ধনের আগে উত্তরপ্রদেশের বোনেদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি বলেন, উজ্জ্বলা যোজনার মাধ্যমে এত মানুষের, বিশেষ করে মহিলাদের জীবনযাপনে মানোন্নয়ন ঘটেছে যা এক কথায় অভূতপূর্ব। উত্তরপ্রদেশের বালিয়া থেকে ২০১৬-তে উজ্জ্বলা যোজনার সূচনা হয়েছিল। এই বালিয়া মঙ্গল পাণ্ডের ভূমি, যিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অগ্রদূত। শ্রী মোদী আরও বলেন, উজ্জ্বলা যোজনার দ্বিতীয় পর্বের সূচনাও উত্তরপ্রদেশের ‘বীরভূমি’ মাহোবা থেকে শুরু হল। তিনি বুন্দেলখণ্ডের আরও এক ভূমিপুত্র মেজর ধ্যানচাঁদের বা দাদা ধ্যানচাঁদের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ক্রীড়াক্ষেত্রে দেশের সর্বোচ্চ পুরস্কারের নামকরণ হয়েছে ‘মেজর ধ্যানচাঁদ খেল রত্ন পুরস্কার’ হিসেবে। এর ফলে খেলাধূলাকে যাঁরা কর্মজীবন হিসেবে গড়ে তুলতে চান, এরকম লক্ষ লক্ষ মানুষ অনুপ্রাণিত হবেন।

প্রধানমন্ত্রী খেদ ব্যক্ত করে বলেন, দেশবাসীকে আবাসন, বিদ্যুৎ, জল, শৌচাগার, রান্নার গ্যাস, সড়ক, হাসপাতাল ও বিদ্যালয়ের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধাগুলি পাওয়ার জন্য দশকের পর দশক অপেক্ষা করতে হয়েছে। এ ধরনের বুনিয়াদি পরিষেবা কয়েক দশক আগেই মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যেত। তিনি বলেন, আমাদের কন্যারা এবার ঘর ও রান্নাঘরের কাজ সেরে বাইরে এসে দেশ গঠনেও অবদান রাখবেন। তবে, এই লক্ষ্য পূরণ তখনই সম্ভব হবে যখন আবাসন ও রান্নার ঘরের মতো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে। এই লক্ষ্যে গত ৬-৭ বছরে তাঁর সরকার মিশন মোড ভিত্তিতে এ ধরনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি এরপর এক উদাহরণ দিয়ে বলেন, স্বচ্ছ ভারত মিশনের মাধ্যমে কোটি কোটি পরিবারে শৌচাগার গড়ে তোলা হয়েছে; মহিলারা বাড়ির প্রধান, এরকম ২ কোটি পরিবারে শৌচাগার নির্মিত হয়েছে; কয়েক লক্ষ কিলোমিটারের বেশি গ্রামীণ সড়ক নির্মিত হয়েছে; ৩ কোটির বেশি পরিবার বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছেন; এমনকি আয়ুষ্মান ভারত কর্মসূচির মাধ্যমে ৫০ কোটির বেশি মানুষ চিকিৎসা খাতে খরচের জন্য ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন। কেবল এগুলিই নয়, মাতৃ বন্দনা যোজনার মাধ্যমে গর্ভবতী মহিলাদের টিকাকরণ ও পৌষ্টিক খাবারের জন্য সরাসরি অর্থ হস্তান্তরিত করা হয়েছে। করোনার সময় মহিলাদের জন ধন অ্যাকাউন্টে সরকার ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি জমা করেছে। একইভাবে, জল জীবন মিশনের আওতায় আমাদের বোনেরা পাইপবাহিত পানীয় জলের সুযোগ পাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কর্মসূচিগুলি মহিলাদের জীবনযাপনে ব্যাপক পরিবর্তনও নিয়ে এসেছে। 

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, উজ্জ্বলা যোজনার মাধ্যমে আমাদের বোনেদের স্বাস্থ্য, মৌলিক সুযোগ-সুবিধা ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সরকারের দৃঢ় সঙ্কল্পে আরও গতি সঞ্চারিত হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে ৮ কোটি দরিদ্র, দলিত, বঞ্চিত, পিছিয়ে পড়া শ্রেণী ও আদিবাসী মানুষজনকে নিখরচায় রান্নার গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে। করোনা মহামারীর সময় নিখরচায় রান্নার গ্যাস সংযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা সরকার উপলব্ধি করেছিল বলে উল্লেখ করে শ্রী মোদী বলেন, উজ্জ্বলা যোজনার মাধ্যমে রান্নার গ্যাস পরিকাঠামো ক্ষেত্রে কয়েকগুণ অগ্রগতি হয়েছে। একইভাবে, গত ৬-৭ বছরে ১১ হাজারের বেশি রান্নার গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার খোলা হয়েছে। কেবল উত্তরপ্রদেশেই এ ধরনের ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারের সংখ্যা ২০১৪-তে ২ হাজার থেকে বেড়ে ৪ হাজার হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা খুব শীঘ্রই রান্নার গ্যাসের সংযোগ পরিধি ১০০ শতাংশ অর্জন করতে সক্ষম হব। এই লক্ষ্যে গত সাত বছরে রান্নার গ্যাস সংযোগ পরিধি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। শ্রী মোদী বলেন, বুন্দেলখণ্ড সহ সমগ্র উত্তরপ্রদেশ ও অন্যান্য রাজ্য থেকেও বহু মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে বা এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে কাজের খোঁজে প্রবাসী হয়েছেন। সেখানে তাঁরা তাঁদের ঠিকানার প্রমাণ দিতে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। উজ্জ্বলা যোজনার দ্বিতীয় পর্বে এ ধরনের প্রবাসী লক্ষ লক্ষ পরিবার লাভবান হবে বলেও তিনি অভিমত প্রকাশ করেন। শ্রী মোদী বলেন, এখন প্রবাসী শ্রমিক পরিবারগুলিকে তাঁদের ঠিকানা প্রমাণের জন্য এক জায়গা থেকে আর অন্যত্র দৌড়াদৌড়ি করতে হবে না। প্রবাসী শ্রমিকদের সততার ওপর সরকারের পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী অভিমত প্রকাশ করেন। প্রত্যেক প্রবাসী শ্রমিককে গ্যাস সংযোগ পাওয়ার জন্য ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে স্বঘোষণা জমা দিতে হবে।

শ্রী মোদী বলেন, আরও বেশি এলাকা জুড়ে পাইপবাহিত গ্যাস সংযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে সবরকম প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস সিলিন্ডারে ভর্তি রান্নার গ্যাসের তুলনায় অনেক সস্তা। এই লক্ষ্যে উত্তরপ্রদেশ সহ পূর্ব ভারতের বহু জেলায় এ ধরনের গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যে কাজ চলছে। প্রথম পর্যায়ে উত্তরপ্রদেশের ৫০টির বেশি জেলায় ১২ লক্ষ পরিবারে পাইপবাহিত গ্যাস সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য স্থির হয়েছে। খুব শীঘ্রই পাইপবাহিত রান্নার গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার পূর্ব নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হবে। 

জৈব জ্বালানির সুবিধার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই জ্বালানি কেবল পরিবেশ-বান্ধবই নয়, সেইসঙ্গে আত্মনির্ভর হয়ে ওঠার অন্যতম চালিকাশক্তি। সমগ্র দেশ এবং গ্রামের সার্বিক উন্নয়নেও জৈব জ্বালানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তিনি বলেন, জৈব জ্বালানি এমন এক শক্তি যা আমরা নষ্ট হয়ে যাওয়া ফসল বা খাদ্যশস্য এমনকি, ফসল কাটার পর গাছের অবশিষ্টাংশ থেকেও তৈরি করতে পারি। তিনি জানান, গত ৬-৭ বছরে চিরাচরিত জ্বালানিতে ১০ শতাংশ জৈব জ্বালানি মিশ্রণের লক্ষ্য পূরণে সক্ষম হয়েছি। আগামী ৪-৫ বছরে চিরাচরিত জ্বালানিতে জৈব জ্বালানির মিশ্রণ ২০ শতাংশ করার লক্ষ্যে আমরা অগ্রসর হচ্ছি।

উত্তরপ্রদেশে গত বছর ৭ হাজার কোটি টাকার ইথানল ক্রয় করা হয়েছে। এর ফলে ইথানল ও জৈব জ্বালানি উৎপাদনের একাধিক ইউনিট রাজ্যে গড়ে উঠেছে। এমনকি, রাজ্যের ৭০টি জেলায় আখের অবশিষ্টাংশ থেকে ঘনিভূত জৈব গ্যাস উৎপাদনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। ‘তারালি’ থেকে জৈব জ্বালানি উৎপাদনের জন্য বাদাউন ও গোরক্ষপুরে ইউনিট গড়ে তোলা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ এখন মৌলিক সুযোগ-সুবিধা পূরণ করা থেকে আরও উন্নত জীবনযাপনের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছে। আগামী ২৫ বছরে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবায়িত করতে আমাদের একযোগে এগিয়ে যেতে হবে। এটা প্রমাণ করতে হবে যে আমরা একযোগে এক সক্ষম ভারত গড়ে তুলতে পারি। এই লক্ষ্য পূরণে আমাদের বোনেরা বিশেষ ভূমিকা নিতে চলেছেন বলেও শ্রী মোদী অভিমত প্রকাশ করেন।

 

সম্পূর্ণ ভাষণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

২০ বছরের সেবা ও সমর্পণের ২০টি ছবি
Mann KI Baat Quiz
Explore More
জম্মু ও কাশ্মীরে নওশেরায় দীপাবলী উপলক্ষে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়ের মূল অংশ

জনপ্রিয় ভাষণ

জম্মু ও কাশ্মীরে নওশেরায় দীপাবলী উপলক্ষে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়ের মূল অংশ
India achieves 40% non-fossil capacity in November

Media Coverage

India achieves 40% non-fossil capacity in November
...

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
PM greets Indian Navy on Navy Day
December 04, 2021
শেয়ার
 
Comments

The Prime Minister, Shri Narendra Modi has greeted the Indian Navy personnel on the occasion of Navy Day.

In a tweet, the Prime Minister said;

"Greetings on Navy Day. We are proud of the exemplary contributions of the Indian navy. Our navy is widely respected for its professionalism and outstanding courage. Our navy personnel have always been at the forefront of mitigating crisis situations like natural disasters."