অ্যাভিয়েশন, পরিচ্ছন্ন শক্তি, সেমিকন্ডাক্টর এবং সংযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আজকের প্রকল্পগুলি অন্ধ্রপ্রদেশের উন্নয়নে অবদান রাখবে: প্রধানমন্ত্রী
যে মাটিতে আল্লুরি সীতারাম রাজু জি উপজাতি সম্প্রদায়ের কল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, ঠিক সেই মাটিতেই আজ অন্ধ্রপ্রদেশের জন্য একটি নতুন বিমানবন্দরের উদ্বোধন করা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
এই বিমানবন্দরটি অন্ধ্র ও উত্তর অন্ধ্রের বিকাশের পথ প্রশস্ত করবে এবং রাজ্যের তরুণদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য একটি ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে: প্রধানমন্ত্রী
বিশাখাপত্তনমে নতুন সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অন্ধ্রপ্রদেশের মেধাবী তরুণদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ; এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎমুখী প্রযুক্তি শিল্পের বিকাশ ঘটবে: প্রধানমন্ত্রী
আজ দেশ তার 'ব্লু ইকোনমি' বা সমুদ্র-অর্থনীতিকে ক্রমাগত শক্তিশালী করে তুলছে; বিশাখাপত্তনম থেকে কৃষ্ণপত্তনম পর্যন্ত বন্দরগুলির আধুনিকীকরণ এবং মুলাপিতা ও রামায়াপত্তনমে নতুন বন্দর নির্মাণের মাধ্যমে সমগ্র অঞ্চলটিকে একটি 'উপকূলীয় অর্থনৈতিক করিডোর' হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়নগরম জেলার ভোগাপুরমে ১৭,৯০০ কোটিরও বেশি টাকার একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, উদ্বোধন এবং জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। 'স্বর্ণ অন্ধ্র' বা সমৃদ্ধ অন্ধ্র গড়ার লক্ষ্যে আজকের দিনটির অপরিসীম গুরুত্বের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী উত্তর অন্ধ্রের পবিত্র ভূমিতে এমন এক শুভ মাসে আসতে পেরে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শ্রী মোদী বলেন, "আজ এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী হতে উত্তর অন্ধ্রের পবিত্র ভূমিতে উপস্থিত থাকতে পারা আমার কাছে এক অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়।"

প্রায় আঠারো হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময় প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বিমানবন্দর পরিকাঠামো, সড়ক যোগাযোগ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই বহুমুখী উদ্যোগগুলি রাজ্যের দ্রুত অগ্রগতির যথার্থ প্রতীক। শ্রী মোদী বলেন, "এই উন্নয়নমূলক কাজগুলি অন্ধ্রপ্রদেশের অগ্রগতির প্রকৃত নিদর্শন।" শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, "আজকের এই অনুষ্ঠানটি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড গড়ার এক অনন্য উপলক্ষ।"

আল্লুরি সীতারাম রাজুর বীরত্বপূর্ণ ঐতিহ্য এবং আদিবাসী কল্যাণে তাঁর আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই মাটিতেই নবনির্মিত বিমানবন্দরটিকে আঞ্চলিক বিকাশের এক গুরুত্বপূর্ণ 'রানওয়ে' এবং যুবসমাজের সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য এক শক্তিশালী 'লঞ্চপ্যাড' হিসেবে আখ্যা দেন। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, "অন্ধ্র ও উত্তর অন্ধ্রের বিকাশের রানওয়ে হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি, এই বিমানবন্দরটি অন্ধ্রের যুবসমাজের উন্নত ভবিষ্যতের জন্য এক চূড়ান্ত লঞ্চপ্যাড।" নতুন বিমান চলাচল কেন্দ্রটির নামকরণ কিংবদন্তি স্বাধীনতা সংগ্রামীর নামে করার সরকারি সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করে বলেন যে, এই সম্মাননা বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটি যাত্রীর মনে জাতীয় কর্তব্যের গভীর বোধ জাগিয়ে তুলবে। 

গত বারো বছরে অসামরিক বিমান চলাচল ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালে চালু থাকা মাত্র ৭৪টি বিমানবন্দরের সঙ্গে বর্তমানের ১৬৬টি বিমানবন্দরের সংখ্যার তুলনা করেন এবং বর্তমান সরকারের আমলে ছোট শহরের সাধারণ নাগরিকদের জন্য বিমান ভ্রমণের সুযোগ সহজলভ্য হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। শ্রী মোদী বলেন, "আজ ছোট শহরের সাধারণ মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে বিমানে ভ্রমণ করছেন; অথচ একসময় বিমান ভ্রমণ কেবল বড় বড় মহানগরীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।"

বিমান চলাচল ক্ষেত্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী কাশীতে চালু হওয়া স্পোক এয়ারপোর্ট মডেলের প্রসঙ্গ টেনে আনেন, যা এখন সফলভাবে অমৃতসর পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে এবং পাঞ্জাবের এই শহরটিকে ২৫টিরও বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যের সঙ্গে কার্যকরভাবে সংযুক্ত করেছে।

শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, "একটি 'বিকশিত ভারত'-এর প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে ওঠার মতো বিপুল সম্ভাবনা আমাদের অন্ধ্র প্রদেশের রয়েছে।" 'ব্লু ইকোনমি' বা সমুদ্র-অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জাতীয় কৌশলের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেন। এই পরিকল্পনায় বিশাখাপত্তনম থেকে কৃষ্ণপত্তনম পর্যন্ত বন্দরগুলির আধুনিকীকরণ এবং মুলাপ্পেটা ও রামায়াপত্তনমে নতুন সামুদ্রিক কেন্দ্র (মেরিটাইম হাব) নির্মাণের মাধ্যমে গোটা উপকূলীয় অঞ্চলকে একটি সু-সমন্বিত অর্থনৈতিক করিডোরে রূপান্তর করার কথা বলা হয়েছে।

এই অঞ্চলটিকে দেশের প্রধান শিল্পকেন্দ্রগুলির সঙ্গে নিরবচ্ছিন্নভাবে যুক্ত করার জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান যে, প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকার রেল প্রকল্পের কাজ চলছে। এর আওতায় রয়েছে সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের বৈদ্যুতিকীকরণ এবং সত্তরটিরও বেশি স্টেশনের আধুনিকীকরণ।

প্রধানমন্ত্রী সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে স্থানীয় তরুণদের বিশ্বব্যাপী আধিপত্যের কথা উল্লেখ করেন। তিনি আঞ্চলিক উন্নয়নে এই অসাধারণ মেধা-সম্পদকে সরাসরি কাজে লাগানোর বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

তরুণদের এই মেধা ও প্রতিভাকে দেশের ভিতরেই ধরে রাখা ও কাজে লাগানোর আবশ্যিকতার ওপর জোর দেন। তিনি বিশাখাপত্তনমে নতুন সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে সেই লক্ষ্যের পথে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "আমাদের প্রতিভাবান তরুণদের সম্ভাবনার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে এখন আমাদের মূল লক্ষ্য হল, সেমিকন্ডাক্টরের মতো ভবিষ্যতের প্রযুক্তি-শিল্পের বিকাশ ঘটানো।"

শিল্পক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, সফটওয়্যার ক্ষেত্রের দক্ষতার পাশাপাশি রাজ্যটি একটি শক্তিশালী উৎপাদন কেন্দ্রে (ম্যানুফ্যাকচারিং হাব) পরিণত হবে এবং এর ফলে ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের এক সম্পূর্ণ নতুন পরিমণ্ডল গড়ে উঠবে।

উন্নত প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোর প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডেটা সেন্টারের ক্ষেত্রে সমান্তরাল অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বিশেষ করে গুগলের ১৫ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ক্যাম্পাস তৈরির ঘোষণার কথা উল্লেখ করেন। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, "আরও অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা এখানে অভাবনীয় নতুন সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছে, যা এই রাজ্য ও দেশের যুবসমাজকে ব্যাপকভাবে উপকৃত করবে।"

ডিজিটাল প্রযুক্তির বাইরে রাজ্যের শিল্পায়নের পরিসর আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নাক্কাপাল্লিতে একটি বিশাল নতুন 'ফার্মা পার্ক' স্থাপনে কেন্দ্রীয় সরকারের উল্লেখযোগ্য সহায়তার কথা উল্লেখ করেন। এর ফলে রাজ্যটি জাতীয় পর্যায়ে ওষুধ শিল্পের একটি প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছে।

নবীকরণযোগ্য শক্তি ক্ষেত্রের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান যে, শুধুমাত্র রায়লসীমা অঞ্চলেই পাঁচ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ এসেছে। তিনি এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যগুলির বাস্তবায়নে প্রশাসনের নিরলস নিষ্ঠা ও অঙ্গীকারের বিষয়ে দৃঢ় নিশ্চয়তা প্রদান করেন।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশাসনের উন্নয়ন কর্মসূচির দ্রুত গতিপ্রকৃতি তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক বিনিয়োগের বিশাল পরিসরের কথা শ্রোতাদের স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, তাঁর শেষ তিনটি সফরের সময়কালেই দুই লক্ষ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের সূচনা করা হয়েছে। শ্রী মোদী বলেন, "সাম্প্রতিক সময়ে চালু হওয়া এই বিশাল প্রকল্পগুলি থেকেই আপনারা প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজের অভাবনীয় গতি সম্পর্কে সহজেই ধারণা করতে পারবেন।

এই সামগ্রিক অগ্রগতির ধারায় উত্তরাঞ্চলীয় জেলাগুলির সুপরিকল্পিত ক্ষমতায়ন নিয়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী 'বিশাখাপত্তনম আর্থিক অঞ্চল'কে এশিয়ার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক শক্তিকেন্দ্রে রূপান্তরের কৌশলগত বিবর্তনের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন; যেখানে প্রতিটি নতুন স্থাপনা এই অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে অবদান রাখছে। শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হল, বিশাখাপত্তনম আর্থিক অঞ্চলকে এশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করা।"

এই অঞ্চলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণ শেষ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন যে, এই অনুষ্ঠানে ঘোষিত নানা প্রকল্প 'স্বর্ণ অন্ধ্র' ও 'বিকশিত ভারত'-এর মতো লক্ষ্য সমূহের বাস্তবায়নে ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

সম্পূর্ণ ভাষণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
'BRICS 2026 becomes major Bharat achievement for PM Narendra Modi'

Media Coverage

'BRICS 2026 becomes major Bharat achievement for PM Narendra Modi'
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Prime Minister pays tribute to Saratchandra Chattopadhyay on his 150th birth anniversary
September 15, 2026

The Prime Minister, Shri Narendra Modi has paid homage to renowned Bengali writer Saratchandra Chattopadhyay on his 150th birth anniversary. Remembering the eminent writer, Shri Modi highlighted the enduring significance of his literary works, which have been translated into every Indian language and several foreign languages. He noted that Saratchandra Chattopadhyay’s writings provide an accurate and sensitive portrayal of 19th-century India, particularly Bengali society in rural areas.

The Prime Minister posted on X:

Homage to noted Bengali writer, the versatile Saratchandra Chattopadhyay on his 150th birth anniversary.

His works, translated into every Indian language and several foreign languages, are remembered for their accurate depiction of 19th century India, especially Bengali society in rural areas. Equally noteworthy was his commitment to social reform, women’s rights and nationalism.

I call upon more youngsters to read his writings in the times to come.

প্রখ্যাত বাঙালি লেখক, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৫০তম জন্মবার্ষিকীতে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ভারতের সমস্ত ভাষায় এবং একাধিক আন্তর্জাতিক ভাষায় অনূদিত তাঁর সাহিত্যকর্মগুলি উনিশ শতকের ভারত, বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলের বাঙালি সমাজকে সঠিকভাবে চিত্রিত করার জন্য স্মরণীয় হয়ে রয়েছে। সামাজিক সংস্কার, নারী অধিকার এবং জাতীয়তাবাদের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতাও সমানভাবে স্মরণীয়।

আগামী দিনের তরুণ-তরুণীকে আমি আরও বেশি করে তাঁর রচনা পড়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।