প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ ভারত মণ্ডপমে এবিপি নেটওয়ার্ক ইন্ডিয়া@২০৪৭ সামিটে ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, এই সামিটে যাঁরা উপস্থিত হয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই অত্যন্ত ইতিবাচক অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন। তরুণ এবং মহিলাদের বেশি সংখ্যায় উপস্থিতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী ড্রোন দিদি এবং লাখপতি দিদিদের সাফল্যের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁদের সাফল্যের কাহিনীকে প্রেরণার উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেন প্রধানমন্ত্রী।
শ্রী মোদী বলেন, দেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা হল ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা। এ প্রসঙ্গে তিনি স্বামী বিবেকানন্দের ‘ওঠো, জাগো এবং লক্ষ্যে না পৌঁছনো পর্যন্ত থেমো না’ – এই বাণীর কথা উল্লেখ করেন। আজকের দিনটিকে ভারতের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত করেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই চুক্তির ফলে দুই দেশের বাণিজ্য ও আর্থিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এক নতুন দিক উন্মোচিত হবে।
ভারতীয় ব্যবসায়ী এবং এমএসএমই ক্ষেত্রে এই চুক্তি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে বলে মন্তব্য করেন শ্রী মোদী। এ প্রসঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, অস্ট্রেলিয়া এবং মরিশাসের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত হওয়া বাণিজ্যিক চুক্তির উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত শুধুমাত্র সংস্কারের পথেই হাঁটছে না, সেইসঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিশ্বে বিশেষ জায়গা করে নিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে অতীতে বিভিন্ন সরকারের গড়িমসির কথা তুলে ধরে শ্রী মোদী বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কারের বদলে ব্যক্তিগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়েই দেশের অগ্রগতিকে আটকে দেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র স্বার্থে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে, কোনো দেশই এগোতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শ্রী মোদী বলেন, দশকের পর দশক ধরে আটকে থাকা বিভিন্ন সমস্যার জট খোলার লক্ষ্যে গত ১০-১১ বছর ধরে তাঁর সরকার কাজ করে চলেছে। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের আগে দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার মুখে এসে দাঁড়িয়েছিল। বর্তমানে ভারতের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশগুলির অন্যতম হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সরকারের উল্লেখযোগ্য সংস্কারগুলির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থে ছোট ছোট ব্যাঙ্কগুলিকে একত্রিত করা হয়েছে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে মজবুত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষ সুবিধা হস্তান্তর ব্যবস্থার সাফল্যের কথা তুলে ধরে শ্রী মোদী বলেন, এর ফলে গরিবদের কাছে তাঁদের প্রাপ্য অর্থ সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছে। এই সংস্কারের ফলে সাড়ে তিন লক্ষ কোটি টাকার বেশি অর্থ ভুল হাতে পড়ার ব্যবস্থা থেকে রক্ষা পেয়েছে।
‘এক পদ এক পেনশন’ নীতির সাফল্যের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা উল্লেখ করে শ্রী মোদী বলেন, অতীতের রাজনৈতিক বাধার কারণেই এই অগ্রগতি থমকে ছিল। আইন প্রণয়নের মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়নে বর্তমান সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।

তিন তালাক প্রথার অবলুপ্তির পাশাপাশি সাম্প্রতিক ওয়াকফ আইন সংশোধনের কথাও উল্লেখ করেন শ্রী মোদী। তিনি বলেন, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগের ফলে মুসলিম মা, বোন এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া অংশের মানুষের জীবনযাপনে পরিবর্তন এসেছে। গত এক দশকে ২৫ কোটি মানুষকে দারিদ্র্যসীমার ওপরে তুলে আনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুদ্রা’ যোজনা লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোগীর জীবনে পরিবর্তন এনেছে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনা খরচে চিকিৎসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এর ফলে মানুষের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ক্ষেত্রে বড় দুশ্চিন্তা দূর হয়েছে। তাঁর সরকার এ ধরনের অসংখ্য উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নয়নের পাশাপাশি নাগরিকদের ক্ষমতায়নের পথ প্রশস্ত করেছে বলে মন্তব্য করেন শ্রী মোদী।

সরকারের বিভিন্ন পরিষেবার ক্ষেত্রে অনলাইন ব্যবস্থা চালু হওয়ার ফলে নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ, বিল প্রদান সহ জীবনের সর্বক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থার সাফল্য দেখতে পাচ্ছেন মানুষ। তিনি বলেন, ভারত ঐতিহ্যের সঙ্গে প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটিয়েছে। একদিকে ডিজিটাল লেনদেনে ভারত বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলির মধ্যে নিজের আসন যেমন পাকা করেছে, তেমনই যোগ ও আয়ুর্বেদের ক্ষেত্রেও বিশ্বে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। তিনি জানান, ভারত এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল উৎপাদক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ডিজিটাল ইন্ডিয়া এখন ওতপ্রোতভাবে দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ওয়েভস সামিটের প্রসঙ্গ টেনে শ্রী মোদী বলেন, গত তিন বছরে ভারতীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটররা ইউটিউব থেকে ২১ হাজার কোটি টাকার বেশি আয় করেছেন।

২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার সঙ্গে আত্মনির্ভর ভারত উদ্যোগের ঘনিষ্ঠ সংযুক্তির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতীয় অর্থনীতির ডিএনএ-এর অবিচ্ছেদ্য অংশ হল আত্মনির্ভরতা।” তিনি জানান, বর্তমানে ১০০টির বেশি দেশে ভারতের প্রতিরক্ষা সামগ্রী রপ্তানি করা হয়। অন্যদিকে, আইএনএস বিক্রান্ত, আইএনএস সুরাত এবং আইএনএস নীলগিরি সহ নৌ-বহরে ভারতের শক্তির কথা তুলে ধরেন শ্রী মোদী।

২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার সঙ্গে আত্মনির্ভর ভারত উদ্যোগের ঘনিষ্ঠ সংযুক্তির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতীয় অর্থনীতির ডিএনএ-এর অবিচ্ছেদ্য অংশ হল আত্মনির্ভরতা।” তিনি জানান, বর্তমানে ১০০টির বেশি দেশে ভারতের প্রতিরক্ষা সামগ্রী রপ্তানি করা হয়। অন্যদিকে, আইএনএস বিক্রান্ত, আইএনএস সুরাত এবং আইএনএস নীলগিরি সহ নৌ-বহরে ভারতের শক্তির কথা তুলে ধরেন শ্রী মোদী।

দেশের ভাগ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই দশকের বিশেষ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নাগরিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তনের চেতনা অনুভব করা যাচ্ছে। সফলভাবে এই সামিটের আয়োজন করার জন্য এবিপি নেটওয়ার্ককে অভিনন্দন জানান শ্রী মোদী।
সম্পূর্ণ ভাষণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন
India and the UK have successfully finalised the Free Trade Agreement. pic.twitter.com/HnHA1qgnOo
— PMO India (@PMOIndia) May 6, 2025
India is becoming a vibrant hub of trade and commerce. pic.twitter.com/xQLiIyaWpc
— PMO India (@PMOIndia) May 6, 2025
Nation First - Over the past decade, India has consistently followed this very policy. pic.twitter.com/7wIBdDgCwt
— PMO India (@PMOIndia) May 6, 2025
Democracy can deliver. pic.twitter.com/m7bune8OZC
— PMO India (@PMOIndia) May 6, 2025
Gross Empowerment of People. pic.twitter.com/niZz3eTCfq
— PMO India (@PMOIndia) May 6, 2025
India is showing the world how tradition and technology can thrive together. pic.twitter.com/adhaJcAGAp
— PMO India (@PMOIndia) May 6, 2025
Self-reliance has always been a part of our economic DNA. pic.twitter.com/l96JblQN3F
— PMO India (@PMOIndia) May 6, 2025


