আমি কুর্ণিশ জানাই লক্ষ লক্ষ দেশবাসীকে, যাঁদের অবদানে মহাকুম্ভ সাফল্যমণ্ডিত হয়ে উঠেছে: প্রধানমন্ত্রী
মহাকুম্ভের সাফল্যে অবদান রয়েছে বহু মানুষের। আমি অভিনন্দন জানাই প্রশাসন, সমাজ এবং একনিষ্ঠ কর্মীদের: প্রধানমন্ত্রী
মহাকুম্ভের আয়োজনে আমরা একটি 'মহাপ্রয়াস' প্রত্যক্ষ করেছি: প্রধানমন্ত্রী
এই মহাকুম্ভ জনগণের নেতৃত্বে ছিল, তাদের সংকল্প দ্বারা পরিচালিত এবং তাদের অটল ভক্তিতে অনুপ্রাণিত: প্রধানমন্ত্রী
প্রয়াগরাজ মহাকুম্ভ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক যা একটি জাগ্রত জাতির চেতনাকে প্রতিফলিত করে: প্রধানমন্ত্রী
মহাকুম্ভ ঐক্যের চেতনাকে শক্তিশালী করেছে: প্রধানমন্ত্রী
মহাকুম্ভে, সমস্ত পার্থক্য দূর হয়ে গেছে; এটি ভারতের মহান শক্তি, যা দেখায় যে ঐক্যের চেতনা আমাদের মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত: প্রধানমন্ত্রী
ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকারের সঙ্গে নিবিড় সংযোগ আজকের ভারতের অমূল্য সম্পদ: প্রধানমন্ত্রী

উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভের সার্থক পরিসমাপ্তিতে আজ লোকসভায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী। অসংখ্য দেশবাসীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের প্রয়াসেই কুম্ভ মেলা অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। মহাকুম্ভের সাফল্যতে নানা গোষ্ঠী ও ব্যক্তির সম্মিলিত প্রয়াসের ওপর আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার, সমাজ এবং সমস্ত নিষ্ঠাবান কর্মীদের ঐকান্তিক প্রয়াস এই সাফল্যের ক্ষেত্র রচনা করেছে। দেশ জোড়া ভক্তদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। এক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশের জনসাধারণ বিশেষত প্রয়াগরাজবাসীর অমূল্য সমর্থন ও অংশগ্রহণের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। 

মহাকুম্ভের মহান আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত  অনন্ত প্রয়াসকে তিনি ধরিত্রীর বুকে গঙ্গাকে টেনে আনতে কিংবদন্তীপ্রতীম ভগীরথের উদ্যোগের সঙ্গে তুলনা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, লালকেল্লায় ভাষণে তিনি সবকা প্রয়াসের এই গুরুত্বের কথাই তুলে ধরেছিলেন। তিনি বলেন, মহাকুম্ভ ভারতের মহিমাকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছে। এই মহাকুম্ভ অবিচল বিশ্বাস দ্বারা অনুপ্রাণিত সম্মিলিত সংকল্প, ভক্তি এবং মানুষের ত্যাগের এক অনন্য প্রকাশ। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহাকুম্ভ জাতীয় চেতনার এক জাগ্রত রূপকে প্রত্যক্ষ করেছে। তা দেখিয়েছে, সচেতনতা বোধ দেশকে নতুন সংকল্প গ্রহণে এবং তার পূর্ণতা প্রাপ্তিতে কিভাবে সাহায্য করে। এই জাতীয় অনুষ্ঠান আয়োজনে রাষ্ট্রের সক্ষমতার প্রশ্ন তদুপরি নানা দ্বিধা এবং আশঙ্কারও  যথাযথ উত্তর দিয়েছে মহাকুম্ভ। 

দেশের রূপান্তরমূলক যাত্রাপথের ওপর আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী এক্ষেত্রে গত বছর রাম মন্দির প্রাণ প্রতিষ্ঠা এবং এ বছর মহাকুম্ভের আয়োজনের এক সমান্তরাল তুলনা টানেন। শ্রী মোদী বলেন, এই জাতীয় অনুষ্ঠান দেশকে আগামী সহস্রাব্দের জন্য তৈরি করে দেয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের সম্মিলিত চেতনা অমিত সক্ষমতার মধ্যে ধরা দেয়। রাষ্ট্রের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য মুহুর্তগুলি মানব ইতিহাসের সমার্থক হয়ে আগামী প্রজন্মের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়ায়। শ্রী মোদী ভারতের ঐতিহাসিক মাইলফলকসমূহ যা জাতীয় চেতনা জাগ্রত করার পাশাপাশি নতুন পথনির্দেশ জুগিয়েছে তার ওপরও আলোকপাত করেন। স্বদেশী আন্দোলন আধ্যাত্মিক চেতনার পুনরুত্থানের জন্ম দিয়েছিল। শিকাগোতে স্বামী বিবেকানন্দের ঐতিহাসিক ভাষণ এবং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের কিছু উল্লেখযোগ্য মুহুর্ত যেমন ১৮৫৭-এর সিপাহী বিদ্রোহ, ভগৎ সিং-এর আত্মবলিদান, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর দিল্লি চলো ডাক এবং মহাত্মা গান্ধীর ডান্ডি অভিযান নতুন অনুপ্রেরণার দ্যোতক হয়ে রয়েছে। প্রয়াগরাজ মহাকুম্ভ সেই অর্থে এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। রাষ্ট্রের আধ্যাত্মিক জাগরণের যা এক প্রতিকী রূপ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রায় দেড় মাস ব্যাপী মহাকুম্ভে দেশ জাগ্রত উদ্যোগকে প্রত্যক্ষ করেছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, কোটি কোটি ভক্ত সুবিধা বা অসুবিধার শঙ্কা কাটিয়ে উঠে অবিচল বিশ্বাস ও নিষ্ঠাভরে এতে অংশ নিয়েছেন যা রাষ্ট্রের অনন্ত শক্তিকে তুলে ধরে। মরিশাসে তাঁর সাম্প্রতিক সফরের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহাকুম্ভকালীন ত্রিবেণী ও প্রয়াগরাজের পবিত্র জল তিনি সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন। এই পবিত্র জল মরিশাসের গঙ্গা তালাও-এ নিবেদনের সময়  ভক্তি ও উদযাপনের যে এক মহিমান্বিত পরিবেশ রচিত হয়েছিল তার উল্লেখ করেন তিনি। এর ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী  বলেন, ভারতের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধের সংরক্ষণ এবং তাকে আকড়ে ধরে থাকা ও উদযাপনের এক ক্রমবর্ধমান ভাবধারাকে এর মধ্যে দিয়ে প্রত্যক্ষ করা যায়। 

শ্রী মোদী বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই ধারা প্রবাহমান। ভারতের আধুনিক যুবরাও মহাকুম্ভ এবং অন্যান্য উৎসবে গভীর নিষ্ঠা ও বিশ্বাসের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, আজকের যুব সম্প্রদায় তাদের ঐতিহ্য, ভাবধারা এবং বিশ্বাসকে গর্বের সঙ্গে গ্রহণ করছে যার মধ্যে দিয়ে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে তাদের দৃঢ় সম্পর্ককে প্রত্যক্ষ করা যায়। 

কোনো সমাজ যখন তার ঐতিহ্যে গর্ববোধ করে, তখন তা এক বৃহৎ উদযাপন এবং অনুপ্রেরণাদায়ক মুহুর্ত রচনা করে। মহাকুম্ভে তা প্রত্যক্ষ করা গেছে বলে শ্রী মোদী জানান। এই জাতীয় গর্ব ঐক্যের প্রসার ঘটায় এবং উল্লেখযোগ্য গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় লক্ষ্য পূরণে সক্ষমতা প্রদান করে। তিনি বলেন ভাবধারা, বিশ্বাস এবং ঐতিহ্যের প্রতি নিষ্ঠা সমসাময়িক ভারতের এক গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ যা রাষ্ট্রের সঙ্ঘবদ্ধ শক্তি এবং সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির পরিচায়ক। 

মহাকুম্ভ নানা অমূল্য ফল অর্জন করেছে। এর পবিত্র নৈবেদ্যে এক ঐক্যের ভাবধারা ফুটে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চল ও প্রান্তের লোক প্রয়াগরাজে এসে মিলিত হয়েছেন। ব্যক্তিগত শ্লাঘাকে ভুলে একের ঊর্ধ্বে আমরা এই সম্মিলিত চেতনা ও বোধকে প্রত্যক্ষ করা গেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিভিন্ন রাজ্যের ব্যক্তিবর্গ পবিত্র ত্রিবেণী সঙ্গমের অঙ্গ হয়ে ওঠেছেন। জাতীয়তাবাদ এবং ঐক্যের বোধকে যা শক্তিশালী করে। বিভিন্ন ভাষাভাষীর মানুষ সঙ্গমে যখন হর হর গঙ্গে ধ্বনি তোলেন, তখন তা এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারতের আবশ্যিকতাকে মূর্ত করে তোলে এবং একাত্মবোধের পরিব্যাপ্তি ঘটায়। শ্রী মোদী বলেন, মহাকুম্ভ দেখিয়েছে ছোট-বড় ভেদাভেদ নির্বিশেষে ভারতের অপরিসীম শক্তিকে। তিনি বলেন, দেশের নিজস্ব ঐক্যবোধ এত বেশি প্রবল যে তা যে কোন বিভেদমূলক প্রয়াসকে পর্যুদস্ত করে। তিনি বলেন, এই ঐক্য ভারতবাসীর এক অসীম প্রাপ্তি, বিভেদদীর্ণ বিশ্বের কাছে যা এক উল্লেখযোগ্য শক্তি স্বরূপ। তিনি বলেন, বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য ভারতের বৈশিষ্ট্য । এটা এমন এক অনুভূতি যা সবসময় অনুভব ও প্রত্যক্ষ করা যায়। প্রয়াগরাজ মহাকুম্ভে যা মহিমান্বিত হয়ে উঠেছে। বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের এই অনন্য চরিত্রকে সমৃদ্ধ করে যেতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মহাকুম্ভ থেকে যে অনন্ত প্রেরণা জন্ম নিয়েছে সেকথা বলতে গিয়ে শ্রী মোদী বলেন, দেশের নদীগুলির  বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাঝে অনেকগুলি নদীই চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে। মহাকুম্ভ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নদী উৎসবের প্রথাকে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কারণ এই জাতীয় উদ্যোগ বর্তমান প্রজন্মকে জলের গুরুত্ব বুঝতে সাহায্য করবে। নদীর স্বচ্ছতা প্রসারে এবং নদী সংরক্ষণকে সুনিশ্চিত করতে এর গুরুত্ব অপরিসীম। 

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণ শেষে বলেন, মহাকুম্ভ থেকে যে আস্থা এবং অনুপ্রেরণা অর্জন করা গেছে, রাষ্ট্রের সংকল্প পূরণে তা এক শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠবে। তিনি মহাকুম্ভের আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের প্রশংসা এবং দেশজোড়া ভক্তবৃন্দকে  অভিনন্দন জানান। তনি সভার তরফ থেকে তাঁদেরকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। 

 

সম্পূর্ণ ভাষণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

 

 

 

 

 

 

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Cotton duty relief: Textile industry welcomes import tax waiver, sees boost for exports and MSMEs

Media Coverage

Cotton duty relief: Textile industry welcomes import tax waiver, sees boost for exports and MSMEs
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Prime Minister pays tribute to Lokmata Ahilyabai Holkar on her birth anniversary
May 31, 2026

The Prime Minister, Shri Narendra Modi has paid tributes to Lokmata Ahilyabai Holkar on her birth anniversary.

Shri Modi said that the entire nation remembers Lokmata Ahilyabai Holkar with deep respect and reverence for her wisdom, compassion and unwavering commitment to public welfare.

The Prime Minister noted that her life remains an exemplary model of good governance, patriotism and cultural pride. He said that she always led with courage and a strong sense of duty.

The Prime Minister highlighted her unparalleled contribution to ensuring justice and welfare for all, as well as her efforts towards the reconstruction of sacred temples and pilgrimage sites across the country. He remarked that her work further strengthened India’s cultural consciousness.

The Prime Minister stated that Lokmata Ahilyabai Holkar’s dedication to society, culture and nation-building will continue to inspire every generation of the country.

The Prime Minister wrote on X;

“लोकमाता अहिल्याबाई होल्कर जी को उनकी जयंती पर कोटि-कोटि नमन! बुद्धिमत्ता, करुणा और जनकल्याण के प्रति अटूट निष्ठा को लेकर पूरा देश उन्हें आदर और सम्मान के साथ स्मरण करता है। उनका जीवन सुशासन, राष्ट्रभक्ति और सांस्कृतिक गौरव का एक उत्कृष्ट उदाहरण है। उन्होंने सदैव साहस और कर्तव्यनिष्ठा के साथ नेतृत्व किया। देशभर में पावन मंदिरों और तीर्थस्थलों के पुनर्निर्माण से लेकर सभी के लिए न्याय और कल्याण सुनिश्चित करने में उन्होंने अतुलनीय योगदान दिया। उन्होंने भारत की सांस्कृतिक चेतना को और सशक्त बनाया। समाज, संस्कृति और राष्ट्र निर्माण के प्रति उनका समर्पण भाव देश की हर पीढ़ी को प्रेरित करता रहेगा।”