প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে জি২০-র উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রীদের বৈঠকে ভাষণ দেন।
সমাবেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেককে গণতন্ত্রের অন্যতম শহর বারাণসীতে স্বাগত জানান। কাশীর গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি বহু শতক ধরে শিক্ষা, আলোচনা, বিতর্ক, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় রীতি-নীতির কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির পরিচয় পাওয়া যায় এখানে। দেশের প্রায় সব অংশ থেকেই জনগণ সমবেত হন এখানে। জি২০-র উন্নয়ন বিষয়ক আলোচ্যসূচী কাশীতে পৌঁছনোয় সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উন্নয়ন দক্ষিণ বিশ্বের অন্যতম মূল বিষয়। কোভিড অতিমারীর দরুণ দক্ষিণ বিশ্বের দেশগুলিতে বিশেষ প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। খাদ্য, জ্বালানী ও সারের সংকট এবং ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আপনারা যে সিদ্ধান্ত নেবেন তা সমগ্র মানব জাতির জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ”- বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সুসংহত উন্নয়নের লক্ষ্য যেন কোনোভাবেই পিছনে না পড়ে থাকেন তার জন্য সমন্বিত দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। শ্রী মোদী আরও বলেন, এই লক্ষ্যপূরণের জন্য যথাযথ পরিকল্পনা সংকটকে দক্ষিণ বিশ্বে অবশ্যই এক মজবুত বার্তা পাঠাতে হবে সমগ্র বিশ্বে।
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, আমাদের প্রচেষ্টা হবে সমন্বিত, সুসংহত এবং স্পষ্ট। বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকে চেষ্টা চালাতে হবে। বিভিন্ন দেশ বর্তমানে যে ঋণ সংকটের মোকাবিলা করছে তা সমাধানের পন্থা-পদ্ধতিও খুঁজে দেখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহুপাক্ষিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি সংস্কার প্রয়োজন। ভারতবর্ষে আমরা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শতাধিক জেলার জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিশেষ চেষ্টা চালাচ্ছি বলেও শ্রী মোদী উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন জেলাগুলিকে বর্তমানে দেশের উন্নয়নের গতির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। উন্নয়নের এই মডেল সম্পর্কে পড়াশোনার জন্য জি২০ গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির উন্নয়নের আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০৩০এর জন্য মূল বিষয়গুলি ত্বরান্বিত করতে আপনার কাজ বিশেষ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যথাযথ নীতি নির্ধারণের জন্য উচ্চমান সম্পন্ন তথ্য বিশেষ জরুরি। এছাড়াও সম্পদের যথাযথ বন্টন এবং কার্যকর জনপরিষেবাও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, প্রযুক্তি বর্তমানে তথ্য ভাগ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক সেতু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতবর্ষে ডিজিটাইজেশন বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, এই প্রযুক্তি জনগণের সশক্তিকরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। ভারত, সহযোগী দেশগুলির সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে প্রস্তুত এবং বিভিন্ন তথ্য আদান-প্রদানেও সম্মত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন “ভারতে আমাদের নদী, গাছ, পর্বত সহ সমগ্র প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য সম্মান রয়েছে”। তিনি বলেন, গত বছর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সচিব-এর সঙ্গে যে লাইভ কর্মসূচির সূচনা হয়েছিল সেকথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “জলবায়ু কর্মসূচীত এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।”
লিঙ্গ-সাম্য এবং মহিলা ক্ষমতায়ণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত কেবলমাত্র মহিলাদের ক্ষমতায়ণে সীমাবদ্ধ নেই বরং মহিলা নেতৃত্বাধীন উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে। বর্তমানে মহিলারা উন্নয়ন ও পরিবর্তনের জন্য পথদিশা তৈরি করছেন বলে
মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি, মহিলা নেতৃত্বাধীন উন্নয়নের জন্য এক যথাযথ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান।
বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাশীর উৎসাহ-উদ্দীপনা ভারতের দীর্ঘকালীন ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি প্রতিনিধিদের তাঁদের সময়ের সবটুকু আলোচনাকক্ষে অতিবাহিত না করে কাশী সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য উৎসাহ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি নিশ্চিত, গঙ্গা আরতি অভিজ্ঞতা এবং সারনাথ সফর আপনাদের কাঙ্খিত ফলাফল অর্জনে উদ্বুদ্ধ করবে।” সব শেষে প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ বিশ্বের সমস্ত আশা-আকাঙ্খা পূরণের জন্য ২০৩০-এর মূল লক্ষ্যগুলির দিকে নজর দেওয়ার বিষয়ে জোর দেন ও সাফল্য কামনা করে শুভেচ্ছা জানান।
জি২০-র উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রীদের বৈঠকে আমার বক্তব্য


