Today, be it major nations or global platforms, the confidence in India is stronger than ever: PM
The speed of development of a Viksit Bharat is remarkable: PM
Many aspirational districts have now transformed into inspirational districts of the nation: PM
Banking the unbanked, Securing the unsecured and Funding the unfunded has been our strategy: PM
We have transformed the fear of business into the ease of doing business: PM
India missed the first three industrial revolutions but is ready to move forward with the world in the fourth: PM
In India's journey towards becoming a Viksit Bharat, our government sees the private sector as a key partner: PM
25 crore Indians have risen out of poverty in just 10 years: PM

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ নতুন দিল্লিতে ইটি নাও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য শীর্ষ সম্মেলন ২০২৫-এ ভাষণ দেন। তিনি বলেন, এই শীর্ষ সম্মেলনের গত সংস্করণের তিনি বলেছিলেন, তাঁদের সরকারের তৃতীয় দফায় ভারত নতুন গতিতে কাজ করবে। এই গতি বর্তমানে সর্বত্র প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে এবং দেশ থেকেও যথাযথ সমর্থন পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। বিকশিত ভারত বা উন্নত ভারত গড়ে তোলার জন্য বিশেষ সহায়তা করায় তিনি ওড়িশা, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা ও নতুন দিল্লির জনগণকে ধন্যবাদ জানান। উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে দেশের জনগণ কীভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে, এটি তারই পরিচায়ক বলে তিনি মন্তব্য করেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বড় দেশ হোক বা আন্তর্জাতিক মঞ্চ সর্বত্রই ভারতের ওপর আস্থা আরও মজবুত হয়েছে’। প্রধানমন্ত্রী গতকালই ফ্রান্স এবং আমেরিকা সফর থেকে দেশে ফিরেছেন। তিনি আরও বলেন, এই চিন্তাভাবনা প্যারিসের এআই অ্যাকশন শীর্ষ সম্মেলনে প্রতিফলিত হয়েছে। শ্রী মোদী বলেন, “বর্তমান ভারত আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এবং বেশ কিছু ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে”। তিনি বলেন, ভারতে ২০১৪ সাল থেকে সংস্কারের নতুন বিপ্লব শুরু হয়েছে। বিগত দশকে ভারত পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে উন্নীত হয়েছে। এ থেকে বিকশিত ভারতের উন্নয়নের গতি সম্পর্কে ধারনা করা যায়। তিনি বলেন, ভারত শীঘ্রই বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারতের মতো তরুণ দেশের জন্য এই গতি প্রয়োজনীয় ছিল এবং ভারত এই গতিকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে চলেছে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকার সংস্কারের পথ এড়িয়ে গেছে। কোনওরকম কঠিন ও পরিশ্রমসাধ্য কাজ করার মানসিকতা তাদের ছিলনা। কিন্তু বর্তমানে ভারতের সম্পূর্ণ আস্থার সঙ্গে সংস্কারের কাজ চলেছে। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, এর আগে দেশে কীভাবে কোনও বড় সংস্কার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে তা নিয়ে খুব কম আলোচনা হত। তিনি নির্দিষ্ট করে বলেন, ঔপনিবেশিক চিন্তাভাবনার সঙ্গে জীবনধারণ করা ভারতের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছিল। স্বাধীনতার পরেও চলছিল ব্রিটিশ যুগ। বিচার ব্যবস্থায় দেরি ও বিচার ব্যবস্থা অসম্ভবের মতো প্রচলিত কথা ছিল সে প্রসঙ্গে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে এই ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তাই মানুষ এ ধরনের বিষয়ের সঙ্গে এতটাই অভ্যস্থ হয়ে গিয়েছিল যে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তাও উপলব্ধি করেনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভালো কিছু নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে যাওয়া হতো। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণতন্ত্রে সদর্থক বিষয়ে আলোচনা ও বিতর্ক প্রয়োজন। কিন্তু এমন একটি মানসিকতা তৈরি করা হয়েছিল যে কোনও নেতিবাচক বিষয় ছড়িয়ে দেওয়ায় যথাযথ। এই মানসিকতা থেকে মুক্ত হওয়া জরুরি ছিল বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। 

সম্প্রতি ভারতে ১৮৬০ সাল থেকে প্রচলিত দণ্ডবিধির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঔপনিবেশিক শাসনকে শক্তিশালী করা এবং ভারতীয় নাগরিকদের শাস্তি দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠিত শাস্তি ব্যবস্থা ন্যায়বিচার প্রদান করতে পারেনি। অযথা এ কাজে বিলম্ব হয়েছে। ৭-৮ মাস আগে ভারতে নতুন বিচার ব্যবস্থা বাস্তবায়নের পর থেকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। উদাহরণ স্বরূপ এফআই করা থেকে মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে তিনটি খুনের মামলা নিষ্পত্তি করে সাজা ঘোষণার প্রসঙ্গটি উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি নাবালক হত্যার মামলা ২০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়েছিল। গুজরাটে ৯ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে দায়ের করা একটি গণধর্ষণের মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হয় ২৬ অক্টোবর। আজ আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রী অন্ধ্রপ্রদেশের আর একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেন যেখানে ৫ মাস বয়সী একটি শিশুর সঙ্গে অপরাধের জন্য অপরাধীকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। এক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে ই-প্রিজন মডিউলটি একজন ধর্ষন ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্তকরণে কীভাবে সহায়তা করেছিল সে কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে এমন অসংখ্য ঘটনা ঘটছে যেখানে মানুষ সময়মতো ন্যায়বিচার পাচ্ছেন।

 

সম্পত্তির অধিকার সম্পর্কে একটি বড় সংস্কারের কথা উল্লেখ করে শ্রী মোদী রাষ্ট্রসংঘের একটি গবেষণার কথা বলেন। তিনি বলেন, একটি দেশে যথাযথ সম্পত্তির অধিকারের অভাব এক গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। বিশ্বব্যাপি লক্ষ লক্ষ মানুষ বৈধ সম্পত্তির নথিপত্রের অভাব জনিত সমস্যার সম্মুখীন। সম্পত্তির অধিকার থাকলে দেশে দারিদ্র হ্রাসে সহায়তা পাওয়া যায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকার এই জটিলতাগুলি সম্পর্কে জানলেও এ ধরনের চ্যালেঞ্জপূর্ণ কাজগুলি এড়িয়ে চলে। শ্রী মোদী বলেন, দেশে স্বামীত্ব যোজনা চালু করার পর ৩ লক্ষেরও বেশি গ্রামে ড্রোনের সাহায্যে জমি জরিপ করা হয়েছিল। ২ কোটি ২৫ লক্ষের বেশি মানুষ সম্পত্তির কার্ড পেয়েছেন এবং এই যোজনার ফলে ১০০ লক্ষ কোটি টাকার সম্পত্তি উন্মোচিত হয়েছে। এই সম্পত্তি আগে ছিল, কিন্তু সম্পত্তির অধিকারের অভাবের কারনে অর্থনৈতিক উন্নয়নের কাজে তা ব্যবহার করা যাচ্ছিল না। শ্রী মোদী বলেন, সম্পত্তির অধিকারের অভাবে গ্রামবাসীরা ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ পাচ্ছিলেন না। কিন্তু বর্তমানে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়েছে। স্বামীত্ব যোজনার সম্পত্তি কার্ড থেকে মানুষ কীভাবে উপকৃত হন, সে প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী রাজস্থানের এক মহিলার সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক কথপোকথন সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেন। এই মহিলা এই স্বামীত্ব প্রকল্পের আওতায় সম্পত্তি কার্ড পেয়েছেন। কার্ড পাওয়ার পর তিনি ব্যাঙ্ক থেকে ৮ লক্ষ টাকা ঋণ পান। সেই টাকা দিয়ে একটি দোকান শুরু করেছেন এবং সেখান থেকে আসা আয় বর্তমানে তাঁর সন্তানদের উচ্চশিক্ষার জন্য ব্যয় করা হচ্ছে। তিনি অন্য এক গ্রামে এক ব্যক্তির উদাহরণ দেন যিনি সম্পত্তি কার্ড ব্যবহার করে ব্যাঙ্ক থেকে ৪ লক্ষ ৫০,০০০ টাকা ঋণ নিয়ে পরিবহনের ব্যবসা শুরু করেছেন। একজন কৃষক তাঁর জমিতে আধুনিক সেচ ব্যবস্থা প্রয়োগের জন্য সম্পত্তি কার্ডের বিনিময়ে যে ঋণ নিয়েছিলেন, সেকথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এ ধরনের নানা উদাহরণ দিয়ে বলেন, বিভিন্ন গ্রামের জনগণ ও দরিদ্ররা এই সংস্কারের ফলে আয়ের নতুন পথ খুঁজে পেয়েছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের সংস্কার কর্মদক্ষতা ও রূপান্তরের বাস্তব গল্ব। এগুলি সাধারণত সংবাদপত্র বা টিভি চ্যানেলের শিরোনামে জায়গা পায়না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের অসংখ্য জেলা যথাযথ প্রশাসনিক কারনে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। তিনি বলেন এই জেলাগুলির উন্নয়নের মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে তাদেরকে পিছিয়ে পড়া জেলা হিসেবে চিহ্নিত করে নিজেদের ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কেউই তাদের সমস্য সমাধানে আগ্রহী ছিল না। সরকারি কর্মকর্তাদের শাস্তিমূলক নিয়োগ হিসেবে এইসব জায়গায় পাঠানো হত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা ১০০টিরও বেশি জেলাকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী জেলা হিসেবে ঘোষণা করে এই পদ্ধতির পরিবর্তন করেছি,’। তৃণমূল স্তরে শাসনব্যবস্থা উন্নত করার জন্য তরুণ কর্মকর্তাদের এই জেলাগুলিতে পাঠানো হয়। তাঁরা এই জেলাগুলি কোন ক্ষেত্রে পিছিয়ে তা চিহ্নিত করে মিশন মোডে বিভিন্ন ফ্ল্যাগশিপ সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়িত করেছেন। তিনি বলেন, “বর্তমানে এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী জেলাগুলির বেশ কয়েকটি অনুপ্রেরণামূলক জেলা হয়ে উঠেছে।” উদাহরণ দিয়ে শ্রী মোদী বলেন, ২০১৮ সালে আসামের বরপেটাতে মাত্র ২৬ শতাংশ বিদ্যালয়ে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত যথাযথ ছিল। বর্তমানে তা ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে। তিনি আরও বলেন, বিহারের বেগুসরাইতে গর্ভবতী মহিলাদের পুষ্টির হার ছিল ২১ শতাংশ এবং উত্তরপ্রদেশের চান্দৌলিতে এই হার ছিল ১৪ শতাংশ। বর্তমানে উভয় জেলায় ১০০ শতাংশ পুষ্টি হার অর্জন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শিশুদের টিকাকরণ অভিযানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশের শ্রাবস্তীতে এই হার ৪৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৬ শতাংশ হয়েছে যেখানে তামিলনাড়ুর রামানাথপুরমে এই হার ৬৭ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৯৩ শতাংশ। দেশের ৫০০টি ব্লককে এখন উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্লক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং এই জেলাগুলি দ্রুতগতিতে কাজ করে চলেছে।

 

শীর্ষ সম্মেলনে শিল্প নেতাদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে এক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। এক দশক আগেও ভারতের ব্যাঙ্কগুলি সঙ্কটের মধ্যে ছিল। ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা ছিল ভঙ্গুর। লক্ষ লক্ষ মানুষ ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার বাইরে ছিলেন। তিনি বলেন, “ভারত ঋণদানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জের দেশগুলির মধ্যে একটি ছিল। ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করার জন্য সরকারি কৌশল বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে।” প্রতিটি গ্রামে এখন ৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে একটি ব্যাঙ্কের শাখা রয়েছে। তিনি মুদ্রা যোজনার উদাহরণ দিয়ে বলেন, পুরনো ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার আওতায় ঋণ পাননি এমন ব্যক্তিদের সরকার ৩২ লক্ষ কোটি টাকা প্রদান করেছে। বর্তমানে উন্নত ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার জন্য ক্ষুদ্র, মাঝারি ও অতিক্ষুদ্র শিল্পের জন্য ঋণ অনেক সহজ হয়েছে। এমনকি রাস্তার বিক্রেতারাও সহজে ঋণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। কৃষকদের প্রদেয় ঋণের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বিপুল পরিমাণ ঋণ প্রদান করায় ব্যাঙ্কগুলির মুনাফা বাড়ছে। ১০ বছর আগে যখন বিপুল পরিমাণ ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে লোকসানের খবর সংবাদপত্রে প্রকাশিত হত, তার তুলনায় বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ব্যাঙ্কগুলি ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকার বেশি মুনাফা অর্জন করে রেকর্ড গড়েছে। এই পরিবর্তন কেবলমাত্র সংবাদের শিরোনামে আসার জন্য পরিবর্তন নয়, ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সংস্কার একটি পদ্ধতিগত পরিবর্তন। 

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “গত দশকে আমাদের সরকার ব্যবসায়ীদের ভয়কে ব্যবসায়ীদের সুবিধাতে রূপান্তর করেছে।” জিএসটি-র মাধ্যমে একক বৃহৎ বাজার প্রতিষ্ঠার ফলে শিল্প ক্ষেত্রে যে সুবিধা পাওয়া গেছে, প্রধানমন্ত্রী তার উল্লেখ করেন। পরিকাঠামো ক্ষেত্রে গত দশকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এর ফলে সরবরাহ খরচ কমেছে, বেড়েছে দক্ষতা। শ্রী মোদী বলেন, সমাজে সরকারি হস্তক্ষেপ কমাতে একটি নিয়ন্ত্রণমূলক কমিশনও প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।

 

শ্রী মোদী বলেন, ভারত ভবিষ্যতে প্রস্তুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এক উল্লেখযোগ্য রূপান্তর প্রত্যক্ষ করছে। তিনি বলেন, শিল্প বিপ্লবের সময় ভারত ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থার আওতাধীন ছিল। দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবের সময় যখন বিশ্বব্যাপি নতুন আবিষ্কার ও কারখানার সৃষ্টি হচ্ছিল তখন, ভারতের স্থানীয় শিল্প ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিল। কাঁচামাল দেশ থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরেও পরিস্থিতির বিশেষ কোনও পরিবর্তন হয়নি। বিশ্ব যখন কম্পিউটার বিপ্লবের দিকে এগিয়ে চলছিল, ভারতে তখন কম্পিউটার কেনার জন্য লাইসেন্স নিতে হত। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “ভারত যদিও প্রথম তিনটি শিল্প বিপ্লব থেকে খুব বেশি লাভবান হতে পারেনি, তবে দেশ এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে প্রস্তুত।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকার বেসরকারি ক্ষেত্রকে বিকশিত ভারতের যাত্রাপথে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে।” বেসরকারি ক্ষেত্রের জন্য অনেক নতুন নতুন দিক উন্মুক্ত করা হয়েছে। মহাকাশ ক্ষেত্রে অনেক তরুণ ও স্টার্টআপ উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ড্রোন ক্ষেত্র জনগণের জন্য এতদিন বন্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমানে তা তরুণদের জন্য বিশাল সুযোগ তৈরি করেছে। বাণিজ্যিক কয়লা ক্ষেত্রটি বেসরকারি সংস্থাগুলির জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। তারা নিলামে অংশ নিতে পারছেন। নিলাম ব্যবস্থার উদারীকরণ করা হয়েছে বলেও শ্রী মোদী মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে বেসরকারি ক্ষেত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরকার দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় বেসরকারি ক্ষেত্রকে উৎসাহিত করছে। সাম্প্রতিক বাজেটে বেসরকারি ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের জন্য পারমানবিকে ক্ষেত্র উন্মোচিত করে দেওয়ার বিষয়টি এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান রাজনীতি কর্মক্ষমতা কেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। দেশের জনগণ স্পষ্টভাবে বলছেন যে, যেসব দল মাটির সঙ্গে যুক্ত এবং ফলাফল দিতে সক্ষম, তারাই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকবে। তিনি বলেন, সরকারকে জনগণের সমস্যার প্রতি সংবেদনশীল হতে হবে। পূর্ববর্তী নীতি নির্ধারকদের সংবেদনশীলতা ও ইচ্ছাশক্তির অভাব ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। শ্রী মোদী আরও বলেন, তাঁর সরকার সংবেদনশীলতার সঙ্গে জনগণের সমস্যা বুঝতে পেরেছে এবং সেগুলি সমাধানের জন্য উৎসাহের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বিশ্বব্যাপি গবেষণার উদ্ধৃতি বলেন, গত দশকে মৌলিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং ক্ষমতায়নের জন্য ২৫ কোটি ভারতীয় দারিদ্রমুক্ত হতে পেরেছেন। বৃহৎ এই গোষ্ঠীটি নব্য মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অংশ হতে পেরেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁরা এখন প্রথম গাড়ি ও প্রথম বাড়ির স্বপ্ন দেখছেন। দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে শক্তিশালী করতে সাম্প্রতিক বাজেটে শূন্য কর সীমা ৭ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ লক্ষ টাকা করা হয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত সমগ্র মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কাজকর্মকে উৎসাহিত করবে।  সক্রিয় ও সংবেদনশীল সরকারের ফলেই এইসব সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি উন্নত ভারতের আসল ভিত্তিপ্রস্তর হল আস্থা এবং এই উপাদান প্রত্যেক নাগরিক, প্রত্যেক ব্যবসায়ী ও নেতার জন্য অপরিহার্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার নাগরিকদের মনে আস্থা জাগিয়ে তুলতে পূর্ণ শক্তিতে কাজ করছে। উদ্ভাবকদের এমন পরিবেশ প্রদান করা হচ্ছে যেখানে তাঁরা যথাযথভাবে তাঁদের চিন্তাভাবনা ও ধারনার প্রকাশ করতে পারবেন। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রকে স্থিতিশীল ও সহায়ক নীতির আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। ইটি নাও শীর্ষ সম্মেলন এই আস্থাকে আরও মজবুত করবে বলে আশাপ্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।  

 

সম্পূর্ণ ভাষণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

 

 

 

 

 

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Indian Railways clears ₹755-crore project to build third line between Champa and Korba

Media Coverage

Indian Railways clears ₹755-crore project to build third line between Champa and Korba
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Prime Minister hails India-UK Comprehensive Economic and Trade Agreement as a historic milestone for bilateral relations
June 17, 2026

The Prime Minister, Shri Narendra Modi, has expressed delight that the India-UK Comprehensive Economic and Trade Agreement will enter into force on 15 July 2026.

The Prime Minister said that the agreement will significantly boost bilateral trade and investment.

Shri Modi stated that the agreement will unlock numerous opportunities for Indian farmers, workers, MSMEs, startups and innovators and contribute meaningfully to the realisation of Viksit Bharat 2047.

The Prime Minister noted that both he and UK Prime Minister Keir Starmer, who are in Evian for the G7 Summit, are very happy with the significant momentum being added to India-UK economic ties.

The Prime Minister wrote on X;

“A historic milestone for India-UK relations.

Delighted to note that the India-UK Comprehensive Economic and Trade Agreement will enter into force on 15th July 2026.

This agreement will significantly boost our bilateral trade and investment.

It will also unlock numerous opportunities for Indian farmers, workers, MSMEs, startups and innovators and contribute meaningfully to the realisation of Viksit Bharat 2047.

Both PM Starmer and I, who are in Evian for the G7 Summit, are naturally very happy with the significant momentum being added to our economic ties.

@Keir_Starmer”